কবি রায় বসন্তর বৈষ্ণব পদাবলী
*
সুন্দরি থির কর আপনক চিত
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু
গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৩৮, পৃষ্ঠা ২০৯২।

॥ ধানশী॥

সুন্দরি থির কর আপনক চিত।
কাহ্ন-অনুরাগে                          অথির যব হোয়বি
কৈছে বুঝবি তছু রীত॥
সমুচিত বেশ                              বনায়ব অব তুয়া
মিলাওব নাগর-পাশ।
তা সঞে নিরুপম                             নটন বিলাসবি
পূরবি সব অভিলাষ॥
কালিন্দী-তীর                                সমীর বহই মৃদু
নিভৃত-নিকুঞ্জক মাহ।
কত কত কেলি                        বিলাসবি কানু সঞে
করবি অমিয়া-অবগাহ॥
এত কহি বেশ                             বনাওত সহচরী
সুন্দরী-চিত থির ভেল।
অভিসার লাগিয়া                         সমুচিত উপহার
রায় বসন্ত কহ কেল॥

রবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ
১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯১৯,
এভাবে দেওয়া রয়েছে।

সুন্দরি থির কর আপনক চিত।
কাহ্ন-অনুরাগে অথির যব হোয়বি
কৈছে বুঝবি তছু রীত॥
সমুচিত বেশ বনায়ব অব তুয়া
মিলাওব নাগর-পাশ।
তা সঙে নিরুপম নটন বিলাসবি
পূরবি সব অভিলাষ॥
কালিন্দী-তীর সমীর বহই মৃদু
নিভৃত-নিকুঞ্জক মাহ।
কত কত কেলি বিলাসবি কানু সঞে
করবি অমিয়া অবগাহ॥
এত কহি বেশ বনাওত সহচরী
সুন্দরী-চিত থির ভেল।
অভিসার লাগিয়া সমুচিত উপহার
রায় বসন্ত কত কেল॥

ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড”,
৭১-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পদটি সেখানে
এভাবে পাই।

॥ ধানশী॥

সুন্দরি! থির কর আপনক চিত।
কানু অনুরাগে                        অথির যব হোয়বি
কৈছে বুঝবি তছু রীত?
সমুচিত বেশ                         বনায়ব অব তুয়া
মিলাওব নাগর পাশ।
তাসঞে নিরুপম                        নটন বিলাসবি
পূরবি সব অভিলাষ॥
কালিন্দী-তীর                        সমীর বহই মৃদু,
নিভৃত নিকুঞ্জকি মাহ।
কত কত কেলি                        বিলাসবি কানু সঞে,
করবি অমিয়া অবগাহ॥
এত কহি বেশ                        বনাওত সহচরী
সুন্দরী চিত থির ভেল।
অভিসার লাগিয়া                        সমুচিত উপহার,
রায় বসন্ত কহ কেল॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
সহজে সুনাগর রসময়-অঙ্গ
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৪৯, পৃষ্ঠা ২১০১।
পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের,
সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব,
অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৩০।

.        ॥ কেদার॥

সহজে সুনাগর রসময়-অঙ্গ।
তিলেক না তেজই রসবতী-সঙ্গ॥
রস-ভরে রসবতী করু রস-রঙ্গ।
রঙ্গী রসিকবর রহু তিরিভঙ্গ॥
মুরলী-মিলিত মুখ মুখ এক-সঙ্গ।
পরশনে তনু তনু উদয় অনঙ্গ॥
পিবই অধর-রস ঘন ঘন চুম্ব।
কবহুঁ কলাবতী প্রেম-পরিরম্ভ॥
যুবতী-যুথ মাঝে যুগল-কিশোর।
বিজুরী বলাহক রহল অগোর॥
করি-কুম্ভ কুচ কিয়ে চারু চকোর।
রায়-বসন্ত-পহুঁ রহু ভোর॥

ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ,
প্রথম খণ্ড”, ৭৪-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত
হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই।

.        ॥ কেদার॥

সহজে সুনাগর রসময়-অঙ্গ।
তিলেক না তেজই রসবতী সঙ্গ॥
রস-ভরে রসবতী করু রসরঙ্গ।
রঙ্গী রসিকবর রহু তিরিভঙ্গ॥
মুরলী মিলিত মুখ মুখ এক সঙ্গ।
পরশনে তনু তনু, উদয় অনঙ্গ॥
পীবই অধর রস, ঘন ঘন চুম্ব।
করহুঁ কলাবতী প্রেম পরিরম্ভ॥
যুবতী যুথ মাঝে যুগল কিশোর।
বিজুরী বলাহক রহল আগোর॥
করি কুম্ভ কুচ কিয়ে চারু চকোর।
রায় বসন্ত পহু তঁহি রহু ভোর॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
রাধামাধব বিহরই বিপিনে
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু
গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৫০, পৃষ্ঠা ২১০২। পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ
শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৩১।


॥ কল্যাণী॥

রাধামাধব বিহরই বিপিনে।
যুবতী কলাবতী                                  সঙ্গহি শত শত
কেলি-কলা-রস নিপুণে॥
কোই কোই ধনী বনি                            নাচত প্রিয়-সঙ্গে
কেহু কেহু গাওত রঙ্গে।
কেহু অঙ্গ-ভঙ্গী গতি                            তারু কর-চালনি
শোহনি গুরুয়া নিতম্বে॥
কেহ আনন্দ-মতি                                 চিত্র-চরণ-গতি
কহে থৈ থৈ পরসঙ্গে।
কেহু কহে ভালে কানু                        সান্তাল গিরহ জনু
রাধা-নয়ন-তরঙ্গে॥
বিহসি রসিকবর                               বয়ান-কমল পর
মধুকর জনু মধু-পানে।
অধর-অমিয়া-ফল-                             রস পিবি তুলল
রায় বসন্ত গুণ গানে॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
নাগর নাচত নাগরী সঙ্গ
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৪৮, পৃষ্ঠা ২১০১।

.        ॥ কানেড়া॥

নাগর নাচত নাগরী সঙ্গ।
বিবিধ যন্ত্র কত শবদ-তরঙ্গ॥
দৃমি দৃমি দৃমি দৃমি বাজে মৃদঙ্গ।
ডম্ফ রবাব বীণ মুরলী উপাঙ্গ॥
বলয়-নূপুর-মণি-কিঙ্কিণী-বলনে।
ঘুঙ্ঘুর রুণুঝুনু বাজত চরণে॥
আনন্দে অঙ্গ অঙ্গ-অবলম্ব।
রস-ভরে গিরত মিলত পরিরম্ভ॥
কমলে মোতি কিয়ে মুখে শ্রম-বারি।
রসিক কলা-গুরু কহে বলিহারি॥
বিহসি বিলোকই দুহুঁ-চিত চোরি।
রায়-বসন্ত-পহুঁ রহু হিয়ে জোরি॥

রবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক
সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয়
নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯২৯, এভাবে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ কানেড়া॥

নাগর নাচত নাগরি সঙ্গ।
বিবিধ যন্ত্র কত শবদ-তরঙ্গ॥
দৃমি দৃমি দৃমি দৃমি বাজে মৃদঙ্গ।
ডম্ফ রবাব বিণ মুরলি উপাঙ্গ॥
বলয়-নূপুর-মণি-কিঙ্কিণি-কলনে।
ঘুঙ্ঘুর রুণুঝুনু বাজত চরণে॥
আনন্দে অঙ্গ-অঙ্গ অবলম্ব।
রস-ভরে গিরত মিলত পরিরম্ভ॥
কমলে মোতি কিয়ে মুখে শ্রম-বারি।
রসিক-কলা-গুরু কহে বলিহারি॥
বিহসি বিলোকই দুহুঁ-চিত চোরি।
রায়-বসন্ত-পহুঁ রহু হিয় জোরি॥

ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ,
প্রথম খণ্ড”, ৭১-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত
হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই।

.        ॥ কানাড়া॥

নাগর নাচত নাগরী সঙ্গ।
বিবিধ যন্ত্র কত শবদ-তরঙ্গ॥
মৃদি মৃদি মৃদি মৃদি বাজে মৃদঙ্গ।
ডম্ফ রবাব বীণ মুরলী উপাঙ্গ॥
বলয়-নূপুর-মণি-কিঙ্কিণী-বলনে।
ঘুঙ্ঘুর ঝুণু ঝুনু বাজত চরণে॥
আনন্দে অঙ্গ অঙ্গ অবলম্ব।
রস ভরে গিরত মিলত পরিরম্ভ॥
কমলে মোতি কিয়ে মুখে শ্রম-বারি।
রসিক কলাগুরু কহে বলিহারি॥
বিহসি বিলোকই দুহুঁ চিত চোরি।
রায় বসন্ত পহুঁ রহু হিয়ে জোরি॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
রাধামাধব করয়ে বিলাস  
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৫১, পৃষ্ঠা ২১০৩।

.        ॥ বিহাগড়া॥

রাধামাধব করয়ে বিলাস।
দুহুঁ-মুখ হেরইতে দুহুঁক উলাস॥
দুহুঁক বয়নে ঝরয়ে শ্রম-বারি।
হেম-নীল-কমলে মোতিম নিহারি॥
দুহুঁ হরষিত-মন বয়ন নেহারি।
শোভা-অবধি দুহুঁ কহে বলিহারি॥
অলস-অবশ দুহুঁ হেলন অঙ্গ।
উয়ল জনু ঘন দামিনী সঙ্গ॥
দুহুঁ-ভুজ দুহুঁক অংস অবলম্ব।
দুহুঁ বিলসই পুন পুন পরিরম্ভ॥
তিরপিত নহ দুহুঁ নিমিখে চিত ভীত।
রায় বসন্ত কহে ঐছে পিরীত॥

রবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক
সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয়
নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৩২, এভাবে দেয়া রয়েছে।

.        ॥ বিহাগড়া॥

রাধামাধব করয়ে বিলাস।
দুহুঁ-মুখ হেরইতে দুহুঁক উলাস॥
দুহুঁক বয়নে ঝরয়ে শ্রম-বারি।
হেম-নীল-কমলে মোতিম নেহারি॥
দুহুঁ হরষিত-মন বয়ন নেহারি।
শোভা-অবধি দুহুঁ কহে বলিহারি॥
অলস-অবশ দুহুঁ হেলন অঙ্গ।
ঊয়ল জনু ঘন দামিনি সঙ্গ॥
দুহুঁ-ভুজ দুহুঁক অংস অবলম্ব।
দুহুঁ বিলসই পুন পুন পরিরম্ভ॥
তিরপিত নহত নিমিখে চিত ভীত।
রায় বসন্ত কহে ঐছে পিরীত॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
রজনী বিহরি দুহুঁ আলসে বিভোর  
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৫২, পৃষ্ঠা ২১০৩।

.        ॥ বিহাগড়া॥

রজনী বিহরি দুহুঁ আলসে বিভোর।
আওল নিকুঞ্জহি কিশোরী কিশোর॥
বৈঠল রতন-সিংহাসন মাঝ।
সেবন-পরায়ণ সহচরী সাজ॥
কেহু করু বীজন কেহু দেই পানী।
চরণ পাখালই ঝরঝরী আনি॥
কর চরণ গ্রীবা মৃদু মৃদু চাপি।
বিগত কয়ল শ্রম সেবন আপি॥
কত কত উপহার ভোজন পান।
করিয়া শীতল ভেল নাগর কান॥
সখী সঞে সুবদনী অবশেষ পাই।
বৈঠল শেজ পর তাম্বুল খাই॥
সখীগণ শুতল নিজ নিজ শেজে।
শুতলি নাগরী নাগর-রাজে॥
কো কহু দুহুঁ জন ও সুখ-অন্ত।
দূরহি দূরে রহু রায় বসন্ত॥

রবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক
সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয়
নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৩২, এভাবে রয়েছে।

.        ॥ বিহাগড়া॥

রয়নি বিহরি দুহুঁ আলসে বিভোর।
আওল নিকুঞ্জহি কিশোরি কিশোর॥
বৈঠল রতন-সিংহাসন মাঝ।
সেবন-পরায়ণ সহচরি সাজ॥
কেহুঁ করু বীজন কেহু দেই পানি।
চরণ পাখালই ঝরঝরি আনি॥
কর চরণ গ্রিবা মৃদু মৃদু চাপি।
বিগত কয়ল শ্রম সেবন আপি॥
কত কত উপহার ভোজন পান।
করিয়া শিতল ভেল নাগর কান॥
সখি সঞে সুবদনি অবশেষ পাই।
বৈঠল শেজ পর তাম্বুল খাই॥
সখিগণ শুতল নিজ নিজ শেজে।
শুতলি নাগরী নাগর-রাজে॥
কো কহু দুহুঁ জন ও সুখ-অন্ত।
দূরহি দূরে রহু রায় বসন্ত॥

ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ,
প্রথম খণ্ড”, ৭৪-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত
হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই।

.        ॥ বিহাগড়া॥

রজনী বিহরি দুহুঁ আলসে বিভোর।
আওল নিকুঞ্জহি কিশোরী কিশোর॥
বৈঠল রতন-সিংহাসন মাঝ।
সেবন পরায়ণ সহচরী সাজ॥
কেহু করু বীজন, কেহু দেই পানী।
চরণ পাখালই ঝরঝরী আনি॥
কর চরণ গ্রীবা মৃদু মৃদু চাপি।
বিগত কয়ল শ্রম সেবন আপি॥
কত কত উপহার ভোজন পান।
করিয়া শীতল ভেল নাগর কান॥
সখী সঙ্গে সুবদনী অবশেষ পাই।
বৈঠল শেজ পর তাম্বুল খাই॥
সখীগণ শুতল নিজ নিজ শেজে।
শুতলি নাগরী নাগর-রাজে॥
কো কহু দুহুঁ জন ও সুখ অন্ত।
দূরহি দূরে রহু রায় বসন্ত॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
ভুজে ভুজে বন্ধনে নিবিড় আলিঙ্গনে
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু
গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৫৩, পৃষ্ঠা ২১০৪।

॥ বিহাগড়া॥

ভুজে ভুজে বন্ধনে                        নিবিড় আলিঙ্গনে
ঘূমল রাধা কান।
কুসুম সেজোপর                              নিচল কলেবর
নীলমণি হেম বনান॥
দেখ সখি দুহুঁ জন-লেহ।
বদনহি বদন-চাঁদ                                  মধু পিবত
ঘূমে থকিত করি দেহ॥ ধ্রু॥
অরুণহি অরুণ                          তিমির লাগি ভাগত
এমতি অপরূপ রঙ্গ।
ভুজগিনী মোর                              ভোর করু সঙ্গম
গিরি পর জলধি-তরঙ্গ॥
চান্দকি নিয়ড়ে                        কমল ভেল বিকশিত
সূর পাশে কুমুদ-বিকাশ।
কিরে ঘন-দামিনী                             থিরে বিরাজই
রায় বসন্ত রসে ভাস॥

রবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ
১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৩৪,
এভাবে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহগড়া॥

ভুজে ভুজে বন্ধনে নিবিড় আলিঙ্গনে
ঘূমল রাধা কান।
কুসুম সেজোপর নিচল কলেবর
নিলমণি হেম বনান॥
দেখ সখি দুহুঁ জন-লেহ।
বদনহি বদন-চাঁদ মধু পীবত
ঘূমে থকিত করি দেহ॥ ধ্রু॥
অরুণহি অরুণ তিমির লাগি ভাগত
এমতি অপরুপ রঙ্গ।
ভুজগিনি মোর ভোর করু সঙ্গম
গিরি পর জলধি-তরঙ্গ॥
চান্দকি নিয়ড়ে কমল ভেল বিকশিত
সুর পাশে কুমুদ-বিকাশ।
কিয়ে ঘন-দামিনী থীরে বিরাজই
রায় বসন্ত রসে ভাস॥

ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড”, পৃষ্ঠা
৭৫-এ  রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে
পাই।

॥ বিহাগড়া॥

ভুজে ভুজে বন্ধনে,                        নিবিড় আলিঙ্গনে,
ঘুমল রাধা কান।
কুসুম শেজপরে,                             নিচল কলেবর,
নীলমণি হেম বনান॥
দেখ সখি দুহুঁ জন লেহ।
বদনহি বদন-                                 চাঁদ মধু পীবত,
ঘুমে থকিত করি দেহ॥
অরুণহি অরুণ,                         তিমির লাগি ভাগত,
এমতি অপরূপ রঙ্গ।
ভুজগিনী মৌর,                             ভোর করু সঙ্গম,
গিরিপর জলধি তরঙ্গ॥
চাঁদকি নিয়ড়ে,                        কমল ভেল বিকশিত,
সূর পাশে কুমুদ বিকাশ।
কিরে ঘন দামিনী                             থিরে বিরাজই,
রায় বসন্ত রসে ভাষ॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
নিশি অবসান ভেল সহচরী দেখি
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৫৪, পৃষ্ঠা ২১০৫।

.        ॥ ললিত॥

নিশি অবসান ভেল সহচরী দেখি।
জাগল সব তঁহি পরতেকি॥
সবে মেলি আওল দুহুঁ জন পাশ।
ঘুমে বিভোর দুহুঁ হেরি সখী হাস॥
হৃদয়ে বেয়াকুল কছু নাহি বোলে।
জাগল দুহুঁ জন অভরণ-রোলে॥
উঠি বৈঠল নিজ শয়নক মাঝ।
অম্বর সম্বরু পাইয়া লাজ॥
সখীগণ দুহুঁজনে কয়ল নিদেশ।
ইঙ্গিতে বুঝায়ল নিশি অবশেষ॥
কাতর অন্তর দুহুঁ-মুখ হেরি।
বদনহি বচন না নিকশয়ে ফেরি॥
রায় বসন্ত কহে দুহুঁজন-প্রেম।
কৈছনে তেজবি লাখবান হেম॥

রবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক
সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয়
নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৩৫, এভাবে দেওয়া রয়েছে।

নিশি অবসান ভেল সহচরি দেখি।
জাগল সব তহিঁ পরতেকি॥
সবে মেলি আওল দুহুঁ জন পাশ।
ঘুমে বিভোর দুহুঁ হেরি সখি হাস॥
হৃদয়ে বেয়াকুল কছু নাহি বোলে।
জাগল দুহুঁ জন অভরণ-রোলে॥
উঠি বৈঠল নিজ শয়নক মাঝ।
সম্বরু অম্বর পাইয়া লাজ॥
সখিগণ দুহুঁজনে কয়ল নিদেশ।
ইঙ্গিতে বুঝায়ল নিশি অবশেষ॥
কাতর অন্তর দুহুঁ-মুখ হেরি।
বদনহি বচন না নিকশয়ে ফেরি॥
রায় বসন্ত কহে দুহুঁজন-প্রেম।
কৈছনে তেজব লাখবান হেম॥

ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ,
প্রথম খণ্ড”, ৭৫-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত
হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই।

.        ॥ ললিত॥

নিশি অবসান ভেল সহচরী দেখি।
জাগল সব তঁহি পরতেকি॥
সবে মেলি আওল দুহুঁ জন পাশ।
ঘুমে বিভোর দুহুঁ হেরি সখী হাস॥
হৃদয়ে বেয়াকুল কছু নাহি বোলে।
জাগল দুহুঁ জন অভরণ-রোলে॥
উঠি বৈঠল নিজ শয়নক মাঝে।
অম্বর সম্বরু পাইয়া লাজে॥
সখীগণ দুহুঁ জনে কয়ল নিদেশ।
ইঙ্গিতে বুঝায়ল নিশি অবশেষ॥
কাতর অন্তর দুহুঁ-মুখ হেরি।
বদনহি বচন না নিকশয়ে ফেরি॥
রায় বসন্ত কহে দুহুঁ জন প্রেম।
কৈছনে তেজবি নাখবান হেম॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
অহে নাথ করি পরিহার
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৫৫, পৃষ্ঠা ২১০৫।

.        ॥ ললিত॥

অহে নাথ করি পরিহার।
সখীগণ-ইঙ্গিত গমন বিচার॥
বিশেষ অবোধ নিশি বোধ না মান।
কুলিশ অরুণ তার হৃদয় পাষাণ॥
বিধি কুলবতী করি কৈলা নিরমাণ।
ধিক ধিক পরবশ রমণী-পরাণ॥
হাসি অনুমতি দেহ চাহিয়া আমারে।
বিরস বদন নহ কহিল তোমারে॥
ও সুপুরুখবর চতুর সুজান।
রায় বসন্ত কহ রাখ কুল-মান॥

রবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক
সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয়
নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৩৬, এভাবে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ বিহগড়া॥

অহে নাথ করি পরিহার।
সখিগণ-ইঙ্গিত গমন বিচার॥
বিশেষে অবশ নিশি বোধ না মান।
কুলিশ অরুণ তার হৃদয় পাষাণ॥
বিধি কুলবতি করি কৈল নিরমাণ।
ধিক ধিক পরবশ রমণি-পরাণ॥
হাসি অনুমতি দেহ চাহিয়া আমারে।
বিরস বদন নহ কহিল তোমারে॥
ও সুপুরুখ-বর চতুর সুজান।
রায় বসন্ত কহ রাখ কুল-মান॥

ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ,
প্রথম খণ্ড”, ৭৫-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত
হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই।

.        ॥ বিভাস॥

অহে নাথ করি পরিহার।
সখীগণ ইঙ্গিত, গমন বিচার॥
বিশেষ অবোধ নিশি বোধ না মান।
কুলিশ অরুণ তার হৃদয় পাষাণ॥
বিধি কুলবতী করি কৈলা নিরমাণ।
ধিক ধিক পরবশ রমণী-পরাণ॥
হাসি অনুমতি দেহ চাহিয়া আমারে।
বিরস বদন নহ কহিনু তোমারে॥
অহে সুপুরুখবর চতুর সুজান।
রায় বসন্ত কহ রাখ কুলমান॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
সুন্দরী না কর গমন-পরসঙ্গ
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু
গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৫৬, পৃষ্ঠা ২১০৬।

॥ বিভাষ॥

সুন্দরি না কর গমন-পরসঙ্গ।
না সহে দুঃসহ কথা                        আনে কি আনের ব্যথা
ভালে হর ভেল আধ-অঙ্গ॥
তুহুঁ হাম তনু ভিন                               শ্রবণে জীবন ক্ষীণ
কেমনে ধরিব আমি বুক।
হাসিতে মোহিত মন                        কি মোহিনী তুমি জান
বিরমহ দেখি চাঁদ মুখ॥
না দেখিলে কিবা হয়                             পলক অলপ নয়
ইথে আঁখি অধিক তিয়াস।
পরাণ কেমন করে                             মরম কহিনু তোরে
জীবন নিছনি তুয়া পাশ॥
পরশ লাগিয়া মোর                              হিয়া কাঁপে থরহর
নিমিষের ডরে আঁখি ঝরে।
রায় বসন্ত ভণি                                   অবনত-মুখী ধনী
জড়-মতি ভেল প্রেম-ভরে॥

রবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ
১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৩৭,
এভাবে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাষ॥

সুন্দরী না কর গমন পরসঙ্গ।
না সহে দুঃসহ কথা                        আনে কি আনের বেথা
ভালে হয় ভেল আধ-অঙ্গ॥
তুহুঁ হাম তনু ভীন                                শ্রবণে জীবন ক্ষীণ
কেমনে ধরিব আমি বুক।
হাসিতে মোহিত মন                         কি মোহিনী তুমি জান
বিরমহ দেখি চাঁদ-মুখ॥
না দেখিলে কিবা হয়                              পলক অলপ নয়
ইথে আঁখি অধিক তিয়াস।
পরাণ কেমন করে                              মরম কহিলুঁ তোরে
জীবন নিছনি তুয়া পাশ॥
পরশ লাগিয়া মোর                             হিয়া কাঁপে থরহর
নিমিষের ডরে আঁখি ঝরে।
রায় বসন্ত ভণি                                   অবনত-মুখী ধনী
জড়-মতি ভেল প্রেম-ভরে॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর