| কবি নিত্যানন্দ দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| জয় জয় শ্রীচৈতন্য আচার্য্য জয় জয় কবি নিত্যানন্দ দাস ১৫২২ শকাব্দে অর্থাৎ ১৬০০ খৃষ্টাব্দে, নিত্যানন্দ দাস দ্বারা বিরচিত, ১৯১৩সালে বাবু যশোদালাল তালুকদার দ্বারা প্রকাশিত, “শ্রীপ্রেমবিলাস”, দ্বিতীয় বিলাস, শ্রীনিবাস ঠাকুরের জন্মোত্সব বর্ণন, ১৩-পৃষ্ঠা। দ্বিতীয় বিলাস। জয় জয় শ্রীচৈতন্য আচার্য্য জয় জয়। জয় জয় লক্ষ্মীপ্রিয়া ,করণ হৃদয়॥ জয় জয় শ্রোতাগণ শুন সাবধানে। রাধাকৃষ্ণ প্রেমলীলা যাঁর প্রাণধনে॥ পুত্র জন্মি শুনি লোক, পাসরিল দুঃখ শোক, দেকিবারে চলে নরনারী। রাধাকৃষ্ণ গুণ গায়, পঙ্গু জড় অন্ধ ধায়, গৃহ পুত্র সকল পাসরি॥ আচার্য্য যাইয়া ঘরে, আনন্দে নয়ন ভ’রে, দেখি পুত্রের সে চান্দবদন। নয়নে গলয়ে নীর, নিরক্ষিয়া অস্থির, নিছিয়া নিছিয়া দেয় প্রাণ॥ দেখিয়া আসিতে নারে, সে দুটি নয়ন ঝরে, ধন্য মাতা ধরিল উদরে। গন্ধর্ব্ব কিন্নর কিবা, তুলনা নাহিক দিবা, ডুবিলেন প্রেমের সাগরে॥ নাচয়ে নর্ত্তকী গণ, নর্ত্তকাদি যত জন, নাচে গায় সুমধুর স্বরে। ভাট লোক পড়ে কত, কৃষ্ণলীলা অদ্ভূত, পুলকিত তনু হর্ষভরে॥ মৃদঙ্গ ঝাঁঝরি ঢোল, বাজনার উতরোল, করতাল পাখোয়াজ বাজায়। মহুরি পিনাক বাজে, অন্ধ বধির জনে, সেহ বিধি করয়ে নিন্দন॥ দেখিতাম নয়ন ভরি, হেন দুঃখে প্রাণে মরি, অরে বিধি তুহু নিকরুণ। ইহা বলি নাচে গায়, কান্দে ভূমে গড়ি যায়, রাধাকৃষ্ণ বলি উল্লসিত। লক্ষ লক্ষ ধায় লোক, তেজি ভয় দুঃখ শোক, ধায় কত বিষয়ী পণ্ডিত॥ আনন্দে পূরিল দেহ, ধনধান্য পূরে গেহ, প্রেমে সব হইল মূর্চ্ছিত॥ শ্রীনিবাস জন্ম এই, তোমারে কহিল ভাই, শুনে যেই সফল জীবনে। নিত্যানন্দ দাস গানে, বিতরিব প্রেমধনে, নিজতনু করিতে শোধনে॥ শ্রীজাহ্নবাবীরচন্দ্র পদে যার আশ, প্রেমবিলাস কহে নিত্যানন্দ দাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| জগৎ মঙ্গল হৈল নরোত্তম প্রকটিল কবি নিত্যানন্দ দাস ১৫২২ শকাব্দে অর্থাৎ ১৬০০ খৃষ্টাব্দে, নিত্যানন্দ দাস দ্বারা বিরচিত, ১৯১৩সালে বাবু যশোদালাল তালুকদার দ্বারা প্রকাশিত, “শ্রীপ্রেমবিলাস”, নবম বিলাস (আংশিক), নরোত্তমের জন্ম, ৫৪-পৃষ্ঠা। ॥ শ্রীরাগ॥ জগৎ মঙ্গল হৈল, নরোত্তম প্রকটিল, হরিনাম প্রতি ঘরে ঘরে। জন্ম অন্ধ আদি করি, সব দেহে প্রেম ভরি, অশ্রু কম্প সবার শরীরে॥ প্রেমে মত্ত হৈলা সব, হরিনাম মহারব, বর্ণাশ্রম সব গেল দূর। ব্রাহ্মণ শূদ্রেতে খেলা, প্রেমে মত্ত সবে হৈলা, কৃষ্ণ নামে সবে হৈলা শূর॥ বত্স সঙ্গে গাভীগণ, হাম্বা রব অনুক্ষণ, ধায় সবে শিরে নিজ পুচ্ছে। ব্রাহ্মণে মঙ্গল পড়ে, কেহো ধায় উভরড়ে, শোক দুঃখ ত্যজি সব নাচে॥ কুলবধু ঘর হৈতে, নাহি পার বাহিরাতে, নাচিবার তার হয় মন। সব লাগে উচাটন, ধন গৃহ পতিজন, না দেখিয়া না রহে জীবন॥ একত্র হইয়া কবে, বালক দেখিবে সব, বিধাতারে করয়ে বিনয়। স্বামী সঙ্গে রজনীতে, আইলা বালক দেখিতে, আনন্দেতে মুখ নিরখয়॥ ছাড়ে সব লজ্জা ভয়, আনন্দ করি হৃদয়, ঘরে তারা না পারে থাকিতে। ক্ষণে ইতি উতি ধায়, ক্ষণে করে হায় হায়, এ না দুঃখ পারি না সহিতে॥ থালি ভরি স্বর্ণ ধান, একত্র লৈয়া জান, যৌতুকেতে ঘর ভরি গেল। দেখিয়া বালকের জ্যোতি, যেন পূর্ণিমার শশী, অন্ধকার ঘর আলা হৈল॥ ভাট নর্ত্তকের গণে, নানা রত্ন আভারণে, দিল সবে বহু ধন দান।১ বন্দিগণে ছাড়ি দিল, তারা সব ছুটি গেল, নিত্যানন্দ দাস গুণ গান॥ টীকা- ১। ঘরে আছিল যত, যৌতুক পাইল কত, ব্রাহ্মণেরে সব দিল দান॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |