| কবি উদ্ধবদাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| রীতুরাজ ব্রজ-সমাজ হোরি রঙ্গে রঙ্গিয়া একে ঋতুরাজ ব্রজ-সমাজ ঋতুরাজ ব্রজসমাজ হোরি রঙ্গে রঙ্গিয়া কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২৭শপল্লব, হোরি-লীলা, ১৪৩৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ইমন কল্যাণী॥ রীতুরাজ ব্রজ-সমাজ হোরি রঙ্গে রঙ্গিয়া॥ ধ্রু॥ নাগরি-বর হোরি-রঙ্গ- উনমত-চিত শ্যাম-সঙ্গ নাচত কত ভঙ্গিয়া ॥ ধ্রু॥ গাওত কত রস-প্রসঙ্গ বাওত কত বিণ মোচঙ্গ থৈয়া থৈ মৃদঙ্গিয়া॥ চঞ্চল গতি অতি সুরঙ্গ নিরখি ভূলে কত অনঙ্গ সঙ্গিত সব সুরঙ্গিয়া। স্বরমণ্ডল সর অভঙ্গ বিবিধ যন্ত্র জলতরঙ্গ মধুর সর উপাঙ্গিয়া॥ খেলি গুলাল অঙ্গ লাল সুন্দর বর দ্যুতি রসাল রঙ্গিণিগণ সঙ্গিয়া। ব্রজ-বধূগণ ধরত তাল গাওত পদ নন্দলাল রাই অঙ্গে অঙ্গিয়া॥ হো হো করি করত ভাষ করতালি ঘন মন উলাস জয় জয় বর ঢঙ্গিয়া। গোবিন্দ-গুণ করি প্রকাশ রচিত গীত উদ্ধব দাস হোরি রস-তরঙ্গিয়া॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ১৯৯১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ ইমন কল্যাণী॥ ঋতুরাজ ব্রজ-সমাজ হোরি রঙ্গে রঙ্গিয়া॥ ধ্রু॥ নাগরি-বর হোরি-রঙ্গ- উনমত-চিত শ্যাম-সঙ্গ নাচত কত ভঙ্গিয়া ॥ ধ্রু॥ গাওত কত রস-প্রসঙ্গ বাওত কত বিণ মোচঙ্গ থৈয়া থৈয়া মৃদঙ্গিয়া॥ চঞ্চল গতি অতি সুরঙ্গ নিরখি ভুলে কত অনঙ্গ সঙ্গিত সব সুরঙ্গিয়া। স্বরমণ্ডল সর অভঙ্গ বিবিধ যন্ত্র জলতরঙ্গ মধুর সর উপাঙ্গিয়া॥ খেলি গুলাল অঙ্গ লাল সুন্দর বর দ্যুতি রসাল রঙ্গিণিগণ সঙ্গিয়া। ব্রজ-বধূগণ ধরত তাল গাওত পদ নন্দলাল রাই অঙ্গেত অঙ্গিয়া॥ হো হো করি করত ভাষ করতালি ভালি মন উলাস জয় জয় বর ভঙ্গিয়া। গোবিন্দ-গুণ করি প্রকাশ রচিত গীত উদ্ধব দাস হোরি রসেতে রঙ্গিয়া॥ এই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর আনন্দ সংস্করণ, ২০০৬, ২৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ইমন কল্যাণী॥ ঋতুরাজ ব্রজসমাজ . হোরি রঙ্গে রঙ্গিয়া॥ ধ্রু॥ নাগরবর হোরি রঙ্গ উনমত চিত শ্যামসঙ্গ . নাচত কত ভঙ্গিয়া॥ গাওত কত রস প্রসঙ্গ, বাওত কত বীণ মোচঙ্গ, . থৈয়া থৈ মৃদঙ্গিয়া॥ চঞ্চল গতি অতি সুরঙ্গ, নিরখি ভূলে কত অনঙ্গ, . গীত সরস রঙ্গিয়া। স্বরমণ্ডল শর অভঙ্গ, বিবিধ যন্ত্র জলতরঙ্গ, . মধুর স্বর উপাঙ্গিয়া॥ খেলি গুলাল অঙ্গ লাল, অতি সুন্দর দ্যুতি রসাল, . রঙ্গিণীগণ সঙ্গিয়া। ব্রজবধুগণ ধরত তাল গাওত পদ নন্দলাল . রাই অঙ্গে অঙ্গিয়া॥ হো হো করি করত ভাষ, করতালি ঘন মন উল্লাস, . জয় জয় বর ঢঙ্গিয়া। গোবিন্দগুণ করি প্রকাশ, রচিত গীত উদ্ধবদাস, . হোরি রস তরঙ্গিয়া॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, বসন্তলীলা, ৬৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বসন্তবাহার কল্যাণ - জপতাল॥ একে ঋতুরাজ, ব্রজ-সমাজ, হোরি রঙ্গে রঙ্গিয়া॥ ধ্রু॥ নাগরীবর হোরি রঙ্গে, উনমত চিত শ্যাম সঙ্গে নাচত কত ভঙ্গিয়া॥ গাওত কত রসপ্রসঙ্গ, বায়ত কত বীণামুচঙ্গ থৈয়া থৈয়া মৃদঙ্গিয়া॥ চঞ্চল গতি অতি সুরঙ্গ, নিরখি ভূলে কত অনঙ্গ, সঙ্গীত রস সুরঙ্গিয়া। স্বরমণ্ডল স্বর অভঙ্গ, বিবিধ যন্ত্র জল-তরঙ্গ মধুর স্বর উপাঙ্গিয়া॥ খেলি গোলাল অঙ্গ লাল, সুন্দর-বর দ্যুতি রসাল, রঙ্গিণীগণ সঙ্গিয়া। ব্রজবধূগণ ধরত তাল, গাওত পদ নন্দলাল, রাই অঙ্গে অঙ্গিয়া॥ হোহোহোরি করত ভাষ, করতালি ঘন মন উল্লাস, জয় জয় বর ঢঙ্গিয়া। গোবিন্দ গুণ করি প্রকাশ, রচিত গীত উদ্ধব দাস, হোরি রস-তরঙ্গিয়া॥ এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পদাবলী”, ৩৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কল্যাণ বসন্ত - বৃহৎ জপতাল॥ ঋতু-রাজ ব্রজ-সমাজ হোরি রঙ্গে রঙ্গিয়া॥ নাগরীবর হোরি রঙ্গে উনমত-চিত শ্যাম সঙ্গে নাচত কত ভঙ্গিয়া॥ ধ্রু॥ গাওত কত রসপ্রসঙ্গ বাওত কত বীণ মোচঙ্গ থৈয়া থৈয়া মৃদঙ্গিয়া॥ চঞ্চল গতি অতি সুরঙ্গ নিরখি ভূলে কত অনঙ্গ সঙ্গীত রসতরঙ্গিয়া। স্বরমণ্ডল সর অভঙ্গ বিবিধ যন্ত্র জলতরঙ্গ মধুর স্বর উপাঙ্গিয়া॥ সখিগণ মেলি ধরত তাল গাওত পদ নন্দলাল রাই অঙ্গে অঙ্গিয়া॥ খেলি গুলাল অঙ্গ লাল সুন্দরবর দ্যুতি রসাল রঙ্গিণীগণ সঙ্গিয়া। হো হো করি করত ভাষ করতালি ঘন মন উলাস জয় জয় বর ঢঙ্গিয়া। গোবিন্দগুণ করি প্রকাশ রচিত গীত উদ্ধবদাস হোরি রসতরঙ্গিয়া॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। হোরিলীলা ॥ ইমন কল্যাণী॥ রীতুরাজ ব্রজসমাজ হোরি রঙ্গে রঙ্গিয়া॥ ধ্রু॥ নাগরিবর হোরিরঙ্গ- উনমতচিত শ্যামসঙ্গ নাচত কত ভঙ্গিয়া॥ ধ্রু॥ গাওত কত রসপ্রসঙ্গ বাওত কত বিণ মোচঙ্গ থৈয়া থৈ মৃদঙ্গিয়া॥ চঞ্চল গতি অতি সুরঙ্গ নিরখি ভূলে কত অনঙ্গ সঙ্গতি সব সুরঙ্গিয়া। স্বরমণ্ডল সর অভঙ্গ বিবিধ যন্ত্র জলতরঙ্গ মধুর সর উপাঙ্গিয়া॥ খেলি গুলাল অঙ্গ লাল সুন্দর বর দ্যুতি রসাল রঙ্গিণিগণ সঙ্গিয়া। ব্রজবধূগণ ধরত তাল গাওত পদ নন্দলাল রাই অঙ্গে অঙ্গিয়া॥ হো হো করি করত ভাষ করতালি ঘন মন উলাস জয় জয় বর ঢঙ্গিয়া। গোবিন্দগুণ করি প্রকাশ রচিত গীত উদ্ধব দাস হোরি রসতরঙ্গিয়া॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| খেলত রাধা শ্যাম রঙ্গ ভরি কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২৭শপল্লব, হোরি-লীলা, ১৪৪৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ খেলত রাধা শ্যাম রঙ্গ ভরি বৃন্দা-বিপিন সমাজ। চুয়া চন্দন বন্দন কুঙ্কুম রঙ্গ মুটকি ভরি সাজ॥ বৈঠল শ্যাম সঙ্গে মধুমঙ্গল সুবল সখাদিক সাথে। রাধা ললিতা বিশাখা আদি সহচরি পিচকারি করি নিজ হাতে॥ কানুক পিচকারি যবহি বরিখত একহি শত শত ধারে। সহচরি মেলি রাই যব ডারত কত কত শত এক বারে॥ বহুবিধ রঙ্গ অঙ্গ সব ভীগত আঁচরে মোছত মুখ। জিতলুঁ জিতলুঁ ভাষি হাসি দেই করতালি ক্ষণে ক্ষণে বাঢ়ত সূখ॥ গাওত বাওত আবির উড়ায়ত কোই নাচয়ে মনরঙ্গে। ডম্ফ রবাব সবহুঁ মেলি সুস্বর উদ্ধব দাস তছু সঙ্গে॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ১৯৯৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ ধানশী॥ খেলত রাধামাধব শ্যাম রঙ্গে ভোরি বৃন্দা-বিপিন সমাজ। চুয়া চন্দন বন্দন কুঙ্কুম রঙ্গ মুটকি ভরি সাজ॥ বৈঠল শ্যাম সঙ্গে মধুমঙ্গল সুবল সখাদিক সাথে। রাধা ললিতা আদি বিশাখা সহচরি পিচকারি করি নিজ হাতে॥ কানুক পিচকারি যবহুঁ বরিখত একহি শত শত ধারে। সহচরি মেলি রাই যব ডারত কত কত শত এক বারে॥ বহুবিধ রঙ্গ অঙ্গ সব ভীগত আঁচরে মোছত দুখ। জিতলুঁ জিতলুঁ ভাষি হাসি দেই করতালি ক্ষণে ক্ষণে বাঢ়ত সুখ॥ গাওত বাওত আবির উড়ায়ত কোই নাচয়ে মনরঙ্গে। ডম্ফ রবাব সবহুঁ মেলি সুস্বর উদ্ধব দাস তছু সঙ্গে॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী ধানশী তাল পরিমিত॥ খেলত রাধাশ্যাম রঙ্গ ভরি বৃন্দাবিপিন সমাজ। চুয়া চন্দন বন্ধন কুঙ্কুম রঙ্গ মুটকি ভরি সাজ॥ বৈঠল শ্যাম সঙ্গে মধুমঙ্গল সুবল সখাদিক সঙ্গে। বিশাখাদি সহচরী রাধা ললিতা পিচকারি দেই রঙ্গে॥ কানুক পিচকারি জব বরিখত এতকহি শতশত ধারে। সহচরী মেলি রাই জব ডারত কতকত শতশত একবারে॥ বহুঁবিধ রঙ্গ অঙ্গ সব ভিগত আচরে মুছত মুখ। জীতনু ভাষি হাসি দেই করতালি খেনেখেনে বাড়ত সুখ॥ গাওত বাওত আবীর উড়াওত কোই নাচত মনরঙ্গে। ডম্ফ রবাব সবহুঁ মে সুলভ উদ্ধবদাস তছু সঙ্গে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। হোরিলীলা ॥ ধানশী॥ খেলত রাধা শ্যাম রঙ্গ ভরি বৃন্দাবিপিন সমাজ। চুয়া চন্দন বন্দন কুঙ্কুম রঙ্গ মুটকি ভরি সাজ॥ বৈঠল শ্যাম সঙ্গে মধুমঙ্গল সুবল সখাদিক সাথে। রাধা ললিতা বিশাখা আদি সহচরি পিচকারি করি নিজ হাতে॥ কানুক পিচকারি যবহি বরিখত একহি শত শত ধারে। সহচরি মেলি রাই যব ডারত কত কত শত এক বারে॥ বহুবিধ রঙ্গ অঙ্গ সব ভীগত আঁচরে মোছত মুখ। জিতলুঁ জিতলুঁ ভাষি হাসি দেই করতালি ক্ষণে ক্ষণে বাঢ়ত সুখ॥ গাওত বাওত আবির উড়ায়ত কোই নাচয়ে মনরঙ্গে। ডম্ফ রবাব সবহুঁ মেলি সুস্বর উদ্ধব দাস তছু সঙ্গে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নাগরি নাগর অরুণ বসন ধর নাগরী নাগর অরুণ বসন পর কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২৭শপল্লব, হোরি-লীলা, ১৪৪৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ নাগরি নাগর অরুণ বসন ধর শ্রম-ভরে ঝর ঝর ঘাম। দুহু মুখ-ইন্দু বিন্দু বিন্দু চূয়ত অরুণিত মুকুতা-দাম॥ দুহুঁ মন আনন্দ-পুঞ্জে। বহুবিধ খেলি হেলি দুহুঁ দুহুঁ তনু বৈঠল নিরজন কুঞ্জে॥ ধ্রু॥ রতন-সিংহাসন আসন মণিময় ফুলচয়-রচিত সুঠান। সকল সখীগণ করতহিঁ সেবন সময়োচিত যত জান॥ বারি ঝারি ভরি দেই গুণমঞ্জরি কোন সখি চামর ঢুলায়। সুরঙ্গ অধরে কোই তাম্বুল যোগায়ই উদ্ধব দাস বলি যায়॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ২০০০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ কামোদ॥ নাগরি নাগর অরুণ বসন ধর শ্রম-ভরে ঝর ঝর ঘাম। দুহু মুখ-ইন্দু বিন্দু বিন্দু চোয়ত অরুণিত মুকুতার দাম॥ দুহুঁ মন আনন্দ-পুঞ্জে। বহুবিধ খেলি হেলি দুহুঁ দুহুঁ তনু বৈঠল নিরজন কুঞ্জে॥ ধ্রু॥ রতন-সিংহাসন আসন মণিময় ফুলচয়-রচিত সুঠান। সকল সখীগণ করতহিঁ সেবন সময়োচিত যত জান॥ বারি ঝারি ভরি দেই গুণমঞ্জরি কোন সখি চামর ঢুলায়। সুরঙ্গ অধরে কোই তাম্বুল যোগায়ই উদ্ধব দাস বলি যায়॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী কামোদ॥ গোড়তাল অন্তে ছুট॥ নাগরী নাগর অরুণ বসন বড় শ্রম ভরে ঝর ঝর ঘাম। দুহুঁ মুখ ইন্দু বিন্দু বিন্দু চুয়ত অরুণিত মুকুতার দাম॥ দোহ মন আনন্দ পুঞ্জ। বহুঁবিধ কেলি হেলি দোহ দোহ তনু বৈঠল নিরজন কুঞ্জে॥ রতন সিংহাসন আসন মণিময় ফুলচয় রচিত সুঠান। সকল সখীগণ করতহি সেবন সময় উচিত জত জান॥ ঝারি ঝারি ভরি দেই গুণমঞ্জরি কোন সখী চামর ঢুলায়। সুরঙ্গ অধরে কোই তাম্বুল জোগায়ই উদ্ধবদাস তহি বলি যাই॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ নাগরী নাগর, অরুণ বসন পর, শ্রমভরে ঝর ঝর ঘাম। দুহু মুখ-ইন্দু, বিন্দু বিন্দু চুয়ত, অরুণিত মুকুতার দাম॥ দুহুঁ মন আনন্দ পুঞ্জে। বহুবিধ খেলি, হেলি দুহুঁ দুহুঁ তনু, বৈঠল নিরজন কুঞ্জে॥ রতন-সিংহাসন, আসন মণিময়, ফুলচয়-রচিত সুঠান। সকল সখীগণ, করতহিঁ সেবন, সময়োচিত যত জন॥ বারি ঝারী ভর, দেই গুণমঞ্জরী, কোন সখী চামর চলায়। সুরঙ্গ অধরে কই, তাম্বুল যোগায়ই, উদ্ধবদাস বলি যায়॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। হোরিলীলা ॥ কামোদ॥ নাগরি নাগর অরুণ বসন ধর শ্রমভরে ঝর ঝর ঘাম। দুহু মুখইন্দু বিন্দু বিন্দু চূয়ত অরুণিত মুকুতা-দাম॥ দুহুঁ মন আনন্দপুঞ্জে। বহুবিধ খেলি হেলি দুহুঁ দুহুঁ তনু বৈঠল নিরজন কুঞ্জে॥ ধ্রু॥ রতন সিংহাসন আসন মণিময় ফুলচয় রচিত সুঠান। সকল সখীগণ করতহিঁ সেবন সময়োচিত যত জান॥ বারি ঝারি ভরি দেই গুণমঞ্জরি কোন সখি চামর ঢুলায়। সুরঙ্গ অধরে কোই তাম্বুল যোগায়ই উদ্ধব দাস বলি যায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শুন শুন সখি তোহারে কহিয়ে সুন সুন সখী তোহারে কহিএ শুন শুন সখি তোমারে কহিয়ে কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২৭শপল্লব, হোরি-রসোদ্ গার, ১৪৫৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ শুন শুন সখি তোহারে কহিয়ে আজুক রভস-কেলি। পিয়ার সহিতে খেলিতে খেলিতে ভৈ গেলুঁ একই মেলি॥ আবির লইয়া নয়ানে দেওল করে কচালিয়ে আঁখি। হেনই সময়ে বয়ান চুম্বয়ে তারে কেহুঁ নাহি দেখি॥ পিচকারি যেন বরিখয়ে ঘন অরুণ বরণ নীর। পুরুষ কি নারী চিনিতে না পারি ঐছন ভেল গভীর॥ হেন বেলে পিয়া নিয়ড়ে আসিয়া হাসিয়া কয়ল কোর। এ উদ্ধব-গীতি পিরিতি-আরতি বন্ধুয়া জানয়ে তোর॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ২০০৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ শ্রীরাগ॥ শুন শুন সখি তোহারে কহিয়ে আজুক রহস-কেলি। পিয়ার সহিতে খেলিতে খেলিতে ভৈ গেলুঁ একই মেলি॥ আবির লইয়া নয়ানে দেওল করে কচালিয়ে আঁখি। হেনই সময়ে বয়ানে চুম্বয়ে তারে কেহুঁ নহে দেখি॥ পিচকারি যেন বরিখয়ে ঘন অরুণ বরণ নীর। পুরুষ কি নারী চিনিতে না পারি ঐছন ভেল গভীর॥ হেন বেন পিয়া নিয়ড়ে আসিয়া হাসিয়া কয়ল কোরে। এ উদ্ধব-গীতি পিরিতি-আরতি বন্ধুয়া জানয়ে তোরে॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী শ্রীরাগ॥ তাল সমুচিত॥ সুন সুন সখী তোহারে কহিএ আজুক রভস কেলি। প্রিয়ার সহিত খেলিতে খেলিতে ভৈ গেল একই মেলি॥ আবীর লইয়া নয়ানে দেওল করে কচালিআ আঁখি। হেনই সমএ বয়ন চুম্বই তারে কেহো নাহি দেখি॥ পীচকারি জন বরিখএ ঘন অরুণ বরণ নীর। পুরুষ কি নারী চিনিতে না পারি ঐছন ভেল গভীর॥ হেন বেলে প্রিএ নিয়ড়ে আসিএ হাসিএ কয়ল কোর। উদ্ধবগীতি পিরিতি আরতি বন্ধুয়া জানএ তোর॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ শুন শুন সখি, তোমারে কহিয়ে, আজুক রভস-কেলি। পিয়ার সহিতে, খেলিতে খেলিতে, ভৈ গেল একই মেলি॥ আবির লইয়া, নয়ানে দেওল, করে কচালিয়ে আঁখি। হেনই সময়ে, বয়ান চুম্বয়ে, তারে কেহুঁ নাহি দেখি॥ পিচকারি যেন, বরিখয়ে ঘন, অরুণ বরণ নীর। পুরুষ কি নারী, চিনিতে না পারি, ঐছন ভেল গভীর॥ হেন বেলে পিয়া, নিয়ড়ে আসিয়া, হাসিয়া কয়ল কোর। এ উদ্ধব-গীতি, পিরীতি আরতি, বন্ধুয়া জানয়ে তোর॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, বসন্তলীলা, ৬৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কৌ বিভাস - দুঠুকী॥ শুন শুন সখি তোমারে কহিয়ে আজুক রভস কেলি। পিয়ার সহিত খেলিতে খেলিতে ভৈ গেল একই মেলি॥ আবির লইয়া নয়নে দেয়ল করে কচালিয়ে আঁখি। হেনই সময়ে বয়ান চুম্বয়ে তারে কেহ নাহি দেখি॥ পিচকারী যেন বরিখয়ে ঘন অরুণ বরণ নীর। পুরুখ নারী চিনিতে নারি ঐছন ভেল গভীর॥ হেন বেলে পিয়া নিকটে আসিয়া হাসিয়া কয়ল কোর। এ উদ্ধব গীতি পীরিতি আরতি বন্ধুয়া জানয়ে তোর॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। হোরি রসোদ্গার ॥ শ্রীরাগ॥ শুন শুন সখি তোহারে কহিয়ে আজুক রভস কেলি। পিয়ার সহিতে খেলিতে খেলিতে ভৈগেলুঁ একই মেলি॥ আবির লইয়া নয়ানে দেওল করে কচালিয়ে আঁখি। হেনই সময়ে বয়ান চুম্বয়ে তারে কেহুঁ নাহি দেখি॥ পিচকারি যেন বরিখয়ে ঘন অরুণ বরণ নীর। পুরুষ কি নারী চিনিতে না পারি ঐছন ভেল গভীর॥ হেন বেলে পিয়া নিয়ড়ে আসিয়া হাসিয়া কয়ল কোর। এ উদ্ধবগীতি পিরিতি-আরতি বন্ধুয়া জানয়ে তোর॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আবিরে অরুণ সব বৃন্দাবন আবিরে অবশ সব বৃন্দাবন কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২৭শপল্লব, হোরি-রসোদ্গার, ১৪৫৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ আবিরে অরুণ সব বৃন্দাবন উড়িয়া গগন ছায়। বন্ধুয়া আমার হিয়ার মাঝারে কেহু না দেখিতে পায়॥ চপল নয়ন পিচকারি যেন নিরখে নয়ন মোর। নব অনুরাগ- ফাগু ভরল তনু মন করি জোর॥ শুধুই শ্যামল অঙ্গ-পরিমল চন্দন চুয়াক ভাতি। মোর নাসা জনু ভ্রমরী উমতি ততহিঁ পড়ল মাতি॥ নয়নে নয়নে বয়নে বয়নে হৃদয়ে হৃদয়ে মেলি। দুহুঁ কলেবর অরুণ অম্বর ঝাঁপিয়া কয়ল কেলি॥ রসিক নাগর রসের সাগর কয়ল ঐছন কাজ। এ উদ্ধব ভণ চতুর দু জন রসবতী রস-রাজ॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ২০১১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ সিন্ধুড়া॥ আবিরে অরুণ সব বৃন্দাবন উড়িয়া গগন ছায়। বন্ধুয়া আমার হিয়ার মাঝারে কেহ না দেখিতে পায়॥ চপল নয়ন পিচকারি যেন নিরখি নয়ন মোর। নব অনুরাগ- ফাগু ভরল তনু মন করি জোর॥ শুধুই শ্যামল অঙ্গ-পরিমল চন্দন চুয়াক ভাতি। মোর নাসা জনু ভ্রমরী উমতি ততহিঁ পড়ল মাতি॥ নয়নে নয়নে বয়নে বয়নে হৃদয় হৃদয় মেলি। দুহুঁ কলেবর অরুণ অম্বর ঝাঁপিয়া কয়ল কেলি॥ রসিক নাগর রসের সাগর কয়ল ঐছন কাজ। এ উদ্ধব ভণ চতুর দু জন রসবতী রস-রাজ॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ আবিরে অবশ, সব বৃন্দাবন, উড়িয়া গগন ঝায়। বন্ধুয়া আমার, হিয়ার মাঝারে, কেহ না দেখিতে পায়॥ চপল নয়ন, পিচকারি যেন, নিরখে নয়ন মোর। নব অনুরাগ, ফাগু ভরল, তনু মন করি জোর॥ শুধুই শ্যামল, অঙ্গ-পরিমল, চন্দন চুয়াক ভাতি। মোর নাসা জনু, ভ্রমরী উমতি, ততহিঁ পড়ল মাতি॥ নয়ানে নয়ানে, বয়ানে বয়ানে, হৃদয়ে হৃদয়ে মেলি। দুহুঁ কলেবর, অরুণ অম্বর, ঝাঁপিয়া কয়ল কেলি॥ রসিক নাগর, রসের সাগর, কয়ল ঐছন কাজ। এ উদ্ধব ভণ, চতুর দুজন, রসবতী রস-রাজ॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, বসন্তলীলা, ৬৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া - একতালা॥ আবিরে অরুণ, সব বৃন্দাবন, উড়িয়া গগন ছায়। বধুঁয়া আমার, হিয়ার মাঝারে, কেহু না দেখিতে পায়॥ চপল নয়ন, পিচকারী যেন, নিরখে নয়ন মোর। নব অনুরাগ, ফাগু ভরল, তনু মন করি জোর॥ শুধুই শ্যামল, অঙ্গ-পরিমল চন্দন চূয়াক ভাতি। মোর নাসা জনু, ভ্রমরী উমতি, ততহি পড়ল মাতি॥ নয়নে নয়নে, বয়ানে বয়ানে, হৃদয়ে হৃদয়ে মেলি। দুহুঁ কলেবর, অরুণ অম্বর, ঝাঁপিয়া কয়ল কেলি॥ রসিক নাগর, রসের সাগর, কয়ল ঐছন কাজ। এ উদ্ধব ভণ, চতুর দুজন, রসবতী রসরাজ॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। হোরি রসোদ্গার ॥ সিন্ধুড়া॥ আবিরে অরুণ সব বৃন্দাবন উড়িয়া গগন ছায়। বন্ধুয়া আমার হিয়ার মাঝারে কেহু না দেখিতে পায়॥ চপল নয়ন পিচকারি যেন নিরখে নয়ন মোর। নব অনুরাগ- ফাগু ভরল তনু মন করি জোর॥ শুধুই শ্যামল অঙ্গ-পরিমল চন্দন চুয়াক ভাতি। মোর নাসা জনু ভ্রমরী উমতি ততহিঁ পড়ল মাতি॥ নয়নে নয়নে বয়নে বয়নে হৃদয়ে হৃদয়ে মেলি। দুহুঁ কলেবর অরুণ অম্বর ঝাঁপিয়া কয়ল কেলি॥ রসিক নাগর রসের সাগর কয়ল ঐছন কাজ। এ উদ্ধব ভণ চতুর দু জন রসবতী রসরাজ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাধা প্যারি সহ খেলত নন্দদুলাল মেরো রাধা প্যারী সহ খেলত নন্দদুলাল মের রাধা প্যারী সহ খেলত নন্দদুলাল কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২৭শপল্লব, পুনশ্চ হোরি-লীলা, ১৪৭১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তত্র ধামালি॥ গুর্জ্জরী॥ রাধা প্যারি সহ খেলত নন্দদুলাল। অরুণিত মরকত অরুণ হেমযুত ঐছন মুরতি রসাল॥ ধ্রু॥ অরুণাম্বর বর শোহে কলেবর অরুণ মোতি মণি-মাল। নটপটি পাগ উপরে শিখি-চন্দ্রক ওঢ়নি রঙ্গ গোলাল॥ দুহুঁ করে আবির দুহুঁ অঙ্গে ডারত পিচকা রঙ্গে পাখাল। অরুণিত যমুনা- পুলিন কুঞ্জবন অরুণিত যুবতী-জাল॥ অরুণিত তরুকুল অরুণ লতা ফল অরুণ ভ্রমরগণ ভাল। অরুণিত শারী শুক শিখি কোকিল উদ্ধব ভণিত রসাল॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ২০২৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ তত্র ধামালি॥ গুর্জ্জরী॥ রাধা প্যারি সহ খেলত নন্দদুলাল। অরুণিত মরকত অরুণিত হেমযুত ঐছন মুরতি রসাল॥ ধ্রু॥ অরুণাম্বর বর শোহে কলেবর অরুণ মোতি মণি-মাল। নটপটি পাগ উপরে শিখি-চন্দ্রিক ওঢ়নি রঙ্গ গোলাল॥ দুহুঁ করে আবির দুহুঁ অঙ্গে ডারত পিচকারি রঙ্গে পাখাল। অরুণিত যমুনা- পুলিন কুঞ্জবন অরুণিত যুবতী-জাল॥ অরুণিত তরুকুল অরুণ লতা ফল অরুণ ভ্রমরগণ ভাল। অরুণিত শারী শুক শিখি কোকিল উদ্ধব ভণিত রসাল॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগ তালো যথা॥ রাধাপ্যারি সহ খেলত নন্দদুলাল। অরুণিত মরকত অরুণ হেমযূথ ঐছন মূরতি রসাল॥ অরুণাম্বর বর সোহে কলেবর অরুণ মোতি মণিমাল। লটপট পাগ উপরে শিখীচন্দক ওঢ়নি রঙ্গ গুলাল॥ দুহুঁ করে আবীর দুহুঁ অঙ্গে ডারত পিচকা রঙ্গে পাখাল। অরুণিত যমুনাপুলিন কুঞ্জবন অরুণিত যুবতীক জাল॥ অরুণিত তরুকুল অরুণ তরুফুল অরুণ ভ্রমরগণ ভাল। অরুণিত সারি শুক শিখী কোকিল উদ্ধব ভণিত রসাল॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধামাল॥ রাধা প্যারী সহ খেলত নন্দদুলাল। অরুণিত মরকত, অরুণ হেমযুত, ঐছন মুরতি রসাল॥ অরুণাম্বর বর, শোভে কলেবর, অরুণ মোতি মণি-মাল। নটপটি পাগ, উপরে শিখি-চন্দ্রক, ওঢ়নি রঙ্গ গোলাল॥ দুহুঁ করে আবির, দুহুঁ অঙ্গে ডারত, পিচকারি রঙ্গে পাখাল। অরুণিত যমুনা,- পুলিন কুঞ্জবন, অরুণিত যুবতী-জাল॥ অরুণিত তরুকুল, অরুণ লতা ফুল, অরুণ ভ্রমরগণ ভাল। অরুণিত সারী শুক, শিখী কোকিল, উদ্ধব ভণিত রসাল॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৪২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ গুর্জ্জরী॥ রাধা প্যারি সহ খেলত নন্দ-দুলাল। অরুণিত মরকত অরুণ হেমযুত ঐছন মুরতি রসাল॥ ধ্রু॥ অরুণাম্বর বর সোহে কলেবর অরুণ মোতি মণিলাল। লটপটি পাগ উপরে শিখি চন্দ্রক উড়নী রঙ্গ গুলাল॥ দুহুঁ করে আবির দুহুঁ অঙ্গে ডারত পিচকা রঙ্গে পাখাল। অরুণিত যমুনা- পুলিন কুঞ্জবন অরুণিত যুবতী জাল॥ অরুণিত তরুকুল অরুণ লতা ফুল অরুণ ভ্রমরগণ ভাল। অরুণিত শারী শুক শিখি কোকিল উদ্ধব ভণিত রসাল॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, বসন্তলীলা, ৬৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বসন্ত - কাহারবা॥ মেরো রাধা প্যারী সহ খেলত নন্দদুলাল। অরুণিত মরকত, অরুণ হেমযুত ঐছন মূরতি রসাল॥ অরুণাম্বর বর শোহে কলেবর অরুণ মোতি মণিমাল। নটপটি পাগ উপরে শিখিচন্দ্রক উঢ়নি রঙ্গ গোলাল॥ দুহুঁ করে আবির, দুহুঁ অঙ্গে ডারত, পিচকা রঙ্গ পাখাল। অরুণিত যমুনা, পুলিন নিকুঞ্জ-বন, অরুণিত যুবতী জাল॥ অরুণিত তরুকুল, অরুণ লতাফুল, অরুণ ভ্রমরগণ ভাল। অরুণিত সারিশুক শিখি আদি কোকিল উদ্ধব ভণিত রসাল॥ এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পদাবলী”, ৩৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ গুর্জ্জরী বসন্ত - কাহারবা॥ মের রাধা প্যারী সহ খেলত নন্দদুলাল। অরুণিত মরকত অরুণিত হেমযুত ঐছন মূরতি রসাল॥ অরুণাম্বর বর শোভে কলেবর অরুণ মোতি মণিমাল। লটপটি পাগ উপরে শিখিচন্দ্রক ওঢ়নি রঙ্গ গুলাল॥ দুহুঁ করে আবীর দুহুঁ অঙ্গে ডারত পীচকা রঙ্গে পাখাল। অরুণিত যমুনা- পুলিন নিকুঞ্জবন, অরুণিত যুবতিক ভাল॥ অরুণিত তরুকুল অরুণিত লতা ফুল অরুণ ভ্রমরগণ ভাল। অরুণিত শারি শুক শিখি কোকিল উদ্ধব ভণিত রসাল॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। পুনশ্চ হোরিলীলা ॥ তত্র ধামালি - গুর্জ্জরী॥ রাধা প্যারি সহ খেলত নন্দদুলাল। অরুণিত মরকত অরুণ হেমযুত ঐছন মুরতি রসাল॥ ধ্রু॥ অরুণাম্বরবর শোহে কলেবর অরুণ মোতি মণিমাল। নটপটি পাগ উপরে শিখিচন্দ্রক ওঢ়নি রঙ্গ গোলাল॥ দুহুঁ করে আবির দুহুঁ অঙ্গে ডারত পিচকা রঙ্গে পাখাল। অরুণিত যমুনা পুলিন কুঞ্জবন অরুণিত যুবতীজাল॥ অরুণিত তরুকুল অরুণ লতা ফুল অরুণ ভ্রমরগণ ভাল। অরুণিত শারী শুক শিখি কোকিল উদ্ধব ভণিত রসাল॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বৃন্দাবনে ধূম পড়ল রঙ্গ হোরি আজ বৃন্দাবনে ধূম পড়ল রঙ্গ হোরি বৃন্দাবন ধুম পড়ল রঙ্গ হোরি কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২৭শপল্লব, পুনশ্চ হোরি-লীলা, ১৪৭২-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তেওট মায়ূর॥ বৃন্দাবনে ধুম পড়ল রঙ্গ হোরি। নওল কিশোর ফাগু-রঙ্গে রঙ্গিম রঙ্গিণি নওল কিশোরি॥ ধ্রু॥ রাধা সঙ্গে সবহুঁ সখিগণ মেলি করে লেই ভরি পিচকারি। সমুখহি শ্যাম- সুন্দর-মুখ হেরি হেরি পুন পুন দেওত ডারি॥ সুবল সখা সনে রোখি শ্যাম পুন হেরি সুন্দর মুখ গোরি। পিচকা রঙ্গ অঙ্গে ঘন বরিখত মোছত আঁখি মুখ মোরি॥ সহচর সহচরি মুটকি মুটকি ভরি বিবিধ গন্ধ রঙ্গ ঘোরি। দেয়ত যোগাই রাই শ্যাম খেলত উদ্ধবদাস মন ভোরি॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ২০২৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ তেওট মায়ূর॥ বৃন্দাবনে ধুম পড়ল রঙ্গ হোরি। নওল কিশোর ফাগু-রঙ্গে রঙ্গিম রঙ্গিণি নওল কিশোরি॥ ধ্রু॥ রাধা সঙ্গে সবহুঁ সখিগণ মেলি করে লেই ভরি পিচকারি। সমুখহি শ্যাম- সুন্দর-মুখ হেরি হেরি পুন পুন দেওত ডারি॥ সুবল সখা সনে রোখি শ্যাম পুন হেরি সুন্দরী মুখ গোরি। পিচকা রঙ্গ অঙ্গে ঘন বরিখত মোছত আঁখি মুখ মোরি॥ সহচর সহচরি মুটকি মুটকি ভরি বিবিধ গন্ধ রঙ্গ থোরি। দেয়ত যোগাই রাই শ্যাম খেলত উদ্ধবদাস মন ভোরি॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তেওট॥ বৃন্দাবনে ধুম পড়ল রঙ্গ হোরি। ফাগু-রঙ্গে রঙ্গিম নওল কিশোরী॥ রাধা সঙ্গে, সবহুঁ সখীগণ মেলি, করে লেই ভরি পিচকারি। সমুখহি শ্যাম, সুন্দর মুখ হেরি হেরি, পুন পুন দেওত ডারি॥ সুবল সখাগণ, রোখে শ্যাম পুন, হেরি সুন্দর মুখ গোরী। পিচকারি রঙ্গ, অঙ্গে ঘন বরিখত, মুছত আঁখি মুখ মোড়ি॥ সহচর সহচরী, মুটকি মুটকি ভরি, বিবিধ গন্ধ রঙ্গ ঘোরি। দেয়ত যোগাই, রাই শ্যাম খেলত, উদ্ধবদাস মন ভোরি॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, বসন্তলীলা, ৬৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মায়ূর বসন্ত - তেওট॥ আজ বৃন্দাবনে ধূম পড়ল রঙ্গ হোরি। নওল কিশোরী ফাগুরঙ্গে রঙ্গিম রঙ্গিনী নওল কিশোরী॥ রাধা সঙ্গে সবহুঁ সখীগণ মেলি করে লেই হেম পিচকারী। সমুখহি শ্যাম সুন্দর মুখ হেরি পুন পুন দেওত ডারি॥ সুবল সখা সঞে রোখি শ্যাম পুন হেরি সুন্দর মুখ গোরী। পিচকা রঙ্গ অঙ্গে ঘন বরিখত মোছত আঁখি মুখ মোড়ি॥ সহচর সহচরী মুটকি মুটকি ভরি বিবিধ গন্ধ রঙ্গ ঘোরি। দেয়ত যোগাই রাই শ্যাম খেলত উদ্ধবদাস মন ভোরি॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। হোরিলীলা ॥ তেওট মায়ূর॥ বৃন্দাবন ধুম পড়ল রঙ্গ হোরি। নওল কিশোর ফাগুরঙ্গে রঙ্গিম রঙ্গিণি নওল কিশোরি॥ ধ্রু॥ রাধা সঙ্গে সবহুঁ সখিগণ মেলি করে লেই ভরি পিচকারি। সমুখহি শ্যাম- সুন্দরমুখ হেরি হেরি পুন পুন দেওত ডারি॥ সুবল সখা সনে রোখি শ্যাম পুন হেরি সুন্দর মুখ গোরি। পিচকা রঙ্গ অঙ্গে ঘন বরিখত মোছত আঁখি মুখ মোড়ি॥ সহচর সহচরি মুটকি মুটকি ভরি বিবিধ গন্ধ রঙ্গ ঘোরি। দেয়ত যোগাই রাই শ্যাম খেলত উদ্ধবদাস মন ভোরি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| দেখ শ্যাম গোরি সখি মেলি কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২৭শপল্লব, পুনশ্চ হোরি-লীলা, ১৪৭৩-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ দেখ শ্যাম গোরি সখি মেলি। আবিরে অরুণ পিচকারি ঘন হোয়ল তুমুল খেলি॥ ধ্রু॥ সখা সুবল করিয়া সঙ্গ। জয় জয় বলি দেই করতালি হাসি হাসি রস-রঙ্গ॥ সখী ললিতা বিশাখা সাথে। হাসি খল খল জিতলুঁ জিতলুঁ বলে পিচকারি হাতে॥ রস-শেখর রসিকা নারি। শ্রম-জল দুহুঁ বয়ন ভরল এ উদ্ধব বলিহারি॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ২০২৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ তথা রাগ॥ দেখ শ্যাম গোরি সখি মেলি। আবিরে অরুণ পিচকারি ঘন হোয়ল তুমুল খেলি॥ ধ্রু॥ সখা সুবল করিয়া সঙ্গে। জয় জয় বলি দেই করতালি হাসি হাসি রস-রঙ্গে॥ সখী ললিতা বিশাখা সাথে। হাসি খল খল জিতলুঁ জিতলুঁ বলে পিচকারি হাতে॥ রস-শেখর রসিকা নারি। শ্রম-জল দুহুঁ বয়ন ভরল এ উদ্ধব বলিহারি॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ দেখ শ্যাম গোরী সখী মেলি। আবিরে অরুণ, পিচকারি ঘন, হোয়ল তুমুল খেলি॥ সখা সুবল করিয়া সঙ্গ। জয় জয় বলি, দেই করতালি, হাসি হাসি রস রঙ্গ॥ সখী ললিতা বিশাখা সাথে। হাসি খল খল, @@@ @@@ বলে পিচকারি হাতে॥ রস-শেখর রসিকা নারী। শ্রমজল দুহুঁ, বয়ন ভরল, এ উদ্ধব বলিহারি॥ @@ - অপাঠ্য অক্ষর। এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। হোরিলীলা ॥ তথা রাগ॥ দেখ শ্যাম গোরি সখি মেলি। আবিরে অরুণ পিচকারি ঘন হোয়ল তুমুল খেলি॥ ধ্রু॥ সখা সুবল করিয়া সঙ্গ। জয় জয় বলি দেই করতালি হাসি হাসি রসরঙ্গ॥ সখী ললিতা বিশাখা সাথে। হাসি খল খল জিতলুঁ জিতলুঁ বলে পিচকারি হাতে॥ রসশেখর রসিকা নারি। শ্রমজল দুহুঁ বয়ন ভরল এ উদ্ধব বলিহারি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| মধু ঋতু বিহরই গৌর কিশোর কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২৭শপল্লব, বসন্ত-বিহার, ১৪৮১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। অথ বসন্ত-বিহার প্রাকারান্তর। তত্র শ্রীমদ্গৌরচন্দ্র। ॥ বসন্ত॥ মধু-ঋতু বিহরই গৌর কিশোর। গদাধর-মুখ হেরি আনন্দে নরহরি পুরুব-প্রেমে ভেল ভোর॥ নবিন লতা নব পল্লব তরুকুল নওল নবদ্বীপ ধাম। ফুল্ল কুসুমচয় ঝঙ্কৃত মধুকর সুখদ এ ঋতু-পতি নাম॥ মুকুলিত চুত- গহন অতি সুললিত কোকিল-কাকলি-রাব। সুরধুনি-তীর সমীর গন্ধিত ঘরে ঘরে মঙ্গল গাব॥ মনমথ রাজ সাজ লেই ফীরয়ে বন-ফুল ফল অতি শোভা। সময় বসন্ত নদিয়া-পুর সুন্দর উদ্ধবদাস-মন-লোভা॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ২০৩৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ বসন্ত॥ মধু-ঋতু বিহরই গৌর কিশোর। গদাধর-মুখ হেরি আনন্দে নরহরি পুরুব-প্রেমে ভেল ভোর॥ নবিন লতা নব পল্লব তরুকুল নওল নবদ্বীপ ধাম। ফুল্ল কুসুমচয় ঝঙ্কৃত মধুকর সুখদয় ঋতু-পতি নাম॥ মুকুলিত চুত- গহন অতি সুললিত কোকিল-কাকলি-রাব। সুরধুনি-তীরে সমীর গন্ধিত ঘরে ঘরে মঙ্গল গাব॥ মনমথ রাজ সাজ করয়ে বন বন-ফুল ফল অতি শোভা। সময় বসন্ত নদিয়া-পুর সুন্দর উদ্ধবদাস-মন-লোভা॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বসন্ত॥ মধু ঋতু বিহরই গৌরকিশোর। গদাধরমুখ হেরি আনন্দে নরহরি পুরব প্রেমে ভেল ভোর॥ ধ্রু॥ নবিন লতাবন পল্লব তরুকুল নওল নবদ্বীপ মাঝ। ফুল্ল কুসুমচয়ে ঝঙ্কৃত মধুকর সুখোদয়ে ঋতুপতি রাজ॥ মুকুলিত চূত গহন অতি সুললিত কোকিল কাকলি রাব। সুরধুনীতীরে সমীর সুন্ধিত ঘরে ঘরে মঙ্গল গাব॥ মনমথ রাজ সাজ লই ফিরয়ে বনফুল অতি শোভা। সময় বসন্ত নদিয়া পুরন্দর উদ্ধব দাস মনলোভা॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, বসন্তলীলা, ৬১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বসন্তরাগ - মধ্যম দশকুশী॥ মধু ঋতু বিহরই গৌর কিশোর। গদাধর মুখ হেরি, আনন্দে নরহরি পূরব প্রেমে ভেল ভোর॥ ধ্রু॥ নবীন লতা নব পল্লব তরুকুল নওল নবদ্বীপ ধাম। ফুল্ল কুসুম চয়, ঝঙ্কৃত মধুকর, সুখময় ঋতুপতি নাম॥ মুকুলিত চূত গহন অতি সুললিত কোকিল কাকলি রাব। সুরধুনি তীর সমীর গন্ধিত ঘরে ঘরে মঙ্গল গাব॥ মনমথ রাজ সাজ লেই ফীরয়ে নব ফুল ফল অতি শোভা। সময় বসন্ত নদিয়াপুর সুন্দর উদ্ধব দাস মনোলোভা॥ এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পদাবলী”, ৩৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। বসন্তলীলা ॥ বসন্তরাগ - মধ্যম দশকুসী॥ মধু ঋতু বিহরই গৌরকিশোর। গদাধর-মুখ হেরি আনন্দে নরহরি পূরব-প্রেমে ভেল ভোর॥ নবীন লতা নব পল্লব তরুকুল নওল নবদ্বীপ ধাম। ফুল্ল কুসুমচয় ঝঙ্কৃত মধুকর সুখময় ঋতুপতি নাম॥ মুকুলিত চূত- গহন অতি সুললিত কোকিল-কাকলী-রাব। সুরধুনী-তীর সমীর সুগন্ধিত ঘরে ঘরে মঙ্গল গাব॥ মনমথ-রাজ সাজ লেই ফিরই নব ফল ফুলে অতি শোভা। সময় বসন্ত নদিয়াপুর সুন্দর উদ্ধবদাস-মনোলোভা॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (১) এর নামে দেওয়া রয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গের বসন্তবিহার ॥ বসন্ত॥ মধু ঋতু বিহরই গৌর কিশোর। গদাধর মুখ হেরি আনন্দে নরহরি পুরুব প্রেমে ভেল ভোর॥ নবিন লতা নব পল্লব তরুকুল নওল নবদ্বীপ ধাম। ফুল্ল কুসুমচয় ঝঙ্কৃত মধুকর সুখদ এ ঋতুপতি নাম॥ মুকুলিত চূত গান অতি সুললিত কোকিল কাকলি রাব। সুরধুনিতীর সমীর সুগন্ধিত ঘরে ঘরে মঙ্গল গাব॥ মনমথ রাজ সাজ লেই ফীরয়ে বনফুল ফল অতি শোভা। সময় বসন্ত নদীয়াপুর সুন্দর উদ্ধব দাস মনলোভা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |