রাধামোহনের পদামৃত সমুদ্র পাতার উপরে . . .
আনুমানিক ১৭২৫ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রধান কীর্তি “পদামৃত সমুদ্র” নামক বিশাল বৈষ্ণব পদাবলীর
সংকলন। এতে তিনি সংকলন করেন মোট ৭৪৬ টি পদ, যার মধ্যে তাঁর স্বরচিত, রাধামোহন ও রাধামোহন
দাস ভণিতাযুক্ত পদ ছিল ২২৮টি। পরবর্তীতে রাধামোহনের শিষ্য, গোকুলানন্দ সেন ওরফে বৈষ্ণবদাস, তাঁর
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গন্থ পরিকল্পনার সময়ে এই গ্রন্থটিকেই যে মূল আকর-গ্রন্থ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন তাতে
কোনো সন্দেহ নেই।
রাধামোহন ঠাকুর জন্ম ১৬২০ বা ১৬২১ শকাব্দে ( ১৬৯৮ বা ১৬৯৯, মতান্তরে ১৬৮৮ খৃষ্টাব্দ ) মৃত্যু ১১৮৫ বঙ্গাব্দ ( ১৭৭৮ খৃষ্টাব্দ )
|
কবির একটি ছবি ও তাঁর জীবন সম্বন্ধে আরও তথ্য যদি কেউ আমাদের পাঠান তাহলে আমরা, আমাদের কৃতজ্ঞতাস্পরূপ প্রেরকের নাম এই পাতায় উল্লেখ করবো। আমাদের ঠিকানা - srimilansengupta@yahoo.co.in
|
|
|
কবি রাধামোহন ঠাকুর - ছিলেন শ্রীনিবাস আচার্যের বংশধর। শ্রীনিবাস আচার্যের জন্মের ১৫৫ বছর
পর তাঁর জন্ম হয়। পিতা জগনানন্দ চাখন্দী বা চাকন্দী গ্রামে বসবাস করতেন। সেখানেই কবির জন্মগ্রহণ
করেন বলে মনে করা হয়।
রাধামোহন ঠাকুর ছিলেন পদকল্পতরু গ্রন্থের সংকলক বৈষ্ণব দাসের দীক্ষা-গুরু। মুর্শিদাবাদের কুঞ্জঘাটার,
ইতিহাস বিখ্যাত মহারাজ নন্দকুমার এবং পুটীয়ার রাজা রবীন্দ্রনারায়ণও ছিলেন এই রাধামোহন ঠাকুরেরই
শিষ্য।
তাঁর রচিত পদাবলী "রাধামোহন", "রাধামোহন দাস", "শ্রীরাধামোহন" ও "রাধামোহন দীন" ভণিতায় পাওয়া
গিয়েছে। বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, নরহরি, ঘনশ্যাম প্রভৃতি ভণিতার পদাবলীর একাধিক কবিদের নিয়ে
যে সমস্যা রয়েছে, সেরকম কোনো নামের সমস্যা আমরা রাধামোহনের ক্ষেত্রে দেখতে পাইনা।
আমরা বিভিন্ন পদাবলী সংকলন থেকে রাধামোহন ঠাকুরের ৩০৪টি পদ পেয়ে এখানে তুলেছি, যার মধ্যে
২৮টি পদ এমন রয়েছে যা, প্রথম পংক্তির ভিন্নতার কারণে আলাদা ভাবে, স্বতন্ত্র পদ হিসেবে এখানে তুলতে
হয়েছে। তা বাদ দিলে এখানে রাধামোহন ঠাকুরের ২৭৬টি পদ আছে। প্রতিটি পদের উত্স উল্লেখ করা
রয়েছে। কোন পদ কতবার সংকলিত পেয়েছি, তার সংখ্যা, পদের সূচীতে প্রতিটি পদের পাশে রাখা
বন্ধনীতে দেওয়া হলো। এর থেকে কিছুটা অনুমান করা সম্ভব যে, রাধামোহন ঠাকুরের কোন পদ কতটা
জনপ্রিয় হয়েছিল। বিভিন্ন সংকলনে, ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রাপ্ত একই পদ, আমরা একত্রে এখানে প্রকাশ করেছি।
সংস্কৃত পদের অনুবাদ বা ব্যাখ্যা, যা পেয়েছি তুলে দেওয়া হয়েছে।
রাধামোহনের বংশপরিচয় পাতার উপরে . . .
রাধামোহন ঠাকুর তাঁর রচিত পদামৃত সমুদ্র গ্রন্থের মঙ্গলাচরণে, নিজে লিখে গিয়েছেন . . .
বন্দে তং জগদানন্দং গুরুং চৈতন্যদায়কং।
গীত বেদার্থ বিস্তারে প্রবৃত্তো যত্কৃপাশয়া॥ ৪॥
গুরোঃ প্রকাশকং শ্রীল কৃষ্ণাখ্যং সর্ব্বসিদ্ধিদং।
প্রসাদ পদসংযুক্তং বন্দেহহং করুণাবং॥ ৫॥
শ্রীগোবিন্দগতিং বন্দে বিদিতং ভুবি সর্ব্বতঃ।
তৎ পুত্রাণান্ত সর্ব্বেষাং পাদপদ্মমহর্ম্নিশং॥ ৬॥
শ্রীনিবাসাচার্য্যবরং সভক্তং সনরোত্তমং।
সরামচন্দ্র গোবিন্দ কবীন্দ্রমহমাশ্রয়ে॥ ৭॥ --- পদামৃত সমুদ্র।
গৌরপদ করঙ্গিণীর সংকলক জগবন্ধু ভদ্র এর ব্যাখ্যায় বলেছেন ---
“. . . রাধামোহন তাঁহার পদামৃত-সমুদ্র গ্রন্থের সঙ্গলাচরণে নিজের যে পরিচয় দিয়াছেন, তাহা হইতে জানা
যায়, রাধামোহন ঠাকুরের গুরু ( এবং জনক ) জগদানন্দ ; তাঁহার প্রকাশক অর্থাৎ জনক কৃষ্ণপ্রসাদ ; তাঁহার
জনক গোবিন্দ-গতি ওরফে গতিগোবিন্দ ; এবং তাঁহার জনক শ্রীনিবাসাচার্য্য। সুতরাং রাধামোহন
শ্রীনিবাসের বৃদ্ধপ্রপৌত্র।”
রাধামোহন সম্বন্ধে জগবন্ধু ভদ্রর উদ্ধৃতি পাতার উপরে . . .
জগবন্ধু ভদ্র আরও বলেছেন . . .
“ইনি (রাধামোহন) পৈতৃক বাসস্থান চাকন্দী গ্রামেই ভূমিষ্ঠ হন। রাধামোহন এরূপ শক্তিশালী পুরুষ ছিলেন যে,
ভক্তিরত্নাকর প্রণেতা ( নরহরি চক্রবর্তী ) ইঁহাকে শ্রীনিবাসাচার্য্যের দ্বিতীয় প্রকাশ কলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন।
ইনি বিলক্ষণ সঙ্গীত-বিদ্যাবিশারদ, প্রগাঢ় শাস্ত্রজ্ঞ এবং উচ্চশ্রেণীর কবি ছিলেন। রাধামোহনের কয়েকটি
সংস্কৃত পদও আমরা দেখিয়াছি। ইঁহার বাঙ্গালা ও সংস্কৃত রচনা বিলক্ষণ গাঢ় অথচ প্রাঞ্জল ও সরস।
সংস্কৃত পদগুলি জয়দেবের অনুকরণের লিখিত।”
স্বকীয়া-পরকীয়াবাদের বিচারে রাধামোহনের জয়লাভ পাতার উপরে . . .
গৌরপদ তরঙ্গিণী গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকায় সম্পাদক মৃণালকান্তি ঘোষ লিখেছেন . . .
“বাঙ্গালা ১১২৫ সালে ( ১৭১৮ খৃষ্টাব্দে ) স্বকীয়া ও পরকীয়াবাদ সম্বন্ধে গৌড়মণ্ডলে এক ঘোরতর বিচার হয়।
এই বিচারে ঠাকুর মহাশয়ের, সরকার ঠাকুরের, শ্রীজীব গোস্বামীর ও আচার্যপ্রভুর পরিবারের গোস্বামিগণ
পরকীয়াবাদের পক্ষ অবলম্বন করেন। এই বিচারে রাধামোহন ঠাকুরই প্রধান হইয়া বিচার করেন। এই বিচার-
সভায় বৈদ্যপুর নিবাসী নয়নানন্দ তর্কালঙ্কার, গোকুলানন্দ সেন ( বৈষ্ণবদাস ) ও তদীয় বন্ধু কৃষ্ণকান্ত
মজুমদার ( উদ্ধবদাস ) উপস্থিত ছিলেন। এই বিচারে রাধামোহন ঠাকুর জয়লাভ করেন, এবং একখানি
জয়পত্র প্রাপ্ত হন। ১১২৫ সালের ১৭ই ফাল্গুন তারিখে মুর্শিদ কুলী খাঁর ( বাংলার নবাব ) দরবারে সেই দলীল
রেজিস্টারি হয়। এই সময় রাধামোহনের বয়স ছিল ত্রিশ বত্সর।”
রাধামোহনের কবিত্ব নিয়ে সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতি - পাতার উপরে . . .
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ৫ম খণ্ডের ভূমিকার ২০০-পৃষ্ঠায় লিখেছেন---
“রাধামোহন ঠাকুরের পাণ্ডিত্য ও রসজ্ঞতা সম্বন্ধে কাহারও মত-ভেদ নাই ; কিন্ত তাঁর কবিত্ব সম্বন্ধে জগবন্ধু
বাবুর উক্তি খুব অতিরঞ্জিত মনে হয়। তাঁহার পদাবলীতে রস-শাস্ত্রের নিয়ম-রক্ষার উদাহরণ যেরূপ পাওয়া
যায়, স্বাভাবিক কবিত্বের উদাহরণ সেরূপ পাওয়া যায় না। বোধহয় অতিরিক্ত পাণ্ডিত্য ও রস-
শাস্ত্রানুবর্ত্তিতাই তাঁহার স্বাভাবিক কবিত্ব-বিকাশে যথেষ্ঠ বাধা জন্মাইয়াছিল। তাঁহার পদামৃত-সমুদ্রের---
আলোক্য গীতশাস্ত্রাণি সদ্ভক্তানাং কৃতানি তু।
সংগৃহ্যন্তে সুগীতানি কীর্ত্তনস্যানুসারতঃ॥
পূর্ব্বোক্তগীতকর্ত্তৃণাৎ কদাচিৎ গানপোষকৎ।
ন লভ্যতে যত্র গীতৎ বিচিন্ত্য হৃদি তত্পদং।
দাস্যামি রচনং কৃত্বা তত্র তেষাৎ কৃপাবলৈঃ॥
এই উক্তি হইতে বুঝা যায় যে, তিনি পূর্ব্বতন প্রসিদ্ধ পদ-কর্ত্তাদিগের পদ পাইলে প্রধানতঃ উহাই সন্নিবেশিত
করিয়াছেন ; কিন্তু যেখানে পালা গানের পোষক পদ পান নাই, সেখানেই অগত্য তাঁহাকে পদ রচনা করিয়া
পালার পূরণ করিতে হইয়াছে। বলা বাহুল্য যে, ফরমায়েসী কবিতার ন্যায় এরূপ দায়ে পড়িয়া পদ রচনা
করিলে, উহাতে স্বাভাবিক কবিত্বের বিকাশ হইতে পারে না। এ জন্যই আমরা রাধামোহন ঠাকুরকে তাঁহার
পাণ্ডিত্য ও রসজ্ঞতার জন্য উচ্চস্থান দিলেও, কবি হিসাবে তাঁহাকে উচ্চস্থান দিতে অক্ষম। লোচনদাস
প্রভৃতির ন্যায় অপণ্ডিত অনেক পদ-কর্ত্তাও কবিত্বের জন্য তাঁহার অপেক্ষা অনেক উচ্চ স্থান পাইতে পারেন।
নরহরি চক্রবর্তীরও কবিত্ব অপেক্ষা পাণ্ডিত্য বেশী থাকিলেও কবিত্ব হিসাবে তিনিও রাধামোহন হইতে
অনেক শ্রেষ্ঠ। এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করা অনাবশ্যক ; রাধামোহন ঠাকুরের পদামৃত-সমুদ্র ও উহার
পাণ্ডিত্যপূর্ণ সংক্ষিপ্ত সংস্কৃত টীকাই তাঁহাকে বৈষ্ণব-সাহিত্যে অমর করিয়া রাখিবে।”
দুর্গাদাস লাহিড়ীর উদ্ধৃতি - পাতার উপরে . . .
“১০৯৫ সালে (বঙ্গাব্দ) রাধামোহন আচার্য্য ঠাকুর পৈতৃক বাসস্থান চাকন্দী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ইনি
শ্রীনিবাসার্য্যের প্রপৌত্র অথবা বৃদ্ধ প্রপৌত্র। শ্যামানন্দ পুরী ইহাঁর দীক্ষা গুরু। রাধামোহন প্রকৃত সঙ্গীতশাস্ত্র
বিশারদ, প্রগাঢ় শাস্ত্রজ্ঞ, এবং উচ্চদরের কবি বলিয়া প্রসিদ্ধি লাভ করেন। “পদামৃত সমুদ্র” নামক সুপ্রসিদ্ধ
পদাবলী গ্রন্থ ইহাঁর দ্বারা সঙ্কলিত ও সম্পাদিত হয়। এই গ্রন্থের অন্তর্গত পদ সকলের “মহাভাবাবনুসারিণী”
নামক এক সংস্কৃত টীকা প্রণয়ন করিয়াও ইনি আপনার অসাধারণ পাণ্ডিত্য প্রকাশ করেন। ইনি বাঙ্গালা ও
সংস্কৃত উভয় ভাষাতেই সুন্দর পদ রচনা করিয়া গিয়াছেন। সংস্কৃত পদগুলি প্রায় জয়দেবের অনুকরণে
রচিত।রাজা নন্দকুমার ও পুঁটীয়ার রাজা রবীন্দ্রনারায়ণ ইহাঁর শিষ্য ছিলেন। এইরূপ কথিত আছে---
রবীন্দ্রনারায়ণ প্রথমে ঘোরতর শাক্ত ছিলেন, ইনিই শাস্ত্র বিচারে পরাভূত করিয়া তাঁহাকে বিষ্ণু মন্ত্রে দীক্ষিত
করেন। ১১২৫ সালে স্বকীয়া ও পরকীয়াবাদ সম্বন্ধে এক ঘোরতর বিচার হয় ; সেই বিচারে রাধামোহন
একখানি জয় পত্র প্রাপ্ত হন। উক্ত সালের ১৭ই ফাল্গুন তারিখে মুর্শিদকুলী খাঁর দরবারে তাহা রেজিস্টারী হয়
। তখন ইহাঁর বয়ঃক্রম ৩০ বত্সর মাত্র। ১১৮৫ সালে ইনি পরলোক গমন করেন।”
এই পাতার কবিতার ভণিতা -
রাধামোহন, রাধামোহন দাস,
শ্রীরাধামোহন ও রাধামোহন দীন
বিভিন্ন পদাবলী সংকলনে রাধামোহনের পদ পাতার উপরে . . .
আমরা দেখতে পাই যে, দীনবন্ধু দাসের “সংকীর্ত্তনামৃত” সংকলন ছাড়া প্রায় প্রতিটি সংকলনেই রাধামোহন
ঠাকুরের পদ, বহুল সংখ্যায় সংকলিত হয়েছে। তাঁর পদ যে প্রথম শ্রেণীর পদকর্তাদের মত উত্কৃষ্ট নয় এ
কথা বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্ন সময়ে উল্লেখ করে গিয়েছেন। এই পাতায় সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতিতে সেটা বোঝা
যায়। সাধারণত বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, গোবিন্দদাস, জ্ঞানদাস প্রমুখদেরই সংকলিত পদের সংখ্যা বেশী থাকে
যে কোন সংকলনে। কিন্তু আমরা দেখতে পাই যে রাধামোহনের পদসংখ্যাও প্রায় তাঁদের সমান বা কোন
কোন ক্ষেত্রে তাঁদের থেকেও বেশী, বিশেষ করে প্রাচীন সংকলকদের সংকলনে। তাঁর পদের
এত জনপ্রিয়তার মূলে যে যে কারণ থাকতে পারে তা হলো . . .
১। তিনি শ্রীনিবাস আচার্য্যের বংশধর ও বিশিষ্ট ধর্মনেতা ছিলেন এবং বৈষ্ণব সমাজে তাঁর স্থান শ্রদ্ধার সঙ্গে
মান্য করা হতো।
২। তাঁর নিজের সংকলিত "পদামৃতসমুদ্র" গ্রন্থে তিনি তাঁর নিজের বিশাল সংখ্যক পদ সন্নিবেশ করেছিলেন।
যা পরবর্তিতে বিভিন্ন পদ-সংকলকদের কাছে পৌঁছয়, অনুলিখিত পুথির মাধ্যমে।
৩। তাঁর শিষ্য গোকুলানন্দ সেন, বৈষ্ণবদাস ভণিতায় পদ রচনা করতেন এবং সেকালের একজন জনপ্রিয়
কীর্তনীয়া ছিলেন। তিনি এতটাই খ্যাতি অর্জন করেছিলেন যে, তাঁর গাওয়া কীর্তন, তাঁর গ্রামের নামে,
“টেঞার ছপ” অথবা “টেঞার ঢপ” বলে পরিচিতি লাভ করে। স্বভাবতই তিনি তাঁর গুরু রাধামোহনের
রচিত গান গেয়ে বেড়িয়েছেন, দীর্ঘকাল ধরে, দূর-দূরান্তের বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদিতে, যা সেই গানগুলিকে বহু
মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছিল। একথা বৈষ্ণবদাসের গীতকল্পতরু বা শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর শেষে
দেওয়া “অনুবাদ প্রকরণ” থেকে আমরা জানতে পারি . . .
আচার্য্য প্রভুর বংশ শ্রীরাধামোহন।
কে কহিতে পারে তাঁর গুনের বর্ণন॥
যাহার বিগ্রহে গৌর-প্রেমের নিবাস।
হেন শ্রীআচার্য্য প্রভুর দ্বিতীয় প্রকাশ॥
গ্রন্থ কৈলা পদামৃত-সমুদ্র আখ্যান।
জন্মিল আমার লোভ তাহা করি গান॥
নানা পর্য্যটনে পদ-সংগ্রহ করিয়া।
তাঁহার যতেক পদ সব তাহা লৈয়া॥
সেই মূল-গ্রন্থ অনুসারে ইহা কৈল।
প্রাচীন প্রাচীন পদ যতেক পাইল॥
এই গীত-কল্প-তরু নাম কৈনু সার।
পূর্ব্বরাগাদিক্রমে চারি শাখা যার॥
বৈষ্ণদাসের সংকলিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরুই আধুনিক যুগে বৈষ্ণব পদাবলী পৌঁছে দেবার প্রধান সেতু হিসেবে
প্রতিষ্ঠা পায়। রাধামোহনের পরবর্তীকালের পদসংকলনগুলিতে, এমন কোন অধ্যায়ে, যে বিষয়ে তাঁর রচিত
পদ ছিল, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেই অধ্যায়ের গৌরচন্দ্রিকা তাঁর পদ দিয়েই করা হয়ে এসেছে!
আমরা মিলনসাগরে কবি রাধামোহন ঠাকুরের বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে
এই প্রচেষ্টার সার্থকতা।
কবি রাধামোহন ঠাকুরের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in
এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ২.৫.২০১৭
পরিবর্ধিত সংস্করণ - ৯.১১.২০১৭
২৮৪টি নতুন পদ সহ মোট ৩০৪টি পদের পরিবর্ধিত সংস্করণ - ১৬.১.২০১৮
...