.                                                                কবি রায় বসন্ত-এর পরিচিতির পাতায় যেতে  
.                                                                
এখানে ক্লিক করুন . . .।    
.        
বসন্তরায়
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মেজদা সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী জ্ঞানদানন্দিনী দেবীকে উত্সর্গ করা, ১২৯৪ সালে প্রকাশিত, “সমালোচনা” গ্রন্থের প্রবন্ধ “বসন্তরায়”।
রবীন্দ্র গ্রন্থাবলী, হিতবাদী সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১১০২-১১০৮। এই প্রবন্ধটি ১২৫তম রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে, চৈত্র ১৩৯৮ বঙ্গাব্দে (মার্চ
১৯৯২), বিশ্বভারতী থেকে প্রকাশিত, রবীন্দ্র রচনাবলী, পঞ্চদশ খণ্ডেও পাওয়া যাবে।

কেহ কেহ অনুমান করেন, বসন্ত রায় আর বিদ্যাপতি একই ব্যক্তি। এই মতের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক প্রমাণ
কিছু আছে কি না জানি না, কিন্তু উভয়ের লেখা পড়িয়া দেখিলে উভয় কে স্বতন্ত্র কবি বলিয়া আর সংশয়
থাকে না। প্রথমত উভয়ের ভাষায় অনেক তফাত। বিদ্যাপতির লেখায়--- ব্রজভাষায় বাংলা মেশানো, আর
রায়বসন্তের লেখায়--- বাংলায় ব্রজভাষা মেশানো। ভাবে বোধ হয়, যেন ব্রজভাষা আমাদের প্রাচীন কবিদের
কবিতার আফিসের বস্ত্র ছিল। শ্যামের বিষয় বর্ণনা করিতে হইলেই অমনি সে আটপৌরে ধুতি চাদর  
ছাড়িয়া বৃন্দাবনী চাপকানে বত্রিশটা বোতাম আঁটিত ও বৃন্দাবনী শামলা মাথায় চড়াইয়া একটা বোঝা  
বেড়াইয়া বহিত। বসন্ত রায় প্রায় ইহা বরদাস্ত করিতে পারিতেন না। তিনি খানিকক্ষণ বৃন্দাবনী পোশাক  
পড়িয়াই অমনি--- “দূর কর” বলিয়া ফেলিতেন। বসন্ত রায়ের কবিতার ভাষাো যেমন, কবিতার ভাবও  
তেমন। সাদাসিধা ; উপমার ঘনঘটা নাই ; সরল প্রাণের সরল কথা ; সে কথা বিদেশী ভাষায় প্রকাশ করিতে
য়ৈওয়াই মিথ্যা। করণ সরল প্রাণ বিদেশী ভাষায় কথা কহিতে পারেই না ; তাহার ছোট ছোট সুকুমার  
কথাগুলি, তাহার সূক্ষ্ম, স্পর্শ কাতর ভাবগুলি বিদেশী ভাষার গোলমালে একেবারে চুপ করিয়া যায়, বিদেশী
ভাষার জটিলতার মধ্যে আপনাদের হারাইয়া ফেলে। তখন আমরা ভাষাই শুনিতে পাই, উপমাই
শুনিতে পাই, সে সুকুমার ভাবগুলির প্রাণ ছোঁয়া কথা আর শুনিতে পাই না। এমন মানুষত সচরাচর দেখিতে
পাওয়া যায়, যাহাদের দেখিলে মনে হয়, মানুষটা পোষাক পরে নাই, পোষাকটাই মানুষ পরিয়া বসিয়াছে।
পোষাকে এমনি সে সমীহ করিয়া চলে যে, তাহাকে দেখিলে মনে হয়, আপনাকে সে পোষাক ঝুলাইয়া
রাখিবার আলনা মাত্র মনে করে, পোষাকের দামেই তাহার দাম। আমার ত বোধ হয়, অনেক স্ত্রীলোকের
অলঙ্কার ঘোমটার চেয়ে অধিক কাজ করে, তাহার হীরার সিঁথিটার দিকে লোকে এতক্ষণ চাহিয়া থাকে যে
তাহার মুখ দেখিবার আর অবসর থাকে না। কবিতারও সেই দশা আমরা প্রায় মাঝে মাঝে দেখিতে পাই।
বিদ্যাপতির সহিত চণ্ডীদাসের তুলনা করলেই টের পাওয়া যাইবে, বিদ্যাপতির অপেক্ষা চণ্ডীদাস কত সহজে
সরল ভাব প্রকাশ করিয়াছেন। আবার বিদ্যাপতির সহিত বসন্ত রায়ের তুলনা করিলেও দেখা যায়,
বিদ্যাপতির অপেক্ষা বসন্ত রায়ের ভাষা এ ভাব কত সরল। বসন্ত রায়ের কবিতার প্রায় কোন খানেই টানা-
বোনা তুলনা নাই, তাহার মধ্যে কেবল সহজ কথার যাদুগিরি আছে। যাদুগিরি নহেত কি ? কিছুই বুঝিতে
পারি না, এ গান শুনিয়া  প্রাণের মধ্যে এমন মোহ উপস্থিত হইল---কথাগুলিও ত খুব পরিষ্কার, ভাবগুলিও ত
খুব সোজা, তবে উহার মধ্যে এমন কি আছে, যাহাতে, আমার প্রাণে এতটা আনন্দ, এতটা সৌন্দর্য্য আনিয়া
দেয় ? এইখানে দুই একটি উদাহরণ দেওয়া যাক্। প্রথমে বিদ্যাপতির রাধা, শ্যামের রূপ কিরূপে বর্ণনা
করিতেছেন তাহা উদ্ধৃত করিয়া দিই,---

এ সখি কি দেখিনু এক অপরূপ,
শুনাইতে মানবি স্বপন স্বপূপ।
কমল যুগল পর চাঁদকি মাল,
তা পর উপজল তরুণ তমাল।
তা পর বেড়ল বিজুরী লতা,
কালিন্দী তীর ধীর চলি যাতা।
শাখা-শিখর সুধাকর পাঁতি,
তাহে নব পল্লব অরুণক ভাতি।
বিমল বিম্বফল যুগল বিকাশ,
তা পর কির থির করু বাস।
তা পর চঞ্চল খঞ্জন ষোড়,
তা পর সাপিনী ঝাপল মোড়।

আর বসন্ত রায়ের রাধা শ্যামকে দেখিয়া কি বলিতেছেন ?                         
এই পাতার উপরে . . .   

.              সজনি কি হেরনু ও মুখ-শোভা।
অতুল কমল                                সৌরভ শীতল
.                তরুণী-নয়ন-অলি-লোভা॥ ধ্রু॥
প্রফুল্লিত-ইন্দী-                                বর-সুন্দরবর
.                  মুকুর-কান্তি মন-লোভা।
রূপ বরণিব কত                      ভাবিতে থকিত চিত
.                 কিয়ে নিরমল-ছবি-শোভা॥
বরিহা বকুল-ফুল                          আলিকুল-আকুল
.                  চূড়া হেরি জুড়ায় পরাণ।
অধর বান্ধুলী-ফুল                          শ্রুতি-মণি-কুণ্ডল
.                  প্রিয় অবতংস বনান॥
হাসি খানি তাহে ভায়                  অপাঙ্গ-ইঙ্গিতে চায়
.                    বিদগধ মোহন রায়।
মুরলীতে কিবা গায়                    শুনি আন নাহি ভায়
.                 জাতি কুল শীল দিনু তায়॥
না দেখিলে প্রাণ কান্দে               দেখিলে না হিয়া বান্ধে
.                  অনুক্ষণ মদন-তরঙ্গ।
হেরইতে চাঁদ-মুখ                           মরমে পরম সুখ
.                  সুন্দর শ্যামর-অঙ্গ॥
চরণে নূপুর মণি                           সুমধুর-ধ্বনি শুনি
.                   রমণীক ধৈরজ ভঙ্গ।
ও রূপ-সাগরে রস-                        হিলোলে নয়ন মন
.                   আটকিল রায় বসন্ত॥                                               
এই পাতার উপরে . . .   


বিদ্যাপতি হইতে উদ্ধৃত কবিতাটি পড়িয়াই বুঝা যায়, এই কবিতাটি রচনা করিবার সময় কবির হৃদয়ে
ভাবের আবেশ উপস্থিত হয় নাই। কতকগুলি টানাবোনা বর্ণনা করিয়া গোটাকতক ছত্রা মিলাইয়া দিয়াছেন।
আমার বোধ হয় যেন, বিদ্যাপতির কৃষ্ণ হইয়া রাধার রূপ উপভোগ করিতে পারিয়াছেন, কিন্তু রাধা হইয়া
কৃষ্ণের রূপ উপভোগ করিতে পারেন নাই। বিদ্যাপতির যে কবিতাটি উদ্ধৃত করিয়াছি, উহা ব্যতীত প্রাচীন
কাব্য সংগ্রহে বিদ্যাপতি-রচিত আর একটি মাত্র কৃষ্ণের রূপবর্ণনা আছে, তাহাও অতি যত্সামান্য। বসন্ত
রায়ের কৃষ্ণের বর্ণনা পড়িয়া দেখ। কবি এমনি ভাবে মুগ্ধ হইয়া গাহিয়া উঠিয়াছেন যে, প্রথম ছত্র পড়িয়াই
আমাদের প্রাণের তার বাজিয়া ওঠে। “সজনী কি হেরিলুঁ ও মুখ-শোভা।” শ্যামকে দেখিবামাত্রই যে বন্যার মত
এক সৌন্দর্য্যের স্রোত রাধার মনে আসিয়া পড়িয়াছে ; রাধার হৃদয়ে সহসা যেন একটা সৌন্দর্য্যের আকাশ
ভাঙ্গিয়া পড়িয়াছে---একেবারে সহসা অভিভূত হইয়া রাধা বলিয়া উঠিয়াছে---“ সজনী কি হেরিলুঁ ও মুখ-শোভা
।” আমরা রাধার সেই সহসা উচ্ছ্বসিত ভাব প্রথম ছত্রেই অনুভব করিতে পারিলাম। শ্যামকে দেখিবামাত্রই
তাঁহার প্রথম মনের ভাব মোহ। রাধা মাঝে মাঝে রূপ বর্ণনা করিতে চেষ্টা করিয়াছেন, কিন্তু মনঃপূত না
হওয়ায় ছাড়িয়া দিয়াছেন, বলিয়াছেন---“ রূপ বরণিব কত ভাবিতে থকিত চিত।” তাহার রুপ কেমন তাহা
আমি কি জানি, তাহার রূপ দেখিয়া আমার চিত্ত কেমন হইল, তাহাই আমি জানি। রাধা মাঝে মাঝে বর্ণনা
করিতে যায়, অমনি বুঝিতে পারে, অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বর্ণনা করিলে খুব অল্পই বলা হয়, আমি যে কি আনন্দ
পাইতেছি, সেটা তাহাতে কিছুই ব্যক্ত হয় না। শ্যামের রূপের আকৃতিত সজনিরা সকলেই দেখিতে পাইতেছে,
কিন্তু রাধা যে সেই রূপের মধ্যে আরো অনেকটা দেখিতে পাইয়াছে, যাহা দেখিয়া তাহার মনে কথার অতীত
কথা সকল জাগিয়া উঠিয়াছে, সেই অধিক দেখাটা ব্যক্ত করিবে কিরূপে ? সে কি তিল তিল বর্ণনা করিয়া ?
বর্ণনা করিতে চেষ্টা করিয়া হতাশ হইয়া বর্ণনা বন্ধ করিয়া কেবল ভাবগুলি মাত্র ব্যক্ত করিতে হয়। হাসি
বর্ণনা করিতে গিয়া মুলির গান মনে পড়ে। শ্যামের ভাব---রূপেতে হাসিতে গানেতে জড়িত একটি ভাব, পৃথক্
পৃথক্ অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সমষ্টিগত একটি ভাব নহে! রাধা যে বলিয়াছেন, “হেরইতে চাঁদ-মুখ মরমে পরম সুখ” ঐ
কথাটাই সত্য, নহিলে “ভুরু বাঁকা” বা “চোখ টানা” বা “নাক সোজা” ও সব কথা কোন কাজের কথাই নয়।

বিদ্যাপতি রচিত রূপবর্ণনার সহিত বসন্ত-রায়-রচিত রূপবর্ণনার একটি বিশেষ প্রভেদ আছে। বিদ্যাপতি
রূপকে একরূপ চক্ষে দেখিতেছেন, আর বসন্ত রায় তাহাকে আর এর চক্ষে দেখিতেছেন। বিদ্যাপতি
কহিতেছেন, রূপ উপভোগ্য বলিয়া সুন্দর ; আর বসন্ত রায় কহিতেছেন, রূপ সুন্দর বলিয়া উপভোগ্য। ইহা
সত্য বটে, সৌন্দর্য্য ও ভোগ একত্রে থাকে, কিন্তু ইহাও সত্য উভয়ে এক নহে। বসন্ত রায় তাঁহার রূপবর্ণনায়
যাহা কিছু সুন্দর তাহাই দেখাইয়াছেন, আর বিদ্যাপতি তাঁহার রূপ-বর্ণনায় যাহা কিছু ভোগ্য তাহাই
দেখাইয়াছেন। উদাহরণ দেওয়া যাক্। বিদ্যাপতির---যেখান হইতে খুসী---একটি রূপ-বর্ণনা বাহির করা যাক্---

গেলি কামিনী                                গজবর গামিনী,                           
এই পাতার উপরে . . .   
.                 বিহসি পালটি নেহারি।
ইন্দ্রজালক                                     কুসুম সায়ক
.                  কুহকী ভেল বর-নারী॥
দোরি ভুজ যুগ                                মোর বেড়ল
.                   ততহি বয়ান সুছন্দ।
দাম-চম্পকে                                     কাম পূজল
.                      যৈছে শারদ চন্দ॥
উরহি অঞ্চল                                   ঝাপি চঞ্চল,
.                     আধ পয়োধর হেরু।
পবন পরভাবে                               শরদ ঘন জনু
.                    বেকত কয়ল সুমেরু॥
পুনহি দরশনে                                জীবন জুড়ায়ব,
.                     টুটব বিরহ কওর।
চরণ যাবক                                      হৃদয় পাবক
.                     দহই সব অঙ্গ মোর॥

এমন, একটা কেন, এমন অনেক দৃষ্টান্ত দেওয়া যায়। আবার রায়বসন্ত হইতে দুই একটি উদাহরণ উদ্ধৃত করা
যাক্।

.                সই লো কি মোহন রুপ সুঠান।
.                হেরইতে মাননি তেজই মান॥ ধ্রু॥
উজোর নীলমণি-                                মরকত ছবি জিনি
.                      দলিতাঞ্জন হেন ভাল।
জিনিয়া যমুনা-জল                                 নিরমল ঢল ঢল
.                     দরপণ জিনিয়া রসাল॥
কিয়ে নব নীল-                                নলিনি কিয়ে উপতল
.                      জলধর নহত সমান।
কমলিয়া কিশোর                               কুসুম অতি কোমল
.                      কেবল রস নিরমাণ॥
অমল শশধর                                       জিনি মুখ সুন্দর
.                      সুরঙ্গ অধর পরকাশ।
ঈষত মধুর হাস                                       সরসহি সম্ভাষ
.                 রায় বসন্ত-পহু রঙ্গিণি-বিলাস॥                                       
এই পাতার উপরে . . .   

ইহাতে কেবল ফুল, কেবল মধুর হাসি ও সরস সম্ভাষণ আছে, কেবল সৌন্দর্য্য আছে। এক শ্যামের সৌন্দর্য্য
দেখিয়া জগতের সৌন্দর্য্যের রাজ্য উদ্ঘাটিত হইতে চাহে। যমুনার নিরমল ঢল ঢল ভাব ফুটিয়া উঠে, একে
একে একেকটি ফুল শ্যামের মুখের কাছে আসিয়া দাঁড়ায়, ( কারণ সৌন্দর্য্য সৌন্দর্য্যকে কাছে ডাকিয়া আনে )
ফুলের যাহা প্রাণের ভাব সে তাহা উন্মুক্ত করিয়া দেয়। বসন্তরায় এ সৌন্দর্য্য-মুগ্ধ নেত্রে দেখিয়াছেন, লালসা
তৃষিত নেত্রে দেখেন নাই! এমন একটি কেন--- রায় বসন্ত হইতে তাঁহার সমুদয় রূপবর্ণনা উদ্ধৃত
করিয়া দেওয়া যায় --- দেখান যায় যে, যাহা তাঁহার কাছে সুন্দর লাগিয়াছে, তাহাই তিনি তাহাই তিনি বর্ণনা
করিয়াছেন। রুপ-বর্ণনা ত্যাগ করা যাক্---সম্ভোগ বর্ণনা দেখা যাক্। বিদ্যাপতি কেবল সম্ভোগের মাত্রই বর্ণনা
করিয়াছেন, বসন্তরায় সম্ভোগের মাধ্যমটুকু, সম্ভোগের কবিত্বটুকুমাত্র বর্ণনা করিয়াছেন। বিদ্যাপতি রচিত
“বিগলিত চিকুর মিলিত মুখমণ্ডল” ইত্যাদি পদটির সহিত পাঠকেরা বসন্তরায়-রচিত নিম্নলিখিত পদটির
তুলনা করুন।

বড় অপরূপ                             দেখিনু সজনি
.                নয়লি কুঞ্জের মাঝে,
ইন্দ্রনীল মণি                            কেতকে জড়িত
.                হিয়ার উপরে সাজে॥
কুসুম শয়ানে                            মিলিত নয়ানে
.                উলসিত অরবিন্দ।
শ্যাম-সোহাগিনী                          কোরে ঘুমায়লি
.                চাঁদের উপরে চন্দ॥
কুঞ্জ কুসুমিত                           সুধাকরে রঞ্জিত
.                তাহে পিককুল গান,
মরমে মদন-বাণ                        দোঁহে আগেয়ান
.              কি বিধি কৈল নিরমাণ॥
মন্দ মলয়জ                              পবন বহে মৃদু
.                ও সুখ কো করু অন্ত।
সরবস-ধন                              দোঁহার দুহুঁ জন,
.                কহয়ে রায় বসন্ত॥                                                    
এই পাতার উপরে . . .   

মৃদু বাতাস বহিতেছে, কুঞ্জে জ্যোত্স্না ফুটিয়াছে, চাঁদনী রাত্রে কোকিল ডাকিতেছে, এবং সেই কুঞ্জে, সেই
বাতাসে, সেই জ্যোত্স্নায়, সেই কোকিলের কুহুরবে, কুসুম শয়ানে মুদিত নয়ানে, দুটি উলসিত অলসিত
অরবিন্দের মত শ্যামের কোলে রাধা--- চাঁদের উপর ঘুমাইয়া আছে। কি মধুর! কি সুন্দর! এত
সৌন্দর্য্য স্তরে স্তরে একত্রে গাঁথা হইয়াছে---সৌন্দর্য্যের পাপড়ির উপরে পাপড়ি বিন্যাস হইয়াছে, যে সবসুদ্ধ
লইয়া একটি সৌন্দর্য্যের ফুল, একটি সৌন্দর্য্যের শতদল ফুটিয়া উঠিয়াছে। “ও সুখ কো করু অন্ত” এমন
মিলন কোথায় হইয়া থাকে!

বসন্তবায়ের কবিতায় আর একটি মোহ-মন্ত্র আচে, যাহা বিদ্যাপতির কবিতায় সচরাচর দেখা যায় না। বসন্ত
রায় প্রায় মাঝে মাঝেবস্তুগত বর্ণনা দূর করিয়া দিয়া এক কথায় এমন একটি ভাবের আকাশ খুলিয়া দেন, যে
আমাদের কল্পনা পাখা ছড়াইয়া উড়িয়া যায়, মেঘের মধ্যে হারাইয়া যায়! এক স্থলে আছে--- “রায় বসন্ত কঙে
ওরূপ পিরীতিময়।” রূপকে পিরীতিময় বলিলে যাহা বলা হয়, আর কিছুতে তাহার অপেক্ষা অধিক
বলা যায় না। যেখানে বসন্ত রায় শ্যামের রূপকে বলিতেছেন।---

কমনীয়া কিশোর                        কুসুম অতি সুকোমল
.                     কেবল রস নিরমাণ।

সেখানে কবি এমন একটি ভাব আনিয়াছেন, যাহা ধরা যায় না--- এমন একটি ভাবকে ধরিবার জন্য কবি যেন
আকুল ব্যাকুল হইয়া পড়িয়াছেন। “কমনীয়” “কিশোর” “সুকোমল” প্রভৃতি কত কথাই ব্যবহার করিলেন,
কিছুতেই কুলাইয়া উঠিল না---অবশেষে সহসা বলিয়া ফেলিলেন কেবল রস নিরমাণ! কেবল তাহা রসেই
নির্ম্মিত হইয়াছে, তাহার আর আকার প্রকার নাই!

শ্রীকৃষ্ণ রাধাকে বলিতেছেন ;---

আলো ধনি সুন্দরি কি আর বলিব।
তোমা না দেখিয়া আমি কেমনে রহিব॥
তোমার মিলন মোর পুণ্য-পুঞ্জ রাশি।
মরমে লাগিছে মধুর মৃদু হাসি॥
আনন্দ-মন্দির তুমি জ্ঞান শকতি।
বাঞ্ছা-কল্পলতা মোর কামনা-মূরতি॥
সঙ্গের সঙ্গিণী তুমি সুখময় ঠাম।
পাসরিব কেমনে জীবনে রাধা-নাম॥
গলে বনমালা তুমি মোর কলেবর।
রায় বসন্ত কহে প্রাণের গুরুতর॥                                                     
এই পাতার উপরে . . .   

এমন প্রশান্ত উদার গম্ভীর প্রেম বিদ্যাপতির কোন পদে প্রকাশ পাইয়াছে কি না সন্দেহ। ইহার কয়েকটি
সম্বোধন চমত্কার। রাধাকে যে কৃষ্ণ বলিতেছেন---তুমি আমার কামনার মূর্তি, আমার মূর্তিমতী কামনা---
অর্থাৎ তুমি আমার মনের একটি বাসনা মাত্র রাধারূপে প্রকাশ পাইতেছ, ইহা কি সুন্দর! তুমি আমার গলে
বনমালা, তোমাকে পরিলে আমার শরীর তৃপ্ত হয় ; না তুমি তাহারও অধিক---তুমি আমার শরীর, আমাতে
তোমাতে প্রভেদ নাই---না, শরীর না, তুমি শরীরের চেয়েও অধিক, তুমি আমার প্রাণ, সর্বশরীরকে ব্যাপ্ত
করিয়া রহিয়াছে, যাহার আবির্ভাবে শরীর বাঁচিয়া আছে, শরীরে চৈতন্য আছে, তুমি সেই প্রাণ ; রায় বসন্ত
কহিলেন, না, তুমি তাহারও অধিক, তুমি প্রাণেরও গুরুতর, তুমি বুঝি প্রাণকে প্রাণ দিয়াছ, তুমি
আছ বলিয়াই বুঝি প্রাণ আছে। ঐ যে বলা হইয়াছে “মরমে লাগিছে মধুর মৃদু হাসি,” ইহাতে হাসির মাধুর্য কি
সুন্দর প্রকাশ পাইতেছে। বসন্তের বাতাসটি গায়ে যেমন করিয়া লাগে, সুদূর বাঁশীর ধ্বনি কানের
কাছে যেমন করিয়া মরিয়া যায়, পদ্মমৃণাল কাঁপিয়া সরোবরে একটুখানি তরঙ্গ উঠিলে তাহা যেমন করিয়া
তীরের কাছে আসিয়া মিলাইয়া যায়, তেমনি একটুখানি হাসি---অতি মধুর, অতি মৃদু একটি হাসি মরমে
আসিয়া লাগিতেছে ; বাতাসটি গায়ে লাগিলে যেমন ধীরে ধীরে চোখ বুজিয়া আসে, তেমনিতর বোধ হইতেছে!
হাসি কি কেবল দেখা যায় ? হাসি ফুলের গন্ধটির মত প্রাণের মধ্যে আসিয়া লাগে।

রাধা বলিতেছেন---

.             প্রাণনাথ কেমন করিব আমি ?
তোমা বিনে মন                          করে উচাটন
.                কে জানে কেমন তুমি!
না দেখি নয়ন                            ঝুরে অনুক্ষণ,
.                দেখিতে তোমায় দেখি।
সোঙরণে মন,                             মূরছিত হেন
.                মুদিয়া রহিয়ে আঁখি॥
শ্রবণে শুনিয়ে                           তোমার চরিত,
.                আন না ভাবিয়ে মনে।
নিমিষের আধ                          পাশরিতে নারি
.                 ঘুমালে দেখি স্বপনে॥
জাগিলে চেতন                         হারাই যে আমি
.               তোমা নাম করি কাঁদি।
পরবোধ দেই                              এ রায় বসন্ত
.               তিলেক থির নাহি বাঁধি॥                                               
এই পাতার উপরে . . .   

ইহার প্রথম দুটি ছত্রে ভাবে অধীরতা, ভাষার বাঁধ ভাঙ্গিবার জন্য ভাবের আবেগ কি চমত্কার প্রকাশ
পাইতেছে! “প্রাণনাথ কেমন করিব আমি!” ইহাতে কতখানি আকুলতা প্রকাশ পাইতেছে! আমার প্রাণ
তোমাকে লইয়া কি যে করিতে চায় কিছু বুঝিতে পারি না। এত দেখিলাম এত পাইলাম, তবুও প্রাণ আজও
বলিতেছে “প্রাণনাথ কেমন করিব আমি!” বিদ্যাপতি লিখিয়াছে,

“লাখ লাখ যুগ হিয়ে রাখনু,
তবু হিয়ে জুড়ন না গেল!”

বিদ্যাপতি সমস্ত কবিতাটিতে যাহা বলিয়াছেন ইহার এক কথায় তাহার সমস্তটা বলা হইয়াছে এবং তাহা
অপেক্ষা শতগুণ অধীরতা ইগাতে ব্যক্ত হইতেছে। “প্রাণনাথ কেমন করিব আমি!” দ্বিতীয় ছত্রে রাধা শ্যামের
মুখের দিকে আকুল নেত্রে চাহিয়া কহিতেছেন “কে জানে কেমন তুমি!” যাহার একতিল উর্দ্ধে উঠিলেই ভাষা
মরিয়া যায়, সেই ভাষার শেষ সীমায় দাঁড়াইয়া রাধা বলিতেছেন “কে জানে কেমন তুমি!”

আর এক স্থলে রাধা বলিতেছেন---

ওহে নাথ, কিছুই না জানি,
তোমাতে মগন মন দিবস রজনি।
জাগিতে ঘুমিতে চিতে তোমাকেই দেখি,
পরাণ-পুতলী তুমি জীবনের সখি!
অঙ্গ-অভরণ তুমি শ্রবণ রঞ্জন,
বদনে বচন তুমি নয়নে অঞ্জন!
নিমিখে শতেক যুগ হারাই হেন বাসি,
রায় বসন্ত কহে পহু প্রেমরাশি॥                                                         
এই পাতার উপরে . . .   

ঠিক কথা বটে,---নিমিখে শতেক যুগ হারাইয়া হেন বাসি! যতই সময় পাওয়া যায় ততই কাজ করা যায়।
আমাদের হাতে শতেক যুগ নাই বলিয়া আমাদের অনেক কাজ অসম্পূর্ণ থাকে। শতেক যুগ পাইলে আমরা
অনেক কাজ সম্পূর্ণ করিয়া যাইতে পারি। কিন্তু প্রেমের সময় গণনা যুগ যুগান্তর লইয়া নহে। প্রেম নিমিখ
লইয়া বাঁচিয়া থাকে, এই নিমিত্ত প্রেমের সর্ব্বদাই ভয়, পাছে নিমিখ হারাইয়া যায়। এক নিমিখেমাত্র আমি যে
একটি চাহনি দেখিয়াছিলাম, তাহাই হৃদয়ের মধ্যে লালন করিয়া আমি শতেক যুগ বাঁচিয়া থাকিতে পারি ;
আবার হয়তো আমি শতেক যুগ অপেক্ষা করিয়া বসিয়া আছি, কখন আমার একটি নিমেশ আসিবে একটি
চাহনি দেখিব! দৈবাৎ সেই একটি মুহূর্ত্ত হারাইলে আমার অতীত কালের শতেক যুগ ব্যর্থ হইল, আমার
ভবিষ্যৎ কালের শতেক যুগ হয়ত নিষ্ফল হইবে। প্রতিভার স্ফূর্ত্তির ন্যায় প্রেমের স্ফূর্ত্তিও একটি মাহেন্দ্র ক্ষণ
একটি শুভ মুহূর্ত্তের উপরে নির্ভর করে। হয়ত শতেক যুগ আমি তোমাকে দেখিয়া আসিতেছি, তবুও
তোমাকে ভাল বাসিবার কথা আমার মনেও আসে নাই---কিন্তু দৈবাৎ একটি নিমিখ আসিল, তখন না জানি
কোন্ গ্রহ কোন্ কক্ষে ছিল---দুইজনে চোখাচোখি হইল, ভাল বাসিলাম। সোই এক নিমিখ হয়ত পদ্মার তীরের
মত অতীত শত যুগের পাড় গড়িয়া দিল। এই নিমিত্তই রাধা যখন ভাগ্যক্রমে প্রেমের শুভ-মুহূর্ত্ত পাইয়াছেন,
তখন তাঁহার প্রতিক্ষণে ভয় হয় পাছে এক নিমিখ হারাইয়া যায়, পাছে সেই এক নিমিখ হারাইয়া
গেলে শতেক যুগ হারাইয়া যায়। পাছে শতেক যুগের সমুদ্রের মধ্যে ডুবিয়া সেই নিমিখের হারাণ রত্নটুকু
আর খুঁজিয়া না পাওয়া যায়! সেই জন্য তিনি বলিয়াছেন “নিমিখে শতেক যুগ হারাই হেন বাসি!”

এমন যতই উদাহরণ উদ্ধৃত হইবে, ততই প্রমাণ হইবে যে বিদ্যাপতি ও বসন্তরায় এক কবি নহেন, এমন কি
এক শ্রেণীর কবিও নহেন।

.                                                                
কবি রায় বসন্ত-এর পরিচিতির পাতায় যেতে  
.                                                                
এখানে ক্লিক করুন . . .।    
.        
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ


আমরা
মিলনসাগরে  কবি রায় বসন্তর বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টার সার্থকতা।

বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"   
বৈষ্ণব পদাবলীর পদগুলি মূলত গান হিসেবেই রচনা করা হোতো। প্রায় প্রতিটি পদের শুরুতেই সেই পদটির
“রাগ”-এর উল্লেখ থাকে। তবে কিছু পদের আগে তার “রাগ”-এর উল্লেখ নেই এমনও পাওয়া গিয়েছে। বৈষ্ণব
পদাবলীর সংকলকগণ যখন তাঁদের সংকলনে পদ সাজান, তখন পর পর একাধিক গানের যদি একই সুর বা
রাগ থাকে, তাহলে তাঁরা প্রথম গানটিতে তার রাগ উল্লেখ ক’রে পরের গানটিতে রাগের যায়গায় “তথা রাগ”
বা “যথা” শব্দ বসিয়ে দিতেন, এই বোঝাতে যে পরের গানটি একই রাগাশ্রিত। কিন্ত এমনও পাওয়া গিয়েছে
যে একই গান বিভিন্ন সংকলকের সংকলনে ভিন্ন রাগাশ্রিত বলে উল্লেখিত। বহু পদই মুখে মুখে গীত  
অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে।  তাই  একই গান  বিভিন্ন  গায়কের মুখে ভিন্ন ভিন্ন সুরে পাওয়া গিয়ে থাকতেই
পারে। তাই অনেক বিদগ্ধজনেরা মনে করেন যে এখন আর পদের রাগের উল্লেখ না করলেও চলে। যে  
যেমন সুরে চায়, গেয়ে আনন্দ লাভ করলেই এর সার্থকতা। আমরা অবশ্য যে সংকলন থেকে যে পদ  
নিয়েছি, সেই সংকলনে উল্লেখিত রাগটি মিলনসাগরের পাতায় তুলে দিয়েছি। এমন হতে পারে বিশেষজ্ঞরা
অন্য সংকলনে সেই গানটির অন্য রাগ দেখতে পাবেন।
          




কবি রায় বসন্তর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।                         এই পাতার উপরে . . .   


উত্স -
.        ১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, রামগোপাল দাস (গোপাল দাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯৪৬ সালে
.        হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
.        শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী”।
.        আনুমানিক ১৭০০ সালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯২৪
.        সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”।
.        আনুমানিক ১৭২৫ সালে নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) সংকলিত ও বিরচিত এবং ৪৬২ গৌরাব্দে
.        (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় (পূর্বরাগ)”।
.        গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, ১৮৪৯।
.        আনুমানিক ১৭২৫ সালে রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮
.        সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”।
.        আনুমানিক ১৭৫০ সালে গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯১৫-১৯৩১
.        সময়কালে, সতীশচন্দ্র রায় দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু”, ৫ খণ্ডে,
.        সটীক সংস্করণ, ১৯১৫-১৯৩১। প্রথম সংস্করণ ১৮৯৬।
.        দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ১৯০৫।
.        হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ১৯১৬।
.        চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সংকলিত রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
.        ১৯২২।
.        সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১৯২৬।
.        জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ
.        তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪।
.        নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদালীর সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”,
.        ১৯৩৭।
.        আবদুল কাদির ও রেজাউল করীম সম্পাদিত, বাঙ্গালী মুসলমান কবিদের রচিত কবিতাবলীর
.        সংকলন “কাব্য-মালঞ্চ”, ১৯৪৫।
.        যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “বাঙ্গালার বৈষ্ণব-ভাবাপন্ন মুসলমান কবি”, ১৯৪৫।
.        হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬।
.        সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”।
.        খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও শ্যামাপদ চৌধুরী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
.        সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, ১৯৫২।
.        সুকুমার সেন সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৫৭।
.        সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী”, ১৯৬০।
.        বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”, ১৯৬১।
.        দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, ১৯৭৭।
.        
দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদলহরী, ১৯০৫।
.        সুকুমার সেন, বাংলা কবিতা সমুচ্চয় প্রথম খণ্ড, ১৯৯১।
.        
শিশিরকুমার দাশ সম্পাদিত সংসদ বাংলা সাহিত্য সঙ্গী, ২০০৩।


কবি রায় বসন্তর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।                            এই পাতার উপরে . . .   


.                                                                
কবি রায় বসন্ত-এর পরিচিতির পাতায় যেতে  
.                                                                
এখানে ক্লিক করুন . . .।    
.        

আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ২১.৩.২০১৭
...