কবি রসময় দাস - তাঁর সম্বন্ধে কোনো তথ্য জানা যায় নি।
তাঁর তিনটি মাত্র পদ পদকল্পতরু গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। এই কবির নাম এবং পদের বিষয়ের সঙ্গে আশ্চর্যজনক
মিল রয়েছে পদকল্পতরুর আরেক কবি, রসময়ী দাসীর, যাঁর একটি মাত্র পদ রয়েছে। এই কবিই নারীর
ভণিতায় পদ রচনা করেছেন কি না তা সম্বন্ধে সতীশচন্দ্র রায়ের নীচের উদ্ধৃতি উল্লেখযোগ্য।
পদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডে (প্রকাশকাল ১৯৩১ সাল), পদকর্তার পরিচয় অংশে এই কবি সম্বন্ধে সম্পাদক
সতীশচন্দ্র রায় লিখেছেন ---
“রসময় দাস ভণিতার তিনটি পদ পদকল্পতরুতে উদ্ধৃত হইয়াছে। পদকর্ত্তার কোনও পরিচয় জানা যায় নাই।
ইঁহার তিনটি পদই বাংলা মাথু-বিরহের পদ। উহাতে রাধার ব্যাকুলতা ও প্রেমোচ্ছ্বাস বেশ ফুটিয়াছে।
আমরা বিশেষভাবে তাঁহার ১৮৬৫ সংখ্যক “বাহুড়িয়া আইস বন্ধু পরাণ পুতলি” ইত্যাদি পদটীর প্রতি সহৃদয়
পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করিতেছি। ইনি গোপী-ভাবের অভিমানে নিজকে 'রসময়ী দাসী' রুপে পরিচিত করিয়া
৭৫৭ সংখ্যক পদ রচনা করিয়া হিয়াছেন, কিংবা “রসময়ী দাসী” প্রকৃত পক্ষেই কোনও মহিলা কবি ছিলেন,
নিশ্চিত বলা যায় না। যখন রসময় দাস ও রসময় দাসী, উভয়েরই কোনো পরিচয় জানা যায় নাই, তখন
উভয়েরই স্বতন্ত্রতার অনুমান করিয়া, প্রাচীন কালের একজন মহিলা কবি --- 'তোমাতে আমাতে যেমত
পিরিতি' ইত্যাদি ৭৫৭ সংখ্যক পদের ন্যায় সরল ও উচ্ছ্বাসপূর্ণ সুন্দর পদ রচনা করিয়া গিয়াছেন ভাবিয়া
একটু আনন্দ অনুভব করাই সমীচীন মনে করি। ভরসা করি, আমাদের উত্সাহী প্রাচীন সাহিত্যানুরাগী
শিক্ষিত যুবকদিগের অনুসন্ধান ও গবেষণার ফলে রসময় দাস ও রসময় দাসীর প্রকৃত পরিচয় সংগৃহীত
হইবে। বলা বাহুল্য যে, সখী ভাবের অভিমান থাকা সত্ত্বেও সাধারনতঃ কোন বৈষ্ণব-কবি স্ত্রী-রূপে নিজের
ভণিতা দেন নাই। তবে 'সখী-ভেকী' সম্প্রদায়ের কোন ব্যক্তির---যাঁহারা বাহ্যেও স্ত্রীলোকের বেশ-ভূষা ধারণ
করিয়া থাকেন --- এ ভাবে ছদ্ম-ভণিতা দেওয়া অসম্ভব মনে হয় না। পদ-পর্ত্তা রসময় দাস 'সখী ভেকী'
সম্প্রদায়ের পদ-কর্ত্তা কি না, সে সম্বন্ধে উক্ত সম্প্রদায়ের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদিগের নিকট অনুসন্ধান লওয়া
আবশ্যক।”
আমরা মিলনসাগরে কবি রসময় দাসের বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টার সার্থকতা।
কবি রসময় দাসের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
কবি রসময়ী দাসীর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in
এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ২৮.৪.২০১৭
...