কবি উদ্ধবদাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
রাখালে রাখালে মেলা খেলিতে বিনোদ খেলা
কবি উদ্ধব দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২২শপল্লব,
যাজ্ঞিক-পত্নীর অন্ন-ভোজন, ১২৩৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

রাখালে রাখালে মেলা খেলিতে বিনোদ খেলা
অতিশয় শ্রম সভাকার।
ননীর পুতলী শ্যাম          রবির কিরণে ঘাম
স্রবে যেন মুকুতার হার॥
শ্রীদাম আসিয়া বোলে      বৈসহ তরুর তলে
কানাই হইবে মাঠে রাজা।
যমুনা-পুলিনে ভাই       কংসের দোহাই নাই
কেহু পাত্র মিত্র কেহু প্রজা॥
বনফুল আন যত             সপত্র কদম্ব শত
অশোক-পল্লব আম্র-শাখা।
শুনি শ্রীদামের কথা        সকল আনিল তথা
নবগুঞ্জা-গুচ্ছ শিখী-পাখা॥
গাঁথিয়া ফুলের মালে         কদম্ব-তরুর তলে
রাজপাট করি নিরমাণ।
এ উদ্ধব দাসে ভণে       কক্ষতালি ঘনে ঘনে
আবা আবা বাজায় বয়ান॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ১৭৭১-পদসংখ্যায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর
দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তুড়ী॥

রাখালে রাখালে মেলা খেলিতে বিনোদ খেলা
অতিশয় শ্রম সভাকার।
ননীর পুতলী শ্যাম          রবির কিরণে ঘাম
স্রবে যেন মুকুতার হার॥
শ্রীদাম আসিয়া বোলে      বৈসহ তরুর তলে
কানাই হইবে মাঠে রাজা।
যমুনা-পুলিনে ভাই        কংসের দোহাই নাই
কেহু পাত্র মিত্র কেহু প্রজা॥
বনফুল আন যত              সপত্র কদম্ব শত
অশোক-পল্লব আম্র-শাখা।
শুনি শ্রীদামের কথা         সকল আনিল তথা
নবগুঞ্জা-গুচ্ছ শিখী-পাখা॥
গাঁথিয়া ফুলের মালে         কদম্ব-তরুর তলে
রাজপাট করিল নির্ম্মাণ।
এ উদ্ধব দাসে ভণে        কক্ষতালি ঘনে ঘনে
আবা আবা বাজায় বয়ান॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত,
১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর আনন্দ সংস্করণ, ২০০৬, ৪২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

রাখালে রাখালে মেলা,     খেলিতে বিনোদ খেলা,
অতিশয় শ্রম সভাকার।
ননীর পুতলী শ্যাম              রবির কিরণে ঘাম
শ্রবে যেন মুকুতার হার॥
শ্রীদাম আসিয়া বোলে           বৈসহ তরুর তলে
কানাই হইবে মাঠে রাজা।
যমুনা পুলিনে ভাই             কংসের দোহাই নাই
কেহ পাত্র মিত্র কেহু প্রজা॥
বনফুল আন যত                  সপত্র কদম্ব শত,
অশোক পল্লব আম্রশাখা।
শুনি শ্রীদামের কথা             সকল আনিল তথা,
নবগুঞ্জাগুচ্ছ শিখী পাখা॥
গাঁথিয়া ফুলের মালে              কদম্ব তরুর তলে
রাজপাট করি নিরমাণ।
এ উদ্ধবদাসে ভণে             কক্ষতালি ঘনে ঘনে
আবা আবা বাজায় বয়ান॥

ই পদটি, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর
পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৩৮-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বন বিহার বা রাখাল রাজা।
॥ তুড়ী॥

রাখালে রাখালে মেলা, খেলিতে বিনোদ খেলা, অতিশয় শ্রম সবাকার।
ননীর পুতলী শ্যাম, রবির কিরণে ঘাম, স্রবে যেন মুকুতার হার॥ শ্রীদাম
আসিয়া বলে, বৈসহ তরুর তলে, কানাই হইবে মাঠে রাজা। যমুনা পুলিনে ভাই,
কংসের দোহাই নাই, কেহু পাত্র মিত্র কেহু প্রজা॥ বনফুল আন যত, সপত্র
কদম্ব শত, অশোক পল্লব আম্রশাখা। শুনি শ্রীদামের কথা, সকল আনিল
তথা, নব গুঞ্জগুচ্ছ শিখীপাখা॥ গাঁথিয়া ফুলের মালে, কদম্ব তরুর তলে, রাজ
পাট করি নিরমাণ। এ উদ্ধব দাসে ভণে, কক্ষতালি ঘনে ঘনে, আবা আবা
বাজায় বয়ান॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ গোষ্ঠবিহার।
॥ তুড়ী॥

রাখালে রাখালে মেলা,        খেলিতে বিনোদ খেলা,
অতিশয় শ্রম সবাকার।
ননীর পুতলী শ্যাম,                রবির কিরণে ঘাম,
স্রবে যেন মুকুতার হার॥
শ্রীদাম আসিয়া বোলে,             বৈসহ তরুর তলে,
কানাই হইবে মাঠে রাজা।
যমুনা-পুলিনে ভাই,              কংসের দোহাই নাই,
কেহু পাত্র মিত্র কেহ প্রজা॥
বনফুল আন যত,                    সপত্র কদম্ব শত,
অশোক-পল্লব আম্র-শাখা।
শুনি শ্রীদামের কথা,               সকল আনিল তথা,
নবগুঞ্জা-গুচ্ছ শিখি-পাখা॥
গাঁথিয়া ফুলের মালে,                কদম্ব-তরুর তলে,
রাজপাট করি নিরমাণ।
এ উদ্ধব দাসে ভণে,               কক্ষতালি ঘনে ঘনে,
আবা আবা বাজায় বয়ান॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, গোষ্ঠ-বিহার, ২৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাখাল রাজা।
॥ সারঙ্গ - দুঠুকী॥

রাখালে রাখালে মেলা,    খেলিতে বিনোদ খেলা,
অতিশয় শ্রম সভাকার।
ননীর পুতলি শ্যাম,            রবির কিরণে ঘাম,
স্রবে যেন মুকুতার হার॥
শ্রীদাম আসিয়া বোলে,        বৈসহ তরুর তলে,
কানাই হইবে মাঠে রাজা।
যমুনা পুলিনে ভাই,          কংসের দোহাই নাই,
কেহ পাত্র মিত্র কেহু প্রজা॥
বনফুল আন যত,                সপত্র কদম্ব শত,
অশোক পল্লব আম্র শাখা।
শুনি শ্রীদামের কথা,           সকল আনিল তথা,
নবগুঞ্জা শিখীপুচ্ছ-পাখা॥
গাঁথিয়া ফুলের মালে,            কদম্ব তরুর তলে,
রাজপাট করি নিরমাণ।
এ উদ্ধব দাসে ভণে,          কক্ষ তালি ঘনে ঘনে,
আবা আবা বাজায় বয়ান॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২)
এর নামে দেওয়া রয়েছে।

রাখালরাজা
॥ তুড়ী॥

রাখালে রাখালে মেলা        খেলিতে বিনোদ খেলা
অতিশয় শ্রম সভাকার।
ননীর পুতলী শ্যাম               রবির কিরণে ঘাম
স্রবে যেন মুকুতার হার॥
শ্রীদাম আসিয়া বোলে           বৈসহ তরুর তলে
কানাই হইবে মাঠে রাজা।
যমুনাপুলিনে ভাই             কংসের দোহাই নাই
কেহু পাত্র মিত্র কেহু প্রজা॥
বনফুল আন যত                   সপত্র কদম্ব শত
অশোক পল্লব আম্র-শাখা।
শুনি শ্রীদামের কথা              সকল আনিল তথা
নবগুঞ্জাগুচ্ছ শিখীপাখা॥
গাঁথিয়া ফুলের মালে             কদম্ব তরুর তলে
রাজপাট করি নিরমাণ।
এ উদ্ধব দাসে ভণে            কক্ষতালি ঘনে ঘনে
আবা আবা বাজায় বয়ান॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”,
২২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাখালে রাখালে মেলা        খেলিতে বিনোদ খেলা
অতিশয় শ্রম সভাকার।
ননীর পুতলী শ্যাম                রবির কিরণে ঘাম
স্রবে যেন মুকুতার হার॥
শ্রীদাম আসিয়া বোলে           বৈসহ তরুর তলে
কানাই হইবে মাঠে রাজা।
যমুনা পুলিনে ভাই            কংসের দোহাই নাই
কেহু পাত্র মিত্র কেহু প্রজা॥
বনফুল আন যত                   সপত্র কদম্ব শত
অশোক-পল্লব আম্র-শাখা।
শুনি শ্রীদামের কথা             সকল আনিল তথা
নবগুঞ্জা-গুচ্ছ শিখী-পাখা॥
গাঁথিয়া ফুলের মালে             কদম্ব-তরুর তলে
রাজপাট করি নিরমাণ।
এ উদ্ধব দাসে ভণে            কক্ষতালি ঘনে ঘনে
আবা আবা বাজায় বয়ান॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিবিধ কুসুম দিয়া সিংহাসন নিরমিয়া
কবি উদ্ধব দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২২শপল্লব,
যাজ্ঞিক-পত্নীর অন্ন-ভোজন, ১২৩৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

বিবিধ কুসুম দিয়া            সিংহাসন নিরমিয়া
কানাই বসিলা রাজাসনে।
রচিয়া ফুলের দাম              ছত্র ধরে বলরাম
গদগদ নেহারে বদনে॥
অশোক-পল্লব করে             সুবল চামর করে
সুদামের করে শিখি-পুচ্ছ।
ভদ্রসেন গাঁথি মালে          পরায় কানাইর গলে
শিরে দেয় গুঞ্জাফল-গুচ্ছ॥
স্তোককৃষ্ণ পুতি বানা ঠাঞি ঠাঞি বসাইলা থানা
আজ্ঞা বিনে আসিতে না পায়।
শ্রীদামাদি দূত হৈয়া        কানাইর দোহাই দিয়া
চারি পাশে ঘুরিয়া বেড়ায়॥
করযুগ যুড়ি তথি           অংশুমান করে স্তুতি
রাজ-আজ্ঞা বচন চালায়।
বটু করে বেদ-ধ্বনি        পড়ে আশীর্ব্বাদ-বাণী
দাম বসুদাম নাচে গায়॥
অতি মনোহর ঠাট           নিরমিয়া রাজপাট
কতেক হইল রস-কেলি।
এ উদ্ধবদাস কয়               সখ্য-দাস্য-রসময়
সেবয়ে সকল সখা মেলি॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ১৭৭২-পদসংখ্যায়
হুবহু একই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর
টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশী॥

বিবিধ কুসুম দিয়া            সিংহাসন নিরমিয়া
কানাই বসিলা রাজাসনে।
রচিয়া ফুলের দাম              ছত্র ধরে বলরাম
গদগদ নেহারে বদনে॥
অশোক-পল্লব করে             সুবল চামর করে
সুদামের করে শিখি-পুচ্ছ।
ভদ্রসেন গাঁথি মালে           পরায় কানাইর গলে
শিরে দেয় গুঞ্জাফল-গুচ্ছ॥
স্তোককৃষ্ণ পুতি বানা ঠাঞি ঠাঞি বসাইলা থানা
আজ্ঞা বিনে আসিতে না পায়।
শ্রীদামাদি দূত হৈয়া        কানাইর দোহাই দিয়া
চারি পাশে ঘুরিয়া বেড়ায়॥
করযুগ যুড়ি তথি           অংশুমান করে স্তুতি
রাজ-আজ্ঞা বচন চালায়।
বটু করে বেদ-ধ্বনি        পড়ে আশীর্ব্বাদ-বাণী
দাম বসুদাম নাচে গায়॥
অতি মনোহর ঠাট           নিরমিয়া রাজপাট
কতেক হইল রস-কেলি।
এ উদ্ধবদাস কয়               সখ্য-দাস্য-রসময়
সেবয়ে সকল সখা মেলি॥

ই পদটি, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর
পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৩৮-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

বিবিধ কুসুম দিয়া, সিংহাসন নিরমিয়া, কানাই বসিল রাজাসনে। রচিয়া ফুলের
দাম, ছত্র ধরে বলরাম, গদ গদ নেহারে বদনে॥ অশোক পল্লব করে, সুবল
চামর করে, সুদামের করে শিখীপুচ্ছ। ভদ্রসেন গাঁথি মালে, পরায় কানায়ের
গলে, শিরে দেয় গুঞ্জাফলগুচ্ছ॥ স্তোককৃষ্ণ পুঁতি বানা, ঠাঁই ঠাঁই বসাইল
থানা, আজ্ঞা বিনা আসিতে না পায়। শ্রীদামাদি দূত হৈয়া, কানাইয়ের
দোহাই দিয়া, চারি পাশে ঘেরিয়া বেড়ায়॥ কর যুগ যুড়ি তথি, অংশুমান করে
স্তুতি, রাজ আজ্ঞা বচন চালায়। বটু করে বেদ ধ্বনি, পড়ে আশীর্ব্বাদ বাণী, দাম
বসুদাম নাচে গায়॥ অতি মনোহর ঠাট, নিরমিয়া রাজপাট, কতেক হইল
রসকেলি। এ উদ্ধব দাসে কয়, সখ্য দাস্য রসময়, সেবয়ে সকল সখা মেলি॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

বিবিধ কুসুম দিয়া,            সিংহাসন নিরমিয়া,
কানাই বসিলা রাজাসনে।
রচিয়া ফুলের দাম,                ছত্র ধরে বলরাম,
গদ গদ নেহারে বদনে॥
অশোক-পল্লব করে,             সুবল চামর করে,
সুদামের করে শিখি-পুচ্ছ।
ভদ্রসেন গাঁথি মালে,           পরায় কানাইর গলে,
শিরে দেয় গুঞ্জাফল-গুচ্ছ॥
স্তোককৃষ্ণ প্রতি বানা,
ঠাঞি ঠাঞি বসাইলা থানা,
আজ্ঞা বিনে আসিতে না পায়।
শ্রীদামাদি দূত হৈয়া,        কানাইর দোহাই দিয়া,
চারি পাশে ঘুরিয়া বেড়ায়॥
করযুগ যুড়ি তথি,            অংশুমান করে স্তুতি,
রাজ-আজ্ঞা বচন চালায়।
বটু করে বেদ-ধ্বনি,          পড়ে আশীর্ব্বাদ-বাণী,
দাম বসুদাম নাচে গায়॥
অতি মনোহর ঠাট,             নিরমিয়া রাজপাট,
কতেক হইল রস-কেলি।
এ উদ্ধবদাস কয়,                সখ্য-দাস্য-রসময়,
সেবয়ে সকল সখা মেলি॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, গোষ্ঠ-বিহার, ২৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাখাল রাজা।
॥ ধানশী - লোফা॥

বিবিধ কুসুম দিয়া,            সিংহাসন নিরমিয়া,
কানাই বসিলা রাজাসনে।
রচিয়া ফুলের দাম,               ছত্র ধরে বলরাম,
গদ গদ নেহারে বদনে॥
অশোক পল্লব করে,             সুবল চামর করে,
সুদামের করে শিখিপুচ্ছ।
ভদ্রসেন গাঁথি মালে,           পরায় কানাইর গলে,
শিরে দেয় গুঞ্জাফল-গুচ্ছ॥
স্তোক কৃষ্ণ পুতি বানা,   ঠাঞি ঠাঞি বসাইল থানা,
আজ্ঞা বিনে আসিতে না পায়।
শ্রীদাম আদি দূত হৈয়া,      কানাইর দোহাই দিয়া,
চারি পাশে ঘুরিয়া বেড়ায়॥
কর যুগ যুড়ি তথি,           অংশুমান করে স্তুতি,
রাজ-আজ্ঞা বচন চালায়।
বটু করে বেদ-ধ্বনি,           পড়ে আশীর্ব্বাদ-বাণী,
দাম বসুদাম নাচে গায়॥
অতি মনোহর ঠাট,              নিরখিয়া রাজপাট,
কতেক হইল রস-কেলি।
এ উদ্ধব দাসে কয়,               সখ্য দাস্য রসময়,
সেবয়ে সকল সখা মেলি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২)
এর নামে দেওয়া রয়েছে।

রাখালরাজা
॥ ধানশী॥

বিবিধ কুসুম দিয়া
সিংহাসন নিরমিয়া
.                        কানাই বসিলা রাজাসনে।
রচিয়া ফুলের দাম
ছত্র ধরে বলরাম
.                        গদগদ নেহারে বদনে॥
অশোক পল্লব করে
সুবল চামর করে
.                        সুদামের করে শিখিপুচ্ছ।
ভদ্রসেন গাঁথি মালে
পরায় কানাইর গলে
.                        শিরে দেয় গুঞ্জাফলগুচ্ছ॥
স্তোককৃষ্ণ পুতি বানা
  ঠাঞি ঠাঞি বসাইলা থানা
.                                আজ্ঞা বিনে আসিতে না পায়।
শ্রীদামাদি দূত হৈয়া
কানাইর দোহাই দিয়া
.                        চারি পাশে ঘুরিয়া বেড়ায়॥
করযুগ যুড়ি তথি
অংশুমান করে স্তুতি
.                        রাজ-আজ্ঞা বচন চালায়।
বটু করে বেদধ্বনি
পড়ে আশীর্ব্বাদ-বাণী
.                        দাম বসুদাম নাচে গায়॥
অতি মনোহর ঠাট
নিরমিয়া রাজপাট
.                        কতেক হইল রস-কেলি।
এ উদ্ধবদাস কয়
সখ্যদাস্যরসময়
.                        সেবয়ে সকল সখা মেলি॥

ই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও শ্যামাপদ
চৌধুরী সম্পাদিত সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, ২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিবিধ কুসুম দিয়া            সিংহাসন নিরমিয়া
কানাই বসিলা রাজাসনে।
রচিয়া ফুলের দাম              ছত্র ধরে বলরাম
গদ গদ নেহারে বদনে॥
অশোক-পল্লব-করে             সুবল চামর করে
সুদামের করে শিখিপুচ্ছ।
ভদ্রসেন গাঁথি মালে       পরায় কানাইয়ের গলে
শিরে দেয় গুঞ্জাফল-গুচ্ছ॥
স্তোক-কৃষ্ণ আনাগোনা    ঠাঞি ঠাঞি বানায় থানা
আজ্ঞা বিনে আসিতে না পায়।
শ্রীদামাদি দূত হৈয়া         কানাইর দোহাই দিয়া
চারি পাশে ঘুরিয়া বেড়ায়॥
করযুগ যুড়ি তথি           অংশুমান্ করে স্তুতি
রাজ-আজ্ঞা-বচন চালায়।
বটু করে বেদ-ধ্বনি          পড়ে আশীর্ব্বাদ-বাণী
দাম সুদাম নাচে গায়॥
অতি মনোহর ঠাট              নিরমিয়া রাজপাট
কতেক হইল রস-কেলি।
এ দাস উদ্ধব কয়                সখ্য-দাস্য-রসময়
সেবয়ে সকল সখা মেলি॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাস বিহারে মগন শ্যাম নটবর
রাস বেহারে মগন শ্যাম নটবর
কবি উদ্ধব দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২৪শপল্লব,
শরৎকালীয় মহারাস, ১২৫৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অত্রান্তরে অন্তর্দ্ধানং যথা।
॥ কেদার॥

রাস-বিহারে   মগন শ্যাম নটবর
রসবতি রাধা বামে।
মণ্ডলি ছোড়ি রাই-কর ধরি হরি
চললি আন বন ধামে॥
যব হরি অলখিত ভেল।
সবহুঁ কলাবতি আকুল ভেল অতি
হেরইতে বন মাহা গেল॥ ধ্রু॥
সখিগণ মেলি সবহুঁ বন ঢুঁড়ই
পূছই তরুগণ পাশ।
কাহাঁ মঝু প্রাণ-নাথ ভেল অলখিত
না দেখিয়া জিবন নিরাশ॥
কহ কহ কুসুম-পুঞ্জ তুহুঁ ফুল্লিত
শ্যাম-ভ্রমর কাহাঁ পাই।
কোন উপায়ে নাহ মঝু মীলব
উদ্ধবদাস তাহাঁ যাই॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ১৫১৭-পদসংখ্যায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর
দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ কেদার॥

রাস-বিহারে   মগন শ্যাম নটবর
রসবতি রাধা বামে।
মণ্ডলী ছোড়ি রাই-কর ধরি হরি
চললি নিকুঞ্জ ধামে॥
যব হরি অলখিত ভেল।
সবহুঁ কলাবতি আকুল ভেল অতি
হেরইতে বন মাহা গেল॥ ধ্রু॥
সখিগণ মেলি সবহুঁ বন ঢুঁড়ই
পুছই তরুগণ পাশ।
কাহাঁ মঝু প্রাণ-নাথ ভেল অলখিত
না দেখিয়া জিবন নিরাশ॥
কহ কহ কুসুম-কুঞ্জ তুহুঁ ফুল্লিত
শ্যাম-ভ্রমর কাহাঁ পাই।
কোনহ উপায়ে নাহ মঝু মিলব
উদ্ধবদাস তাহাঁ যাই॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার,
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পদং রাগ তালো যথা॥

রাস বেহারে মগন শ্যাম নটবর রসবতী রাধা বামে।
মণ্ডলী ছোড়ি রাই করে ধরি হরি চললি আন ধামে॥
জব হরি অলখিত ভেল।
সবহু কলাবতী আকুল ভেল অতি হেরইতে বন মাহা গেল॥
সখীগণ মেলি সকল বন ঢোরহি পুছই তরুগণ পাস।
কাহা মুঝে প্রাণনাথ ভেল অলখিত না দেখিআ জীবন নৈরাস॥
কহ কহ কুসুম পুঞ্জ তহুঁ ফুল্লিত শ্যাম ভ্রমরা কাঁহা পাই।
কোন উপায় নাহ মুঝে মিলব উদ্ধব দাস বলি জাই॥

ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

রাস বেহারে মগন শ্যাম নটবর রসবতী রাধা
বামে। মণ্ডল ছোড়ি রাই করে ধরি হরি চললি বন ধামে॥
যব হরি অলখিত ভেল। সবহুঁ কলাবতী আকুল ভেল অতি
হেরইতে বন মাহা গেল॥ ধ্রু॥ সখী গণ মেলি সবহুঁ ঢুঁড়ত
পুছত তরু গণ পাশ। কাহাঁ মঝু প্রাণনাথ ভেল অলখিত
নাদেখি জীবন নিরাশে॥ কহ ২ কুসুম পুঞ্জ তুই ফুল্লিত শ্যাম
ভ্রমরা কাহা পাই। কোন উপায়ে শ্যামে ভেটিব উদ্ধব দাস
তাহা যাই॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

রাস-বিহারে,                মগন শ্যাম নটবর,
রসবতী রাধা বামে।
মণ্ডল ছোড়ি,              রাই করে ধরি হরি,
চললি আন বন-ধামে॥
যব হরি অলখিত ভেল।
সবহুঁ কলাবতী             আকুল ভেল অতি,
হেরইতে বন মাহা গেল॥
সখিগণ মেলি,                   সবহুঁ বন ঢুঁড়ই,
পুছই তরুগণ পাশ।
কাহাঁ মঝু প্রাণনাথ,        ভেল অতি অলখিত,
না দেখিয়া জীবন নিরাশ॥
কহ কহ কুসুম,                পুঞ্জ তুহুঁ ফুল্লিত,
শ্যাম-ভ্রমর কাহাঁ পাই।
কোন উপায়,                   নাহ মঝু মিলব,
উদ্ধবদাস তাঁহা যাই॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, মহারাস, ৫০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেহাগ কেদারা - মধ্যম দশকুশী॥

রাস বিহারে,                মগন শ্যাম নটবর,
রসবতী রাধা বামে।
মণ্ডলী ছোড়ি,                রাইক করে ধরি,
চললি আন বন ধামে॥
যব হরি অলখিত ভেল।
সবহুঁ কলাবতী,            আকুল ভেল অতি,
হেরইতে বন মাহা গেল॥ ধ্রু॥
সখিগণ মেলি                  সবহুঁ বন ঢুড়ই,
পুছই তরুগণ পাশ।
কাহাঁ মঝু প্রাণ-            নাথ ভেল অলখিত
না দেখিয়ে জীবন নৈরাশ॥
কহকহ কুসুম-                পুঞ্জ তুহু ফুল্লিত,
শ্যাম-ভ্রমরা কাঁহা পাই।
কোন উপায়ে,                  নাহ মঝু মীলব,
উদ্ধব দাস তাঁহা যাই॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২)
এর নামে দেওয়া রয়েছে।

শরত্কালীয় মহারাস
॥ কেদার॥

রাসবিহারে মগন শ্যাম নটবর
.        রসবতি রাধা বামে।
মণ্ডলি ছোড়ি রাইকর ধরি হরি
.        চললি আন বন-ধামে॥
.        যব হরি অলখিত ভেল।
সবহুঁ কলাবতি আকুল ভেল অতি
.                হেরইতে বন মাহা গেল॥ ধ্রু॥
সখিগণ মেলি সবহুঁ বন ঢুঁড়ই    
.        পুছই তরুগণ পাশ।
কাহাঁ মঝু প্রাণনাথ ভেল অলখিত
.                না দেখিয়া জিবন নিরাশ॥
কহ কহ কুসুমপুঞ্জ তুহুঁ ফুল্লিত  
.        শ্যামভ্রমর কাহাঁ পাই।
কোন উপায়ে নাহ মঝু মীলব   
.        উদ্ধবদাস তাহাঁ যাই॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পনস পিয়াল চূতবর চম্পক
কবি উদ্ধব দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২৪শপল্লব,
শরৎকালীয় মহারাস, ১২৬০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

পনস পিয়াল চূতবর চম্পক       
.        অশোক বকুল বক নীপ।
একে একে পূছিয়া উতর না পাইয়া
.        আওল তুলসি সমীপ॥
জাতি যুথি নব-মল্লিক মালতি     
.        পূছল সজল-নয়ানে।
উতর না পাই সতিনি সম মানই   
.        দূরহি করল পয়ানে॥
পুন দেখে তরুকুল অতিশয় ফলফুল-
.        ভরে পড়িয়াছে মহি-মাঝ।
কানুক হেরি প্রণাম করল ইহ       
.        এ পথে চলল ব্রজ-রাজ॥
এত কহি বিরহে বেয়াকুল অতিশয়
.        ব্রজ-রমণীগণ রোয়।
উদ্ধবদাস কহ শ্যাম ভেল অলখিত।
.        কতি খণে মীলব মোয়॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ১৫১৮-পদসংখ্যায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর
দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথা রাগ॥

পনস পিয়াল চূতবর চম্পক       
.        অশোক বকুল বক নীপ।
একে একে পুছিয়া উতর না পাইয়া
.        আওল তুলসি সমীপ॥
জাতি যুথী নব-মল্লিকা মালতি     
.        পূছল সজল-নয়ানে।
উতর না পাই সতিনি সম মানই    
.        দূরহি করল পয়ানে॥
পুন দেখি তরুকুল অতিশয় ফলফুল-
.        ভরে পড়িয়াছে মহি-মাঝ।
কানুক হেরি প্রণাম করল ইহ       
.        এ পথে চলল ব্রজ-রাজ॥
এত কহি বিরহে বেয়াকুল অতিশয়
.        ব্রজ-রমণীগণ রোয়।
উদ্ধবদাস কহ শ্যাম ভেল অলখিত।
.        কতি খণে মিলব মোয়॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার,
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথা রাগ তাল পরিমিত॥

পনস পিয়াল চূত বর চম্পক অশোক রঙ্গন বারা নীপ।
একে একে পুছিয়া উত্তর না পাইয়া আওল তুলসী সমীপ॥
জাতি জুতি নব মল্লিকা মালতী পুছল সজল নয়নে।
উত্তর না পাই সতিনী সম মানই দূরহি করল পয়ানে॥
পুন দেখি তরুকুল অতিশয় ফল ফুল ভরে পড়িআছে মহীমাঝ।
কানুক হেরি প্রণাম করল ইহ পথে চলল ব্রজরাজ॥
এত কহি বিরহে ব্যাকুল অতিশয় ব্রজরমণীগণ রোয়।
উদ্ধবদাস কহে শ্যাম ভেল অলখিত কতক্ষণে মিলব মোয়॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

পনস পিয়াল,                চুতবর চম্পক,
অশোক বকুল বক নীপ।
একে একে পূছিয়া,        উতর না পাইয়া,
আওল তুলসী সমীপ॥
জাতি যুথী নব,             মল্লিকা মালতী,
পূছল সজল-নয়ানে।
উতর না পাইয়া,        সতিনী সম মানই,
দূরহিঁ করল পয়ানে॥
পুন দেখে তরুকুল,        অতিশয় ফলফুল,
ভরে পড়িয়াছে মহী মাঝ।
কানুক হেরি,              প্রণাম করল ইহ,
এ পথে চলল ব্রজ-রাজ॥
এত কহি বিরহে,       বেয়াকুল অতিশয়,
ব্রজ-রমণীগণ রোয়।
উদ্ধবদাস কহে,       শ্যাম ভেল অলখিত,
কতি ক্ষণে মিলব মোয়॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, মহারাস, ৫১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ - ছোট দশকুশী॥

পনস পিয়াল,                        চুতবর চম্পক,
অশোক বকুল বক নীপ।
একে একে পুছিয়া,                উত্তর না পাইয়া,
আওল তুলসী সমীপ॥
জাতি যুথি নব                     মল্লিকা মালতি
পুছল সজল নয়নে।
উত্তর না পাই,                  সতিনি সম মানই,
দূরহি করল পয়ানে॥
পুন দেখে তরুকুল,              অতিশয় ফলফুল-,
ভরে পড়িয়াছে মহীমাঝ।
কানুক হেরি,                      প্রণাম করল ইহ,
এ পথে চলল ব্রজরাজ॥
এত কহি বিরহে                ব্যাকুল অতিশয়,
ব্রজ রমণীগণ রোয়।
উদ্ধব দাস কহ,              শ্যাম ভেল অলখিত,
কতি খনে মীলব মোয়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২)
এর নামে দেওয়া রয়েছে।

শরত্কালীয় মহারাস
॥ তথা রাগ॥

পনস পিয়াল চূতবর চম্পক      
.        অশোক বকুল বক নীপ।
একে একে পূছিয়া উত্তর না পাইয়া
.        আওল তুলসি সমীপ॥
জাতি যুথি নবমল্লিক মালতি      
.        পূছল সজল-নয়ানে।
উত্তর না পাই সতিনি সম মানই    
.        দূরহিঁ করল পয়ানে॥
পুন দেখে তরুকুল অতিশয় ফলফুল
.        ভরে পড়িয়াছে মহিমাঝ।
কানুক হেরি প্রণাম করল ইহ       
.        এ পথে চলল ব্রজরাজ॥
এত কহি বিরহে বেয়াকুল অতিশয়
.        ব্রজরমণীগণ রোয়।
উদ্ধবদাস কহ শ্যাম ভেল অলখিত।
.        কতি খণে মীলব মোয়॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সকল রমণিগণ ছোড়ি বর-নাগর
সকল রমণি ছোড়ি বর নাগর
কবি উদ্ধব দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২৪শপল্লব,
শরৎকালীয় মহারাস, ১২৬২-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

সকল রমণিগণ ছোড়ি বর-নাগর
.        রাইক কর ধরি গেল।
বনে বনে ভ্রমই কুসুমকুল তোড়ই
.        কেশ-বেশ করি দেল॥
চলইতে রাই চরণে ভেল বেদন  
.        কান্ধে চঢ়ব মন কেল।
বুঝইতে ঐছে বচন বহু-বল্লভ     
.        নিজ তনু অলখিত ভেল॥
না দেখিয়া নাহ তাহি ধনি রোয়ত
.        হা প্রাণনাথ উতরোলে।
ব্রজ-রমণীগণ না দেখিয়া মন-দুখে
.        ভাসল বিরহ-হিলোলে॥
  উদ্দেশে কোই কোই বনে পরবেশিয়া
.        হেরল রোদতি রাধা।
সখিগণ মেলি ধরণি পর লূঠই    
.        উদ্ধবদাস চিতে বাধা॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ১৫২০-পদসংখ্যায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর
দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশী॥

সকল রমণিগণ ছোড়ি বর-নাগর
.        রাইক কর ধরি গেল।
বনে বনে ভ্রমই কুসুমকুল তোড়ই
.        কেশ-বেশ করি দেল॥
চলইতে রাই চরণে ভেল বেদন
.        কান্ধে চঢ়ব মন কেল।
বুঝাইতে ঐছন বচন বহু-বল্লভ  
.        নিজ তনু অলখিত ভেল॥
না দেখিয়া নাহ তহি ধনি রোয়ত
.        হা প্রাণনাথ উতরোলে।
ব্রজ-রমণীগণ না দেখিয়া মন-দুখে
.        ভাসল বিরহ-হিলোলে॥
 উদ্দেশে কোই কোই বনে পরবেশিয়া
.        হেরল রোদতি রাধা।
সখিগণ মেলি ধরণি পর লুঠই    
.        উদ্ধবদাস চিতে বাধা॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার,
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথা রাগিণী ধানশ্রী॥ দশকোসি তালাভ্যাং॥

সকল রমণিগণ ছোড়ি বর নাগর রাইক করে ধরি গেল।
বনে বনে ফিরই কুসুম কুল তোড়ই কেশ বেশ করি দেল॥
চলইতে রাই চরণে ভেল বেদন কান্ধে চড়ব মনে কেল।
বুঝইতে ঐছন বচন বহু বল্লভ নিজ তনু অলখিত ভেল॥
না দেখিআ নাহ তাহে ধনি রোয়ত হা প্রাণনাথ উতরোল।
ব্রজরমণীগণ না দেখিয়া ধাওল ভাসল বিরহ হিল্লোল॥
উদ্দেশ্যে কোই কোই বনে প্রবেশিয়া হেরল রোদতি রাধা।
সখীগণ মেলি ধরণী পর লোটই উদ্ধবদাস চিতে বাধা॥

ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

সকল রমণী গণ ছাড়ি বর নাগর রাইক কর ধরি
গেল। বনে ২ ভ্রমই কুসুম কুল তোড়ই কেশ বেশ করি দেল॥
চলইতে রাই চরণে ভেল বেদন কান্ধে চডুব মনে কেল।
বুঝইতে ঐছে বচন বহু বল্লভ নিজ তনু অলখিত ভেল॥
নাদেখিয়া নাহ তোহি ধনী রোয়ত হা প্রাণনাথ উৎরোলে।
ব্রজ রমণী গণ নাদেখিয়া মনদুঃখে ভাসল বিরহ হিলোলে॥
তুমি সে কহ ২ বন পরবেশিয়া হেরল রোদিত রাধা। সখীগণ
মেলি ধরণী তল লুটই উদ্ধব দাস চিতবাধা॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

সকল রমণীগণ,                        ছোড়ি বর নাগর,
রাইক কর ধরি গেল।
বনে বনে ভ্রমই,                        কুসুমকুল তোড়ই,
কেশ বেশ করি দেল॥
চলইতে রাই,                        চরণে ভেল বেদন,
কান্ধে চড়ব মন কেল।
বুঝইতে ঐছে,                          বচন বহু বল্লভ,
নিজ তনু অলখিত ভেল॥
না দেখিয়া নাহ,                      তাহে ধনী রোয়ত,
হা প্রাণনাথ উতরোলে।
ব্রজ-রমণীগণ,                      না দেখিয়ে মন-দুখে,
ভাসল বিরহ-হিলোলে॥
উদ্দেশে কোই কোই,                   বনে পরবেশিয়া,
হেরল রোদিতি রাধা।
সখীগণ মেলি,                            ধরণী পর লুটই,
উদ্ধবদাস চিতে বাধা॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, মহারাস, ৫১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীললিত - মধ্যম দশকুশী॥

সকল রমণি,                       ছোড়ি বর নাগর
রাইক কর ধরি গেল।
বনে বনে ভ্রমই,                    কুসুমকুল তোড়ই,
কেশ বেশ করি দেল॥
চলইতে রাই                      চরণে ভেল বেদন
কাঁধে চঢ়ব মন কেল।
বুঝইতে ঐছে                        বচন বহুবল্লভ
নিজ তনু অলখিত ভেল॥
না দেখিয়ে নাহ                   তাহিঁ ধনি রোয়ত
হা প্রাণনাথ উতরোলে।
ব্রজ রমণীগণ                    না দেখিয়া মনদুখে
ভাসল বিরহ হিল্লোলে॥
উদ্দেশে কোই কোই               বনে পরবেশিয়া
হেরল রোদতি রাধা।
সখিগণ মেলি                       ধরণী পর লুঠত
উদ্ধব দাস চিতে বাধা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২)
এর নামে দেওয়া রয়েছে।

শরত্কালীয় মহারাস
॥ ধানশী॥

সকল রমণিগণ ছোড়ি বরনাগর
.        রাইক কর ধরি গেল।
বনে বনে ভ্রমই কুসুমকুল তোড়ই
.        কেশবেশ করি দেল॥
চলইতে রাই চরণে ভেল বেদন  
.        কান্ধে চঢ়ব মন কেল।
বুঝইতে ঐছে বচন বহু-বল্লভ     
.        নিজ তনু অলখিত ভেল॥
না দেখিয়া নাহ তাহিঁ ধনি রোয়ত
.        হা প্রাণনাথ উতরোলে।
ব্রজ-রমণীগণ না দেখিয়া মন-দুখে
.        ভাসল বিরহহিলোলে॥
উদ্দেশে কোই কোই বনে পরবেশিয়া
.        হেরল রোদতি রাধা।
সখিগণ মেলি ধরণি পর লুঠই     
.        উদ্ধবদাস চিতে বাধা॥

ই পদটি ১৯৭৭ সালে দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, ১৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

সকল রমণিগণ                ছোড়ি বর নাগর
রাইক কর ধরি গেল।
বনে বনে ভ্রমই                কুসুমকুল তোড়ই
কেশবেশ করি দেল॥
চলইতে রাই                  চরণে ভেল বেদন
কান্ধে চঢ়ব মন কেল।
বুঝইতে ঐছে                    বচন বহু-বল্লভ
নিজ তনু অলখিত ভেল॥
না দেখিয়া নাহ                তাহিঁ ধনি রোয়ত
হা প্রাণনাথ উতরোলে।
ব্রজ রমণীগণ                না দেখিয়া মন দুখে
ভাসল বিরহ হিলোলে॥
উদ্দেশে কোই কোই             বনে পরবেশিয়া
হেরল রোদতি রাধা।
সখিগণ মেলি                     ধরণী পর লুঠই
উদ্ধবদাস চিতে বাধা॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাধামাধব সখিগণ সঙ্গ
কবি উদ্ধব দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড,
৩য় শাখা ২৪শপল্লব, শরৎকালীয় মহারাস, ১২৯০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

রাধামাধব সখিগণ সঙ্গ।
নাহি উঠল তিরে মোছল অঙ্গ॥
লভে মেলি কয়ল বসন পরিধান।
করতহি বহুবিধ বেশ বনান॥
বৈঠল দুহুঁ জন নিরজন-কুঞ্জে।
রতন-পীঠ পর আনন্দ-পুঞ্জে॥
বহু উপহার তাহি আনি দেল।
ভোজন কয়ল সখীগণ মেল॥
ভোজন সারি শয়ন-পরিষঙ্কে।
নাগরি শূতল নাগর-অঙ্কে॥
ললিতা তাম্বুল বীড় বনাই।
উদ্ধবদাস কবে দেওব যোগাই॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

রাধামাধব সখীগণ সঙ্গ।
নাহি উঠল তীরে মোছল অঙ্গ॥
সবে মেলি কয়ল বসন পরিধান।
করতহিঁ বহুবিধ বেশ বনান॥
বৈঠল দুহুঁ জন নিরজন-কুঞ্জে।
রতন-পীঠ-পর আনন্দ-পুঞ্জে॥
বহু উপহার তাহি আনি দেল।
ভোজন কয়ল সখীগণ মেল॥
ভোজন সারি শয়ন-পরিষঙ্কে।
নাগরী শুতল নাগর-অঙ্কে॥
ললিতা তাম্বূল বীড় বনাই।
উদ্ধবদাস কবে দেওব যোগাই॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা
উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে।

শরত্কালীয় মহারাস
॥ তথা রাগ॥

রাধামাধব সখিগণ সঙ্গ।
নাহি উঠল তিরে মোছল অঙ্গ॥
লভে মেলি কয়ল বসন পরিধান।
করতহিঁ বহুবিধ বেশ বনান॥
বৈঠল দুহুঁ জন নিরজনকুঞ্জে।
রতনপীঠ পর আনন্দপুঞ্জে॥
বহু উপহার তাহি আনি দেল।
ভোজন কয়ল সখীগণ মেল॥
ভোজন সারি শয়নপরিষঙ্কে।
নাগরি শূতল নাগরঅঙ্কে॥
ললিতা তাম্বূল বীড় বনাই।
উদ্ধবদাস কবে দেওব যোগাই॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কানুক গোঠ গমন হেরি রাই
কবি উদ্ধব দাস                
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড,
৩য় শাখা ২৫শপল্লব, দান-লীলা, ১৩৪৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

কানুক গোঠ গমন হেরি রাই।
বিরহে বেয়াকুল নিরজনে যাই॥
তহিঁ মুখরা সখি সঞে উপনীত।
রাইক মুখ হেরি গদগদ চীত॥
সো কহে কাহে বিলপসি অনুরাগে।
হাম মিলায়ব তোহে কানুক আগে॥
ধনি কহে এক দিন হেরিলুঁ তাহে।
উদ্ধব কহয়ে গোঠে কানন মাহে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির
১৮৫৯-পদসংখ্যায় হুবহু একইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি।
সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথা রাগ॥

কানুক গোঠ গমন হেরি রাই।
বিরহে বেয়াকুল নিরজনে যাই॥
তহিঁ মুখরা সখি সঞে উপনীত।
রাইক মুখ হেরি গদগদ চীত॥
সো কহে কাহে বিলপসি অনুরাগে।
হাম মিলায়ব তোহে কানুক আগে॥
ধনি কহে এক দিন হেরিলুঁ তাহে।
উদ্ধব কহয়ে গোঠে কানন মাহে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

কানুক গোঠে গমন হেরি রাই।
বিরহে বেয়াকুল নিরজনে যাই॥
তহিঁ মুখরা সখী সঞে উপনীত।
রাইক মুখ হেরি গদ গদ চিত॥
সো কহে কাঁহে বিলপসি অনুরাগে।
হাম মিলাওব, তোহে কানুক আগে॥
ধনি কহে এক দিন হেরিনু তাহে।
উদ্ধব কহয়ে গোঠে কানন মাহে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা
উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

কানুক গোঠ গমন হেরি রাই।
বিরহে বেয়াকুল নিরজনে যাই॥
তহিঁ মুখরা সখি সঞে উপনীত।
রাইক মুখ হেরি গদগদ চীত॥
সো কহে কাহে বিলপসি অনুরাগে।
হাম মিলায়ব তোহে কানুক আগে॥
ধনি কহে এক বার হেরব তাহে।
উদ্ধব কহয়ে গোঠে কানন মাহে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কহিতে কহিতে এ সব কথা
কবি উদ্ধব দাস                
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড,
৩য় শাখা ২৫শপল্লব, দান-লীলা, ১৩৫১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
      
॥ সুহই॥

কহিতে কহিতে এ সব কথা।
দ্বিগুণ ভৈগেল অন্তরে বেথা॥
রূপের লাবণি অসীম গুণে।
সোঙরি ধৈরজ না ধরে মনে॥
পুন পুন গোঠ-গমন লীলা।
কহিতে নয়ন নীরে ভরিলা॥
সখীগণ কহে প্রবোধ-বাণী।
হেরিয়া উদ্ধব আকুল প্রাণী॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির
১৮৬১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র
রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। 
॥ সুহই॥

কহিতে কহিতে এ সব কথা।
দ্বিগুণ ভৈগেল অন্তরে বেথা॥
রূপের লাবণি অসীম গুণে।
সোঙরি ধৈরজ না ধরে মনে॥
পুন পুন গোঠে-গমন লীলা।
কহিতে নয়ন নীরে ভরিলা॥
সখীগণ কহে প্রবোধ-বাণী।
হেরিয়া উদ্ধব আকুল প্রাণী॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

কহিতে কহিতে এ সব কথা।
দ্বিগুণ ভৈ গেল অন্তরে বেথা॥
রূপের লাবণি অসীম গুণে।
সোঙরি ধৈরয না ধরে মনে॥
পুন পুন গোঠে গমন-লীলা।
কহিতে নয়ন-নীরে ভরিলা॥
সখীগণ কহে প্রবোধ-বাণী।
হেরিয়া উদ্ধব আকুল প্রাণী॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা
উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

কহিতে কহিতে এ সব কথা।
দ্বিগুণ ভৈগেল অন্তরে বেথা॥
রূপের লাবণি অসীম গুণে।
সোঙরি ধৈরজ না ধরে মনে॥
পুন পুন গোঠগমন লীলা।
কহিতে নয়ন নীরে ভরিলা॥
সখীগণ কহে প্রবোধবাণী।
হেরিয়া উদ্ধব আকুল প্রাণী॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মুখরার সঙ্গে রাই সখীগণ সনে
মথুরার বিকে হইতে রাধা ললিতার সনে
মুখরা বচনে রাই সখীগণ সনে
কবি উদ্ধব দাস                
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড,
৩য় শাখা ২৬শপল্লব, নৌকা-বিলাস, ১৪২৩-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পুনশ্চ দিনান্তে।        
॥ মল্লার॥

মুখরার সঙ্গে রাই সখীগণ সনে।
যমুনা সাঁতার দেখি ভাবে মনে মনে॥
ডাক দিয়া বলে নায়্যা না আন ঘাটে।
আমরা হইব পার বেলা সব টুটে॥
দেখিয়া নাগর-রাজ জীর্ণ তরি লৈয়া।
হাসিয়া কহয়ে কথা কাণ্ডারী হইয়া॥
কি দিবে আমারে কহ কতেক বেতন।
একে একে পার করিব যত জন॥
রাই কহে যাহা চাও তাহা আমরা দিব।
কাণ্ডারী কহয়ে হিয়ার রতন লইব॥
সখী সঞে নৌকায় চড়িল বিনোদিনী।
তরঙ্গ বাড়িল তা জীর্ণ তরিখানি॥
তরঙ্গের রঙ্গে নৌকা ডুবু ডুবু করে।
হেরি সব সহচরী কাঁপয়ে অন্তরে॥
তরঙ্গ দেখিয়া থরহরি কাঁপে রাই।
কোলে করি বায় নৌকা কাণ্ডারী কানাই॥
রাই কোলে করি নাগর হরষিত চিতে।
এ পার হইল নৌকা দেখিতে দেখিতে॥
দুহুঁ অঙ্গ পরশিতে দুহুঁ প্রেমে ভাসে।
নৌকা-বিলাস কহে উদ্ধবদাসে॥

ই পদটি, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত
এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মথুরার বিকে হইতে রাধা ললিতার সনে। যমুনা পাথার দেখি ভাবে মনে
মনে॥ ডাক দিয়ে কহে নেয়ে লা আন ঘাটে। আমরা হইব পার বেলা সব
টুটে॥ শুনিঞে নাগররাজ জীর্ণ তরী লঞে। আসি কহে কথা কাণ্ডারী
হইঞে॥ কি দিবে আমারে কহ কতেক বেতন। একে একে পার করিব
যত জন॥ রাই কহে যাহা চাহ তাই আমরা দিব। হাসিঞে কহয়ে হরি
আলিঙ্গন নিব॥ দুজন না হয় পার চাপ একজন। একে একে পার হইলা
যত গোপীগণ॥ সব শেষে নৌকায় চড়িলা বিনোদিনী। ঢেউ বাড়িল তাহে
জীর্ণ তরীখানি॥ তরঙ্গের রঙ্গে নৌকা ডুবু ডুবু করে। হেরি সব ব্রজগোপী
পড়িলা ফাঁপরে॥ তরঙ্গ দেখিঞে থর থরি কাঁপে রাই। কোলে করিয়া বয়
কাণ্ডারী কানাই॥ রাই কোলে করি নাগর যমুনা পশিতে। পার হইলা
শ্যাম আনন্দিত চিতে॥ দুহুঁ অঙ্গ পরশিতে দুহুঁ প্রেমে ভাসে। নৌকা
বিলাস কহে উদ্ধব দাসে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মল্লার॥

মুখরা বচনে রাই সখীগণ সনে।
যমুনা সাঁতার দেখি ভাবে মনে মনে॥
ডাক দিয়া বলে নাইয়া না আন ঘাটে।
আমরা হইব পার বেলা সব টুটে॥
দেখিয়া নাগর রাজ জীর্ণ তরি লৈয়া।
হাসিয়া কহয়ে কথা কাণ্ডারী হইয়া॥
কি দিবে আমারে কহ কতেক বেতন।
একে একে পার করিব যত জন॥
রাই কহে যাহা চাও তাহা আমরা দিব।
কাণ্ডারী কহয়ে হিয়ার রতন লইব॥
সখী সনে নৌকায় চড়িল বিনোদিনী।
তরঙ্গ বাড়িয়া যায় জীর্ণ তরিখানি॥
তরঙ্গের রঙ্গে নৌকা ডুবু ডুবু করে।
হেরি সব সহচরী কাঁপয়ে অন্তরে॥
তরঙ্গ দেখিয়া থরহরি কাঁপে রাই।
কোলে করি বায় নৌকা কাণ্ডারী কানাই॥
রাই কোলে করি নাগর হরষিত চিতে।
এ পার হইল নৌকা দেখিতে দেখিতে॥
দুহুঁ অঙ্গ পরশিতে দুহুঁ প্রেমে ভাসে।
নৌকা বিলাস কহে উদ্ধবদাসে॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি নিমানন্দ দাস
সম্পাদিত “পদরসসার” সংকলনের পদ।

নৌকা-বিলাস
॥ মল্লার॥

মুখরা রাই ধনী সখীগণ সনে।
যমুনা সাঁতার দেখি ভাবে মনে মনে॥
ডাক দিয়া বোলে সভে নাও আন ঘাটে।
আমরা হইব পার বেলা সব টুটে॥
দেখিয়া নাগর-রাজ জীর্ণ তরি লৈয়া।
হাসিয়া কহয়ে কথা কাণ্ডারী হইয়া॥
কি দিবে আমারে কহ কতেক বেতন।
একে একে পার করি রহ যত জন॥
রাই কহে যাহা চাও তাহা আমরা দিব।
কাণ্ডারী কহয়ে হিয়ার রতন লইব॥
সখী সনে নৌকায় চড়িল বিনোদিনী।
তরঙ্গ বাড়িল তাহে জীর্ণ তরি খানি॥
তরঙ্গের রঙ্গে নৌকা ডুবু ডুবু করে।
হেরি সব সহচরী কাঁপয়ে অন্তরে॥
তরঙ্গ দেখিয়া থরহরি কাঁপে রাই।
কোলে করি বায় নৌকা কাণ্ডারী কানাই॥
রাই কোলে করি নাগর হরষিত-চিতে।
ও পার হইল নৌকা দেখিতে দেখিতে॥
দুহুঁ অঙ্গ পরশিতে দুহুঁ প্রেমে ভাসে।
নৌকা-বিলাস কহে উদ্ধব দাসে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা
উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে।

নৌকাবিলাস
॥ মল্লার॥

মুখরার সঙ্গে রাই সখীগণ সনে।
যমুনা সাঁতার দেখি ভাবে মনে মনে॥
ডাক দিয়া বলে নায়্যা ন আন ঘাটে।
আমরা হইব পার বেলা সব টুটে॥
দেখিয়া নাগররাজ জীর্ণ তরি লৈয়া।
হাসিয়া কহয়ে কথা কাণ্ডারী হইয়া॥
কি দিবে আমারে কহ কতেক বেতন।
একে একে পার করিব যত জন॥
রাই কহে যাহা চাও তাহা আমরা দিব।
কাণ্ডারী কহয়ে হিয়ার রতন লইব॥
সখী সঞে নৌকায় চড়িল বিনোদিনী।
তরঙ্গ বাড়িল তায় জীর্ণ তরিখানি॥
তরঙ্গের রঙ্গে নৌকা ডুবু ডুবু করে।
হেরি সব সহচরী কাঁপয়ে অন্তরে॥
তরঙ্গ দেখিয়া থরহরি কাঁপে রাই।
কোলে করি বায় নৌকা কাণ্ডারী কানাই॥
রাই কোলে করি নাগর হরষিত চিতে।
এ পার হইল নৌকা দেখিতে দেখিতে॥
দুহুঁ অঙ্গ পরশিতে দুহুঁ প্রেমে ভাসে।
নৌকাবিলাস কহে উদ্ধবদাসে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বৃষভানু কুমারি নন্দকুমার
কবি উদ্ধব দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২৭শপল্লব,
হোরি-লীলা, ১৪৩৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ জয়জয়ন্তী॥

বৃষভানু কুমারি নন্দকুমার।
হোরিক রঙ্গে                  অঙ্গে অরুণাম্বর
মন আনন্দ অপার॥
নিরখত বয়ন                নয়ন-পিচকারিত
প্রেম-গুলাব মনহি মন লাগ।
দুহুঁ অঙ্গ-পরিমল              চুয়া চন্দন ফাগু-
রঙ্গ তহিঁ নব অনুরাগ॥
খেলত তনু মন              জোরি ভোরি দুহুঁ
কতয়ে ভঙ্গি রস-ভাতি।
তনু তনু সরস              পরশে মন মাতল
দুহুঁ পর দুহুঁ পড়ূ মাতি॥
ব্রজ-বনিতা যত                রীঝি রিঝায়ত
রস-গারি মৃদু ভাষ।
শ্রম-জল-কলেবর              হেরিয়া চামর
ঢুলায়ত উদ্ধবদাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ১৯৯০-পদসংখ্যায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর
দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ জয়জয়ন্তী॥

বৃষভানু কুমারি নন্দকুমার।
হোরিক রঙ্গে                  অঙ্গে অরুণাম্বর
মন আনন্দ অপার॥
নিরখত বয়ন                নয়ন-পিচকারিত
প্রেম-গুলাব মনহি মন লাগ।
দুহুঁ অঙ্গ-পরিমল             চুয়া চন্দন ফাগু-
রঙ্গ তহিঁ নব অনুরাগ॥
খেলত তনু মন              জোরি ভোরি দুহুঁ
কতয়ে ভঙ্গি রস-ভাতি।
তনু তনু সরস              পরশে মন মাতল
দুহুঁ পর দুহুঁ পড়ূ মাতি॥
ব্রজ-বনিতা যত              রিঝিকি রিঝায়ত
রস-গারি মৃদু মৃদু ভাষ।
শ্রম-জল-কলেবর                হেরিয়া চামর
ঢুলায়ত উদ্ধবদাস॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার,
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী জয়জয়ন্তী তালাভ্যাং॥

বৃষভানু কুমারী নন্দকুমার।
হোরি রঙ্গে অঙ্গে অরুণাম্বর মলয়ানন্দ অপার॥
নিরখত বয়ন নয়ন পিচকারি প্রেম গোলাপ মনহি মন পাগ।
দোহু অঙ্গ পরিমল চুয়া চন্দন ফাগু রঙ্গ তহি নব অনুরাগ॥
খেলত তনুমন জোরি বিভোরি দোহু কতএ রঙ্গ রস ভাঁতি।
তনু তনু সরস পরস মন মাতল দোহ পর দোহ পড়ূ মাতি॥
ব্রজবনিতা জত ধ্রঝি ধ্রিঝায়ত রস গারি মৃদু ভাষ।
শ্রম ল কলেবর হেরিয়া চামর ঢুলায়ত উদ্ধবদাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ জয়জয়ন্তী॥

বৃষভানু কুমারি নন্দকুমার।
হোরিক সঙ্গে,                অঙ্গে অরুণাম্বর,
মন আনন্দ অপার॥
নিরখত বয়ন,                  নয়ন পিচকারি,
প্রেম-গোলাব মনহি মন লাগ।
দুহুঁ অঙ্গ পরিমল,             চুয়া চন্দন ফাগু,
রঙ্গ তহিঁ নব অনুরাগ॥
খেলত তনু মন,             জোরি ভোরি দুহুঁ,
কতয়ে রঙ্গ রস-ভাতি।
তনু তনু সরস,              পরশে মন মাতল,
দুহুঁ পর দুহুঁ পড়ু মাতি॥
ব্রজ-বনিতা যত,               রিঝি রিঝায়ত,
রস-গারি মৃদুভাষ।
শ্রম-জল-কলেবর               হেরিয়া চামর,
ঢুলায়ত উদ্ধবদাস॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, বসন্তলীলা, ৬৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বসন্ত জয়জয়ন্তী - বড় দুঠুকী॥

বৃষভানু কুমারী নন্দকুমার।
হোরিক রঙ্গে                  অঙ্গে অরুণাম্বর
মন আনন্দ অপার॥
নিরখত বয়ন                   নয়ন পিচকারি
প্রেম গোলাল মনহি মন লাগ।
দুহুঁ অঙ্গ পরিমল                    চুয়া চন্দন
ফাগু রঙ্গ তহি নব অনুরাগ॥
খেলত তনু মন              জোড়ি ভোরি দুহুঁ
কতয়ে ভঙ্গী রস ভাতি।
তনু তনু সরসে              পরশে মন মাতল
দুহুঁ পর দুহুঁ পড়ূ মাতি॥
ব্রজ বনিতা যত,                রিঝি রিঝায়ত,
রসগারি মৃদুভাষ।
প্রেম--জলে কলেবর              হেরিয়ে চামর
ঢুলায়ত উদ্ধবদাস॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন পদাবলী”, ৩৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হোলীলীলা
॥ বসন্ত জয়জয়ন্তী - বড় দুঠুকী॥

বৃষভানু-কুমারী নন্দকুমার।
হোরিক রঙ্গে                অঙ্গে অরুণাম্বর
মন আনন্দ অপার॥
নিরখত বয়ন                 নয়ন-পিচকারি
প্রেম-গুলাল মনহি মন লাগ।
দুহুঁ অঙ্গ-পরিমল           চুয়া চন্দন ফাগু-
রঙ্গ তহিঁ নব অনুরাগ॥
খেলত তনু মন            জোড়ি ভোরি দুহুঁ
কতয়ে ভঙ্গী রস-ভাতি।
তনু তনু সরস             পরশে মন মাতল
দুহুঁ পর দুহুঁ পড়ূ মাতি॥
ব্রজবনিতা যত               রিঝি রিঝায়ত,
রস-গারি মৃদু ভাষ।
প্রেমজল-কলেবর                হেরিয়ে চামর
ঢুলায়ত উদ্ধব দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২)
এর নামে দেওয়া রয়েছে।

হোরিলীলা
॥ জয়জয়ন্তী॥

বৃষভানুকুমারি নন্দকুমার।
হোরিক রঙ্গে                  অঙ্গে অরুণাম্বর
মন আনন্দ অপার॥
নিরখত বয়ন                নয়ন পিচকারিত
প্রেমগুলাব মনহি মন লাগ।
দুহুঁ অঙ্গপরিমল              চুয়া চন্দন ফাগু-
রঙ্গ তহিঁ নব অনুরাগ॥
খেলত তনু মন              জোরি ভোরি দুহুঁ
কতয়ে ভঙ্গি রস-ভাতি।
তনু তনু সরস              পরশে মন মাতল
দুহুঁ পর দুহুঁ পড়ূ মাতি॥
ব্রজবনিতা যত                  রীঝি রিঝায়ত
রসগারি মৃদু ভাষ।
শ্রমজলকলেবর                  হেরিয়া চামর
ঢুলায়ত উদ্ধবদাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর