নিত্যানন্দ দাসের পদাবলী -                                                            পাতার উপরে . . .   
নিত্যানন্দ দাস, ১৬০০ সাল নাগাদ “শ্রীপ্রেমবিলাস” গ্রন্থ রচনা করেন যা বাবু যশোদালাল তালুকদার দ্বারা
১৯১৩ সালে প্রকাশিত হয়।

প্রেমবিলাস গ্রন্থ বাদ দিয়ে, অন্যান্য পদাবলী সংকলনে, আমরা নিত্যানন্দ দাসের কেবল মাত্র একটি পদ
পেয়েছি। “রহ রহ বলি তমু যাও” পদটি পেয়েছি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব
পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা” থেকে। এছাড়া আর কোনো সংকলনে তাঁর কোনো পদ পাওয়া যায়নি।
আমরা তাঁর কবিতার পাতায় প্রেমবিলাস থেকে আরও সাতটি রচনা তুলে দিয়েছি। পরেমবিলাস গ্রন্থ থেকে
নেওয়া বলে, এগুলো যে তাঁরই রচনা সে, বিষয়ে কোনো সংশয় নেই।


আমরা
মিলনসাগরে  কবি শ্রীমাধবের বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই  
প্রচেষ্টার সার্থকতা।


কবি নিত্যানন্দ দাসের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।    



আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ৩.৮.২০১৭
এই পাতার পরিবর্ধিত সংস্করণ - ৭.৮.২০১৭

পরিবর্ধিত সংস্করণ - ২৮.২.২০১৮
নিত্যানন্দ দাস
জন্ম আনুমানিক ষোড়শ শতকের তিরিশ বা চল্লিশের দশক।
চৈতন্য সমসাময়িক কবি।
কবির একটি ছবি ও তাঁর জীবন সম্বন্ধে
আরও তথ্য যদি কেউ আমাদের পাঠান
তাহলে আমরা, আমাদের কৃতজ্ঞতাস্পরূপ
প্রেরকের নাম এই পাতায় উল্লেখ করবো।
আমাদের ঠিকানা -
srimilansengupta@yahoo.co.in
এই পাতার কবিতার ভণিতা -
নিত্যানন্দ দাস
বৃন্দাবনদাসের পিতৃপরিচয়    
চৈতন্যভাগবতে বৃন্দাবন দাসের নারায়ণী-শ্রীচৈতন্য বর্ণনা    
প্রেমবিলাসে বৃন্দাবনদাসের পিতৃপরিচয় বর্ণনা      
প্রেমবিলাসে দুজন মাধব আচার্য্য      
নিত্যানন্দ দাসের পদাবলী     
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের ভূমিকা     
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"      
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও উত্স গ্রন্থাবলী     
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?     
*
*
*
*
*
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
কবি নিত্যানন্দ দাস - তাঁর আত্ম-পরিচয়ে জানিয়েছেন যে তাঁর মাতা নাম সৌদামিনী এবং পিতা
আত্মারাম দাস। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল বলরাম দাস। বালক অবস্থাতেই তাঁরা দুজনেই মারা যান। এরপর
তিনি নিত্যানন্দ প্রভুর প্রথমা স্ত্রী, জাহ্নবা দেবীকে স্বপ্নে দেখেন এবং সেই স্বপ্নাদেশ অনুসারে খড়দহে গিয়ে
জাহ্নবাদেবীর কাছে আশ্রয় পান। নিঃসন্তান জাহ্নবা দেবীই তাঁর নতুন নাম রাখেন নিত্যানন্দ দাস এবং
তাঁকে দীক্ষাদান করেন। তাঁর আদেশেই তিনি প্রেমবিলাস গ্রন্থ রচনা করেন। গ্রন্থ শেষ করার কালে বোধ হয়
জাহ্নবা দেবী জীবিত ছিলেন না বলে গ্রন্থটিকে, নিত্যানন্দ প্রভুর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী বসুধা দেবীর পুত্র
বীরচন্দ্রের পদে অর্পণ করেন।

জাহ্নবা দেবীর এবং বসুধা দেবীর সঙ্গে নিত্যনন্দ প্রভুর বিবাহ হয়
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশেই, তাঁর
জীবদ্দশায়। নিত্যানন্দ দাসের আত্মপরিচয় থেকে আমরা ধরে নিতে পারি যে বালকাবস্থায় তিনি
জাহ্নবাদেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে তাঁর সঙ্গে নিজে নিজে পথ খুঁজে বা জিজ্ঞেস করে করে, খড়দহে আসেন।
একেবারে শিশুর পক্ষে এই কাজ করা খুবই কষ্টসাধ্য, প্রায় অসম্ভব। তাই ধরে নেওয়া যায় যে তখন তাঁর
বয়স অন্তত ১০-১২ বছর।


প্রেম বিলাস গ্রন্থে কবির নিজের পরিচয় . . .

এই যে লিখিনু গ্রন্থ গুরু আজ্ঞা মানি।  কি লিখিনু ভাল মন্দ কিছুই না জানি॥
যা দেখুল যা শুনিল শ্রীমুখ-বচন।  লিখিনু এ গ্রন্থ তাঁর ভাবিয়া চরণ॥
মোর দীক্ষা-গুরু হয় জাহ্নবা ঈশ্বরী।  যে কৃপা করিলা মোরে কহিতে না পারি॥
বীরচন্দ্র প্রভু মোর শিক্ষাগুরু হয়।  আমারে করুণা তিহোঁ কৈলা অতিশয়॥
মাতা সৌদামিনী, পিতা আত্মারাম দাস।  অম্বুষ্ঠ কুলেতে জন্ম শ্রীখণ্ডেতে বাস॥
আমি এক পুত্র মোরে রাখিয়া বালক।  মাতা পিতা দুঁহে চলি গেলা পরলোক॥
অনাথ হইয়া আমি ভাবি অনিবার।  রাত্রিতে স্বপন এক দেখিনু চমত্কার॥
জাহ্নবা ঈশ্বরী কহে কোন চিন্তা নাই।  খড়দহে গিয়া মন্ত্র লহ মোর ঠাঁই॥
স্বপ্ন দেখি খড়দহে কৈনু আগমন।  ঈশ্বরী করিলা মোরে কৃপার ভাজন॥
বলরাম দাস নাম পূর্ব্বে মোর ছিলা।  এবে নিত্যানন্দ দাস শ্রীমুখে রাখিলা॥
নিজ পরিচয় আমি করিনু প্রচার।  গুরু কৃষ্ণ বৈষ্ণব পদে কোটী নমস্কার॥
শ্রীজাহ্নবা বীরচন্দ্র পদে যার নাশ।  প্রেম বিলাস কহে নিত্যানন্দ দাস

---নিত্যানন্দ দাস, প্রেমবিলাস, বিংশ বিলাস, ২১২-পৃষ্ঠা॥


“শ্রীপ্রেমবিলাস” গ্রন্থের চতুর্বিংশ বিলাসে (অন্তিম বিলাস), গ্রন্থের সমাপ্তি কাল দেওয়া রয়েছে, ৩০১-পৃষ্ঠা।

 
পনর শত বাইশ যখন শকাব্দের আসিল।
ফাল্গুন মাস আসিয়া উপস্থিত হৈল॥
কৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথি মনের উল্লাস।
পূর্ণ করিল গ্রন্থ শ্রীপ্রেমবিলাস
॥ ---নিত্যানন্দ দাস, “শ্রীপ্রেমবিলাস”, চতুর্বিংশ বিলাস, ৩০১-পৃষ্ঠা॥


১৫২২ শকাব্দ অর্থাৎ ১৬০০ খৃষ্টাব্দ। এই সময় তাঁর বৃদ্ধাবস্থা। নিজেই লিখেছেন . . .


বৃদ্ধ বয়সে গ্রন্থ করি সমাপন।
বীরচন্দ্রের পদ-মূলে করিনু অর্পণ


সেকালের লেখকদের বয়স খুব তাড়াতাড়ি জানান দিত, চোখে চালশে পড়ে। চশমাও ছিল না যে দৃষ্টিশক্তি
দুর্বল হয়ে পড়লে তা দিয়ে দৃষ্টিশক্তির পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। অন্যান্য বার্ধক্যজনিত রোগের চিকিত্সা,
আধুনিক কালের মতো ছিল না। তাই কবির “বৃদ্ধ বয়স”-কে যদি ৬০ বছরও ধরা হয় মনে হয় না অন্যায়
হবে। তাহলে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অপ্রকট হবার কাল অর্থাৎ ১৫৩৪ সালের ছয় বছর পরে তাঁর জন্ম
হয়েছিল বলা চলে। প্রেমবিলাসের সমাপ্তিকালে নিত্যানন্দের বয়স যদি ৭০ বছর ধরা হয়, তবে
শ্রীচৈতন্যের
অন্তর্ধানের সময় তাঁর মাত্র বছর চারেক বয়স ছিল। ফলে নিত্যানন্দ দাসকে আমরা নিঃসন্দেহে চৈতন্য
পরবর্তী কবি হিসেবে চিহ্নিত করতে পারি।
বৃন্দাবনদাসের পিতৃপরিচয় -                                                             পাতার উপরে . . .   
আমরা মনে করি প্রেমবিলাসের রচয়িতা নিত্যানন্দ দাস তাঁর গ্রন্থে একাধিক স্পর্শকাতর বিষয়ে স্পষ্ট কথা
লিখে গিয়েছেন। তাঁর রচনা থেকেই আমরা শ্রীচৈতন্যভাগবতের রচয়িতা বৃন্দাবন দাসের পিতৃপরিচয় পাই।
চৈতন্যচরিতামৃতের রচয়িতা কৃষ্ণদাস  কবিরাজ এবং স্বয়ং বৃন্দাবন দাস তাঁর পিতৃপরিচয় লিখে রেখে
জাননি। সম্ভবত, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ঐশ্বরিক শক্তি প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তাঁরা বৃন্দাবন দাসের মাতা
নারায়ণী দেবীর, মাত্র চার বছর বয়সে, বিশ্বম্ভরের (শ্রীচৈতন্যের সন্ন্যাস গ্রহণের পূর্বে) ভুক্তাবশেষ তাম্বুল
(পান) খেয়ে, “কৃষ্ণ” নাম করা এবং তাঁর বিধবা অবস্থায় গর্ভবতী হয়ে বৃন্দাবন দাসের জন্মাবার বৃত্তান্ত লিখে
গিয়েছেন, বৃন্দাবন দাসের পিতৃপরিচয় না দিয়ে। বৃন্দাবন দাস নিজে, জীবনে এই নিয়ে বহু কটুক্তি সহ্য করে
বিরক্ত হয়েও (নীচে দেওয়া তাঁর লেখা থেকেই স্পষ্ট) কোথাও তাঁর পিতার নাম করে জাননি!  
চৈতন্যভাগবতে বৃন্দাবন দাসের নারায়ণী-শ্রীচৈতন্য বর্ণনা -                         পাতার উপরে . . .   
বৃন্দাবন দাস চৈতন্যভাগবতে, দু জায়গায় মাতা নারায়ণীর, বিশ্বম্ভরের ভুক্তাবশেষ খেয়ে “কৃষ্ণ” নাম করার
কথা লিখেছেন। মধ্যখণ্ডের ২য় অধ্যায়ে এবং ১০ম অধ্যায়ে। আমরা এক একে দুটি অংশই এখানে দিয়ে
তার পরে নিত্যানন্দ দাসের বর্ণনা দিলাম, যেখানে বৃন্দাবন দাসের পিতৃপরিচয় রয়েছে . . .

মোর শক্তি দেখ্ এবে নয়ন ভরিয়া। এত বলি মত্ত-হস্তী আনিব ধরিয়া॥
হস্তী, ঘোড়া, মৃগ, পাখী একত্র করিয়া। সেইখানে কান্দাইমু ‘শ্রীকৃষ্ণ’ বলিয়া॥
রাজার যতেক গণ --- রাজার সহিতে। সভা’ কান্দাইমু ‘কৃষ্ণ’ বলি ভাল-মতে॥
ইহাতে বা অপ্রত্যয় তুমি বাস’ মনে। সাক্ষাতেই করোঁ দেখ আপন-নয়নে॥
সম্মুখে দেখয়ে এক বালিকা আপনি। শ্রীবাসের ভাতৃসুতা---নাম ‘নারায়ণী’॥
অদ্যপিহ বৈষ্ণব-মণ্ডলে যাঁর ধ্বনি। ‘চৈতন্যের অবশেষ-পাত্র নারায়ণী’॥
সর্ব্ব-ভূত-অন্তর্যামী---প্রভু গৌরচান্দ। আজ্ঞা কৈলা “নারায়ণি! কৃষ্ণ বলি কান্দ॥”
চারি-বত্সরের সেই উন্মত্ত-চরিত। ‘হা কৃষ্ণ!’ বলিয়া কান্দে, নাহিক সম্বিত॥
অঙ্গ বাহি পড়ে ধারা পৃথিবীর তলে। পরিপূর্ণ হৈল স্থল নয়নের জলে॥
হাসিয়াহাসিয়া বোলে প্রভু বিশ্বম্ভর। “এখন তোমার সব ঘুচিল কি ডর
?”
---বৃন্দাবন দাস, চৈতন্যভাগবত, মধ্যখণ্ড, ২য় অধ্যায়, পৃষ্ঠা-১৭০॥

নিচে তাঁর চৈতন্যভাগবতের মধ্যখণ্ডের, ১০ম অধ্যায়ে ঐ অংশটি তুলে দেওয়া হলো যেখানে নারায়ণীর পান
খেয়ে “কৃষ্ণ” বলে ক্রন্দন করার কথা রয়েছে এবং শেষ দুটি পংক্তিতে ধৈর্য্য হারিয়ে অবিশ্বাসীদের
অধঃপতনে যাওয়ার অভিশাপ দিচ্ছেন .  . .

দেখায় আপনে শিখায় সভাকারে। “এ সকল কথা ভাই! শুনে পাছে আরে॥
জন্ম জন্ম তোমরা পাইবে মোর সঙ্গ। তোমা’ সভার ভৃত্যেও দেখিব মোর রঙ্গ॥”
আপন গলার মালা দিলা সভাকারে। চর্ব্বিত-তাম্বুল আজ্ঞা হইল সভারে॥
মহানন্দে খায় সভে হরষিত হৈয়া। কোটি-চান্দ-শারদ-মুখের দ্রব্য পায়্যা॥
ভোজনের অবশেষে যতেক আছিল। নারায়ণী পুণ্যবতী তাহা সে পাইল॥
শ্রীবাসের ভাতৃসুতা---বালিকা অজ্ঞান। তাহারে ভোজনশেষ প্রভু করে দান॥
পরম আনন্দে খায় প্রভুর প্রসাদ। সকল বৈষ্ণব তাঁরে করে আশীর্ব্বদ॥
“ধন্যধন্য এই সে সেবিলা নারায়ণ। বালিকাস্বভাবে ধন্য ইহার জীবন॥”
খাইলে প্রভুর আজ্ঞা হয়ে “নারায়ণি! কৃষ্ণের পরমানন্দে কান্দ দেখি শুনি॥”
হেন প্রভু চৈতন্যের আজ্ঞার প্রভাব। ‘কৃষ্ণ’ বলি কান্দে অতি বালিকাস্বভাব॥
অদ্যপিহ বৈষ্ণব মণ্ডলে যার ধ্বনি। ‘গৌরাঙ্গের অবশেষপাত্র নারায়ণী’॥
যারে যেন আজ্ঞা করে ঠাকুর চৈতন্য। সে আসিয়া অবিলম্বে হয় উপসন্ন॥
এ সব বচনে যার নাহিক প্রতীত। সত্য অধঃপাত তার জানিহ নিশ্চিত॥
---বৃন্দাবন দাস, চৈতন্যভাগবত, মধ্যখণ্ড, ১০ম অধ্যায়, পৃষ্ঠা-২৩৯॥

উপরোক্ত পদের শেষ দুটি পংক্তি সম্বন্ধে অনেকেই বিরূপ মত পোষণ করেন।
“নিজে কবি বৃন্দাবন দাস তাঁর নিজের জন্ম বিবরণ বর্ণনা করে ধৈর্য হারিয়ে এর পরেই অবিশ্বাসীদের গালি
দিয়েছেন- যা বৈষ্ণব-বিনয় ও নমনীয়তার ঘোর বিরোধী”---মালীবুড়ো, শ্রীচৈতন্যের অন্তর্ধান রহস্য, পৃষ্ঠা-২০১।
এতে আরও মনে হতে শুরু করে যে তাঁর জন্ম রহস্যাবৃত!
প্রেমবিলাসে বৃন্দাবন দাসের পিতৃপরিচয় বর্ণনা -                                   পাতার উপরে . . .   
উপরে দেওয়া বৃন্দাবন দাসের রচনার পাশে, আমরা নিত্যানন্দ দাসের প্রেমবিলাসে লেখা বৃন্দাবন দাসের
পিতৃপরিচয় উল্লেখ করা অংশটি তুলে দিচ্ছি . . .
১৫২২ শকাব্দ অর্থাৎ ১৬০০ খৃষ্টাব্দে, নিত্যানন্দ দাস রচিত শ্রীপ্রেমবিলাস গ্রন্থে বৃন্দাবন দাসের জন্মবৃত্তান্ত
এভাবে দেওয়া রয়েছে, যেখানে স্পষ্ট করে বৃন্দাবনদাসের পিতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ---


শ্রীবাসের জ্যেষ্ঠ ভাই ছিল নলিন পণ্ডিত। নারায়ণী তাঁর কন্যা জগতে বিদিত॥
নারায়ণী যবে এক বত্সরের হৈল। মাতা পিতা তাঁর পরলোকে চলি গেল॥
শ্রীবাসের পত্নী তারে করয়ে পালন। নারায়ণী হৈল প্রভুর উচ্ছিষ্ট-ভাজন॥
শ্রীগৌরাঙ্গে আজ্ঞা-কৃপায় নারায়ণী। হা কৃষ্ণ বলিয়া কান্দে পড়য়ে ধরণী॥
চারি বত্সরের শিশু বালিকা অজ্ঞান। প্রভু তাঁরে ভুক্ত শেষ করিলেন দান॥
বৃন্দাবনে কৃষ্ণোচ্ছিষ্ট যে কৈলা ভোজন। সেই কিলিম্বিকা এবে নারায়ণী হন॥
সন্ন্যাস করি মহাপ্রভু নীলাচলে রৈল। শ্রীবাস শ্রীরাম কুমারহট্টে চলি গেল॥
কুমারহট্টবাসী বিপ্র বৈকুণ্ঠদাস যেঁহো। তাঁর সহিত নারায়ণীর হইল বিবাহ॥
তাঁর গর্ব্ভে জন্মিলা বৃন্দাবন দাস। তিঁহো হন শ্রীল বেদব্যাসের প্রকাশ॥
বৃন্দাবন দাস যবে আছিলেন গর্ব্ভে। তাঁর পিতা বৈকুণ্ঠদাস চলি গেল স্বর্গে॥
ভ্রাতৃ-কন্যা গর্ব্ভবতী পতিহীনা দেখি। আনিয়া শ্রীবাস নিজ গৃহে দিল রাখি॥
পঞ্চবত্সরের শিশু বৃন্দাবন দাস। মাতামহ মামগাছি করিলা নিবাস॥
বাসুদেব দত্ত প্রভুর কৃপার ভাজন। মাতাসহ বৃন্দাবনের করে ভরণ পোষণ॥
বাসুদেব দত্তের ঠাকুর বাড়ীতে বাস কৈল। নানাশাস্ত্র বৃন্দাবন পড়িতে লাগিল॥
নানাশাস্ত্র পড়ি হৈল পরম পণ্ডিত। চৈতন্যমঙ্গল গ্রন্থ যাহার রচিত॥
ভাগবতের অনুরূপ চৈতন্য মঙ্গল। দেখিয়া বৃন্দাবনবাসী ভকত সকল॥
চৈতন্য ভাগবত নাম দিল তাঁর। যাহা পাঠ করি ভক্তের আনন্দ অপার

---নিত্যানন্দ দাস, প্রেমবিলাস, ত্রয়োবিংশ বিলাস, পৃ-২২২॥

নিত্যানন্দ দাসের নিজের লেখাতেই রয়েছে যে এই গ্রন্থ তাঁর বৃদ্ধ বয়সের রচনা। ওই স্তরের গ্রন্থকারের হয়ে
এভাবে নিজের দোষ-ত্রুটি অকপটে স্বীকার করে যথেষ্ঠ সত্সাহসের পরিচয় দিয়ে গিয়েছেন।
প্রেমবিলাসে দু জন মাধব আচার্য্য -                                                  পাতার উপরে . . .   
নিত্যানন্দ দাসের প্রেমবিলাস থেকে আমরা দুজন মাধব আচার্য্যের কথা জানতে পারি। একজন মাধবাচার্য্য,
নিত্যানন্দ প্রভুর শিষ্য এবং জামাতা, কন্যা গঙ্গাদেবীর স্বামী। অন্য
মাধবাচার্য্য শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর দ্বিতীয়
পক্ষের স্ত্রী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর কাকা কালিদাস মিশ্রের পুত্র মাধব। এই মাধব, শ্রীচৈতন্যের জীবদ্দশাতেই,
শ্রীমদ্ভাগবতের দশম স্কন্ধের সরল বাংলা অনুবাদ করেছিলেন যার নাম “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল”।