কবি শ্রীরূপ গোস্বামীর বৈষ্ণব পদাবলী
|
পুলকমুপৈতি ভয়ান্নম গাত্রং
কবি শ্রীরূপ গোস্বামী
বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় পরিবর্ধিত ও সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের,
সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), দ্বিতীয় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২য় পল্লব, স্বয়ং দৌত্য,
পদসংখ্যা ৬৩২। হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা-১৮১।
. ॥ সৌরাষ্ট্রী॥
পুলকমুপৈতি ভয়াম্মম গাত্রং।
হসসি তথাপি মদাদতিমাত্রং॥
বারয় তূর্ণমিমং সখি কৃষ্ণং।
অনুচিত-কর্ম্মণি নির্ম্মিত-তৃষ্ণং॥ ধ্রু॥
জানে ভবতীমেব বিপক্ষাং।
মামুপনীতা যদ্বনকক্ষাং॥
অদ্য সনাতনমতিসুখহেতুং।
ন পরিহরিষ্যে বিধি-কৃত-সেতুং॥
অনুবাদ -
১-২। হে কৃষ্ণ! আমার গাত্রে ভয়ে রোমোদ্গম হইতেছে,---তথাপি তুমি গর্ব্ব হেতু অতিশয়
হাস্য করিতেছ।
৩-৪। হে সখি! তুমি অনুচিত কার্যে জাত-তৃষ্ণ এই কৃষ্ণকে সত্বর নিবারণ কর।
৫-৬। তোমাকেই আমার শত্রু বলিয়া জানিতেছি ; যেহেতু তুমিই আমাকে এই বনভূমিতে
আনিয়াছ!
৭-৮। অদ্য আমি প্রভূত সুখের নিদান বিধাতৃকৃত সনাতন নিয়ম পরিত্যাগ করিব না।
(সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু)
তাত্পর্য্য -
৭-৮ পংক্তির সরল ভাবর্থ এই যে, স্ত্রী জাতির সতীত্ব বিধাতার কৃত সনাতন নিয়ম বটে,
ক্ষণিক সুখলাভের প্রত্যাশায় অশেষ সুখের নিদান সতীত্ব-ধর্ম্ম পরিত্যাগ করা নিতান্ত
মূঢ়তার কার্য্য। পূর্ব্ব-পদের (পদ ৬৩২) ন্যায় এই পদের “পুলকমূপৈতি” ইত্যাদি বাক্যেরও
গূঢ় ব্যাঙ্গার্থ আছে ; ঐ ব্যাঙ্গ্যার্থের ইঙ্গিতে শ্রীরাধা শ্রীকৃষ্ণকে যথেচ্ছ কার্য্যে প্রোত্সাহিত
করিতেছেন। (সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু)
. *************************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর
অনুবাদ -
হে বংশি! তোমার ও ধনুর উভয়েরই উত্কৃষ্ট বংশে জন্ম। তোমাদিগের উভয়ের মধ্যে
ধনুকেই বন্দনা করি ; যেহেতু উহার দ্বারা বিদ্ধ ব্যক্তি দেহ পরিত্যাগ করায় অধিক কাল
ক্লেশ ভোগ করে না। কন্দর্পের শর হইতেো দারুণ তোমার স্বর-রূপ বাণসমূহ
দ্বারা হৃদয়ে বিদ্ধ ব্যক্তিগণের না জীবন, না মৃত্যু---এক বিষম দশা ঘটিয়া থাকে।(সতীশচন্দ্র
রায়, পদকল্পতরু)
তাত্পর্য্য -
কবি উত্কৃষ্ট বংশে জন্ম এই শ্লিষ্ট বাক্যের ধ্বনি দ্বারা বুঝাইতেছেন যে, সদ্বংশ-জাত
ব্যক্তির পক্ষে পরের অপকার করা কখনই সঙ্গত নহে ; সুতরাং সদ্বংশজাত বংশীর পক্ষে
মৃত্যু অপেক্ষাও সুদারুণ সুদীর্ঘ যাতনা প্রদান করা যার-পর-নাই গর্হিত বটে।(সতীশচন্দ্র
রায়, পদকল্পতরু)
. *************************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর
সূতিস্তে ধনুষশ্চ বংশবরতো বন্দে তয়োরন্তিমং
কবি শ্রীরূপ গোস্বামী
বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় পরিবর্ধিত ও সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের,
সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), দ্বিতীয় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব, আক্ষেপানুরাগ,
পদসংখ্যা ৮২৩।
ত্বং কুচ-বল্গিত-মৌক্তিক-মালা
কবি শ্রীরূপ গোস্বামী
বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় পরিবর্ধিত ও সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের,
সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), দ্বিতীয় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১৩শ পল্লব,
অভিসারোত্কণ্ঠা, পদসংখ্যা ১০১৩।
. ॥ ধানশী॥
ত্বং কুচ-বল্গিত-মৌক্তিক-মালা।
স্মিত-সান্দ্রীকৃত-শশি-কর-জালা॥
হরিমভিলর সুন্দরি সিত-বেশা।
রাকা-রজনি রজনি গুরুরেষা॥ ধ্রু॥
পরিহিত-মাহিষ-দধি-রুচি-সিচয়া।
বপুরর্পিত-ঘন-চন্দন-নিচয়া॥
কর্ণ-করন্বিত-কৈরব-হাসা।
কলিত-সনাতন-সঙ্গ-বিলাসা॥
অনুবাদ -
(গতি বেগে) তোমার কুচযুগে মুক্তাহার বল্গিত হইতেছে ; তোমার ঈষৎ-হাস্যে চন্দ্রকিরণ
আরও ঘনীভূত হইতেছে ; হে শুভ্র-বেশ-ধারিণী সুন্দরি! তুমি (এখন) শ্রীকৃষ্ণের নিকটে
অভিসার কর ; এই পূর্ণিমা রজনী (তোমার অভিসার-কার্যের) উপদেষ্টা হইয়াছে! তোমার
পরিধেয় বসন মাহিষ দধির ন্যায় শুভ্র-কান্তি ; দেহে ঘন-চন্দনানুলেপন অর্পিত হউয়াছে ;
তোমার কর্ণ-ধৃত কুমুদের শ্বেত-শোভা প্রকাশিত হইয়াছে এবং তুমি সনাতন-সঙ্গ-বিলাস
বর্দ্ধিত করিয়াছ। “সনাতনসঙ্গ-বিলাস” পদটি শ্লিষ্ট (যার দুটি মানে হয়)। ইহার এক অর্থ
“সনাতন অর্থাৎ আদি পুরুষ শ্রীকৃষ্ণের সহিত সম্ভোগ-বিলাস”। অপর অর্থ--- সনাতন-নামক
গোস্বামীর সাহচর্য্য-জনিত বিলাস।
. *************************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর
সিচয়মুদঞ্চয় হৃদয়াদল্পম্
কবি শ্রীরূপ গোস্বামী
বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় পরিবর্ধিত ও সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের,
সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), দ্বিতীয় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১৪শ পল্লব, রূপোল্লাস,
পদসংখ্যা ১০৩৬।
ততো রূপোল্লাসেন অভিসারোপযুক্ত বেশং রচয়তি।
. ॥ তুড়ী॥
সিচয়মুদঞ্চয় হৃদয়াদল্পম্।
বিলিখাম্যদ্ভুত-মকরাকস্পম্॥
ইহ নহি সঙ্কুচ পঞ্তজ-নয়নে।
বেশং তব করবৈ রতি-শয়নে॥
রাধে দোলয় ন কিল কপোলম্।
চিত্রং রচয়াম্যহমবিলোলম্॥
তব বপুরদ্য সনাতন-শোভম্।
জনয়তি হৃদি মম কঞ্চন লোভম্॥
অনুবাদ -
হে শ্রীরাধে! তুমি বক্ষঃস্থল হইতে বসন কিঞ্চিৎ অপসারিত কর ; আমি (সেখানে) বিচিত্র
মকর-চিত্র অঙ্কিত করিব। হে কমল-লোচনে! ইহাতে সঙ্কুচিত হইও না ; আমি তোমার রতি-
শয্যোচিত বেশ রচনা করিতে চাহি। তোমার কপোল সঞ্চালিত করিও না, আমি উহাতে
স্থির-ভাবে চিত্র রচনা করিব। অদ্য তোমার স্থির-শোভা-যুক্ত দেহ আমার হৃদয়ে কি এক
লোভ জন্মাইতেছে।
সম্পাদক ও টীকাকার সতীশচন্দ্র রায় এই পদটিকে কৃষ্ণের উক্তি বলেছেন। বৈষ্ণবদাস এই
পদটিকে সখীর উক্তিরূপে পদকল্পতরুতে রেখেছিলেন।
. *************************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর
হন্ত ন কিমু মন্থরয়সি সন্ততমতিজল্পম্
কবি শ্রীরূপ গোস্বামী
বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় পরিবর্ধিত ও সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের,
সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), দ্বিতীয় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১৪শ পল্লব, রূপোল্লাস,
পদসংখ্যা ১০৩৯।
. ॥ সুহই॥
হন্ত ন কিমু মন্থরয়সি সন্ততমতিজল্পম্।
দন্ত-রোচিরন্তরয়তি সন্তমসমনল্পম্॥
রাধে পথি মুঞ্চ ভূরি সম্ভ্রমমভিসারে॥
চারয় চরণাম্বুরুহে ধীরং সুকুমারে॥ ধ্রু॥
সন্তনু ঘন-বর্ণমতুল-কুন্তল-নিচয়ান্তম্।
ধ্বান্তং তব জীবতু নখ-কান্তিভিরভিশান্তম্॥
সসনাতন-মানসাদ্য ষান্তী গত-শঙ্কম্।
অঙ্গীকুরু মঞ্জু-কুঞ্জ-বসতেরলমঙ্কম্॥
অনুবাদ -
হে রাধে! হায়! তুমি কেন অনর্গল আলাপ একটু বন্ধ কর না ? তোমার দশন-কান্তি প্রভূত
অন্ধকার বিদূরিত করিতেছে! তুমি পথে অভিসারের প্রবল আশঙ্কা ত্যাগ কর ও তোমার
সুকোমল পদ-পঙ্কজ ধীর-ভাবে চালনা কর। তোমার মেঘ-বর্ণ অতুলনীয় কুন্তলের প্রান্ত নখ-
রাজির উপর প্রসারিত কর,--- তোমার নখ কান্তির দ্বারা নিবারিত অন্ধকার জীবিত থাকুক
। সনাতন-গত-চিত্তা তুমি অদ্য নিঃশঙ্ক-ভাবে অভিসার করিয়া মনোহর কুঞ্জ-
গৃহের ক্রোরকে অলঙ্কৃত কর। (সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু)
. *************************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর
রাধা সখি জল-কেলিষু নিপুণা
কবি শ্রীরূপ গোস্বামী
বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় পরিবর্ধিত ও সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের,
সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), দ্বিতীয় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১৬শ পল্লব, রাধা-কুণ্ডে জল-
ক্রীড়া, পদসংখ্যা ১১০৯।
. ॥ আশবরী॥
রাধা সখি জল-কেলিষু নিপুণা।
খেলতি নিজকুণ্ডে মধুরিপুণা॥ ধ্রু॥
কুচ-পট-লুণ্ঠন-নির্ম্মিত-কলিনা।
আয়ুধ-পদবী-যোজিত-নলিনা॥
দৃঢ়-পরিরম্ভণ-চুম্বন-হঠিনা।
হিম-জল-সেচন-কর্ম্মণি কঠিনা॥
সুখ-ভর-শিথিল-সনাতন-মহসা।
দয়িত-পরাজয়-লক্ষণ-সহসা॥
অনুবাদ -
হে সখি! বিবিধ জল-কেলিতে নিপূণা রাধা নিজ-কুণ্ডে শ্রীকৃষ্ণের সহিত ক্রীড়া করিতেছেন।
প্রতম তাঁহার কুচ-বসন অপহরণ করিতে উদ্যত হইলে, তিনি তাঁহার সহিত (কৃত্রিম) কলহ
করিয়া কমল-সমূহরূপ অস্ত্র বর্ষ্ণ করিয়া নিবারণ করিতে চেষ্টা করিতেছেন। প্রিয়তম গাঢ়
চুম্বন এ আলিঙ্গনের মিনিত্ত বল প্রয়োগ করিলে, তিনি (তাঁহার প্রতি) সবেগে শীতল জল
সেচন করিতেছেন। সুখাতিশয্য হেতু প্রিয়তমের ক্রীড়া-বেগ শিখিল হইলে তিনি তাংহার
পরাজয়ের লক্ষণ দর্শনে হাস্যমুখী হইতেছেন! (অপর পক্ষে অর্থ - প্রিয়তমের পরাজয়-লক্ষণ
দর্শনে তিনি অনন্দ-ভর-মন্থর সনাতন গোস্বামীর সহিত হাস্য করিতেছেন! )
. *************************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর
রাধে নিজ-কুণ্ড-পরসি তুঙ্গীকুরু রঙ্গং
কবি শ্রীরূপ গোস্বামী
বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় পরিবর্ধিত ও সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের,
সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), দ্বিতীয় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১৬শ পল্লব, রাধা-কুণ্ডে জল-
ক্রীড়া, পদসংখ্যা ১১১০।
. ॥ সারঙ্গ॥
রাধে নিজ-কুণ্ড-পরসি তুঙ্গীকুরু রঙ্গং।
কিঞ্চ সিঞ্চ পিঞ্ছ-মুকুটমঙ্গীকৃতং-ভঙ্গং॥
অস্য পশ্য ফুল্ল-কুসুম-রচিতোন্নত-চূড়া।
ভীতিভিরতি-নীল-নিবিড়-কুন্তলমনুগূঢ়া॥
ধাতু-রচিত-চিত্র-বীথিরম্ভসি পরিলীনা।
মালাপ্যতি শিথিল-বৃত্তিরজনি ভৃঙ্গ-হীনা॥
শ্রীসনাতন-মণিরত্নমংসুভিরতিচণ্ডং।
ভেজে প্রতিবিম্ব-ভাব-দম্ভাত্তব গণ্ডং॥
অনুবাদ -
হে শ্রীরাধে! তুমি নিজ-কুণ্ডের জলে র্কীড়া-কৌশল বিস্তার এবং স্বীকৃত-পরাজয় শিখি-
পুচ্ছধারী শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গে জল-সেচন কর। দেখ, ফুল্ল-কুসুম-রচিত ইঁহার উন্নত চূড়া ভয়ের
জন্যই সুনীল নিবিড় কুন্তলের মধ্যে লুক্কায়িত হইয়াছে! ইঁহার গৈরিক-রচিত চিত্ররাজি
(ভয়ের জন্যই) জলের মধ্যে বিলীন এবং মালা শিথিল-গ্রন্থি ও ভ্রমর-রহিত হইয়াছে!
প্রভাতাভাস্বর শ্রীকৃষ্ণের মণি-শ্রেষ্ঠ (কৌস্তভ,---অপর পক্ষে---সনাতন গোস্বামীর শিরোমণি
শ্রীকৃষ্ণের রত্ন) প্রতিবিম্বচ্ছলে তোমার গণ্ডের শরণ লইয়াছে! (সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু)
. *************************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর
পত্রমুদারমসূত যশোদা
কবি শ্রীরূপ গোস্বামী
বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় পরিবর্ধিত ও সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের,
সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), দ্বিতীয় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১৮শ পল্লব, জন্মলীলা,
পদসংখ্যা ১১৩০।
. ॥ ভৈরবী॥
পুত্রমুদারমসূত যশোদা।
সমজনি বল্লব-ততিরতিমোদা॥ ধ্রু॥
কোহপ্যূপনয়তি বিবিধমুপহারম্।
নৃত্যতি কোহপি জনো বহুবারম্॥
কোহপি মধুরমুপগায়তি গীতম্।
বিকিরতি কোহপি সদধি-নবনীতম্॥
কোহপি তনোতি মনোরথ-পূর্ত্তিম্।
পশ্যতি কোহপি সনাতন-মূর্ত্তিম্॥
অনুবাদ -
১-৮। যশোদা পুত্ররত্ন প্রসব করিলেন ; গোপগণ আনন্দোত্ফুল্ল হইলেন। কোহ বিবিধ
উপহার আনয়ন ও কেহ বারম্বার নৃত্য করিতেছেন। কেহ মধুর স্বরে গান করিতেছেন ও
কেহ দধির সহিত নবনীত ছড়াইতেছেন। কেহ (যাচকদিগের) বাঞ্ছিত-পূরণ করিতেছেন ;
কেহ বা সনাতন-মূর্ত্তিকে দেখিতেছেন। (সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু)
. *************************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর
বিপ্র-বৃন্দমভূদলঙ্কৃতি-গোধনৈরপি পূর্ণম্
কবি শ্রীরূপ গোস্বামী
বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় পরিবর্ধিত ও সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের,
সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), দ্বিতীয় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১৮শ পল্লব, জন্মলীলা,
পদসংখ্যা ১১৩১।
. ॥ আশাবরী॥
বিপ্র-বৃন্দমভূদলঙ্কৃতি-গোধনৈরপি পূর্ণম্।
গায়নানপি মদ্বিধান্ ব্রজনাথ তোষয় তূর্ণম্॥
সূনুরদভুত-সুন্দরোহজনি নন্দরাজ তবায়ম্।
দেহি গোষ্ঠ-জনায় বাঞ্ছিতমুত্সবোচিত-দায়ম্॥ ধ্রু॥
তাবকাত্মজ-বীক্ষণ-ক্ষণ-নন্দি মদ্বিধ-চিত্তম্।
যন্ন কৈরপি লব্ধমর্থিভিরেতদিচ্ছতি বিত্তম্॥
শ্রীসনাতন-চিত্ত-মানস-কেলি-নীল-মরালে।
মাদৃশাং রতিরত্র তিষ্ঠতু সর্ব্বদা তব বালে॥
অনুবাদ -
১-৮। হে ব্রজেশ্বর! বিপ্র-বৃন্দ অলঙ্কার ও গোধনের দ্বারা পরিতৃপ্ত হইয়াছেন ; (এখন) মাদৃশ
গায়কদিগকেও সত্ত্বর সন্তুষ্ট তরুন। হে নন্দরাজ! আপনার এই পুত্র অতি অপূর্ব্ব
সৌন্দর্য্যশালী জন্মিয়াছেন ; আপনি গোপগণকে উত্সবোচিত অভীষ্ট ধন দান করুন।
আপনার পুত্র দর্শনানন্দোত্ফুল্ল মাদৃশ জনের চিত্ত, যাহা অন্যে পায় নাই, এই রূপ কামনা
করিতেছে। কৃষ্ণগত-চিত্ত ব্যক্তিগণের চিত্তরূপ মানস-সরোবরের সুনীল মরাল (অপর পক্ষে
--- সনাতন নামক গোস্বামীর চিত্তরূপ মানসের সুনীল মরাল) আপনার এই বালকের প্রতি
মাদৃশ জনের অনুরাগ সর্ব্বদা অবিচলভাবে অবস্থান করুক। (সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু)
. *************************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর
মণ্ডিত-হল্লীষক-মণ্ডলাং
কবি শ্রীরূপ গোস্বামী
বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় পরিবর্ধিত ও সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের,
সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), দ্বিতীয় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৪শ পল্লব, শরত্কালীয়
মাহারাস, পদসংখ্যা ১২৬৯।
. ॥ কেদার॥
মণ্ডিত-হল্লীষক-মণ্ডলাং।
নটয়ম্ রাধাঞ্চল-কুণ্ডলাং॥
নিখিল-কলা-সম্পদী-পরিচয়ী।
প্রিয়সখি পশ্য নটতি মুরজয়ী॥ ধ্রু॥
মুহুরোন্দোলিত-রত্ন-বলয়ং।
সনয়ন-বলয়ৎ কর-কিশলয়ং॥
গতি-ভঙ্গিভিরবশীকৃত-শশী।
স্থহিত-সনাতন-শঙ্কর-বশী॥
অনুবাদ -
১-৮। হে প্রিয় সখি! দেখ! রাস মণ্ডল-শোভিনী চঞ্চল-কুণ্ডলা স্রীরাধাকে নর্ত্তিত করিয়া
নিখিল-কলা-পারদর্শী মুরারি মৃত্য করিতেছেন। নৃত্যবশে তাঁহার রত্ন-বলয় বারম্বার
আন্দোলিত ও নয়নের সহিত কর-পল্লব বিঘুর্ণিত হইতেছে। জিতেন্দ্রিয় তাঁহার নৃত্যকালীন
অঙ্গভঙ্গী দর্শনে শশাঙ্ক কামাকুল এবং সনাতন ো শঙ্কর স্তব্দীভূত হইতেছেন! (সতীশচন্দ্র
রায়, পদকল্পতরু)
. *************************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর