কবি উদ্ধবদাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
সায়ংকালে সুবদনী নানা উপহার আনি
কবি উদ্ধব দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল), ৪র্থখণ্ড, ৪র্থশাখা ৩৩শ পল্লব,
অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৯১২-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

সায়ংকালে সুবদনী             নানা উপহার আনি
তুলসীর হস্তে সমর্পিলা।
কৃষ্ণ লাগি পাঠাইয়া             অবশেষে আনাইয়া
সখী সহ ভোজন করিলা॥
কৃষ্ণ গৃহে স্নান করি                 বসন ভূষণ পরি
উপহার করিলা ভোজন।
তবে গো-দোহন কাজে      আইলা ধেনু-শালা মাঝে
গাবীগণ করিলা দোহন॥
পুন নিজ-গৃহে আইলা           রাজ সভা মাঝে গেলা
যেখানে বসিয়া নন্দরায়।
নানা বাদ্য গীত নাট             নানা ছন্দ পড়ে ভাট
শুনিলেন আনন্দ-হিয়ায়॥
তাহা হৈতে যশোমতী            নিজ-গৃহে আনি অতি
প্রীতে পুন করাইল ভোজন।
শয়ন করিয়া ক্ষণে                চলিলা সঙ্কেত স্থানে
এ উদ্ধব দাস সুখি-মন॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২)
এর নামে দেওয়া রয়েছে।

অষ্টকালীয় নিত্যলীলা
॥ তথা রাগ॥

সায়ংকালে সুবদনী               নানা উপহার আনি
তুলসীর হস্তে সমর্পিলা।
কৃষ্ণ লাগি পাঠাইয়া              অবশেষে আনাইয়া
সখী সহ ভোজন করিলা॥
কৃষ্ণ গৃহে স্নান করি                  বসন ভূষণ পরি
উপহার করিলা ভোজন।
তবে গো দোহন কাজে      আইলা ধেনু-শালা মাঝে
গাবীগণ করিলা দোহন॥
পুন নিজগৃহে আইলা           রাজসভা মাঝে গেলা
যেখানে বসিয়া নন্দরায়।
নানা বাদ্য গীত নাচ            নানা ছন্দ পড়ে ভাট
শুনিলেন আনন্দ হিয়ায়॥
তাহা হৈতে যশোমতী         নিজ-গৃহে আনি অতি
প্রীতে পুন করাইল ভোজন।
শয়ন করিয়া ক্ষণে               চলিলা সঙ্কেত-স্থানে
এ উদ্ধব দাস সুখি-মন॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ধন্য ধন্য বৃন্দাবনদাস
কবি উদ্ধব দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ধন্য ধন্য বৃন্দাবনদাস। চৈতন্যমঙ্গলে যার কবিত্ব প্রকাশ॥
মহাপ্রভু লীলারসামৃত। যার গুণে জগতে বিদিত॥
বাল্য পৌগণ্ড আদি লীলা। যা শুনি দরবয়ে শীলা॥
অবৈষ্ণবে বৈষ্ণব করয়ে। নাস্তিক পাষণ্ডী নাহি রয়॥
কি মধুর সে লীলাকাহিনী। মো অধম কি কহিতে জানি॥
এমন মধুর ইতিহাস। আছে আর কোথা পরকাশ॥
তার রসময় পদাবলী। শুনিলে পাষাণ যায় গলি॥
দয়া কর বৃন্দাবনদাস। পূরাও এ উদ্ধবের আশ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অনুপ তনয় সদয় হৃদয়
কবি উদ্ধব দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

অনুপ তনয়                               সদয় হৃদয়
শ্রীজীব গোসাঞী পহুঁ।
বিতর প্রসাদ                          কর আশীর্ব্বাদ
তব পদে মতি রহুঁ॥
ভক্তি গ্রন্থ সুধা                        বিতরিয়া ক্ষুধা
জগতের কৈলা দূর।
তব সম জ্ঞানী                       না জানি না শুনি
পণ্ডিতের তুমি ঠাকুর॥
আবাল্য বৈরাগী                      ভক্তি-অনুরাগী
ভাসি ভগবৎ-প্রেমে।
লইয়া খেলিতা                          লইয়া শুইতা
নিজে গড়ি বলরামে॥
তুলসীর মালে                         সাজাইতা গলে
পরিতা তিলক ভালে।
রাধাকৃষ্ণ নাম                         জপি অবিশ্রাম
ভাসিতা নয়ন জলে॥
দেখি তব দৈন্য                        নিতাই চৈতন্য
স্বপনে দিলেন দেখা।
সেই হৈতে গৌর                    প্রেম হৈলা ভোর
ছাড়িলা সংসার একা॥
প্রেমকল্পতরু                           অবধূতে গুরু
করিয়া তার আদেশে।
কৈলা ব্রজে বাস                      এ উদ্ধব দাস
আছে তুয়া পদ-আশে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জয় কৃষ্ণদাস জয় কবিরাজ মহাশয়
কবি উদ্ধব দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

জয় কৃষ্ণদাস জয়                  কবিরাজ মহাশয়
সুকবি পণ্ডিত-অগ্রগণ্য।
ভক্তিশাস্ত্রে সুনিপুণ                অপার অসীম গুণ
সবে যারে করে ধন্য ধন্য॥
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলাগণ                   বর্ণিলেন বৃন্দাবন
অবশেষ যে সব রহিল।
সে সকল কৃষ্ণদাস                   করিলেন সুপ্রকাশ
জগ মাঝে ব্যাপিত হইল॥
কবিরাজের পয়ার                  ভাবের সমুদ্র সার
অল্প লোকে বুঝিবার পারে।
কাব্য নাটক কত                    পুরাণাদি শত শত
পড়িলেন বিবিধ প্রকারে॥
চৈতন্য-চরিতামৃত                   শাস্ত্রসিন্ধু মথি কত
লিখে কবিরাজ কৃষ্ণদাস।
পাষণ্ডী নাস্তিকতাসুর                লভয়ে ভক্তি প্রচুর
নাস্তিকতা সমূলে বিনাশ॥
শাস্ত্রের প্রমাণ যার                লোকে মানে চমত্কার
যুক্তিমার্গে সবে হারি মানে।
উদ্ধব মূঢ় কুমতি                    কি হবে তাহার গতি
কবিরাজ রাখহ চরণে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জয়সেন পরমানন্দ কর্ণপূর কবিচন্দ্র
কবি উদ্ধব দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

জয়সেন পরমানন্দ                   কর্ণপুর কবিচন্দ্র
প্রভু যারে কহে পুরিদাস।
শিবানন্দ-ঔরসেতে            জন্মিলা কাচ্ নাপাড়াতে
সপ্তবর্ষে কবিত্ব বিকাশ॥
মহাপ্রভু দয়া কৈলা                পাদাঙ্গুষ্ঠ মুখে দিলা
সেই যোগে শক্তি সঞ্চারিলা।
সাত বত্সরের শিশু             আশ্চর্য্য কবিত্ব আশু
সেই শক্তিপ্রভাবে লভিলা॥
শ্রীচৈতন্য-চন্দ্রোদয়                      স্তবাবলী গ্রন্থচয়
রচিলেন কবি কর্ণপুর।
যা শুনি ভক্তি উদয়                   নাস্তিকতা নষ্ট হয়
এবৈষ্ণব-ভাব হয় দূর॥
কর্ণপুরগুণ যত                        এক মুখে কব কত
চৈতন্যের বরপুত্র যোঁহ।
উদ্ধেরে দয়া করি                     জ্ঞানচক্ষু দান করি
কবিত্ব লওয়ায় জানি তেঁহ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অতিশয় নটনে পরিশ্রম ভৈগেল
অতিশয় নটন পরিশ্রম ভৈগেল
কবি উদ্ধব দাস
এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৪১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

অতিশয় নটনে                পরিশ্রম ভৈগেল
ঘামে তিতিল তনু বাস।
নৃত্য সমাধি                   রাই শ্যাম বৈঠল
বরজ রমণী চারি পাশ॥
আনন্দ কহনে না যায়।
চামর করে কোই                 বীজন বীজই
কোই ঝারি লয়ে ধায়॥
চরণ পাখালই                  তাম্বুল যোগায়ই
কোই মুছায়ই ঘাম।
ঐছন দুহুঁ তনু                শীতল করল জনু
কুবলয় চম্পক দাম॥
আর সহচরী গণে              বহুবিধ সেবনে
শ্রম জল করলহি দূর।
আনন্দ সাগরে                দুহুঁ মুখ হেরইতে
উদ্ধব দাস হিয়া পুর॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, মহারাস, ৫৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেহাগ - জপতাল॥

অতিশয় নটন,                পরিশ্রম ভৈগেল,
ঘামে তিতিল তনু-বাস।
নৃত্য সমাধি                    রাই শ্যাম বৈঠল
বরজরমণী চারু পাশ॥
আনকে কহনে না যায়।
চামর করে কোই                 বীজন বীজই
কোই বারি লেই ধায়॥ ধ্রু॥
চরণ পাখালই                  তাম্বুল জোগায়ই
কোই মুছায়ই ঘাম।
ঐছন দুহুঁ তনু                শীতল করল জনু
কুবলয় চম্পক দাম॥
আর সহচরিগণে                বহুবিধ সেবনে
শ্রম-জল করলহি দূর।
আনন্দ-সাগরে                দুহুঁ মুখ হেরইতে
উদ্ধবদাস হিয়া পূর॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন পদাবলী”, ৩৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেহাগ - জপতাল॥

অতিশয় নটনে                পরিশ্রম ভৈ গেল
ঘামে তিতিল তনু-বাস।
নৃত্য সমাধি                    রাই কানু বৈঠল
বরজ-রমণী চারু পাশ॥
আনকে কহনে না যায়।
চামর করে কোই                  বীজন বীজই
কোই বারি লেই ধায়॥ ধ্রু॥
চরণ পাখালই                 তাম্বুল জোগায়ই
কোই মুছায়ই ঘাম।
ঐছন দুহুঁ তনু                শীতল করল জনু
কুবলয় চম্পক দাম॥
আর সহচরিগণে                 বহুবিধ সেবনে
শ্রমজল করলহি দূর।
আনন্দ-সায়রে                দুহুঁ মুখ হেরইতে
উদ্ধবদাস হিয়া পূর॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ওগো মা তোমার গোপাল কি জানে মোহিনী
কবি উদ্ধব দাস
এই পদটি, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর
পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১১২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ওগো মা তোমার গোপাল কি জানে মোহিনী। আমরা সঙ্গের ভাই,
তবুত না মন পাই, তোমারে কহিলাম এই বাণী॥ তৃণ খাইতে ধেনুগণ, যদি
যায় দূর বন, কাহুকে না দেয় ফিরাইতে। তোমার দুলাল কানু, পূরয়ে মোহন
বেণু, ধায় ধেনু মুরলীর গীতে॥ আমরা ফিরাইতে ধেনু, তাহাতে না দেয়
কানু, সদা ফিরে সুবলের সাথে। সুবলে করিয়ে কোলে, ভাসাঞে নয়ন-জলে,
না জানি মরমে কিবা আছে॥ কিবা লীলা করে এই, বুঝিতে না পারে কেই,
অপরূপ চরিত বিহার। উদ্ধব দাসেতে ভণে, বলাই দাদা নাহি জানে, আনে
কেবা বুঝিবে অন্তর॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাণী ভাসে আনন্দ সায়রে
কবি উদ্ধব দাস
এই পদটি, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর
পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১১২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাণী ভাসে আনন্দ সায়রে। বামেতে বসায়ে শ্যাম, দক্ষিণেতে বসরাম,
চুম্ব দেয় মুখৃসুধাকরে॥ ক্ষীর ননী ছানার সর, আনিঞে সত্বর, আগে দেয়
রামের বদনে। পিছে কানাঞের মুখে, দেয় রাণী মন সুখে, পুনঃ পুনঃ চাহে
মুখ পানে॥ গোপী রমণী কত, চৌদিকে বেড়ি শত, মুখ হেরি লহু লহু বলে॥
মাতা যশোমতী মিলি, মঙ্গল গায়ত, উদ্ধব দাস ভালি লাগে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
প্রিয়ার জনম দিবস আবেশে অবশ গৌররায়
কবি উদ্ধব দাস
এই পদটি, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর
পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৫-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কল্যাণী - দশকুশী॥

প্রিয়ার জনম দিবস আবেশে অবশ গৌররায়। ভাব মহাভাব. করি অনু-
ভাব, মহামহোত্সব গায়॥ দধির-সহিত, হরিদ্রা মিশ্রিত, কলসে কলসে ঢালি।
প্রিয়গণে নাচে, সভে পহু কাছে, দিঞে জয় হুলাহুলি॥ গৌর নাগর, রসের
সাগর, ভাবের তরঙ্গ তায়। উদ্ধব দাস হেরিয়ে সে ভাব বিকাইনু রাঙা পায়॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
॥ বড়ারি॥

রতনমন্দিরে দুহু নাগর নাগরী বৈঠল সখীক সমাজ।
নাগর ইঙ্গিত করল বৃন্দাসখী তুরিতহি ঝুলন কাজ॥
জোই নিন্দই সিধুবাসিত বড় মধু তবহুঁ আগে আনি দেল।
আপে ভোজন করি সকলে ভুঞ্জায়েত জতনহি কৌতুক কেল॥
কো কহুঁ প্রেম তরঙ্গ।
সহজই প্রেম মধুর মধু রাধিকে তাহে পুন মধুপানরঙ্গ॥
ঢুলি ঢুলি পড়ত খলত অবলাগন ঘুরি ঘুরি বরাঠ না পারি।
এত কহি নিজ নিজ কুঞ্জক মন্দিরে শয়ন করত সব নারী॥
. . .  গোবিন্দদাসের ভণিতার কলিটি এখানে বসবে . . .
বৃন্দা দেবি নিজ পরিজন সঙ্গহি গাগরি ভরি মধু লেই।
সখী সঞে রাই কানু জাহা বিরাজহি তাহি জাগাই সব দেই।
ইহ অপরূব মধুপানকে রিৎ।
রাধাশ্যাম সবহুঁ সখীগণ সঞে পিবইতে মাতল চিত॥
কাহুক গলিত চিকুর কোই চিরই         কোই পড়ল মহি মাঁতী।
কানুক মৌর মুকুট মুরলী খসি মুখ সঞে ক্ষিতি গড়ি জাতি॥
রাইক বেণী গলিত কুচ অম্বর শ্যাম উপরে পড়ু ঢোরি।
উদ্ধবদাস পাসরহি হেরইতে তনু মন ভৈ গেল ভোরি॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, মধুপান লীলা, ২৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বড়ারি - মধ্যম একতালা॥

রতনমন্দিরে দুহুঁ,                        নাগর নাগরী,
বৈঠল সখীক সমাজ।
নাগর ইঙ্গিত,                        করল বৃন্দা প্রতি,
তুরিতহি ঝুলন কাজ॥ @
বৃন্দাদেবী নিজ,                        পরিজন সঙ্গহি,
গাগরী ভরি মধু লেই।
সখী সঞে রাই,                    কানু যাহা বৈঠহি,
তাহা লেই সব দেই॥
অপরূপ ইহ মধু-পান কি রীত।
রাধাশ্যাম,                        সবহুঁ সখীগণ সঞে,
পিবইতে মাতল চিত॥
কাহুক গলিত,                     চিকুর কোই চীরই,
কোই পড়ল মতি মাতি।
কানুক মোর,                        মুকুট মুরলী খসি,
মুখ সঞে ক্ষিতি গড়ি যাতি॥
রাইক বেণী,                        গলিত কুচ অম্বর,
শ্যাম উপরে পড়ু ঢরি।
উদ্ধব দাস,                        পাশ রহি হেরইতে,
তনু মন ভৈগেল ভোরি॥

পাদটীকা -
@ - পদকল্পতরুতে ইহার পরে নিম্ন লিখিত কলিগুলি আছে :---

যোই নিন্দয়ে সীধু                সুবাসিত বড় মধু
তবহি আনি আগে দেল।
আপে ভোজন করি                সকলে ভুঞ্জায়ল
যতনহি কৌতুক কেল॥
কো কহুঁ প্রেম-তরঙ্গ।
সহজেই প্রেম                        মধুর মধুরাধিক
তাহে পুন মধুপান-রঙ্গ॥ ধ্রু॥
ঢুলি ঢুলি পড়ত                     খলত অবলাগন
ঘু-ঘুমে ব-বঠি না পারি।
এত কহি নিজ নিজ                   কুঞ্জক মন্দিরে
শয়ন করত সব নারী॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
রতন মন্দিরে দুহুঁ নাগর নাগরি
কবি উদ্ধব দাস ও গোবিন্দদাসরে পদ মিলে গেছে।

এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩০৭-পৃষ্ঠায় এই পদটি “রতন মন্দিরে দুহুঁ নাগর নাগরি”
শিরোনামের পদের দ্বিতীয়ার্ধ হিসেবে এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বৈষ্ণবদাস সংকলিত ও বিরোচিত “শ্রীশ্রীপদকল্পকরুতে” এই “বৃন্দা দেবি নিজ পরিজন
সঙ্গহি” (পদসংখ্যা ২৬৪০) পদটি, “রতন মন্দিরে দুহুঁ নাগর নাগরি” শিরোনামের
ভণিতাহীন পদটির (পদসংখ্যা ২৬৩৯) পরবর্তী পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে। পদকল্পতরুর
সম্পাদক সতীশচন্দ্র রায় এই পদের পাদটীকায়
লিখেছেন . . .     
অতঃপর প-র পুথিতে (কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথি) নিম্নলিখিত কলিটি
দৃষ্ট হয়, যথা---
রাধা মাধব কুঞ্জ-গৃহ-তলপহিঁ
যাই করল পরবেশ।
গোবিন্দদাস বিথারল রতি-রণ
কত কত ভাব-বিশেষ॥
পরবর্তী পদের সহিত সামঞ্জস্য রক্ষার জন্যই বোধহয় এই কলিটি বৈষ্ণবদাস কর্ত্তৃক
পরিত্যক্ত হইয়াছে
।”

সুতরাং এই “রতন মন্দিরে দুহুঁ নাগর নাগরি” শিরোনামের ভণিতাহীন পদটি আসলে
গোবিন্দদাসের পদ। আমাদের মনে হয় যে শ্রীপদমেরুগ্রন্থের সংকলক এই পদটি  
পদকল্পতরু  থেকেই এখানে সন্নিবেশ করেছিলেন। ফলে প্রথম পদটির ভণিতা না থাকায়,
তিনি এই দুটি পদকে একটিই পদের অভিন্ন অংশ ভেবেছিলেন। তাই তাঁর গ্রন্থে “রতন
মন্দিরে দুহুঁ নাগর নাগরি” শিরোনামে এই পদটি দেওয়া রয়েছে। আমরা এই পদটিকে
একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও তুলেছি।---মিলন সেনগুপ্ত, মিলনসাগর॥