কবি নিমানন্দ দাস - এর প্রধাণ কীর্তি অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয় বা তৃতীয় দশকে বিরচিত ও সংকলিত,
২৭০০ পদ সম্বলিত “পদরসসার” নামের বৈষ্ণব পদাবলীর সংকলন। তাঁর সম্বন্ধে আমরা সতীশচন্দ্র রায়ের
১৯২৬ সালে প্রকাশিত অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী নামের বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন থেকে জেনেছি যে নিমানন্দ
দাসের “দেখ না সখিনী মিলি ওগো সই” পদটির শেষ পংক্তি থেকে জানা যায় যে তিনি দ্বিজকুলের (ব্রাহ্মণ)
বংশীদাসের অগ্রজ ছিলেন।
নিমানন্দ দ্বিজ বংশী অনুজ
. মজিল দোহার চিত।
এর থেকে অনুমান করা হয়েছে যে তিনি বৃন্দাবনের মত কোনো সাধনা-স্থলে থেকে পদরসসার গ্রন্থটি
সংকলন করেন। তাঁর সম্বন্ধে এর বেশি কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি।
নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথিটি পাওয়া যায় পাবনা জেলার শ্রী মাধীবলাল গোস্বামীর কাছ থেকে, ১২৭১
বঙ্গাব্দে ( ১৮৬৪ )। তাঁর খুল্লপিতামহ বৃন্দাবন ধাম থেকে এই পুথিটি সংগ্রহ করে এনে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র
রামকুমার গোস্বামীকে দিয়ে পুথির একটি অনুলিপি তৈরি করেন। তারপরে কোনো সময়ে তাঁদের গৃহে
আগুন লেগে আসল পুথিটি ভস্মীভূত হয়ে যায়। এখন অনুলিপিটিই সার।
পদরসসার গ্রন্থে তাঁর নিজের ১৪৬টি পদ রয়েছে। পদরসসার পুথি থেকে ২১ জন অজ্ঞাতপূর্ব পদকর্তার পদ
পাওয়া গেছে।
নিমানন্দ দাস যে তাঁর সংকলন বৈষ্ণবদাসের পদকল্পতরু গ্রন্থের অনুসারী করেছেন তা বোঝা যায়।
এ বিষয়ে সতীশচন্দ্র রায় তাঁর অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী সংকলনের ভূমিকায় লিখেছেন,
“নিমানন্দ দাস যে, বৈষ্ণবদাসের পদকল্পতরুকে আদর্শ করিয়া তাঁহার পদরসসার সম্বলিত করেন---তাহাতে
কোনো সন্দেহ নাই ; কেন না, পদরসসার পুথিতে তিনি অনেক স্থলেই কেবল “পদকল্পতরু” নামের স্থলে
“পদরসসার” নামটি বসাইয়া বৈষ্ণবদাসের প্রার্থনাটিও অবিকল উদ্ধৃত করিয়াছেন। পদকল্পতরুর অতিরিক্ত
পূর্ব্বোক্ত কুড়িজন পদকর্ত্তার পদাবলীর সংগ্রহ দ্বারাও নিমানন্দ দাস পদকল্পতরুর সঙ্কলয়িতা বৈষ্ণবদাসের
পরবর্ত্তী এই অনুমানই সমর্থিত হয়।”
"পদরসসার" গ্রন্থটি আমরা হাতে পাইনি। তাই কবির নিজের ১৪৬টি রচনার মধ্যে মাত্র ৩৬টি পদ সংগ্রহ
করে, এখানে তোলা সম্ভব হয়েছে। পদগুলি আমরা পেয়েছি সতীশচন্দ্র রায়ের ১৯২৬ সালে প্রকাশিত
"অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী" এবং হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলন
থেকে।
আমরা মিলনসাগরে কবি নিমানন্দ দাসের বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টার সার্থকতা।
কবি নিমানন্দ দাসের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in
এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ২.৪.২০১৭
...