| কবি রায় বসন্তর বৈষ্ণব পদাবলী |
| অহে নাথ আর মোর না দেখি উপায় কবি রায় বসন্ত আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৫৭, পৃষ্ঠা ২১০৭। পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৩২। ॥ বিভাষ॥ অহে নাথ আর মোর না দেখি উপায়। যাউক তোমার বালাই লইয়া মনে সাধ আর নাহি ভায়॥ ধ্রু॥ যে তুমি পরাণ-ধন মলিন নয়ান মন এ বড়ই বিষম বিষাদ। পরাণ ঝুরিয়া কান্দে হিয়া থির নাহি বান্ধে কারে ঘটে হেন পরমাদ॥ গৃহে গুরু-গঞ্জন কত নিন্দে বন্ধুজন তাহা মনে পরশ না হোয়। কে আপন কে বা ভিন না বুঝয়ে দোষ গুণ এ দুখ-দহনে দহে মোয়॥ তুয়া সুখে সুখী হই এ সকল দুখ সই কি করিবে অপযশ কাজ। রায় বসন্ত ভণ চাঁদের কলঙ্ক যেন অপযশ গোকুল-সমাজ॥ এই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড”, পৃষ্ঠা ৬৬-এ রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই। ॥ ধানশী॥ অহে নাথ মোর আর না দেখি উপায়। যাউক জঞ্জাল, মরি তোমার বালাই লইয়া আর সাধ মনে নাহি ভায়॥ যে তুমি পরাণ ধন, মিলল নয়ন মন, এ বড়ই বিষম বিষাদ। পরাণ ঝুরিয়া কাঁদে, হিয়া থির নাহি বাঁধে, কারে ঘটে হেন পরমাদ? গৃহে গুরু গঞ্জন, আর নিন্দে বন্ধুগণ, তাহা মনে পরশ না হোয়। কে আপন কে বা ভীন, দোষে মোরে অনুদিন, এ দুখ দহনে দহে মোয়॥ তুয়া সুখে সুখী হই, এ সকল দুখ সই, কি করিবে অপযশ কাজ। রায় বসন্ত ভণ, চাঁদের কলঙ্ক যেন, অপযশ গোকুল সমাজ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সুন্দরী স্বরূপহি করবি পয়ান কবি রায় বসন্ত আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৫২, পৃষ্ঠা ২১০৮। পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৪১। ॥ বিভাষ॥ সুন্দরী স্বরূপহি করবি পয়ান। যে মোর বচন হিত তাহে নহে পরতীত বুঝি হেন আন অবধান॥ ধ্রু॥ তোহারি পিরীতি-আশে তেজি সুখ গৃহ-বাসে সাধ মোর ভেল বন-বাস। সহজেই তোমা বিনে উতপত মোর প্রাণে ধিক রহু পর-রতি-আশ॥ বিশেষে বয়ন সখি বিরস অধিক দেখি হেন নাহি দেখিয়া জুড়াই। রায় বসন্ত কয় হিয়ায় কি হেন সয় সজল-নয়ান ভেল রাই॥ এই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড”, পৃষ্ঠা ৬৭-এ রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই। ॥ শ্রীরাগ॥ সুন্দরী, স্বরূপহি করবি পয়ান। যে মোর বচন হিত, তাহে নহে পরতীত হেন বুঝি আন অবধান॥ তোহারি পিরীতি আশে ত্যজি সুখ গৃহবাসে, সাধ মোর ভেল বনবাস। সহজেই তোমা বিনে, উতপত মোর প্রাণে ধিক্ মোহে রহুঁ পরবাস॥ বিশেষ বদন সখি! বিরস অধিক দেখি, হেন নাহি দেখিয়া জুড়াই। রায় বসন্ত কয়, হিয়ায় কি হেন সয়, সজল নয়ান ভেল রাই॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাইক পিরীতিবচনে কানু উলসিত কবি রায় বসন্ত ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ৬৮৯। আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৪৭। ॥ বিভাষ॥ রাইক পিরীতিবচনে কানু উলসিত লোচনে আনন্দ বারি। শ্রবণে মনোরম পুলকে পুরল তনু পুন পুন কহে বলিহারি॥ রীঝি রীঝি হিয়ে হিয়ায় মিলায়ই কত যে সাধ তছু মরমে। রসভরে মুখে মুখ নিবেশিয়া নাগর কহে রসনারসমিলনে॥ অঙ্গ হি অঙ্গ মিশাইয়া এক হয়ে প্রেমভরে কছু নাহি জানে। এমন পিরীতি আর কথিহু না পেখিয়ে দুহুঁ এক শকতি বিধানে॥ হর গিরিজা জনু মিলন আরাধনে কতয়ে বাঢ়য়ে রতিরঙ্গ। অনঙ্গ অঙ্গ ভেল দুহুঁ তনু মীলল রায় বসন্ত সখি সঙ্গ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |