কবি উদ্ধবদাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
নিশি অবসান শয়ন পর আলসে
কবি উদ্ধব দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল), ৪র্থখণ্ড, ৪র্থশাখা ৩১শপল্লব,
অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৮৩৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পুনশ্চ অষ্টকালীয়-লীলা দিনান্তরে
সংক্ষেপণ যথা।
অথ রসালসঃ।
শ্রীগৌরচন্দ্রো যথা।
॥ ভৈরবী॥

নিশি অবসান শয়ন পর আলসে
.বিশ্বম্ভর দ্বিজ-রাজ।
নিরুপম হেম জিনিয়া তনু মুখ-শশি
মুদিত-কমল দিঠি সাজ॥
জয় জয় নদিয়া-নগর-আনন্দ।
সহজই বিম্বাধর তাহে শোভিত
তাম্বুল-রাগ-সুছন্দ॥
বালিশ পর শির আলিসে নাসায়ে
বহুতহি মন্দ নিশ্বাস।
বিগলিত চাঁচর কেশ শেজ পর
বদনে মিশা মৃদু হাস॥
কোকিল-কপোত-আদি-ধ্বনি শুনইতে
জগি বৈঠল অলসাই।
উদ্ধবদাস করে বারি-ঝারি লই
সমুখহি দেওব যোগাই॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার,
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী ভৈরবী॥ তাল পরিমিত॥ তত্র গৌরচন্দ্র॥

নিশি অবসানে শয়ন পর আলসে বিশ্বম্ভর দ্বিজরাজ।
নিরুপম হেম জিনিয়া তনু মুখশশী মুদিত কমল দিঠে সাজ॥
জয় জয় নদিয়ানাগর আনন্দ।
সহজই বিম্বাধর তাহে শোভিত তাম্বুলরাগ সুছন্দ॥
বালিস পরশি আলিসে না সহ রহ তহি মন্দমন্দ নিশ্বাস।
বিগলিত চাঁচর কেশ সেজ পর বদনে মিসা মৃদু হাস॥
কোকিলা কপোত আদি রব সুনাইতে জাগি বৈঠল অলসাই।
উদ্ধবদাস বারি ঝারি লেই সুমুখে দেই জোগাই॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভৈরবী॥

নিশি অবসান                        শয়নপর আলসে
.বিশ্বম্ভর দ্বিজরাজ।
নিরুপম হেম                জিনিয়া তনু মুখশশী
মুদিত কমল দিঠি সাজ॥
জয় জয় নদিয়ানগর আনন্দ।
সহজেই বিম্বাধর                অছু পরি শোভিত
তাম্বুলরাগ সুছন্দ॥ ধ্রু॥
বালিশ পর শির                        অলসে নাসায়
বহতহি মন্দ নিশ্বাস।
বিগলিত চাঁচর                        কেশ শেষোপর
বদনে মিশা মৃদু হাস॥
কোকিল কপোত                আদি ধ্বনি শুনইতে
জাগি বৈঠল অলসাই।
উদ্ধব দাস করে                        বারি ঝারি লই
সমুখহি দেওব যোগাই॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভৈরবী॥

নিশি অবসান,                        শয়ন পর আলসে,
বিশ্বম্ভর দ্বিজ-রাজ।
নিরুপম হেম,                     জিনিয়া তনু মুখ-শশী,
মুদিত কমল দিঠি সাজ॥
জয় জয় নদিয়া নগর-আনন্দ।
সহজই বিম্বা-                        ধর তাহে শোভিত,
তাম্বুল রাগ সুছন্দ॥
বালিশ পর শির,                       আলিসে নাসার,
বহুতহি মন্দ নিশ্বাস।
বিগলিত চাঁচর,                         কেশ শেজ পর,
বদনে মিশা মৃদু হাস॥
কোকিল কপোত-                 আদি ধ্বনি শুনইতে,
জাগি বৈঠল অলসাই।
উদ্ধবদাস করে,                         বারি ঝারি লই,
সমুখহি দেওব যোগাই॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (১)
এর নামে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের নিদ্রাভঙ্গ
॥ ভৈরবী॥

নিশি অবসান শয়ন পর আলসে
.বিশ্বম্ভর দ্বিজরাজ।
নিরুপম হেম জিনিয়া তনু মুখশশী
মুদিত কমল দিঠি সাজ॥
জয় জয় নদিয়া নগর আনন্দ।
সহজই বিম্বাধর তাহে শোভিত
তাম্বূলরাগ সুছন্দ॥
বালিশ পর শির আলিসে নাসায়ে
বহুতহি মন্দ নিশ্বাস।
বিগলিত চাঁচর বেশ শেজ পর
বদনে মিশা মৃদু হাস॥
কোকিল কপোত আদি ধ্বনি শুনইতে
জাগি বৈঠল অলসাই।
উদ্ধবদাস করে বারিঝারি লই
সমুখহি দেওব যোগাই॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিশি অবসানে বৃন্দাদেবি জাগল
নিশি অবসানে বৃন্দাবন জাগল
কবি উদ্ধব দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল), ৪র্থখণ্ড, ৪র্থশাখা ৩১শপল্লব,
অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৮৩৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাষ॥

নিশি অবসানে বৃন্দাদেবি জাগল
.     সকল সখীগণ মেল।
নিভৃত-নিকুঞ্জ-দ্বার করি মোচন
.     মন্দির মাহা চলি গেল॥
রতন-পালঙ্কে শূতি রহু দুহুঁ জন
.     অতিশয় আলসে ভোর।
ঘন-দামিনি কিয়ে মরকত-কাঞ্চন
.     ঐছন দুহুঁ দুহুঁ কোর॥
বিগলিত বেণি চারু শিখি-চন্দ্রক
.     টুটল মণিময় হার।
পহিরণ বসন আধ ভেল বিচলিত
.     চন্দন অভরণ-ভার॥
অতিসুখ-ভঙ্গ-ভয়ে সব সখিগণ
.    বিহিক দেই বহু গারি।
   ইহ সুখ-রজনি তুরিতে ভেল অবসান
.    নিরদয় হৃদয় তোহারি॥
নিশি অবশেষ কমল আধ বিকসল
.    দশ দিশ অরুণিত মন্দ।
কৈছনে দুহুঁক জাগাওব রচইতে
.    উদ্ধবদাস হিয়ে ধন্দ॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার,
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী বিভাস॥

নিশি অবসানে বৃন্দাদেবী জাগল সকল সখীগণ মেলি।
নিভৃত নিকুঞ্জে দ্বার করি মোচন মন্দির মাহা চলি গেলি॥
রতন পালঙ্কে সুতি রহুঁ দুহুঁজন অতিশয় আলস ভোর।
ঘন দামিনি কিয়ে মরকত কাঞ্চন ঐছন লহুঁ লহুঁ কোর॥
বিগলিত বেণী চারু শিখী চন্দ্রক টুটল মণিময় হার।
পহিরল বসন আধ ভেল বিচলিত চন্দন অভরণ ভার॥
অতি সুখ ভঙ্গ ভএ সব সখীগণ বিহিরে দেয়ই বর গারি।
এহ সুখ রজনী তুরিতে ভেল অবসান নিরদয় হৃদয় তোহারি॥
নিশি অবশেষে কমল আধ বিকশিত দশদিশি অরুণিম বন্ধ।
কৈছনে দুহুক জাগাওব রচইতে উদ্ধবদাস হিয়া ধন্ধ॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাষ॥

নিশি অবসানে,                        বৃন্দাদেবী জাগল,
সকল সখীগণ মেল।
নিভৃত-নিকুঞ্জ-                        দ্বার করি মোচন,
মন্দির মাহা চলি গেল॥
রতন পালঙ্কে,                        শুতি রহুঁ দুহু জন,
অতিশয় আলসে ভোর।
ঘন দামিনী কিয়ে,                      মরকত কাঞ্চন,
ঐছন দুহুঁ দুহুঁ কোর॥
বিগলিত বেণী,                        চারু শিখি চন্দ্রক,
টুটল মণিময় হার।
পহিরণ বসন,                        আধ ভেল বিচলিত,
চন্দন অভরণ ভার॥
অতিসুখ ভঙ্গ-                         ভয়ে সব সখীগণ,
বিহিক দেই বহু গারি।
ইহ সুখ রজনী,                   তুরিতে ভেল অবসান,
নিরদয় হৃদয় তোহারি॥
নিশি অবশেষ,                     কমল আধ বিকসল,
দশ দিশ অরুণিত মন্দ।
কৈছনে দুহুঁক,                        জাগাওব রচইতে,
উদ্ধবদাস হিয়ে ধন্দ॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, মহারাস, ৫৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস - তেওট॥

নিশি অবসানে,                        বৃন্দাদেবী জাগল,
সকল সখীগণ মেল।
নিভৃত নিকুঞ্জ,                        দ্বারকরি মোচন,
মন্দির মাহা চলি গেল॥
রতন পালঙ্কে,                        শূতি রহুঁ দুঁহুজন,
অতিশয় আলসে ভোর।
ঘন দামিনী কিয়ে,                      মরকত কাঞ্চন,
ঐছন দুহুঁ দোঁহা কোর॥
বিগলিত বেণী,                        চারুশিখি চন্দ্রক,
টুটল মণিময় হার।
পহিরন বসন,                      আধ ভেল বিচলিত,
চন্দন অভরণ ভার॥
অতি সুখ ভঙ্গ,                       ভয়ে সব সখিগণ
বিহিক দেই বহু গারি।
ইহসুখ রজনী,                  তুরিতে ভেল অবসান,
নিরদয় হৃদয় তোহারি॥
নিশি অবশেষে,                   কমল আধ বিকসল
দশদিশ অরুণিত মন্দ।
কৈছন দুঁহুক,                       জাগাওব রচয়িতে
উদ্ধব দাস হিয়া ধন্দ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২)
এর নামে দেওয়া রয়েছে।

কুঞ্জভঙ্গ
॥ বিভাষ॥

নিশি অবসানে বৃন্দাবন জাগল
.     সকল সখীগণ মেল।
নিভৃত নিকুঞ্জদ্বার করি মোচন
.     মন্দির মাহা চলি গেল॥
রতন-পালঙ্কে শূতি রহু দুহুঁ জন
.     অতিশয় আলসে ভোর।
ঘনদামিনি কিয়ে মরকত কাঞ্চন
.     ঐছন দুহুঁ দুহুঁ কোর॥
বিগলিত বেণি চারু শিখিচন্দ্রক
.     টুটল মণিময় হার।
পহিরণ বসন আধ ভেল বিচলিত
.     চন্দন অভরণভার॥
অতিসুখ ভঙ্গভয়ে সব সখিগণ  
.    বিহিক দেই বহু গারি।
 ইহ সুখরজনি তুরিতে ভেল অবসান
.    নিরদয় হৃদয় তোহারি॥
নিশি অবশেষ কমল আধ বিকসল
.    দশ দিশ অরুণিত মন্দ।
কৈছনে দুহুঁক জাগাওব রচইতে
.    উদ্ধবদাস হিয়ে ধন্দ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বানরি-শবদ শারি শুক ফুকরত
বনে বিসবদ সারি শুক ফুকরত
বানরী শবদ সারী শুক ফুকরত
কবি উদ্ধব দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল), ৪র্থখণ্ড, ৪র্থশাখা ৩২শপল্লব,
অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৮৪০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

বানরি-শবদ শারি শুক ফুকরত
.           মউর মউরি ঘন নাদ।
গুরুজন গমন সবহুঁ মেলি ভাখই
.            তবহি-গণল পরমাদ॥
.            বিদগধ নাগরি নাগর কান।
জাগিয়া শয়নহি দুহুঁ উঠি বৈঠল
.             করযুগে মোছই নয়ান॥
রাইক বিচলিত বেশ বনায়ত
.             নিকটহি জানি বিহান।
নয়নক লোরহি শয়ন ভিগায়ই
.             সোঙরিতে গেহ-পয়াণ॥
রজনি প্রভাত জানি হিয় চঞ্চল
.             ভরমে বদল ভেল বাস।
দুহুঁ জন কুঞ্জ-কুটীরে নেহারত
.             সখি পাশে উদ্ধবদাস॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার,
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগ তালো যথা॥

বনে বিসবদ সারি শুক ফুকরত ময়ূর ময়ূরী ঘননাদ।
গুরুজন গমন সবহু মেলি ভাখই তবহি গণল পরমাদ॥
বিদগদ নাগরী নাগর কান।
জাগিয়া শয়নহি দুহু উঠি বৈঠল করযুগে মোছই নয়ান॥
রাইক বিচলিত বেশ বনায়ত নিকটহি জানি বিহান।
নয়নহি লোরহি শয়ন ভিঙ্গাওই সঙরিতে গৃহ পয়ান॥
রজনী প্রভাত জানি হিয়া অতি চঞ্চল ভরমে বোদল ভেল বাস।
দুহুজন কুঞ্জ কুটির নেহারত সখী পাসে উদ্ধবদাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

বানরী শবদ,                সারী শুক ফুকরত,
ময়ূর ময়ূরী ঘন নাদ।
গুরুজন গমন,                সবহুঁ মেলি ভাখই,
তবহি গণল পরমাদ॥
বিদগধ নাগর নাগরী কান।
জাগিয়া শয়নহি,              দুহুঁ উঠি বৈঠল,
করযুগে মোছই নয়ান॥
রাইক বিচলিত,                 বেশ বনায়ত,
নিকটহি জানি বিহান।
নয়নক লোরহি,                শয়ন ভিগায়ই,
সোঙরিতে গেহ পয়ান॥
রজনি প্রভাত,                জানি হিয় চঞ্চল,
ভরমে বদল ভেল বাস।
দুহুঁ জন কুঞ্জ-                কুটীরে নেহারত,
সখী পাশে উদ্ধবদাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২)
এর নামে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

বানরি শবদ শারি শুক ফুকরত
.           মউর মউরি ঘন নাদ।
গুরুজন গমন সবহুঁ মেলি ভাখই
.            তবহি গণল পরমাদ॥
.            বিদগধ নাগরি নাগর কান।
জাগিয়া শয়নহি দুহুঁ উঠি বৈঠল
.             করযুগে মোছই নয়ান॥
রাইক বিচলিত বেশ বনায়ত
.             নিকটহি জানি বিহান।
নয়নক লোরহি শয়ন ভিগায়ই
.             সোঙরিতে গেহ পয়াণ॥
রজনি প্রভাত জানি হিয় চঞ্চল
.             ভরমে বদল ভেল বাস।
দুহুঁ জন কুঞ্জকুটীরে নেহারত
.             সখি পাশে উদ্ধবদাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রজনিক শেষে অলসযুত দুহুঁ-তনু
কবি উদ্ধব দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল), ৪র্থখণ্ড, ৪র্থশাখা ৩২শপল্লব,
অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৮৪১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

রজনিক শেষে অলসযুত দুহুঁ-তনু
.    বৈঠল কুসুমিত শেজে।
সকল সখিগণ বেঢ়ল চৌদিগে
.    অঙ্গ অলস নাহি তেজে॥
.    অপরূপ রাধা-মাধব-রঙ্গ।
থীর বিজুরি সঞে জনু নব-জলধর
.     মোড়ই কতহুঁ বিভঙ্গ॥ ধ্রু॥
বদনহি আধ আধ বচনামৃত
.     শুনইতে শ্রবণ জুড়ায়।
রতন-দীপ করে মঙ্গল-আরতি
.     ললিতা করতহিঁ তায়॥
আর সখিগণ সময়োচিত রাগিণি
.      সুস্বরে করহতি গান।
উদ্ধবদাস পাশ রহি ইঙ্গিতে
.      বাসিত বারি যোগান॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার,
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী ভৈরবী॥

রজনীক শেষে অলস জুত দুহুঁজন বৈঠল কুসুমিত সেজে।
সকল সখীগণ চৌদিগে বেঢ়ল অঙ্গ অলস নাহি তেজে॥
অপরূপ রাধামাধব রঙ্গ।
স্থির বিজুরি সঞে জেন নব জলধর মোড়ই কতহুঁ বিভঙ্গ॥
বদনহি আঁধ আঁধ বচনামৃত সুনাইতে শ্রবণ জুড়ায়।
রতন দীপ করে মঙ্গল আরতি ললিতা করতহি জায়॥
আর সখী সময়োচিত রাগিণী সুস্বরে করহতি গান।
উদ্ধবদাস পাস রহি ইঙ্গিতে বাসিত বারি জোগান॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

রজনীক শেষে,                  অলসযুত দুহুঁ তনু,
বৈঠল কুসুমিত শেজে।
সকল সখীগণ,                        বেঢ়ল চৌদিশে,
অঙ্গ অলস নাহি তেজে॥
অপরূপ রাধামাধব রঙ্গ।
থির বিজুরী সঞে,                জনু নব জলধর,
মোঢ়ই কতহুঁ বিভঙ্গ॥
বদনহি আধ,                        আধ বচনামৃত,
শুনইতে শ্রবণ জুড়ায়।
রতন দীপ করে,                     মঙ্গল আরতি,
ললিতা করতহি তায়॥
আর সখীগণ,                    সময়োচিত রাগিণী,
সুস্বরে করহতি গান।
উদ্ধবদাস                        পাশ রহি ইঙ্গিতে,
বাসিত বারি যোগান॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২)
এর নামে দেওয়া রয়েছে।

রসালস
॥ তথা রাগ॥

রজনিক শেষে অলসযুত দুহুঁ তনু
বৈঠল কুসুমিত শেজে।
সকল সখিগণ বেঢ়ল চৌদিগে
অঙ্গ অলস নাহি তেজে॥
অপরূপ রাধামাধবরঙ্গ।
থীর বিজুরি সঞে জনু নব-জলধর
মোড়ই কতহুঁ বিভঙ্গ॥ ধ্রু॥
বদনহি আধ আধ বচনামৃত
শুনইতে শ্রবণ জুড়ায়।
রতনদীপ করে মঙ্গল আরতি
ললিতা করতহিঁ তায়॥
আর সখিগণ সময়োচিত রাগিণি
সুস্বরে করহতি গান।
উদ্ধবদাস পাশ রহি ইঙ্গিতে
বাসিত বারি যোগান॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাই-কুণ্ড-তিরে শ্যামর গোরি
কবি উদ্ধব দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল), ৪র্থখণ্ড,
৪র্থশাখা ৩২শপল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৮৫৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

রাই-কুণ্ড-তিরে শ্যামর গোরি।
কুঞ্জে পীঠ পর আনন্দে ভোরি॥
বহু উপহার ফলাদি রসাল।
সমুখহি ভরি ভরি কাঞ্চন থাল॥
বৃন্দা পুন পুন সব পরিবেশে।
ভোজন করিয়া স্বাদু পরশংসে॥
ভোজন সারি আচমন কেল।
রূপমঞ্জরি দোঁহে তাম্বুল দেল॥
ললিতা রতন-দীপ করে লাই।
আরতি করি দুহুঁ বদন নিছাই॥
সখিগণ কুসুম বরিখে দুহুঁ অঙ্গে।
গাওত কোই বাজাওত রঙ্গে॥
চন্দ্র-বদনে দুহুঁ লহু লহু হাস।
সখি পাশে হেরত উদ্ধবদাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

রাই-কুণ্ড-তীরে শ্যামর গোরী।
কুঞ্জে পীঠ পর আনন্দে ভোরি॥
বহু উপহার ফলাদি রসাল।
সমুখহি ভরি ভরি কাঞ্চন থাল॥
বৃন্দা পুন পুন সব পরিবেশে।
ভোজন করিয়া স্বাদু পরশংসে॥
ভোজন সারি আচমন কেল।
রূপ মঞ্জরী দোঁহে তাম্বুল দেল॥
ললিতা রতন-দীপ করে লাই।
আরতি করি দুহুঁ বদন নিছাই॥
সখিগণ কুসুম বরিখে দুহুঁ অঙ্গে।
গাওত কোই বাজাওত রঙ্গে॥
চন্দ্রবদনে দুহুঁ লহু লহু হাস।
সখী পাশে হেরত উদ্ধবদাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা
উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে।

অষ্টকালীয় নিত্যলীলা
॥ তথা রাগ॥

রাইকুণ্ড তিরে শ্যামর গোরি।
কুঞ্জে পীঠ পর আনন্দে ভোরি॥
বহু উপহার ফলাদি রসাল।
সমুখহি ভরি ভরি কাঞ্চন থাল॥
বৃন্দা পুন পুন সব পরিবেশে।
ভোজন করিয়া স্বাদু পরশংসে॥
ভোজন সারি আচমন কেল।
রূপমঞ্জরি দোঁহে তাম্বুল দেল॥
ললিতা রতন-দীপ করে লাই।
আরতি করি দুহুঁ বদন নিছাই॥
সখিগণ কুসুম বরিখে দুহুঁ অঙ্গে।
গাওত কোই বাজাওত রঙ্গে॥
চন্দ্রবদনে দুহুঁ লহু লহু হাস।
সখি পাশে হেরত উদ্ধবদাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিশি পরভাতে শেজ সঞে উঠল
কবি উদ্ধব দাস                        
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল), ৪র্থখণ্ড,
৪র্থশাখা ৩২শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৯০৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পুনশ্চ দিনান্তরে অষ্টকালীয়-লীলা।
প্রকারান্তরং যথা।
॥ ললিত॥

নিশি পরভাতে শেজ সঞে উঠল
.        নন্দালয়ে নন্দলাল।
মঙ্গল-আরতি করত যশোমতি
.        দীপ উজারল কাঞ্চন-থাল॥
পাখালিয়া বদন দশনগণ মাজল
.        জননিক যতনে নবনি খির খাই।
এক দণ্ড দিন ভৈ গেল তৈখনে
.        দ্বিতিয়ে গো-দোহন গো-গৃহে যাই        ॥
তৃতিয়ে সখা সহ বত্সক লালন
.        বৃষে বৃষে যুদ্ধ কেলি কত ঠান।
চারি দণ্ড দিন গৃহে আওল পুন
.        সুগন্ধি-তৈল-নিরে করল সিনান॥
পঞ্চমে বহুবিধ বেশ ষষ্ঠে করু
.        সখা সহ ভোজন-পান।
আচমন সারি শয়ন করু পালঙ্কে
.        উদ্ধবদাস গুণ গান॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা
উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে।

অষ্টকালীয় নিত্যলীলা
॥ ললিত॥

নিশি পরভাতে শেজ সঞে উঠল
.        নন্দালয়ে নন্দলাল।
মঙ্গল আরতি করত যশোমতি
.        দীপ উজারল কাঞ্চনথাল॥
পাখালিয়া বদন দশনগণ মাজল
.        জননিক যতনে নবনি খির খাই।
এক দণ্ড দিন ভৈ গেল তৈখনে
.        দ্বিতিয়ে গোদোহন গো-গৃহে যাই        ॥
তৃতিয়ে সখা সহ বত্সক লালন
.        বৃষে বৃষে যুদ্ধ কেলি কত ঠান।
চারি দণ্ড দিন গৃহে আওল পুন
.        সুগন্ধি তৈল নিরে করল সিনান॥
পঞ্চমে বহুবিধ বেশ ষষ্ঠে করু
.        সখা সহ ভোজন পান।
আচমন সারি শয়ন করু পালঙ্কে
.        উদ্ধবদাস গুণ গান॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গৃহে রাধা ঠাকুরাণী প্রভাত সময় জানি
কবি উদ্ধব দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল), ৪র্থখণ্ড, ৪র্থশাখা ৩২শপল্লব,
অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৯০৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

গৃহে রাধা ঠাকুরাণী             প্রভাত সময় জানি
জাগি কৈলা দন্ত-ধাবন।
সখী সঙ্গে রসোদগার            স্নান-বেশ মনোহর
তবে গেলা নন্দের ভবন॥
পথে গো-দোহনে হরি          কৌতুকে দর্শন করি
যশোমতী-গৃহে আগমন।
করিয়া রন্ধন-কার্য্য         কৃষ্ণ-ভুক্ত-শেষ ভোজ্য
ভুঞ্জি তবে কৈলা আচমন॥
ব্রজেশ্বরী বধূ প্রায়              লালন করিলা তায়
দিলা বহু বাস-বিভূষণ।
প্রাতঃকালের লীলা-সূত্র      সংক্ষেপে যে কিছুমাত্র
উদ্ধব করিল বিরচন॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর
নামে দেওয়া রয়েছে।

অষ্টকালীয় নিত্যলীলা
॥ তথা রাগ॥

গৃহে রাধা ঠাকুরাণী             প্রভাত সময় জানি
জাগি কৈলা দন্তধাবন।
সখী সঙ্গে রসোদগার             স্নানবেশ মনোহর
তবে গেলা নন্দের ভবন॥
পথে গোদোহনে হরি           কৌতুকে দর্শন করি
যশোমতীগৃহে আগমন।
করিয়া রন্ধনকার্য্য             কৃষ্ণভুক্তশেষ ভোজ্য
ভুঞ্জি তবে কৈলা আচমন॥
ব্রজেশ্বরী বধূ প্রায়               লালন করিলা তায়
দিলা বহু বাসবিভূষণ।
প্রাতঃকালের লীলাসূত্র        সংক্ষেপে যে কিছুমাত্র
উদ্ধব করিল বিরচন॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পূর্ব্বাহ্নে সখা মেলি গোষ্ঠ-গমন-কেলি
কবি উদ্ধব দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল), ৪র্থখণ্ড, ৪র্থশাখা ৩৩শপল্লব,
অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৯০৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

পূর্ব্বাহ্নে সখা মেলি                গোষ্ঠ-গমন-কেলি
নানা বেশ করিয়া সাজনী।
ধেনুগণ লৈয়া সঙ্গে              চলিলা বিপিন রঙ্গে
পাছে ধায় জনক জননী॥
আর যত ব্রজ-বাসী           পথে আইসে অনুব্রজি
কৃষ্ণ সভায় করিলা বিদায়।
রাই-মুখ নিরখিয়া               ধেনু সখা সঙ্গে লৈয়া
যমুনা-পুলিন-বনে যায়॥
তাহাঁ  গো-বয়স্য থুইয়া         সুবলেরে সঙ্গে লৈয়া
রাধা কুণ্ড-তীরে উপনীত।
রাধিকা যশোদা পায়              বিদায় হইয়া যায়
নিজ-গৃহে আসি উত্কন্ঠিত॥
জটিলা-আদেশ কাজে          করি সূর্য্য পূজা-সাজে
তুলসীরে বনে পাঠাইল।
তার মুখে শুনি বার্ত্তা          আনন্দে করিলা যাত্রা
সূত্র মাত্র উদ্ধব গাইল॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২)
এর নামে দেওয়া রয়েছে।

অষ্টকালীয় নিত্যলীলা
॥ তথা রাগ॥

পূর্ব্বাহ্নে সখা মেলি                গোষ্ঠ গমন কেলি
নানা বেশ করিয়া সাজনী।
ধেনুগণ লৈয়া সঙ্গে              চলিলা বিপিন রঙ্গে
পাছে ধায় জনক জননী॥
আর যত ব্রজবাসী           পথে আইসে অনুব্রজি
কৃষ্ণ সভায় করিলা বিদায়।
রাইমুখ নিরখিয়া               ধেনু সখা সঙ্গে লৈয়া
যমুনাপুলিন বনে যায়॥
তাহাঁ  গো বয়স্য থুইয়া         সুবলেরে সঙ্গে লৈয়া
রাধাকুণ্ডতীরে উপনীত।
রাধিকা যশোদাপায়               বিদায় হইয়া যায়
নিজগৃহে আসি উত্কন্ঠিত॥
জটিলা-আদেশ কাজে           করি সূর্য্যপূজাসাজে
তুলসীরে বনে পাঠাইল।
তার মুখে শুনি বার্ত্তা           আনন্দে করিলা যাত্রা
সূত্র মাত্র উদ্ধব গাইল॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মধ্যাহ্ন সময়ে রাই সূর্য্যের মণ্ডপে যাই
কবি উদ্ধব দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল), ৪র্থখণ্ড, ৪র্থশাখা ৩৩শপল্লব,
অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৯১০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

মধ্যাহ্ন সময়ে রাই          সূর্য্যের মণ্ডপে যাই
পূজা-সজ্জ তাহাই রাখিয়া।
সখীগণ করি সঙ্গে               কৃষ্ণ-দরশন-রঙ্গে
কুণ্ড-তীরে মিলিলা আসিয়া॥
দুহুঁ দুহাঁ-দরশনে            নানা ভাব-বিভূষণে
ভূষিত হইলা শ্যাম গোরি।
সকৌতুকে কুন্দলতা          যজ্ঞ-বিধানের কথা
পুষ্প-দানে বাঁশী গেল চুরি॥
হিন্দোলা অরণ্য-লীলা       তবে মধু-পান কৈলা
রতি যুদ্ধ করি জল-খেলা।
ভোজন শয়ন করি        পাশ-ক্রীড়া শুক-শারী
পাঠ শুনি সূর্য্যালয়ে গেলা॥
কৃষ্ণ ব্রহ্মচারী হৈয়া        সূর্য্যের মণ্ডপে গিয়া
করাইল সূর্য্যের পূজনে।
বটুকে করিয়া সঙ্গে       কতেক কৌতুক রঙ্গে
এ দাস উদ্ধব রস ভণে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২)
এর নামে দেওয়া রয়েছে।

অষ্টকালীয় নিত্যলীলা
॥ তথা রাগ॥

মধ্যাহ্ন সময়ে রাই        সূর্য্যের মণ্ডপে যাই
পূজাসজ্জ তাহাই রাখিয়া।
সখীগণ করি সঙ্গে            কৃষ্ণ দরশন রঙ্গে
কুণ্ডতীরে মিলিলা আসিয়া॥
দুহুঁ দুহাঁ-দরশনে           নানা ভাববিভূষণে
ভূষিত হইলা শ্যাম গোরি।
সকৌতুকে কুন্দলতা        যজ্ঞ বিধানের কথা
পুষ্পদানে বাঁশী গেল চুরি॥
হিন্দোলা অরণ্যলীলা        তবে মধুপান কৈলা
রতি যুদ্ধ করি জলখেলা।
ভোজন শয়ন করি         পাশক্রীড়া শুকশারী-
পাঠ শুনি সূর্য্যালয়ে গেলা॥
কৃষ্ণ ব্রহ্মচারী হৈয়া           সূর্য্যের মণ্ডপে গিয়া
করাইল সূর্য্যের পূজনে।
বটুকে করিয়া সঙ্গে         কতেক কৌতুক-রঙ্গে
এ দাস উদ্ধব রস ভণে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অপরাহ্নে দিবা-শেষে কৃষ্ণ গোষ্ঠে পরবেশে
কবি উদ্ধব দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল), ৪র্থখণ্ড, ৪র্থশাখা ৩৩শপল্লব,
অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৯১১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

অপরাহ্নে দিবা-শেষে            কৃষ্ণ গোষ্ঠে পরবেশে
বটু-স্থানে সূর্য্যের প্রসাদ।
সখাগণ কাঢ়ি খায়              কত বা কৌতুক তায়
বলরামের আনন্দ-উন্মাদ॥
এথা রাধা সখা সহে              আইলা আপন গৃহে
উপহার করি কৈলা স্নান।
তবে নানা বেশ করি            চঢ়ে অট্টালিকা পরি
কৃষ্ণ-পথে অর্পিয়া নয়ান॥
তবে কৃষ্ণ বেণু পূরি               গোগণ একত্র করি
সখা সঙ্গে গৃহে আগমন।
পথে রাই-সন্দর্শন                 করিয়া আনন্দ-মন
চলি গেলা আপন ভবন॥
যশোমতী কৃষ্ণ পাইয়া             চান্দ মুখ নিরখিয়া
নিছিয়া লইলা রাম কানু।
এ দাস উদ্ধব ভণে                  ঘরে গেল সখাগণে
গোষ্ঠে প্রবেশ কৈল ধেনু॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২)
এর নামে দেওয়া রয়েছে।

অষ্টকালীয় নিত্যলীলা
॥ তথা রাগ॥

অপরাহ্নে দিবাশেষে            কৃষ্ণ গোষ্ঠে পরবেশে
বটুস্থানে সূর্য্যের প্রসাদ।
সখাগণ কাঢ়ি খায়              কত বা কৌতুক তায়
বলরামের আনন্দ উন্মাদ॥
এথা রাধা সখা সহে              আইলা আপন গৃহে
উপহার করি কৈলা স্নান।
তবে নানা বেশ করি            চঢ়ে অট্টালিকা পরি
কৃষ্ণপথে অর্পিয়া নয়ান॥
তবে কৃষ্ণ বেণু পূরি               গোগণ একত্র করি
সখা সঙ্গে গৃহে আগমন।
পথে রাইসন্দর্শন                   করিয়া আনন্দমন
চলি গেলা আপন ভবন॥
যশোমতী কৃষ্ণ পাইয়া             চান্দ মুখ নিরখিয়া
নিছিয়া লইলা রাম কানু।
এ দাস উদ্ধব ভণে                 ঘরে গেল সখাগণে
গোষ্ঠে প্রবেশ কৈল ধেনু॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর