কবি পরমানন্দ-কবিকর্ণপূরের বৈষ্ণব পদাবলী
*
নাচিতে না জানি তমু নাচিয়ে গৌরাঙ্গ বলি
কবি পরমানন্দ দাস
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত জগবন্ধু ভদ্রর সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”
দ্বিতীয় সংস্করণ, ষষ্ঠ তরঙ্গ, চতুর্থ উচ্ছাস, ভক্তের দৈন্য ও প্রার্থনা, পদসংখ্যা ২৪, ৩৩৩-পৃষ্ঠায়।

॥ পাহিড়া॥

নাচিতে না জানি তমু                                নাচিয়ে গৌরাঙ্গ বলি
গাইতে না জানি তমু গাই।
সুখে বা দুঃখেতে থাকি                             গৌরাঙ্গ বলিয়া ডাকি
নিরন্তর এই মতি চাই॥
বসুধা জাহ্নবী সহ                                     নিতাইচাঁদেরে ডাকি
নাম সহিতে সীতাপতি।
নরহরি গদাধর                                            শ্রীবাসাদি সহচর
ইহা সভার নামে যেন মাতি॥
স্বরূপ রূপ সনাতন                                         রঘুনাথ সকরুণ
ভট্টযুগ জীব লোকনাথ।
ইহা সবার সহকারে                                    দীনপ্রায় সদা ফিরে
যেন হয় তাসভার সাথ॥
মহান্তসন্তান কিবা                                       মহান্তের জন যেবা
ইহা সভার স্থানে অপরাধ।
না হয় উদ্গম কভু                                     ভয়ে প্রাণ কাঁপে প্রভু
এ সাধে না পড়ে যেন বাদ॥
অন্তে শ্রীবাসপদ                                        সেবা উক্ত সে সম্পদ
সে সম্পদের সম্পদী যে হয়।
তার ভুক্তগ্রাস শেষে                                  কিবা গৌড় ব্রজবাসে
পরমানন্দ এই ভিক্ষা চায়॥

ই পদটি “হরিদাস”-এর ভণিতায় রয়েছে আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন)
সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, পদসংখ্যা ৩০১৪ হিসেবে।

॥ ডাশ পাহিড়া॥

নাচিতে না জানি তমু                                  নাচিয়ে গৌরাঙ্গ বলি
গাইতে না জানি তমু গাই।
সুখে বা দুখেতে থাকি                                গৌরাঙ্গ বলিয়া ডাকি
নিরন্তর এই মতি চাই॥
বসুধা জাহ্নবা সহ                                     নিতাইচাঁদেরে ডাকি
সীতার সহিতে সীতা-পতি।
নরহরি গদাধর                                            শ্রীবাসাদি সহচর
ইহা সভার নামে যেন মাতি॥
স্বরূপ রূপ সনাতন                                         রঘুনাথ সকরুণ
ভট্ট-যুগ জীব লোকনাথ।
ইহা সভার নাম করে                                 দীন প্রায় সদা ফিরে
যেন হয় তা সভার সাথ॥
মহান্ত-সন্তান কিবা                                      মহান্তের জন বেবা
ইহা সভার স্থানে অপরাধ।
না হয় উদগম কভু                                   ভয়ে প্রাণ কাঁপে মুহু
এ সাধে না পড়ে যেন বাদ॥
অন্তে শ্রীনিবাস-পদ-                                    সেবাযুক্ত যে সম্পদ
সে সম্পদের সম্পদী যে হয়।
তার ভুক্ত-গ্রাস-শেষে                                কিবা গৌড় ব্রজ-বাসে
দন্তে তৃণ হরিদাসে কয়॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কানুক নিঠুর বচন শুনি সো সখী
কবি পরমানন্দ দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৭ম পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ -
সবিস্তার, পদসংখ্যা ১৮৩ হিসেবে।

॥ বালা ধানশী॥

কানুক নিঠুর                                   বচন শুনি সো সখী
আওল রাইক পাশ।
পন্থ ঘটিত দুখ                                     লোচন ছল ছল
কহতহিঁ গদ গদ ভাষ॥
সুন্দরি, দূরে কর কানু আশোয়াস।
ঐছে নিঠুর সঞে                                লেহ নহে সমুচিয়ে
না পূরব তুয়া অভিলাষ॥ ধ্রু॥
তোহারি নিদান হাম                                কতয়ে শুনায়লুঁ
তাহে যে সুকঠিন বাণী।
সো হাম তুয়া পায়                                 কতয়ে নিবেদব
কহইতে দহয়ে পরাণী॥
ঐছন বচন                                    রাই তব দোতি-মুখে
শুনইতে মূরছিত ভেল।
ইহ পরমানন্দ-                                    দাসক হৃদি মাহা
কো-জানি রোপল শেল॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-
মালা”, ১০৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

কানুক নিঠুর বচন                                    শুনি সো সখী
আওল রাইক পাশ।
পন্থ ঘটীত দুঃখ                                     লোচন ছল ছল
কহতহি গদ গদ ভাষ॥
সুন্দরি দূরে কর কানু আশোয়াস।
ঐছে নিঠুর সঞে                                  নেহ নহে সমুচিত
না পূরব তুয়া অভিলাষ॥ ধ্রু॥
তোহারি নিদান হাম                                কতয়ে শুনায়লু
তাহে যে সুকঠিন বাণী।
সো হাম তুয়া পায়ে                                  কতহুঁ নিবেদব
কহইতে দহয়ে পরাণী॥
ঐছন বচন                                       রাই যব দূতি মুখে
শুনইতে মূরছিতা ভেল।
ইহ পরমানন্দ-                                      দাস হৃদয় মাহ
কো জানি রোপল শেল॥

ই পদটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদরত্নাবলী”, ৬৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

কানুক নিঠুর                                   বচন শুনি সো সখী
আওল রাইক পাশ।
পন্থঘটীত দুখে                                      লোচন ছল ছল
কহতহিঁ গদ গদ ভাষ॥
সুন্দরি, দূরে কর কানু আশোয়াস।
ঐছে নিঠুর সঞে                                 লেহ নহে সমুচিত
না পূরব তুয়া অভিলাষ॥
তোহারি নিদানে হাম                               কতয়ে শুনায়লুঁ
তাহে যে সুকঠিন বাণী।
সো হাম তুয়া পায়ে                                  কতহুঁ নিবেদব
কহইতে দহয়ে পরাণী॥
ঐছন বচন                                     রাই যব দোতি মুখে
শুনইতে মূরছিত ভেল।
ইহ পরমানন্দ                                      দাসক হৃদি মাহা
কো জানি রোপল শেল॥

ব্যাখ্যা -
বিক্ষুব্ধ সখী পথশ্রমে ক্লান্ত দেহে ব্যর্থতায় ছলছল চোখে ফিরে এসে রাধাকে বলছেন --- এরকম নিষ্ঠুরের
সঙ্গে প্রেম সমুচিত নয়। সখি, তুমি কৃষ্ণের প্রত্যাশা কোরো না। তোমার কথা তাকে বলতে সে যে কঠিন
কথা আমাকে শোনাল সে আমি তোমাকে কেমন করে বলব। কৃষ্ণের অপ্রত্যাশিত নিষ্ঠুরতার কথা শুনতে
শুনতে রাধা মূর্ছা গেলেন।
--- সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী”॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায়
সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বালা ধানশী॥

কানুক নিঠুর বচন সুনি সো সখী আওল রাইক পাশ।
পন্থঘটিত দুখ লোচন ছলছল কহতহি গদগদ ভাস॥
সুন্দরি, দূর কর কানু আসোয়াস।
ঐছে নিঠুর সঞে নেহ [ নহে ] সমুচিত না পূরব তুয়া অভিলাষ॥ ধ্রু॥
তোঁহারি নিদান হাম কতয়ে সুনায়লু তাহে যে সুকঠিন বাণী।
সো হাম তুয়া পাএ কত এ নিবেদব কহইতে দহই পরানি॥
ঐছন বচন রাই তব দূতীমুখে সুনইতে মূরছিত ভেল।
ইহ পরমানন্দ দাসক হৃদিমাহা কো জানে রোপল শেল॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পরশ-মণির সনে কি দিব তুলনা রে
কবি পরমানন্দ দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, রসোদ্গার, পদসংখ্যা
৬৭২ হিসেবে।

এতদ্গীতং সর্ব্ব-কালোচিতং।
অথ রসোদ্গারানুরাগঃ।

শ্রীগৌরচন্দ্রঃ।
॥ বিভাষ॥

পরশ-মণির সনে                                      কি দিব তুলনা রে
পরশ ছোয়াইলে হয় সোণা।
আমার গৌরাঙ্গের গুণে                                নাচিয়া গাইয়া রে
রতন হইল কত জনা॥
শচীর নন্দন বনমালী।
এ তিন ভুবনে যার                                    তুলনা দিবার নাই
গোরা মোর পরাণ-পুতলী॥ ধ্রু॥
গৌরাঙ্গ-চাঁদের ছাঁদে                                    ও চাঁদ কলঙ্কী রে
এমন করিতে নারে আলো।
অকলঙ্ক পূর্ণ-চাঁদ                                        উদয় নদিয়া-পুরে
মনের আন্ধার দূরে গেলো॥
এ গুণে সুরভি সুর-                                      তরু সম নহে রে
মাগিলে সে পায় কোন জন।
না মাগিতে অখিল                                   ভুবন ভরি জনে জনে
যাচিয়া দেওল প্রেম-ধন॥
গোরাচাঁদের তুলনা                                গোরাচাঁদ গোসাঞি রে
বিচার করিয়া দেখ সভে।
পরমানন্দের মনে                                     এ বড় আকুতি রে
গৌরাঙ্গের দয়া হবে কবে॥

ই পদটি, ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত সম্পাদিত পদরত্নাকর পুথিতে “নয়নানন্দ”-
এর ভণিতায় দেওয়া রয়েছে। সেখানে এই পদটির শেষ চার পংক্তি এই রূপে দেওয়া রয়েছে।


পরশ-মণির সনে                                      কি দিব তুলনা রে
পরশ ছোয়াইলে হয় সোণা।
আমার গৌরাঙ্গের গুণে                                নাচিয়া গাইয়া রে
রতন হইল কত জনা॥
শচীর নন্দন বনমালী।
এ তিন ভুবনে যার                                    তুলনা দিবার নাই
গোরা মোর পরাণ-পুতলী॥ ধ্রু॥
গৌরাঙ্গ-চাঁদের ছাঁদে                                    ও চাঁদ কলঙ্কী রে
এমন করিতে নারে আলো।
অকলঙ্ক পূর্ণ-চাঁদ                                        উদয় নদিয়া-পুরে
মনের আন্ধার দূরে গেলো॥
এ গুণে সুরভি সুর-                                     তরু সম নহে রে
মাগিলে সে পায় কোন জন।
না মাগিতে অখিল                                   ভুবন ভরি জনে জনে
যাচিয়া দেওল প্রেম-ধন॥

গোরাঙ্গ-চান্দের তাই                                   তুলনা দিবার নাই
হৃদয়ে ভাবিয়া সব দেখ।
নয়নানন্দের মনে                                      অধিক আনন্দ রে
গোরা-গুণ বিচারিয়া লেখ॥

টীকা বা ব্যাখ্যা -
১-৪। “পরশ-মণির” ইত্যাদি। পদ-কর্ত্তা বলিতেছেন,--- স্পর্শ-মণির সহিত গৌরাঙ্গের কি তুলনা দিব ? স্পর্শ
মণি ( অন্য কোন ধাতু পদার্থে ) স্পর্শ করাইলে (উহা) স্বর্ণ হয় ; (কিন্তু) আমার শ্রীগৌরাঙ্গের (অদ্ভুত) শক্তির
প্রভাবে নাচিয়া গাহিয়া কত (শত) ব্যক্তি রত্ন হইল। ( প্রথমে ত পরশ-পাথর পাওয়াই দুর্ঘট ; তার
পরে উহা ঘাতু দ্রব্যে স্পর্শ করান আবশ্যক ; তাহা হইলে ঐ ধাতু-দ্রব্য স্বর্ণে পরিণত হয়, কিন্তু শ্রীগৌরাঙ্গের
নামের বাতাসেই মানুষ রত্ন হইয়া যায় ; সুতরাং এ স্থলে পরশ-পাথর অপেক্ষা শ্রীগৌরাঙ্গের উত্কর্ষ বর্ণিত
হওয়ায় “ব্যতিরেক” অলঙ্কার হইয়াছে।)
৮-১১।  “গৌরাঙ্গচাঁদের” ইত্যাদি। শ্রীগৌরাঙ্গ-রূপ চন্দ্রের শোভায় (আকাশের) সেই চন্দ্র কলঙ্ক-যুক্ত
(হইয়াছে) ; উহা এরূপ আলো করিতে পারে না ; (কেন না, শ্রীগৌরাঙ্গের আবির্ভাবে) নবদ্বীপ নগরে কলঙ্ক-
বিহীন পূর্ণচন্দ্র সমুদিত হইয়াছে ; (উহার প্রভাবে) দর্শকের মনের অন্ধকার বিদূরিত হইল। (আকাশের চন্দ্র
কলঙ্ক-যুক্ত এবং হ্রাস-বৃদ্ধির অধীন ; উহা মেঘ ইত্যাদির প্রতিবন্ধকতা না থাকিলে বাহ্য অন্ধকারমাত্র দূর
করিতে পারে ; কিন্তু অকলঙ্ক চন্দ্র-স্বরূপ শ্রীগৌরাঙ্গ তাঁহার আবির্ভাব দ্বারা দর্শকের মানসিক অন্ধকার
পর্য্যন্ত বিদূরিত করিয়াছেন ; সুতরাং এ স্থলেও “ব্যতিরেক” অলঙ্কার বুঝিতে হইবে।)

১২-১৫। “এ গুণে” ইত্যাদি। এই গুণের তুলনায় সুগন্ধি সুর-তরু পারিজাত (শ্রীগৌরাঙ্গের) তুল্য নহে ; কোন
(পুণ্যবান) ব্যক্তি (স্বর্গে যাইয়া সেই কল্পতরু পারিজাতের নিকট)  শুধু  প্রার্থনা করিলেই (ধন ইত্যাদি) প্রাপ্ত
হন ; (কিন্তু) শ্রীগৌরাঙ্গ কেহ প্রার্থনা না করিলেও (অপূর্ব্ব দয়া-গুণ হেতু) সমস্ত জগৎ ভরিয়া (উত্তম-অধম না
বাছিয়া) সকল ব্যক্তিকে (নিজে) যাচ্ঞা করিয়া প্রেমরূপ অমূল্য রত্ন বিতরণ করিয়াছেন। (এ স্থলেও
“ব্যতিরেক” অলঙ্কার হইয়াছে।)

১৬-১৭। “গোরাচাঁদের” ইত্যাদি। শ্রী গৌরাঙ্গের তুলনা কেবল শ্রীগৌরাঙ্গ---এই বাক্য দ্বারা স্রীগৌরাঙ্গের
দ্বিতীয় তুলনা-স্থল নাই, ইহা প্রতিপাদিত হওয়ায় “অনন্বয়” অলঙ্কার হইয়াছে।
“উপমানোপমেয়ত্বমেকস্যৈব ত্বনন্বয়ঃ॥”
---সাহিত্যদর্পণ, ১০ম পরিচ্ছেজ॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্রর সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত “শ্রীগৌরপদ-
তরঙ্গিণী” দ্বিতীয় সংস্করণ, ৩য় তরঙ্গ, ১ম উচ্ছাস, রূপ, পদসংখ্যা-৭৮, ৯৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

পরশ-মণির সঙ্গে কি দিব তুলনা।
পরশ ছোয়াইলে হয় সোনা।
আমার গৌরাঙ্গের গুণে,
নাচিয়া গাইয়া রে রতন হইল কত জনা॥
শচীর নন্দন বনমালী।
এ তিন ভুবনে যার তুলনা দিবার নাই,
গোরা মোর পরাণপুতলী॥ ধ্রু॥
গৌরাঙ্গচাঁদের ছাঁদে চাঁদ কলঙ্কী রে,
এমন হইতে নারে আর।
অকলঙ্ক পূর্ণচন্দ্র উদয় নদিয়াপুরে,
দূরে গোল মনের আঁধার॥
এ গুণে সুরভি সুরতরু সম নহে রে,
মাগিলে সে পায় কোন জন।
না মাগিতে অখিল ভুবন ভরি জনে জনে,
যাচিঞা দেওল প্রেমধন॥
গোরাচাঁদের তুলনা কেবল গোরার সহ,
বিচার করিয়া দেখ সবে।
পরমানন্দের মনে এ বড় আকুতি রে,
গৌরাঙ্গের দয়া হবে কবে॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-
মালা”, ১০৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ বিভাস॥

পরশ-মণির সনে কি দিব তুলনা।
পরশ ছোয়াইলে হয় নাকি সোণা॥
আমার গৌরাঙ্গের গুণে                                নাচিয়া গাইয়ারে
রতন হইল কত জনা॥
শচীর নন্দন বনমালী।
এ তিন ভুবনে যার                                    তুলনা দিবার নাই
গোরা মোর পরাণ পুতুলী॥ ধ্রু॥
গৌরাঙ্গ চাঁদের ছাদে                                    ও চাঁদ কলঙ্কীরে
এমন করিতে নারে আর।
অকলঙ্ক পূর্ণ চাঁদ                                      উদয় নদিয়া পুরে
দূরে গেলো মনের আন্ধার॥
এ গুণে সুরভি সুর-                                      তরু সম নহরে
মাগিলে সে পায় কোন জন।
না মাগিতে অখিল                                ভুবন ভরি জনে জনে
যাচিয়া দেওল প্রেমধন॥
গোরাচাঁদের তুলনা                                গোরাচাঁদ গোসাঞিরে
বিচার করিয়া দেখ সবে।
পরমানন্দের মনে                                      এ বড় আকুতিরে
গৌরাঙ্গের দয়া হবে কবে॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আজু বনি নব অভিষেক গোবিন্দকি
কবি পরমানন্দ দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৩১শ
পল্লব, অভিষেক লীলা, পদসংখ্যা ১৫৮৫ হিসেবে।

.        ॥ কেদার॥

আজু বনি নব অভিষেক গোবিন্দকি।
পরমানন্দ প্রেম-সুখ-কন্দকি॥
ঝলকত নীল-নলিলি মুখ-শোহা।
হেরইতে অখিল-ভুবন-মম-মোহা॥
গোরস দধি ঘৃত হলদিক নীরে।
গাগরি ভরি ভরি ঢরই শিরে॥
বাজত ঘণ্টা তাল মৃদঙ্গ।
জয় দেই সুর-নারীগণ রঙ্গ॥
বলি বলি যাতহি চরণারবিন্দ।
পরমানন্দ পহু শ্রীগোবিন্দ॥

ই পদটি ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত
“শ্রীপদামৃতমাধুরী”, তৃতীয় খণ্ড, ৬৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মল্লারমিশ্র কানাড়া - ডাঁশপহিড়া॥

আজু বনি নব অভিষেক গোবিন্দকি।
পরমানন্দ সুখ প্রেম-কন্দকি॥
ঝলকত নীল নলিলি মুখ শোহা।
হেরইতে অখিল ভুবন-মনমোহা॥
গোরস দধি ঘৃত হলদিক নীরে।
গাগরি ভরিয়া ঢারই শিরে॥
বাজত ঘণ্টা তাল মৃদঙ্গ।
জয় জয় দেই পুর নারীগণ রঙ্গ॥
বলি বলি যাতহি চরণারবিন্দ।
পরমানন্দকে পহুঁ শ্রীগোবিন্দ॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কি করিলা গোরাচাঁদ নদিয়া ছাড়িয়া
কবি পরমানন্দ দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ৬ষ্ঠ
পল্লব, দূতী-সংবাদ, পদসংখ্যা ১৬৯৩ হিসেবে। ১৯৫১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী
মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”, ১৭৮-পৃষ্ঠায় হুবহু একই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

পুনশ্চ শ্রীগৌরচন্দ্রঃ।
.        ॥ সুহই॥

কি করিলা গোরাচাঁদ নদিয়া ছাড়িয়া।
মরয়ে ভকতগণ তোমা না দেখিয়া॥
কীর্ত্তন-বিলাস আদি যে করিলা সুখ।
সোঙরি সোঙরি সভার বিদরয়ে বুক॥
মুরারি মুকুন্দ না জিয়ব শ্রীনিবাস।
আচার্য্য অদ্বৈত ভেল জীবন নৈরাশ॥
নদিয়ার লোক সব কাতর হইয়া।
ছটফট করে প্রাণ তোমা না দেখিয়া॥
কহয়ে পরমানন্দ দন্তে তৃণ ধরি।
এক বার নদীয়া চল প্রভু গৌরহরি॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্রর সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” দ্বিতীয় সংস্করণ, ৫ম তরঙ্গ, ৪র্থ উচ্ছাস, শচী ও বিষ্ণুপ্রিয়ার বিলাপ,
পদসংখ্যা-৭, ২৫১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ সুহই॥

কি করিলে গোরাচাঁদ নদীয়া ছাড়িয়া।
মরয়ে ভকতগণ তোমা না দেখিয়া॥
কীর্ত্তন বিলাস আদি যে করিলা সুখ।
সোঙরি সোঙরি সভার বিদরয়ে বুক॥
না জীব মুরারি মুকুন্দ শ্রীনিবাস।
আচার্য্য অদ্বৈত ভেল জীবনে নৈরাশ॥
নদিয়ার লোক সব কাতর হইয়া।
ছট ফট করে প্রাণ তোমা না দেখিয়া॥
কহয়ে পরমানন্দ দন্তে তৃণ ধরি।
এক বার নদীয়া চল প্রভু গৌরহরি॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১০৪-
পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

কি করিলা গোরাচান্দ নদিআ ছাড়িয়া। মরমে ভকতগণ তোমা না দেখিআ॥
কীর্তনবিলাস আদি জে করিলা সুখ। সোঙরি সোঙরি সভার বিদরয়ে বুক॥
মুরারি মুকুন্দ আজি আর শ্রীনিবাস। আচার্য অদ্বৈত ভেল জীবন নৈরাশ॥
নদীয়ার লোক সব কাতর হইআ। ছটফট করে প্রাণ তোমা না দেখিআ॥
কহএ পরমানন্দ দন্তে তৃণ ধরি। এক বার নদিআয় চল প্রভু গৌরহরি॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গোরা মোর দয়ার অবধি গুণনিধি
কবি পরমানন্দ দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৮শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ
প্রভৃতি, পদসংখ্যা ২১১৯ হিসেবে।

॥ শ্রীরাগ॥

গোরা মোর দয়ার অবধি গুণনিধি।
সুরধুনী-তীরে                                নদীয়া নগরে
গৌরাঙ্গ বিহরে নিরবধি॥
ভুজ-যুগ আরোপিয়া ভকতের কান্ধে।
চলিতে না পারে গোরা হরিবোল বলিয়া কান্দে॥
প্রেমে ছল ছল                                  নয়ান-যুগল
কত নদী বহে ধারে।
পুলকে পূরল                                   সব কলেবর
ধরণী ধরিতে নারে॥
সঙ্গে পারিষদ                                 ফিরে নিরন্তর
হরি হরি বোল বলে।
সখার কান্ধে                                 ভুজ-যুগ দিয়া
হেলিতে দুলিতে চলে॥
ভুবন ভরিয়া                                প্রেম উভারিল
পতিত-পাবন নাম।
শুনিয়া ভরসা                                  পরমানন্দের
মনেতে না লয় আন॥

ই পদটি বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭০০ সালে  সংকলিত ও বিরচিত এবং
১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”, চতুর্দশ
ক্ষণদা-কৃষ্ণা চতুর্দ্দশী, ১০৬-পৃষ্ঠায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্রস্য।
॥ ধানশী॥

গোরা দয়ার অবধি গুণনিধি।
সুরধুনী-তীরে                                     নদীয়া নগরে
বিহরয়ে নিরবধি॥
ভুজ-যুগ আরোপিয়া ভকতের কান্ধে।
চলিযাইতে না                                পারে গোরাচান্দ
হরি হরি বলি কান্দে॥
প্রেমে ছল ছল                                     নয়ান-যুগল
কত নদী বহে ধারে।
পুলকে পূরল                                    গোরা-কলেবর
ধরণী ধরিতে নারে॥
সঙ্গে পারিষদ                                   ফিরে নিরন্তর
হরি হরি বোল বলে।
সখার কান্ধেতে                                  ভুজ-যুগ দিয়া
হেলিতে দুলিতে চলে॥
ভুবন ভরিয়া                                    প্রেম উভারল
পতিত-পাবন নাম।
শুনিয়া ভরসা                                    পরমানন্দের
মনেতে না লয় আন॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্রর সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত “শ্রীগৌরপদ-
তরঙ্গিণী” দ্বিতীয় সংস্করণ, ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস, গৌরাবতারের ঐশ্বর্য্য ও মাধুর্য্য, পদসংখ্যা-২৬, ২৪-
পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

গোরা দয়ার অবধি গুণনিধি।
সুরধুনীতীরে, নদীয়া নগরে, গৌরাঙ্গ বিহরে নিরবধি॥ ধ্রু॥
ভুজ-যুগ আরোপিয়া ভকতের কান্ধে।
চলিতে না পারে গোরা হরিবোল বলিয়া কান্দে॥
প্রেমে ছল ছল, নয়ন-যুগল, কত নদী বহে ধারে।
পুলকে পুরিল, গোরাকলেবর, ধরণী ধরিতে নারে॥
সঙ্গে পারিষদ, ফিরে নিরন্তর, হরি হরি বোল বলে।
প্রিয়সখার কাঁধে, ভুজযুগ দিয়া, হেলিতে দুলিতে চলে॥
ভুবন ভরিয়া প্রেম উত্তরোল পতিতপাবন নাম।
শুনিয়া ভরসা পরমানন্দের মনেতে না লয় আন॥

ই পদটিই সামান্য ভিন্ন রূপে, ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্রর সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” দ্বিতীয় সংস্করণ, ৪র্থ তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস, ভাবাবেশ ও প্রলাপ,
পদসংখ্যা-৬, ১৭৮-পৃষ্ঠায় দেওয়া রয়েছে। এটি হুবহু শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের পদসংখ্যা ২১১৯ এর মতো,
কিন্তু পয়ার ছন্দের পদের রূপে দেওয়া।

॥ সুহই॥

গোরা মোর দয়ার অবধি গুণনিধি।
সুরধুনীতীরে নদীয়া নগরে গৌরাঙ্গ বিহরে নিরবধি॥ ধ্রু॥
ভুজযুগ আরোপিয়া ভকতের কান্ধে।
চলিতে না পারে গোরা হরিবোল বলিয়া কান্দে॥
প্রেমে ছল ছল নয়ানযুগল কত নদী বহে ধারে।
পুলকে পূরল সব কলেবর ধরণী ধরিতে নারে॥
সঙ্গে পারিষদ ফিরে নিরন্তর হরি হরি বোল বলে।
সখার কাঁধে ভুজযুগ দিয়া হেলিতে দুলিতে চলে॥
ভুবন ভরিয়া প্রেম উভারিল পতিতপাবন নাম।
শুনিয়া ভরসা পরমানন্দের মনেতে না লয় আন॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গোরা-তনু ধূলায় লোটায়
কবি পরমানন্দ দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৮শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ
প্রভৃতি, পদসংখ্যা ২১২০ হিসেবে।

॥ কল্যাণী॥

গোরা-তনু ধূলায় লোটায়।
ডাকে রাধা রাধা বলি                                গদাধর কোলে করি
পীত বসন বংশী চায়॥ ধ্রু॥
ধরি নটবর-বেশ                                      সমুখে বান্ধিয়া কেশ
তাহে শোভে ময়ূরের পাখা।
ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমা করি                                    সঘনে বলয়ে হরি
চাহে গোরা কদম্বের শাখা॥
শুনি বৃন্দাবন-গুণ                                         রসে উনমত মন
সখী-বৃন্দ কোথা গেল হায়।
না বুঝিয়া রস-বোধ                                    প্রিয় সব পারিষদ
গৌরাঙ্গ বলিয়া গুণ গায়॥
কেহো বলে সাবধান                                    না করিহ রস-গান
উথলিল না ধরে ধরণী।
নিজ মন-আনন্দে                                       কহয়ে পরমানন্দে
কেবা দেহে ধরিবে পরাণি॥

ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”,
৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। প্রথম পংক্তির ভিন্নতার কারণে, পাঠকের সুবিধার জন্য এই পদটিকে
আমরা একটি স্বতন্ত্র পদ “কি ভাব উঠিল মনে কাঁদিয়া আকুল প্রেমে” হিসেবেও এখানে তুলে দিচ্ছি।

॥ পট মঞ্জরী॥
কি ভাব উঠিল মনে কাঁদিয়া আকুল প্রেমে সোণার অঙ্গ ধূলায় লোটায়।
ডাকে রাধা রাধা বলি গদাধর বামে করি পীত বসন বংশী চায়॥
ধরি নটবর বেশ সমুখে বান্ধিয়া কেশ তাহে শোভে ময়ূরের পাখা।
ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিম করি সঘনে বলয়ে হরি চাহে গোরা কদম্বের শাখা॥
শুনি বৃন্দাবন গুণ রসে উনমত মন সখী বৃন্দ কোথা গেল হায়।
তা বুঝিয়া রসবোধ প্রিয় সব পারিষদ গৌরাঙ্গ বলিয়া গুণ গায়॥
অবধূত বলে সাবধান না করিহ রসগান উথলিলে না ধরে পরাণি।
মনের আনন্দে কহে পরমানন্দে নিয়া দেহে না ধরে পরাণি॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গোরা-অবতারে যার না হৈল ভকতি-সার
কবি পরমানন্দ দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২০শ পল্লব, শ্রীগৌরচন্দ্র-
প্রকারান্তর, পদসংখ্যা ২২০২ হিসেবে।

॥ কামোদ॥

গোরা-অবতারে যার                                না হৈল ভকতি-সার
আর তার না দেখি উপায়।
রবির কিরণে যার                                     আঁখি পরসন্ন নৈল
বিধাতা বঞ্চিত ভেল তায়॥
ভজ গৌরাঙ্গচাঁদের চরণ।
এ তিন ভুবনে ভাই                                     দয়ার ঠাকুর নাই
গোরা বড় পতিত-পাবন॥ ধ্রু॥
হেম-জলদ কিয়ে                                            প্রেম-সরোবর
করুণা-সিন্ধু অবতার।
হেন অবতার পাইয়া                                  যে জন শীতল নহে
কি জানি কেমন মন তার॥
ভব তরিবারে হরি-                                  নাম-মন্ত্র ভেলা করি
আপনে গৌরাঙ্গ করে পার।
তবে যে ডুবিয়া মরে                              কেবা উদ্ধারিবে তারে
পরমানন্দের পরিহার॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত জগবন্ধু ভদ্রর সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত “শ্রীগৌরপদ-
তরঙ্গিণী” দ্বিতীয় সংস্করণ, ১ম তরঙ্গ, ২য় উচ্ছাস, মঙ্গলাচরণ, পদসংখ্যা-৪০, ১১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ কামোদ॥

গোরা-অবতারে যার                                না হৈল ভকতিরস
আর তার না দেখি উপায়।
রবির কিরণে যার                                   আঁখি পরসন্ন নৈল
বিধাতা বঞ্চিত ভেল তায়॥
ভজ গৌরাচাঁদের চরণ।
এ তিন ভুবনে ভাই                                  দয়ার ঠাকুর নাই
গোরা বড় পতিতপাবন॥ ধ্রু॥
হেম-জলদ কিয়ে                                         প্রেম সরোবর
করুণা-সিন্ধু অবতার।
পাইয়া যে জন                                           না হয় শীতল
কি জানি কেমন মন তার॥
ভব তরিবারে হরি-                              নাম-মন্ত্র ভেলা করি
আপনি গৌরাঙ্গ করে পার।
তবে যে ডুবিয়া মরে                           কেবা উদ্ধারিবে তারে
পরমানন্দের পরিহার॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায়
সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১০৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

গোরা অবতারে জার না হইল ভকতি সার তার আর না দেখি উপায়।
রবির কিরণে জার আঁখি পরসন্ন নয় বিধাতা বঞ্চিত ভেল তায়॥
ভজ গৌরাচান্দের চরণ।
এ তিন ভুবনে তাই দয়ার ঠাকুর নাই গোরা বড় পতিতপাবন॥
হেম জল কিয়ে প্রেম সরোবর করুণাসিন্ধু অবতার।
হেন অবতার পেএ জে জন শীতল নহে কে জানে কেমন মন তার॥
ভব তরিবারে হরি নাম মন্ত্র ভেলা করি আপুনি গৌরাঙ্গ করে পার।
তবে জে ডুবিএ মরে কেবা উদ্ধারিবে তারে পরমানন্দের পরিহার॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শচীর নন্দন গোরাচান্দ
কবি পরমানন্দ দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৫২৮ হিসেবে।

অথ অনুরাগঃ।
তত্র গৌরচন্দ্র যথা।

শচীর নন্দন গোরাচান্দ।
সকল-ভুবন-মোহন ফান্দ॥
নব অনুরাগ-ভাবে ভেল ভোর।
অনুখণ কঞ্জ-নয়নে বহে লোর॥
পুলকে পূরিত তনু গদ গদ বোল।
ক্ষেণে থির করি চিত ক্ষেণে অতি লোল॥
ঐছে বিভারিত সহচর সঙ্গ।
পরমানন্দ কহে প্রেম-তরঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত জগবন্ধু ভদ্রর সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” দ্বিতীয় সংস্করণ, ৪র্থ তরঙ্গ, ৪র্থ উচ্ছাস, পূর্ব্বরাগ ও অনুরাগ,
পদসংখ্যা-৪, ১৮৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ ভাটিয়ারি॥

শচীর নন্দন গোরাচাঁদ। সকল-ভুবন-মনোফাঁদ॥
নব অনুরাগে ভেল ভোর। অনুখণ কঞ্জ নয়নে বহে লোর॥
পুলকে পূরিত গদ বোল। ক্ষণে চিত স্থির ক্ষণে উতরোল॥
ঐছে বিভারিত সহচর সঙ্গ। পরমানন্দ কহে প্রেম-তরঙ্গ॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আরতি যুগল-কিশোরকি কীজে
কবি পরমানন্দ দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩২শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৮৫৮ হিসেবে।

.        ॥ বরাড়ী॥

আরতি যুগল-কিশোরকি কীজে।
তনু মন ধনহু নিছায়রি দীজে॥ ধ্রু॥
পহিরণ নীল পিতাম্বর শাড়ি।
কুঞ্জ-বিহারিণি কুঞ্জ-বিহারি॥
রবি-শশি-কোটি বদন অছু শোভা।
যো নিরখিতে মন ভেও অতিলোভা॥
রতনে জড়িত মণি-মাণিক-মোতি।
ডগমগ দুহুঁ-তনু ঝলকত জোতি॥
নন্দ-নন্দন বৃষভানু-কিশোরী।
পরমানন্দ-পহু যাঙ বলিহারি॥

ই পদটি ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত
“শ্রীপদামৃতমাধুরী”, তৃতীয় খণ্ড, ৫৮৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস - জপতাল॥

আরতি যুগল-কিশোরকি কীজে।
তনুমন ধনহু-নিছায়রি দীজে॥ ধ্রু॥
পহিরণ নীল পিতাম্বর শাড়ি।
কুঞ্জ-বিহারিণি-কুঞ্জ বিহারি॥
রবি শশি কোটি বদন অছু শোভা।
যে নিরখিতে মন ভেল অতি লোভা॥
রতনে জড়িত মণি-মাণিক জ্যোতি।
ডগমগ দুহুঁ তনু ঝলকত মোতি॥
নন্দনন্দন বৃষভানু কিশোরী।
পরমানন্দ পহুঁ যাই বলিহারি॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর