| কবি রাধাবল্লভ দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| রূপের বৈরাগ্য-কালে সনাতন বন্দী-শালে কবি রাধাবল্লভ দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯১৫-১৯৩১ সময়কালে, সতীশচন্দ্র রায় দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু”, ৫ খণ্ডে, সটীক সংস্করণ, তৃতীয় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২৫শ পল্লব, শ্রীগৌরভক্তবৃন্দের চরিত্র-বর্ণন, পদসংখ্যা ২৩৬১। অথ শ্রীসনাতন-রূপ-গোস্বামিনাং গুণ-বর্ণনং যথা। ॥ ভাটিয়ারি॥ রূপের বৈরাগ্য-কালে সনাতন বন্দী-শালে বিষাদ ভাবয়ে মনে মনে। রূপেরে করুণা করি ত্রাণ কৈলা গৌরহরি মো অধমে না কৈলা স্মরণে॥ মোর কর্ম্ম-দোষ-ফাঁদে হাথে পায়ে গলে বান্ধে রাখিয়াছে কারাগারে ফেলি। আপনে করুণা-পাশে দঢ় করি ধরি কেশে চরণ নিকটে লেহ তুলি॥ পশ্চাতে অগাধ জল দুই পাশে দাবানল সম্মুখে সাঁধিল ব্যাধ বাণ। কাতরে হরিণী ডাকে পড়িয়া বিষম পাকে এই বার কর পরিত্রাণ॥ জগাই মাধাই হেলে বাসুদেব অজামীলে অনায়াসে করিলা উদ্ধার। এ দুখ-সমুদ্রে ঘোরে নিস্তার করহ মোরে তোমা বিনে কেহ নাহি আর॥ হেন কালে এক জনে অলখিতে সনাতনে পত্রী দিল রুপের লিখন। এ রাধাবল্লভ দাসে মনে হৈল আশ্বাসে পত্রী পড়ি করিলা গোপন॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শ্রীরূপের বড় ভাই সনাতন গোসাঞি কবি রাধাবল্লভ দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯১৫-১৯৩১ সময়কালে, সতীশচন্দ্র রায় দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু”, ৫ খণ্ডে, সটীক সংস্করণ, তৃতীয় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২৫শ পল্লব, শ্রীগৌরভক্তবৃন্দের চরিত্র-বর্ণন, পদসংখ্যা ২৩৬২। ॥ ভাটিয়ারি॥ শ্রীরূপের বড় ভাই সনাতন গোসাঞি পাতশার উজীর হৈয়াছিলা। শ্রীরূপের পত্রী পাইয়া বন্দী হৈতে পলাইয়া কাশীপুরে গৌরাঙ্গে ভেটিলা॥ ছিঁড়া বস্ত্র অঙ্গ মলি হাতে নখ মাথে চুলি নিকটে যাইতে অঙ্গ হালে। দুই গুচ্ছ তৃণ করি এক গুচ্ছ দন্তে ধরি পড়িলা গৌরাঙ্গ-পদতলে॥ দরবেশ-রূপ দেখি প্রভুর সজল আঁখি বাহু পাসরিয়া আইসে ধাঞা। সনাতনে করি কোলে কাতরে গোসাঞি বলে মো অধমে স্পর্শ কি লাগিয়া॥ অস্পর্শ পামর দীন দুরাচার মন্দ হীন নীচ সঙ্গে নীচ ব্যবহার। এ হেন পামর জনে স্পর্শ প্রভু কি কারণে যোগ্য নহোঁ তোমা স্পর্শিবার॥ ভোট-কম্বল দেখি গায় প্রভু পুন পুন চায় লজ্জিত হইলা সনাতন। গৌড়িয়ারে ভোট দিয়া ছিঁড়া এক কাঁথা লৈয়া প্রভু-স্থানে পুন আগমন॥ গৌরাঙ্গ করুণা করি রাধাকৃষ্ণ-মাধুরি শিক্ষা করাইলা সনাতনে। প্রভু কহে রূপ সনে দেখা হবে বৃন্দাবনে প্রভু আজ্ঞায় করিলা গমনে॥ কভু কান্দে কভু হাসে কভু প্রেমানন্দে ভাসে কভু ভিক্ষা কভু উপবাস। ছেঁড়া কাঁথা নাড়া মাথা মুখে কৃষ্ণ-নাম গাঁথা পরিধান ছেঁড়া বহির্বাস॥ গিয়া গোসাঞি সনাতন প্রবেশিলা বৃন্দাবন রূপ সঙ্গে হইল মিলন। ঘর্ম্ম অশ্রু এত্রে পড়ে সনাতনের পদ ধরে কহে রূপ গদগদ বচন॥ গৌরাঙ্গের যত গুণ কহে রূপ সনাতন হা নাথ হা নাথ বলি ডাকে। ব্রজপুরে ঘরে ঘরে মাধুকরী ভিক্ষা করে এইরূপে কথো দিন থাকে॥ কথো দিন তাহা ছাড়ি কুঞ্জে কুঞ্জে রহে পড়ি ফল মূল করয়ে ভক্ষণ। উচ্চ-স্বরে আর্ত্ত-নাদে রাধাকৃষ্ণ বলি কান্দে এই রূপ থাকে কথো দিন॥ কথো দিন অন্তর্মনা ছাপ্পান্ন দণ্ড ভাবনা চারি দণ্ড নিদ্রা বৃক্ষ-তলে। স্বপ্নে রাধাকৃষ্ণ দেখে নাম-গুণে সদা থাকে অবসর নাহি এক তিলে॥ কখন বনের শাক অলবণে করে পাক মুখে দেন দুই চারি গ্রাস। ছাড়িয়া ভোগ-বিলাস তরু-তলে কৈলা বাস এক দুই দিন উপবাস॥ সূক্ষ্ম বস্ত্র বাজে গায় ধূলায় লোটায় কায় কণ্টকে বাজয়ে কভু পাশ। এ রাধাবল্লভ দাস বড় মনে অভিলাষ কবে হবে তার দাসের দাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আরে মোর শ্রীরূপ গোসাঞি কবি রাধাবল্লভ দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯১৫-১৯৩১ সময়কালে, সতীশচন্দ্র রায় দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু”, ৫ খণ্ডে, সটীক সংস্করণ, তৃতীয় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২৫শ পল্লব, শ্রীগৌরভক্তবৃন্দের চরিত্র-বর্ণন, পদসংখ্যা ২৩৬৩। ॥ পাহিড়া॥ আরে মোর শ্রীরূপ গোসাঞি। গৌরাঙ্গচাঁদের ভাব প্রচার করিয়া সব জানাইতে হেন আর নাই॥ ধ্রু॥ বৃন্দাবন নিত্যধাম সর্ব্বোপরি অনুপাম সর্ব্ব-অবতারী নন্দ-সুত। তার কান্তা-গণাধিকা সর্ব্বারাধ্য-শ্রীরাধিকা তার সখীগণ সঙ্গ যুথ॥ রাগ-মার্গে তাহা পাইতে যাহার করুণা হৈতে বুঝিল পাইল যত জনা। এমন দয়ালু ভাই কোথাও দেখিয়ে নাই তার পদ করহ ভাবনা॥ শ্রীচৈতন্য আজ্ঞা পাঞা ভাগবত বিচারিয়া যত ভক্তি-সিদ্ধান্তের খনি। তাহা উঠাইয়া কত নিজ গ্রন্থ করি যত জীবে দিলা প্রেম-চিন্তামণি॥ রাধাকৃষ্ণ-রস-কেলি নাট্য গীত পদ্যাবলী শুদ্ধ পরকীয়া মত করি। চৈতন্যের মনোবৃত্তি স্থাপন করিলা খিতি আস্বাদিয়া তাহার মাধুরি॥ চৈতন্য-বিরহে শেষ পাই অতিশয় ক্লেশ তাহে যত প্রলাপ বিলাপ। সে সব কহিতে ভাই দেহে প্রাণ রহে নাই এ রাধাবল্লভ হিয়ে তাপ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| জয় ভট্ট রঘুনাথ গোসাঞি কবি রাধাবল্লভ দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯১৫-১৯৩১ সময়কালে, সতীশচন্দ্র রায় দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু”, ৫ খণ্ডে, সটীক সংস্করণ, তৃতীয় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২৫শ পল্লব, শ্রীগৌরভক্তবৃন্দের চরিত্র-বর্ণন, পদসংখ্যা ২৩৬৮। ॥ বরাড়ী॥ জয় ভট্ট রঘুনাথ গোসাঞি। রাধাকৃষ্ণ-লীলা গুণে দিবানিশি নাহি জানে তুলনা দিবার নাহি ঠাঞি॥ ধ্রু॥ চৈতন্যের প্রেম-পাত্র তপন মিশ্রের পুত্র বারাণসে ছিল যার বাস। নিজ-গৃহে গৌরচন্দ্রে পাইয়া পরমানন্দে চরণ সেবিলা দুই মাস॥ শ্রীচৈতন্য নাম জপি কথো দিন গৃহে থাকি করিলেন পিতার সেবনে। তার অপ্রকট হৈলে আসি পুন নীলাচলে রহিলেন প্রভুর চরণে॥ মহাপ্রভু কৃপা করি নিজ শক্তি সঞ্চারি পাঠাইয়া দিলা বৃন্দাবন। প্রভুর শিক্ষা হৃদে গণি আসি বৃন্দাবন-ভূমি মিলিলেন রূপ সনাতন॥ দুই গোসাঞি তারে পাঞা পরম আনন্দ হৈয়া রাধাকৃষ্ণ-প্রেম-রসে ভাসে। অশ্রু পুলক কম্প নানা ভাববেশ অঙ্গ সদা কৃষ্ণ-কথার উল্লাসে॥ সকল বৈষ্ণব সঙ্গে যমুনা-পুলিনে রঙ্গে একত্র হইয়া প্রেম-সুখে। শ্রীভাগবত-কথা অমৃত সমান গাথা নিরবধি শুনে যার মুখে॥ পরম-বৈরাগ্য-সীমা সুনির্ম্মল কৃষ্ণ-প্রেমা সুস্বর অমৃতময় বাণী। পশু পক্ষ পুলকিত যার মুখে কথামৃত শুনিতে পাষাণ হয় পানী॥ শ্রীরূপ সনাতন সর্ব্বারাধ্য দুই জন শ্রীগোপাল ভট্ট রঘুনাথ। এ রাধাবল্লভে বলে পড়ুলুঁ বিষয়-ভোলে কৃপা করি কর আত্ম সাথ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শ্রীচৈতন্য-কৃপা হৈতে রঘুনাথ দাস চিতে কবি রাধাবল্লভ দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯১৫-১৯৩১ সময়কালে, সতীশচন্দ্র রায় দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু”, ৫ খণ্ডে, সটীক সংস্করণ, তৃতীয় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২৫শ পল্লব, শ্রীগৌরভক্তবৃন্দের চরিত্র-বর্ণন, পদসংখ্যা ২৩৭০। অথ রঘুনাথ দাস-গোস্বামিনাং গুণবর্ণনং যথা। ॥ বরাড়ী॥ শ্রীচৈতন্য-কৃপা হৈতে রঘুনাথ দাস-চিতে পরম বৈরাগ্য উপজিল। দারা গৃহ সম্পদ নিজ-রাজ্য-অধিপদ মল প্রায় সকল ত্যজিল॥ পুরশ্চর্য্য কৃষ্ণ-নামে গেলা শ্রীপুরুষোত্তমে গৌরাঙ্গের পদ-যুগ সেবে। এই মনে অভিলাষ পুন রঘুনাথ দাস নয়ান-গোচর হবে কবে॥ গৌরাঙ্গ দয়াল হৈয়া রাধাকৃষ্ণ-নাম দিয়া গোবর্দ্ধনের শিলা গুঞ্জাহারে। ব্রজ-বনে গোবর্দ্ধনে শ্রীরাধিকার শ্রীচরণে সমর্পণ করিল তাহারে॥ চৈতন্যের অগোচরে নিজ কেশ ছিঁড়ি করে বিরহে আকুল ব্রজে গেলা। দেহ-ত্যাগ করি মনে গেলা গিরি-গোবর্দ্ধনে দুই গোসাঞি তাহারে দেখিলা॥ ধরি রূপ সনাতন রাখিলা তার জীবন দেহ ত্যাগ করিতে না দিলা। দুই গোসাঞির আজ্ঞা পাঞা রাধাকুণ্ড-তটে গিয়া বাস করি নিয়ম করিলা॥ ছেঁড়া কম্বল পরিধান ব্রজ-ফল গব্য খান আন্ন আদি না করে আহার। তিন সন্ধ্যা স্নান করি স্মরণ কীর্ত্তন করি রাধা-পদ-ভজন যাহার॥ ছাপ্পান্ন দণ্ড রাত্রি দিনে রাধাকৃষ্ণ-গুণ-গানে স্মরণেত সদাই গোঙায়। চারি দণ্ড শুতি থাকে স্বপ্নে রাধাকৃষ্ণ দেখে এক তিল ব্যর্থ নাহি যায়॥ গৌরাঙ্গের পদাম্বুজে রাখে মন-ভৃঙ্গ-রাজে স্বরুপেরে সদাই ধেয়ায়। অভেদ শ্রীরূপ সনে গতি যার সনাতনে ভট্টযুগ-প্রিয় মহাশয়॥ শ্রীরূপের গণ যত তার পদ-আশ্রিত অত্যন্ত বাত্সল্য যার জীবে। সেই আর্ত্তনাদ করি কাঁদি বলে হরি হরি প্রভুর করুণা হবে কবে॥ হে রাধাবল্লভ গান্ধর্ব্বিকা-বান্ধব রাধিকা-রমণ রাধা-নাথ। হে বৃন্দাবনেশ্বর হাহা কৃষ্ণ দামোদর কৃপা করি কর আত্ম সাথ॥ শ্রীরূপ সনাতন যবে হৈল অদর্শন অন্ধ হৈল এ দুই নয়ন। বৃথা আঁখি কাহাঁ দেখি বৃথা প্রাণ কাহাঁ রাখি এত বলি করয়ে ক্রন্দন॥ শ্রীচৈতন্য শচীসুত তার গণ হয় যত অবতার শ্রীবিগ্রহ নাম। গুপ্ত ব্যক্ত লীলা-স্থল দৃষ্ট শ্রুত বৈষ্ণব সভারে করয়ে পরণাম॥ রাধাকৃষ্ণ-বিয়োগে ছাড়িল সকল ভোগে শুখ রুখ অন্নমাত্র সার। গৌরাঙ্গের বিয়োগে অন্ন ছাড়ি দিল আগে ফল গব্য করিল আহার॥ সনাতনের অদর্শনে তাহা ছাড়ি সেই দিনে কেবল করয়ে জল পান। রুপের বিচ্ছেদ যবে জল ছাড়ি দিল তবে রাধাকৃষ্ণ বলি রাখে প্রাণ॥ শ্রীরূপের অদর্শনে না দেখি তাহার গণে বিরহে ব্যাকুল হৈয়া কান্দে। কৃষ্ণ-কথা-আলাপন না শুনিয়া স্রবণ উচ্চ-স্বরে ডাকে আর্ত্ত-নাদে॥ হা হা রাধাকৃষ্ণ কোথা কোথা বিশাখা ললিতা কৃপা করি দেহ দরশন। হা চৈতন্য মহাপ্রভু হা স্বরূপ মোর প্রভু হা হা প্রভু রূপ সনাতন॥ কান্দে গোসাঞি রাত্রিদিনে পুড়ি যায় তনু মনে ক্ষণে অঙ্গ ধূলায় ধূসর। চক্ষু অন্ধ অনাহার আপনাকে দেহ-ভার বিরহে হইল জরজর॥ রাধাকুণ্ড-তটে পড়ি সঘনে নিশ্বাস ছাড়ি মুখে বাক্য না হয় স্ফুরণ। মন্দ মন্দ জিহ্বা নড়ে প্রেম-অশ্রু নেত্রে পড়ে মনে কৃষ্ণ করয়ে স্মরণ॥ সেই রঘুনাথ দাস পূরাহ মনের আশ এই মোর বড় আছে সাধ। এ রাধাবল্লভ দাস মনে বড় অভিলাষ প্রভু মোরে কর পরসাদ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আরে মোর আচার্য্য ঠাকুর কবি রাধাবল্লভ দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯১৫-১৯৩১ সময়কালে, সতীশচন্দ্র রায় দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু”, ৫ খণ্ডে, সটীক সংস্করণ, তৃতীয় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২৫শ পল্লব, শ্রীগৌরভক্তবৃন্দের চরিত্র-বর্ণন, পদসংখ্যা ২৩৭৯। ॥ পাহিড়া॥ আরে মোর আচার্য্য ঠাকুর। দয়ার সাগর-বর জগ ভরি বিথারল রাধাকৃষ্ণ-লীলা-রস পূর॥ ধ্রু॥ গৌরাঙ্গ চাঁদের হেন নিরুপম গুণগণ দ্বিজরাজ গৌড়-ভুবনে। মল্ল-ভূপতি আদি হরি-রসে উনমাদি ভেল যার করুণা-কিরণে॥ যত্ন করিয়া অতি রস-লীলা গ্রন্থ-ততি বৃন্দাবন ভূমি সঞে আনি। রাধাকৃষ্ণ-রস-লীলা দেশে দেশে প্রচারিলা আস্বাদন করিয়া আপনি॥ এমন দয়াল পহু চক্ষু ভরি না দেখিলুঁ হৃদয়ে রহিল শেল ফুটি। এ রাধাবল্লভ দাস করে মনে অভিলাষ কবে সে দেখিব পদ দুটি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বাসক-গেহ-গমন শুনি স্যামর কবি রাধাবল্লভ দাস সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১৯২৬, পৃষ্ঠা ১৩৩। পদটি কমলাকান্ত দাস সংকলিত ১৮০৭ সালে প্রকাশিত “পদরত্নাকর” গ্রন্থ থেকে নেয়া। [ শ্রীকৃষ্ণের উত্কণ্ঠা ও অভিসার ] ॥ কামোদ॥ বাসক-গেহ- গমন শুনি স্যামর দেওই বেণু-নিসান। তিলে মঝু গমন- বিলম্ব হেরি সো ধনি কলপ মানি অনুমান॥ ধনি ধনি রাহী ঐছে সোহাগি। যো জগ-জীবন যুবতি-প্রাণ-ধন তাক প্রাণ সম জাগি॥ ধ্রু॥ তছু প্রেম আকুল মণি-বন্ধন ফুল অভরণ পন্থহি ডারি। চলু মন্থর-গতি নহি জন-সঙ্গতি উপনিত ভেল যাহাঁ নারি॥ দেখি ধনি নাগর আনন্দে আগর সফল দেহ করি মান। জীবন যৌবন বাস-গেহ পুন যো কিছু আপন বিতান॥ আনন্দ-সাগরে নিমগন সখিগণ হেরইতে দুহুঁক উলাস। সো সুখ-বিন্দু পরশ লাগি যাচই রাধাবল্লভ দাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |