কবি রায় বসন্তর বৈষ্ণব পদাবলী
*
এ সখী এ সখী কর অবধান
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), প্রথম প্রকাশ ১৮৯৭, প্রথম
খণ্ড, ২য় শাখা, ২০শ পল্লব, বিবিধ মান, পদসংখ্যা ৫৫২।


.        ॥ ধানশী॥

এ সখী এ সখী কর অবধান।
পুন কি অনঙ্গ ভেল নিপমাণ।
অলকা-আবৃত মুখ মুরলী-সুতান॥
রমণী-মোহন চূড়া অনহি বন্ধান।
সুন্দর নাসিকা-পুচ ভাঙ-কামান।
অপাঙ্গ ইঙ্গিতে কত বরিখয়ে বাণ॥
অধর সুরঙ্গ ফুল বান্ধুলী সমান।
হাসিতে হরয়ে মন পরশে পরাণ॥
তিলেকে হরয়ে কুল-কামিনী-মান।
রায় বসন্ত ইছে নিছিতে পরাণ॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
প্রাতহিঁ জাগল রাধা মাধব
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম প্রকাশ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮২৪, পৃষ্ঠা ২০৮২।

.                        ॥ ললিত॥

প্রাতহিঁ জাগল                                     রাধা মাধব
.                মন্দির-গমন-বিধানে।
করহ বিদায় অব-                          শেষ রজনী ভেল
.               অব পরণাম তুয়া চরণে॥
দুলহ বচন-                               শ্রবণে কানু কাতর
.                জল পূরল দুই নয়ানে।
হিয় দগদগি                             কিছু কহই না পারই
.                হেরি রহু রাইক বয়ানে॥
না তেজই কাছ                               পাছু অনুসারই
.                আগরহি গহি বাহু বসনে।
পুন ধরি যতনে                                রাই সমুঝায়ই
.                কুল শীল গেল অভিমানে॥
লাজ ডুবল হঠ                                না করহ ঐছন
.                  যৈছনে লোকে না জান।
রায় বসন্ত কহ                            হঠ ছাড়ি গমন কর
.                 না দেখ ভৈ গেল বিহান॥


রবর্তী সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক
সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩২শ পল্লব, অষ্টকালীয়
নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯০৫, এইভাবে দেওয়া রয়েছে।


.        ॥ ললিত॥

প্রাতহিঁ জাগল রাধা মাধব
.        মন্দির গমন বিধানে।
করহ বিদায় অব শেষ রজনী ভেল
.        অব পরণাম তুয়া চরণে॥
দুঃসহ বচন শ্রবণে কানু কাতর
.        জল পূরল দুই নয়নে।
হিয় দগদগি কছু কহই না পারই
.        হেরি রহু রাইক বয়নে॥
না তেজই কাছ পাছু অনুসারই
.        আগরহি গহি বাহু বসনে।
পুন ধরি যতনে         রাই সমুঝায়ই
.        কুল শিল গেল অভিমানে॥
লাজ ডুবল হঠ না করহ ঐছন
.        যৈছনে লোকে না জানে।
রায় বসন্ত কহ হঠ ছোড়ি গমন কর
.        না দেখহ ভৈ গেল বিহানে॥


ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ,
প্রথম খণ্ড”, ৭০-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত
হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই।

.                        ॥ ললিত॥

প্রাতহিঁ জাগল,                                     রাধা মাধব,
.                মন্দির গমন বিধানে।
করহ বিদায়,                            অবশেষ রজনী ভেল,
.               অব পরণাম তুয়া চরণে॥
দুলহ বচন শ্রবণে,                                কানু কাতর,
.                জল পূরল দুহুঁ নয়নে।
হিয় গদগদি,                              কছু কহই না পারই,
.                হেরি রহুঁ রাইক বয়নে॥
না তেজই কাছ,                                পাছু অনুসরই,
.                আগোরহি গহি বাহু বসনে।
পুন ধরি যতনে,                                  রাই সমুঝাই,
.                কুলশীল গেল অভিমানে॥
লাজ ডুবল হঠ,                                 না করহ ঐছন,
.                  যৈছনে লোকে নাজান।
রায় বসন্ত কহ,                            হঠ ছাড়ি গমন কর,
.                 না দেখহ ভৈ গেল বিহান?

.                         *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
তরু-মূলে রহি কালা কানু
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), প্রথম প্রকাশ ১৮৯৭, ৪র্থ
খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯১৫।


.                                ॥ কানেড়া॥

তরু-মূলে রহি কালা কানু।           বাওত সুমধুর বেণু॥
শবদে যে গলয়ে পাষাণ।             যমুনা গলয়ে উজান॥
গোপীগণে শুনিয়া শ্রবণে।             বিগলিত দুকূল পরাণে॥
সব সখী আকুল হইয়া।               রাইক নিকটে যাইয়া॥
কাতরে কহে সব বাত।              জ্বর জ্বর ভৈ গেল গাত॥
ছোড়য়ে দীর্ঘ নিশ্বাস।                 সুবদনী কহে মৃদু ভাষ॥
শুনিয়া মুরলী আলাপন।              রায় বসন্ত আন-মন॥

.                   *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
সখীক বচনে ধনী হিয়া আনন্দিত
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু
গ্রন্থ, প্রথম প্রকাশ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৩৯, পৃষ্ঠা ২০৯৩।

॥ কল্যাণী॥

সখির বচনে ধনী                             হিয়া আনন্দিত
পিয়া-মিলন-অভিলাষে।
নয়ন বয়ন পুন                                সরস বিলোকন
সহচরি পরম উল্লাসে॥
কেহ কঙ্কতি করে                             কেশ-বেশ করু
কবরী মালতী-মালে।
করি করে দরপণ                              বদন বিলোকই
বিমল করত সীথি-ভালে॥
সুন্দর সিন্দুর                                    তাহে বনায়ই
অঞ্জন অঞ্জই নয়ানে।
মৃগমদ-চন্দন-                               তিলক নব-কুঙ্কুম-
পত্রাবলি নিরমাণে॥
কেহো তহিঁ সোঁপল                             রতন-সীথ-ফল
সো ছবি-উপমা কি আনে।
জনু নিশিনাথ                           নিয়ড়ে কিয়ে দিনমণি
উয়ল হেন অনুমানে॥
নাসায়ে বেশর                                মোতি মধুর-ছবি
মণি-কুণ্ডল বনি শ্রবণে।
মুদরি কঙ্কণ                                   বিবিধ বিভূযণ
নীল বসন পরিধানে॥
উর পর মোতিম-                               হার মনোহর
কিঙ্কিণী সুমধুর-কলনে।
মণিময় মঞ্জীর                                    ঘুঙ্গুর বাজত
ক্কণয়তি রাতুল চরণে॥
করিবর-ভাতি                               গমন অতি মন্থর
কত লাবণী অভিসারে।
পদ-পল্লব-ভূষণ                           অবনী ভেল ভূষিত
রায় বসন্ত বলি হারে॥


রবর্তী সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ
১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), প্রথম প্রকাশ ১৮৯৭, ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-
লীলা, পদসংখ্যা ২৯২০, এইভাবে দেওয়া রয়েছে।

॥ কল্যাণী॥

সখিক বচনে ধনি হিয়া আনন্দিত
পিয়া-মীলন অভিলাষে।
নয়ন বয়ন পুন সরস বিলোকন
সহচরি পরম উল্লাসে॥
কেহ কঙ্কতি করে কেশ-বেশ করু
কবরী মালতী-মালে।
করি করে দরপণ বদন বিলোকই
বিমল করত সিথি ভালে॥
সুন্দর সিন্দুর তাহে বনায়ই
অঞ্জন অঞ্জই নয়ানে।
মৃগমদ চন্দন-তিলক নব-কুঙ্কুম-
পত্রাবলি নিরমাণে॥
কেহো তহিঁ সোঁপল রতন-সীথ-ফল
সো ছবি-উপমা কি আনে।
জনু নিশি-নাথ নিয়ড়ে কিয়ে দিনমণি
ঊয়ল হেন অনুমানে॥
নাসায়ে বেশর মোতি মধুর-ছবি
মণি-কুণ্ডল বনি শ্রবণে।
মুদরি কঙ্কণ বিবিধ বিভূযণ
নীল বসন পরিধানে॥
উর পর মোতিম-হার মনোহর
কিঙ্কিণি সুমধুর-কলনে।
মণিময় মঞ্জির ঘুঙ্গুর বাজত
ক্কণয়তি রাতুল চরণে॥
করিবর-ভাতি গমন অতি মন্থর
কত লাবণি অভিসারে।
পদ-পল্লব-ভূষণ অবনি ভেল ভূষিত
রায় বসন্ত বলি হারে॥


ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড”,
৭১-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পদটি সেখানে
এভাবে পাই।

॥ কল্যাণী॥

সখীক বচনে ধনী,                              হিয়া আনন্দিত
পিয়া মিলন অভিলাষে।
নয়ন বয়ন পুন,                                পরশ বিলোকন,
সহচরী পরম উল্লাসে॥
কেহ কঙ্কতি করে,                             কেশ বেশ করু,
কবরী মালতী মালে।
করি করে দরপণ                              বদন বিলোকই,
বিমল করত সীঁথি ভালে॥
সুন্দর সিন্দুর,                                    তাহে বনায়ই,
অঞ্জন রঞ্জই নয়নে।
মৃগমদ চন্দন,                                তিলক নব কুঙ্কুম,
পত্রাবলি নিরমাণে॥
কেহো তঁহি সোঁপল,                             রতন সীঁথিফল,
সো ছবি উপমা কি আনে।
জনু নিশিনাথ                     নিয়ড়ে কিয়ে দিনমণি উয়ল,
হেন অনুমানে॥
নাসায়ে বেশর,                             মোতিম মধুর ছবি,
মণি কুণ্ডল বনি শ্রবণে।
মুদরিক কঙ্কণ,                                 বিবিধ বিভূযণ,
নীল বসন পরিধানে॥
উপরপর মোতিম,                               হার মনোহর,
কিঙ্কিণী সুমধুর কলনে।
মণিময় মঞ্জরী,                                    ঘুঙ্গুর বাজত,
ক্কণয়তি রাতুল চরণে॥
করিবর ভাঁতি,                                গমন অতি মন্থর,
কত লাবণি অভিসারে।
পদপল্লব ভূষণ,                            অবনী ভেল ভূষিত,
রায় বসন্ত বলিহারে॥

.         *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
রসময়ী রাসে করই অভিসার
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম প্রকাশ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৪০, পৃষ্ঠা ২০৯৪।

.                        ॥ কল্যাণী॥

.                রসময়ী রাসে করই অভিসার।
সহচরী-রঙ্গিণী-                                সঙ্গিনী-আবৃত
.                রূপ যৌবন উপহার॥
কোই রঙ্গিণী কর                             কর-পঙ্কজ ধর
.                স্মিত-অবলোকন নয়নে।
যৈছে কমল পরি                            মধু-মাতল অলি
.                শোহনি মৃগমদ চিবুক-সদনে॥
গন্ধ-চতুঃসম                                  তনু অনুলেপন
.                শ্যাম মিলব সুখ হিয় রে।
সহচরী কেলি-                                কলা-রস-সঙ্গীত-
.                রঙ্গ-রঙ্গী রঙ্গ বিহরে॥
কেহ রঙ্গিণী কর-                              চালনি শোহনি
.                অতি চিত্রিত গতি চরণে।
রস-ভরে রস-পর-                            সঙ্গ কহই কেহু
.                রসবতী আরতি করণে॥
রসিক রমণীবর                              পরাগ-পুঞ্জ ঝর
.                কোমল বঙ্কিম বরণে।
তঁহি পর সুভগ                          অতুল অতি রাতুল
.                চরণাম্বুজ মৃদু গমনে॥
রূপ মোহিনী বনি                            রমণী-শিরোমণি
.                আপহি মোহন-বীজ।
রায় বসন্ত কহ                                ঐছনে রসময়ী
.                মিলত রসময়-রীঝ॥


রবর্তী সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক
সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), প্রথম প্রকাশ ১৮৯৭, ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ
পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯২১, এভাবে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ কল্যাণী॥

.        রসমই রাসে করই অভিসার।
সহচরি-রঙ্গিণি-সঙ্গহি আবৃত
.        রূপ যৌবন উপহার॥
কোই রঙ্গিণি কর কর-পঙ্কজ ধর
.        স্মিত-অবলোকন নয়নে।
যৈছে কমল পরি মধু-মাতল অলি
.        শোহিনি মৃগমদ চিবুকক সদনে॥
গন্ধ-চতুঃসম তনু-অনুলেপন
.        শ্যাম মিলব সুখ হিয় রে।
সহচরী কেলি-কলা-রস রঙ্গীত
.        রঙ্গ-রঙ্গিলে রঙ্গ বিহরে॥
কেহ রঙ্গিণী কর-চালনি শোহনি
.        অতি চিত্রিত গতি চরণে।
রস-ভরে রস-পরসঙ্গ কহই কেহু
.        রসবতী-আরতি করণে॥
রসিক রমণীবর পরাগ-পুঞ্জ ঝর
.        কোমল বঙ্কিম বরণে।
তঁহি পর সুভগ অতুল অতি রাতুল
.        চরণাম্বুজ মৃদু গমনে॥
রূপ মোহিনী বনি রমণী শিরোমণি
.        আপহি মোহন-বীজ।
রায় বসন্ত কহ ঐছনে রসময়ী
.        মীলত রসময়-রীঝ॥

.         *************************        
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
সখি হে শুন শুন বাঁশী কি বা বোলে
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু
গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), প্রথম প্রকাশ ১৮৯৭, ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ
পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯১৬।


॥ কানেড়া॥

সখি হে শুন শুন বাঁশী কি বা বোলে।
আনন্দ-আধার                         কিয়ে সে নাগর
আইলা কদম্ব-তলে॥
বাঁশরী-নিসান                           শুনিতে পরাণ
নিকাশ হইতে চায়।
শিথিল সকল                            ভেল কলেবর
মন মুরছই তায়॥
নাম বেঢ়াজাল                         খেয়াতি জগতে
সহজে বিষম বাঁশী।
কানু-উপদেশে                            কেবল কঠিন
কামিনী-মোহন ফাঁসি॥
কি দোষ কি গুণ                        একই না গণে
না বুঝি সময় কাজ।
রায় বসন্তের                           পহু বিনোদিয়া
তাহে কি লোকের লাজ॥

.         *************************        
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
এ সখি মোহন রসময় অঙ্গ
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), প্রথম প্রকাশ ১৮৯৭, ৪র্থ
খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ২৮শ পল্লব, শ্রীকৃষ্ণের রূপ, পদসংখ্যা ২৪৪৯।


.        ॥ ভাটিয়ারি॥

এ সখি মোহন রসময় অঙ্গ।
পীত-বসন তনু তরুণ ত্রিভঙ্গ॥
মণিময়-আভরণ-রাজিত অঙ্গ।
কনক-হার হিয়ে বিজুরী-তরঙ্গ॥
মকর -কুণ্ডল শোভে ঝলমল মুখ।
দেখিয়া রমণী-মন পরশের সুখ॥
অমল অমিয়া মুখ অধর সুরঙ্গ।
হাসির হিল্লোলে হিয়া উপজয়ে রঙ্গ॥
মুরলী-গভীর-ধ্বনি মদন-তরঙ্গ।
রমণী-রমণ চূড়া অলিকূল সঙ্গ॥
চরণ-কমল মণি-নূপুর বিরাজে।
রায়বসন্ত-মন নখ-মণি মাঝে॥


এই পদটিই সুকুমার সেন সম্পাদিত "বাংলা কবিতা সমুচ্চয়" গ্রন্থে এই ভাবে রয়েছে।

.        
কৃষ্ণের রূপ

এ সখি মোহন রসময় অঙ্গ।
পীত-বসন তনু তরুণ ত্রিভঙ্গ॥
মণিময়-আভরণ-রাজিত অঙ্গ।
কনক-হার কিয়ে বিজুরী-তরঙ্গ॥
মকর -কুণ্ডল শোভে ঝলমল মুখ।
দেখিয়া রমণী-মন পরশের সুখ॥
অমল অমিয়া ফল অধর সুরঙ্গ।
হাসির হিল্লোলে হিয়া উপজয়ে রঙ্গ॥
মুরলী-মধুর-ধ্বনি মদন-তরঙ্গ।
রমণী-রমণ চূড়া অলিকূল সঙ্গ॥
চরণ-কমল মণি-নূপুর রাজে।
রায় বসন্ত-মন নখ-মণি মাঝে॥

.         *************************        


.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
কি হেরিনু নাগর নবীন কিশোর
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু
গ্রন্থ, প্রথম প্রকাশ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৩৫৪, পৃষ্ঠা ১৭১২।

॥ বেলোয়ার॥

কি হেরিনু নাগর নবীন কিশোর।
শরদ-শশধর                           বয়ান মনোহর
রঙ্গিণী-নয়নহি লুব্ধ চকোর॥
নীলেন্দীবর-                              সুন্দর লোচন
অঞ্জন অরুণ তরুণি-চিত-চোর।
মাণিক অধর                           মনোহর বংশী
রসের তরঙ্গিম মোতি মোর॥
অমিয়া-বচন                           শ্রবণ-অনুরঞ্জন
গঞ্জন নীরদ ভাষ।
এক অনুপম                            জগ-মনোমোহন
হাসি যেন বিজুরী প্রকাশ॥
নাসা তিল-ফুল                            রঙ্গিম মুকুতা
ঝরকত কুণ্ডল গণ্ডছি লোল।
চাঁচর কেশ-                             পাশ নব মালতী
তঁহি পর শিখি-চাঁদ উজোর॥
কুঙ্কুম-বিরোচিত                        তিলক-বিরাজিত
রাজিত জনু দ্বিজ-রাজকি রাজ।
ও তনু-আভরণ                        তড়িদিব নব ঘন
উর পর বনি বন-বালা বিরাজ॥
নীল লাবণী                             অবনী ভরল রূপ
নখ-মণি-দরপণি তিমির বিনাশে।
রায়বসন্ত-মন                             সেবই অনুক্ষণ
ঐছন চরণ-কমল মধু-আশে॥


রবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ
১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৪৪৬,
এইভাবে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেলোয়ার॥

কি হেরিলুঁ নাগর নবিন কিশোর।
.                        শরদ-শশধর বয়ান মনোহর
রঙ্গিণি-নয়নহি লুবধ চকোর॥     
নীলেন্দীবর-সুন্দর লোচন         
.                        অঞ্জন অরুণ তরুণি-চিত-চোর।
মাণিক অধর মনোহর বংশী     
.                        রসের তরঙ্গিম মোহিত মোর॥
অমিয়া-বচন শ্রবণ-অনুরঞ্জন      
.                গঞ্জন নীরদ ভাষ।
এক আর অনুপম জগ-মনমোহন
.                        হাসি যেন বিজুরি প্রকাশ॥
নাসা তিল-ফুল রঙ্গিম মুকুতা    
.                        ঝলকত কুণ্ডল গণ্ডহি লোল।
চাঁচর কেশ-পাশ নব মালতি     
.                        তঁহি পর শিখিবর চাঁদ উজোর॥
কুঙ্কুম-বিরচিত তিলক-বিরাজিত
.                        রাজিত জনু দ্বিজ-রাজকি রাজ।
ও তনু-অভরণ তড়িদিব নব ঘন
.                        উর পর বনি বন-মাল বিরাজ॥
লীলা লাবণি অবনি ভরল রূপ   
.                        নখ-মণি-দরপণি তিমির বিনাশে।
রায়বসন্ত-মন সেবই অনুখণ     
.                        ঐছন চরণ-কমল মধু-আশে॥


ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড”,
৬৮-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পদটি সেখানে
এভাবে পাই।

॥ বেলোয়ার॥

কি হেরিনু নাগর নবীন কিশোর,
শরদ শশধর,                          বয়ন মনোহর,
রঙ্গিণী-নয়নহি লুবধ চকোর॥
নীল ইন্দীবর,-                           সুন্দর লোচন,
অঞ্জন অরুণ, তরুণ চিত চোর।
মাণিক অধরে,                        মনোহর বংশী,
রসের তরঙ্গিম মতি মোর॥
অমিয়া বচন,                         শ্রবণ অনুরঞ্জন,
গঞ্জন নীরদভাস।
এক অনুপম,                           জগমন মোহন,
হাসি জনু বিজুরী প্রকাশ॥
নাসা তিলফুল রঙ্গিম,                  মুকুতা ঝরকত,
কুণ্ডল গণ্ড হিল্লোল।
চাঁচর কেষ পাশ,                 নব মালতী তঁহি পর,
শিখি পাখা চাঁদ উজোর॥
কুঙ্কুম বিরচিত,                       তিলক বিরাজিত,
রাজিত জনু দ্বিজরাজকি রাজ।
ও তনু আভরণ,                       তড়িদিব নবঘন,
উরপর বনি বনমাল বিরাজ॥
নীল লাবণী,                           অবনী ভরল রূপ,
নখমণি দরপণি তিমির বিনাশে।
রায়বসন্ত মন,                           সেবই অনুক্ষণ,
ঐছন চরণ কমল মধু আশে॥

.         *************************        


.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
সজনী কি হেরলুঁ নাগর কান
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু
গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), প্রথম প্রকাশ ১৮৯৭, ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ২৮শ
পল্লব, শ্রীকৃষ্ণের রূপ, পদসংখ্যা ২৪৪৭।

॥ মঙ্গল॥

সজনী কি হেরলুঁ নাগর কান।
কানড়-কুসুম-তুল                               নীলমণি ঢল ঢল
বরণ চিকণ অনুপাম॥
নবীন-নীরধর                                 কিয়ে মরকত বর
কি মোহন দরপণ-ভান।
লাখ লাখ যুবতি                            দিবস নিশি আরতি
হেরই নহ পরিমাণ॥
চরন-কমল-ছবি-                              লজ্জিত শশী রবি
নিরুপম ও মুখ-চাঁদ।
কনক-জড়িত মণি-                             কুণ্ডল শ্রুতি বনি
তিলক তরুণী-মন-ফাঁন্দ॥
কুসুম-রচিত কেশ                           মোহন চূড়ার বেশ
বানাইল কতেক বন্ধান।
রায় বসন্ত কহ                                এ রূপ পিরিতিময়
নেহারণি মরম সন্ধান॥


ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড”,
৬৮-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পদটি সেখানে
এভাবে পাই।

॥ মঙ্গল॥

সজনী কি হেরিনু নাগর কান।
কানড় কুসুম তুল,                                  নীলমণি ঢল ঢল,
বরণ চিকণ অনুপাম॥
নবীন নীরধর,                                     কিয়ে মরকত বর,
কি মোহন দরপণ ভান।
লাখ লাখ যুবতী                                দিবস নিশি আরতি
হেরই নহ পরিমাণ॥
চরন কমল ছবি                                 লজ্জিত শশী রবি,
নিরুপম ও মুখ চাঁদ।
কনক জড়িত মণি                                 কুণ্ডল শ্রুতি বনি
তিলক তরুণী মন ফাঁন্দ॥
কুসুম রচিত কেশ                               মোহন চূড়ার বেশ,
বনাইল কতেক বন্ধান।
রায় বসন্ত কহে                                 এ রূপ পিরীতিময়,
নেহারনি মরম সন্ধান॥

.         *************************        


.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
কি হেরিনু সুন্দর নাগর-রাজে
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু
গ্রন্থ, প্রথম প্রকাশ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৩৫৬, পৃষ্ঠা ১৭১৪।

॥ বেলোয়ার॥

কি হেরিনু সুন্দর নাগর-রাজে।
রূপ গুণ লাবণী                                   অসীম অনুপম
মনমথ বয়ান মলিন করু লাজে॥
কাঞ্চন-আভরণ                                মেঘে তড়িত যেন
পীত বসন মণি-কিঙ্কিণী সাজে।
রতন-হার হিয়ে                                 শোভন কি কহব
চন্দন-তিলক ভালে অধিক বিরাজে॥
ও চূড়া চাঁচর কেশে                        মালতীর মাল সাজে
আন্ধারে উদয় যেন শশী ষোলকলা।
আর এক অপরূপ                            তাহে শিখি-চন্দ্রক
মধুকরী মধুকর সঙ্গে করে খেলা॥
ও মুখ-কমল-ছবি-                             লজ্জিত শশী রবি
চাঁদে কান্দে মণি-কুণ্ডল-ছন্দে।
চরণারবিন্দ নখ-                                   চন্দ্রমা সুন্দর
রায়বসন্ত-চিত হেরই আনন্দে॥

রবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ
১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ২৮শ পল্লব, শ্রীকৃষ্ণের রূপ, পদসংখ্যা ২৪৪৮,
এইভাবে দেওয়া হয়েছে।

॥ বেলোয়ার॥

কি হেরলুঁ সুন্দর নাগর-রাজে।
রূপ গুণ লাবণি                                অসিমহি অনুপম
মনমথ বয়ান মলিন করু লাজে॥
কাঞ্চন-আভরণ                                মেঘে তড়িত যেন
পীত বসন মণি-কিঙ্কিণি সাজে।
রতন-হার হিয়ে                                শোভন কি কহব
চন্দন-তিলক ভালে অধিক বিরাজে॥
ও চূড়া চাঁচর কেশে                        মালতীর মাল সাজে
আন্ধারে উদয় যেন শশী ষোলকলা।
আর এক অপরূপ                            তাহে শিখি-চন্দ্রক
মধুকরী মধুকর সঙ্গে করে খেলা॥
ও মুখ-কমল-ছবি-                             ছান্দে চান্দ কান্দে
মণি-কুণ্ডল রবি-মণ্ডল-ছন্দে।
চরণারবিন্দ নখ-                                  চন্দ্রিমা সুন্দর
রায়বসন্ত-চিত হেরই আনন্দে॥


ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড”, পৃষ্ঠা
৬৮-এ  রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে
পাই।

॥ বেলোয়ার॥

কি হেরিনু সুন্দর নাগর রাজে।
রূপ গুণ লাবণি                   অসীম অনুপম,
মনমথ বয়ন মলিন করু লাজে॥
কাঞ্চন আভরণ               মেঘে তড়িত যেন,
পীত বসন, মণি কিঙ্কিণী সাজে।
রতন হার হিয়ে শোভন কি কহব,
চন্দন তিলক ভালে অধিক বিরাজে॥
ও চূড়া চাঁচর কেশে মালতীর মালা সাজে,
আঁধারে উদয় যেন শশী ষোলকলা।
আর এক অপরূপ তাহে শিখিচন্দ্রক,
মধুকরী মধুকর সঙ্গে করে খেলা॥
ও মুখ কমল ছবি ছাঁদে চাঁদে কাঁদে,
মণি কুণ্ডল রবি মণ্ডল স্বন্দে।
চরণারবিন্দ নখচন্দ্রিমা সুন্দর,
রায়বসন্ত চিত হেরই আনন্দে॥

.         *************************        


.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর