কবি রায় বসন্তর বৈষ্ণব পদাবলী
*
ধনি তুয়া কিসের গঞ্জনা
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৭০, পৃষ্ঠা ২১১৪।
পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের,
সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব,
অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৫১।


॥ ললিত॥

ধনি তুয়া কিসের গঞ্জনা।
তুমি আমি একই পরাণ দুই জনা॥
তোমার আমার গতি মূরতি এক ভাব।
এক স্বরূপ রতি এক অনুভাব॥
তুমি মোর ত্রিজগত-বিভব-বিহার।
পরাণ-পুতলী মোর হিয়ে মণিহার॥
সরবস-ধন মোর সকল সংসার।
রায়-বসন্ত-পহুঁ-পিরীতের সার॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
শুন মাধব কি কহিব আন
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৭১, পৃষ্ঠা ২১১৪।
পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের,
সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব,
অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৫২।


॥ বিভাষ॥

শুন মাধব কি কহিব আন।
আমার কে আছে আর তোমার সমান॥ ধ্রু॥
যেখানে না দেখি আমি তোমার চাঁদ-মুখ।
পরাণের সনে পুড়ি বড় পাই দুখ॥
আমি কি রহিতে পারি না দেখিয়ে তোমা।
বুক বিদারিয়া মরি নাহি হয় ক্ষমা॥
অনুমতি দেহ পুন মিলিব সকালে।
রায়-বসন্ত-পহুঁ পরশিল ভালে॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
প্রাণনাথ কেমন করিব আমি
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু
গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৭২, পৃষ্ঠা ২১১৪। পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ
শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৫৩।


॥ বিভাষ॥

প্রাণনাথ কেমন করিব আমি।
তোমা বিনে মন                         করে উচাটন
কে জানে কেমন তুমি॥ ধ্রু॥
না দেখি নয়ন                           ঝুরে অনুক্ষণ
দেখিতে তোমায় দেখি।
সোঙরণে মন                             মূরছিত হেন
মুদিয়া রহিবে আঁখি॥
শ্রবণে শুনিয়া                           তোমার চরিত
আন না ভাবয়ে মনে।
নিমিষের আধ                        পাসরিতে নারি
ঘুমালে দেখি স্বপনে॥
জাগিলে চেতন                         হারাইয়ে আমি
তোমা নাম করি কান্দি।
পরবোধ দেই                            এ রায় বসন্ত
তিলেক থির নাহি বান্ধি॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
সুন্দরী হাম বলিহারি তোহারি
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু
গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৭৩, পৃষ্ঠা ২১১৫। পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ
শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৫৪।


॥ রামকেলি॥

সুন্দরী হাম বলিহারি তোহারি।
পরিমিত নহে গুণ                        অতুল ভুবন তিন
রূপ মনোহর-কারী॥
বচনে নিছনি প্রাণ                        অলপে ঝুরয়ে যেন
সাধ করি রাখিতে নয়ানে।
হিয়ায় মাঝারে এ                        অনুক্ষণ রাখব
সদা দেখিয়ে তুয়া বয়ানে॥
এ তুয়া দরশন                                জনম-ভাগ্যে পুন
বসন-পবনে অঘ-হারী।
সে অঙ্গে-সঙ্গে                                সফল মঝু জীবন
করোঁ হিয়ে বাহু পসারি॥
পুরুষ রমণী কত                        অন্তরে অনুভব
সো পুন কহি নাহি পারি।
রায় বসন্ত ভণ                                পুরুষ মধুপ-মন
চাতক-রীত কুল-নারী॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
আলো ধনি সুন্দরি কি আর বলিব
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৭৪, পৃষ্ঠা ২১১৬।
পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের,
সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব,
অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৫৫।

.        ॥ বিভাষ॥

আলো ধনি সুন্দরি কি আর বলিব।
তোমা না দেখিয়া আমি কেমনে রহিব॥
তোমার মিলন মোর পুণ্য-পুঞ্জ রাশি।
মরমে লাগিছে মধুর মৃদু হাসি॥
আনন্দ-মন্দির তুমি জ্ঞান শকতি।
বাঞ্ছা-কল্পলতা মোর কামনা-মূরতি॥
সঙ্গের সঙ্গিণী তুমি সুখময় ঠাম।
পাসরিব কেমনে জীবনে রাধা-নাম॥
গলে বনমালা তুমি মোর কলেবর।
রায় বসন্ত কহে প্রাণের গুরুতর॥


ব্যাখ্যা -
১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত পাঁচশত বত্সরের পদাবলী-
তে এই পদটির ব্যাখ্যার জায়গায় তিনি রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধৃত করেছেন ---

এই পদটি সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথ লিখিয়াছেন - “এমন প্রশান্ত উদার গম্ভীর প্রেম বিদ্যাপতির
কোন পদে প্রকাশ পাইয়াছে কি না সন্দেহ। ইহার কয়েকটি সম্বোধন চমত্কার। রাধাকে যে
কৃষ্ণ বলিতেছেন---তুমি আমার কামনার মূর্তি, আমার মূর্তিমতী কামনা---অর্থাৎ তুমি
আমার মনের একটি বাসনা মাত্র রাধারূপে প্রকাশ পাইতেছ, ইহা কি সুন্দর! তুমি আমার
গলে বনমালা, তোমাকে পরিলে আমার শরীর তৃপ্ত হয় ; না তুমি তাহারও অধিক---তুমি
আমার শরীর, আমাতে তোমাতে প্রভেদ নাই---না, শরীর না, তুমি শরীরের চেয়েও অধিক,
তুমি আমার প্রাণ, সর্বশরীরকে ব্যাপ্ত করিয়া রহিয়াছে, যাহার আবির্ভাবে শরীর বাঁচিয়া
আছে, শরীরে চৈতন্য আছে, তুমি সেই প্রাণ ; রায় বসন্ত কহিলেন, না, তুমি তাহারও
অধিক, তুমি প্রাণেরও গুরুতর, তুমি বুঝি প্রাণকে প্রাণ দিয়াছ, তুমি আছ বলিয়াই বুঝি
প্রাণ আছে। ঐ যে বলা হইয়াছে “মরমে লাগিছে মধুর মৃদু হাসি,” ইহাতে হাসির মাধুর্য কি
সুন্দর প্রকাশ পাইতেছে। বসন্তের বাতাসটি গায়ে যেমন করিয়া লাগে, সুদূর বাঁশীর ধ্বনি
কানের কাছে যেমন করিয়া মরিয়া যায়, পদ্মমৃণাল কাঁপিয়া সরোবরে একটুখানি তরঙ্গ
উঠিলে তাহা যেমন করিয়া তীরের কাছে আসিয়া মিলাইয়া যায়, তেমনি একটুখানি হাসি---
অতি মধুর, অতি মৃদু একটি হাসি মরমে আসিয়া লাগিতেছে ; বাতাসটি গায়ে লাগিলে
যেমন ধীরে ধীরে চোখ বুজিয়া আসে, তেমনিতর বোধ হইতেছে! হাসি কি কেবল
দেখা যায় ? হাসি ফুলের গন্ধটির মত প্রাণের মধ্যে আসিয়া লাগে।” রবীন্দ্র গ্রন্থাবলী,
হিতবাদী সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১১০৬-৭।

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
শ্যাম বন্ধু না বলিহ আর
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদ-কল্প-তরু গ্রন্থ, প্রথম সংস্করণ ১৮৯৭, চতুর্থ শাখা, পদসংখ্যা ২৮৭৫, পৃষ্ঠা ২১১৬।
পরবর্তি সংস্করণে অর্থাৎ সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের,
সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব,
অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৫৬।


.        ॥ বেলাবেলী॥

শ্যাম বন্ধু না বলিহ আর।
গুরু গরবিত মোর যাউ ছারেখার॥
না যাইব ঘরে বন্ধু রহিব কাননে।
কি করিবে আর পাপ-ননদী-বচনে॥
তুয়া পায় সোঁপিয়াছি তনু মন প্রাণ।
দিবস রজনী তোমা বিনে নাহি আন॥
অন্তরে বাহিরে বন্ধু তুমি কেবল সার।
এই দেখ তোমারে করিব গলার হার॥
রায় বসন্ত কহে আর কথা নাই।
যে পণ করিলে তুমি হইল তাহাই॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
যুগল রূপ
বড় অপরূপ দেখিলুঁ সজনি
কবি রায় বসন্ত
১৮৮৪ সালে প্রকাশিত, অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড”, পৃষ্ঠা ৬৭-এ  রায়
বসন্ত ভণিতাতেই বিদ্যাপতির পদাবলীর অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পদটি সেখানে এভাবে পাই।

॥ বরাড়ী॥

বড় অপরূপ,                                দেখিনু সজনি,
নয়লি কুঞ্জের মাঝে।
ইন্দ্র নীল মণি,                              কেতকে জড়িত,
হিয়ার উপরে সাজে॥
কুসুম শয়ানে,                                মিলিত নয়ানে,
উলসিত অরবিন্দ।
শ্যাম সোহাগিনী,                            কোরে ঘুমায়লি,
চান্দের উপরে চন্দ॥
কুঞ্জ কুসুমিত,                               সুধাকরে রঞ্জিত,
তাহে পিকুকুল গান।
মরমে মদন বাণ,                             দুহে আগেয়ান,
কি বিধি কৈল নিরমাণ॥
মন্দ মলয়জ,                                  পবন বহে মৃদু,
ও সুখ কো করু অন্ত।
সরবস ধন,                                  দোঁহার দুহুঁ জন,
কহয়ে রায় বসন্ত॥

বীন্দ্রনাথের, জ্ঞানদানন্দিনী দেবীকে উত্সর্গ করা, ১২৯৪ বঙ্গাব্দে (১৮৮৭ খৃষ্টাব্দে) প্রকাশিত, “সমালোচনা”
গ্রন্থের “বসন্ত রায়” প্রবন্ধে পদটি এইভাবে দেওয়া রয়েছে।

বড় অপরূপ                              দেখিনু সজনি
নয়লি কুঞ্জের মাঝে,
ইন্দ্রনীল মণি                             কেতকে জড়িত
হিয়ার উপরে সাজে॥
কুসুম শয়ানে                               মিলিত নয়ানে
উলসিত অরবিন্দ।
শ্যাম-সোহাগিনী                            কোরে ঘুমায়লি
চাঁদের উপরে চন্দ॥
কুঞ্জ কুসুমিত                             সুধাকরে রঞ্জিত
তাহে পিককুল গান,
মরমে মদন-বাণ                         দোঁহে আগেয়ান
কি বিধি কৈল নিরমাণ॥
মন্দ মলয়জ                               পবন বহে মৃদু
ও সুখ কো করু অন্ত।
সরবস-ধন                              দোঁহার দুহুঁ জন,
কহয়ে রায় বসন্ত॥

ই পদটি, ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” গ্রন্থ, ৬৮-পৃষ্ঠায়
এভাবে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

বড় অপরূপ                           দেখিলুঁ সজনি
নয়লি নিকুঞ্জ মাঝে।
ইন্দ্রনীলমণি                            কনকে জড়িত
হিয়ার উপরে সাজে॥
কুসুমশয়নে                              মিলিত নয়নে
উলসিত অরবিন্দা।
শ্যামসোহাগিনী                        কোরে ঘুমায়লি
চান্দের উপরে চন্দা॥
কুঞ্জ কুসুমিত                           চান্দনি রঞ্জিত
তাহে পিককুল গান।
মরমে মদন-বাণ                      দোঁহে আগেয়ান
কি বিধির নিরমাণ॥
মন্দ মলয়জ                               পবন মৃদুল
ও সুখ কো করু অন্ত।
সরবস ধন                            দোঁহার দুহুঁ জন
কহয়ে রায় বসন্ত॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
শ্রীরাধার ও শ্রীকৃষ্ণের উক্তিপ্রত্যুক্তি
অহে নাথ কি বলিব আর
কবি রায় বসন্ত
১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ৬৮৯।


.        ॥ বিভাষ॥

অহে নাথ কি বলিব আর।
তনুমন ধন তুমি পরাণ আমার॥
গরবিত ভয়ে দিলুঁ তিলাঞ্জলি দান।
জাতি কুল শীল তুমি লাজ অভিমান॥
জাগিতে ঘুমিতে চিতে তোমাকেই দেখি।
পরাণপুতলি তুমি জীবনের সাথী॥
তুমি সে ভূষণ মোর হিয়ে মণিহার।
তোমা বিনে এই মোর দেহ লাগে ভার॥
অঙ্গ আভরণ তুমি নয়ন অঞ্জন।
বচন রচনে তুমি শ্রবণরঞ্জন॥
তুমি সে জীবনগতি স্বরুপ বিচার।
রায় বসন্ত কহে দঢ়াইলুঁ সার॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
অহে রাই যে কহিলে হয়  
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), প্রথম প্রকাশ ১৮৯৭, ৪র্থ
খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৪৪।


.        ॥ বিভাষ॥

অহে রাই যে কহিলে হয়।
তোর লাগি মোর প্রাণ থির নাহি রয়॥
ধৈরজ ধরিল নহে ঝুরে দিন রাইতে।
হিয়ার পুতলী কান্দে তোমার পিরিতে॥
কহিতে নিয়ত মোর গদগদ ভাষ।
রহি রহি নয়নের নীর পরকাশ॥
মুরলীর গান মোর তুয়া অনুরাগে।
রায় বসন্ত কহে উচিত সোহাগে॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর       
*
আর না কহিয় বন্ধু বিদগধ-রাজ  
কবি রায় বসন্ত
আনুমানিক ১৭৫০ সালে পদকর্তা বৈষ্ণবদাস সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), প্রথম প্রকাশ ১৮৯৭, ৪র্থ
খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৪৫।


.        ॥ বিভাষ॥

আর না কহিয় বন্ধু বিদগধ-রাজ।
এবে সে সকল দূরে গেল লোক-লাজ॥
শুনিতে পরাণ সনে হিয়া মোর কাঁপ।
মরিব তোমার লাগি জলে দিব ঝাঁপ॥
আরতি পিরিতি নিতি রসের দুলাল।
সে মোরে হইল এবে কাল-বেয়াল॥
কেমন করিব বন্ধু কর উপদেশ।
তোমার মিলন পুন নিতুই সন্দেশ॥
এ ঘর-করণ মঞি বাসিয়ে জঞ্জাল।
সকটক বনে যেন কঠিন সঞ্চার॥
মনের মনোরথ যত সাধ মোর।
রায় বসন্ত কহে মুখ হেরি ভোর॥

.        *************************      
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর