| কবি রায় বসন্তর বৈষ্ণব পদাবলী |
| সখীক বচনে ধনী হিয়া আনন্দিত কবি রায় বসন্ত আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম প্রকাশ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৩৯, পৃষ্ঠা ২০৯৩। ॥ কল্যাণী॥ সখির বচনে ধনী হিয়া আনন্দিত পিয়া-মিলন-অভিলাষে। নয়ন বয়ন পুন সরস বিলোকন সহচরি পরম উল্লাসে॥ কেহ কঙ্কতি করে কেশ-বেশ করু কবরী মালতী-মালে। করি করে দরপণ বদন বিলোকই বিমল করত সীথি-ভালে॥ সুন্দর সিন্দুর তাহে বনায়ই অঞ্জন অঞ্জই নয়ানে। মৃগমদ-চন্দন- তিলক নব-কুঙ্কুম- পত্রাবলি নিরমাণে॥ কেহো তহিঁ সোঁপল রতন-সীথ-ফল সো ছবি-উপমা কি আনে। জনু নিশিনাথ নিয়ড়ে কিয়ে দিনমণি উয়ল হেন অনুমানে॥ নাসায়ে বেশর মোতি মধুর-ছবি মণি-কুণ্ডল বনি শ্রবণে। মুদরি কঙ্কণ বিবিধ বিভূযণ নীল বসন পরিধানে॥ উর পর মোতিম- হার মনোহর কিঙ্কিণী সুমধুর-কলনে। মণিময় মঞ্জীর ঘুঙ্গুর বাজত ক্কণয়তি রাতুল চরণে॥ করিবর-ভাতি গমন অতি মন্থর কত লাবণী অভিসারে। পদ-পল্লব-ভূষণ অবনী ভেল ভূষিত রায় বসন্ত বলি হারে॥ পরবর্তী সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), প্রথম প্রকাশ ১৮৯৭, ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য- লীলা, পদসংখ্যা ২৯২০, এইভাবে দেওয়া রয়েছে। ॥ কল্যাণী॥ সখিক বচনে ধনি হিয়া আনন্দিত পিয়া-মীলন অভিলাষে। নয়ন বয়ন পুন সরস বিলোকন সহচরি পরম উল্লাসে॥ কেহ কঙ্কতি করে কেশ-বেশ করু কবরী মালতী-মালে। করি করে দরপণ বদন বিলোকই বিমল করত সিথি ভালে॥ সুন্দর সিন্দুর তাহে বনায়ই অঞ্জন অঞ্জই নয়ানে। মৃগমদ চন্দন-তিলক নব-কুঙ্কুম- পত্রাবলি নিরমাণে॥ কেহো তহিঁ সোঁপল রতন-সীথ-ফল সো ছবি-উপমা কি আনে। জনু নিশি-নাথ নিয়ড়ে কিয়ে দিনমণি ঊয়ল হেন অনুমানে॥ নাসায়ে বেশর মোতি মধুর-ছবি মণি-কুণ্ডল বনি শ্রবণে। মুদরি কঙ্কণ বিবিধ বিভূযণ নীল বসন পরিধানে॥ উর পর মোতিম-হার মনোহর কিঙ্কিণি সুমধুর-কলনে। মণিময় মঞ্জির ঘুঙ্গুর বাজত ক্কণয়তি রাতুল চরণে॥ করিবর-ভাতি গমন অতি মন্থর কত লাবণি অভিসারে। পদ-পল্লব-ভূষণ অবনি ভেল ভূষিত রায় বসন্ত বলি হারে॥ এই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড”, ৭১-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই। ॥ কল্যাণী॥ সখীক বচনে ধনী, হিয়া আনন্দিত পিয়া মিলন অভিলাষে। নয়ন বয়ন পুন, পরশ বিলোকন, সহচরী পরম উল্লাসে॥ কেহ কঙ্কতি করে, কেশ বেশ করু, কবরী মালতী মালে। করি করে দরপণ বদন বিলোকই, বিমল করত সীঁথি ভালে॥ সুন্দর সিন্দুর, তাহে বনায়ই, অঞ্জন রঞ্জই নয়নে। মৃগমদ চন্দন, তিলক নব কুঙ্কুম, পত্রাবলি নিরমাণে॥ কেহো তঁহি সোঁপল, রতন সীঁথিফল, সো ছবি উপমা কি আনে। জনু নিশিনাথ নিয়ড়ে কিয়ে দিনমণি উয়ল, হেন অনুমানে॥ নাসায়ে বেশর, মোতিম মধুর ছবি, মণি কুণ্ডল বনি শ্রবণে। মুদরিক কঙ্কণ, বিবিধ বিভূযণ, নীল বসন পরিধানে॥ উপরপর মোতিম, হার মনোহর, কিঙ্কিণী সুমধুর কলনে। মণিময় মঞ্জরী, ঘুঙ্গুর বাজত, ক্কণয়তি রাতুল চরণে॥ করিবর ভাঁতি, গমন অতি মন্থর, কত লাবণি অভিসারে। পদপল্লব ভূষণ, অবনী ভেল ভূষিত, রায় বসন্ত বলিহারে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সখি হে শুন শুন বাঁশী কি বা বোলে কবি রায় বসন্ত আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), প্রথম প্রকাশ ১৮৯৭, ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯১৬। ॥ কানেড়া॥ সখি হে শুন শুন বাঁশী কি বা বোলে। আনন্দ-আধার কিয়ে সে নাগর আইলা কদম্ব-তলে॥ বাঁশরী-নিসান শুনিতে পরাণ নিকাশ হইতে চায়। শিথিল সকল ভেল কলেবর মন মুরছই তায়॥ নাম বেঢ়াজাল খেয়াতি জগতে সহজে বিষম বাঁশী। কানু-উপদেশে কেবল কঠিন কামিনী-মোহন ফাঁসি॥ কি দোষ কি গুণ একই না গণে না বুঝি সময় কাজ। রায় বসন্তের পহু বিনোদিয়া তাহে কি লোকের লাজ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কি হেরিনু নাগর নবীন কিশোর কবি রায় বসন্ত আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম প্রকাশ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৩৫৪, পৃষ্ঠা ১৭১২। ॥ বেলোয়ার॥ কি হেরিনু নাগর নবীন কিশোর। শরদ-শশধর বয়ান মনোহর রঙ্গিণী-নয়নহি লুব্ধ চকোর॥ নীলেন্দীবর- সুন্দর লোচন অঞ্জন অরুণ তরুণি-চিত-চোর। মাণিক অধর মনোহর বংশী রসের তরঙ্গিম মোতি মোর॥ অমিয়া-বচন শ্রবণ-অনুরঞ্জন গঞ্জন নীরদ ভাষ। এক অনুপম জগ-মনোমোহন হাসি যেন বিজুরী প্রকাশ॥ নাসা তিল-ফুল রঙ্গিম মুকুতা ঝরকত কুণ্ডল গণ্ডছি লোল। চাঁচর কেশ- পাশ নব মালতী তঁহি পর শিখি-চাঁদ উজোর॥ কুঙ্কুম-বিরোচিত তিলক-বিরাজিত রাজিত জনু দ্বিজ-রাজকি রাজ। ও তনু-আভরণ তড়িদিব নব ঘন উর পর বনি বন-বালা বিরাজ॥ নীল লাবণী অবনী ভরল রূপ নখ-মণি-দরপণি তিমির বিনাশে। রায়বসন্ত-মন সেবই অনুক্ষণ ঐছন চরণ-কমল মধু-আশে॥ পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৪৪৬, এইভাবে দেওয়া রয়েছে। ॥ বেলোয়ার॥ কি হেরিলুঁ নাগর নবিন কিশোর। . শরদ-শশধর বয়ান মনোহর রঙ্গিণি-নয়নহি লুবধ চকোর॥ নীলেন্দীবর-সুন্দর লোচন . অঞ্জন অরুণ তরুণি-চিত-চোর। মাণিক অধর মনোহর বংশী . রসের তরঙ্গিম মোহিত মোর॥ অমিয়া-বচন শ্রবণ-অনুরঞ্জন . গঞ্জন নীরদ ভাষ। এক আর অনুপম জগ-মনমোহন . হাসি যেন বিজুরি প্রকাশ॥ নাসা তিল-ফুল রঙ্গিম মুকুতা . ঝলকত কুণ্ডল গণ্ডহি লোল। চাঁচর কেশ-পাশ নব মালতি . তঁহি পর শিখিবর চাঁদ উজোর॥ কুঙ্কুম-বিরচিত তিলক-বিরাজিত . রাজিত জনু দ্বিজ-রাজকি রাজ। ও তনু-অভরণ তড়িদিব নব ঘন . উর পর বনি বন-মাল বিরাজ॥ লীলা লাবণি অবনি ভরল রূপ . নখ-মণি-দরপণি তিমির বিনাশে। রায়বসন্ত-মন সেবই অনুখণ . ঐছন চরণ-কমল মধু-আশে॥ এই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড”, ৬৮-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই। ॥ বেলোয়ার॥ কি হেরিনু নাগর নবীন কিশোর, শরদ শশধর, বয়ন মনোহর, রঙ্গিণী-নয়নহি লুবধ চকোর॥ নীল ইন্দীবর,- সুন্দর লোচন, অঞ্জন অরুণ, তরুণ চিত চোর। মাণিক অধরে, মনোহর বংশী, রসের তরঙ্গিম মতি মোর॥ অমিয়া বচন, শ্রবণ অনুরঞ্জন, গঞ্জন নীরদভাস। এক অনুপম, জগমন মোহন, হাসি জনু বিজুরী প্রকাশ॥ নাসা তিলফুল রঙ্গিম, মুকুতা ঝরকত, কুণ্ডল গণ্ড হিল্লোল। চাঁচর কেষ পাশ, নব মালতী তঁহি পর, শিখি পাখা চাঁদ উজোর॥ কুঙ্কুম বিরচিত, তিলক বিরাজিত, রাজিত জনু দ্বিজরাজকি রাজ। ও তনু আভরণ, তড়িদিব নবঘন, উরপর বনি বনমাল বিরাজ॥ নীল লাবণী, অবনী ভরল রূপ, নখমণি দরপণি তিমির বিনাশে। রায়বসন্ত মন, সেবই অনুক্ষণ, ঐছন চরণ কমল মধু আশে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সজনী কি হেরলুঁ নাগর কান কবি রায় বসন্ত আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), প্রথম প্রকাশ ১৮৯৭, ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ২৮শ পল্লব, শ্রীকৃষ্ণের রূপ, পদসংখ্যা ২৪৪৭। ॥ মঙ্গল॥ সজনী কি হেরলুঁ নাগর কান। কানড়-কুসুম-তুল নীলমণি ঢল ঢল বরণ চিকণ অনুপাম॥ নবীন-নীরধর কিয়ে মরকত বর কি মোহন দরপণ-ভান। লাখ লাখ যুবতি দিবস নিশি আরতি হেরই নহ পরিমাণ॥ চরন-কমল-ছবি- লজ্জিত শশী রবি নিরুপম ও মুখ-চাঁদ। কনক-জড়িত মণি- কুণ্ডল শ্রুতি বনি তিলক তরুণী-মন-ফাঁন্দ॥ কুসুম-রচিত কেশ মোহন চূড়ার বেশ বানাইল কতেক বন্ধান। রায় বসন্ত কহ এ রূপ পিরিতিময় নেহারণি মরম সন্ধান॥ এই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড”, ৬৮-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই। ॥ মঙ্গল॥ সজনী কি হেরিনু নাগর কান। কানড় কুসুম তুল, নীলমণি ঢল ঢল, বরণ চিকণ অনুপাম॥ নবীন নীরধর, কিয়ে মরকত বর, কি মোহন দরপণ ভান। লাখ লাখ যুবতী দিবস নিশি আরতি হেরই নহ পরিমাণ॥ চরন কমল ছবি লজ্জিত শশী রবি, নিরুপম ও মুখ চাঁদ। কনক জড়িত মণি কুণ্ডল শ্রুতি বনি তিলক তরুণী মন ফাঁন্দ॥ কুসুম রচিত কেশ মোহন চূড়ার বেশ, বনাইল কতেক বন্ধান। রায় বসন্ত কহে এ রূপ পিরীতিময়, নেহারনি মরম সন্ধান॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কি হেরিনু সুন্দর নাগর-রাজে কবি রায় বসন্ত আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম প্রকাশ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৩৫৬, পৃষ্ঠা ১৭১৪। ॥ বেলোয়ার॥ কি হেরিনু সুন্দর নাগর-রাজে। রূপ গুণ লাবণী অসীম অনুপম মনমথ বয়ান মলিন করু লাজে॥ কাঞ্চন-আভরণ মেঘে তড়িত যেন পীত বসন মণি-কিঙ্কিণী সাজে। রতন-হার হিয়ে শোভন কি কহব চন্দন-তিলক ভালে অধিক বিরাজে॥ ও চূড়া চাঁচর কেশে মালতীর মাল সাজে আন্ধারে উদয় যেন শশী ষোলকলা। আর এক অপরূপ তাহে শিখি-চন্দ্রক মধুকরী মধুকর সঙ্গে করে খেলা॥ ও মুখ-কমল-ছবি- লজ্জিত শশী রবি চাঁদে কান্দে মণি-কুণ্ডল-ছন্দে। চরণারবিন্দ নখ- চন্দ্রমা সুন্দর রায়বসন্ত-চিত হেরই আনন্দে॥ পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ২৮শ পল্লব, শ্রীকৃষ্ণের রূপ, পদসংখ্যা ২৪৪৮, এইভাবে দেওয়া হয়েছে। ॥ বেলোয়ার॥ কি হেরলুঁ সুন্দর নাগর-রাজে। রূপ গুণ লাবণি অসিমহি অনুপম মনমথ বয়ান মলিন করু লাজে॥ কাঞ্চন-আভরণ মেঘে তড়িত যেন পীত বসন মণি-কিঙ্কিণি সাজে। রতন-হার হিয়ে শোভন কি কহব চন্দন-তিলক ভালে অধিক বিরাজে॥ ও চূড়া চাঁচর কেশে মালতীর মাল সাজে আন্ধারে উদয় যেন শশী ষোলকলা। আর এক অপরূপ তাহে শিখি-চন্দ্রক মধুকরী মধুকর সঙ্গে করে খেলা॥ ও মুখ-কমল-ছবি- ছান্দে চান্দ কান্দে মণি-কুণ্ডল রবি-মণ্ডল-ছন্দে। চরণারবিন্দ নখ- চন্দ্রিমা সুন্দর রায়বসন্ত-চিত হেরই আনন্দে॥ এই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড”, পৃষ্ঠা ৬৮-এ রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই। ॥ বেলোয়ার॥ কি হেরিনু সুন্দর নাগর রাজে। রূপ গুণ লাবণি অসীম অনুপম, মনমথ বয়ন মলিন করু লাজে॥ কাঞ্চন আভরণ মেঘে তড়িত যেন, পীত বসন, মণি কিঙ্কিণী সাজে। রতন হার হিয়ে শোভন কি কহব, চন্দন তিলক ভালে অধিক বিরাজে॥ ও চূড়া চাঁচর কেশে মালতীর মালা সাজে, আঁধারে উদয় যেন শশী ষোলকলা। আর এক অপরূপ তাহে শিখিচন্দ্রক, মধুকরী মধুকর সঙ্গে করে খেলা॥ ও মুখ কমল ছবি ছাঁদে চাঁদে কাঁদে, মণি কুণ্ডল রবি মণ্ডল স্বন্দে। চরণারবিন্দ নখচন্দ্রিমা সুন্দর, রায়বসন্ত চিত হেরই আনন্দে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |