কবি রায় বসন্তর বৈষ্ণব পদাবলী
*
সই লো মনোহর নবীন ত্রিভঙ্গ
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু
গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৩৫৯, পৃষ্ঠা ১৭১৬।

॥ ধানশী॥

সই লো মনোহর নবীন ত্রিভঙ্গ।
ও রূপ হেরি প্রাণ                        কি জানি কেমন করে,
মূরছই কতহুঁ অনঙ্গ॥ ধ্রু॥
অগুরু-কর্পূর-ভার                                 মৃগমদ কেশর
সৌরভে শোভিত অঙ্গ।
উরে বন-মাল                                     মলয়-ঘন-চন্দন
আবৃতি অলিকুল সঙ্গ॥
রঙ্গিণী-যূথ নিশি                                বাসর আগোরলি
আরোপলি নয়ন-চকোর।
রায় বসন্ত পহু                                রসিক-শিরোমণি
বীচহি করত উজোর॥


রবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ
১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ২৮শ পল্লব, শ্রীকৃষ্ণের রূপ, পদসংখ্যা ২৪৫১ এইভাবে
দেওয়া হয়েছে।

॥ ধানশী॥

সই লো মনোহর ললিত ত্রিভঙ্গ।
ও রূপ হেরিতে প্রাণ                        কি জানি কেমন করে,
মূরছই কতহুঁ অনঙ্গ॥ ধ্রু॥
অগুরু-কর্পূর-ভার                                   মৃগমদ কেশর
সৌরভে-সেবিত অঙ্গ।
উরে বন-মাল                                       মলয়-ঘন-চন্দন
আবৃত অলিকুল সঙ্গ॥
ও মুখ-চান্দ-                                    ছান্দে হিয়া আকুল
বেঢ়ি মালতি নব রঙ্গ।
করে ধরি মুরলি                                  অধর পরশাওত
গাওত রস-পরসঙ্গ॥
রঙ্গিণি-যুথ নিশি                                  বাসর আগোরলি
আরোপলি নয়ন-চকোর।
রায় বসন্ত-পহু                                    রসিক-শিরোমণি
বীচহি করত উজোর॥

ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড”,
৬৯-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পদটি সেখানে
এভাবে পাই।

॥ ধানশী॥

সই লো মনোহর নবীন ত্রিভঙ্গ।
ও রূপ হেরি প্রাণ                        কি জানি কেমন করে,
মূরছই কতই অনঙ্গ॥
অগুরু-কর্পূর-ভার                                 মৃগমদ কেশর
সৌরভে-শোভিত অঙ্গ।
উরে বনমাল                                     মলয় ঘন চন্দন
আবৃত, অলিকুল সংঘ॥
রঙ্গিণি-যুথ নিশি                                বাসর আগোরল
আরোপিল নয়ন-চকোর।
রায় বসন্ত পহু                                রসিক শিরোমণি
বিচহি করত উজোর॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
সই লো মনোহর নবীন ত্রিভঙ্গ
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু
গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৩৫৯, পৃষ্ঠা ১৭১৬।

॥ ধানশী॥

সই লো মনোহর নবীন ত্রিভঙ্গ।
ও রূপ হেরি প্রাণ                        কি জানি কেমন করে,
মূরছই কতহুঁ অনঙ্গ॥ ধ্রু॥
অগুরু-কর্পূর-ভার                                 মৃগমদ কেশর
সৌরভে শোভিত অঙ্গ।
উরে বন-মাল                                     মলয়-ঘন-চন্দন
আবৃতি অলিকুল সঙ্গ॥
রঙ্গিণী-যূথ নিশি                                বাসর আগোরলি
আরোপলি নয়ন-চকোর।
রায় বসন্ত পহু                                রসিক-শিরোমণি
বীচহি করত উজোর॥


রবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ
১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ২৮শ পল্লব, শ্রীকৃষ্ণের রূপ, পদসংখ্যা ২৪৫১, এইভাবে
দেওয়া হয়েছে।

॥ ধানশী॥

সই লো মনোহর ললিত ত্রিভঙ্গ।
ও রূপ হেরিতে প্রাণ                        কি জানি কেমন করে,
মূরছই কতহুঁ অনঙ্গ॥ ধ্রু॥
অগুরু-কর্পূর-ভার                                   মৃগমদ কেশর
সৌরভে-সেবিত অঙ্গ।
উরে বন-মাল                                      মলয়-ঘন-চন্দন
আবৃত অলিকুল সঙ্গ॥
ও মুখ-চান্দ-                                   ছান্দে হিয়া আকুল
বেঢ়ি মালতি নব রঙ্গ।
করে ধরি মুরলি                                অধর পরশাওত
গাওত রস-পরসঙ্গ॥
রঙ্গিণি-যুথ নিশি                                বাসর আগোরলি
আরোপলি নয়ন-চকোর।
রায় বসন্ত-পহু                                রসিক-শিরোমণি
বীচহি করত উজোর॥

ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড”,
৬৯-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পদটি সেখানে
এভাবে পাই।

॥ ধানশী॥

সই লো মনোহর নবীন ত্রিভঙ্গ।
ও রূপ হেরি প্রাণ                        কি জানি কেমন করে,
মূরছই কতই অনঙ্গ॥
অগুরু-কর্পূর-ভার                                 মৃগমদ কেশর
সৌরভে-শোভিত অঙ্গ।
উরে বনমাল                                      মলয় ঘন চন্দন
আবৃত, অলিকুল সংঘ॥
রঙ্গিণি-যুথ নিশি                                বাসর আগোরল
আরোপিল নয়ন-চকোর।
রায় বসন্ত পহু                                রসিক শিরোমণি
বিচহি করত উজোর॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
সজনি কি হেরিনু ও মুখ-শোভা
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু
গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৩৬০, পৃষ্ঠা ১৭১৭।

॥ ধানশী॥

সজনি কি হেরিনু ও মুখ-শোভা।
অতুল কমল                                           সৌরভ শীতল
তরুণী-নয়ন-অলি-লোভা॥ ধ্রু॥
প্রফুল্লিত-ইন্দী-                                            বর-সুন্দরবর
মুকুর-কান্তি মন-লোভা।
রূপ বরণিব কত                                 ভাবিতে থকিত চিত
কিয়ে নিরমল-ছবি-শোভা॥
বরিহা বকুল-ফুল                                      আলিকুল-আকুল
চূড়া হেরি জুড়ায় পরাণ।
অধর বান্ধুলী-ফুল                                      শ্রুতি-মণি-কুণ্ডল
প্রিয় অবতংস বনান॥
হাসি খানি তাহে ভায়                             অপাঙ্গ-ইঙ্গিতে চায়
বিদগধ মোহন রায়।
মুরলীতে কিবা গায়                                শুনি আন নাহি ভায়
জাতি কুল শীল দিনু তায়॥
না দেখিলে প্রাণ কান্দে                        দেখিলে না হিয়া বান্ধে
অনুক্ষণ মদন-তরঙ্গ।
হেরইতে চাঁদ-মুখ                                   মরমে পরম সুখ
সুন্দর শ্যামর-অঙ্গ॥
চরণে নূপুর মণি                                   সুমধুর-ধ্বনি শুনি
রমণীক ধৈরজ ভঙ্গ।
ও রূপ-সাগরে রস-                                হিলোলে নয়ন মন
আটকিল রায় বসন্ত॥

রবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ
১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ২৮শ পল্লব, শ্রীকৃষ্ণের রূপ, পদসংখ্যা ২৪৫২,
এইভাবে দেওয়া হয়েছে।

॥ ধানশী॥

সজনী কি হেরিলুঁ ও মুখ-শোভা।
অতুল কমল                                         সৌরভ শীতল
তরুণী-নয়ন-অলি-লোভা॥ ধ্রু॥
প্রফুল্লিত-ইন্দী-                                       বর-বর-সুন্দর
মুকুর-কান্তি মন-মোহা।
রূপ বরণিব কত                              ভাবিতে থকিত চিত
কিয়ে নিরমল-ছবি-শোহা॥
বরিহা বকুল-ফুল                                   আলিকুল-আকুল
চূড়া হেরি জুড়ায় পরাণ।
অধর বান্ধুলী-ফুল                                   শ্রুতি-মণি-কুণ্ডল
প্রিয় অবতংস বনান॥
হাসি খানি তাহে ভায়                            অপাঙ্গ-ইঙ্গিতে চায়
বিদগধ মোহন রায়।
মুরলীতে কিবা গায়                              শুনি আন নাহি ভায়
জাতি কুল শীল দিলুঁ তায়॥
না দেখিলে প্রাণ কান্দে                        দেখিলে না হিয়া বান্ধে
অনুক্ষণ মদন-তরঙ্গ।
হেরইতে চাঁদ-মুখ                                    মরমে পরম সুখ
সুন্দর শ্যামর-অঙ্গ॥
চরণে নূপুর-মণি                                  সুমধুর-ধ্বনি শুনি
রমণীক ধৈরজ ভঙ্গ।
ও রূপ-সাগরে রস-                              হিলোলে নয়ন মন
আটকিল রায় বসন্ত॥

ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড”,
৬৯-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পদটি সেখানে
এভাবে পাই।

॥ ধানশী॥

সজনী কি হেরিনু ও মুখ শোভা।
অতুল কমল                                       সৌরভ শীতল,
অরুণ নয়ন অলি আভা॥
প্রফুল্লিত ইন্দীবর                                        বর সুন্দর,
মুকুর কান্তি মনত্সাহা।
রূপ বরণিব কত                            ভাবিতে থকিত চিত,
কিয়ে নিরমল শশী শোহা॥
বরিহা বকুল                                  ফুল আলিকুল আকুল
চূড়া হেরি জুড়ায় পরাণ।
অধর বান্ধুলী ফুল                                 শ্রুতি মণি কুণ্ডল
প্রিয় অবতংস বনান॥
হাসি খানি তাহে ভায়                           অপাঙ্গ ইঙ্গিতে চায়
বিদগধ মোহন রায়।
মুরলীতে কিবা গায়                            শুনি আন নাহি ভায়
জাতি কুল শীল দিনু তায়॥
না দেখিলে প্রাণ কাঁদে                        দেখিলে না হিয়া বাঁধে,
অনুক্ষন মদন তরঙ্গ।
হেরইতে চাঁদ মুখ                                 মরমে পরম সুখ,
সুন্দর শ্যামর অঙ্গ॥
চরণে নূপুর মণি                                সুমধুর ধ্বনি শুনি,
ধরণীক ধৈরজ ভঙ্গ।
ও রূপ সাগরে                                  রস হিলোলে নয়ন
মন আটকল রায় বসন্ত॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
বৃন্দাবন মনমোহন ধামে
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৪২, পৃষ্ঠা ২০৯৬।

.                        ॥ ধানশী॥

.                বৃন্দাবন মনমোহন ধামে।
শশি-কিরণাচিত                                  বিবিধ-কুসুমযুত
.                অলিকুল ঝঙ্করু কোকিল গানে॥ ধ্রু॥
নৃত্যতি ময়ূর                                কপোত শুক বোলত
.                ফিরি গাওত পিকু শারী বিলাসে।
পারাবত বনি                                   করত মধুর ধ্বনি
.                চাতকী-রীত পিয়ই পিয় ভাষে॥
যমুনা-সমীপে                                      নীপ বর-বৈভব
.                সৌরভ কুন্দ-কুমুদ-মৃদু-পবনে।
সব ঋষি আবৃত                                   অপসর নাচত
.                কঙ্কণ কিঙ্কিণী নূপুর কলনে॥
শিব নারদ অজ                                  গাওত অবিরত
.                সতত উদয় দ্বিজরাজে।
রাধামন্ত্র-                                         জপন অনুশীলন
.                আনন্দ-কন্দ নন্দসুত রাজে॥
কনক-ভূমি পর                                     কলপতরুবর
.                মণিময় মন্দির সুন্দর সাজে।
কনকাচিত                                      রতনাসন শোহন
.                কুসুম-পুঞ্জ-সুখ-শেজ বিরাজে॥
তাঁহি মিলল ধনী                                  প্রেম-পরশমণি
.                মোহন পিয়া মন-মোহনে।
রায় বসন্ত ভণ                                  রাই-কানু-মিলন
.                অবলোকই তহি উলসিত নয়নে॥

রবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক
সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয়
নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯২৩, এইভাবে দেওয়া হয়েছে।

.        ॥ ধানশী॥

.        বৃন্দাবন মনমোহন ধামে।
শশি-কিরণাচিত বিবিধ-কুসুমযুত
.        অলিকুল ঝঙ্করু কোকিল গানে॥ ধ্রু॥
নৃত্যতি মোর কপোত শুক বোলত
.        ফিরি গাওত পিকু শারি বিলাসে।
পারাবত বনি করত মধুর ধ্বনি
.        চাতকি-রীত পিয়ই পিয় ভাষে॥
যমুনা-সমীপ নীপ বর-বৈভব
.        সৌরভ কুন্দ-কুমুদ-মৃদু-পবনে।
সব ঋষি আবৃত অপসর নাচত
.        কঙ্কণ-কিঙ্কিণী নূপুর-কলনে॥
শিব নারদ অজ গাওত অবিরত
.        সতত উদয় দ্বিজ-রাজে।
রাধা মন্ত্র-জপন অনুশীলন
.        আনন্দ-কন্দ নন্দসুত রাজে॥
কনক-ভূমি পর কলপতরুবর
.        মণিময় মন্দির সুন্দর সাজে।
কনকাচিত রতনাসন শোহন
.        কুসুম-পুঞ্জ-সুখ-শেজ বিরাজে॥
তাঁহি মিলল ধনি প্রেম-পরশমণি
.        মোহন পিয়া মন মোহনে।
রায় বসন্ত ভণ রাই-কানু-মীলন
.        অবলোকই তহিঁ উলসিত নয়নে॥

ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ,
প্রথম খণ্ড”, ৭২-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত
হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই।

.                        ॥ কল্যাণী॥

.                বৃন্দাবন মনমোহন ধামে।
শশি-কিরণাঞ্চিত,                               বিবিধ কুসুম যুত,
.                অলিকুল ঝঙ্করু কোকিল গানে॥
নৃত্যতি ময়ূর,                                কপোত শুক বোলত,
.                ফিরি গাওত পিকু শারী বিলাসে।
পারাবত বনি,                                   করত মধুর ধ্বনি,
.                চাতকী পীয়ত পিয় ভাষে॥
যমুনা সমীপে,                                      নীপপর বৈভব,
.                সৌরভ কুন্দ কুমুদ, মৃদুপবনে।
সব ঋষি আবৃত,                                   অপছর নাচত,
.                কঙ্কণ কিঙ্কিণী নূপুর কলনে॥
শিব নারদ অজ,                                  গাওত অবিরত,
.                সতত উদয় দ্বিজরাজে।
রাধামন্ত্র জপন,                                 অনুশীলন, আনন্দ-
.                কন্দ নন্দসুত রাজে॥
কনক ভূমিপর,                                     কলপ তরুবর,
.                মণিময় মন্দির সুন্দর সাজে।
কনকাঞ্চিত,                                      রতনাসন শোহন,
.                কুসুম পুঞ্জ-সুখ-শেজ বিরাজে॥
তঁহি মিলল ধনী,                                   প্রেম পরশ মণি,
.                মোহন পিয়া মনমোহনে।
রায় বসন্ত ভণ,                                    রাই কানু মিলন,
.                অবলোকই তঁহি উলসিত নয়নে॥

.                       *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
রসবতী রসিক-শিরোমণি পাশে
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৪৩, পৃষ্ঠা ২০৯৭।

.        ॥ ভূপালী॥

রসবতী রসিক-শিরোমণি পাশে।
মনোরথ-সিধি বিধি পূরল আশে॥
চন্দ্র-বদনী ধনী কানু চকোর।
নব-বারিদে জনু চাতক ভোর॥
নাগর-চিত-রতি নয়লি-বিলাস।
অনুমতি অন্তর ধনী মৃদু হাস॥
লীলা লাবণী আনন্দ-দান।
রসিক-শিরোমণি আমিয়া সিনান॥
দুহুঁ বিদগধ সুখ কো করু ওর।
প্রেম অবশ দুহুঁ আপাহিঁ ভোর॥
দুহুঁ রসে ভুলল দুহুঁ করু কোর।
রায় বসন্ত তহিঁ জয় জয় বোল॥


রবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক
সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয়
নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯২৪, এইভাবে দেওয়া হয়েছে।

.        ॥ ভূপালী॥

রসবতি রসিক-শিরোমণি পাশে।
মনোরথ-সিধি বিধি পূরল আশে॥
চন্দ্র-বয়নি ধনি কানু চকোর।
নব-বারিদে জনু চাতক ভোর॥
নাগর-চিত-রতি রয়নি-বিলাস।
অনুমতি অন্তর ধনি মৃদু হাস॥
লীলা লাবণি আনন্দ-দান।
রসিক-শিরোমণি আমিয়া সিনান॥
দুহুঁ বিদগধ সুখ কো করু ওর।
প্রেম-অবশ দুহুঁ আপাহিঁ ভোর॥
দুহুঁ রসে ভূলল দুহুঁ করু কোর।
রায় বসন্ত তহিঁ জয় জয় বোল॥

ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ,
প্রথম খণ্ড”, ৭২-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত
হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই।

.        ॥ ভূপালী॥

রসবতী রসিক শিরোমণি পাশে।
মনোরথ সিধি, বিধি পূরল আশে॥
চন্দ্রবদনী ধনী কানু চকোর।
নব বারিদে জনু চাতক ভোর॥
নাগর চিত-রতি নয়লি-বিলাস।
অনুমতি অন্তর, ধনী মৃদু হাস॥
লীলা লাবণী আনন্দ দান।
রসিক শিরোমণি আনন্দ সিনান॥
দুহুঁ বিদগধ সুখ কো করু ওর।
প্রেম অবশ দুহুঁ আপাহি ভোর॥
দুহুঁ রসে ভুলল দুহুঁ করু কোর।
রায় বসন্ত তঁহি জয় জয় বোল॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
কানু কলাবতী মরম-সন্ধান
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৪৫, পৃষ্ঠা ২০৯৯।

.        ॥ শ্রীরাগ॥

কানু কলাবতী মরম-সন্ধান।
রাস-রসভ-রস দুহুঁ ভালে জান॥
করতল চুম্বন চিবুকহি হাত।
ধনী বিহসি ভুজ রাখল মাথ॥
নাহ বাহু গহি সুবিনয় বোল।
স্মিত-মুখী সব সনে হাসই থোর॥
ইঙ্গিতে নাগর তেজল বিচারি।
করই আলিঙ্গন বাহু পসারি॥
হিয়-মিলনে প্রিয় অতি উতরোল।
ধকধক অন্তর গদ গদ বোল॥
বিলসই নাগর নওল কিশোর।
রায় বসন্ত কহ রসের হিলোর॥


রবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক
সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয়
নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯২৬, এভাবে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ শ্রীরাগ॥

কানু কলাবতি মরম-সন্ধান।
রাস-রসভ-রস দুহুঁ ভালে জান॥
করতল চুম্বন চিবুকহি হাত।
ধনি বিহসী ভুজ রাখল মাথ॥
নাহ বাহু গহি সুবিনয় বোল।
স্মিত-মুখি সরস নেহারই থোর॥
ইঙ্গিতে নাগর তেজল বিচারি।
করই আলিঙ্গন বাহু পসারি॥
হিয়-মীলনে প্রিয় অতি উতরোল।
ধকধক অন্তর গদ গদ বোল॥
বিলসই নাগর নওল কিশোর।
রায় বসন্ত কহ রসের হিলোর॥

ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ,
প্রথম খণ্ড”, ৭৩-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত
হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই।

.        ॥ শ্রীরাগ॥

কানু কলাবতী মরম সন্ধান।
রাস-রসভ রস দুহুঁ ভালে জান॥
করতল চুম্বন চিবুকহি হাত।
ধনী বিহসি ভুজ রাখল মাথ॥
নাহ বাহুগতি সুবিনয় বোল।
স্মিত-মুখী সব সনে হাসই থোর॥
ইঙ্গিতে নাগর তেজল বিচার।
করই আলিঙ্গন বাহু পসার॥
হিয় মিলনে প্রিয় অতি উতরোল।
ধকধক অন্তর, গদগদ বোল॥
বিলসই নাগর নওল কিশোর।
রায় বসন্ত কহ রসের হিলোর॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
নাগর বিলসয়ে গোপী-সমাজ
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু
গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৪৬, পৃষ্ঠা ২০৯৯।

॥ বেলোয়ার॥

নাগর বিলসয়ে গোপী-সমাজ।
নব-ঘন-মালে                           তড়িত কিয়ে মরকত
হেম-মণি মাঝে বিরাজ॥ ধ্রু॥
কাহুক অংস                                   বাহু অবলম্বন
আরতি রভস আরম্ভে।
কাহু চিবুক গহি                                  চুম্বই পুন পুন
প্রেম-রভস পরিরম্ভে॥
কাহুক কঞ্চুক                                   বসন উতারই
শিথিল কর নীবি-বন্ধে।
কাহু-অঙ্গ গহি                                রস-ভরে নাচত
গাওত পরম আনন্দে॥
কাহুক শির পর                                কর-পঙ্কজ ধর
বিহরই আনন্দ-কন্দে।
রায়-বসন্ত-পহু                                  লুবধ চকোরা
রঙ্গিণীগণ-মুখ-চান্দে॥

রবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ
১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯২৭,
এভাবে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেলোয়ার॥

নাগর বিলসই গোপি-সমাজ।
নব-ঘন-মালে তড়িত কিয়ে মরকত
হেম-মণি মাঝে বিরাজ॥ ধ্রু॥
কাহুক অংস বাহু অবলম্বন
আরতি রভস আরম্ভে।
কাহু চিবুক গহি         চুম্বই পুন পুন
প্রেম-অভশে পরিরম্ভে॥
কাহুক কঞ্চুক বসন উতারই
শিথিল কবরি নিবি-বন্ধ।
কাহু-অঙ্গ গহি রস-ভরে নাচত
গাওত পরম আনন্দ॥
কাহুক শির পর কর-পঙ্কজ ধর
বিহরই আনন্দ-কন্দে।
রায়-বসন্ত-পহু লুবধ চকোরা
রঙ্গিণিগণ-মুখ-চন্দে॥

ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড”, পৃষ্ঠা
৭৩-এ  রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে
পাই।

॥ বেলোয়ার॥

নাগরী বিলসয়ে গোপী সমাজে।
নবঘন-মালে,                           তড়িত কিয়ে মরকত,
হেম মণি মাঝে বিরাজে॥
কাহুক অংস,                                   বাহু অবলম্বন,
আরতি রভস আরম্ভে।
কাহু চিবুক গহি,                                চুম্বই পুনঃ পুন,
প্রেম রভস পরিরম্ভে॥
কাহুক কঞ্চুক,                                   বসন উতারই,
শিথিল কর নীবিবন্ধে।
কাহু অঙ্গ গহি,                                 রসভরে নাচত,
গাওত পরম আনন্দে॥
কাহুক শির পর                                কর-পঙ্কজ ধরু,
বিহরই আনন্দ কন্দে।
রায় বসন্ত পহু,                                   লুবধ চকোর,
রঙ্গিণীগণ সুখ-চন্দে॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
রাস-মণ্ডল মাঝে বিলসই
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু
গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৪৭, পৃষ্ঠা ২১০০। পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ
শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯২৮।


॥ কেদার॥

রাস-মণ্ডল                         মাঝে বিলসই
সঙ্গে শত শত রঙ্গিণী।
রসিক নাগর                         সঙ্গে নাচত
রণিত নূপুর কিঙ্কিণী॥
চিত্র-পদ-গতি                         চারু চাহনি
অঙ্গ-ভঙ্গী কর-চালনি।
ক্কণিত কঙ্কণ                        তরল বলয়া
গণ্ডে কুণ্ডল দেলনি॥
উজর-মণ্ডল                           হার চঞ্চল
বয়নে শ্রম-জল শোহনি।
মুরলী বীণা                          যন্ত্র সুমধুর
মুরজ থই থই বোলনি॥
অলসে দুহুঁ মেলি                 অঙ্গ-হেলাহেলি
বিহসি হেরই আননে।
সঘনে চুম্বন                          প্রেমালিঙ্গন
রায়-বসন্ত-পহু কাননে॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর  
*
সখী-কর ধনি ধনী কাতর বাণী
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৩৬, পৃষ্ঠা ২০৯১।

.        ॥ কানেড়া॥

সখী-কর ধনি ধনী কাতর বাণী।
কহে ও মুখ কবে দেখব সয়ানি॥
নাসা-পুট-যুত মোতি রসাল।
চন্দ্রাঙ্কুর কিয়ে ধরল তমাল॥
সিন্দুর অরুণ কিয়ে অধর-প্রকাশ।
মণিবর প্রাতর সূর-বিকাশ॥
আকর্ণারুণ নয়ন-চকোর।
চাহনি বঙ্ক রমণী-চিত-চোর॥
ভাঙ-বিভঙ্গী হিয়ে জাগয়ে মোর।
রাহু কলানিধি হরলি আগোর॥
চমকিয়া চাঁদ তিলকে পড়ু ভোর।
রায় বসন্ত কহ আরতি ওর॥

রবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক
সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয়
নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯১৭, এইভাবে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ কানাড়া॥

সখী-কর ধনি ধনী কাতর বাণী।
কহে ও মুখ কবে দেখব শয়ানি॥
নাসা-পুট-যুত মোতি রসাল।
চন্দ্রাঙ্কুর কিয়ে ধরল তমাল॥
সিন্দুর অরুণ কিয়ে অধর প্রকাশ।
মণিবর প্রাতর সূর-বিকাশ॥
আকর্ণারুণ নয়ন-চকোর।
চাহনি বঙ্ক রমণী-চিত-চোর॥
ভাঙ-বিভঙ্গী হিয়ে জাগয়ে মোর।
রাহু কলানিধি হরলি আগোর॥
চমকিয়া চাঁদ তিলকে পড়ু ভোর।
রায় বসন্ত কহ আরতি-ওর॥

ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ,
প্রথম খণ্ড”, ৭০-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত
হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই।

.        ॥ কানেড়া॥

সখী-কর ধনি ধনী কাতর বাণী।
কহে ও মুখ কব দেখব সয়ানি॥
নাসা-পুট-যুত মোতি রসাল।
চন্দ্রাঙ্কুর কিয়ে ধরল তমাল॥
সিন্দুর অরুণ কিয়ে অধর-প্রকাশ।
মণিবর প্রতিম সুরবি বিকাশ॥
আকর্ণারুণ নয়ন চকোর।
চাহনি রঙ্গ বঙ্ক রমণী-চিত চোর॥
ভাঙ-বিভঙ্গী হিয়ে জাগয়ে মোর।
রাহু কলানিধি হরলি আগোর॥
চমকিয়া চাঁদ তিলকে পড়ু ভোর।
রায় বসন্ত কহ আরতি ওর॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
পিয়া-পরসঙ্গ রঙ্গ রূপ কহইতে
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু
গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৩৭, পৃষ্ঠা ২০৯২।

॥ ধানশী॥

পিয়া-পরসঙ্গ                          রঙ্গ রূপ কহইতে
অতি আকুল ধনী ভেলা।
জনু কুহু-পক্ষ-                         পরশে কলানিধি
মলিন ক্ষীণ ভই গেলা॥
শিথিল বলয়া                        কর তরলিত-কঙ্কণ
বসন না সম্বরে অঙ্গে।
ভাব হাব উর                          কম্পিত কলেবর
লোচনে লোর-তরঙ্গে॥
কুবলয়-নীল-                            বরণ-তনু সাঙরি
ঝামরি পিউ পিউ ভাষ।
জনু দিন মাঝ                           তপনে নব-পল্লব
জীবয়ে ইন্দুক আশ॥
হিয়া ধক ধক ধনী                        ধরণী লোটায়ই
তেজই দীঘ নিশ্বাস।
রায় বসন্ত হেরি                        রাইকে থির করি
কহয়ে বচন আশোয়াশ॥

রবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ
১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯১৮,
এভাবে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

পিয়া-পরসঙ্গ রঙ্গ রূপ কহইতে
অতি আকুল ধনী ভেলা।
জনু কুহু-পক্ষ-পরশে কলানিধি
মলিন খীণ ভই গেলা॥
শিথিল বলয়া কর তরলিত-কঙ্কণ
বসন না সম্বরে অঙ্গে।
ভাব হাব উর কম্পিত কলেবর
লোচনে লোর-তরঙ্গে॥
কুবলয়-নীল-বরণ-তনু সাঙরি
ঝামরি পিউ পিউ ভাষ।
জনু দিন মাঝ তপনে নব-পল্লব
জীবয়ে ইন্দুক আশ॥
হিয়া ধক ধক ধনী ধরণী লোটায়ই
তেজই দীঘ নিশাস।
রায় বসন্ত হেরি রাইকে থির করি
কহয়ে বচন আশোয়াশ॥

ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড”,
৭১-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পদটি সেখানে
এভাবে পাই।

॥ ধানশী॥

পিয়াপরসঙ্গ                               রঙ্গ রূপ হইতে
অতি আকুল ধনী ভেলা।
জনু-কুহু-পক্ষ                             পরশে কলানিধি
মলিন ক্ষীণ ভই গেলা॥
শিথিল বলয়া                            করত বলি কঙ্কণ
বসন না সম্বরে অঙ্গে।
ভাব হাব উর                           কম্পিত কলেবর,
লোচনে লোর তরঙ্গে॥
কুবলয় নীল-                             বরণ তনু সাঙরি
ঝামরি পিউ পিউ ভাষ।
জনু দিন মাঝ                           তপনে নব পল্লব
জীবয়ে ইন্দুক আশ॥
হিয়া ধক্ ধক্                           ধনী ধরণী লোটাই
তেজই দীঘ নিশ্বাস।
রায় বসন্ত হেরি,                        রাইকে থির করি,
কহয়ে বচন আশোয়াশ॥

.        *************************        
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর