| কবি উদ্ধবদাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| আস্য আস্য বন্ধু আধ আচলে বস্য কবি উদ্ধব দাস এই পদটি দীনবন্ধু দাস দ্বারা ১৭৭১ সালে সংকলিত এবং ১৯২৯ সালে অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত”, ১৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আস্য আস্য বন্ধু আধ আচলে বস্য নয়ন ভরিঞা তোমা দেখি। দেখিতে দেখিতে মোর পরাণ যেমন করে সেই সে পরাণ তার সাখি॥ কালিয়া কপালে তোমার কে দিলে চন্দন আন্ধারে করে ঝিকমিক। আনের কাছে তুমি যেমন তেমন বন্ধু আমার কালিয়া মাণিক॥ কাল কেশের আড়ে লুকাঞা রাখিব তোমা মনে করিঞাছি সাধ। গুরু জনা সুধাইলে তাহারে উত্তর দিব পরিঞাছি কাল পাটের জাদ॥ কালিয়া বরণখানি কেশেতে করিল বেণী সতত লইঞা থোব বুকে। চান্দমুখে দিঞা মুখ পূরিব মনের সুখ যে বলে সে বলু ছার লোকে॥ মৃগমদ-বরণ অঙ্গে করি অভরণ তুমি বন্ধু নয়নের তারা। কি জাতি দারুণ প্রেম যেন দরিদ্রের হেম তিলে কত যুগ হই হারা॥ কহএ উদ্ধব হীন জিএ থাকি যত দিন তুমি মোরে না ছাড়িহ দয়া। বিচ্ছেদ অনুরাগে যখন পরাণ যাবে দিহ রাঙ্গা চরণের ছায়া॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শাওন মাস গগনে ঘন-গরজন কবি উদ্ধব দাস এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পদাবলী”, ৩৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ জয়জয়ন্তী মল্লার - তেওট॥ শাওন মাস গগনে ঘন-গরজন শুনি ধনি পুলকিতগাত। শ্যাম-অনুরাগ-ভরে রহিতে না পারি ঘরে চলিলা সখিগণ সাথ॥ হৃদয়ে উয়ল শ্যামল সুন্দর ঝুলব বৃন্দাবন মাঝ। সঙ্গিণীগণ সঞে আয়ল বিনোদিনী মিলল নাগররাজ॥ দোঁহে দোঁহা দরশনে উলসিত লোচনে দুহুঁ হেরি দুহুঁ ভেল ভোর। প্রিয় সহচরী সনে আয়ল দুহুঁ জনে কুঞ্জ-কল্পতরু ওর॥ বৃন্দা বিরচিত রতন হিণ্ডোর বসিলা শ্যামর গোরী। ঝুলত দুহুঁ জন আনন্দে নিমগন ঝুলায়ত যত সহচরী॥ ঝুলনার ঝুকে রূপ চমকে আনন্দ কহনে না যায়। উদ্ধবদাস ভণে দেখি দুহুঁ জনে আনন্দে চামর ঢুলায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আনি চিত্রপট রাইয়ের নিকট কবি উদ্ধব দাস এই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি কালিয়ার রূপ মরমে লাগিয়া পদরে শেষ চার পংক্তি। তবুও আমরা এই পদটিকে একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবে তুললাম কারণ এই গ্রন্থে তাই দেওয়া রয়েছে। আনি চিত্রপট রাইয়ের নিকট . সমুখে ধরিলা সখী। সে রূপ দেখিয়া মূরছিত হৈয়া . পড়িলা কমল-মুখী॥ মন্দাকিনী পারা শত শত ধারা . এ দুটী নয়ানে বহে। করহ চেতন পাবে দরশন . এ দাস উদ্ধবে কহে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বন্ধু হে সদাই থাকিহ মোর ঘরে কবি উদ্ধব দাস এই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৪৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটির সঙ্গে “আস্য আস্য বন্ধু আধ আচলে বস্য” পদের শেষার্ধের ভাবের আশ্চর্য মিল রয়েছে। বন্ধু হে সদাই থাকিহ মোর ঘরে। অনেক পুণ্যের ফলে তোমারে পাঞাছি হে প্রাণ কান্দে বিচ্ছেদের ডরে॥ কালিয়া বরণখানি মাথায় করিব বেণী আঁচলে ঝাঁপিয়া নিব বুকে। তোমার যেমতি প্রেম জিনি দারিদের হেম তুমি পাছে হয়ে থাক হারা॥ নিতি নব অনুরাগে যখন পরাণ যাবে তুমি মোরে দিহ পদছায়া। কহয়ে উদ্ধব হীন জীয়ে থাকি যতদিন কভু যেন না ছাড়িহ মায়া॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কানাই বলাই চলে দোন ভাই কবি উদ্ধব দাস এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ কানাই বলাই, চলে দোন ভাই, বিদায় হইয়া যায়। নন্দ যশোমতী, স্নেহাধিক অতি, সঙ্গে সঙ্গে চলি যায়॥ কত যে যতনে, পিতা মাতাগণে, নিজগৃহে পাঠাইয়া। মত্ত বলরাম, অতিশয় প্রেম, বিচিত্র ভৈ গেল হিয়া॥ ব্যাকুল-নয়নে, সহিত সগণে, ব্রজ-রাজ গেলা ঘর। তাহার পিরীতে, আগেয়ান চিতে, ফিরে চলে হলধর॥ ভুলিয়া সখার, প্রেমের আবেশে, কানাই চলিলা বনে। বলাই ফিরিল, কিছু না জানল, এ দাস উদ্ধবে ভণে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |