স্বর্ণলালীর রচনা সম্ভার - পাতার উপরে . . . তাঁর তিনটে পদ, সর্বপ্রথম, “ভারতবর্ষ” পত্রিকার ১৩৩৬ বঙ্গাব্দের (অগাস্ট ১৯২৯) শ্রাবণ সংখ্যায় প্রকাশিত হয় হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের “স্বর্ণলালী” প্রবন্ধে। সেই প্রবন্ধ থেকেই আমরা স্বর্ণলালী এবংপদকর্তা যাদবেন্দ্রের পরিচয় পাই। পরবর্তী কালের সংকলনের সম্পাদক ও সংগ্রাহকগণ সম্ভবত এখান থেকেই স্বর্ণলালীর পদ গ্রহণ করেছেন। আমাদের কাছে যা সংগ্রহ আছে তাতে স্বর্ণলালীর এই তিনটে পদ ছাড়া আর কোনো পদ খুঁজে পাই নি। হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের “স্বর্ণলালী” প্রবন্ধটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন . . .।
স্বর্ণলালীর কোনো স্বতন্ত্র পদসংকলন এখনও পাওয়া যায়নি।
আমরা মিলনসাগরে কবি স্বর্ণলালীর বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা।
কবির একটি ছবি ও তাঁর জীবন সম্বন্ধে আরও তথ্য যদি কেউ আমাদের পাঠান তাহলে আমরা, আমাদের কৃতজ্ঞতাস্পরূপ প্রেরকের নাম এই পাতায় উল্লেখ করবো। আমাদের ঠিকানা - srimilansengupta@yahoo.co.in
এই পাতার কবিতার ভণিতা - স্বর্ণলালী
স্বর্ণলালী সপ্তদশ শতকের শেষার্ধ থেকে অষ্টাদশ শতকের প্রথমার্ধ
কবি স্বর্ণলালী - জন্মগ্রহণ করেন বীরভূমের সদর সিউড়ি থেকে দুই ক্রোশ (৭ কিমি) দূরে অবস্থিত মল্লিকপুর গ্রামে। তিনি ছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার সদর থেকে কমবেশী ২ক্রোশ দূরে (৭.৫কিমিঃ) অবস্থিত কচুজোড় গ্রামের জমিদার রাজা রুদ্রচরণ রায়ের গুরু-দেব যাদবেন্দ্র ভট্টাচার্যের স্ত্রী। এই যাদবেন্দ্র ভট্টাচার্যই পদকর্তা যাদবেন্দ্র বা যাদবিন্দ বা যাদবিন্দু।
১১৫০ বঙ্গাব্দে (১৭৪৩) বর্গীদের সর্দার বা সেনাপতি ভাস্কর পণ্ডিতের সঙ্গে যুদ্ধ রুদ্রচরণ নিহত হন। হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের লেখায় রয়েছে যে, যুদ্ধের স্থানকে পরবর্তিকালে লোকে “সংগ্রামপুর” বলে উল্লেখ করে।
মল্লিকপুর গ্রামের সর্বানন্দ সরস্বতী কচুজোড় গ্রামের জমিদারের সভাসদ ছিলেন। তাঁর সঙ্গে স্বর্ণলালী দেবীর ভাই-বোনের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু জানা যায় না যে তাঁরা আপন ভাই-বোন ছিলেন কি না।
“ভারতবর্ষ” পত্রিকার ১৩৩৬ বঙ্গাব্দের (অগাস্ট ১৯২৯) শ্রাবণ সংখ্যায় প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের “স্বর্ণলালী” প্রবন্ধে বীরভূমের পদকর্ত্রী “স্বর্ণলালী”র উপর এক গবেষণামূলক রচনায় তিনি জানান যে কবি স্বর্ণলালীর স্বামীই পদকর্তা যাদবেন্দ্র, যাঁর পুরো নাম যাদবেন্দ্র ভট্টাচার্য। হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের “স্বর্ণলালী” প্রবন্ধটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন . . .।
স্বর্ণলালী ও তাঁর স্বামী যাদবিন্দ বৈষ্ণব ছিলেন না শাক্ত?- পাতার উপরে . . . হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় তাঁর ১৯২৯ সালে “ভারতবর্ষ” পত্রিকায় প্রকাশিত “স্বর্ণলালী” প্রবন্ধে লিখেছেন . . .
“যাদবিন্দের বংশধরগণ সম্প্রতি সংগ্রামপুরে বাস করিতেছেন। এই বংশে শ্রীযুক্ত আশুতোষ ভট্টাচার্য্য ও শ্রীমান ভোলাপাদ কাব্যতীর্থ বর্ত্তমান আছেন। কাব্যতার্থ মহাশয় স্বগ্রামে চতুষ্পাঠী প্রতিষ্ঠা করিয়া অধ্যাপনায় ব্রতী হইয়াছেন।
যাদবিন্দ ধর্ম্মে বৈষ্ণব ছিলেন কি না ঠিক জানা যায় না। তাঁহার বংশধরগণ তো নিজেদের শাক্ত বলিয়া পরিচয় দিয়া থাকেন। যাদবিন্দ যে ধর্ম্মাবলম্বীই হউন তিনি প্রকৃত কবি ছিলেন, তাঁহার পদগুলি বাস্তবিকই বড় সুন্দর। যাদবিনদের গোষ্ঠগানের প্রসিদ্ধি বহুজনবিদিত। তাঁহার মধুররসাত্মক পদগুলিও চমত্কার।”