| কবি রায় বসন্তর বৈষ্ণব পদাবলী |
| সই লো মনোহর নবীন ত্রিভঙ্গ কবি রায় বসন্ত আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৩৫৯, পৃষ্ঠা ১৭১৬। ॥ ধানশী॥ সই লো মনোহর নবীন ত্রিভঙ্গ। ও রূপ হেরি প্রাণ কি জানি কেমন করে, মূরছই কতহুঁ অনঙ্গ॥ ধ্রু॥ অগুরু-কর্পূর-ভার মৃগমদ কেশর সৌরভে শোভিত অঙ্গ। উরে বন-মাল মলয়-ঘন-চন্দন আবৃতি অলিকুল সঙ্গ॥ রঙ্গিণী-যূথ নিশি বাসর আগোরলি আরোপলি নয়ন-চকোর। রায় বসন্ত পহু রসিক-শিরোমণি বীচহি করত উজোর॥ পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ২৮শ পল্লব, শ্রীকৃষ্ণের রূপ, পদসংখ্যা ২৪৫১ এইভাবে দেওয়া হয়েছে। ॥ ধানশী॥ সই লো মনোহর ললিত ত্রিভঙ্গ। ও রূপ হেরিতে প্রাণ কি জানি কেমন করে, মূরছই কতহুঁ অনঙ্গ॥ ধ্রু॥ অগুরু-কর্পূর-ভার মৃগমদ কেশর সৌরভে-সেবিত অঙ্গ। উরে বন-মাল মলয়-ঘন-চন্দন আবৃত অলিকুল সঙ্গ॥ ও মুখ-চান্দ- ছান্দে হিয়া আকুল বেঢ়ি মালতি নব রঙ্গ। করে ধরি মুরলি অধর পরশাওত গাওত রস-পরসঙ্গ॥ রঙ্গিণি-যুথ নিশি বাসর আগোরলি আরোপলি নয়ন-চকোর। রায় বসন্ত-পহু রসিক-শিরোমণি বীচহি করত উজোর॥ এই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড”, ৬৯-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই। ॥ ধানশী॥ সই লো মনোহর নবীন ত্রিভঙ্গ। ও রূপ হেরি প্রাণ কি জানি কেমন করে, মূরছই কতই অনঙ্গ॥ অগুরু-কর্পূর-ভার মৃগমদ কেশর সৌরভে-শোভিত অঙ্গ। উরে বনমাল মলয় ঘন চন্দন আবৃত, অলিকুল সংঘ॥ রঙ্গিণি-যুথ নিশি বাসর আগোরল আরোপিল নয়ন-চকোর। রায় বসন্ত পহু রসিক শিরোমণি বিচহি করত উজোর॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সই লো মনোহর নবীন ত্রিভঙ্গ কবি রায় বসন্ত আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৩৫৯, পৃষ্ঠা ১৭১৬। ॥ ধানশী॥ সই লো মনোহর নবীন ত্রিভঙ্গ। ও রূপ হেরি প্রাণ কি জানি কেমন করে, মূরছই কতহুঁ অনঙ্গ॥ ধ্রু॥ অগুরু-কর্পূর-ভার মৃগমদ কেশর সৌরভে শোভিত অঙ্গ। উরে বন-মাল মলয়-ঘন-চন্দন আবৃতি অলিকুল সঙ্গ॥ রঙ্গিণী-যূথ নিশি বাসর আগোরলি আরোপলি নয়ন-চকোর। রায় বসন্ত পহু রসিক-শিরোমণি বীচহি করত উজোর॥ পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ২৮শ পল্লব, শ্রীকৃষ্ণের রূপ, পদসংখ্যা ২৪৫১, এইভাবে দেওয়া হয়েছে। ॥ ধানশী॥ সই লো মনোহর ললিত ত্রিভঙ্গ। ও রূপ হেরিতে প্রাণ কি জানি কেমন করে, মূরছই কতহুঁ অনঙ্গ॥ ধ্রু॥ অগুরু-কর্পূর-ভার মৃগমদ কেশর সৌরভে-সেবিত অঙ্গ। উরে বন-মাল মলয়-ঘন-চন্দন আবৃত অলিকুল সঙ্গ॥ ও মুখ-চান্দ- ছান্দে হিয়া আকুল বেঢ়ি মালতি নব রঙ্গ। করে ধরি মুরলি অধর পরশাওত গাওত রস-পরসঙ্গ॥ রঙ্গিণি-যুথ নিশি বাসর আগোরলি আরোপলি নয়ন-চকোর। রায় বসন্ত-পহু রসিক-শিরোমণি বীচহি করত উজোর॥ এই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড”, ৬৯-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই। ॥ ধানশী॥ সই লো মনোহর নবীন ত্রিভঙ্গ। ও রূপ হেরি প্রাণ কি জানি কেমন করে, মূরছই কতই অনঙ্গ॥ অগুরু-কর্পূর-ভার মৃগমদ কেশর সৌরভে-শোভিত অঙ্গ। উরে বনমাল মলয় ঘন চন্দন আবৃত, অলিকুল সংঘ॥ রঙ্গিণি-যুথ নিশি বাসর আগোরল আরোপিল নয়ন-চকোর। রায় বসন্ত পহু রসিক শিরোমণি বিচহি করত উজোর॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সজনি কি হেরিনু ও মুখ-শোভা কবি রায় বসন্ত আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৩৬০, পৃষ্ঠা ১৭১৭। ॥ ধানশী॥ সজনি কি হেরিনু ও মুখ-শোভা। অতুল কমল সৌরভ শীতল তরুণী-নয়ন-অলি-লোভা॥ ধ্রু॥ প্রফুল্লিত-ইন্দী- বর-সুন্দরবর মুকুর-কান্তি মন-লোভা। রূপ বরণিব কত ভাবিতে থকিত চিত কিয়ে নিরমল-ছবি-শোভা॥ বরিহা বকুল-ফুল আলিকুল-আকুল চূড়া হেরি জুড়ায় পরাণ। অধর বান্ধুলী-ফুল শ্রুতি-মণি-কুণ্ডল প্রিয় অবতংস বনান॥ হাসি খানি তাহে ভায় অপাঙ্গ-ইঙ্গিতে চায় বিদগধ মোহন রায়। মুরলীতে কিবা গায় শুনি আন নাহি ভায় জাতি কুল শীল দিনু তায়॥ না দেখিলে প্রাণ কান্দে দেখিলে না হিয়া বান্ধে অনুক্ষণ মদন-তরঙ্গ। হেরইতে চাঁদ-মুখ মরমে পরম সুখ সুন্দর শ্যামর-অঙ্গ॥ চরণে নূপুর মণি সুমধুর-ধ্বনি শুনি রমণীক ধৈরজ ভঙ্গ। ও রূপ-সাগরে রস- হিলোলে নয়ন মন আটকিল রায় বসন্ত॥ পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ২৮শ পল্লব, শ্রীকৃষ্ণের রূপ, পদসংখ্যা ২৪৫২, এইভাবে দেওয়া হয়েছে। ॥ ধানশী॥ সজনী কি হেরিলুঁ ও মুখ-শোভা। অতুল কমল সৌরভ শীতল তরুণী-নয়ন-অলি-লোভা॥ ধ্রু॥ প্রফুল্লিত-ইন্দী- বর-বর-সুন্দর মুকুর-কান্তি মন-মোহা। রূপ বরণিব কত ভাবিতে থকিত চিত কিয়ে নিরমল-ছবি-শোহা॥ বরিহা বকুল-ফুল আলিকুল-আকুল চূড়া হেরি জুড়ায় পরাণ। অধর বান্ধুলী-ফুল শ্রুতি-মণি-কুণ্ডল প্রিয় অবতংস বনান॥ হাসি খানি তাহে ভায় অপাঙ্গ-ইঙ্গিতে চায় বিদগধ মোহন রায়। মুরলীতে কিবা গায় শুনি আন নাহি ভায় জাতি কুল শীল দিলুঁ তায়॥ না দেখিলে প্রাণ কান্দে দেখিলে না হিয়া বান্ধে অনুক্ষণ মদন-তরঙ্গ। হেরইতে চাঁদ-মুখ মরমে পরম সুখ সুন্দর শ্যামর-অঙ্গ॥ চরণে নূপুর-মণি সুমধুর-ধ্বনি শুনি রমণীক ধৈরজ ভঙ্গ। ও রূপ-সাগরে রস- হিলোলে নয়ন মন আটকিল রায় বসন্ত॥ এই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড”, ৬৯-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই। ॥ ধানশী॥ সজনী কি হেরিনু ও মুখ শোভা। অতুল কমল সৌরভ শীতল, অরুণ নয়ন অলি আভা॥ প্রফুল্লিত ইন্দীবর বর সুন্দর, মুকুর কান্তি মনত্সাহা। রূপ বরণিব কত ভাবিতে থকিত চিত, কিয়ে নিরমল শশী শোহা॥ বরিহা বকুল ফুল আলিকুল আকুল চূড়া হেরি জুড়ায় পরাণ। অধর বান্ধুলী ফুল শ্রুতি মণি কুণ্ডল প্রিয় অবতংস বনান॥ হাসি খানি তাহে ভায় অপাঙ্গ ইঙ্গিতে চায় বিদগধ মোহন রায়। মুরলীতে কিবা গায় শুনি আন নাহি ভায় জাতি কুল শীল দিনু তায়॥ না দেখিলে প্রাণ কাঁদে দেখিলে না হিয়া বাঁধে, অনুক্ষন মদন তরঙ্গ। হেরইতে চাঁদ মুখ মরমে পরম সুখ, সুন্দর শ্যামর অঙ্গ॥ চরণে নূপুর মণি সুমধুর ধ্বনি শুনি, ধরণীক ধৈরজ ভঙ্গ। ও রূপ সাগরে রস হিলোলে নয়ন মন আটকল রায় বসন্ত॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নাগর বিলসয়ে গোপী-সমাজ কবি রায় বসন্ত আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৪৬, পৃষ্ঠা ২০৯৯। ॥ বেলোয়ার॥ নাগর বিলসয়ে গোপী-সমাজ। নব-ঘন-মালে তড়িত কিয়ে মরকত হেম-মণি মাঝে বিরাজ॥ ধ্রু॥ কাহুক অংস বাহু অবলম্বন আরতি রভস আরম্ভে। কাহু চিবুক গহি চুম্বই পুন পুন প্রেম-রভস পরিরম্ভে॥ কাহুক কঞ্চুক বসন উতারই শিথিল কর নীবি-বন্ধে। কাহু-অঙ্গ গহি রস-ভরে নাচত গাওত পরম আনন্দে॥ কাহুক শির পর কর-পঙ্কজ ধর বিহরই আনন্দ-কন্দে। রায়-বসন্ত-পহু লুবধ চকোরা রঙ্গিণীগণ-মুখ-চান্দে॥ পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯২৭, এভাবে দেওয়া রয়েছে। ॥ বেলোয়ার॥ নাগর বিলসই গোপি-সমাজ। নব-ঘন-মালে তড়িত কিয়ে মরকত হেম-মণি মাঝে বিরাজ॥ ধ্রু॥ কাহুক অংস বাহু অবলম্বন আরতি রভস আরম্ভে। কাহু চিবুক গহি চুম্বই পুন পুন প্রেম-অভশে পরিরম্ভে॥ কাহুক কঞ্চুক বসন উতারই শিথিল কবরি নিবি-বন্ধ। কাহু-অঙ্গ গহি রস-ভরে নাচত গাওত পরম আনন্দ॥ কাহুক শির পর কর-পঙ্কজ ধর বিহরই আনন্দ-কন্দে। রায়-বসন্ত-পহু লুবধ চকোরা রঙ্গিণিগণ-মুখ-চন্দে॥ এই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড”, পৃষ্ঠা ৭৩-এ রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই। ॥ বেলোয়ার॥ নাগরী বিলসয়ে গোপী সমাজে। নবঘন-মালে, তড়িত কিয়ে মরকত, হেম মণি মাঝে বিরাজে॥ কাহুক অংস, বাহু অবলম্বন, আরতি রভস আরম্ভে। কাহু চিবুক গহি, চুম্বই পুনঃ পুন, প্রেম রভস পরিরম্ভে॥ কাহুক কঞ্চুক, বসন উতারই, শিথিল কর নীবিবন্ধে। কাহু অঙ্গ গহি, রসভরে নাচত, গাওত পরম আনন্দে॥ কাহুক শির পর কর-পঙ্কজ ধরু, বিহরই আনন্দ কন্দে। রায় বসন্ত পহু, লুবধ চকোর, রঙ্গিণীগণ সুখ-চন্দে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাস-মণ্ডল মাঝে বিলসই কবি রায় বসন্ত আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৪৭, পৃষ্ঠা ২১০০। পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯২৮। ॥ কেদার॥ রাস-মণ্ডল মাঝে বিলসই সঙ্গে শত শত রঙ্গিণী। রসিক নাগর সঙ্গে নাচত রণিত নূপুর কিঙ্কিণী॥ চিত্র-পদ-গতি চারু চাহনি অঙ্গ-ভঙ্গী কর-চালনি। ক্কণিত কঙ্কণ তরল বলয়া গণ্ডে কুণ্ডল দেলনি॥ উজর-মণ্ডল হার চঞ্চল বয়নে শ্রম-জল শোহনি। মুরলী বীণা যন্ত্র সুমধুর মুরজ থই থই বোলনি॥ অলসে দুহুঁ মেলি অঙ্গ-হেলাহেলি বিহসি হেরই আননে। সঘনে চুম্বন প্রেমালিঙ্গন রায়-বসন্ত-পহু কাননে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| পিয়া-পরসঙ্গ রঙ্গ রূপ কহইতে কবি রায় বসন্ত আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৩৭, পৃষ্ঠা ২০৯২। ॥ ধানশী॥ পিয়া-পরসঙ্গ রঙ্গ রূপ কহইতে অতি আকুল ধনী ভেলা। জনু কুহু-পক্ষ- পরশে কলানিধি মলিন ক্ষীণ ভই গেলা॥ শিথিল বলয়া কর তরলিত-কঙ্কণ বসন না সম্বরে অঙ্গে। ভাব হাব উর কম্পিত কলেবর লোচনে লোর-তরঙ্গে॥ কুবলয়-নীল- বরণ-তনু সাঙরি ঝামরি পিউ পিউ ভাষ। জনু দিন মাঝ তপনে নব-পল্লব জীবয়ে ইন্দুক আশ॥ হিয়া ধক ধক ধনী ধরণী লোটায়ই তেজই দীঘ নিশ্বাস। রায় বসন্ত হেরি রাইকে থির করি কহয়ে বচন আশোয়াশ॥ পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯১৮, এভাবে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ পিয়া-পরসঙ্গ রঙ্গ রূপ কহইতে অতি আকুল ধনী ভেলা। জনু কুহু-পক্ষ-পরশে কলানিধি মলিন খীণ ভই গেলা॥ শিথিল বলয়া কর তরলিত-কঙ্কণ বসন না সম্বরে অঙ্গে। ভাব হাব উর কম্পিত কলেবর লোচনে লোর-তরঙ্গে॥ কুবলয়-নীল-বরণ-তনু সাঙরি ঝামরি পিউ পিউ ভাষ। জনু দিন মাঝ তপনে নব-পল্লব জীবয়ে ইন্দুক আশ॥ হিয়া ধক ধক ধনী ধরণী লোটায়ই তেজই দীঘ নিশাস। রায় বসন্ত হেরি রাইকে থির করি কহয়ে বচন আশোয়াশ॥ এই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড”, ৭১-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই। ॥ ধানশী॥ পিয়াপরসঙ্গ রঙ্গ রূপ হইতে অতি আকুল ধনী ভেলা। জনু-কুহু-পক্ষ পরশে কলানিধি মলিন ক্ষীণ ভই গেলা॥ শিথিল বলয়া করত বলি কঙ্কণ বসন না সম্বরে অঙ্গে। ভাব হাব উর কম্পিত কলেবর, লোচনে লোর তরঙ্গে॥ কুবলয় নীল- বরণ তনু সাঙরি ঝামরি পিউ পিউ ভাষ। জনু দিন মাঝ তপনে নব পল্লব জীবয়ে ইন্দুক আশ॥ হিয়া ধক্ ধক্ ধনী ধরণী লোটাই তেজই দীঘ নিশ্বাস। রায় বসন্ত হেরি, রাইকে থির করি, কহয়ে বচন আশোয়াশ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |