| কবি রায় বসন্তর বৈষ্ণব পদাবলী |
| আওয়ে মধু-ঋতু মধুর যামিনী কবি রায় বসন্ত / কবি গোবিন্দ দাস যদিও গোবিন্দ দাস ও রায় বসন্ত দুজের ভণিতা রয়েছে, এই গ্রন্থে এ পদ গোবিন্দ দাসের বলা হয়েছে। আনুমানিক ১৭২৫ সালে রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, তৎ কালোচিতদ্যূত্যুক্তি, পৃষ্ঠা ৩১৯। তৎ কালোচিত দ্যূত্যুক্তিঃ। ॥ পূরবি রাগ চঞ্চুপুটতালৌ॥ আওয়ে মধু খতু মধুর যামিনি কামিনী চিত চোর। কুসুম শায়ক জীবন গাহক তুহুঁ সে মধুপুর ভোর॥ শুনহ নিরদয় হৃদয় মাধব সে যে সুন্দরী রাই। বিরহ জরে জরি কনক মঞ্জরী রহল রূপক ছায়॥ অঙ্গ ছটফটি কৈছে মেটব তপত সহচরী অঙ্গ। নয়ন পঙ্কজ জোরে ঝর ঝর লোরে মহি করু পঙ্ক॥ তো বিনু কিসলয় শয়ন বীজন বিফল ধনি মণিমন্ত। দাস গোবিন্দ এ রস গাহক ভাওয়ে রায় বসন্ত॥ পদামৃত সমুদ্র গ্রন্থে রাধামোহন ঠাকুরের সংস্কৃতে টীকা - ততঃ আওয়ে মধু ঋতু ইত্যাদিনা ব্যাধি দশামাহ অত্র ক্রমেণ দশা বর্ণনং বৈবশ্যান্নকৃতমিতি ভাবঃ। কিঞ্চ ক্রমেণ দশাস্তু পশ্চাদুদাহরিষ্যন্তে দান গোবিন্দ এ রস গাহকঃ এব ভবানেব রস রসায়নৌষধি বিশেষ স্তস্য গ্রাহকঃ। রায় বসন্তায়চ সোপি রোচতে যদ্বা বসন্তে রায় তব গমনং রোচতে। অয় রয় গতাবিত্যস্য ভাব ঘণন্তস্য রূপং॥ পদকল্পতরু গ্রন্থে সতীশচন্দ্র রায়েরএই টীকার বাংলা ভাষায় ব্যাখ্যা, পদকল্পতরুর সটীক সংস্করণ থেকে নীচে দেওয়া পদের সঙ্গে পড়ুন। এই পদটি, পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় পরিবর্ধিত ও সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ (১৮৯৭), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, পদসংখ্যা ১৭১৮, ১২৩৮-পৃষ্ঠায় এভাবে রয়েছে। অথ ব্যাধিদশামাহ যথা। ॥ ধানশী॥ আওয়ে মধু-খতু মধুর যামিনী কামিনী-চিত চোর। কুসুম-শায়ক জীবন গাহক তুহুঁ সে মধুপুরে ভোর॥ শুন হে নিরদয়- হৃদয় মাধব সে যে সুন্দরী রাই। বিরহ-জ্বরে জ্বরি কনয়া-মঞ্জরী রহল রূপক ছাই॥ অঙ্গ ছটফটি কৈছে মেটব তপত সহচরী-অঙ্গ। নয়ন-পঙ্কজ জোরে ঝর ঝর লোরে মহী করু পঙ্ক॥ তো বিনু কিশলয়- শয়ন বীজন বিফল ভেল মণি মন্ত। দাস গোবিন্দ এ রস-গাহক ভাওয়ে রায় বসন্ত॥ পরবর্তী সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ৮ম পল্লব, বসন্ত সময়োচিত বিরহ, পদসংখ্যা ১৭২০, এভাবে দেওয়া রয়েছে। ব্যাধি-দশা। ॥ ধানশী॥ আওয়ে মধু-খতু মধুর যামিনি কামিনী-চিত চোর। কুসুম-শায়ক জীবন-গাহক তুহুঁ সে মধুপুরে ভোর॥ শুন হে নিরদয়- হৃদয় মাধব সে যে সুন্দরি রাই। বিরহ-জরে জরি কনয়া-মঞ্জরি- রহল রূপক ছাই॥ অঙ্গ ছটফটি কৈছে মীটব তপত সহচরী-অঙ্গ। নয়ন-পঙ্কজ- জোরে ঝর ঝর লোরে মহী করু পঙ্ক॥ তো বিনু কিশলয়- শয়ন বীজন বিফল ভেল মণি মন্ত। দাস গোবিন্দ এ রস-গাহক ভাওয়ে রায় বসন্ত॥ পদামৃত সমুদ্র গ্রন্থে রাধামোহন ঠাকুরের সংস্কৃত টীকার বাংলা ব্যাখ্যা - ১৩-১৬। রাধামোহন ঠাকুর “এ রস গাহক” ইত্যাদির অর্থ লিখিয়াছেন, --- “এষ(আমরা পাচ্ছি - এব) ভবানেব” রসঃ রসায়নৌষধিবিশেষস্তস্য গ্রাহকঃ। রায়বসন্তায় চ সোহপি রোচতে। “অয় বয় গতাবিত্যস্য ভাবঘণস্তস্য রূপম্।” সুতরাং “তো বিনু” ইত্যাদির অর্থ --- তোমা ব্যতীত (শ্রীরাধার) নব-পল্লব-শষ্যা ও (চন্দনানিল) ব্যজন, মণি-(ধারণ) ও মন্ত্র-(প্রয়োগ) --- সকলই ব্যর্থ হইল, অর্থাৎ কিছুতেই শ্রীরাধার বিরহ- পীড়ার উপশম হইল না ; (সখী-স্থানীয়) গোবিন্দদাস (শ্রীরাধার বিরহ-তাপ শান্তির জন্য) কেবল রসায়নৌষধি- স্বরূপ এই বস্তুটির (অর্থাৎ তোমার) ভিখারী ; (গোবিন্দদাসের বন্ধু সম-সাময়িক পদ-কর্ত্তা) রায় বসন্তেরও তাহাই অভিরুচি বটে। (গত্যর্থক ‘রয়’ ধাতুর উত্তর ভাব-বাচ্যে ‘ঘণ্’ প্রত্যয় দ্বারা ‘গমন’ অর্থে ‘রায়’ শব্দ সিদ্ধ হইতে পারে ; সুতরাং রাধামোহনের মতে ‘ভাওয়ে’ ইত্যাদি ছত্রটির --- ‘তোমার বসন্তে (ব্রজে) গমন শোভন বটে’ এই রূপ অর্থও হইতে পারে)। ---সতীশচন্দ্র রায়, শ্রীশ্রীপদকল্পতরু॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |