কবি শ্রীশচন্দ্র মজুমদার - এর পিতা প্রসন্নকুমার মজুমদার ছিলেন পুঠিয়া স্টেটের দেওয়ান। তাঁরা ছিলেন বৈষ্ণব কবি বলরাম দাসের উত্তর পুরুষ। (আনন্দ প্রকাশিত পদরত্নাবলী, পৃষ্ঠা ৩৩৬)
তাঁর লেখা কোনো বৈষ্ণব পদাবলী আমরা পাইনি। তিনি নিজে বৈষ্ণব পদাবলী রচনা করে গিয়েছেন কি না সে তথ্যও আমরা যোগাড় করতে পারিনি। কিন্তু তাঁর নাম আমরা, মিলনসাগরের বৈষ্ণব পদাবলীর সূচীতে তুলেছি কারণ ১৮৮৫ সালে তিনি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে “পদরত্নাবলী” নামে একটি বৈষ্ণব পদাবলীর সংকলন সম্পাদনা করেছিলেন। আধুনিক বাংলার মানুষের হৃদয়ে যাঁরা বৈষ্ণব পদাবলী পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি তাঁদের অন্যতম ভগীরথ!
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সান্নিধ্য - পাতার উপরে . . . পুঠিয়ার মহারাণী শরত্কুমারীর উত্সাহে শ্রীশচন্দ্র সাহিত্যসেবায় মনোনিবেশ করেন। তিনি কর্মজীবনে ছিলেন সাব-ডেপুটি কালেক্টর।
তিনি কিছুকাল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “বঙ্গদর্শন” পত্রিকা পরিচালনা করেছিলেন ১৮৮৩ সালে। বঙ্গদর্শনে তাঁর “মেঘনাদবধ কাব্য সম্বন্ধে কয়টি কথা”, “প্রকৃতি” প্রভৃতি লেখা, ছেপে বেরিয়েছিল ১২৮৮-৮৯ বঙ্গাব্দ (১৮৮১-৮২) নাগাদ, কিন্তু সেই পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়া তাঁর কোনো কবিতা আমাদের হাতে আসেনি এখনও। সেখানে তাঁর কোনো কবিতা আদৌ ছাপা হয়েছিল কি না সে কথাও নিশ্চিতভাবে আমরা বলতে পারছি না।
এরপর বন্ধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে বৈষ্ণব পদসংকলন “পদরত্নাবলী” সম্পাদনা করেন ১৮৮৫ সালে। পরে তাঁরই উত্সাহে ১৯০১ সালে, রবীন্দ্রনাথ, “বঙ্গদর্শন” পত্রিকার “নবপর্যায়” সম্পাদনার ভার গ্রহণ করেন।
রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সম্পাদিত “পদরত্নাবলী” প্রসঙ্গে - পাতার উপরে . . . শ্রীশচন্দ্র, বন্ধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে বৈষ্ণব পদসংকলন “পদরত্নাবলী” সম্পাদনা করেন ১৮৮৫ সালে। এই বইটি পুনরায় প্রকাশিত করা হয় “আনন্দ” প্রকাশনী থেকে ১৩৯৭ বঙ্গাব্দে (১৯৯০)। পদরত্নাবলীর, সেই পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণের, সম্পাদক অনাথনাথ দাস ও বিশ্বনাথ রায়ের লেখা “গ্রন্থ প্রসঙ্গ” থেকে আমরা এই ঐতিহাসিক গ্রন্থটি সম্বন্ধে অনেক তথ্য পাই।
বইয়ের প্রথম সংস্করণে রবীন্দ্রনাথের বহু প্রিয় বৈষ্ণব কবিতার অনুপস্থিতি ও বলরাম দাসের পদের আধিক্য দেখে বোঝা যায় যে পদ-নির্বাচনে শ্রীশচন্দ্রের ভাগটি বেশী ছিল! বইটির “সূচনা” থেকে আমরা জানতে পারি যে কবি শ্রীশচন্দ্রের পুত্র তথা বৈষ্ণব পদাবলীর বিখ্যাত সংকলক ও সম্পাদক বিমানবিহারী মজুমদার লিখেছেন . . . “পদরত্নাবলীই মহাজন পদাবলীর সর্বপ্রথম সংকলন যাহা বৈষ্ণব ধর্মের সাধন ভজনের অঙ্গ হিসাবে লেখা হয় নাই। বিশুদ্ধ সাহিত্য পরিবেশন করাই ইহার একমাত্র উদ্দেশ্য।”
জানা যায় যে শ্রীশচন্দ্র এই গ্রন্থের ভূমিকা লিখে বঙ্কিমচন্দ্রকে শুনিয়েছিলেন এবং তাঁর উপদেশ অনুযায়ী কিছু পরিবর্তনও করেন। পদসংগ্রহের বৈচিত্রের জন্য তিনি তাঁদের অভিনন্দনও জানান। প্রকাশনার পরে শ্রীশচন্দ্র বঙ্কিমচন্দ্রকে বইটি পাঠিয়ে তাঁর মতামত জিজ্ঞেস করাতে তিনি উত্তরে জানিয়েছিলেন, . . . “ . . . পদরত্নাবলী পাইয়াছি। কিন্তু সুখ্যাতি কাহার করিব ? কবিগিদের না সংগ্রহকারদিগের ? . . .”
এ ছাড়া শ্রীশচন্দ্রের রচনার মধ্যে রয়েছে “বর্তমান বঙ্গসমাজ ও চারিজন সংস্কারক” (১২৮৬ বঙ্গাব বা ১৮৭৯ খৃষ্টাব্দ)। অন্যান্য গ্রন্থাবলীর মধ্যে রয়েছে “ফুলজানি” (১৮৯৪), “শক্তিকানন” (১৮৭৭), “কৃতজ্ঞতা” (১৮৯৬), “বিশ্বনাথ” (১৮৯৬), “রাজতপস্বিনী” প্রভৃতি। তাঁর প্রয়াণের পরে বসুমতী সাহিত্য মন্দির থেকে একখণ্ডে তাঁর গ্রন্থাবলী প্রকাশিত হয়।
আমরা তাঁর মাত্র দুটি কবিতা সংগ্রহ করতে পেরেছি “ভারতী ও বালক” পত্রিকা থেকে।
আমরা মিলনসাগরে কবি শ্রীশচন্দ্র মজুমদারের কবিতা আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা।
কবির একটি ছবি ও তাঁর জীবন সম্বন্ধে আরও তথ্য যদি কেউ আমাদের পাঠান তাহলে আমরা, আমাদের কৃতজ্ঞতাস্পরূপ প্রেরকের নাম এই পাতায় উল্লেখ করবো। আমাদের ঠিকানা - srimilansengupta@yahoo.co.in