অনুবাদ - ১-১৫। হে সুন্দরি! দেখ, বনমালী আগমন করিতেছেন। তিনি তরুণীগণের লোচন-তাপ- নাশন হাস্য-সুধাঙ্কুর-ধারী, মন্দ-পবন-চঞ্চল শিখি-পুচ্ছে উজ্জ্বল-চূড়া-বিশিষ্ট ও সুন্দর ক্রীড়াশীল। দিবা অবসান হইলে তিনি নব নব বিলাস-বিভ্রম প্রকাশ করিয়া থাকেন। তাঁহার ফুল্ল-পঙ্কজ-মাল্য ধেনু-খুরোদ্ধৃত ধূলি দ্বারা সমাবৃত হইয়াছে ; তিনি অচির-বিকসিত নীলোত্পল পুঞ্জের ন্যায় কান্তি দ্বারা শোভা পাইতেছেন। তিনি মধুর মুরলী-রব দ্বারা তোমার প্রীতি উত্পাদিত করিয়া, তোমার পানে পুনঃ পুনঃ বঙ্কিম দৃষ্টিপাত করিতেছেন ; তিনি সুন্দর সনাতন-তনু (পক্ষান্তরে --- গোস্বামী সনাতনের আনন্দদায়ী) ও চিত্তানুরঞ্জনকারী সুহৃদগণের দ্বারা বেষ্টিত হইয়া রহিয়াছেন। (সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু)।
কবি বিমানবিহারী মজুমদার, তাঁর সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী” (পদসংখ্যা ৬৭) সংকলন গ্রন্থে, কবি শ্রীরূপ গোস্বামীর এই সংস্কৃত পদটির, পদাবলীর রুপেই অনুবাদ করেছিলেন এইভাবে . . .
এই পদটিই দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ১৯০৫ সংকলিত হয়েছে প্রথম চারটি পংক্তি বাদ দিয়ে যে ভাবে, তা আমরা নীচে তুলে দিলাম। ঐ সংকল গ্রন্থে পদকর্তার নাম শ্রীরূপ গোস্বামীর বদলে রয়েছে সনাতন দাস।
শ্রীরূপ গোস্বামীর ললিতমাধব নাটকের তৃতীয় অঙ্ক হইতে উদ্ধৃত এই শ্লোকটি। রাধামোহন ঠাকুর (পদামৃত সমুদ্র) বলেন যে, “ক্ক নন্দ-কুল-চন্দ্রমাঃ” ইত্যাদি শ্লোকে ক্রিয়া-পদের অভাব ও ব্যর্থ চেষ্টা দ্বারা ইহা দিব্যোন্মাদ-দশার প্রলাপ বলিয়াই বুঝিতে হইবে ; কিন্তু পূর্ব্বাপর ব্যবহার আছে বলিয়া অর্দ্ধ-বাহ্য প্রলাপ-দশারও এই শ্লোক ও ইহার অব্যবহিত পরবর্ত্তী শ্লোকগুলি গান করা যাইতে পারে। (সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু)
অনুবাদ - ১-৮। হে সখি! আমি অদ্য স্বপ্নে পুনর্ব্বার কুন্দ-পুষ্পের কর্ণভূষণশালী শ্রীকৃষ্ণকে দেখিয়াছি। তিনি (যেন) রাজধানী মথুরা হইতে গোকুলে সমাগত হইয়াছেন এবং হর্ষাতিরেক দ্বারা পিতা ও মাতাকে আধীর করিয়া তুলিয়াছেন! তিনি গোপগণকে পরম মহোত্সব দ্বারা নর্ত্তিত করিয়া নয়নেঙ্গিত দ্বারা আমার পরিতোষ বিধান করিতেছেন! নব-গুঞ্জাবলি দ্বারা তাঁহার সৌন্দর্য্যের উত্কর্ষ সাধিত হইয়াছে ; সুহৃদগণের প্রতি তাঁহার অনুরাগ প্রবল ও চিরস্থায়ী! (সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু)