| কবি রঘুনাথ দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| জয় জয় শ্রীজয়-দেব দয়াময় কবি রঘুনাথ দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে, পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় পরিবর্ধিত ও সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৯১৮, ৪র্থ শাখার ২৬শ পল্লব, পদসংখ্যা ॥ সারঙ্গ॥ জয় জয় শ্রীজয়- দেব দয়াময় পদ্মাবতি-রতি-কান্ত। রাধামাধব- প্রেম-ভকতি-রস উজ্জল-মুরতি নিতান্ত॥ শ্রীগীতগোবিন্দ গ্রন্থ সুধাময় বিরচিত মনোহর ছন্দ। রাধাগোবিন্দ- নিগুঢ়-লীলা-গুণ- পদ্মাবলি-পদ-বৃন্দ॥ কেন্দুবিল্ব বর ধাম মনোহর অনুখন করয়ে বিলাস। রসিক-ভকতগণ যো সবরস-ধন অহনিশি রহু তচ্ছু পাশ॥ যুগল-বিলাস-গুণ করু আস্বাদন অবিরত ভাবে বিভোর। দাস রঘুনাথ ইহ তছু গুণ বর্ণন কীয়ে করব লব-ওর॥ এই পদটি, জগবন্ধু ভদ্রর সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” (১৯৩৪), সংকলনের দ্বিতীয় পরিশিষ্ট, পূর্ব্ব-পূর্ব্বপদকর্তাদিগের গুণানুবাদ, পদসংখ্যা ২০, ৩৭২ পৃষ্ঠায় এভাবে দেওয়া রয়েছে। ॥ টোরি॥ জয় জয় শ্রীজয়দেব দয়াময়, পদ্মাবতি রতিকান্ত। রাধামাধব-প্রেম ভকতি রস, উজ্জল মূরতি নিতান্ত॥ শ্রীগীতগোবিন্দ গ্রন্থ সুধাময়, বিরচিত মনোহর ছন্দ। রাধাগোবিন্দ-নিগূঢ়লীলাগুণ, পদ্যাবলি পদবৃন্দ॥ কেন্দুবিল্লবর ধাম মনোহর, অনুখন করয়ে বিলাস। রসিক ভকতগণ, সো সরবস ধন, অহনিশে রহু তছু পাশ॥ যুগল বিলাস গণ, করু আচ্ছাদন, অবিরত ভাবে বিভোর। দাস রঘুনাথ, ইহ তছু গুণবর্ণন, কিয়ে করব নওর॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| চন্দন-বদনি ধনি মৃগ-নয়নী কবি রঘুনাথ দাস পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় পরিবর্ধিত ও সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৯১৮, ৪র্থ শাখা, দ্বিতীয় ভাগ, ২৯শ পল্লব, শ্রীরাধিকার রূপ বর্ণন, পদসংখ্যা ২৪৬৭। ॥ গৌরী॥ চন্দন-বদনি ধনি মৃগ-নয়নী। রূপে গূণে অনুপমা রমণী-মণি॥ মধুরিম হাসিনি কমল-বিকাশিনি মোতিম-হারিণি তম্বু-কণ্ঠিনী। থির-সৌদামিনি গলিত কাঞ্চন জিনি তনু-রুচি-ধারিণি পিক-বচনী॥ উরজ-লম্বি-বেণি মেরু পর যেন ফণি অভরণ বহু মণি গজ-গমনী। বিণা পরিবাদিনি চরণে নুপুর-ধ্বনি রতি-রসে পুলকিনি জগ-মোহিনী॥ সিংহ জিনি মাঝ খিণি তাহে মণি-কিঙ্কিণি ঝাঁপি ওঢ়নি তনু পদ অবনী। বৃষভানু-নন্দিনি জগ-জন-বন্দিনি দাস রঘুনাথ-পহুঁ-মনহারিণী॥ এই পদটি, ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত ও সংকলিত “পদামৃত লহরী”, ১০৪ পৃষ্ঠায় এভাবে দেওয়া রযেছে। অভিসারিকা শ্রীমতী রাধারাণীর রূপ বর্ণনা ॥ তাল - দশপাহিড়া॥ চন্দ্রবদনী ধনী মৃগনয়নী। রূপে গুণে অনুপমা রমণী মণি॥ মধুরিম হাসিনী, কমল বিকাশিনী, মোতিম হারিণী কম্বু কণ্ঠিনী। থির সৌদামিনী, গলিত কাঞ্চন জিনি, তনু রুচি ধারিণী পিকবচনী॥ উরজে লম্বিত বেণী, মেরু পরে যেন ফণী, আভরণ বহুমণি, গজগামিনী। বীণা পরিবাদিনী, চরণে নূপুর ধ্বনি, রতিরসে পুলকিনী জগমোহিনী॥ সিংহ জিনি মাঝ খিণী, জগজন বন্দিনী, দাস রঘুনাথ পহুর মন হারিণী॥ ভাবার্থ - পদকর্ত্তা রঘুনাথ গোস্বামী সাক্ষাৎ দর্শন করিয়াছিলেন। শ্রীমতীর মুখমণ্ডল চন্দ্রের ন্যায় তৃপ্তিদায়ক, নয়নযুগল হরিণীর ন্যায়, হাসিখানি মধু মাখা, যেন প্রস্ফুটিত পদ্ম, গলে মোতির মালা, ধনির কম্বুকণ্ঠ ( শঙ্খের ন্যাায় তিনটি রেখা বিশিষ্ট কণ্ঠকে কম্বুকণ্ঠ বলে )। ধনীর অঙ্গের বর্ণখানি যেন স্থির বিদ্যুতের ন্যায়, অথবা গলিত স্বর্ণের ন্যায়। বক্ষস্থলে বেণীটি ঝুলিয়া পরিয়াছে। যেন স্বর্ণ-পর্ব্বত-শৃঙ্গের উপরে কালো সর্প দুলিতেছে। ধনী গজগামিনী। চরণের নূপুরের শব্দে যেন বীণা বাজতেছে।ধনীর কটিদে সরু, তাহাতে আবার মণি-কিঙ্কিণী শোভিত। বৃষভানুর ( রাধার পিতা ) নন্দিনী জগজন-পূজ্যা রঘুনাথ দাসের প্রভু শ্রীকৃষ্ণের মন-হরণ-কারিণী। ---সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, পদামৃত লহরী॥ এই পদটি, ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”, ৩৬৪ পৃষ্ঠায় এভাবে রয়েছে। চন্দ্র-বদনি ধনি মৃগনয়নী। রূপে গুণে অনুপমা রমণী-মণি॥ মধুরিম হাসিনী কমল-বিকাশিনী মোতিম-হারিণী কম্বু-কণ্ঠিনী। থির সৌদামিনী গলিত কাঞ্চন জিনি তনু-রুচি-ধারিণী পিক-বচনী॥ উরজ-লম্বিত-বেণী মেরুপর যেন ফণি অভরণ বহু মণি, গজ-গমিনী। বিণা-পরিবাদিনী চরণে নূপুর ধ্বনি রতি-রসে পুলকিনী জগ-মোহিনী॥ সিংহ জিনি মাঝ খিণি তাহে মণি-কিঙ্কিণি ঝাঁপি ওঢ়নি তনু পদ অবনী। বৃষভানু নন্দিনি জগজন-বন্দিনি দাস রঘুনাথ-পহুঁ মনহারিণী॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| এই পদটি, ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন- মালা”, ৭৪ পৃষ্ঠায় এভাবে দেওয়া রয়েছে। সায়ংকালোচিত শ্রীকৃষ্ণের আরতি। ॥ গৌরী॥ হরত সকল, সন্তাপ জনমকো, মিটত তলপ যম কাল কি। আরতি কিয়ে জয় জয় মদন গোপাল কি॥ গো-ঘৃত রচিত কর্পূরকি বাতি। ঝলকত কাঞ্চন থারি কি। ঘন্টা তাল মৃদঙ্গ ঝাঝরি। বাজত বেণু বিষাণ কি। চন্দ্র কোটি জ্যোতি ভানু কোটি ছবি মুখ শোভা নন্দলাল কি॥ ময়ুর মুকুট পীতাম্বর শোহে উরপর আজরি কুসুম গুলাব কি। সুন্দর লোল কপাল ছবি নিরখত মদনগোপাল কি॥ সুর নর মুনিগণ করতহি আরতি ভকত বত্সল প্রতিপাল কি॥ ঘন্টাতাল মৃদঙ্গ ঝাঝরি অঞ্জলী কুসুম গোপাল কি। হুঁ বলি বলি রঘু নাথ দাস মোহন গোকুল বাল কি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আর এক কহি কথা সহোদর বন্ধু কথা কবি রঘুনাথ দাস ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত শ্রীপদামৃতমাধুরী, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২১৯। ॥ বরাড়ী, মধ্যম একতালা॥ আর এক কহি কথা, সহোদর বন্ধু কথা, দুই চারি জন মোর আছে। কহি কিছু তারি কথা, পাছে হেট কর মাথা, ননী চুরি কর যার কাছে॥ যত সব গোপ নারী, লইয়া দধির পসারি, যমুনার দিকে যায় তারা। পথ আগোরিয়া রও, দধি দুধ কাড়ি খাও, একি তোমার অনুচিত ধারা॥ নরীগণে স্নান করে, বসন রাখিয়া তীরে, চুরি করি রহ লুকাইয়া। বাজাইয়া মোহন বাঁশী, কুলবধু কর দাসী, কথা কহ হাসিয়া হাসিয়া॥ খাও খাও পরের খন্দ, এখনি করিব বন্ধ, লইয়া যাব কংসের গোচরে। দাস রঘুনাথে কয়, শুনিতে লাগয়ে ভয় চমকিত হইল যদুবীরে॥ এই পদটি, ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত সঙ্গীতাচার্য্য দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত কীর্ত্তন-পদাবলী, সংকলনের ১৬০ পৃষ্ঠায় এভাবে রয়েছে। আর এক কহি কথা, সহোদর বন্ধু সখা, দুই চারি জন মোর আছে। কহি শুন তার কথা, পাছে হেঁট কর মাথা, ননী চুরি কর যার কাছে॥ যত সব গোপনারী, লইঞা দধির পসারি, মথুরার দিকে যায় তারা। পথ আগোরিয়া রও, দধি দুগ্ধ কাড়ি খাও, এ কি তোমার অনুচিত ধারা॥ নরীগণ স্নান করে, বসন রাখিয়া তীরে, চুরি করি রহ লুকাইয়া। বাজাইয়া মোহন বাঁশী, কুলবধু কর দাসী, কথা কহ হাসিয়া হাসিয়া॥ খাওয়াও পরের খন্দ, এখনি করিব বন্ধ, লইয়া যাইব কংসের গোচরে। দাস রঘুনাথে কয়, শুনিতে লাগয়ে ভয় চমকিত হৈল যদুবীরে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |