কবি রায় বসন্তর বৈষ্ণব পদাবলী
*
অহে নাথ না বল এমন
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৫২, পৃষ্ঠা ২১০৩।

.        ॥ বিভাষ॥

অহে নাথ না বল এমন।
সহিতে না পারি হেন করুণ বচন॥
শপথ-স্বরূপ কহি তুমি তনু মন।
তুমি সে নয়ান-মণি জীবনের জীবন॥
না দেখিলে মরিয়ে কেমন তনু ভিন।
পরাণে মরয়ে যেন জল বিনু মীন॥
তোমার পিরীতে আমি হইলাম ঋণী।
মূলে বিকাইব আর কি দিব নিছনি॥
কি করিবে গুরু-ভয় গৃহের করম।
তেজিনু সকল বন্ধু কুলের ধরম॥
সহজেই মজিলাম এমন চরিতে।
রায় বসন্ত কহে যে হউ ভজিতে॥

রবর্তী সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক
সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয়
নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৩৮, এইভাবে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ বিভাষ॥

অহে নাথ না বোল এমন।
সহিতে না পারি হেন করুণ বচন॥
শপথ-স্বরূপ কহি তুমি তনু মন।
তুমি সে নয়ান-মণি জীবনের জীবন॥
না দেখিলে মরিয়ে কেমন তনু ভীন।
পরাণে মরয়ে যেন জল বিনু মীন॥
তোমার পিরীতে আমি হইলাম ঋণী।
মূলে বিকাইলুঁ আর কি দিবা নিছনি॥
কি করিবে গুরু-ভয় গৃহের করম।
তেজিলুঁ সকল বন্ধু কুলের ধরম॥
সহজেই মজিলাম এমন চরিতে।
রায় বসন্ত কহে যে হউ ভজিতে॥

ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ,
প্রথম খণ্ড”, ৬৬-পৃষ্ঠা রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত
হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই।

.        ॥ বেহাগ॥

অহে নাথ না বোল এমন।
সহিতে না পারি হেন করুণ বচন॥
শপথ স্বরূপ কহি তুমি তনু মন।
তুমি সে নয়ন মণি জীবন-জীবন॥
না দেখিলে মরিয়ে কেমন তনু ভীন।
পরাণে মরয়ে জনু জল বিনু মীন॥
তোমার পিরীতে হাম হইনু বিকিনী।
মূলে বিকালাঙ আর কি দিব নিছনি?
কি করিবে গুরুভয় গৃহের করম।
ত্যজিনু সকল বন্ধু কুলের ধরম॥
সহজে মজিনু মুঞি তোমার চরিতে।
রায় বসন্ত কহে যে হয় উচিতে॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
অহে নাথ আর মোর না দেখি উপায়
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু
গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৫৭, পৃষ্ঠা ২১০৭। পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ
শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৩২।

॥ বিভাষ॥

অহে নাথ আর মোর না দেখি উপায়।
যাউক তোমার                                        বালাই লইয়া
মনে সাধ আর নাহি ভায়॥ ধ্রু॥
যে তুমি পরাণ-ধন                                 মলিন নয়ান মন
এ বড়ই বিষম বিষাদ।
পরাণ ঝুরিয়া কান্দে                          হিয়া থির নাহি বান্ধে
কারে ঘটে হেন পরমাদ॥
গৃহে গুরু-গঞ্জন                                    কত নিন্দে বন্ধুজন
তাহা মনে পরশ না হোয়।
কে আপন কে বা ভিন                        না বুঝয়ে দোষ গুণ
এ দুখ-দহনে দহে মোয়॥
তুয়া সুখে সুখী হই                               এ সকল দুখ সই
কি করিবে অপযশ কাজ।
রায় বসন্ত ভণ                                  চাঁদের কলঙ্ক যেন
অপযশ গোকুল-সমাজ॥

ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড”, পৃষ্ঠা
৬৬-এ  রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে
পাই।

॥ ধানশী॥

অহে নাথ মোর আর না দেখি উপায়।
যাউক জঞ্জাল,                            মরি তোমার বালাই লইয়া
আর সাধ মনে নাহি ভায়॥
যে তুমি পরাণ ধন,                                   মিলল নয়ন মন,
এ বড়ই বিষম বিষাদ।
পরাণ ঝুরিয়া কাঁদে,                             হিয়া থির নাহি বাঁধে,
কারে ঘটে হেন পরমাদ?
গৃহে গুরু গঞ্জন,                                    আর নিন্দে বন্ধুগণ,
তাহা মনে পরশ না হোয়।
কে আপন কে বা ভীন,                        দোষে মোরে অনুদিন,
এ দুখ দহনে দহে মোয়॥
তুয়া সুখে সুখী হই,                                 এ সকল দুখ সই,
কি করিবে অপযশ কাজ।
রায় বসন্ত ভণ,                                     চাঁদের কলঙ্ক যেন,
অপযশ গোকুল সমাজ॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
সখীগণ কহে নাথ কর অবধান
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৫৯, পৃষ্ঠা ২১০৮।
পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের,
সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব,
অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৪০।

.        ॥ বিভাষ॥

সখীগণ কহে নাথ কর অবধান।
অনুমতি দেহ ধনী ঘরেতে পয়ান॥
দারুণ নগরের লোক কি না জান তুমি।
ক্ষণেক ধৈরজ ধর এ লালস ক্ষমি॥
কত গুরু-গঞ্জন সহিবেক বালা।
বিধি কৈল কুলবতী তাহে এত জ্বালা॥
তোমার পিরীতে ধনী সদা উমতিনী।
রায় বসন্ত কহে সত্য কাহিনী॥

ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ,
প্রথম খণ্ড”, ৬৭-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত
হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই।

.        ॥ সুহই॥

সখীগণ কহে বঁধু কর অবধান।
অনুমতি দেহ ধনী ঘরেতে পয়ান॥
দারুণ নগরের লোক, কি না জান তুমি?
ক্ষণেক ধৈরজ ধর, এ লালস ক্ষমি॥
কত গুরু গঞ্জন সহিবেক বালা।
বিধি কৈল কুলবতী তাহে এত জ্বালা॥
তোমার পিরীতে ধনী সদা উমতিনী।
রায় বসন্ত কহে সত্য কাহিনী॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
সুন্দরী স্বরূপহি করবি পয়ান
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু
গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৫২, পৃষ্ঠা ২১০৮। পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ
শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৪১।

॥ বিভাষ॥

সুন্দরী স্বরূপহি করবি পয়ান।
যে মোর বচন হিত                              তাহে নহে পরতীত
বুঝি হেন আন অবধান॥ ধ্রু॥
তোহারি পিরীতি-আশে                         তেজি সুখ গৃহ-বাসে
সাধ মোর ভেল বন-বাস।
সহজেই তোমা বিনে                            উতপত মোর প্রাণে
ধিক রহু পর-রতি-আশ॥
বিশেষে বয়ন সখি                              বিরস অধিক দেখি
হেন নাহি দেখিয়া জুড়াই।
রায় বসন্ত কয়                                  হিয়ায় কি হেন সয়
সজল-নয়ান ভেল রাই॥

ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড”, পৃষ্ঠা
৬৭-এ  রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে
পাই।

॥ শ্রীরাগ॥

সুন্দরী, স্বরূপহি করবি পয়ান।
যে মোর বচন হিত,                             তাহে নহে পরতীত
হেন বুঝি আন অবধান॥
তোহারি পিরীতি আশে                        ত্যজি সুখ গৃহবাসে,
সাধ মোর ভেল বনবাস।
সহজেই তোমা বিনে,                           উতপত মোর প্রাণে
ধিক্ মোহে রহুঁ পরবাস॥
বিশেষ বদন সখি!                              বিরস অধিক দেখি,
হেন নাহি দেখিয়া জুড়াই।
রায় বসন্ত কয়,                                হিয়ায় কি হেন সয়,
সজল নয়ান ভেল রাই॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
প্রাণনাথ না বোল এমন  
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৬১, পৃষ্ঠা ২১০৯।
পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের,
সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব,
অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৪২।

.        ॥ বিভাষ॥

প্রাণনাথ না বোল এমন।
তোমা বিনে ত্রিজগতে কে আছে আপন॥
তোমার লাগিয়া মোর জীবন যৌবন।
বুঝিয়া করিনু পণ তেজি গুরুগণ॥
নিরমল কুল-শীল বিদিত ভূবন।
নিছনি করিনু তোমার ছুইয়া চরণ॥
নয়ান-পুতলী মোর তুমি সে ভূষণ।
রায় বসন্ত কহে দোহেঁ এক মন॥

ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ,
প্রথম খণ্ড”, ৬৭-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত
হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই।

.        ॥ বিভাস॥

প্রাণনাথ না বোল এমন।
তোমা বিনে ত্রিজগতে কে আছে আপন॥
তোমার লাগিয়া মোর জীবন যৌবন।
বুঝিয়া করিনু পণ ত্যজি গুরুগণ॥
নিরমল কুলশীল বিদিত ভুবন।
নিছনি করিনু তোমার ছুঁইয়া চরণ॥
নয়ান পুতলি মোর তুমি সে ভূষণ।
রায় বসন্ত কহে দুঁহে এক মন॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
অহে নাথ কিছুই না জানি  
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-
২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৪৩।

॥ বিভাষ॥

অহে নাথ কিছুই না জানি।
তোমাতে মগন মন দিবস রজনী॥
জাগিতে ঘুমিতে চিতে তোমাকেই দেখি।
পরাণ-পুতলী তুমি জীবনের সখী॥
অঙ্গ-অভরণ তুমি শ্রবণ-রঞ্জন।
বদনে বচন তুমি নয়নে অঞ্জন॥
নিমিখে শতেক যুগ হারাই যেন বাসি।
রায়-বসন্ত-পহু প্রেম-পঞ্জ-রাশি॥

ই পদটি, ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ,
প্রথম খণ্ড”, ৬৭-পৃষ্ঠায় রায় বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত
হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই।

.        ॥ বিভাস॥
অহে নাথ কিছুই না জানি।
তোমাতে মগন মন দিবস রজনী॥
জাগিতে ঘুমিতে চিতে তোমাকেই দেখি।
পরাণ-পুতলি তুমি জীবনের সখি॥
অঙ্গ-অভরণ তুমি শ্রবণ-রঞ্জন।
বদনে বচন তুমি নয়নে অঞ্জন॥
নিমিখে শতেক যুগ হারাই যেন বাসী।
রায় বসন্ত কহে পহু প্রেমরাশি॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
রাইক পিরীতিবচনে কানু উলসিত
কবি রায় বসন্ত
১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ৬৮৯। আনুমানিক
১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক
সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা,
পদসংখ্যা ২৯৪৭।   


॥ বিভাষ॥

রাইক পিরীতিবচনে                             কানু উলসিত
লোচনে আনন্দ বারি।
শ্রবণে মনোরম                              পুলকে পুরল তনু
পুন পুন কহে বলিহারি॥
রীঝি রীঝি হিয়ে                               হিয়ায় মিলায়ই
কত যে সাধ তছু মরমে।
রসভরে মুখে মুখ                             নিবেশিয়া নাগর
কহে রসনারসমিলনে॥
অঙ্গ হি অঙ্গ                                মিশাইয়া এক হয়ে
প্রেমভরে কছু নাহি জানে।
এমন পিরীতি আর                         কথিহু না পেখিয়ে
দুহুঁ এক শকতি বিধানে॥
হর গিরিজা জনু                              মিলন আরাধনে
কতয়ে বাঢ়য়ে রতিরঙ্গ।
অনঙ্গ অঙ্গ ভেল                             দুহুঁ তনু মীলল
রায় বসন্ত সখি সঙ্গ॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
সখীগণ কহে নাথ কর অবধান
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৬৭, পৃষ্ঠা ২১১২।
পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক  
সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয়
নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৪৮।


.        ॥ ললিত॥

সখীগণ কহে নাথ কর অবধান।
আরতি সমাপহ নিশি অবসান॥
অরুণ পূরব দিশে ঈযত প্রকাশ।
তরল তারক দেখি শশধর পাশ।
দিনমণি-গমনে মলিন দ্বিজ-রাজ।
কুহু কুহু শবদ সবহুঁ বন মাঝ॥
কর-কুম্ভে কামিনী বারি-বিলাস।
ইথে কি উচিত কুলবতী পতি পাশ॥
শিরে কর ধরি কহ না ভাবিহ আন।
তোমা অনুগত চিত তুমি সে পরাণ॥
রাইক গেহ গমন সে উচিত।
রায়-বসন্ত-পহুঁ ভেল চমকিত॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
সখিহে তুয়া হিয়া কঠিন সমান
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৬৮, পৃষ্ঠা ২১১৩।
পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক
সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয়
নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৪৯।

.        শ্রীকৃষ্ণোক্তিঃ।

.        ॥ ললিত॥

সখিহে তুয়া হিয়া কঠিন সমান।
রাই বিনে কৈছনে ধরব পরাণ॥
না যাইহ সহচরী শুন মোর বোল।
অবসান নহে নিশি নহ উতরোল॥
ক্ষণেকে রহিয়া সখি শুন নিবেদন।
সুবদনী-গত মোর ভেল তনু মন॥
রায় বসন্ত কহে ধৈরজ ধরিবে।
ক্ষণেক কারণে কিয়ে সব ঘুচাইবে॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
প্রাণনাথ তোহে কিছু কহিতে নারিনু
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৬৯, পৃষ্ঠা ২১১৩।
পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক
সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয়
নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৫০।


.        ॥ ললিত॥

প্রাণনাথ তোহে কিছু কহিতে নারিনু।
জাতি কুল শীল লাজে তিলাঞ্জলি দিনু॥
না জানি মিলন আজি কি খেণে হইল।
গোকুল ভরিয়া এই খেয়াতি রহিল॥
মুখ দেখাইতে লোকে মরণ হেন গণি।
বিধির লিখন ছুল হইল এমনি॥
সব দুখ পাসরিয়ে তোমার মুখ দেখি।
রায় বসন্ত কহে ঝরে দুটী আঁখি॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর