| কবি নিমানন্দ দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| চলিল কুঞ্জ-বনে গো পিয়ারী কবি নিমানন্দ দাস ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” নামের বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন, পৃষ্ঠা ১৭০। নিমানন্দ দাস বিরচিত ও সংকলিত “পদরসসার” গ্রন্থের পদ। ॥ ধানশী॥ চলিল কুঞ্জ- বনে গো পিয়ারী চলিল কুঞ্জ-বনে। মনের সাধে বিজই রাধে প্রিয়-সখীগণ সনে॥ সখিনী সঙ্গে প্রেম-তরঙ্গে অতি-আনন্দিত-মনে। সখীগণ-সাথে আনন্দিত-চিতে পশিল গহণ-বনে। পুলকে পুরিল সব কলেবর চাহিয়া সখীর পানে॥ সঙ্গের সঙ্গিণী দেখে মুখ আনি চাঁদ-কমল জিনে। অতি-অপরূপ যেন রস কূপ নিমানন্দ দাস ভণে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বদন ঢাকহ নিজ বসনে কবি নিমানন্দ দাস ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” নামের বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন, পৃষ্ঠা ১৭০। নিমানন্দ দাস বিরচিত ও সংকলিত “পদরসসার” গ্রন্থের পদ। ॥ ধানশী॥ “বাদন ঢাকহ নিজ বসনে। কি জানি গগন হৈতে রাহু আলা অবনীতে চাঁদ বলি করয়ে ভক্ষণে॥ ধ্রু॥ চকোর ভ্রমর আসি কমল বলিয়া শশী তারা পাছে আসে দুই জনে। যদি বল নিজ-করে নিবারিয়া দিব তারে ও থল-কমল তাহে জিনে॥ দু-টি হাতে দশ-চন্দ তাহাদের মতি মন্দ নিবারণ করিবে কেমনে।” ভুরু-ধনু হাতে লব তাহারে দেখিয়া দিব তোর এ উচিত নহে বেনে॥ বাম হাতে ধরি গিরি রাখিল গোপের নারী কাতর হইল যার বাণে। পতঙ্গ যার তনু নাই তারে কি মারিবি রাই এই ভয় বড় লাগে মনে॥ সখীর বচন শুনি লাজ বড় পাল্য ধনী অধোগতি করিল বদনে। আমার বচন রাখি ধীরে ধীরে চল সখি নিমানন্দ দাস কবি সনে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ধনী প্রবেশিল কুঞ্জ-বনে কবি নিমানন্দ দাস ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” নামের বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন, পৃষ্ঠা ১৭০। নিমানন্দ দাস বিরচিত ও সংকলিত “পদরসসার” গ্রন্থের পদ। ॥ সুহই॥ ধনী প্রবেশিল কুঞ্জ-বনে। অতি হরষিতে আনন্দিত-চিতে মিলিলা শ্যামের সনে॥ ধ্রু॥ হের দেখ সিয়া দেখ ওগো সই হের দেখ সিয়া আসি। জলদের কোলে করে ঝলমলে যেমন উদয় শশী॥ দেখ না কুঞ্জের মাঝে গো সই দেখ না কুঞ্জের মাঝে। অতি-অদভূত দেখ না বেকত ভ্রমর-কমল সাজে॥ কিবা সে দোহাঁর রূপ ওগো সই কিবা সে দোহাঁর রূপে। নিমানন্দ দাসে হেরিয়া বিলাসে ডুবিল রসের কূপে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| দেখ না সখিনী মিলি ওগো সই কবি নিমানন্দ দাস ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” নামের বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন, পৃষ্ঠা ১৭০। নিমানন্দ দাস বিরচিত ও সংকলিত “পদরসসার” গ্রন্থের পদ। ॥ সুহই॥ দেখ না সখিনী মিলি ওগো সই দেখ না সখিনী মিলি। যমুনার কুলে কদম্বের মূলে দোহেঁ কবে রস-কেলি॥ দেখ না আসিয়া তোমরা গো সই দেখ না আসিয়া তোরা। দোহাঁর চরিত অতি-অদভূত দুহু-রসে দুহুঁ ভোরা॥ একি অপরূপ হইল গো সই একি অপরূপ হইল। নাগর-নাগরী প্রেমের আগরি দোহেঁ দোহাঁ মিশাইল॥ দেখ না দোহাঁর রীত ওগো সই দেখ না দোহাঁর রীত। নিমানন্দ দ্বিজ বংশী অনুজ মজিল দোঁহার চীত॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সখি-গণ সঙ্গে রঙ্গে কুল-কামিনি কবি নিমানন্দ দাস ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” নামের বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন, প্রতিবিম্ব দর্শনে মান, পৃষ্ঠা ১৭১। নিমানন্দ দাস বিরচিত ও সংকলিত “পদরসসার” গ্রন্থের পদ। ॥ তুড়ী॥ সখি-গণ সঙ্গে রঙ্গে কুল-কামিনি করই হাস পরহাসে। পিরয় এক সহচরি তুরিতহি আয়ল শ্যামরু-বচন-বিশেষে॥ “শুন শুন সুন্দরী রাই। সো বর-নাগর কুঞ্জ-ভবনে গেও তুরুতহি অব তুহুঁ যাই॥ ধ্রু॥ সঙ্কেত-বচন শুনি তহি হরষিত সখিক কহই বারে বার। নিভৃত নিকুঞ্জে আজু হরি ভেটব তুরিতহি করহ শিঙ্গার॥ শ্যামরু-প্রেম-মদে গরগর সুন্দরি উলসিত হৃদয়ক মাঝ। নিমানন্দ দাস-আশ আজু পূরব ভেটব নাহর-রাজ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বেশ-ভূষা করি বরজ-কিশোরী কবি নিমানন্দ দাস ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” নামের বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন, পৃষ্ঠা ১৭১। নিমানন্দ দাস বিরচিত ও সংকলিত “পদরসসার” গ্রন্থের পদ। ॥ ধানশী॥ বেশ-ভূষা করি বরজ-কিশোরী ভেটিতে নাগর রাজ। সঙ্গে সখীগণ বেশ মনোরম সভার সমান সাজ॥ চলে গজরাজ জিনি। গমন মন্থর রূপ মনোহর চরণে নূপুর-ধ্বনি॥ ধ্রু॥ সুধাকর যেন ঘিরি তারা-গণ তেমন শোভিত রাই। গলে হেম-মালা দশ দিগ আলা নাগর নিকট যাই॥ নিজ-অঙ্গ-ছবি শ্যামের অঙ্গেতে দেখিলা কিশোরী গোরী। নিমানন্দ বোবে হইল জঞ্জালে বসিলা বদন মোড়ি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নিজ-প্রতিবিম্ব হরিক উরে হেরইতে কবি নিমানন্দ দাস ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” নামের বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন, পৃষ্ঠা ১৭২। নিমানন্দ দাস বিরচিত ও সংকলিত “পদরসসার” গ্রন্থের পদ। ॥ সিন্ধুড়া॥ নিজ-প্রতিবিম্ব হরিক উরে হেরইতে তব উপজায়ল মান। শ্যামর-দরশে হরষ তুয়া অন্তর কাহে তুহুঁ বিরস-বয়ান॥ দেখ দেখ আজু অপরূপ। কাহে বিমনা ভই বৈঠই দুর্ল্লভি হেরইতে সপন সরূপ॥ ধ্রু॥ তুহারি অন্তর-কথা মরম না বূঝত শুন শুন সুন্দরী রাধে। তুহুঁ বর-নাহরি রসিক-শিরোমণি কাহে করহ রস-বাদে॥ তুহুঁ কর রীতহি ভীত অব পায়ল হেরি লাগয়ে মধু ধন্দ। রসময় নাগর কাহে নিরস করু কহতহি দাস নিমানন্দ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সহচরি-বচন শ্রবণে যব শূনলি কবি নিমানন্দ দাস ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” নামের বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন, পৃষ্ঠা ১৭২। নিমানন্দ দাস বিরচিত ও সংকলিত “পদরসসার” গ্রন্থের পদ। ॥ সিন্ধুড়া॥ সহচরি-বচন শ্রবণে যব শূনলি তবহি পায়লি বহু লাজ। আপনক দোষে রোষ করলুঁ হাম ইথে অব কি করয়ে কাজ॥ কহতহি সখি-মুখ চাই। তুরিতহি যাই আনি অব মিলায়বি তব হাম জীবন পাই॥ ধ্রু॥ অকারণে মান করলুঁ দুখ পায়লুঁ তুহুঁ সখি জীবন মোর। সখিগণ মাঝে তোহে অধিক জানি ইহ তনি জীবন তোর॥ এত কহি সুন্দরি আকুল-অন্তর ধরলহি সহচরি-পায়। নিমানন্দ দাস মিনতি করু কত শত মরমে মরমে জরি যায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাই প্রবোধি চললি বর-সহচরি কবি নিমানন্দ দাস ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” নামের বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন, পৃষ্ঠা ১৭২। নিমানন্দ দাস বিরচিত ও সংকলিত “পদরসসার” গ্রন্থের পদ। ॥ বরাড়ী॥ রাই প্রবোধি চললি বর-সহচরি মীললি কানুক পাশ। সো যদি না বুঝই মান করল তোহে তুহুঁ কাহে ছোড়লি আশ॥ শুন শুন সুন্দর শ্যাম। ইহ সব রীতে দূখ বহু পায়লি তুহুঁ না গণলি পরিণাম॥ ধ্রু॥ দুহুঁ-করে দুহুঁ-জন আনি মোরা সোঁপব নিভৃত-নিকুঞ্জক মাঝ। সভে মিলি পরণাম করি ঘরে যায়ব সুখে করবি দুহুঁ রাজ॥ সখি-মুখে শুনইতে অতিশয় কাতর ছোড়ল দীঘ নিশাস। নিমানন্দ দাস-পহু দূতি করে ধরি চললহি রাইক পাশ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |