| কবি উদ্ধবদাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| যাহাঁ সখিগণ সব রাই বুঝায়ত যাহাঁ সখীগণ সব রাই বুঝায়ত জাহা সখীগণ সব রাই বুঝাওত কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা ২০শপল্লব, বিবিধ মান, ৫৮৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ যাহাঁ সখিগণ সব রাই বুঝায়ত তুরিতে আওল তাহাঁ কান। হেরইতে কমল- বয়নি ধনি মানিনি অবনত করল বয়ান॥ হেরইতে নাগর গদ-গদ অন্তর মন মাহা ভেল বহু ভীতে। গলে পীতাম্বর চরণ-যুগল ধর কহতহি গদ-গদ চীতে॥ সুন্দরি মিছাই করহ মুঝে মান। নিরহেতু হেতু জানি তুহুঁ রোখলি প্রতিবিন্ব হেরি কহ আন॥ ধ্রু॥ তুয়া বিনে নয়নে আন নাহি হেরিয়ে না কহিয়ে আন সঞে বাত। তোহারি সখিনি বিনে বাত না পুছিয়ে না বসিয়ে কাহুঁক সাথ॥ তব তুহুঁ কাহে মান মুঝে করতহি না বুঝিয়ে তুয়া মন-কাজে। উদ্ধবদাস মিনতি করি কহতহি হেরহ নাগর-রাজে॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ৭৭৩-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ ধানশী॥ যাহাঁ সখিগণ সব রাই বুঝায়ত তুরিতে আওল তাহাঁ কান। হেরইতে কমল- বয়নি ধনি মানিনি অবনত কমল বয়ান॥ হেরইতে নাগর গদ-গদ অন্তর মন মাহা ভেল বহু ভীতে। গলে পীতাম্বর চরণ-যুগল ধর কহতহি গদ-গদ চীতে॥ সুন্দরি মিছাই করহ মুঝে মান। নিরহেতু হেতু জানি তুহুঁ রোখলি প্রতিবিন্ব হেরি কহ আন॥ ধ্রু॥ তুয়া বিনে নয়নে আন নাহি হেরিয়ে না কহিয়ে আন সঞে বাত। তোহারি সখিনি বিনে বাত না পুছিয়ে না বসিয়ে কাহুঁক সাথ॥ তব তুহুঁ কাহে মান মুঝে করতহি না বুঝিয়ে তুয়া মন-কাজ। উদ্ধবদাস মিনতি করি কহতহি হেরহ নাগর-রাজ॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। জাহা সখীগণ সব রাই বুঝাওত তুরিতে আওল তাহা কান। হেরইতে কমল রয়ল ধনি মানিনী অবনত করল বয়ান॥ হেরইতে নাগর গদগদ অন্তর মনমাহা ভেল বহু ভীতে। গলেহি পীতাম্বর চরণযুগলে ধরূ কহতহি গদগদ চীতে॥ ধ্রূ॥ তুয়া বিনে নয়নে আন নাহি হেরিএ না কহিয়ে আন সঞে বাত। তোহারি সখিনি বিনে বচন না পুছীএ না বসিয়ে কাহুক সাত॥ তব তহু কাহে মানন মুঝে করতহি না বুঝি তোহারি মনকাজ। উদ্ধবদাস মিনতি করি কহতহি হেরহ নাগররাজে॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ যাঁহা সখীগণ সব, রাই বুঝায়ত, তুরিতে আওল তাহা কান। হেরইতে কমল, বয়নী ধনী মানিনী, অবনত করল বয়ান॥ হেরইতে নাগর গদ গদ অন্তর, মন মহা ভেল বহু ভীতে। গলে পীতাম্বর, চরণ-যুগল ধর, কহতহি গদ গদ চিতে॥ সুন্দরি মিছাই করহ মুঝে মান। নিরহেতু হেতু, জানি রোখল, প্রতিবিন্ব হেরি কহ আন॥ তুয়া বিনে নয়নে, আন নাহি হেরিয়ে, আন সঞে না করিয়ে বাত। তোহারি সখিনী বিনে, বাত না পুছয়ে, না বসিয়ে কাহুঁক সাথ॥ তব তুহুঁ কাঁহে, মান মুঝে করতহি, না বুঝয়ে তুয়া মন কাজে। উদ্ধব দাস, মিনতি করি কহতহি, হেরহ নাগর-রাজে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ যাহাঁ সখিগণ সব রাই বুঝায়ত তুরিতে আওল তাহাঁ কান। হেরইতে কমল- বয়নি ধনি মানিনি অবনত করল বয়ান॥ হেরইতে নাগর গদগদ অন্তর মন মাহা ভেল বহু ভীতে। গলে পীতাম্বর চরণ-যুগল ধর কহতহি গদগদ চীতে॥ সুন্দরি করহ মুঝে মান। নিরহেতু হেতু জানি তুহুঁ রোখলি প্রতিবিন্ব হেরি কহ আন॥ ধ্রু॥ তুয়া বিনে নয়নে আন নাহি হেরিয়ে না কহিয়ে আন সঞে বাত। তোহারি সখিনি বিনে বাত না পূছিয়ে না হাসিয়ে কাহুঁক সাথ॥ তব তুহুঁ কাহে মান মুঝে করতহি না বুঝিয়ে তুয়া মন-কাজে। উদ্ধব দাস মিনতি করি কহতহি হেরহ নাগররাজে॥ এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, মানপ্রকরণ, ৪৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ যাহাঁ সখিগণ সব রাই বুঝায়ত তুরিতে আওল তাহাঁ কান। হেরইতে কমল- বয়নি ধনি মানিনি অবনত করল বয়ান॥ হেরইতে নাগর গদ গদ অন্তর মন মাহা ভেল বহু ভীতে। গলে পীতাম্বর চরণ যুগল ধরি কহতহি গদ গদ চীতে॥ সুন্দরি মিছাই করহ মুঝে মান। নিরহেতু হেতু জানি তুহুঁ রোখলি প্রতিবিন্ব হেরি কহ আন॥ ধ্রু॥ তুয়া বিনে নয়নে আন নাহি হেরিয়ে না কহিয়ে আন সঞে বাত। তোহারি সখিনি বিনে বাত না পূছিয়ে না বসিয়ে কাহুঁক সাথ॥ তব তুহুঁ কাহে মান মুঝে করতহি না বুঝিয়ে তুয়া মন কাজে। উদ্ধব দাস মিনতি করি কহতহি হেরহ নাগর রাজে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নিজ প্রতিবিম্ব রাই যব শুনল নিজ প্রতিবিম্ব রাই জব সুনল নিজ প্রতিবিম্ব রাই যব শূনল কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা ২০শপল্লব, বিবিধ মান, ৫৯০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ নিজ প্রতিবিম্ব রাই যব শুনল অবনত করু মুখ লাজে। নিরহেতু হেতু জানি হাম রোখলুঁ তেজলুঁ নাগর-রাজে॥ এত কহি রাই চীরে মুখ ঝাঁপল বয়নে না নিকসয়ে বাণী। রসিক-শিরোমণি কোরে আগোরল রাইক অন্তর জানি॥ অপরূপ প্রেমক রীত। সবহুঁ সখীগণ চীত-পুতলি যেন হেরত দুহুঁক চরীত॥ ধ্রু॥ পুন সভে হাসি মন্দির সঞে নিকসল দুহুঁ জন ভেল এক ঠাম। মদন-মহোদধি- নিমগন দুহুঁ জন উদ্ধব দাস গুণ গান॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ৭৭৪-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা- পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ তথা রাগ॥ নিজ প্রতিবিম্ব রাই যব শুনল অবনত করু মুখ লাজে। নিরহেতু হেতু জানি হাম রোখলুঁ তেজলুঁ নাগর-রাজে॥ এত কহি রাই চীরে মুখ ঝাঁপল বয়নে না নিকসয়ে বাণী। রসিক-শিরোমণি কোরে আগোরল রাইক অন্তর জানি॥ অপরূপ প্রেমক রীতি। সবহুঁ সখীগণ চীত-পুতলি সম হেরত দুহুঁক চারিত॥ ধ্রু॥ পুন সভে হাসি মন্দির সঞে নিকসল দুহুঁ জন ভেল এক ঠাম। মদন-মহোদধি- নিমগন দুহুঁ জন উদ্ধব দাস গুণ গান॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। নিজ প্রতিবিম্ব রাই জব সুনল অবনত করু মুখ লাজে। নিরহেতু হেতু জানি হাম রোখলু তেজলু নাগররাজে॥ এত কহি রাই চীরে মুখ ঝাপল বয়নে না নিকসএ বাণী। রসিক শিরোমণি কোরে আগোরল রাইক অন্তর জানি॥ অপরূপ প্রেমক রীত। সবহু সখীগণ চিত পুথলি জেন হেরত দুহুক চরিত॥ ধ্রু॥ পুন সভে হাঁসি মন্দির সঞে নিকসল দুহুজন ভেল এক ঠাম। মদন পয়োনিধি নিমগন দুহুজন উদ্ধবদাস গুণগান॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ নিজ প্রতিবিম্ব, রাই যব শুনল, অবনত করু মুখ লাজে। নিরহেতু হেতু, জানি হাম রোখলুঁ, তেজলুঁ নাগর-রাজে॥ এত কহি রাই, চীরে মুখ ঝাঁপল, বয়ন না নিকসয়ে বাণী। রসিক-শিরোমণি, কোরে আগোরল, রাইক অন্তর জানি॥ অপরূপ প্রেমক রীত। সবহুঁ সখীগণ, চিত-পুতলী যেন, হেরত দুহুঁক চরিত॥ পুন সবে হাসি, মন্দির সঞে নিকসল, দুহুঁ জন ভেল এক ঠাম। মদন-মহোদধি- নিমগন দুহুঁ জন, উদ্ধবদাস গুণ গান॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথারাগ॥ নিজ প্রতিবিম্ব রাই যব শূনল অবনত করু মুখ লাজে। নিরহেতু হেতু জানি হাম রোখলুঁ তেজলুঁ নাগররাজে॥ এত কহি রাই চীরে মুখ ঝাঁপল বয়নে না নিকসয়ে বাণী। রসিক শিরোমণি কোরে আগোরল রাইক অন্তর জানি॥ অপরূপ প্রেমক রীত। সবহুঁ সখীগণ চীত পুতলি যেন হেরত দুহুঁক চরীত॥ ধ্রু॥ পুন সভে হাসি মন্দির সঞে নিকসল দুহুঁ জন ভেল এক ঠাম। মদনমহোদধি নিমগন দুহুঁ জন উদ্ধব দাস গুণ গান॥ এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, মানপ্রকরণ, ৪৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বরাড়ী - মধ্যম একতালা॥ নিজ প্রতিবিম্ব রাই যব শুনল অবনত করু মুখ লাজে। নিরহেতু হেতু জানি হাম রোখলুঁ তেজলুঁ নাগর-রাজে॥ এত কহি রাই চীরে মুখ ঝাঁপল বয়নে না নিকসয়ে বাণী। রসিক শিরোমণি কোরে আগোরল রাইক অন্তর জানি॥ অপরূপ প্রেমক রীত। সবহুঁ সখীগণ চীত পুতলি যেন হেরত দুহুঁক চরীত॥ ধ্রু॥ পুন সভে হাসি মন্দির সঞে নিকসল দুহুঁ জন ভেল এক ঠাম। মদন মহোদধি নিমগন দুহুঁজন উদ্ধব দাস গুণ গান॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রসিক নাগর সাজি বাজিকর কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ৩য় পল্লব, স্বয়ং দৌত্য, ৬৪৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ রসিক নাগর সাজি বাজিকর সঙ্গেত সুবল সখা। ঢোলক বাজাইয়া দড়ি দড়া লৈঞা ভানুপুরে দিলা দেখা॥ ধুলা মাখি গায় জুপুপ ঝুলায় নটপটি পাগ শিরে। সুবল সখার কান্ধে দিয়া ভার নামাইলা ধীরে ধীরে॥ কুহুক লাগাইয়া ঝুলি যে খুলিয়া মুকুতা বাহির করে। উগারে বদনে বহুমূল্য ধনে রাখে সব থর থরে॥ পেটে গুয়া দিয়ে বাঁশেতে চড়িয়া ঘুরয়ে কতেক পাকে। দড়া বান্ধি তায় হাঁটি হাঁটি যায় সুতা উগারয়ে নাকে॥ দেখিতে যতনে সব গোপীগণে সঙ্গে রসবতী রাই। আমার মহলে আইস আইস বলে সভাই দেখিতে চাই॥ শুনি বাজিকর চলে তার ঘর লইয়া সকল সাজে। শিরে পদ দিয়া পড়ে উলটিয়া রাইয়ের আঙ্গিনা মাঝে॥ কতেক কুহক দেখায় কৌতুক শিরে হাঁটি হাঁটি চলে। ধনী হাসি মন বিচিত্র বসন বাজিকর-শিরে ফেলে॥ বসন না লয় আর ধন চায় কহে সুবদনী-পাশে। হিয়ার মাঝে হেম-ঘট আছে দিয়া পূর অভিলাষে॥ শুনিয়া নাগরী বুঝিলা চাতুরী চমকিত হৈলা মনে। হেন বাজিকর না দেখিয়ে আর কত টীটপনা জানে॥ যমুনার কূলে সুরতরু–মূলে সকল সাধিবা তথা। এ উদ্ধব সাথে চলিলা তুরিতে বুঝিয়া সঙ্কেত-কথা॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ১১২২-পদসংখ্যায় হুবহু একই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ তথা রাগ॥ রসিক নাগর সাজি বাজিকর সঙ্গেত সুবল সখা। ঢোলক বাজাইয়া দড়ি দড়া লৈঞা ভানুপুরে দিলা দেখা॥ ধুলা মাখি গায় জুপুপ ঝুলায় নটপটি পাগ শিরে। সুবল সখার কান্ধে দিয়া ভার নামাইলা ধীরে ধীরে॥ কুহুক লাগাইয়া ঝুলি যে খুলিয়া মুকুতা বাহির করে। উগারে বদনে বহুমূল্য ধনে রাখে সব থর থরে॥ পেটে গুয়া দিয়ে বাঁশেতে চড়িয়া ঘুরয়ে কতেক পাকে। দড়া বান্ধি তায় হাঁটি হাঁটি যায় সুতা উগারয়ে নাকে॥ দেখিতে যতনে সব গোপীগণে সঙ্গে রসবতী রাই। আমার মহলে আইস আইস বলে সভাই দেখিতে চাই॥ শুনি বাজিকর চলে তার ঘর লইয়া সকল সাজে। শিরে পদ দিয়া পড়ে উলটিয়া রাইয়ের আঙ্গিনা মাঝে॥ কতেক কুহক দেখায় কৌতুক শিরে হাঁটি হাঁটি চলে। ধনী হাসি মন বিচিত্র বসন বাজিকর-শিরে ফেলে॥ বসন না লয় আর ধন চায় কহে সুবদনী-পাশে। হিয়ার মাঝে হেম-ঘট আছে দিয়া পূর অভিলাষে॥ শুনিয়া নাগরী বুঝিলা চাতুরী চমকিত হৈলা মনে। হেন বাজিকর না দেখিয়ে আর কত টীটপনা জানে॥ যমুনার কূলে সুরতরু–মূলে সকল সাধিবা তথা। এ উদ্ধব সাথে চলিলা তুরিতে বুঝিয়া সঙ্কেত-কথা॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পদং॥ রসিক নাগর সাজি বাজিকর সঙ্গেতে সুবল সখা। ঢোলক বাজাইয়া দড়াদড়ি লঞা ভানুপুরে দিলা দেখা॥ ধুলা মাখি গায় জুলুপ ঝুলায় লটপটে পাগ শিরে। সুবল সখার কান্ধে দিয়ে ভার নামাইয়া ধীরে ধীরে॥ কুহুক লাগাইয়া ঝুলি যে খুলিয়া মুকুতা বাহির করে। উগারে বদনে বহুমূল্য ধনে রাখে সব থরে থরে॥ পেটে গুয়া বাঁসেতে চড়াইয়া ঘুরাইয়া কত পাকে। দড়া বান্ধি তায় হাটী হাটী জায় সুতা উগারয়ে নাকে॥ দেখিতে জতনে সব গোপীগণে সঙ্গে রসবতী রাই। আমার মহলে আইস আইস বলে সভাই দেখিতে চাই॥ সুনি বাজিকর চলে তার ঘর লইয়া সকল সাজে। শিরে পদ দিয়া পড়ি উলটিয়া রাইর আঙ্গিনামাঝে॥ কতেক কুহক দেখায় কৌতুক শিরে হাটী হাটী চলে। ধনি হাসিমন বিচিত্র বসন বাজিকর শিরে ফেলে॥ বসন না লয় আর ধন চায় কহে সুবদনী পাশে। হিয়ার মাঝে হেমঘট আছে দিয়া পূর অভিলাষে॥ সুনিয়া নাগরী বুঝিলা চাতুরি চমকিত হৈলা মনে। হেন বাজিকর না দেখিয়া আর কত ঠাটপনা জানে॥ যমুনার কূলে সুরতরুমূলে সকল সাধিবা তথা। এ উদ্ধব সাথে চলিলা তুরিতে বুঝিয়ে সঙ্কেতকথা॥ এই পদটি, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা॥ রসিক নাগর, সাজি বাজিকর, সঙ্গেতে সুবল সখা। ঢোলক বাজাঞে, দড়াদড়ি লঞে, ভানুপুরে দিল দেখা॥ ধুলা মাখি গায়, জুলুপ ঝলায়, লট্ পটি পাক শিরে। সুবল সখার, কান্ধে দিয়া ভার, নামাইল ধীরে ধীরে॥ কুহক লাগায়ে ঝুলী যে খোলিয়ে মুকুতা বাহির করে। উগারে বদনে, বহুমূল্য ধনে, রাখে সব থর থরে॥ পেটে গুয়া দিয়া, বাঁশেতে চড়িয়া, ঘুরয়ে কতেক পাকে। দড়াদড়ি তায়, হাটি হাটি যায়, সূতা উগারয়ে নাকে॥ দেখিতে যতনে, সব গোপীগণে, সঙ্গে রসবতী রাই। আমার মহলে, আইস আইস বলে, সভাই দেখিতে চাই॥ শুনি বাজিকর, চলে তার ঘর, লইয়া সকল সাজে। শিরে পদ দিয়া, পড়ে উলটিয়া, রাইয়ের আঙ্গিনা মাঝে॥ কতেক কুহক, দেখয়ে কৌতুক, শিরে হাটি হাটি চলে। ধনি হাসি মন, বিচিত্র বসন, বাজিকর শিরে ফেলে॥ বসন না লয়, আর ধন চায়, কহে সুবদনী পাশে। হিয়ার মাঝারে হেম ঘট আছে, দিয়া পূর অভিলাষে॥ শুনিয়া নাগরী, বুঝিলা চাতুরী, চমকিত হৈল মনে। হেন বাজিকর, না দেখি যে আর, কত ঢিটপনা জানে॥ যমুনার কূলে, সুরতরুমূলে, সকল সাধিবা তথা। এ উদ্ধব সাথে, চলিলা তুরিতে বুঝিয়া সঙ্কেত কথা॥ এই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ১৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ রসিক নাগর সাজি বাজিকর সঙ্গেতে সুবল সখা। ঢোলক বাজাঞা দড়ি দড়া লৈঞা ভানু-পুরে দিলা দেখা॥ ধুলা মাখি গায় জুলুপ ঝুলায় নটপটি পাগ শিরে। সুবল সখার কান্ধে দিয়া ভার নামাইল ধীরে ধীরে॥ কুহুক লাগাঞা ঝুলি যে খুলিয়া মুকুতা বাহির করে। উগারে বদনে বহুমূল্য ধনে রাখে সব থরে থরে॥ পেটে গুয়া দিয়া বাঁশেতে চড়িয়া ঘুরয়ে কতেক পাকে। দড়া দড়ি তায় হাঁটি হাঁটি যায় সূতা উগারয়ে নাকে॥ দেখিতে যতনে সব গোপীগণে সঙ্গে রসবতী রাই। আমার মহলে এস এস বলে সভাই দেখিতে চাই॥ শুনি বাজিকর চলে তার ঘর লইয়া সকল সাজে। শিরে পদ দিয়া পড়ে উলটিয়া রাইয়ের আঙ্গিনা মাঝে॥ কতেক কুহুক দেখায় কৌতুক শিরে হাঁটি হাঁটি চলে। ধনি হাসি মন বিচিত্র বসন বাজিকর শিরে ফেলে॥ বসন না লয় আর ধন চায় কহে সুবদনী পাশে। হিয়ার মাঝারে যে ধন আছয়ে দিয়া পূর অভিলাষে॥ শুনিয়া নাগরী বুঝিলা চাতুরী চমকিত হৈলা মনে। হেন বাজিকর না দেখি যে আর কত টিটপনা জানে॥ যমুনার কুলে সুর-তরু মূলে সকল সাধিবা তথা। এ উদ্ধব সাথে চলিলা তুরিতে বুঝিয়া সঙ্কেত কথা॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। স্বয়ং দৌত্য ॥ তথা রাগ॥ রসিক নাগর সাজি বাজিকর সঙ্গেত সুবল সখা। ঢোলক বাজাইয়া দড়ি দড়া লৈঞা ভানুপুরে দিলা দেখা॥ ধুলা মাখি গায় জুপুপ ঝুলায় নটপটি পাগ শিরে। সুবল সখার কান্ধে দিয়া ভার নামাইলা ধীরে ধীরে॥ কুহুক লাগাইয়া ঝুলি যে খুলিয়া মুকুতা বাহির করে। উগারে বদনে বহুমূল্য ধনে রাখে সব থর থরে॥ পেটে গুয়া দিয়া বাঁশেতে চড়িয়া ঘুরয়ে কতেক পাকে। দড়া বান্ধি তায় হাঁটি হাঁটি যায় সুতা উগারয়ে নাকে॥ দেখিতে যতনে সব গোপীগণে সঙ্গে রসবতী রাই। আমার মহলে আইস আইস বলে সভাই দেখিতে চাই॥ শুনি বাজিকর চলে তার ঘর লইয়া সকল সাজে। শিরে পদ দিয়া পড়ে উলটিয়া রাইয়ের আঙ্গিনা মাঝে॥ কতেক কুহক দেখায় কৌতুক শিরে হাঁটি হাঁটি চলে। ধনী হাসি মন বিচিত্র বসন বাজিকর শিরে ফেলে॥ বসন না লয় আর ধন চায় কহে সুবদনী পাশে। হিয়ার মাঝে হেমঘট আছে দিয়া পূর অভিলাষে॥ শুনিয়া নাগরী বুঝিলা চাতুরী চমকিত হৈলা মনে। হেন বাজিকর না দেখিয়ে আর কত ঢীটপনা জানে॥ যমুনার কূলে সুরতরু মূলে সকল সাধিবা তথা। এ উদ্ধব সাথে চলিলা তুরিতে বুঝিয়া সঙ্কেতকথা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| মুরলি রে মিনতি করিয়ে বারে বার মুরলী মিনতি করিয়ে বারেবার কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ১১শ পল্লব, আপেক্ষানুরাগ, ৮২১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ মুরলি রে মিনতি করিয়ে বারে বার। শ্যামের অধরে রৈয়া রাধা রাধা নাম লৈয়া তুমি মেনে না বাজিও আর॥ খলের বদনে থাক নাম ধরি সদা ডাক গুরুজনা করে অপযশ। খল হয় যেই জনা সে কি ছাড়ে খলপনা তুমি কেনে হও তার বশ॥ তোমার মধুর স্বরে রহিতে নারিলাম ঘরে নিঝরে ঝরয়ে দু নয়ান। পহিলে বাজিলা যবে কুল শীল গিয়াছে তবে অবশেষে আছে মোর প্রাণ॥ যে বাজিলা সেই ভাল ইথেই সকলি গেল তোরে আমি কহিলুঁ নিশ্চয়। এ দাস উদ্ধব ভণে যে বংশীর গান শুনে সে জন তেজই কুল-ভয়॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ১৩১১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ তথা রাগ॥ মুরলি রে মিনতি করিয়ে বারে বার। শ্যামের অধরে রৈয়া রাধা রাধা নাম লৈয়া তুমি বেন না বাজিও আর॥ খলের বদনে থাক নাম ধরি সদা ডাক গুরুজনা করে অপযশ। খল হয় যেই জনা সে কি ছাড়ে খলপনা তুমি কেনে হও তার বশ॥ তোমার মধুর স্বরে রহিতে নারিলুঁ ঘরে নিঝরে ঝরয়ে দু নয়ান। পহিলে বাজিলা যবে কুল শীল গিয়াছে তবে অবশেষে আছে মোর প্রাণ॥ যে বাজিলা সেই ভাল ইথেই সকল গেল তোরে আমি কহিলুঁ নিশ্চয়। এ দাস উদ্ধব ভণে যে বংশীর গান শুনে সে জন তেজই কুল-ভয়॥ এই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৩৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মুরলী প্রতি॥ মুরলী রে মিনতি করিয়ে বারে বার। শ্যামের অধরে রৈয়া রাধা রাধা নাম লৈয়া তুমি মেনে না বাজিহ আর॥ খলের বদনে থাক নাম ধরি সদা ডাক গুরুজনা করে অপযশ। খল হয় যেই জনা সে কি ছাড়ে খলপনা তুমি কেনে হও তার বশ॥ তোমার মধুর স্বরে রহিতে নারিয়ে ঘরে নিঝরে ঝরয়ে দুনয়ান। পহিলে বাজিলে যবে কুল শীল গেল তবে অবশেষে আছে মোর প্রাণ॥ যে বাজিলে সেই ভাল ইথেই সকলি গেল তোরে আমি কহিলুঁ নিশ্চয়। এ দাস উদ্ধবে ভণে যে বংশীর গান শুনে সে জন তেজয়ে কুলভয়॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। আক্ষেপানুরাগ ॥ তথা রাগ॥ মুরলি রে মিনতি করিয়ে বারে বার। শ্যামের অধরে রৈয়া রাধা রাধা নাম লৈয়া তুমি মেনে না বাজিও আর॥ খলের বদনে থাক নাম ধরি সদা ডাক গুরুজনা করে অপযশ। খল হয় যেই জনা সে কি ছাড়ে খলপনা তুমি কেনে হও তার বশ॥ তোমার মধুর স্বরে রহিতে নারিলাম ঘরে নিঝরে ঝরয়ে দুনয়ান। পহিলে বাজিলা যবে কুল শীল গিয়াছে তবে অবশেষে আছে মোর প্রাণ॥ যে বাজিলা সেই ভাল ইথেই সকলি গেল তোরে আমি কহিলুঁ নিশ্চয়। এ দাস উদ্ধবে ভণে যে বংশীর গান শুনে সে জন তেজই কুলভয়॥ এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, রূপানুরাগ, ১৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীকানাড়া - বীরবিক্রম তাল॥ মুরলী মিনতি করিয়ে বারে বার। শ্যামের অধরে রৈয়া, রাধা রাধা নাম লৈয়া, তুমি মেনে না বাজিহ আর॥ খলের বদনে থাক নাম ধরি সদা ডাক গুরুজনা করে অপযশ। খল হয় যেই জনা, সে কি ছাড়ে খলপনা, তুমি কেনে হও তার বশ॥ তোমার মধুর স্বরে, রহিতে নারিলাঙ ঘরে নিঝরে ঝরয়ে নয়ান। পহিলে বাজিলা যবে, কুল শীল গিয়াছে তবে অবশেষ আছে মোর প্রাণ॥ যে বাজিলে সেই ভাল, ইথেই সকলি গেল, তোরে আমি কহিলুঁ নিশ্চয়। এ দাস উদ্ধব ভণে যে বংশীর রব শুনে সে জন তেজই কুল ভয়॥ এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, আক্ষেপানুরাগ, ৬৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ গান্ধার - মধ্যম দশকুশী॥ মুরলী মিনতি করিয়ে বারেবার। শ্যামের বদনে রৈয়া, রাধা রাধা নাম লৈয়া, তুমি যেন না বাজিহ আর॥ খলের বদনে থাক, সদা রাধা বলে ডাক গুরুজনা করে অপযশ। খল হয় যেই জনা, সে কি ছাড়ে খলপনা, তুমি কেনে হও তার বশ॥ তোমার মধুর স্বরে, রহিতে না পারি ঘরে নিঝরে ঝরে দুনয়ান। পহিলে বাজিলে যবে, কুলশীল গেল তবে, অবশেষ আছে মোর প্রাণ॥ যে বাজিলে সেই ভাল, ইথেই সকলি গেল, তোরে আমি কহিনু নিশ্চয়। এ দাস উদ্ধব ভণে, যে বংশীর গান শুনে সেজন তেজয়ে কুল ভয়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| পঞ্চবাণ ধারী পর মন্দকারী কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ১১শপল্লব, আপেক্ষানুরাগ, ৮৫৪- পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ পঞ্চবাণ-ধারী পর-মন্দকারী তোরে বা বলিব কি। তোর আকর্ষণে পিরিতের ফাঁদে আমি সে ঠেকিয়াছি॥ এত দিনে তোর মরম বুঝিলুঁ অনঙ্গ তোহারি নাম। অঙ্গ বা থাকিলে আর কি হইত কি জানি কি গুণগাম॥ মনের মাঝারে পশিয়া নারীর সরম করিলি দূর। তার প্রতিফল হইবে তোমার কহিলুঁ বচন গূঢ়॥ কালার পিরিতি লাগি তোর শরে কাতর হৈয়াছি আমি। কহয়ে উদ্ধব যে জন অন্তরে তারে কি ছাড়িবে তুমি॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ১৩৪৩-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ ধানশী॥ পঞ্চবাণ-ধারী পর-মন্দকারী তোরে বা বলিব কি। তোর আকর্ষণে পিরিতের ফাঁদে আমি সে ঠেকিয়াছি॥ এত দিনে তোর মরম বুঝিলুঁ অনঙ্গ তোহারি নাম। অঙ্গ বা থাকিলে আর কিবা হৈত কি জানি কি গুণগাম॥ মনের মাঝারে পশিয়া নারীর সরম করিলি দূর। তার প্রতিফল হইবে তোমার কহিলুঁ বচন গূঢ়॥ কালার পিরিতি লাগি তোর শরে কাতর হৈয়াছি আমি। কহয়ে উদ্ধব যে জন অন্তরে তারে কি ছাড়িবে তুমি॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৯৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশ্রী॥ পঞ্চবাণধারী পরমন্দকারী তোরে আর বলিব কী। তোর আকর্ষণে পিরিতির ফান্দে আমি সে ঠেকিয়াছি॥ এতদিনে তোর মরম বুঝিলাম অনঙ্গ তোহারি নাম। অঙ্গ বা থাকিলে আর কি হইত কি জানি কি গুণগ্রাম॥ মনের মাঝারে পসিআ নারীর মরম করিলি দূর। তার প্রতিফল হইবে তোমার কহিনু বচন গূঢ়॥ কালার পিরিতি লাগি তোর শরে কাতর হইআছি আমি। কহএ উদ্ধব জে জন অন্তর তারে কি ছাড়িবে তুমি॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ পঞ্চবাণ ধারী, পর মন্দকারী, তোরে বা বলিব কি। তোর আকর্ষণে, পিরীতির ফাঁদে, আমি সে ঠেকিয়াছি॥ এত দিনে তোর, মরম বুঝিনু, অনঙ্গ তোহারি নাম। অঙ্গ বা থাকিলে, আর কি হইত, কি জানি কি গুরুগাম॥ মনের মাঝারে, পশিয়া নারীর, সরম করিলা দূর। তার প্রতিফল, হইবে তোমার, কহিনু বচন গূঢ়॥ কালার পিরীতি, লাগি তোর শরে, কাতর হৈয়াছি আমি। কহয়ে উদ্ধব, যে জন অন্তরে, তারে কি ছাড়িবে তুমি॥ এই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৩৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। অথ কন্দর্প প্রতি যথা ॥ ধানশী॥ পঞ্চবাণ-ধারী পর-মন্দকারী তোরে বা বলিব কি। তোর আকর্ষণে পিরীতির ফাঁদে আমি সে ঠেকিয়াছি॥ এত দিনে তোর মরম বুঝিলুঁ অনঙ্গ তোঁহারি নাম। অঙ্গ বা থাকিলে আর কি হইত কি জানি কি গুণগাম॥ মনের মাঝারে পশিয়া নারীর সরম করিলি দূর। তার প্রতিফল হইবে তোমার কহিলুঁ বচন গূঢ়॥ কালার পিরীতি লাগি তোর শরে কাতর হৈয়াছি আমি। কহয়ে উদ্ধব যে জন অন্তরে তারে কি ছাড়িবে তুমি॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ পঞ্চবাণধারী পরমন্দকারী তোরে বা বলিব কি। তোর আকর্ষণে পিরীতের ফাঁদে আমি সে ঠেকিয়াছি॥ এত দিনে তোর মরম বুঝিলুঁ অনঙ্গ তোহারি নাম। অঙ্গ বা থাকিলে আর কি হইত কি জানি কি গুণগাম॥ মনের মাঝারে পশিয়া নারীর সরম করিলি দূর। তার প্রতিফল হইবে তোমার কহিলুঁ বচন গূঢ়॥ কালার পিরীতি লাগি তোর শরে কাতর হৈয়াছি আমি। কহয়ে উদ্ধব যে জন অন্তরে তারে কি ছাড়িবে তুমি॥ এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, আক্ষেপানুরাগ, ৬৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ পঞ্চবাণ-ধারী পর মন্দকারী তোরে আর বলিব কি। তোর আকর্ষণে পিরিতির ফাঁদে আমি যে ঠেকিয়াছি॥ এত দিনে তোর মরম বুঝিনু অনঙ্গ তোহারি নাম। অঙ্গ বা থাকিলে আর কি হইত কি জানি কি গুণগাম॥ মনের মাঝারে পশিয়া নারীর সরম করিলি দূর। তার প্রতিফল ফলিবে তোমার কহিলুঁ বচন গূঢ়॥ কালার পিরিতি লাগি তোর শরে কাতর হৈয়াছি আমি। কহয়ে উদ্ধব যে জন অন্তরে তারে কি ছাড়িবে তুমি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |