| কবি উদ্ধবদাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| বাল গোপাল রঙ্গে সম-বয় সখা সঙ্গে বাল গোপাল রঙ্গে সমবয়-বেশ সঙ্গে কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ১৯শপল্লব, কৌমারোচিত বাত্সল্য, ১১৪৩-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাষ॥ বাল গোপাল রঙ্গে সম-বয় সখা সঙ্গে হামাগুড়ি আঙ্গিনায় খেলায়। তেজিয়া মাখন সরে, তুলিয়া কমল-করে মৃত্তিকা মনের সুখে খায়॥ বলরাম তা দেখিয়া যশোদা নিকটে যায়্যা কহিলা ভাইয়ের এই কথা। শুনি তবে যশোমতি আইলা তুরিত গতি গোপাল খাইছে মাটি যথা॥ মায় দেখি মাটি ফেলে না খাই না খাই বোলে আধ আধ বদন ঢুলায়। মুখ নিরখয়ে রাণী ধরিয়া যুগল পাণি মন-দুখে করে হায় হায়॥ এ খির নবনী সর কিবা নাহি মোর ঘর মৃত্তিকা খাইছ কিবা সুখে। পিতা যার ব্রজ-রাজ কি তার এমন কাজ শুনিলে হইবে মনে দুখে॥ এতেক বলিয়া রাণী কোলে করি নীলমণি ছল-ছল ভেল দু নয়ান। এ উদ্ধব দাস গীতে যশোমতী হরষিতে অনিমিখে নেহারে বয়ান॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ১৬৫০-পদসংখ্যায় হুবহু একইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ বিভাষ॥ বাল গোপাল রঙ্গে সম-বয় সখা সঙ্গে হামাগুড়ি আঙ্গিনায় খেলায়। তেজিয়া মাখন সরে, তুলিয়া কমল-করে মৃত্তিকা মনের সুখে খায়॥ বলরাম তা দেখিয়া যশোদা নিকটে যায়্যা কহিলা ভাইয়ের এই কথা। শুনি তবে যশোমতি আইলা তুরিত গতি গোপাল খাইছে মাটি যথা॥ মায় দেখি মাটি ফেলে না খাই না খাই বোলে আধ আধ বদন ঢুলায়। মুখ নিরখয়ে রাণী ধরিয়া যুগল পাণি মন-দুখে করে হায় হায়॥ এ খির নবনী সর কিবা নাহি মোর ঘর মৃত্তিকা খাইছ কিবা সুখে। পিতা যার ব্রজ-রাজ কি তার এমন কাজ শুনিলে হইবে মনে দুখে॥ এতেক বলিয়া রাণী কোলে করি নীলমণি ছল-ছল ভেল দু নয়ান। এ উদ্ধব দাস গীতে যশোমতী হরষিতে অনিমিখে নেহারে বয়ান॥ এই পদটি, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাষ॥ বাল গোপাল রঙ্গে, সমবয় শিশু সঙ্গে, হামাগুড়ি আঙ্গিনে খেলায়। তেজিয়া মাখন সরে, তুলিয়া কোমল করে, মৃত্তিকা মনের সুখে খায়॥ বলরাম তা দেখিয়া যশোদা নিকটে যাঞা, কহিলা ভেয়ের এই কথা। শুনি তবে যশোমতি, আইলা তুরিত গতি, গোপাল খাইছে মাটি যথা॥ মায় দেখি মাটি ফেলে, না খাই না খাই বলে, আধ আধ বদন ঢুলায়। মুখ নিরখিয়া রাণী, ধরিয়া যুগল পাণি, মনোদুঃখে করে হায় হায়॥ এ ক্ষীর নবনী সর, কিবা নাহি মোর ঘর, মৃত্তিকা খাইছ কিবা সুখে। পিতা যার ব্রজরাজ, কি তার এমন কাজ, শুনিলে হইবে মনোদুখে॥ এতেক বলিয়া রাণী, কোলে করি নীলমণি, ছল-ছল ভেল দু’নয়ান। এ উদ্ধব দাস গীতে, যশোমতী হরষিতে, অনিমিখে নেহারে বয়ান॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাষ॥ বাল গোপাল রঙ্গে, সম-বয়-বেশ সঙ্গে, হামাগুড়ি আঙ্গিনা খেলায়। ত্যজিয়া মাখন সরে, তুলিয়া কোমল করে, মৃত্তিকা মনের সুখে খায়॥ বলরাম তা দেখিয়া, যশোদা নিকটে যাঞা, কহিলা ভাইয়ের এই কথা। শুনি তবে যশোমতী, আইলা তুরিত গতি, গোপাল খাইছে মাটী যথা॥ মায়ে দেখে মাটী ফেলে, না খাই না খাই বোলে, আধ আধ বদন ঢুলায়। মুখ নিরখয়া রাণী, ধরিয়া যুগল পাণী, মন-দুখে করে হায় হায়॥ এ ক্ষীর নবনী শর, কিবা নাহি মোর ঘর, মৃত্তিকা খাইছ কিবা সুখে। পিতা যার ব্রজ-রাজ, কি তার এমন কাজ, শুনিলে হইবে মনে দুখে॥ এতেক বলিয়া রাণী, কোলে করি নীলমণি, ছল ছল ভেল দু’নয়ান। এ উদ্ধব দাস গীতে, যশোমতী হরষিতে, অনিমিখে নেহারে বয়ান॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাস॥ বাল গোপাল রঙ্গে, সমবায় বেশ সঙ্গে, হামাগুড়ি আঙ্গিনায় খেলায়। তেজিয়া মাখন সরে, তুলিয়া কোমল করে, মৃত্তিকা মনের সুখে খায়॥ বলরাম তা দেখিয়া, যশোদা নিকটে যাঞা, কহিলা ভাইয়ের এই কথা। শুনি তবে যশোমতী, আইলা তুরিত গতি, গোপাল খাইছে মাটি যথা॥ মায় দেখে মাটী ফেলে, না খাই না খাই বলে, আধ আধ বদন ঢুলায়। মুখ নিরখিয়া রাণী, ধরিয়া তাহার পানি, মন দুঃখে করে হায় হায়॥ এ ক্ষীর নবনী সর, কিবা নাহি মোর ঘর, মৃত্তিকা খাইছ কিবা সুখে। পিতা যার ব্রজরাজ, কি তার এমন কাজ, শুনিলে হইবে মন দুঃখে॥ এতেক বলিয়া রাণী, কোলে করি নীলমণি, ছল ছল ভেল দু নয়ান। এ উদ্ধব দাস গীতে যশোমতী হরষিতে অনিমিখে নেহারে বয়ান॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, শ্রীকৃষ্ণের মৃত্তিকা-ভক্ষণ, ৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাস একতালা॥ বাল গোপাল রঙ্গে, সমবয়-বেশ সঙ্গে, হামাগুড়ি আঙ্গিনায় খেলায়। ত্যজিয়া মাখন সরে, তুলিয়া কোমল করে মৃত্তিকা মনের সুখে খায়॥ বলরাম তা দেখিয়া, যশোদা নিকটে গিয়া, কহিলা ভাইয়ের এহি কথা। শুনি তবে যশোমতী, আইলা তুরিত গতি, গোপাল খাইছে মাটী যথা॥ মায়ে দেখি মাটী ফেলে, না খাই না খাই বলে, আধ আধ বদন ঢুলায়। মুখ নিরখয়ে রাণী, ধরিয়া যুগল পাণি, মনোদুখে করে হায় হায়॥ এ ক্ষীর নবনী সর, কিবা নাহি মোর ঘর, মৃত্তিকা খাইছ কিবা সুখে। পিতা যার ব্রজরাজ, কি তার এমন কাজ, শুনিলে হইবে মন দুখে॥ এতেক বলিয়া রাণী, কোলে করি নীলমণি, ছল ছল ভেল দুনয়ান। এ উদ্ধব দাস গীতে, যশোমতী হরষিতে, অনিমিখে নেহারে বয়ান॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৯৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। বিশ্বরূপদর্শন ॥ বিভাষ॥ বাল গোপাল রঙ্গে সমবয় সখা সঙ্গে হামাগুড়ি আঙ্গিনায় খেলায়। তেজিয়া মাখন সরে তুলিয়া কমলকরে মৃত্তিকা মনের সুখে খায়॥ বলরাম তা দেখিয়া যশোদা নিকটে যায়্যা কহিলা ভাইয়ের এই কথা। শুনি তবে যশোমতি আইলা তুরিত গতি গোপাল খাইছে মাটি যথা॥ মায় দেখি মাটি ফেলে না খাই না খাই বোলে আধ আধ বদন ঢুলায়। মুখ নিরখয়ে রাণী ধরিয়া যুগল পাণি মন-দুখে করে হায় হায়॥ এ খির নবনী সর কিবা নাহি মোর ঘর মৃত্তিকা খাইছ কিবা সুখে। পিতা যার ব্রজরাজ তার কি এমন কাজ শুনিলে হইবে মনে দুখে॥ এতেক বলিয়া রাণী কোলে করি নীলমণি ছলছল ভেল দু নয়ান। এ উদ্ধব দাস গীতে যশোমতী হরষিতে অনিমিখে নেহারে বয়ান॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| এক দিন মথুরা হৈতে ফল লৈয়া আচম্বিতে কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ১৯শপল্লব, কৌমারোচিত বাত্সল্য, ১১৪৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারি॥ এক দিন মথুরা হৈতে ফল লৈয়া আচম্বিতে আইলা সে ফল বেচিবারে। ফল লেহ ফল লেহ ডাকে পুন পুন সেহ নামাইলা নন্দের দুয়ারে॥ ব্রজ-শিশু শুনি তায় ফল কিনিবারে ধায় বেতন লইয়া পরতেকে। কিনি কিনি ফল খায় আনন্দিত হিয়ায় পসারি বেড়িয়া একে একে॥ শুনি কৃষ্ণ কুতূহলী ধান্য লইয়া একাঞ্জলি কর হৈতে পড়িতে পড়িতে। পসারি নিকটে আসি ফল দেও বলে হাসি ধান্য দিল ফলাহারী হাতে॥ ধান্য লৈয়া ফলাহারী পুন পুন মুখ হেরি নিমিষ তেজিল পসারিণী । এ দাস উদ্ধব কয় কহিলে কহিল নয় ভুবনমোহন রূপখানি॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ১৬৫৩- পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা- পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ ভাটিয়ারি॥ এক দিন মথুরা হৈতে ফল লৈয়া আচম্বিতে আইলা সে ফল বেচিবারে। ফল লেহ ফল লেহ ডাকে পুন পুন সেহ নামাইলা নন্দের দুয়ারে॥ ব্রজ-শিশু শুনি তায় ফল কিনিবারে ধায় বেতন লইয়া পরতেকে। কিনি কিনি ফল খায় আনন্দিত হিয়ায় পসারি বেড়িয়া একে একে॥ শুনি কৃষ্ণ কুতূহলী ধান্য লইয়া একাঞ্জলি কর হৈতে পড়িতে পড়িতে। পসারি নিকটে আসি ফল দেও বলে হাসি ধান্য দিল ফলহারী হাতে॥ ধান্য লৈয়া ফলাহারী পুন পুন মুখ হেরি নিমিষ তেজিল পসারিণী । এ দাস উদ্ধব কয় কহিলে কহিল নয় ভুবনমোহন রূপখানি॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারী॥ এক দিন মথুরা হৈতে, ফল লৈয়া আচম্বিতে আইলা সে ফল বেচিবারে। ফল লেহ লেহ লেহ, ডাকে পুন পুন সেহ, নামাইলা নন্দের দুয়ারে॥ ব্রজ-শিশু শুনি তায়, ফল কিনিবারে ধায়, বেতন লইয়া পরতেকে। কিনি কিনি ফল খায়, আনন্দিত হিয়ায়, পসারি বেড়িয়া একে একে॥ শুনি কৃষ্ণ কুতূহলী, ধান্য লইয়া একাঞ্জলি, কর হৈতে পড়িতে পড়িতে। পসারি নিকটে আসি, ফল দেও বলে হাসি, ধান্য দিল ফলহারী হাতে॥ পুন পুন মুখ হেরি, ধান্য লৈয়া ফলহারী, নিমিষ তেজিল পসারিণী । এ দাস উদ্ধব কয়, কহিলে কহিল নয়, ভুবন-মোহন রূপ খানি॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, শ্রীকৃষ্ণের ফলক্রয়, ১০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারী - ধামালী॥ এক দিন মথুরা হৈতে, ফল লৈয়া আচম্বিতে, আইলা সে ফল বেচিবারে। ফল লেহ ফল লেহ, ডাকে পুন পুন সেহ, নামাইলা নন্দের দুয়ারে॥ ব্রজ শিশু শুনি তায়, ফল কিনিবারে যায়, বেতন লইয়া পরতেকে। কিনি কিনি ফল খায়, আনন্দিত হিয়ায়, পসারী বেড়িয়া একে একে॥ শুনি কৃষ্ণ কুতূহলী, ধান্য-লইয়া একাঞ্জলি কর হৈতে পড়িতে পড়িতে। পসারি নিকটে আসি, ফল দাও বলে হাসি, ধান্য দিলা ফলাহারী হাতে॥ ধান্য লৈয়া ফলাহারী, পুন পুন মুখ হেরি, নিমিষ তেজিল পসারিণী। এ দাস উদ্ধব কয়, কহিলে কহিল নয়, ভুবন মোহন-রূপ খানি॥ এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দ্বারা সম্পাদিত, বাংলা কবিতার সংকলন “বাংলা কাব্যপরিচয়”-এর ৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পসারী॥ এক দিন মথুরা হৈতে ফল লৈয়া আচম্বিতে আইলা সে ফল বেচিবারে। ফল লেহ ফল লেহ ডাকে পুন পুন সেহ নামাইলা নন্দের দুয়ারে॥ ব্রজ-শিশু শুনি তায় ফল কিনিবারে ধায় বেতন লইয়া পরতেকে। কিনি কিনি ফল খায় আনন্দিত হিয়ায় পসারি বেড়িয়া একে একে॥ শুনি কৃষ্ণ কুতূহলী ধান্য লইয়া একাঞ্জলি কর হৈতে পড়িতে পড়িতে। পসারি নিকটে আসি ফল দেও বলে হাসি ধান্য দিল ফলাহারী হাতে॥ ধান্য লৈয়া ফলাহারী পুন পুন মুখ হেরি নিমিষ তেজিল পসারিণী । এ দাস উদ্ধব কয় কহিলে কহিল নয় ভুবনমোহন রূপখানি॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। ফলক্রয়লীলা ॥ ভাটিয়ারি॥ এক দিন মথুরা হৈতে ফল লৈয়া আচম্বিতে আইলা সে ফল বেচিবারে। ফল লেহ ফল লেহ ডাকে পুন পুন সেহ নামাইলা নন্দের দুয়ারে॥ ব্রজশিশু শুনি তায় ফল কিনিবারে ধায় বেতন লইয়া পরতেকে। কিনি কিনি ফল খায় আনন্দিত হিয়ায় পসারী বেড়িয়া একে একে॥ শুনি কৃষ্ণ কুতূহলী ধান্য লইয়া একাঞ্জলি কর হৈতে পড়িতে পড়িতে। পসারী নিকটে আসি ফল দেও বলে হাসি ধান্য দিল ফলাহারী হাতে॥ ধান্য লৈয়া ফলাহারী পুন পুন মুখ হেরি নিমিষ তেজিল পসারিণী । এ দাস উদ্ধব কয় কহিলে কহিল নয় ভুবনমোহন রূপখানি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| তোর আইঠা বড় মিঠা লাগে তোর এঁঠো বড় মিঠো লাগে কানাইরে কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২১শপল্লব, সখ্য-রস-গোষ্ঠে গমন, ১২০০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শঙ্করাভরণ। সম তাল ॥ তোর আইঠা বড় মিঠা লাগে কানাই রে। খাইতে বড় সুখ পাই তেঞি তোর আইঠা খাই খেত্যে খেত্যে বেঁতে হৈতে দিতে হৈল ভাই রে॥ ধ্রু॥ ও রাঙ্গা অধর মাঝে না জানি কি মধু আছে আমরা তোর চান্দ-মুখের বালাই যাই রে। এই উপহার নেও খাইয়া আমাদিগে দেও এ দাস উদ্ধবে কিছু দিতে চাই রে॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ১৭৩১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ শঙ্করাভরণ। সম তাল ॥ তোর এঠো বড় মিঠা লাগে কানাই রে। খাইতে বড় সুখ পাই তেঞি তোর আইঠা খাই খাইতে দিতে হৈল ভাই রে॥ ধ্রু॥ ও রাঙ্গা অধর মাঝে না জানি কি মধু আছে আমরা তোর চান্দ-মুখের বালাই যাই রে। এই উপহার নেও খাইয়া আমাদিগে দেও এ দাস উদ্ধবে কিছু দিতে চাই রে॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, গোষ্ঠ-বিহার, ২৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শঙ্করাভরণ - ছোট ডাঁসপাহিড়া ॥ তোর এঁঠো বড় মিঠো লাগে কানাইরে। খাইতে বড় সুখ পাই, তেঞি তোর এঁঠো খাই, খেতে খেতে বেঁতে হৈতে দিতে হোলো ভাই রে॥ ও রাঙ্গা অধর মাঝে, না জানি কি সুধা আছে, আমরা তোর মুখের বালাই যাইরে। এই উপহার লোহ, খাইয়া আমারে দেহ, গিয়া আমি গোধন চরাইরে॥ কক্ষ তালি দিয়ে দিয়ে, ভঞ্জয়ে আনন্দ হিয়ে, সুখের সাগর মাঝে ভাসে। ভোজন হইল সায়, আচমন কৈল তায়, গুণ গায় এ উদ্ধবে দাসে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। বনভোজন ॥ শঙ্করাভরণ - সম তাল ॥ তোর এঁঠো বড় মিঠ লাগে কানাই রে। খাইতে বড় সুখ পাই তেঞি তোর এঁঠো খাই খেত্যে খেত্যে বেতে (মুখ) হৈতে . দিতে হৈল ভাই রে॥ ধ্রু॥ ও রাঙ্গা অধর মাঝে না জানি কি মধু আছে আমরা তোর চান্দমুখের বালাই যাই রে। এই উপহার নেও খাইয়া আমাদিগে দেও এ দাস উদ্ধবে মোরা কিছু দিতে চাই রে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শ্রীনন্দ-নন্দন করি গোচারণ নন্দের নন্দন করি গোচারণ শ্রীনন্দের নন্দন করি গোচারণ কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২২শ পল্লব, যাজ্ঞিক-পত্নীর অন্ন-ভোজন, ১২৩২-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। অথ যজ্ঞপত্নী-অন্ন-ভোজন ॥ ভাটিয়ারী॥ শ্রীনন্দ-নন্দন করি গোচারণ মলিন ও মুখ-শশী। সঙ্গে হলধর সব সহচর বংশীবট-তলে বসি॥ সকল রাখাল খুধায় আকুল কহয়ে তেজিয়া লাজ। হৃদয় বুঝিয়া কি খাবে বলিয়া পুছয়ে রাখালরাজ॥ বটু কহে ভাই অন্ন খাইতে চাই যদি খাওয়াইতে পার। তবে সুখ পাই গোধন চরাই কিছু না চাহিয়ে আর॥ বটুর বচন শুনিয়া তখন হাসি নবঘন-শ্যাম। এ উদ্ধবদাস চির দিন আশ পুরাহ মনের কাম॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ১৭৬৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ ভাটিয়ারী॥ নন্দের-নন্দন করি গোচারণ মলিন ও মুখ-শশী। সঙ্গে হলধর সব সহচর বংশীবট-তলে আসি॥ সকল রাখাল খুধায় আকুল কহয়ে তেজিয়া লাজ। হৃদয়ে ঝুরিয়া কি খাবে বলিয়া পুছয়ে রাখালরাজ॥ বটু কহে ভাই অন্ন খাইতে চাই যদি খাওয়াইতে পারো। তবে সুখ পাই গোধন চরাই কিছু না চাহিয়ে আরো॥ বটুর বচন শুনিয়া তখন হাসি নবঘন-শ্যাম। এ উদ্ধবদাস চির দিন আশ পুরাও মনের কাম॥ এই পদটি, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারী॥ শ্রীনন্দনন্দন, করি গোচারণ, মলিন ও মুখশশি। সঙ্গে হলধর, সব সহচর, বংশীবটতটে বসি॥ সকল রাখাল, ক্ষুধায় ব্যাকুল, কহয়ে ত্যজিয়া লাজ। হৃদয় বুঝিয়া, কি খাবে বলিয়া পুছয়ে রাখালরাজ॥ বটু কহে ভাই, অন্ন খাইতে চাই, যদি খাওয়াইতে পার। তবে সুখ পাই, গোধন চরাই, কিছু না চাহি আর॥ বটুর বচন শুনিয়া তখন, হাসি নবঘনশ্যাম। এ উদ্ধব দাস, চিরদিন আশ পুরাও মনের কাম॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারী॥ শ্রীনন্দনন্দন, করি গোচারণ, মলিন ও মুখ-শশী। সঙ্গে হলধর, সব সহচর, বংশীবট-তলে বসি॥ সকল রাখাল, ক্ষুধায় ব্যাকুল, কহয়ে তেজিয় লাজ। হৃদয় বুঝিয়া, কি খাবে বখিয়া, পুছয়ে রাখালরাজ॥ বটু কহে ভাই, অন্ন খাইতে চাই, যদি খাওয়াইতে পার। তবে সুখ পাই, গোধন চরাই, কিছু না চাহিয়ে আর॥ বটুর বচন, শুনিয়ে তখন, হাসি নবঘন শ্যাম। এ উদ্ধবদাস, চির দিনে আশ, পুরাও মনের কাম॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, শ্রীকৃষ্ণের বন-ভোজন, ২২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ - বৃহৎ জপতাল॥ শ্রীনন্দের নন্দন করি গোচারণ, মলিন ও মুখ-শশী। সঙ্গে জলধর, সব সহচর, বংশীবট তলে বসি॥ সকল রাখাল, ক্ষুধায় আকুল, কহয়ে তেজিয়া লাজ। হৃদয় বুঝিয়া, কি খাবে বলিয়া, পুছয়ে রাখাল-রাজ॥ বটু কহে ভাই, অন্ন খেতে চাই, যদি খাওয়াইতে পার। তবে সুখ পাই, গোধন চরাই, কিছু না চাহিয়ে আর॥ বটুর বচন, শুনিয়া তখন হাসি নবঘন শ্যাম। এ উদ্ধ বদাস, চির দিন আশ পুরাহ মনের কাম॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। যাজ্ঞিকপত্নীর অন্নভোজন ॥ ভাটিয়ারি॥ শ্রীনন্দনন্দন করি গোচারণ মলিন ও মুখ-শশী। সঙ্গে হলধর সব সহচর বংশীবটতলে বসি॥ সকল রাখাল ক্ষুধায় আকুল কহয়ে তেজিয়া লাজ। হৃদয় বুঝিয়া কি খাবে বলিয়া পুছয়ে রাখালরাজ॥ বটু কহে ভাই অন্ন খাইতে চাই যদি খাওয়াইতে পার। তবে সুখ পাই গোধন চরাই কিছু না চাহিয়ে আর॥ বটুর বচন শুনিয়া তখন হাসি নবঘন শ্যাম। এ উদ্ধবদাস চির দিন আশ পুরাহ মনের কাম॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শুনিয়া শ্রীদামের কথা অন্তরে পাইয়া বেথা কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২২শপল্লব, যাজ্ঞিক-পত্নীর অন্ন-ভোজন, ১২৩৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথারাগ॥ শুনিয়া শ্রীদামের কথা অন্তরে পাইয়া বেথা কহে তুমি যাহ পুনর্ব্বার। যাহাঁ যজ্ঞপত্নী রহে কহ কৃষ্ণ অন্ন চাহে শুনিলে নৈরাশ নহে আর॥ শুনি আর বার ধাই যজ্ঞপত্নী-স্থানে যাই কৃষ্ণ-আজ্ঞা কহিলা সত্বর। কহি তোমাদের আগে রামকৃষ্ণ অন্ন মাগে ইথে মোরে কি কহ উত্তর॥ শুনি কৃষ্ণ-পরসঙ্গ প্রেমে পরিপূর্ণ অঙ্গ থরে থরে থালী সাজাইয়া। দিব্য অন্ন ভরি ভরি চলিলা যে সারি সারি কুল-ভয় লজ্জা তেয়াগিয়া॥ আর এক মুনির নারী তার পতি করে ধরি রাখিলা নির্জ্জন-গৃহে তারে। যাইবারে না পাইয়া নিজ তনু তেয়াগিয়া শ্রীকৃষ্ণ ভেটিল দেহান্তরে॥ নানা অন্ন ব্যঞ্জন লৈয়া মুনি-পত্নীগণ যেখানে বসিয়া রামকানু। নবঘন-শ্যাম দেখি প্রেমে ছল ছল আঁখি সমর্পিল অন্ন সহ তনু॥ নিরখিয়া শ্যাম-রূপ কি কোটি কন্দর্প-ভূপ পদ-তলে করয়ে নিছ্ নি। এ উদ্ধবদাস কয় লখিলে লখিল নয় অখিল অমিয়া-রস-খনি॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ১৭৬৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ তথারাগ॥ শুনিয়া শ্রীদামের কথা অন্তরে পাইয়া বেথা কহে তুমি যাহ পুনর্ব্বার। যাহাঁ যজ্ঞপত্নী রহে কহ কৃষ্ণ অন্ন চাহে শুনিলে নৈরাশ নহে আর॥ শুনি আর বার ধাইয়া যজ্ঞপত্নী-স্থানে যাইয়া কৃষ্ণ-আজ্ঞা কহিলা সত্বর। কহি তোমাদের আগে রামকৃষ্ণ অন্ন মাগে ইথে মোরে কি কহ উত্তর॥ শুনি কৃষ্ণ-পরসঙ্গ প্রেমে পূর্ণ হৈল অঙ্গ থরে থরে থালী সাজাইয়া। দিব্য অন্ন ভরি ভরি চলিলা যে সারি সারি কুল-ভয় লজ্জা তেয়াগিয়া॥ আর এক মুনির নারী তার পতি করে ধরি রাখিলা নির্জ্জন-গৃহে তারে। যাইবারে না পাইয়া নিজ তনু তেয়াগিয়া শ্রীকৃষ্ণ ভেটিল দেহান্তরে॥ নানা অন্ন ব্যঞ্জন লৈয়া মুনি-পত্নীগণ যেখানে বসিয়া রামকানু। নবঘন-শ্যাম দেখি প্রেমে ছল ছল আঁখি সমর্পিল অন্ন সহে তনু॥ নিরখিয়া শ্যাম-রূপ কি কোটি কন্দর্প-ভূপ পদ-তলে করয়ে নিছ্ নি। এ উদ্ধবদাস কয় লখিলে লিখন নয় অখিল অমিয়া-রস-খানি॥ এই পদটি, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথারাগ॥ শুনিয়া শ্রীদামের কথা, অন্তরে পাইয়া ব্যাথা, কহে তুমি যাহ পুনর্ব্বার। যাহা যজ্ঞপত্নী রহে, কহ কৃষ্ণ অন্ন চাহে, শুনিলে নৈরাশ নহে আর॥ শুনি আর বার ধাই, যজ্ঞপত্নী স্থানে যাই, কৃষ্ণ আজ্ঞা কহিল সত্বর। কহি তোমাদের আগে, রামকৃষ্ণ অন্ন মাগে, ইথে মোরে কি কহ উত্তর॥ শুনি কৃষ্ণ পরসঙ্গ, প্রেমে পরিপূর্ণ অঙ্গ, থরে থরে থালি সাজাইয়া। দিব্য অন্ন ভরি ভরি, চলিলা যে সারি সারি, কুলভয় লাজ তেয়াগিয়া॥ আর এক মুনির নারী, তার পতি করে ধরি, রাখিল নির্জ্জন গৃহে তারে। যাইবারে না পাইয়া, নিজ তনু তেয়াগিয়া, শ্রীকৃষ্ণ ভেটিল দেহান্তরে॥ নানা অন্ন ব্যঞ্জন, লইয়া মুনিপত্নীগণ, যেখানে বসিয়া রাম কানু। নবঘন শ্যাম দেখি, প্রেমে ছল ছল আঁখি, সমর্পিল অন্ন সহ তনু॥ নিরখিয়া শ্যামরূপ, কি কোটি কন্দর্প ভূপ, পদতলে করয়ে নিছনি। এ দাস উদ্ধবে কয়, লখিলে লখিল নয়, অখিল-অমিয়রসখনি॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ শুনিয়া শ্রীদামের কথা, অন্তরে পাইয়া ব্যথা, কহে তুমি যাহ পুনর্ব্বার। যাহা যজ্ঞপত্নী রহে, কহ কৃষ্ণ অন্ন চাহে, শুনিলে নৈরাশ নহে আর॥ শুনি আর বার ধাই, যজ্ঞপত্মী স্থানে যাই, কৃষ্ণ-আজ্ঞা কহিলা সত্বর। কহি তোমাদের আগে, রামকৃষ্ণ অন্ন মাগে, ইথে মোর কি কহ উত্তর॥ শুনি কৃষ্ণ-পরসঙ্গ, প্রেমে পরিপূর্ণ অঙ্গ, থরে থরে থালী সাজাইয়া। দিব্য অন্ন ভরি ভরি, চলিলা যে সারি সারি, কুল-ভয় লজ্জা তেয়াগিয়া॥ আর এক মুনির নারী, তার পতি করে ধরি, রাখিলা নির্জ্জন-গৃহে তারে। যাইবারে না পাইয়া, নিজ তনু তেয়াগিয়া, শ্রীকৃষ্ণ ভেটিল দেহান্তরে॥ নানা অন্ন ব্যঞ্জন, লৈয়া মুনি-পত্নীগণ, যেখানে বসিয়া রাম কানু। নবঘন-শ্যাম দেখি, প্রেমে ছল ছল আঁখি, সমর্পিল অন্ন সহ তনু॥ নিরখিয়া শ্যাম-রূপ, কি কোটি কন্দর্প-ভূপ, পদতলে করয়ে নিছনি। এ উদ্ধবদাস কয়, লখিলে লখিল নয়, অখিল অমিয়া-রস-খনি॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, শ্রীকৃষ্ণের বন ভোজন, ২২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কড়খা ধানশ্রী - দশকুশী॥ শুনিয়া শ্রীদামের কথা, অন্তরে পাইয়া ব্যথা, কহে তুমি যাও পুনর্ব্বার। যাঁহা যজ্ঞপত্নী রহে, কহ কৃষ্ণ অন্ন চাহে, শুনিলে নৈরাশ নহে আর॥ শুনি আরবার ধাই, যজ্ঞপত্মী-স্থানে যাই, কৃষ্ণ আজ্ঞা কহিলা সত্বর। কহি তোমাদের আগে, রামকৃষ্ণ অন্ন মাগে, ইথে মোরে কি কহ উত্তর॥ শুনি কৃষ্ণ-পরসঙ্গ, প্রেমে পরিপূর্ণ অঙ্গ, থরে থরে থালি সাজাইয়া। দিব্য অন্ন ভরি ভরি, চলিলা যে সারি সারি, কুলভয় লজ্জা তেয়াগিয়া॥ আর এক মুনির নারী, তার পতি করে ধরি, রাখিলা নির্জ্জন গৃহে তারে। যাইবারে না পাইয়া, নিজ তনু তেয়াগিয়া, শ্রীকৃষ্ণ ভেটিল দেহান্তরে॥ নানা অন্ন ব্যঞ্জন, লৈয়া মুনি পত্নীগণ, যেখানে বসিয়া রামকানু। নবঘন শ্যাম দেখি, প্রেমে ছল ছল আঁখি, সমর্পিল অন্ন সহ তনু॥ নিরখিয়া শ্যাম রূপ, কি কোটি কন্দর্প ভূপ, পদতলে করয়ে নিছনি। এ উদ্ধব দাস কয়, লখিলে লখিল নয়, অখিল অমিয়া-রস-খনি॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। যাজ্ঞিকপত্নীর অন্নভোজন ॥ তথারাগ॥ শুনিয়া শ্রীদামের কথা অন্তরে পাইয়া বেথা কহে তুমি যাহ পুনর্ব্বার। যাহাঁ যজ্ঞপত্নী রহে কহ কৃষ্ণ অন্ন চাহে শুনিলে নৈরাশ নহে আর॥ শুনি আর বার ধাই যজ্ঞপত্নী স্থানে যাই কৃষ্ণআজ্ঞা কহিলা সত্বর। কহি তোমাদের আগে রামকৃষ্ণ অন্ন মাগে ইথে মোরে কি কহ উত্তর॥ শুনি কৃষ্ণপরসঙ্গ প্রেমে পরিপূর্ণ অঙ্গ থরে থরে থালী সাজাইয়া। দিব্য অন্ন ভরি ভরি চলিলা যে সারি সারি কুলভয় লজ্জা তেয়াগিয়া॥ আর এক মুনির নারী তার পতি করে ধরি রাখিলা নির্জ্জন গৃহে তারে। যাইবারে না পাইয়া নিজ তনু তেয়াগিয়া শ্রীকৃষ্ণ ভেটিল দেহান্তরে॥ নানা অন্ন ব্যঞ্জন লৈয়া মুনিপত্নীগণ যেখানে বসিয়া রামকানু। নবঘন শ্যাম দেখি প্রেমে ছলছল আঁখি সমর্পিল অন্ন সহ তনু॥ নিরখিয়া শ্যামরূপ কি কোটি কন্দর্পভূপ পদতলে করয়ে নিছনি। এ উদ্ধবদাস কয় লখিলে লখিল নয় অখিল অমিয়ারসখনি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নবঘন জিনি তনু দখিণ করেতে বেণু নবঘন জিনি তনু দক্ষিণ করেতে বেণু কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২২শপল্লব, যাজ্ঞিক-পত্নীর অন্ন-ভোজন, ১২৩৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল॥ নবঘন জিনি তনু দখিণ করেতে বেণু সুবলের কান্ধে বাম-ভুজ। চূড়া বান্ধা শিখি-পুচ্ছ বরিহা মালতী-গুচ্ছ ভাঙ ভৃঙ্গ নয়ান অম্বুজ॥ অলকা তিলক ভালে কাণে মকর-কুণ্ডলে পাকা বিন্বু জিনিয়া অধর। দশন মুকুতা-পাঁতি কম্বু কন্ঠ শোভে অতি মণি-রাজ হিয়া পরিসর॥ বনমালা তহিঁ লম্বে সারি সারি অলি চুম্বে ক্ষীণ কটি সুপীত বসন। নাভি-সরোবর পাশে ত্রিবলী-লতিকা ভাসে মগন রমণী-মীন-মন॥ রামরম্ভা উরু-ছান্দে কত বিধু নখ-চান্দে অরুণ-কমল পদ তলে। দাড়াঞা কদম্ব-তলে বঙ্কিম লগুড় হেলে রঙ্গ-ভঙ্গী নয়ান-অঞ্চলে॥ ত্রিভঙ্গ-ভঙ্গিম রঙ্গে বেশ নটবর-অঙ্গে হাসিয়া মধুর মৃদু বোলে। এ দাস উদ্ধব ভণে ভুলিল রমণীগণে রূপ দেখি নিমিখ না চলে॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ১৭৬৯- পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা- পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ মঙ্গল॥ নবঘন জিনি তনু দখিণ করেতে বেণু সুবলের কান্ধে বাম-ভুজ। চূড়া বান্ধা শিখি-পুচ্ছ বরিহা মালতী-গুচ্ছ ভাঙ ভঙ্গী নয়ান অম্বুজ॥ অলকা তিলক ভালে কাণে মকর-কুণ্ডলে পাকা বিন্বু জিনিয়া অধর। দশন মুকুতা-পাঁতি কম্বু কন্ঠ শোভা অতি মণি-রাজ হিয়া পরিসর॥ বনমালা তহিঁ লম্বে সারি সারি অলি চুম্বে ক্ষীণ কটি সুপীত বসন। নাভি-সরোবর পাশে ত্রিবলী-লতিকা ভাসে মগন রমণী-মীন-মন॥ রামরম্ভা উরু-ছান্দে কত বিধু নখ-চান্দে অরুণ-কমল পদ তলে। দাড়াঞা কদম্ব-তলে বঙ্কিম লগুড় হেলে রঙ্গ-ভঙ্গী নয়ান-অঞ্চলে॥ ত্রিভঙ্গ-ভঙ্গিম রঙ্গে বেশ নটবর-অঙ্গে হাসিয়া মধুর মৃদু বোলে। এ দাস উদ্ধব ভণে ভুলিল রমণীগণে রূপ দেখি নিমিখ না চলে॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল॥ নবঘন জিনি তনু, দক্ষিণ করেতে বেণু, সুবলের কান্ধে বাম-ভুজ। চূড়াশিখি-পুচ্ছ, বরিহা মালতী-গুচ্ছ, ভাঙ ভঙ্গী নয়ান-অম্বুজ॥ অলকা তিলক ভালে, কাণে মকর-কুণ্ডলে, পাকা বিন্ব জিনিয়া অধর। দশন মুকুতা-পাঁতি, কম্বু-কন্ঠ শোভো অতি, মণি-ময়রাজ হিয়া পরশিব॥ বনমালা তহিঁ লম্বে, সারি সারি অতি চুম্বে, ক্ষীণ কটি সুপীত বসন। নাভি-সরোবর পাশে, ত্রিবলী-লতিকা পাশে, নিমগন রমণীর মন॥ রামরম্ভা-উরু ছান্দে, কত বিধু নখ-চাঁদে, অরুণ-কমল পদ-তলে। দাড়াঞা কদম্ব-তলে, বঙ্কিম লগুড় হেলে, রঙ্গ ভঙ্গী নয়ান-অঞ্চলে॥ ত্রিভঙ্গ-ভঙ্গিম রঙ্গে, বেশ নটবর-অঙ্গে, হাসিয়া মধুর মধুর বোলে। এ দাস উদ্ধব ভণে, ভুলিল রমণীগণে, রূপ দেখি নিমিখ না চলে॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, শ্রীকৃষ্ণের বন ভোজন, ২২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল - গড়খেমটা॥ নবঘন জিনি তনু, দক্ষিণ করেতে বেণু, সুবলের কান্ধে বাম ভুজ। চূড়া বান্ধা শিখিপুচ্ছ, বরিহা মালতী গুচ্ছ, ভাঙু ভঙ্গি নয়ান অম্বুজ॥ অলকা তিলক ভালে, কাণে মকর কুণ্ডলে, পক্ক বিন্ব জিনিয়া অধর। দশন মুকুতা পাঁতি, কম্বু কন্ঠ শোভে অতি, মণিরাজ হিয়া পরিসর॥ বনমালা তহিঁ লম্বে, সারি সারি অলি চুম্বে, ক্ষীণ কটি সুপীত বসন। নাভি সরোবর পাশে, ত্রিবলি লতিকা ভাসে, নিমগন রমণীর মন॥ রামরম্ভা উরু ছাঁদে, কত বিধু নখ-চাঁদে, অরুণ কমল পদতলে। দাড়াঞা কদম্ব তলে, বঙ্কিম লগুড় হেলে, রঙ্গ ভঙ্গী নয়ান চঞ্চলে॥ ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিম রঙ্গে, বেশ নটবর অঙ্গে, হাসিয়া মধুর মৃদু বোলে। এ দাস উদ্ধব ভণে, ভুলিল রমণীগণে, রূপ দেখি নিমিখ না চলে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। যাজ্ঞিকপত্নীর অন্নভোজন ॥ মঙ্গল॥ নবঘন জিনি তনু দখিণ করেতে বেণু সুবলের কান্ধে বামভুজ। চূড়া বান্ধা শিখিপুচ্ছ বরিহা মালতীগুচ্ছ ভাঙ ভৃঙ্গ নয়ান অম্বুজ॥ অলকা তিলক ভালে কাণে মকরকুণ্ডলে পাকা বিন্বু জিনিয়া অধর। দশন মুকুতা পাঁতি কম্বুকন্ঠ শোভে অতি মণিরাজ হিয়া পরিসর॥ বনমালা তহিঁ লম্বে সারি সারি অলি চুম্বে ক্ষীণ কটি সুপীত বসন। নাভি সরোবর পাশে ত্রিবলীলতিকা ভাসে মগন রমণী মীন মন॥ রামরম্ভা উরুছান্দে কত বিধু নখচান্দে অরুণকমল পদ তলে। দাড়াঞা কদম্ব তলে বঙ্কিম লগুড় হেলে রঙ্গভঙ্গী নয়ানঅঞ্চলে॥ ত্রিভঙ্গভঙ্গিম রঙ্গে বেশ নটবরভঙ্গে হাসিয়া মধুর মৃদু বোলে। এ দাস উদ্ধব ভণে ভুলিল রমণীগণে রূপ দেখি নিমিখ না চলে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| যজ্ঞ-পত্নী অন্ন দিয়া নয়ান-ইঙ্গিত পায়্যা যজ্ঞপত্নী অন্ন দিয়া নয়ন ইঙ্গিত পাঞা যজ্ঞপত্নী অন্ন দিয়া নয়ন ইঙ্গিত পাঞয়া কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২২শপল্লব, যাজ্ঞিক-পত্নীর অন্ন-ভোজন, ১২৩৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রামকেলি॥ যজ্ঞ-পত্নী অন্ন দিয়া নয়ান-ইঙ্গিত পায়্যা নিজ গৃহে করিলা গমনে। অন্ন পাই বন মাঝে আনন্দে রাখালরাজে সখা সহ বসিলা ভোজনে॥ অগ্রজ শ্রীবলরাম কৃষ্ণ করি নিজ বাম চৌদিগে বেঢ়িয়া সব সখা। আনিয়া পলাশ পাত বাঢ়িলা ব্যঞ্জন ভাত কি আনন্দ নাহি তার লেখা॥ খাইতে খাইতে সুখে কেহ দেই কারু মুখে বন্য ভোজন রস-কেলি। খাইতে খাইতে আগে ব্যঞ্জন যে ভাল লাগে প্রশংসি প্রশংসি ভাল বলি॥ কক্ষতালি দিয়া দিয়া ভুঞ্জয়ে আনন্দ হিয়া সুখের সাগর মাঝে ভাসে। ভোজন হইল সায় আচমন কৈলা তায় গুণ গায় এ উদ্ধব দাসে॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ১৭৭০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ রামকেলি॥ যজ্ঞ-পত্নী অন্ন দিয়া নয়ান-ইঙ্গিত পায়্যা নিজ গৃহে করিলা গমনে। অন্ন পাই বন মাঝে আনন্দে রাখালরাজে সখা সহ বসিলা ভোজনে॥ অগ্রজ শ্রীবলরাম কৃষ্ণ করি নিজ বাম চৌদিগে বেঢ়িয়া সব সখা। আনিয়া পলাশ পাত বাঢ়িলা ব্যঞ্জন ভাত কি আনন্দ নাহি তার লেখা॥ খাইতে খাইতে সুখে সুখে দেই কারু মুখে বন্য ভোজন রস-করি। খাইতে খাইতে আগে ব্যঞ্জন যে ভাল লাগে প্রশংসি প্রশংসি ভাল বলি॥ কক্ষতালি দিয়া দিয়া ভুঞ্জয়ে আনন্দ হিয়া সুখের সাগর মাঝে ভাসে। ভোজন হইল সায় আচমন কৈলা তায় গুণ গায় এ উদ্ধব দাসে॥ এই পদটি, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রামকেলি॥ যজ্ঞপত্নী অন্ন দিয়া, নয়ন ইঙ্গিত পাইয়া, নিজগৃহে করিল গমনে। অন্ন পেয়ে বনমাঝ, আনন্দে রাখাল রাজ, সখাসহ বসিলা ভোজনে॥ অগ্রজ শ্রীবলরাম, কৃষ্ণ করি নিজ বাম, চৌদিকে বেড়িয়া সব সখা। আনিয়া পলাশ পাত, বাড়িলা ব্যঞ্জন ভাত, কি আনন্দ নাহি তার লেখা॥ খাইতে খাইতে সুখে, কেহ দেয় কার মুখে, বন্য ভোজন রস কেলি। খাইতে খাইতে আগে, যে ব্যঞ্জন ভাল লাগে, প্রশংসিল ভাল বলি॥ কক্ষতালি দিয়া দিয়া, ভুঞ্জয়ে আনন্দ হিয়া, সুখের সাগর মাঝে ভাসে। ভোজন হইল সায়, আচমন কৈল তায়, গুণগায় এ উদ্ধব দাসে॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রামকেলি॥ যজ্ঞ-পত্নী অন্ন দিয়া, নয়ান-ইঙ্গিত পাঞয়া, নিজ-গৃহে করিলা গমনে। অন্ন পাই বন-মাঝে, আনন্দে রাখালরাজে, সখা সহ বসিলা ভোজনে॥ অগ্রজ শ্রীবলরাম, কৃষ্ণ করি নিজ বাম, চৌদিগে বেড়িয়া সব সখা। আনিয়া পলাশ পাত, বাড়িল ব্যঞ্জন ভাত, কি আনন্দ নাহি তার লেখা॥ খাইতে খাইতে সুখে, কেহ দেই কারু মুখে, বন্য-ভোজন-রস-কেলি। খাইতে খাইতে আগে, ব্যঞ্জন যে ভাল লাগে, প্রশংসি প্রশংসি ভাল বলি॥ কক্ষতালি দিয়া দিয়া, ভুঞ্জয়ে আনন্দ হিয়া, সুখের সাগর-মাঝে ভাসে। ভোজন হইল সায়, আচমন কৈলা তায়, গুণ গায় এ উদ্ধবদাসে॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, শ্রীকৃষ্ণের বন ভোজন, ২৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ জয় দয়ন্তী মল্লার - মধ্যম দুঠুকী॥ যজ্ঞপত্নী অন্ন দিয়া, নয়ন ইঙ্গিত পাঞা, নিজ গৃহে করিলা গমনে। অন্ন পাইয়া বনমাঝে, আনন্দে রাখাল-রাজে, সখা সহ বসিলা ভোজনে॥ অগ্রজ শ্রীবলরাম, কৃষ্ণ করি নিজ বাম, চৌদিকে বেড়িয়া সব সখা। আনিয়া পলাশ পাত, বাঢ়িলা ব্যঞ্জন ভাত, কি আনন্দ নাহি তার লেখা॥ খাইতে খাইতে সুখে, কেহ দেই কারু মুখে, বন্যভোজন রস কেলি। খাইতে খাইতে আগে, ব্যঞ্জন যে ভাল লাগে, প্রশংসি প্রশংসি ভাল বলি॥ কক্ষতালি দিয়া দিয়া, ভুঞ্জয়ে আনন্দ হিয়া, সুখের সাগর মাঝে ভাসে। ভোজন হইল সায়, আচমন কৈলা তায়, গুণ গায় এ উদ্ধব দাসে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। যাজ্ঞিকপত্নীর অন্নভোজন ॥ রামকেলি॥ যজ্ঞপত্নী অন্ন দিয়া নয়ানইঙ্গিত পায়্যা নিজ গৃহে করিলা গমনে। অন্ন পাই বন মাঝে আনন্দে রাখালরাজে সখা সহ বসিলা ভোজনে॥ অগ্রজ শ্রীবলরাম কৃষ্ণ করি নিজ বাম চৌদিগে বেঢ়িয়া সব সখা। আনিয়া পলাশ পাত বাঢ়িলা ব্যঞ্জন ভাত কি আনন্দ নাহি তার লেখা॥ খাইতে খাইতে সুখে কেহ দেই কারু মুখে বন্য ভোজন রসকেলি। খাইতে খাইতে আগে ব্যঞ্জন যে ভাল লাগে প্রশংসি প্রশংসি ভাল বলি॥ কক্ষতালি দিয়া দিয়া ভুঞ্জয়ে আনন্দ হিয়া সুখের সাগর মাঝে ভাসে। ভোজন হইল সায় আচমন কৈলা তায় গুণ গায় এ উদ্ধবদাসে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |