কবি নিমানন্দ দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
সজনি কি কব মনের দুখ
কবি নিমানন্দ দাস
১৯২৬ সালে প্রকাশিত  সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” নামের বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন, পৃষ্ঠা ১৭৬। নিমানন্দ দাস বিরচিত ও সংকলিত “পদরসসার” গ্রন্থের পদ।


॥ তুড়ী॥

সজনি কি কব মনের দুখ।
পিয়া পরবাসে                                গেল দূর দেশে
সোঙরি বিদরে বুক॥ ধ্রু॥
মদন দুরন্ত                                        সময় বসন্ত
থির নহে মঝু হিয়া।
কি করি রহিব                                 চিত নিবারিব
পাসরিয়া সেই পিয়া॥
দিন গুণি গুণি                                না যায় যামিনী
যামিনী হইল কাল।
ভুজভ্গ সমান                                  হার-আভরণ
দংশয়ে মালতী-মাল॥
রাইয়ের বচন                                   শুনি সখীগণ-
পরাণ বিকল করে।
নিমানন্দ ভোরা                                  চলিব মথুরা
আনিতে নাগর বরে॥

.        *************************          
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শুন শুন নিঠুর মুরারী
কবি নিমানন্দ দাস
১৯২৬ সালে প্রকাশিত  সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” নামের বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন, পৃষ্ঠা ১৭৬। নিমানন্দ দাস বিরচিত ও সংকলিত “পদরসসার” গ্রন্থের পদ।


মাথুর সখী সংবাদ

॥ মাউর॥

শুন শুন নিঠুর  মুরারী।
তুয়া বিরহানলে                                 সো অতি-কাতর
তুহুঁ মধু-পুরে রহু ভোরি॥ ধ্রু॥
নিমিখহি যো জন                                  লাখ-যুগ মানই
তা সঞে এ হেন চরীত।
মধুপুর-নাগরি                                গোরি হেরি ভোরলি
এ তুহে নহে সমুচীত॥
দিবস অবধি করি                                 হায় মাথে ধরি
শপথি করল কত তায়।
সো বর-নারি                                  বাউরি সম রোএই
কহ তছু জিবন-উপায়॥
বুঝলুঁ হাম অব                                   তুয়া হৃদি দারুণ
পিরিতি-পরখণ আধি।
নিমানন্দ দাস কহ                                 শুন বর-নাগর
দারুণ পিরিতি-বিয়াধি॥

.        *************************          
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এতহুঁ বচন শুনি গদ গদ মাধব
কবি নিমানন্দ দাস
১৯২৬ সালে প্রকাশিত  সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” নামের বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন, পৃষ্ঠা ১৭৬। নিমানন্দ দাস বিরচিত ও সংকলিত “পদরসসার” গ্রন্থের পদ।


॥ বরাড়ী॥

এতহুঁ বচন শুনি                                গদ গদ মাধব
চলইতে মন অগুসার।
রাই-বিপাক শুনি                            অতিশয় কাতর
নয়নে গলয়ে জল-ধার॥
সহচরি-করে ধরি শ্যাম।
তুহুঁ মোর প্রেয়সি                        মরম ভালে জানসি
বিধির অধির ভেল কাম॥ ধ্রু॥
মধুপুর তেজি হাম                            তুরুতহিঁ যায়ব
ইথে তুহুঁ না বাসবি আন।
ব্রজ-পুর-দুখ শুনি                             সুখ সব নিরসল
কে জানে কেমন করে প্রাণ॥
পুনহি কহত দূতি                              ধনি বড় কাতর
শুনহ নাগর-বর কান।
নিমানন্দ দাস                                চরণ ধরি রোয়ত
তুরিতহি করহ পয়াণ॥

.        *************************          
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অধর ফুলায়ে কেন ঘন ঘন কান্দ
কবি নিমানন্দ দাস
১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” নামের বৈষ্ণব
পদাবলী সংকলন, পৃষ্ঠা ১৮৩।


শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ

.        ॥ সারঙ্গ॥

অধর ফুলায়ে কেন ঘন ঘন কান্দ।
খসেছে মাথার চূড়া তাহা নাহি বান্ধ॥
ভূমেতে পড়িয়া কেন মোহনিয়া বাঁশী।
কটি হৈতে পিতাম্বর কেন পড়ে খসি॥
মুখ বুক ভাসি যায় নয়নের জলে।
কিছু নাহি বল মনকথা শুধাইলে॥
খনে উঠ খনে বৈস ছাড়হ নিঃশ্বাস।
নানা ছলে নিরজনে একা কর বাস॥
কি লাগি এমন হৈলে কহ দেখি ভাই।
নিমানন্দ দাস কঙে বিনয়ে শুধাই॥

.        *************************          
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কেন বা এমন হৈলা কোথা কিবা দেখি আইলা
কবি নিমানন্দ দাস
১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়  সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” নামের বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন,
পৃষ্ঠা ১৮৩।


॥ সারঙ্গ॥

কেন বা এমন হৈলা                           কোথা কিবা দেখি আইলা
কহ না মোনের কথা তুমি।
তবে সো তোমার দাস                                পূরাব সকল আশ
নিশ্চয় করিয়া কহি আমি॥
শুন ওরে ভাইরে কানাই।
দেখিয়া তোমার মুখ                                  বিদরিয়া যায় বুক
ইথে লাগি তোমারে শুধাই॥
সখারে করিয়া কোলে                                মরমের কথা বলে
গেখিয়া আইলু এক নারী।
তাহার রূপের ছান্দে                                পরাণ পুতলি কান্দে
সেই হৈতে পাশরিতে নারি॥
সঙ্গের সঙ্গিনী যত                                তাহারা তাহারি মত
মরম কহিলুঁ আমি তোরে।
নিমানন্দ দাস ভণে                                এ কথা না কহ কেনে
আমি যে আনিয়া দেব তারে॥

.        *************************          
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিশ্চয় করিয়া কহনা কথা
কবি নিমানন্দ দাস
১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” নামের বৈষ্ণব
পদাবলী সংকলন, পৃষ্ঠা ১৮৩।


.        ॥ সারঙ্গ॥

কে নিশ্চয় করিয়া কহনা কথা।
তুমি সে তাহারে দেখেছ কোথা॥
কানু কহে এক নবীনা নারী।
আমার পরাণ লইল হরি॥
কালিয় দমন করিয়ে যবে।
আমি সে তাহারে দেখেছি তবে॥
গোচারণে যাই তোদের সাথে।
যমুনা সিনানে যায় সে পথে॥
গোঠ হতে ঘরে ফিরিয়া আসি।
মন্দিক উপরে ছিল সে বসি॥
হাস পরিহাস সখীর সনে।
হেরিয়া সোয়াথ না পাই মনে॥
হেরিয়া তাহার বদন চান্দে।
পরাণ পুতলি সদাই কান্দে॥
কহিতে এ কথা সুবল আগে।
এ নিমানন্দের মরমে জাগে॥

.        *************************          
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর