কবি রসময় দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
রাইক ব্যাধি শুনহ বর কান
কবি রসময় দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, দূতী সংবাদ, পদসংখ্যা ১৭০০।

.        ॥ তিরোধা॥

রাইক ব্যাধি শুনহ বর কান।
যাহা শুনি গলি যায় দারু পাষাণ॥
উঠিছে কম্পের ঘটা বাজিছে দশন।
কণ্ঠ ঘড় ঘড় ভেল কি আর ভাবন॥
কণ্টকীর ফল যেন পুলক-মণ্ডলী।
ফুটিয়া পড়ল সব মুকুতার গুলি॥
নয়ানের জলে বহে নদী শত-ধারা।
পাণ্ডুর বরণ দেহ জড়িমার পারা॥
তুয়া নাম শ্রবণে ডাকিছে কোন সখী।
শুনিতে বিকল হিয়া না মেলয়ে আঁখি॥
ক্ষীণ তনু দেখিয়া বাঢ়িছে মন-বেথা।
ভাঙ্গিলে মুরছাখানি কি আর বা কথা॥
সখীগণ বেঢ়িয়া ডাকয়ে চারি পাশে।
কি হইতে কিরব রসময় দাসে॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিরহে ব্যাকুল ধনি কিছুই না জানে
কবি রসময় দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, নানাবিধ বিরহ, পদসংখ্যা ১৮৬৪।

.        ॥ ধানশী॥

বিরহে ব্যাকুল ধনি কিছুই না জানে।
আন-আন বরণ হইল দিনে দিনে॥
কম্প পুলক স্বেদ নয়নহি ধারা।
প্রণয়-জড়িমা বহু ভাব বিথারা॥
যোগিনি যৈছন ধ্যানি-আকার।
ডাকিলে-সমতি না দেই দশ বার॥
উনমত-ভাতি ধনি আছয়ে নিচলে।
জড়িমা ভরল হাত পদ নাহি চলে॥
আধ আধ বচন কহিছে কার সনে।
পুন পুন পুছয়ে সবহু তরুগণে॥
ত্রিভঙ্গ হইয়া কেনে বাজায় মুরলী।
দেখিয়া কান্দয়ে সখী করিয়া বিকুলি॥
মথুরা মথুরা বলি উঠয়ে কাঁপিয়া।
ললিতার গলা ধরি পড়ে মূরছিয়া॥
হেন মতে বিরহিণী ভাবে বিভোর।
কি কহব রসময় না পাওল ওর॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বাহুড়িয়া আইস বন্ধু পরাণ-পুতলি
কবি রসময় দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, নানাবিধ বিরহ, পদসংখ্যা ১৮৬৫।

.        ॥ গান্ধার॥

বাহুড়িয়া আইস বন্ধু পরাণ-পুতলি।
তোমা না দেখিয়া প্রাণ করিছে বিকুলি॥
কত আঁখি পসারিব মথুরার পথে।
পাপিয়া পরাণ নাহি গেল তোমার সাথে॥
হেদে হে গোকুল-প্রাণ জীবন-ধন শ্যাম।
এক বেরি দরশন দিয়া রাখ প্রাণ॥
জনম অবধি দুখ আছে হিয়া ভরি।
দেখিলে তোমার মুখ সকলি পাসরি॥
এক বার বাহুড়িয়া আইস ব্রজ-পুরে।
নিরখি তোমার মুখ দুখ যাউক দূরে॥
শীতল মন্দির মাঝে তোমা বসাইব।
যত মনের দুখ-কথা সকল কহিব॥
কত দিনে পূরিবে হিয়ার অভিলাষ।
শ্যাম নিয়ড়ে চলু রয়ময় দাস॥


ব্যাখ্যা -
তুমি একবার ফিরে এসো। হে বনিধু, হে আমার হৃদয়-পুত্তলী, তোমাকে না দেখে আমি
বিফল। মথুরার পথে দৃষ্টি মেলে দিয়ে বসে আছি, ভাবছি কেন তোমার সঙ্গেই আমার
পাপ প্রাণ দেহ ছেড়ে গেল না। জন্মাবধি শুধু দুঃখই ভোগ করলাম। তুমি একবার ফিরে
এসো। তোমার মুখ দেখে আমার সকল দুঃখ জুড়াক। যত মনের কথা তোমাকেই বলে
হালকা হই।
---সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, পদরত্নাবলী।

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর