| কবি রাধামোহন ঠাকুরের বৈষ্ণব পদাবলী |
| সহজে গৌর প্রেমে গর গর ভণিতা রাধামোহন কবি রাধামোহন ঠাকুর আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ১০ম পল্লব, ধীরা মধ্যা খণ্ডিতা, পদসংখ্যা ৪০১। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ৫৪৬সংখ্যক পদ। পুনশ্চ খণ্ডিতা। প্রকারান্তরং যথা। শ্রীগৌরচন্দ্র। ॥ বিভাষ ॥ সহজে গৌর প্রেমে গর গর ফিরাঞা যুগল আঁখি। দামিনী সহিতে সুন্দর জলদে অরুণ-কিরণ দেখি॥ উঠিল ভাবের তরঙ্গের রঙ্গ সম্বরি না পারি চিতে। কহে কি লাগিয়া কেবা সাজাইয়া কেন কৈল হেন রীতে॥ এ রাধামোহন কহে বৃষভানু- সুতা-রসে পহুঁ ভোর। হেন ছলে বুলে উদ্ধারে সকলে কিছু না হইল মোর॥ টীকা- ১ - ৪। “সহজে গৌর” ইত্যাদি। গৌরাঙ্গ স্বভাবতঃই প্রেমে বিহ্বল ; তিনি চক্ষু ফিরাইয়া বিদ্যুৎ-সম্বলিত সুন্দর মেঘে অরুণের কিরণ দেখিলেন। “ ?” ৫ - ৮। “উঠিল” ইত্যাদি। গৌরাঙ্গের চিত্তে (খণ্ডিত-রসোচিত) ভাবের তরঙ্গ-উচ্ছ্বাস উদিত হইল, তিনি তাহা সম্বরণ করিতে পারিলেন না ;--- তিনি বলিতে লাগিলেন,---“ কে (নায়িকা) কি জন্য (আমার প্রাণনাথকে) সাজাইয়া এরুপ করিয়াছে ?” (শ্রীগৌরাঙ্গ শ্যামল জলধরকে শ্রীকৃষ্ণ, তড়িৎকে তাঁহার পীত ধড়া ও তত্সংলগ্ন অরুণ-কিরণকে প্রতিপক্ষ-নায়িকার সম্ভোগ-জনিত সিন্দুর ও আলতার দাগ মনে করিয়া, অভিমানী হইয়া ঐরূপ বাক্য বলিতেছেন)। এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাস ॥ সহজে গৌর, প্রেমে গর-গর, ফিরাঞা যুগল আঁখি। দামিনী সহিতে, সুন্দর জলদে, অরুণ কিরণ দেখি॥ উঠিল ভাবের, তরঙ্গের রঙ্গ, সম্বরি না পারি চিতে। কহে কি লাগিয়া, কিবা সাজাইয়া, কেন কৈল হেন রীতে॥ এ রাধামোহন, কহে বৃষভানু-সুতা-রসে ভেল ভোর। হেন ছলে বলে, উদ্ধারে সকলে, কিছু না হইল মোর॥ এই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪, ১৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাস ॥ সহজে গৌর প্রেমে গর গর, এ রাঙ্গা যুগল আঁখি। দামিনী সহিতে, সুন্দর জলদে, অরুণ কিরণ দেখি॥ উঠিল ভাবের তরঙ্গের রঙ্গ, সম্বরি না পারি চিতে। কহে কি লাগিয়া কিবা সাজাইয়া কেন কৈল হেন রীতে॥ এ রাধামোহন কহে বৃষভানুসুতা রসে ভেল ভোর। হেন ছলে বলে, উদ্ধারে সকলে, কিছু না হইল মোর॥ এই পদটি “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” সংকলনেরই ১৯৮-পৃষ্ঠায় পুনঃ এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাস ॥ সহজে গৌর, প্রেমে গর গর, ফিরাঞা যুগল আঁখি। দামিনী সহিতে, সুন্দর জলদে, অরুণকিরণ দেখি॥ উঠিল ভাবের তরঙ্গের রঙ্গ, সম্বরি না পারি চিতে। কহে কি লাগিয়া, কেবা সাজাইয়া কেন কৈল হেন রীতে॥ এ রাধামোহন কহে বৃষভানুসুতা রসে ভেল ভোর। হেন ছলে বুলে, উদ্ধারে সকলে, কিছু না হইল মোর॥ এই পদটি দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাষ ॥ সহজে গৌর, প্রেমে গর-গর, ফিরাঞা যুগল আঁখি। দামিনী সহিতে, সুন্দর জলদে, অরুণ কিরণ দেখি॥ উঠিল ভাবের, তরঙ্গের রঙ্গ, সম্বরি না পারি চিতে। কহে কি লাগিয়া, কিবা সাজাইয়া, কেন কৈল হেন রীতে॥ এ রাধামোহন, কহে বৃষভানু, সুতা-রসে ভেল ভোর। হেন ছলে বলে, উদ্ধারে সকলে, কিছু না হইল মোর॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ধীরা মধ্যা খণ্ডিতা গৌরচন্দ্র ॥ বিভাস॥ সহজে গৌর প্রেমে গরগর ফিরাঞা যুগল আঁখি। দামিনী সহিতে সুন্দর জলদে অরুণ-কিরণ দেখি॥ উঠিল ভাবের তরঙ্গের রঙ্গ সম্বরি না পারি চিতে। কহে কি লাগিয়া কেবা সাজাইয়া কেন কৈল হেন রীতে॥ এ রাধামোহন কহে বৃষভানু- সুতা-রসে পহুঁ ভোর। হেন ছলে বুলে উদ্ধারে সকলে কিছু না হইল মোর॥ এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মাধুরী নাম্নী ব্যাখ্যা সম্বলিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৩০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পুনশ্চ খণ্ডিতা। ॥ বিভাষ -মধ্যম দশকুশী॥ সহজই গৌর প্রেমে গর গর ফিরাঞা যুগল আখি। দামিনী সহিতে সুন্দর জলদে অরুণ কিরণ দেখি॥ উঠিল ভাবের তরঙ্গের রঙ্গ সম্বরি না পারি চিতে। কহে কি লাগিয়া কিবা সাজাইয়া কেন কৈল হেন রীতে॥ এ-রাধা মোহন কহে বৃষ ভানু- সুতা রসে ভেল ভোর। হেন ছলে বুলে উদ্ধারে সকলে কিছু না হইল মোর॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সাঁজহি শচীসুত হেরিএ আন মত ভণিতা রাধামোহন কবি রাধামোহন ঠাকুর আনুমানিক ১৭২৫ সালে রাধামোহন ঠাকুর ( রাধামোহন দাস ) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, পৃষ্ঠা-২৭৭ । অথ সুদূর প্রবাস স্তব ভাবি॥ তদুচিত গৌরচন্দ্র যথা॥ ॥ কামোদ রাগ মন্ঠক তালাভ্যাং গীয়তে॥ সাঁজহি শচীসুত হেরিএ আন মত কি কহত কছু নাহি জানি । নগর গমন লাগি বোলত রাজদূত বড় ইহ দারুণ বাণি ॥ কান্দি কহত পুন রোই । লাখ লাখ বিঘিন মঝূপর বীতউ জানি পাছে বীছেদ হোই ॥ ধ্রু ॥ কাহে মঝু দখিন নয়ন ইহ ফূরই কাহে মঝূ হৃদয় কাপ । কাহে মঝু চীত করত উচাটন এত কহি করত বিলাপ ॥ ঐছন হেরি পরাণ মঝু ঝূরএ কি করএ নাহিক থেহ । রাধামোহন কহ হই আন মত নহ কাঠ কঠিন মঝু দেহ ॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২য় পল্লব, ভাবী বিরহ, ১৫৯৯সংখ্যক পদ। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ৮০৭সংখ্যক পদ। ॥ কামোদ॥ সাঁজহি শচীসুত হেরিয়ে আন মত কি কহত কছু নাহি জানি। নগর-গমন লাগি বোলত রাজ-দুত বড় ইহ দারুণ বাণি॥ কান্দি কহত পুন রোই। লাখে লাখে বিঘিনী মঝূ পরে বীতউ পাছে জানি বীছেদ হোই॥ ধ্রু॥ কাহে মঝু দখিণ নয়ন ইহ ফূরই কাহে মঝূ হৃদয় কাঁপ। কাহে মঝু চিত করত উচাটন এত কহি করত বিলাপ॥ ঐছন হেরি পরাণ মঝু রোয়ত কি করয়ে নাহিক থেহ। এ রাধামোহন কহ ইহ আন মত নহ কাঠ-কঠিন মঝু দেহ॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী কামোদ॥ ॥ মন্টক তালাভ্যাং॥ গৌরচন্দ্র॥ সাজহি শচীসুত হেরি বয়ান মত কি কহত কছু নাহি জানি। নগর গমন লাগী বোলত রাজদূত বড় ইহ দারুণ বাণী॥ কান্দি কহত পুন রোই। লাখেলাখে বিঘিনি মুঝপর গীরতউ পাছে জানি বিছছাদ হোই। কাহে মুঝ দক্ষিণ নয়ান ইহ ফূকরই কাহে মঝু হৃদয় কাঁপ॥ ধ্রূ॥ কাহে মঝু চিত করত উচাটন এত কহি করত বিলাপ॥ ঐছন হেরি পরাণ মঝু রোয়ত কি করিব নাহিক থেহ। এ রাধামোহন কহ হই আনমত নহ কাঠ কঠিন মঝু দেহ॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদা॥ সাজহি শচীসুত, হেরিয়ে আন মত, কি কহত কছু নাহি জানি। নগর-গমন লাগি, বোলত রাজ-দূত, বড় ইহ দারুণ বাণী॥ কান্দি কহত পুন রোই। লাখে লাখে বিঘিনী, মঝু পরে বেড়ই, পাছে জানি বিচ্ছেদ হোই॥ কাঁহে মঝু দক্ষিণ, নয়ন ইহ ফুরই, কাহে মঝূ হৃদয় কাঁপ। কাহে মঝু চিত, করত উচাটন, এত কহি করত বিলাপ॥ ঐছন হেরি, পরাণ মঝু ঝুরয়ে, কি করহে নাহিক থেহ। এ রাধামোহন কহ, ইহ আন মত নহ, কাঠ-কঠিন মঝু দেহ॥ এই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪, ২০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ সাঁজহি শচীসুত হেরিয়ে আন মত কি কহত কছু নাহি জানি। নগর গমন লাগি বোলত রাজদূত বড় ইহ দারুণ বাণী॥ কাঁদি কহত পুন রোই। লাখে লাখে বিঘিনি মঝূ পরে বেঢ়উ পাছে জানি বিচ্ছেদ হোই॥ ধ্রু॥ কাহে মঝু দক্ষিণ নয়ন ইহ ফূরই কাহে মঝূ হৃদয় কাঁপ। কাহে মঝু চিত করত উচাটন এত কহি করত বিলাপ॥ ঐছন হেরি পরাণ মঝু ঝুরয়ে কি করয়ে নাহিক থেহ। এ রাধামোহন কহ ইহ আনমত নহ কাঠ কঠিন মঝু দেহ॥ এই পদটি দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ সাজহি শচীসুত, হেরিয়ে আন মত, কি কহত কছু নাহি জানি। নগর-গমন লাগি, বোলত রাজ-দূত, বড় ইহ দারুণ বাণী॥ কান্দি কহত পুন রোই। লাখে লাখে বিঘিনী, মঝূ পরে বেড়ই, পাছে জানি বিচ্ছেদ হোই॥ কাঁহে মঝু দক্ষিণ, নয়ন ইহ ফূরই, কাঁয়েহ মঝূ হৃদয় কাঁপ। কাঁহে মঝু চিত, কতত উচাটন, এত কহি করত বিলাপ॥ ঐছন হেরি, পরাণ মঝু ঝুরয়ে, কি করয়ে নাহিক থেহ। এ রাধামোহন কহ, ইহ আন মত নহ, কাঠ কঠিন মঝু দেহ॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ভাবী বিরহ গৌরচন্দ্র ॥ কামোদ॥ সাঁঝহি শচিসুত হেরিয়ে আন মত কি কহত কছু নাহি জানি। নগর গমন লাগি বোলত রাজ-দুত বড় ইহ দারুণ বাণি॥ কান্দি কহত পুন রোই। লাখে লাখে বিঘিনী মঝুপরে বীতউ পাছে জানি বিচ্ছেদ হোই॥ সবহুঁ অলক্ষণ হেরই চৌদিশে হৃদয় উঠত ঘন তাপ। কাহে মঝু চিত করত উচাটন এত কহি করত বিলাপ॥ ঐছন হেরি পরাণ মঝু রোয়ত কি করয়ে নাহিক থেহ। এ রাধামোহন কহ ইহ আন মত নহ কাঠ-কঠিন মঝু দেহ॥ এই পদটি নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মাধুরী নাম্নী টীকা সম্বলিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সুদূর প্রবাস - ভাবী বিরহ শ্রীগৌরচন্দ্র। ॥ কামোদ - বড় দশকুশী॥ সাঁজ হি শচীসুত, হেরিয়ে আনমত, কি কহত কছু নাহি জানি। নগরগমন লাগি, বোলত রাজদূত বড় ইহ দারুণ বাণি॥ কান্দি কহত পুন রোই। লাখে লাখে বিঘিনী মঝুপর বীতই জানি পাছে বিচ্ছেদ হোই॥ ধ্রু॥ কাহে মঝু দখিণ নয়ন ইহ ফূরই কাহে মঝু হৃদয় কাঁপ। কাহে মঝু চীত, করত উচাটন, এত কহি করত বিলাপ॥ ঐছন হেরি, পরাণ মঝু রোয়ত কি করয়ে নাহিক থেহ। এ রাধা মোহন কহ, ইহ আনমত নহ, কাঠ কঠিন মঝু দেহ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সুরধনি তীর তরুণতর তরুতল ভণিতা রাধামোহন কবি রাধামোহন ঠাকুর আনুমানিক ১৭২৫ সালে রাধামোহন ঠাকুর ( রাধামোহন দাস ) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, পৃষ্ঠা-১৪৮ । অথ বাসক সজ্জা॥ তদুচিত গৌরচন্দ্র যথা। ॥ মল্লার রাগ যতি তালৌ॥ সুরধনি তীর তরুণতর তরুতল তলপিত মালতি মালে । বৈঠি বিশদবর বাসিত কুঙ্কুমে তিলক বনায়ত ভালে ॥ হরি হরি না বুঝিএ গৌরাঙ্গ বিলাস । গোকুল নায়ক বিহরই নবদ্বীপ তরুণি ভাব পরকাশ ॥ ধ্রু ॥ চমৎ কৃত চারু চন্দ্র যুত চন্দন চিত্রই চিত্রিত অঙ্গে । নিজবর ভাব বিভাবিত অন্তর ঐছে ভকত পুন সঙ্গে ॥ রাকা রজনি রজনিকর রমণক রাতুল পদ নখ ফান্দে । রাধামোহন দুষ্ট দ্বিরেফ চিত দমন দাস করি বান্ধে ॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, তয় পল্লব, বসন্তকালোচিত বাসকসজ্জা, পদসংখ্যা ৩২৮। অথ বাসকসজ্জা। তদুচিত শ্রীগৌরচন্দ্রঃ॥ ॥ মঙ্গল রাগ॥ সুরধুনি-তীর তরুণতর-তরুতল তলপিত মালতি-মালে। বৈঠি বিশদবর বাসিত কুঙ্কুমে তিলক বনায়ত ভালে ॥ হরি হরি না বুঝিয়ে গৌরাঙ্গ-বিলাস। গোকুল-নায়ক বিহরই নবদ্বীপে তরুণি-ভাব পরকাশ॥ চমৎকৃত-চারু- চন্দ্রযুত চন্দন চিত্রই চিত্রিত অঙ্গে। নিজ বর-ভাব- বিভাবিত অন্তর ঐছে ভকতগণ সঙ্গে॥ রাকা-রজনি রজনিকর-রমণক রাতুল-পদনখ-ফান্দে। রাধামোহন- দুষ্ট-দ্বিরেফ-চিত দমন দাস করি বান্ধে॥ টীকা - ১ - ৪। “সুরধুনি-তীর” ইত্যাদি। গঙ্গার তীরে কোন তরুণ তরু (যাহা নব-পল্লবোদ্গমে) অধিক তরুণ দেখাইতেছে, উহার তলে মালতী-পুষ্পের মাল্যে শয্যা রচনা করিয়া গৌরাঙ্গ উজ্জ্বল ও সুগন্ধি কুঙ্কুম দ্বারা ললাটে তিলক রচনা করিতেছেন। ৮ - ১১। “চমত্কৃত-চারু” ইত্যাদি। (তিনি ভাবাবিষ্ট হইয়া হিমকালের নিতান্ত অনুপযোগী) আশ্র্য্যজনক কর্পূরযুক্ত চন্দন দ্বারা নিজের চিত্রিত অঙ্গই পুর্ব্বার চিত্রিত করিতেছেন। ১২ - ১৫। “রাকা-রজনি” ইত্যাদি। পূর্ণিমা রজনীর শশাঙ্কের মোহনকারী শ্রীগৌরাঙ্গের আরক্তিম পদ-নখরূপ ফান্দে তিনি রাধামোহনের দুষ্ট চিত্ত-মধুকরকে দমন করিয়া, দাস করিয়া বান্ধিয়া রাখিয়াছেন। ---সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ অথ বসন্তকালোচিত বাসক সজ্জা তদুচিত মহাপ্রভু। সূরধুনী তীর তরুণতর তরুগণ তলপিত মালতীমালে। বৈঠি বিশদ বর বাসিত কুমকুমে তিলক বনায়ল ভালে॥ হরি হরি না বুঝিএ গৌরাঙ্গবিলাস। গোকুল নায়ক বিহরই নবদ্বীপে তরুণীভাব পরকাস॥ ধ্রু॥ চমৎকৃত চারু চন্দ্র যুথ চন্দন চিত্রই চিত্রিত অঙ্গে। নিজবড়ুভাব বিভাবিত অন্তর ঐছে ভকতগণ সঙ্গে॥ রাকা রজনী রজনীকর রমণক রাতুল পদনখচাঁন্দে। রাধামোহন দুস্ট দ্বরেফচিত দমন দাস করি বান্ধে॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল রাগ॥ সুরধুনী তীরে, তরুণতর-তরুতল, তলপিত মালতী মালে। বৈঠি বিনোদবর, বাসিত কুঙ্কুমে, তিলক বনায়ত ভালে॥ হরি হরি না বুঝিয়ে গৌরাঙ্গ-বিলাস। গোকুল-নায়ক, বিহরই নবদ্বীপে, তরুণি-ভাব পরকাশ॥ চমৎচারু-চন্দ্রযুত চন্দন, চিত্রই চিত্রিত অঙ্গে। নিজ বর-ভাব, বিভাবিত অন্তর, ঐছে ভকতগণ সঙ্গে॥ রাকা-রজনী, রজনিকর রমণ, করাওল পদনখ ফান্দে। রাধামোহন, দুষ্ট-দ্বিরেফ-চিত, দমন দাস করি বান্ধে॥ এই পদটি দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৩৫- পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল রাগ॥ সুরধুনী তীরে, তরুণতর-তরুতর, তলপিত মালতী মালে। বৈঠি বিনোদবর, বাসিত কুঙ্কুমে, তিলক বনায়ত ভালে॥ হরি হরি, না বুঝিয়ে গৌরাঙ্গবিলাস। গোকুল-নায়ক, বিহরই নবদ্বীপে, তরুণী-ভাব পরকাশ॥ চমৎকৃত-চারু,- চন্দ্রযুত চন্দন, চিত্রই চিত্রিত অঙ্গে। নিজ বর ভাব, বিভাবিত অন্তর ঐছে ভকতগণ সঙ্গে॥ রাকা রজনী, রজনীকর রমণ, করাওল পদনখ ফান্দে। রাধামোহন, দুষ্ট-দ্বিরেফ-চিত, দমন দাস করি বান্ধে॥ এই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল রাগ॥ সুরধুনীতীরে তরুণতর তরুতল তলপিত মালতিমালে। বৈঠি বিনোদবর, বাসিত কুঙ্কুমে, তিলক বনাঅত ভালে॥ হরি হরি না বুঝিয়ে গৌরাঙ্গবিলাস। গোকুল-নায়ক বিহরই নবদ্বীপে, তরুণীভাব পরকাশ॥ চমৎকৃত চারু চন্দ্রযুত চন্দন, চিত্রই চিত্রিত অঙ্গে। নিজ বরভাব বিভাবিত অন্তর, ঐছে ভকতগণ সঙ্গে॥ রাকা রজনী রজনীকর রমণক, রাতুল পদনখ ফাঁদে। রাধামোহন দুষ্ট দ্বিরেফ, চিতদমন দাস করি বাঁধে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। হিমকালোচিত অভিসারিকা গৌরচন্দ্র ॥ মঙ্গলরাগ॥ সুরধুনি-তীর তরুণতর-তরুতল তলপিত মালতি-মালে। বৈঠি বিশদবর বাসিত কুঙ্কুমে তিলক বনায়ত ভালে॥ হরি হরি না বুঝিয়ে গৌরাঙ্গ-বিলাস। গোকুল নায়ক বিহরই নবদ্বীপে তরুণি ভাব পরকাশ॥ চমৎকৃত-চারু- চন্দ্রযুত চন্দন চিত্রই চিত্রিত অঙ্গে। নিজবর-ভাব বিভাবিত অন্তর ঐছে ভকতগণ সঙ্গে॥ রাকা-রজনি রজনিকর-রমণক রাতুল-পদনখ-ফান্দে। রাধামোহন- দুষ্ট-দ্বিরেফ-চিত দমন দাস করি বান্ধে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সো শচীনন্দন চাঁদ জিনি উজোর ভণিতা রাধামোহন কবি রাধামোহন ঠাকুর এই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪, ২০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে ॥ নাটিকা ॥ সো শচীনন্দন চাঁদ জিনি উজোর সুমেরু জিনিয়া বড় অঙ্গ। কাম কোটি কোটি জিনি তছু লাবণি মত-গজ জিনি গতি ভঙ্গ॥ সজনি, কো ইহ সুখ সহ পার। সো অব অসিত চাঁদসম ক্ষীয়ত লোচন ঝর অনিবার॥ ধ্রু॥ মথুরা মথুরা বলি পুন পুন কাঁদই অতিশয় দুবর ভেল। হাসকলারস দূরহি সব গেো না রহ ভকতহি মেল॥ ইহ বড় শেল রহল মঝু অন্তর কহ কহ কি করি উপায়। রাধামোহন প্রাণ কঠিন জনু যতনে নাহি বাহিরায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |