| কবি উদ্ধবদাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| ঝুলত শ্যাম গোরি বাম ঝুলত শ্যাম গৌরী বাম ঝুলত শ্যাম গৌর বাম কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ৩০শপল্লব, ঝুলন-লীলা, ১৫৬২-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কল্যাণী॥ ঝুলত শ্যাম গোরি বাম আনন্দে-রঙ্গে মাতিয়া। ইষত হসিত রভস-কেলি ঝুলায়ত সব সখিনি মেলি গায়ত কত ভাতিয়া॥ ধ্রু॥ হেম মণিযুত বর হিঁডোর রচিত কুসুম-গন্ধে ভোর পড়ল ভ্রমর-পাঁতিয়া। নবিন লতায় জডিত ডাল বৃন্দা-বিপিন শোভিত ভাল চাঁদ-উজোর রাতিয়া॥ নবঘন-তনু দোলয়ে শ্যাম রাই সঙ্গে ঝুলত বাম তড়িত জড়িত-কাঁতিয়া। তারামণি চন্দ্রহার ঝুলিতে দোলিত গলে দোঁহার হিলন দুহুঁক গাতিয়া॥ ধিধিকট ধিয়া তাথিয়া বোল বাজে মৃদঙ্গ মোহন রোল তিনিনা তিনিয়া তা তিয়া। ভেদ পরণ গ্রাম-পূর ঘোর শবদ জীল সূর বরণ নাহিক যাতিয়া॥ মণি-অভরণ কিঙ্কিণি বঙ্ক ঝুলনে বাজয়ে ঝুনুর ঝঙ্ক ঝন ঝন ঝঞ্ঝাতিয়া। রাধামোহন-চরণে আশ কেবল ভরসা উদ্ধবদাস রচিত পুরিত ছাতিয়া॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ২১০৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ কল্যাণী॥ ঝুলত শ্যাম গোরি বাম আনন্দে-রঙ্গে মাতিয়া। ইষত হসিত রভস-কেলি ঝুলায়ত সব সখিনি নাগরী গায়ত কত ভাতিয়া॥ ধ্রু॥ হেম মণিযুত বর হিঁডোর রচিত কুসুম-গন্ধে ভোর পড়ল ভ্রমর-মাতিয়া। নবিন লতায় জডিত ডাল বৃন্দা-বিপিন শোভিত ভাল চাঁদ-উজোর রাতিয়া॥ নবঘন-তনু দোলয়ে শ্যাম রাই সঙ্গে ঝুলত বাম তড়িত জড়িত-কাঁতিয়া। তারামণি চন্দ্রহার ঝুলিতে দোলিত গলে দোঁহার হিলন দুহুঁক গাতিয়া॥ ধিধিকট ধিয়া তা থৈয়া বোল বাজে মৃদঙ্গ মোহন রোল তিনিনা তিনিয়া তা তিয়া। ভেদ পরণ গ্রাম-পূর ঘোর মুরদ জীল সূর বরণ নাহিক যাতিয়া॥ মণি-অভরণ কিঙ্কিণি বঙ্ক ঝুলনে বাজয়ে ঝুনুর ঝঙ্ক ঝন ঝন ঝঞ্ঝাতিয়া। রাধামোহন-চরণে আশ কেবল ভরসা উদ্ধবদাস রচিত পুরিত ছাতিয়া॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী তালোচিত॥ ঝুলত শ্যাম গৌরী বাম আনন্দে রঙ্গে মাতিয়া। ইষত হসিত বরজ কেলি ঝুলায়ত সব সখিনী মেলি গাওত কত ভাতিয়া॥ হেমমণি জুত বরহি ডোর রচিত কুসুমে গন্ধে ভোর পড়ল ভ্রমর পাতিয়া। নবীন লতায় জডিত ডাল বিন্দা বিপিনে সুভি ভাল চাঁন্দ উজোর রাতিয়া॥ নবঘন তনু দোলএ শ্যাম রাই সঙ্গে ঝুলত বাম তড়িত জড়িত কাঁতিয়া। তারামণি চন্দ্রহার ঝুলিতে দুলিছে গলে দোহার হিল্লোল দুহুঁক গাঁতিয়া॥ ধিকত ধিয়া তাথয়া বোল বাজে মোহন মৃদঙ্গ রোল তিনি নাঙ নাঙ ভাঁতিয়া। ভেদ পবন গ্রাম পূর ঘোর মদ জিনি সূর বরনি নাহিক জাতিয়া॥ ঝুলনে বাজই ঝন ঝঙ্কার ঝন নন ঝানি ঝাতিয়া। রাধামোহন চরণে আশ কেবল ভরসা উদ্ধবদাস রচিত পুরিত ছাতিয়া॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কল্যাণী॥ ঝুলত শ্যাম, গোরী বাম, আনন্দে-রঙ্গে মাতিয়া। ইষৎ হসিত রভস-কেলি, ঝুলায়ত সব সখিনী মেলি গায়ত কত ভীতিয়া॥ হেম মণিযুত হিণ্ডোর রচিত কুসুম-গন্ধে ভোর পড়ত ভ্রমর-পাঁতিয়া। নবীন লতায় জডিত ডাল, বৃন্দা-বিপিন শোভিত ভাল চাঁদ-উজোর রাতিয়া॥ নবঘন-তনু দোলয়ে শ্যাম, রাই সঙ্গে ঝুলত বাম, তড়িত জড়িত কাঁতিয়া। তারামণি চন্দ্রহার, ঝুলিতে দোলিত গলে দোহার হিলন দুহুঁক গাতিয়া॥ ধিধিকট ধিয়া তাথৈয়া বোল, বাজে মদঙ্গ মোহন রোল, তিনিনা তিনিয়া ভাতিয়া। ভেল পরণ গ্রাম-পূর, ঘোর শব্দ জীল সূর বরণ নাহিক যাতিয়া॥ মণি-অভরণ কিঙ্কিণী বঙ্ক, ঝুলনে বাজয়ে ঝুনুর ঝঙ্ক, ঝন ঝন ঝঞ্ঝাতিয়া। রাধামোহন-চরণে আশ, কেবল ভরসা উদ্ধবদাস, রচিত পূরিত ছাতিয়া॥ এই পদটি ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “পদামৃত লহরী”, ১২৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী কল্যাণী - তাল লোফা বড়॥ ঝুলত শ্যাম, গৌর বাম, আনন্দ রঙ্গে মাতিয়া। ঈষত হসিত, রভস কেলি, হাওত কত ভাঁতিয়া॥ হেম মণি যুব বর হিঁডোর, রচিত কুসুম গন্ধে ভোর, পড়ল ভ্রমর পাঁতিয়া। নবীন লতায় জড়িত ডাল, বৃন্দা বিপিনে শোভিছে ভাল, চাঁদ উজোর রাতিয়া॥ নব ঘন তনু দোলত শ্যাম, রাই সঙ্গে ঝুলত বাম, তরিত জড়িত কাঁতিয়া। তারা মণি চন্দ্র হার, ঝুলিতে দুলিতে গলে দোঁহার, হিলন দুহুঁক গাতিয়া॥ ধি ধি কট ধিয়া তাথৈয়া বোল, বাজে মৃদঙ্গ মোহন রোল, তিনিনা তিনিনা তাথৈয়া। ভেদ পবন গ্রামপূর, ঘোর শবদ জীল সুর, বরণ নাহিক যাতিয়া॥ মণি আভরণ কিঙ্কিণী বঙ্ক, ঝুলনে বাজয়ে ঝনর ঝঙ্ক, ঝন ঝন ঝন ঝাঁতিয়া। রাধামোহন চরণে আশ, কেবল ভরসা উদ্ধব দাস, রচিত পূরিত ছাতিয়া॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, ৪৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ঝুলন লীলা। ॥ কল্যাণী মল্লার - জপতাল॥ ঝুলত শ্যাম গোরি বাম . আনন্দে রঙ্গে মাতিয়া। ঈষত হসিত রভস কেলি ঝুলায়ত সব সখিনি মেলি . গায়ত কত ভাঁতিয়া॥ হেমমণিযুত বড় হিণ্ডোর রচিত কুসুমে গন্ধে ভোর . পড়ল ভ্রমর-পাঁতিয়া। নবীন লতায়ে জড়িত ডাল বৃন্দা বিপিনে শোভিত ভাল . চান্দ উজোর রাতিয়া॥ নবঘন তনু দোলয়ে শ্যাম রাই সঙ্গে ঝুলত বাম . তড়িত জড়িত কাঁতিয়া। তারামণি চন্দ্রহার ঝুলিতে দোলিত গলে দোহার . হিলন দুহুঁক গাতিয়া॥ ধি ধি কটা ধৈয়া তাথৈয়া বোল বাজে মৃদঙ্গ মোহন রোল . তিনিনা তিনিনা তাতিয়া। ভেদ পড়ল গ্রামপুর ঘোর শবদ জীল সুর . বরণি নাহিক যাতিয়া॥ মণি-আভরণ-কিঙ্কিণী বঙ্ক ঝুলনে বাজিছে ঝনর ঝঙ্ক . ঝন নন ঝন ঝাতিয়া। রাধামোহন চরণে আশ কেবল ভরসা উদ্ধব দাস . রচিত পূরিত ছাতিয়া॥ এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পদাবলী”, ৩৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ইমন কল্যাণ - বৃহৎ জপতাল॥ ঝুলত শ্যাম গোরী বাম . আনন্দে-রঙ্গে মাতিয়া। ঈষত হষিত রভস-কেলি, ঝুলায়ত সব সখিনী মেলি, . গাওত কত ভাতিয়া॥ হেম মণিযুত বড় হিণ্ডোর, রচিত কুসুম-গন্ধে ভোর . পড়ল ভ্রমর-পাঁতিয়া। নবীন লতায়ে জড়িত ডাল বৃন্দা-বিপিনে শোভিত ভাল চান্দ-উজোর রাতিয়া॥ নবঘন-তনু দোলত শ্যাম রাই সঙ্গে ঝুলত বাম তড়িত-জড়িত-কাঁতিয়া। তারামণি চন্দ্রহার ঝুলিতে দোলিত গলে দোঁহার হিলন দুহুঁক গাতিয়া॥ ধিধিকটা ধৈয়া তা থৈয়া বোল বাজে মৃদঙ্গ মোহন রোল তিনিনা তিনিনা তা তিয়া। ভেদ পড়ল গ্রামপুর . ঘোর শবদ জীন সুর বরণী নাহিক যাতিয়া॥ মণি-অভরণ-কিঙ্কিণী বঙ্ক ঝুলনে বাজিছে ঝনর ঝঙ্ক ঝন নন ঝন ঝাঁতিয়া। রাধামোহন-চরণে আশ কেবল ভরসা উদ্ধবদাস রচিত পুরিত ছাতিয়া॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। ঝুলনলীলা ॥ কল্যাণী॥ ঝুলত শ্যাম গোরি বাম আনন্দে-রঙ্গে মাতিয়া। ইষত হসিত রভসকেলি ঝুলায়ত সব সখিনি মেলি গায়ত কত ভাতিয়া॥ ধ্রু॥ হেম মণিযুত বর হিঁডোর . রচিত কুসুম-গন্ধে ভোর . পড়ল ভ্রমরপাঁতিয়া। নবিন লতায় জডিত ডাল . বৃন্দাবিপিন শোভিত ভাল . চাঁদউজোর রাতিয়া॥ নবঘনতনু দোলয়ে শ্যাম . রাই সঙ্গে ঝুলত বাম . তড়িত জড়িত কাঁতিয়া। তারামণি চন্দ্রহার . ঝুলিতে দোলিত গলে দোঁহার . হিলন দুহুঁক গাতিয়া॥ ধিধিকট ধিয়া তাথিয়া বোল . বাজে মৃদঙ্গ মোহন রোল . তিনিনা তিনিয়া তা তিয়া। ভেদ পরণ গ্রামপূর . ঘোর শবদ জীল সূর . বরণ নাহিক যাতিয়া॥ মণিআভরণ কিংকিণি বঙ্ক . ঝুলনে বাজয়ে ঝুনুর ঝঙ্ক . ঝন ঝন ঝঞ্ঝাতিয়া। রাধামোহন চরণে আশ . কেবল ভরসা উদ্ধবদাস . রচিত পূরিত ছাতিয়া॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| জয় রে জয় রে শ্রীনিবাস নরোত্তম কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল), ৪র্থখণ্ড, ৪র্থশাখা ৩৬শপল্লব, প্রার্থনা, ৩০৯২-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ জয় রে জয় রে শ্রী নিবাস নরোত্তম রামচন্দ্র শ্রীগোবিন্দ দাস। জয় শ্রীগোবিন্দ গতি অগতি জনার গতি প্রেম-মূরতি পরকাশ॥ শ্রীদাস গোকুলানন্দ চক্রবর্ত্তী শ্রীগোবিন্দ শ্রীরামচরণ শ্রীল ব্যাস। শ্যামদাস চক্রবর্ত্তী কবিরাজ নৃসিংহ খ্যাতি কর্ণপূর শ্রীবল্লবীদাস॥ শ্রীগোপীরমণ নাম ভগবান গোকুলাখ্যান ভক্তি-গ্রন্থ কৈলা পরকাশ। প্রভুর প্রেয়সী রাম শ্রীগৌরাঙ্গপ্রিয়া নাম জাজী গ্রামে সতত বিলাস॥ শ্রীমতী দ্রৌপদী আর ঈশ্বরী বিখ্যাত যাঁর গৌর-প্রেম ভক্তি রসে ভাস। প্রভুর কন্যা হেমলতা সর্ব্বলোকে যশ-খ্যাতা স্মরণ মনন রসোল্লাস॥ রামকৃষ্ণ মুকুন্দাখ্যা চট্টরাজ যাঁর ব্যাখ্যা শুদ্ধ-ভক্তি-মত বিনির্যাস। রাঢ়দেশে সুধানিধি মণ্ডল ঠাকুর খ্যাতি প্রভুপদে সুদৃঢ় বিশ্বাস॥ ঘটক শ্রীরূপ নাম রসবতী-রাই-শ্যাম- লীলার ঘটনা-রসে ভাস। শ্রীবীর হাম্বির নাম বিষ্ণুপুর রাজ-ধাম যেঁহো আদি শাখা প্রভু পাশ॥ চট্টরাজ-কুলোদ্ভব গোপীজন-বল্লভ সদা প্রেম-সেবা অভিলাষ। শ্রীঠাকুর মহাশয় তাঁর যত শাখা হয় মুখ্য কিছু করিয়ে প্রকাশ॥ রামকৃষ্ণ আচার্য্য খ্যাতি গঙ্গানারায়ণ চক্রবর্ত্তী ভক্তি-মূর্ত্তি গামিলা নিবাস। রূপ রাধুরায় নাম গোকুল শ্রীভগবান ভক্তিমান শ্রীউদ্ধব দাস॥ শ্রীল রাধাবল্লভ চাঁদ রায় প্রেমার্ণব চৌধুরী শ্রীখেতরি নিবাস। শ্রীরাধামোহন-পদ যাঁর ধন-সম্পদ নাম গায় এ উদ্ধব দাস॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ২৫৯২-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ তথা রাগ॥ জয় রে জয় রে শ্রী নিবাস নরোত্তম রামচন্দ্র শ্রীগোবিন্দ দাস। জয় শ্রীগোবিন্দ গতি অগতি জনার গতি প্রেম-মূরতি পরকাশ॥ শ্রীদাস গোকুলানন্দ চক্রবর্ত্তী শ্রীগোবিন্দ শ্রীরামচরণ শ্রীনিবাস। শ্যামদাস চক্রবর্ত্তী কবিরাজ নৃসিংহ খ্যাতি কর্ণপূর শ্রীবল্লবীদাস॥ শ্রীগোপীরমণ নাম ভগবান গোকুলাখ্যান ভক্তি-গ্রন্থ কৈলা পরকাশ। প্রভুর প্রেয়সী রাম শ্রীগৌরাঙ্গপ্রিয়া নাম জাজী গ্রামে সতত বিলাস॥ শ্রীমতী দ্রৌপদী আর ঈশ্বরী বিখ্যাত যাঁর গৌর-প্রেম ভক্তি রসে ভাস। প্রভুর কন্যা হেমলতা সর্ব্বলোকে যশ-খ্যাতা স্মরণ মনন রসোল্লাস॥ রামকৃষ্ণ মুকুন্দাখ্যা চট্টরাজ যাঁর ব্যাখ্যা শুদ্ধ-ভক্তি-মত বিনির্যাস। রাঢ়দেশে সুধানিধি মণ্ডল ঠাকুর খ্যাতি প্রভুপদে সুদৃঢ় বিশ্বাস॥ ঘটক শ্রীরূপ নাম রসবতী-রাই-শ্যাম- লীলার ঘটনা-রসে ভাস। শ্রীবীর হাম্বির নাম বিষ্ণুপুর রাজ-ধাম যেঁহো আদি শাখা প্রভু পাশ॥ চট্টরাজ-কুলোদ্ভব গোপীজন-বল্লভ সদা প্রেম-সেবা অভিলাষ। শ্রীঠাকুর মহাশয় তাঁর যত শাখা হয় মুখ্য কিছু করিয়ে প্রকাশ॥ রামকৃষ্ণ আচার্য্য খ্যাতি গঙ্গানারায়ণ চক্রবর্ত্তী ভক্তি-মূর্ত্তি গামিলা নিবাস। রূপ রাধুরায় নাম গোকুল শ্রীভগবান ভক্তিমান শ্রীউদ্ধব দাস॥ শ্রীল রাধাবল্লভ চাঁদ রায় প্রেমার্ণব চৌধুরী শ্রীখেতরি নিবাস। শ্রীরাধামোহন-পদ যাঁর ধন-সম্পদ নাম গায় এ উদ্ধব দাস॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ জয় রে জয় রে শ্রীনিবাস নরোত্তম রামচন্দ্র শ্রীগোবিন্দদাস। জয় শ্রীগোবিন্দ গতি অগতি জনার গতি প্রেমমূরতি পরকাশ॥ শ্রীদাস গোকুলানন্দ চক্রবর্ত্তী শ্রীগোবিন্দ শ্রীরামচরণ শ্রীল ব্যাস। শ্যামদাস চক্রবর্ত্তী কবিরাজ নৃসিংহ খ্যাতি কর্ণপুর শ্রীবল্লবীদাস॥ শ্রীগোপীরমণ নাম ভগবান্ গোকুলাখ্যান ভক্তিগ্রন্থ কৈলা পরকাশ। প্রভুর প্রেয়সী রাম শ্রীগৌরাঙ্গপ্রিয়া নাম জাজীগ্রামে সতত বিলাস॥ শ্রীমতী দ্রৌপদী আর ঈশ্বরী বিখ্যাত যার গৌরপ্রেমভক্তিরসে ভাস। প্রভুর কন্যা হেমলতা সর্ব্বলোকে যশঃখ্যাতা স্মরণমননরসোল্লাস॥ রামকৃষ্ণ মুকুন্দাখ্যা চট্টরাজ যার ব্যাখ্যা শুদ্ধ ভক্তি মত বিনির্যাস। রাঢ়দেশে সুধানিধি মণ্ডল ঠাকুর খ্যাতি প্রভুপদে সুদৃঢ় বিশ্বাস॥ ঘটক শ্রীরূপ নাম রসবতী রাইশ্যাম লীলার ঘটনারসে ভাস। শ্রীবীর হাম্বীর নাম বিষ্ণুপুর যাক ধাম যেঁহো আদি শাখা প্রভু পাশ॥ চট্টরাজ-কুলোদ্ভব গোপীজনবল্লভ সদা প্রেম সেবা অভিলাষ। শ্রীঠাকুর মহাশয় তাঁর যত শাখা হয় মুখ্য কিছু করিয়ে প্রকাশ॥ রামকৃষ্ণ আচার্য্যখ্যাতি গঙ্গানারায়ণ চক্রবর্ত্তী ভক্তিমূর্ত্তি গামিলা-নিবাস। রূপ রাধু রায় নাম গোকুল শ্রীভগবান্ ভক্তিমান শ্রীউদ্ধব দাস॥ শ্রীল রাধাবল্লভ চাঁদ রায় প্রেমার্ণব চৌধুরী শ্রীখেতুরী নিবাস। শ্রীরাধামোহন পদ যাঁর ধন সম্পদ্ নাম গায় এ উদ্ধবদাস॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। প্রার্থনা ॥ তথা রাগ॥ জয় রে জয়রে শ্রী নিবাস নরোত্তম রামচন্দ্র শ্রীগোবিন্দদাস। জয় শ্রীগোবিন্দ গতি অগতি জনার গতি প্রেমমূরতি পরকাশ॥ শ্রীদাস গোকুলানন্দ চক্রবর্ত্তী শ্রীগোবিন্দ শ্রীরামচরণ শ্রীল ব্যাস। শ্যামদাস চক্রবর্ত্তী কবিরাজ নৃসিংহ খ্যাতি কর্ণপূর শ্রীবল্লবীদাস॥ শ্রীগোপীরমণ নাম ভগবান গোকুলাখ্যান ভক্তি-গ্রন্থ কৈলা পরকাশ। প্রভুর প্রেয়সী রামা শ্রীগৌরাঙ্গপ্রিয়া নামা জাজীগ্রামে সতত বিলাস॥ শ্রীমতী দ্রৌপদী আর শ্রীঈশ্বরী খ্যাতি যাঁর গৌরপ্রেম ভক্তি রসে ভাসে। প্রভুর কন্যা হেমলতা সর্ব্বলোকে যশখ্যাতা স্মরণ মনন রসোল্লাসে॥ রামকৃষ্ণ মুকুন্দাখ্যা চট্টরাজ যাঁর ব্যাখ্যা শুদ্ধ ভক্তিমতবিনির্যাস। রাঢ়দেশে সুধানিধি মণ্ডল ঠাকুর খ্যাতি প্রভুপদে সুদৃঢ় বিশ্বাস॥ ঘটক শ্রীরূপ নাম রসবতী রাই শ্যাম- লীলার ঘটনারসে ভাস। শ্রীবীর হাম্বির নাম বিষ্ণুপুর রাজধাম যেঁহো আদি শাখা প্রভু পাশ॥ চট্টরাজ কুলোদ্ভব গোপীজন বল্লভ সদা প্রেমসেবা অভিলাষ। শ্রীঠাকুর মহাশয় তাঁর যত শাখা হয় মুখ্য কিছু করিয়ে প্রকাশ॥ রামকৃষ্ণ আচার্য্য খ্যাতি গঙ্গানারায়ণ চক্রবর্ত্তী ভক্তি-মূর্ত্তি গামিলা নিবাস। রূপ রাধুরায় নাম গোকুল শ্রীভগবান ভক্তিমান শ্রীউদ্ধব দাস॥ শ্রীল রাধাবল্লভ চাঁদ রায় প্রেমার্ণব চৌধুরী শ্রীখেতরি নিবাস। শ্রীরাধামোহনপদ যাঁর ধনসম্পদ নাম গায় এ উদ্ধব দাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কদম্বের বনে থাকে কোন জনে কদম্বের বনে থাকি কোন জনে কবি উদ্ধব দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু, ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ২য় পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ, পদসংখ্যা ৩২। ॥ সিন্ধুড়া॥ কদম্বের বনে থাকে কোন জনে কেমন শবদ আসি। এ কি আচম্বিতে শ্রবণের পথে মরমে রহল পশি॥ সান্ধাঞা মরমে ঘুচাঞা ধরমে করিলে পাগলী পারা। চিত থির নহে সোয়াস্থ্য না রহে নয়ানে বহয়ে ধারা॥ কি জানি কেমন সোই কোন জন এমন শবদ করে। না দেখি তাহারে হৃদয় বিদরে রহিতে না পারি ঘরে॥ পরাণ না ধরে ধক-ধক করে রহে দরশন আশে। যবহুঁ দেখিবে পরাণ পাইবে কহয়ে উদ্ধব দাসে॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুরাগ॥ কদম্বের বনে থাকি কোন জনে কেমন শবদ আসি। ই কি আচম্বিতে শ্রবণের পথে মরমে রহল পশি॥ সেন্ধিয়ে মরমে ঘুচায়ে ধরমে করিলে পাগলি পারা। চিত স্থির নহে সোয়াস্ত না রহে নয়নে বহয়ে ধারা॥ কি জানি কেমন সে বা কোন জন এমন শবদ করে। না দেখি তাহারে হৃদয় বিদরে রহিতে না পারি ঘরে॥ পরাণ না ধরে ধক ধক করে রহে দরশন আশে। জবহু দেখিবে পরাণ পাইবে কহয়ে উদ্ধবদাসে॥ এই পদটি, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ তাল - বড় দশকুশী॥ কদম্বের বনে, থাকে কোন জনে, কেমন শবদ আসি। একি আচম্বিতে, শ্রবণের পথে, মরমে রহল পশি॥ সান্দাইয়া মরমে, ঘুচায় ধরমে, করিলে পাগলি পারা। চিত স্থির নহে, সোয়াস্তি না রহে, নয়নে বহয়ে ধারা॥ কি জানি কেমন, সেই কোন জন, এমন শবদ করে। না দেখে তাহারে, হৃদয় বিদরে, রহিতে না পারি ঘরে॥ পরাণ না ধরে, ধক্ ধক্ করে, রহে দরশন আশে। যবহু দেখিবে, পারাণ পাইবে, কহয়ে উদ্ধব দাসে॥ এই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রী - সিন্ধুড়া॥ কদম্বের বনে থাকে কোন জনে কেমন শবদ আসি। এ কি আচম্বিতে শ্রবণের পথে মরমে রহল পশি॥ সান্ধায়া মরমে ঘুচায়া ধরমে করিলে পাগলি পারা। চিত স্থির নহে সোয়াস্থ্য না রহে নয়ানে বহয়ে ধারা॥ কি জানি কেমন সেই কোন জন এমন শবদ করে। না দেখি তাহারে হৃদয় বিদরে রহিতে না পারি ঘরে॥ পরাণ না ধরে ধক ধক করে রহে দরশন আশে। যবহুঁ দেখিবে পরাণ পাইবে কহয়ে উদ্ধব দাসে॥ এই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ কদম্বের বনে থাকে কোন্ জনে কেমনে শবদ আসি। একি আচম্বিতে শ্রবণের পথে মরমে রহল পশি॥ সান্ধাঞা মরমে ঘুচাঞা ধরমে করিলে পাগলী পারা। চিত স্থির নহে সোয়াথ না রহে নয়ানে বহয়ে ধারা॥ কি জানি কেমনে সোই কোন্ জন এমন শবদ করে। না দেখি তাহারে হৃদয় বিদরে রহিতে না পারি ঘরে॥ পরাণ না ধরে ধক ধক করে রহে দরশন আশে। যবহুঁ দেখব পরাণ পায়ব কহয়ে উদ্ধব দাসে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ কদম্বের বনে থাকে কোন জনে কেমন শবদ আসি। এ কি আচম্বিতে শ্রবণের পথে মরমে রহল পশি॥ সান্ধাঞা মরমে ঘুচাঞা ধরমে করিল পাগলী পারা। চিত থির নহে সোয়াস্থ্য না রহে নয়নে বহয়ে ধারা॥ কি জানি কেমন সেই কোন জন এমন শবদ করে। না দেখি তাহারে হৃদয় বিদরে রহিতে না পারি ঘরে॥ পরাণ না ধরে ধকধক করে রহে দরশন আশে। যবহুঁ দেখিবে পরাণ পাইবে কহয়ে উদ্ধব দাসে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| পহিলে শুনিলুঁ অপরূপ ধ্বনি পহিলে শুনিনু অপরূপ ধ্বনি পহিলে শুনিল অপরূপ ধনি কবি উদ্ধব দাস এই পদটিআনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু, ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ২য় পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ, ৩৩-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ পহিলে শুনিলুঁ অপরূপ ধ্বনি কদম্বকানন হৈতে। তারপর দিনে ভাটের বর্ণনে শুনি চমকিত চিতে॥ আর এক দিন মোর প্রাণ-সখি কহিলে যাহার নাম। গুণি-গণ-গানে শুনিলুঁ শ্রবণে তাহার এ গুণ-গাম॥ সহজে অবলা তাহে কুলবালা গুরু-জন-জালা ঘরে। সে হেন নাগরে আরতি বাঢ়য়ে কেমনে পরাণ ধরে॥ ভাবিয়া চিন্তিয়া মনে দঢ়াইলুঁ পরাণ রবার নয়। করহ উপায় কৈছে মিলয় এ দাস উদ্ধবে কয়॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানসী॥ পহিলে শুনিল অপরূপ ধনি কদম্বকানন হৈতে। তার পর দিনে ভাটের বর্ণনে শুনি চমকিত চিতে॥ আর এক দিন মোর প্রাণসখী কহিলে জাহার নাম। গুণিগণ গানে শুনিল শ্রবণে তাহার এ গুণগান॥ সহজে অবলা তাহে কুলবালা গুরুজনজ্বালা ঘরে। সে হেন নাগর আরতি বাড়ায় কেমনে পরাণ ধরে॥ ভাবিয়া চিন্তিয়া মনে দড়াইনু পরাণ রহিবার নয়। করহ উপায় কৈছে মিলয় এ দাস উদ্ধবে কয়॥ এই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, ৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধনাশ্রী॥ পহিলে শুনিনু অপরূপ ধ্বনি কদম্বকানন হৈতে। তারপর দিনভাটের বর্ণনে শুনি চমকিত চিতে॥ আর এক দিন প্রাণ সখী কহিলে যাহার নাম। গুণিগণ গানে শুনিনু শ্রবণে তাহার এগুণ গ্রাম॥ সহজে অবলা তাহে কুলবালা গুরুজন জ্বালা ঘরে। সেহেন নাগরে আরতি বাঢ়ায়ে কেমন পরাণ ধরে॥ ভাবিয়া চিন্তিয়া মনে দড়াইনু পরাণ রহিবার নয়। করহ উপায় কৈছে মিলয় দাস উদ্ধবে কয়॥ এই পদটি, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশ্রী॥ পহিলে শুননু, অপরূপ ধ্বনি, কদম্ব কানন হইতে। তার পরদিন, ভাটের বর্ণনে, শুনি চমকিত চিতে॥ আর একদিন প্রাণসখী কহিলে যাহার নাম। গুণিগণ গানে, শুনিনু শ্রবণে তাহার এ গুণ নাম॥ সহজে অবলা, তাহে কুলবালা, গুরুজন জ্বালা ঘরে। সে হেন নাগরে, আরতি বাড়য়ে, কেমন পরাণ ধরে॥ ভাবিয়া চিন্তিয়া, মনে দড়াইনু, পরাণ রহিবার নয়। করহ উপায়, কৈছে মিলয়, দাস উদ্ধবে কয়॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ পহিলে শুনিনু, অপরূপ ধ্বনি, কদম্বকানন হইতে। তার পর দিনে, ভাটের বর্ণনে, শুনি চমকিত চিতে॥ আর এক দিন, মোর প্রাণসখি, কহিলে যাহার নাম। গুণিগণ গানে, শুনিনু শ্রবণে, তাহার এ গুণগ্রাম॥ সহজে অবলা, তাহে কুলবালা, গুরুজন জ্বালা ঘরে। সে হেন নাপরে @, আরতি বাঢ়য়ে, কেমনে পরাণ ধরে॥ ভাবিয়া চিন্তিয়া, মনে দঢ়াইনু, পরাণ রহিবে নয়। কহত উপায়, কৈছে মিলয়, দাস উদ্ধবে কয়॥ @ - শব্দটি সম্ভবত “নাগরে” হবে। এই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী - একতালা॥ পহিলে শুনিলুঁ অপরূপ ধ্বনি কদম্ব কানন হৈতে। তার পর দিনে ভাটের বর্ণনে শুনি চমকিত চিতে॥ আর এক দিন মোর প্রাণ সখি কহিলে যাহার নাম। গুণিগণ-গানে শুনিলুঁ শ্রবণে তাহার এ গুণ গাম॥ সহজে অবলা তাহে কুলবালা গুরুজন জ্বালা ঘরে। সে হেন নাগরে আরতি বাঢ়য়ে কেমনে পরাণ ধরে॥ ভাবিয়া চিন্তিয়া মনে দঢ়াইলুঁ পরাণ রহিবার নয়। করহ উপায় কৈছে মিলয় দাস উদ্ধবে কয়॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ পহিলে শুনলু অপরূপ ধ্বনি, কদম্ব কানন হৈতে। তার পর দিনে, ভাটের বর্ণনে, শুনি চমকিত চিতে॥ আর একদিন মোর প্রাণসখী, কহিল যাহার নাম। গুণিজণ গানে, শুনিলু শ্রবণে, তাহার এ গুণ গান॥ সহজে অবলা, তাহে কুলবালা, গুরুজন জ্বালা ঘরে। সে হেন নাগরে, আরতি বাঢ়য়ে, কেমনে পরাণ ধরে॥ ভাবিয়া চিন্তিয়া, মনে দঢ়াইনু, পরাণ রহিবার নয়। কহত উপায়, কৈছে মিলয়, এ দাস উদ্ধবে কয়॥ এই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ পহিলে শুনিলুঁ অপরূপ ধ্বনি কদম্ব-কানন হৈতে। তার পর দিনে ভাটের বর্ণনে শুনি চমকিত চিতে॥ আর একদিন মোর প্রাণ-সখী কহিলে যাহার নাম। গুণি-গণ-গানে শুনিলুঁ শ্রবণে তাহার এ গুণ-গাম॥ সহজে অবলা তাহে কুলবালা গুরু-জন-জ্বালা ঘরে। সে হেন নাগরে আরতি বাঢ়য়ে কেমনে পরাণ ধরে॥ ভাবিয়া চিন্তিয়া মনে দঢ়াইলুঁ পরাণ রহব নয়। কহত উপায়ে কৈছে মিলয়ে দাস উদ্ধবে কয়॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ পহিলে শুনিলুঁ অপরূপ ধ্বনি কদম্বকানন হৈতে। তার পর দিনে ভাটের বর্ণনে শুনি চমকিত চিতে॥ আর এক দিন মোর প্রাণসখি কহিলে যাহার নাম। গুণিগণগানে শুনিলুঁ শ্রবণে তাহার এ গুণগাম॥ সহজে অবলা তাহে কুলবালা গুরুজনজালা ঘরে। সে হেন নাগরে আরতি বাঢ়য়ে কেমনে পরাণ ধরে॥ ভাবিয়া চিন্তিয়া মনে দঢ়াইলুঁ পরাণ রবার নয়। করহ উপায় কৈছে মিলয় এ দাস উদ্ধবে কয়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কালিয়ার রূপ মরমে লাগিয়া কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু, ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ২য় পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ, ৩৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। চিত্র-পটে দর্শন ॥ কামোদ॥ কালিয়ার রূপ মরমে লাগিয়া সোয়াস্থ্য না হয় মনে। বিরলে বসিয়া সখীরে কহই দেখাইলে রহে প্রাণে॥ এ বোল শুনিয়া বিশাখা ধাইয়া শ্যাম কলেবর দেখি। রাইয়ের গোচরে দেখাবার তরে পটের উপরে লেখি॥ আনি চিত্রপট রাইয়ের নিকট সমুখে রাখিলা সখী। সে রূপ দেখিয়া মূরছিত হৈয়া পড়িলা কমল-মুখী॥ মন্দাকিনী পারা কত শত ধারা এ দুটি নয়ানে বহে। করহ চেতন পাবে দরশন দাস উদ্ধবে কহে॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ কালিয়ার রূপ মরমে লাগিয়ে শাস্ত১ না হয় মনে। বিরলে বসিয়ে সখীরে কহয়ে দেখাইলে রহে প্রাণে॥ এ বোল সুনিয়া বিশাখা ধাইয়া শ্যাম কলেবর দেখি। রাইর গোচরে দেখাবার তরে পটের উপরে লেখি॥ আনি চিত্রপটে রাইয়ের নিকটে সম্মুখে রাখেন সখী। সে রূপ দেখিয়ে মূরছিত হয়ে পড়িলা কমলমুখী॥ মন্দাকিনী পারা কত শত ধারা এ দুটি নয়ানে বহে। করহ চেতন পাবে দরশন এ দাস উদ্ধব কহে॥ ১। শাস্ত - এই গ্রন্থে এই শব্দটি সঠিকভাবে পড়া যাচ্ছে না। “শান্ত”-ও হতে পারে। এই পদটি, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ তাল - দশকুশী॥ কালিয়ার রূপ, মরমে লাগিয়া, যে যাতনা হয় মনে। বিরলে বসিয়ে, সখিরে কহয়ে, দেখাইলে রহে প্রাণে॥ এ বোল শুনিয়া, বিশাখা ধাইয়া, শ্যাম কলেবর দেখি। রাইয়ের গোচরে, দেখাবার তরে, পটের উপরে লিখি॥ আনি চিত্র পট, রাইয়ের নিকট, সম্মুখে রাখিলা সখী। সেরূপ দেখিয়া, মুরছিত হইয়া, পড়িল কমলমুখী॥ মন্দাকিনী পারা, কত শত ধারা, ও দুটি নয়ানে বহে। করাহ চেতন, পাবে দরশন, এ দাস উদ্ধবে কহে॥ এই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ গৌরী - তেওট॥ কালিয়ার রূপ মরমে লাগ্যাছে সোয়াস্থ্য না হয় মনে। বিরলে বসিয়ে সখিরে কহয়ে দেখাইলে রহে প্রাণে॥ এ বোল শুনিয়া বিশাখা ধাইয়া শ্যাম-কলেবর দেখি। রাইয়ের গোচরে দেখাবার তরে পটের উপরে লেখি॥ আনি চিত্রপট রাইয়ের নিকট সমুখে রাখিলা সখী। সে রূপ দেখিয়া মূরছিত হৈয়া পড়িলা কমলমুখী॥ মন্দাকিনী পারা কত শত ধারা এ দুটি নয়ানে বহে। করহ চেতন পাবে দরশন দাস উদ্ধবে কহে॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। চিত্রপট দর্শন। কালিয়ার রূপ, মরমে লাগিয়া, সোয়াথ না রহে মনে। বিরলে বসিয়া, সখীরে কহয়ে, দেখাইলে রহে প্রাণে॥ এ বোল শুনিয়া, বিশাখা ধাইয়া, শ্যাম কলেবর দেখি। রাইয়ের গোচরে, দেখাবার তরে, পটের উপর লেখি॥ আনি চিত্রপটে, রাইয়ের নিকটে, সমুখে রাখিল সখী। সে রূপ দেখিয়া, মুরছিত হঞা, পড়িল কমলমুখী॥ মন্দাকিনী পারা, কত শত ধারা, ও দুটি নয়ানে বহে। করহ চেতন, পাবে দরশন. এ দাস উদ্ধব কহে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ কালিয়ার রূপ মরমে লাগিয়া সোয়াস্থ্য না হয় মনে। বিরলে বসিয়া সখীরে কহই দেখাইলে রহে প্রাণে॥ এ বোল শুনিয়া বিশাখা ধাইয়া শ্যাম কলেবর দেখি। রাইয়ের গোচরে দেখাবার তরে পটের উপরে লেখি॥ আনি চিত্রপট রাইয়ের নিকট সমুখে রাখিলা সখী। সে রূপ দেখিয়া মূরছিত হৈয়া পড়িলা কমলমুখী॥ মন্দাকিনী পারা কত শত ধারা এ দুটি নয়ানে বহে। করহ চেতন পাবে দরশন দাস উদ্ধবে কহে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কত রূপে মিনতি করল বর-নাহ কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু, ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ১১শ পল্লব, অধীরা মধ্যা খণ্ডিতা, ৪১১-পদসংখ্যা এইরূপে দেওয়া রয়েছে। অত্রান্তরে দুর্জ্জয়-মানঃ। তস্য মিলনম্। ॥ তিরোথা ধানশী॥ কত রূপে মিনতি করল বর-নাহ। গলে পীতাম্বর ঠাড়হিঁ কর যোড়ি তব ধনি পালটি না চাহ॥ ধ্রু॥ তবহুঁ রসিক-রাজে সিরজিয়া মন মাঝে গদগদ কহে আধ বাত। পাঁচ-বদন অহি মঝু পদে দংশল জরজর ভেল সব গাত॥ এত কহি নাগর কাঁপই থর থর মুরছি পড়ল সোই ঠাম। কি ভেল কি ভেল বলি রাই ধাই চলি কোরে কয়ল ঘনশ্যাম॥ শিতল সলিল লেই নয়নে বয়নে দেই নীল-বসনে করু বায়। চেতন পাইয়া হরি উঠল অঙ্গ মোড়ি উদ্ধব দাস গুণ গায়॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ৫৬১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ তিরোথা ধানশী॥ কত রূপে মিনতি করল যব নাহ। গলে পীতাম্বর ঠাড়হিঁ কর যোড়ি তব ধনি পালটি না চাহ॥ ধ্রু॥ তবহি রসিক-রাজে সিরজিয়া মন মাঝে গদগদ কহে আধ বাত। পাঁচ-বদন য়হি মঝু পদে দংশল জরজর ভেল সব গাত॥ এত কহি নাগর কাঁপই থর হরি মুরছি পড়ল সোই ঠাম। কি ভেল কি ভেল বলি রাই ধাই চলি কোরে কয়ল ঘনশ্যাম॥ শিতল সলিল লেই নয়নে বয়নে দেই নীল-বসনে করু বায়। চেতন পাইয়া হরি উঠল অঙ্গ মোড়ি উদ্ধব দাস গুণ গায়॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ কত রূপে মিনতি করল বর নাহ। গলে পীতাম্বর ঠাড়হি করযোড় তব ধনী পালটি না চাহ॥ তবহুঁ রসিক রাজে সিরজিয়া মন মাঝে গদ গদ কহে আধ বাত। পাঁচ বদন অহি মঝু পদে দংশল জর জর ভেল সব গাত॥ এত কহি নাগর কাঁপই থর থর মূরছি পড়ল সোই ঠাম। কি ভেল কি ভেল বলি রাই ধাই চলল কোরে করল ঘন শ্যাম॥ শীতল সলিল লেই নয়ানে বয়ানে দেই নীল বসনে করু বায়। চেতন পাইয়া হরি উঠল অঙ্গ মোড়ি উদ্ধব দাস গুণ গায়॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। মান প্রকারান্তর ॥ তিরোথা ধানশী॥ কত রূপে মিনতি করল বর নাহ। গলে পীতাম্বর ঠাড়হি কর যোড়ি তব ধনি পালটি না চাহ॥ ধ্রু॥ তবহুঁ রসিকরাজে সিরজিয়া মন মাঝে গদগদ কহে আধ বাত। পাঁচবদন অহি মঝু পদে দংশল জরজর ভেল সব গাত॥ এত কহি নাগর কাঁপই থর থর মুরছি পড়ল সোই ঠাম। কি ভেল কি ভেল বলি রাই ধাই চলি কোরে কয়ল ঘনশ্যাম॥ শিতল সলিল লেই নয়নে বয়নে দেই নীলবসনে করু বায়। চেতন পাইয়া হরি উঠল অঙ্গ মোড়ি উদ্ধবদাস গুণ গায়॥ এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, খণ্ডিতা, ৩২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ গান্ধার - মধ্যম একতালা॥ কত রূপে মিনতি করল বর নাহ। গলে পীতাম্বর ঠাড়হি কর জোড়ি তব ধনি পালটি না চাহ॥ ধ্রু॥ তবহি রসিক-রাজে সিরজিয়া মন মাঝে গদ গদ কহে আধ বাত। পাঁচ বদন অহি মঝু পদে দংশল জরজর ভেল সব গাত॥ এত কহি নাগর কাঁপই থর থর মুরছি পড়ল সোই ঠাম। কি ভেল কি ভেল বলি চমকি রাই চললি কোরে কয়ল ঘনশ্যাম॥ শিতল সলিল লেই নয়নে বয়নে দেই নীল বসনে করু বায়। চেতন পাইয়া হরি উঠল অঙ্গ মোড়ি উদ্ধব দাস গুণ গায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| প্রিয় সখি নিকটে যাই কহে দ্রুত গতি কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু, ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ১৮শ পল্লব, মান - প্রকারান্তর, ৫২৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সখী-বচনেন মানো যথা। ॥ সুহই॥ প্রিয়-সখি নিকটে যাই কহে দ্রুত-গতি শুন ধনি চতুরিণি রাধে। চন্দ্রাবলি সঞে কানু রজনি আজু কামে পুরায়ল সাধে॥ ঐছন সুনইতে বাত। অরুণিত লোচন গরগর অন্তর রোখে পুরল সব গাত॥ ধ্রু॥ আপনক কামে কামি যেই কামিনী রসিক-মরম নাহি জান। সো মঝু বিদগধ নাহক বলে ছলে কত না কয়ল অপমান॥ চঞ্চল মনহি থীর নাহি হোয়ত কামে লুবধ-চিত কান। ঐছন নাহক বদন না হেরব উদ্ধব দাস পরমাণ॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। প্রিয়সখী নিকটে জাই কহে দ্রুতগতি সুন সুন চতুরিণী রাধে। চন্দ্রাবলি সঞে কানু রজনি আজু কামে পুরায়লী সাধে॥ ঐছন সুনইতে বাত। অরুণিত লোচনে গরগর অন্তর রোখে পুরল সব গাত॥ আপন কামে কামি জেই কামিনী রসিক মরম জানি জান। সো মঝু বিদগদ নাহক বলে ছলে কত না কওল অপমান॥ চঞ্চল মনহি থীর নাহি হোওত কামে লুবুধ চিত কান। ঐছন নাহক বদন না হেরিব উদ্ধবদাস পরমাণ॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সখী বচনেন মানো যথা। ॥ শ্রীরাগ॥ প্রিয় সখী নিকটে, যাই কহে দ্রুতগতি শুন ধনি চতুরিণি রাধে। চন্দ্রাবলী সঞে, কানু রজনী আজু, কামে পুরায়ল সাধে॥ ঐছন সুনইতে বাত। অরুণিত লোচন, গর গর অন্তর, রোখে পুরল সব গাত॥ আপনক কামে, কামী যেই কামিনী, রসিক মরম নাহি জান। সো মঝু বিদগধ, নাহক বলে ছলে, কত না করল অপমান॥ চঞ্চল মনহি, থির নাহি হোয়ত, কামে লুবধ চিত কান। ঐছন নাহক, বদন না হেরব, উদ্ধব দাস পরমাণ॥ এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, মানপ্রকরণ, ৪১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ললিত - জপতাল॥ প্রিয় সখি নিকটে যাই কহে দ্রুতগতি শুন ধনি চতুরিণি রাধে। চন্দ্রাবলি সঞে কানু রজনি আজু কামে পুরায়ল সাধে॥ ঐছন শুনইতে বাত। অরুণিত লোচন গর গর অন্তর রোখে পুরল সব গাত॥ ধ্রু॥ আপনক কামে কামি যেই কামিনী রসিক মরম নাহি জান। সো মঝু বিদগধ নাহক বলে ছলে কত না কয়ল অপমান॥ চঞ্চল মনহি থীর নাহি হোয়ত কামে লুবধ চিত কান। ঐছন নাহক বদন না হেরব উদ্ধবদাস পরমাণ॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। মান প্রকারান্তর ॥ সুহই॥ প্রিয়সখি নিকটে যাই কহে দ্রুতগতি শুন ধনি চতুরিণি রাধে। চন্দ্রাবলি সঞে কানু রজনি আজু কামে পুরায়ল সাধে॥ ঐছন সুনইতে বাত। অরুণিত লোচন গরগর অন্তর রোখে পুরল সব গাত॥ ধ্রু॥ আপনক কামে কামি যেই কামিনী রসিক মরম নাহি জান। সো মঝু বিদগধ নাহক বলে ছলে কত না কয়ল অপমান॥ চঞ্চল মনহি থীর নাহি হোয়ত কামে লুবধচিত কান। ঐছন নাহক বদন না হেরব উদ্ধব দাস পরমাণ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| তরু পর রৈয়া শুক ফুকারিয়া তরু পর রহিয়া শুক ফুকারিয়া কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু, ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ২০শ পল্লব, বিবিধ মান, ৫৬৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। অথ মানঃ প্রকারান্তরম্। ॥ ভাটিয়ারি॥ তরু পর রৈয়া শুক ফুকারিয়া কহয়ে আপন স্বরে। কানুরে লইয়া চলিল ধাইয়া পদ্মা সহচরী ঘরে॥ শুকের বচন শুনি বিনোদিনী অরুণ যুগল আঁখি। অবনত-মুখে মন্দলিত স্বরে কহে গদগদ ভাখি॥ পদ্মার সখীর সঙ্গতি সুন্দর শ্যাম মধুকর-রাজ। যৈছে রসবতী তৈছন রসিক মোর সনে নাহি কাজ॥ কাম-কলা-রসে কয়ল সরসে জানয়ে কামের রীত। কামুকী বুঝিয়া কামুক নাগর তা সঞে কয়ল প্রীত॥ তুহুঁ যাই সখি এ সব বচন কহবি কানুক পাশ। শুনিতে তুরিতে নাহ নিয়ড়ে চললি উদ্ধব দাস॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তরু পর রহিয়া শুক ফুকারিয়া কহএ আপন স্বরে। কানুরে লইএ চলিলা ধাইএ পদ্মা সহচরী ঘরে॥ শুকের বচন সুনি বিনোদিনী অরুণ যুগল আঁখি। অবনত মুখে মুকুলিত স্বরে কহে গদগদ ভাখি॥ পদ্মা সখীর সঙ্গতি সুন্দরী শ্যাম মধুকররাজ। জৈছে রসবতী তৈছে রসিক মোর সনে নাহি কাজ॥ কামকলারসে কওল সরসে জানয়ে কামের রীত। কামিনী বুঝিএ কানুক নাগর তা সঞে কওল প্রীত॥ তুহু জাই সখী এ সব বচন কহবি কানুর পাশ। সুনিঞে তুরিতে নাহ নিকটেতে চলিল উদ্ধবদাস॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারি॥ তরু পর রৈয়া, শুক ফুকারিয়া, কহয়ে আপন স্বরে। কানুরে লইয়া, চলিল ধাইয়া, পদ্মা সহচরী ঘরে॥ শুকের বচন, শুনি বিনোদিনী, অরুণ যুগল আঁখি। অবনত মুখে, মুকুলিত স্বরে, কহে গদ গদ ভাখি॥ পদ্মার সখীর, সঙ্গতি সুন্দর, শ্যাম মধুকর-রাজ। যৈছে রসবতী, তৈছন রসিক, মোর সনে নাহি কাজ॥ কাম-কলা-রসে, কয়ল সরসে, জানয়ে কামের রীত। কামুকী বুঝিয়া, কামুক নাগর, তা সঞে কয়ল প্রীত॥ তুহুঁ যাই সখি, এ সব বচন, কহবি কানুক পাশ। শুনিতে তুরিতে, নাহ নিয়ড়ে, চলিল উদ্ধব দাস॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫০৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। অকারণ মান ॥ ভাটিয়ারি॥ তরু পর রৈয়া শুক ফুকারিয়া কহয়ে আপন স্বরে। কানুরে লইয়া চলিল ধাইয়া পদ্মা সহচরী ঘরে॥ শুকের বচন শুনি বিনোদিনী অরুণ যুগল আঁখি। অবনত মুখে মন্দমৃদু স্বরে কহে গদগদ ভাখি॥ পদ্মার সখীর সঙ্গতি সুন্দর শ্যাম মধুকররাজ। যৈছে রসবতী তৈছন রসিক মোর সনে নাহি কাজ॥ কামকলারসে কয়ল সরসে জানয়ে কামের রীত। কামুকী বুঝিয়া কামুক নাগর তা সঞে কয়ল প্রীত॥ তুহুঁ যাই সখি এ সব বচন কহবি কানুক পাশ। শুনিতে তুরিতে নাহ নিয়ড়ে চলিল উদ্ধব দাস॥ এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, মানপ্রকরণ, ৪৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ গান্ধার - একতালা॥ তরু পর রৈয়া শুক ফুকারিয়া কহয়ে আপন স্বরে। কানুরে লইয়া চলিল ধাইয়া পদ্মা সহচরী ঘরে॥ শুকের বচন শুনি বিনোদিনী অরুণ যুগল আঁখি। অবনত মুখে মন্দলিত স্বরে কহে গদগদ ভাখি॥ পদ্মার সখীর সঙ্গতি সুন্দর শ্যাম মধুকর-রাজ। যৈছে রসবতী তৈছনে রসিক মোর সনে নাহি কাজ॥ কামকলা-রসে কয়ল সরসে জানয়ে কামের রীত। কামুকী বুঝিয়া কামুক নাগর তা সঞে কয়ল প্রীত॥ তুহুঁ যাই সখি এ সব বচন কহবি কানুক পাশ। শুনিতে তুরিতে নাহ নিয়ড়ে চললি উদ্ধব দাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সহচর লৈয়া যেখানে বসিয়া সহচরী লৈএ জেখানে বসিএ কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু, ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ২০শ পল্লব, বিবিধ মান, ৫৬৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ সহচর লৈয়া যেখানে বসিয়া আছয়ে নাগর-রাজ। দূতী দ্রুত-গতি যাইয়া নয়ন- ইঙ্গিতে কহল কাজ॥ চতুর নাগর ধরি তার কর নিরজনে চলি যাই। কি লাগি বিরস বদন তোহারি বিবরি কহ বুঝাই॥ সখী কহে শুনি শুকের শবদ আন সঞে তুয়া কাম। সহজে মানিনী ভৈগেল দ্বিগুণি না শুনে তোহারি নাম॥ এত শুনি হরি ব্যাজ পরিহরি মিলল রাইক পাশ। হেরি ভয়ে ভীত মানিনী-চরিত কহয়ে উদ্ধব দাস॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ সহচরী লৈএ জেখানে বসিএ আছএ নাগররাজ। দূতী দ্রুতগতি জাইএ নয়ন ইঙ্গিতে কহল কাজ॥ চতুর নাগর ধরি তার কর নিরজনে চলি জাই। কি লাগি বিরস বদন তোহারি বিবরি কহ বুঝাই॥ সখী কহে সুনি শুকের শবদ আন সঙে তুয়া কাম। সহজে মানিনী ভৈ গেও দ্বিগুনি না সুনে কাহারি নাম॥ এত সুনি হরি ব্যাজ পরিহরি মিলল রাইক পাষ। হেরি ভএ ভীত মানিনী চরিত ভণিত উদ্ধবদাস॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ সহচর লৈয়া, যেখানে বসিয়া, আছয়ে নাগর-রাজ। দূতী দ্রুত-গতি, যাইয়া নয়ন- ইঙ্গিতে কহল কাজ॥ চতুর নাগর, ধরি তার কর, নিরজনে চলি যাই। কি লাগি বিরস, বদন তোহারি, বিবরি কহ বুঝাই॥ সখী কহে শুনি, শুকের শবদ, আন সঞে তুয়া কাম। সহজে মানিনী, ভৈগেল দ্বিগুণ, না শুনে তোহারি নাম॥ এত শুনি হরি, ব্যাজ পরিহরি, মিলল রাইক পাশ। হেরি ভেল ভীত, মানিনী-চরিত, কহয়ে উদ্ধব দাস॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫০৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। অকারণ মান ॥ ধানশী॥ সহচর লৈয়া যেখানে বসিয়া আছয়ে নাগররাজ। দূতী দ্রুতগতি যাইয়া নয়ন- ইঙ্গিতে কহল কাজ॥ চতুর নাগর ধরি তার কর নিরজনে চলি যাই। কি লাগি বিরস বদন তোহারি বিবরি কহ বুঝাই॥ সখী কহে শুনি শুকের শবদ আন সঞে তুয়া কাম। সহজে মানিনী ভৈগেল দ্বিগুণি না শুনে তোহারি নাম॥ এত শুনি হরি ব্যাজ পরিহরি মিলল রাইক পাশ। হেরি ভয়ে ভীত মানিনীচরিত কহয়ে উদ্ধবদাস॥ এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, মানপ্রকরণ, ৪৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তিরোথা ধানশী - দুঠুকী॥ সহচর লৈয়া যেখানে বসিয়া আছয়ে নাগর-রাজ। দূতী দ্রুত গতি যাইয়া নয়ন- ইঙ্গিতে কহল কাজ॥ চতুর নাগর ধরি তার কর নিরজনে চলি যাই। কি লাগি বিরস বদন তোহারি বিবরি কহ বুঝাই॥ সখী কহে শুনি শুকের শবদ আন সঞে তুয়া কাম। সহজে মানিনী ভৈগেল দ্বিগুণি না শুনে তোহারি নাম॥ এত শুনি হরি ব্যাজ পরিহরি মিলল রাইক পাশ। হেরি ভয়ে ভীত মানিনী চরিত কহয়ে উদ্ধব দাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |