| কবি উদ্ধবদাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| দেখ দেখ ঝুলত গৌর কিশোর১ দেখ ঝোলত গৌর কিশোর কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ৩০শপল্লব, ঝুলন-লীলা, ১৫৫৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পুনশ্চ দিনান্তরে ঝুলন। তদুচিত-শ্রীগৌরচন্দ্র। ॥ কামোদ॥ দেখ দেখ ঝুলত গৌর কিশোর। সুরধুনি-তীর গদাধর সঙ্গহি চান্দনি-রজনি উজোর॥ শাওন মাস গগন ঘন গরজন ললপিত দামিনি-মাল। বরিখত বারি পবন মৃদু মন্দহি গঙ্গা-তরঙ্গ বিশাল॥ বিবিধ সুরঙ্গ রচিত তহি দোলা খচিত কুসুমচয়-দাম। বট-তরু-ডালে ডোর করি বন্ধন মালতি-গুচ্ছ সুঠাম॥ বৈঠল গৌর বামে প্রিয় গদাধর ঝুলন রঙ্গ-রসে ভাস। সহচর মেলি ঝুলায়ত মৃদু মৃদু দোলা ধরি দৌ পাশ॥ বাজত মৃদঙ্গ পূরব-রস গায়ত সংকীর্ত্তন-সুখ রঙ্গ। নিত্যানন্দ শান্তিপুর-নায়ক হরিদাস শ্রীনিবাস সঙ্গ॥ পুরুষোত্তম সঞ্জয় আদি বরিখত কুঙ্কুম চন্দন ফুল। উদ্ধব দাস নয়নে কব হেরব গৌর হোয়ব অনুকুল॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ২১০২-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ কামোদ॥ দেখ দেখ ঝুলত গৌর কিশোর। সুরধুনি-তীর গদাধর সঙ্গহি চান্দনি-রজনি উজোর॥ শাওন মাস গগন ঘন গরজন ললপিত দামিনি-ভাল। বরিখত বারি পবন মৃদু মন্দহি গঙ্গা-তরঙ্গ বিশাল॥ বিবিধ সুরঙ্গ রচিত তহি দোলা খচিত কুসুমময়-দাম। বট-তরু-ডালে ডোর করি বন্ধন মালতি-গুচ্ছ সুঠাম॥ বৈঠল গৌর বামে প্রিয় গদাধর ঝুলন রঙ্গ-রসে ভাস। সহচর মেলি ঝুলায়ত মৃদু মৃদু দোলা ধরি দো পাশ॥ বাজত মৃদঙ্গ পূরব-রস গায়ত সংকীর্ত্তন-সুখ রঙ্গ। নিত্যানন্দহ শান্তিপুর-নায়ক হরিদাস শ্রীনিবাস সঙ্গ॥ পুরুষোত্তম সঞ্জয় আদি বরিখত কুঙ্কুম চন্দন ফুল। উদ্ধব দাস নয়নে কব হেরব গৌর হোয়ব অনুকুল॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ তালোচিত॥ ঝুলনযাত্রা॥ তদুচিত মহাপ্রভু॥ দেখ ঝোলত গৌর কিশোর। সুরধুনীতীরে গদাধর সঙ্গহি চাঁন্দনি রজনী উজোর॥ সায়ন সঘন গগন ঘন গরজন নলপিত দামিনী মাল। বরিসত বারি পবন মৃদু মন্দহি গঙ্গতরঙ্গ বিশাল॥ বিবিধ সুরঙ্গ রচিতহি দোলা খচিত কুসুমচয় দাম। বটতরু ডাল ডোর করি বন্ধন মালতীগুচ্ছ সুঠাম॥ বৈঠল গৌর বামে প্রিয় গদাধর ঝুলন রঙ্গরসে ভাস। সহচরী মেলি ঝুলাওত মৃদুমৃদু দোলা ধরি দো পাস॥ বাজত মৃদঙ্গ পূরব রস গাওত সংকীর্ত্তন সুখে রঙ্গে। নিত্যানন্দ শান্তিপুরনায়ক হরিদাস শ্রীনিবাস সঙ্গে॥ পুরুষোত্তম সঞ্জয় আদি বরিখত কুঙ্কুম চন্দন ফুল। উদ্ধবদাস নয়ানে কব হেরব গৌর হোয়র অনুকুল॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ দেখ দেখ ঝুলত গৌর কিশোর। সুরধুনী-তীর, গদাধর সঙ্গহি, চান্দ রজনী উজোর॥ শাঙন মাস, গগন ঘন গরজন, কলপিত দামিনী-মাল। বরিখত বারি, পবন মৃদু মন্দহি, গঙ্গ-তরঙ্গ বিশাল॥ বিবিধ সুরঙ্গ, রচিত হিন্দোলা, খচিত কুসুমচয়-দাম। বট তরু ডালে, ডোর করি বন্ধন, মালতী-গুচ্ছ সুঠাম॥ বৈঠল গৌর, বামে প্রিয় গদাধর, ঝুলন রঙ্গ-রসে ভাস। সহচর মেলি, ঝুলায়ত মৃদু মৃদু, দোলা ধরি দ্বৌ পাশ॥ বাজত মৃদঙ্গ, পূরব রস গাওত, সংকীর্ত্তন-সুখ রঙ্গ। নিত্যানন্দ, শান্তিপুর-নায়ক, হরিদাস শ্রীনিবাস সঙ্গ॥ পুরুষোত্তম, সঞ্জয় আদি বরিখত, কুঙ্কুম চন্দন ফুল। উদ্ধব দাস, নয়নে কব হেরব, গৌর হোয়ব অনুকুল॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ইমন বা কামোদ॥ দেখ দেখ ঝুলত গৌরকিশোর। সুরধুনীতীরে গদাধর সঙ্গহি, চাঁদ রজনী উজোর॥ শাভণ মাস, গগনে ঘন গরজন, নলপতি দামিনীমাল। বরখত বারি পবন মৃদু মন্দহি, গরজত রঙ্গ বিশাল॥ বিবিধ সুরঙ্গ রচতহি দোলা, খচিত কুসুমচয় দাম। বটতরুডালে ডোর করি বন্ধন, মালতিগুচ্ছ সুঠান॥ বৈঠল গৌরবামে প্রিয় গদাধর, ঝুলন রঙ্গরসে ভাস। সহচর মেলি, দোলায়ত মৃদু মৃদু, দোলা ধরি দ্বৌপাশ॥ বাজত মৃদঙ্গ, পূরুবরস গাওত, সংকীর্ত্তন পূররঙ্গ। নিত্যানন্দ শান্তিপুর-নায়ক, হরিদাস শ্রীনিবাস সঙ্গ॥ পুরুষোত্তম সঞ্জয়, আদি বরখত, কুঙ্কুম চন্দন ফুল। উদ্ধব দাস, নয়নে কব হেরব, গৌর হোয়ব অনুকুল॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, ঝুলন লীলা, ৪৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পুনশ্চ ঝুলন লীলা! শ্রীগৌরচন্দ্র। ॥ মল্লার - তেওট॥ দেখ দেখ ঝুলত গৌর কিশোর। সুরধুনী তীর গদাধর সঙ্গহি চান্দনী রজনি উজোর॥ শাঙন মাস গগন ঘন গরজন নলপিত দামিনী মাল। বরিখত বারি পবন মৃদু মন্দহি গঙ্গাতরঙ্গ বিশাল॥ বিবিধ সুরঙ্গ রচিত হিন্দোলা খচিত কুসুমচয় দাম। বটতরু ডালে জোর করি বন্ধন মালতী গুচ্ছ সুঠাম॥ বৈঠল গৌর বামে প্রিয় গদাধর ঝুলন রঙ্গ রসে ভাস। সহচর মেলি ঝূলায়ত মৃদু মৃদু দোলা ধরি দোউ পাশ॥ বাজত মৃদঙ্গ পুরুব রস গায়ত সংকীর্ত্তন সুখ রঙ্গ। নিত্যানন্দ শান্তিপুর নায়ক হরিদাস শ্রীনিবাস সঙ্গ॥ পুরুষোত্তম সঞ্জয় আদি বরিখত কুঙ্কুম চন্দন ফুল। ঊদ্ধব দাস নয়নে কবে হেরব গৌর হোয়ব অনুকূল॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (১) এর নামে দেওয়া রয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গের ঝুলনলীলা ॥ কামোদ॥ দেখ দেখ ঝুলত গৌর কিশোর। সুরধুনীতীর গদাধর সঙ্গহি চাঁদনী রজনি উজোর॥ শাঙন মাস গগনে ঘন গরজন ললপিত দামিনি মাল। বরিখত বারি পবন মৃদু মন্দহি গঙ্গাতরঙ্গ বিশাল॥ বিবিধ সুরঙ্গ রচিত তহিঁ দোলন খচিত বিবিধ ফুলদাম। বটতরুডালে ডোর করি বন্ধন মালতিগুচ্ছ সুঠাম॥ বৈঠল গৌর বামে প্রিয় গদাধর ঝুলন রঙ্গরসে ভাস। সহচর মেলি ঝুলায়ত মৃদু মৃদু দোলা ধরি দৌপাশ॥ বাজত মৃদঙ্গ পূরবরস গায়ত সংকীর্ত্তনসুখরঙ্গ। নিত্যানন্দ শান্তিপুরনায়ক হরিদাস শ্রীবাসাদি সঙ্গ॥ পুরুষোত্তম সঞ্জয় আদি বরিখত কুঙ্কুম চন্দন ফুল। উদ্ধব দাস নয়নে কব হেরব গৌর হোয়ব অনুকূল॥ এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পদাবলী”, ৩৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদের প্রথম কলি ছাড়া বাকি সবটাই একটি ভিন্ন পদ। তাই আমরা এই পদটিকে একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও তুলেছি। স্বতন্ত্র পদটিকে "দেখ দেখ ঝুলত গৌর কিশোর২" শিরোনাম দিয়ে মিলনসাগরে তোলা হয়েছে। ॥ সুরট মল্লার - তেওট॥ দেখ দেখ ঝুলত গৌর কিশোর। সুরধুনী-তীরে তরুকুল তাহে রচিত রতন হিণ্ডোর॥ ঝুলিতে ঝুলিতে কমল আঁখিতে যে দিকে গৌরাঙ্গ চায়। সেই দিগে প্রেমের বাদর স্থাবর জঙ্গম সিঞ্চয়ে তায়॥ হেম-দরপণ জিনিয়া বরণ চৌদিকে রূপের ছটা। এ উদ্ধব ভণে যেমন আউলাইয়ে পড়িছে বিজুরী ঘটা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| দেখ দেখ ঝুলত গৌর কিশোর২ কবি উদ্ধব দাস এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পদাবলী”, ৩৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদের প্রথম কলিটি “দেখ দেখ ঝুলত গৌর কিশোর১” পদটির প্রথম কলির সঙ্গে মেলে কিন্তু বাকি পদটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। ॥ সুরট মল্লার - তেওট॥ দেখ দেখ ঝুলত গৌর কিশোর। সুরধুনী-তীরে তরুকুল তাহে রচিত রতন হিণ্ডোর॥ ঝুলিতে ঝুলিতে কমল আঁখিতে যে দিকে গৌরাঙ্গ চায়। সেই দিগে প্রেমের বাদর স্থাবর জঙ্গম সিঞ্চয়ে তায়॥ হেম-দরপণ জিনিয়া বরণ চৌদিকে রূপের ছটা। এ উদ্ধব ভণে যেমন আউলাইয়ে পড়িছে বিজুরী ঘটা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কালিন্দীর কূল বিকসিত ফুল মত্ত অলিকুল কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ৩০শপল্লব, বাসন্তী-রাস-লীলা, ১৫৬৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মল্লার॥ কালিন্দীর কূল বিকসিত ফুল মত্ত অলিকুল পড়লহি পাঁতিয়া। নাচত মোর করতহিঁ সোর অনঙ্গ অগোর ফিরতহিঁ মাতিয়া॥ কানন-ওর হেরইতে ভোর কিশোরি কিশোর প্রেম-রসে ভাসিয়া। ঝুলন কেলি দুহুঁ জন মেলি অঙ্গ অঙ্গ হেলি হৃদয় উল্লাসিয়া॥ কতয়ে সুতান করতহি গান রাখত মান যন্ত্র সুরঙ্গিয়া। দেই করতাল অতি সুরসাল কহে ভালি ভাল বাওয়ে মৃদঙ্গিয়া॥ কত রস-ভাষ কমল বিকাশ মৃদু মৃদু হাস দুহুঁ-চন্দ্রাননে। উদ্ধবদাস- চিত-মন-আশ দুহুঁক বিলাস দরশন কাননে॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ২১০৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ মল্লার॥ কালিন্দী কূল বিকসিত ফুল মত্ত অলিকুল পড়লহি পাঁতিয়া। নাচত মোর করতহিঁ সোর অনঙ্গ আগোর ফিরতহিঁ মাতিয়া॥ কানন-ওর হেরইতে ভোর কিশোরি কিশোর প্রেম-রসে ভাসিয়া। ঝুলন কেলি দুহুঁ জন মেলি অঙ্গ অঙ্গ হেলি হৃদয় উল্লাসিয়া॥ কতয়ে সুতান করতহি গান রাখত মান যন্ত্র সুরঙ্গিয়া। দেই করতাল অতি সুরসাল কহে ভালি ভাল বাওয়ে মৃদঙ্গিয়া॥ কত রস-ভাষ কমল বিকাশ মৃদু মৃদু হাস দুহুঁ-চন্দ্রাননে। উদ্ধবদাস- চিত-মন-আশ দুহুঁক বিলাস দরশন কাননে॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মল্লার রাগ তোলেচিত॥ কালিন্দীর কূল বিকশিত ফুল মত্ত অলিকুল পরলহি পাতিয়া। নাচেত মোর করতহি সোর আনন্দে অগর ফিরতহি মাতিয়া॥ কানন ওর হেরইতে ভোর কিশোরী কিশোর প্রেম রসে ভাসিয়া। @ ঝুলন কেলি দুহুঁ জন মেলি অঙ্গে অঙ্গে হেলি হৃদয় উল্লাসিয়া॥ কতই সুতান করতহি গান রাখত মান জন্ত সুরঙ্গিয়া। কত রস-ভাস কমল বিকাশ মৃদু হাস হাস দোঁহু চন্দ্রাননে। উদ্ধব দাস চিত মন আশ দোহক বিলাস দরসনে কাননে॥ @ - এখানে “দেই করতাল” ইত্যাদি কলিটি নেই। এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মল্লার॥ কালিন্দীকূল, বিকসিত ফুল, মত্ত অলিকুল পড়লহি পাঁতিয়া। নাচত মোর, করতহিঁ সোর, অনঙ্গ আগোর ফিরতহিঁ মাতিয়া॥ কানন ওর, হেরইতে ভোর, কিশোরী কিশোরপ্রেম রসে ভাসিয়া। ঝুলন কেলি, দুহুঁ জন মেলি, অঙ্গ হেলি হৃদয় উল্লাসিয়া॥ কত যে সুতান, করতহি গান, রাখত মান যন্ত্র সুরঙ্গিয়া। দেই করতাল, অতি সুরসাল, কহে ভালি ভাল বাওয়ে মৃদঙ্গিয়া॥ কত রস ভাষ, কমল বিকাশ, মৃদু মৃদু হাস দুহুঁ চন্দ্রাননে। উদ্ধবদাস, চিত মন আশ, দুহুঁক বিলাস দরশন কাননে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। ঝুলনযাত্রা ॥ মল্লার॥ কালিন্দীর কূল বিকশিত ফুল মত্ত অলিকুল পড়লহি পাঁতিয়া। নাচত মোর করতহিঁ শোর অনঙ্গ অগোর ফিরতহিঁ মাতিয়া॥ কাননওর হেরইতে ভোর কিশোরি কিশোর প্রেমরসে ভাসিয়া। ঝুলন কেলি দুহুঁ জন মেলি অঙ্গ অঙ্গ হেলি হৃদয় উল্লাসিয়া॥ কতয়ে সুতান করতহি গান রাখত মান যন্ত্র সুরঙ্গিয়া। দেই করতাল অতি সুরসাল কহে ভালি ভাল বাওয়ে মৃদঙ্গিয়া॥ কত রসভাষ কমল বিকাশ মৃদু মৃদু হাস দুহুঁচন্দ্রাননে। উদ্ধবদাস চিতমনআশ দুহুঁক বিলাস দরশন কাননে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| একাদশী করি নিশি অবশেষে কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থশাখা ১মপল্লব, নন্দ-মোক্ষ, ১৫৯৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীগান্ধার॥ একাদশী করি নিশি-অবশেষে স্নানে গেলা ব্রজ-পতি। জলের মাঝারে বরুণের চরে নন্দেরে হরিল তথি॥ এ বোল শুনিয়া নন্দের নন্দন পিতার উদ্দেশ লাগি। জলে ঝাঁপ দিয়া বরুণ-নিয়ড়ে গেলা মনে দুখ জাগি॥ তাহা শুনি ধনী রাই সুবদনী মরমে পাইয়া দুখ। হা নাথ বলিয়া কান্দে ফুকরিয়া না দেখিয়া চাঁদ-মুখ॥ ব্রজ-বাসিগণ করয়ে রোদন ক্ষিতি-তলে লোটাইয়া। বিষাদ হেরিয়া উদ্ধব দাসের বিদরিয়া যায় হিয়া॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ২১৬৬-পদসংখ্যায় হুবহু একই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ শ্রীগান্ধার॥ একাদশী করি নিশি-অবশেষে স্নানে গেলা ব্রজ-পতি। জলের মাঝারে বরুণের চরে নন্দেরে হরিল তথি॥ এ বোল শুনিয়া নন্দের নন্দন পিতার উদ্দেশ লাগি। জলে ঝাঁপ দিয়া বরুণ-নিয়ড়ে গেলা মনে দুখ জাগি॥ তাহা শুনি ধনী রাই সুবদনী মরমে পাইয়া দুখ। হা নাথ বলিয়া কান্দে ফুকরিয়া না দেখিয়া চাঁদ-মুখ॥ ব্রজ-বাসিগণ করয়ে রোদন ক্ষিতি-তলে লোটাইয়া। বিষাদ হেরিয়া উদ্ধব দাসের বিদরিয়া যায় হিয়া॥ এই পদটি, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীগান্ধার॥ একাদশী করি, নিশি অবশেষে, স্নানে গেলা ব্রজপতি। জলের মাঝারে, বরুণের চরে, নন্দেরে হরিলা তথি॥ এ বোল শুনিয়া, নন্দের নন্দন, আপন পিতার লাগি। জলে ঝাঁপ দিয়া, বরুণ নিয়ড়ে, গেলা মনে দুখ জাগি॥ তাহা শুনি ধনি, রাই সুবদনী, মরমে পাইয়া দুঃখ। হা নাথ বলিয়া, কান্দে ফুকরিয়া, না দেখিয়া চাঁদ মুখ॥ ব্রজবাসীগণ, করয়ে রোদন, ক্ষিতিতলে লুটাইয়া। বিষাদ ভাবিয়া, উদ্ধব দাসের বিদরিয়া যায় হিয়া॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীগান্ধার॥ একাদশী করি, নিশি অবশেষে, স্নানে গেল ব্রজপতি। জলের মাঝারে, বরুণের চরে, নন্দের হরিল তিথি॥ এবোল শুনিয়া, নন্দের নন্দন, পিতার উদ্দেশ লাগি। জলে ঝাঁপ দিয়া, বরুণ নিয়ড়ে, গেলা মনে দুখ জাগি॥ তাহা শুনি ধনী, রাই সুবদনী, মরমে পাইয়া দুখ। হা নাথ বলিয়া, কান্দে ফুকরিয়া, না দেখিয়া চাঁদ মুখ॥ ব্রজ-বাসিগণ, করয়ে রোদন, ক্ষিতি-তলে লোটাইয়া। বিষাদ ভাবিয়া, উদ্ধব দাসের, বিদরিয়া যায় হিয়া॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। নিকট প্রবাস ॥ শ্রীগান্ধার॥ একাদশী করি নিশি অবশেষে স্নানে গেলা ব্রজপতি। জলের মাঝারে বরুণের চরে নন্দেরে হরিল তথি॥ এ বোল শুনিয়া নন্দের নন্দন পিতার উদ্দেশ লাগি। জলে ঝাঁপ দিয়া বরুণ-নিয়ড়ে গেলা মনে দুখ জাগি॥ তাহা শুনি ধনী রাই সুবদনী মরমে পাইয়া দুখ। হা নাথ বলিয়া কান্দে ফুকরিয়া না দেখিয়া চাঁদ-মুখ॥ ব্রজবাসিগণ করয়ে রোদন ক্ষিতিতলে লোটাইয়া। বিষাদ হেরিয়া উদ্ধব দাসের বিদরিয়া যায় হিয়া॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| তোহারি মথুরা-গমন চিন্তিয়া কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থশাখা ৬ষ্ঠ পল্লব, দূতী-সংবাদ, ১৭০২-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তৈস্তৈঃ কৃতৈঃ প্রতীকারৈর্যদি ন স্যাৎ সমাগমঃ কন্দর্পবাণ-দহণাৎ তত্র স্যান্মরণোদ্যমঃ॥ অথ দশ-দশা-কথনং। ॥ বরাড়ী॥ তোহারি মথুরা- গমন চিন্তিয়া লিখই খিতির পরে। জাগি দিবানিশি হৃদয় বিদরে উদবেগে আঁখি ঝরে॥ অতি খিণ তনু মলিন হইল প্রলাপে কারে কি কহে। ব্যাধি বিরহে ধরণী লুঠয়ে মরণের পথে রহে॥ উন্মাদ হইয়া উঠে বৈসে যেন মৃগী বিষ-শর-ঘাতে। মোহ-দশা ভেল দেহ দুরবল শকতি না রহে তাথে॥ দশমী দশায় ঘড়ঘড় কন্ঠ শ্বাস বহে নাহি বহে। শুন হে মাধব রাই দশ দশা পামরী উদ্ধবে কহে॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ৯২৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ বরাড়ী॥ তোহারি মথুরা- গমন চিন্তিয়া লিখই খিতির পরে। জাগি দিবানিশি হৃদয় বিদরে উদবেগে আঁখি ঝুরে॥ অতি খিণ তনু মলিন হইল প্রলাপে কারে কি কহে। ব্যাধি বিরহে ধরণী লুঠয়ে মরণের পথে রহে॥ উন্মাদ হইয়া উঠে বৈসে যেন মৃগী বিষ-শর-ঘাতে। মোহ-দশা ভেল দেহ দুরবল শকতি না রহে তাথে॥ দশমী দশায় ঘড়ঘড় কন্ঠ শ্বাস বহে নাহি বহে। শুন হে মাধব রাই দশ দশা পামরী উদ্ধবে কহে॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তোহারি মথুরা- গমন চিন্তিয়া, লিখই ক্ষিতির পরে। জাগি দিবানিশি, হৃদয় বিদরে, উদবেগে আঁখি ঝরে॥ অতি ক্ষীণ তনু, মলিন হইল, প্রলাপে কারে কি কহে। ব্যাধি বিরহে, ধরণী লুঠয়ে, মরণের পথে রহে॥ উন্মাদ হইয়া, উঠে বৈসে যেন, মৃগী বিষ শর-ঘাতে। মোহ-দশা ভেল, দেহ দুরবল, শকতি না রহে তাতে॥ দশমী-দশায়, ঘড় ঘড় কন্ঠ, শ্বাস বহে নাহি বহে। শুন হে মাধব, রাই দশ দশা, পামর উদ্ধবে কহে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। মাথুর দূতী সংবাদ ॥ বরাড়ী॥ তোহারি মথুরা গমন চিন্তিয়া লিখই খিতির পরে। জাগি দিবানিশি হৃদয় বিদরে উদবেগে আঁখি ঝরে॥ অতি খিণ তনু মলিন হইল প্রলাপে কারে কি কহে। ব্যাধি বিরহে ধরণী লুঠয়ে মরণের পথে রহে॥ উন্মাদ হইয়া উঠে বৈসে যেন মৃগী বিষশরঘাতে। মোহদশা ভেল দেহ দুরবল শকতি না রহে তাথে॥ দশমী দশায় ঘড়ঘড় কন্ঠ শ্বাস বহে নাহি বহে। শুন হে মাধব রাই দশ দশা পামরী উদ্ধবে কহে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শুন শুন কহি পরাণ সজনি কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থশাখা ৬ষ্ঠপল্লব, স্বপ্ন-মিলন-রসোদগার, ১৭০৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীগান্ধার॥ শুন শুন কহি পরাণ সজনি আজুক স্বপন-রীত। পিয়া আসি মোরে আলিঙ্গন করে আনন্দে আকুল চীত॥ বদনে বদনে করয়ে চুম্বন অধরে অধর দিয়া। ভুজে ভুজ বান্ধি উরে উর ছান্দি হিয়ার উপরে হিয়া॥ হেনই সময়ে চেতন হইল বুঝিতে নারিলুঁ কাজ। কিয়ে হয়ে নহে এমত করয়ে নিচয়ে নাগর-রাজ॥ বিধির বিধান কি জানি কেমন সেহ কি এমন হবে। এ দাস উদ্ধবে কহে এহ বটে রসিক নাগর তবে॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ৯৩১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ শ্রীগান্ধার॥ শুন শুন কহি পরাণ সজনি আজুক স্বপন-রীত। পিয়া আসি মোরে আলিঙ্গন করে আনন্দে আকুল চিত॥ বদনে বদনে করয়ে চুম্বন অধরে অধর দিয়া। ভুজে ভুজে বান্ধি উরে উর ছান্দি হিয়ার উপরে হিয়া॥ হেনই সময়ে চেতন হইল বুঝিতে নারিলুঁ কাজ। কিয়ে হয়ে নহে এমত করয়ে নিচয়ে নাগর-রাজ॥ বিধির বিধান কি জানি কেমন সেহ কি এমন হবে। এ দাস উদ্ধবে কহে এই বটে রসিক নাগর তবে॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীগান্ধার॥ শুন শুন কহি, পরাণ-সজনি, আজুক স্বপন-রীত। পিয়া আসি মোরে, আলিঙ্গন করে, আনন্দে আকুল চিত॥ বদনে বদন, করয়ে চুম্বন, অধরে অধর দিয়া। ভুজে ভুজ বান্ধি, উরে উর ছান্দি, হিয়ার উপরে হিয়া॥ হেনই সময়ে, চেতন হইল, বুঝিতে নারিনু কাজ। কি যে হয়ে নহে, এমত করয়ে, নিচয়ে নাগর-রাজ॥ বিধির বিধান, কি জানি কেমন, সেহ কি এমন হবে। এ দাস উদ্ধবে, কহে এই বটে, রসিক নাগর তবে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। স্বপ্নমিলন রসোদ্গার ॥ শ্রীগান্ধার॥ শুন শুন কহি পরাণ সজনি আজুক স্বপনরীত। পিয়া আসি মোরে আলিঙ্গন করে আনন্দে আকুল চীত॥ বদনে বদনে করয়ে চুম্বন অধরে অধর দিয়া। ভুজে ভুজ বান্ধি উরে উর ছান্দি হিয়ার উপরে হিয়া॥ হেনই সময়ে চেতন হইল বুঝিতে নারিলুঁ কাজ। কিয়ে হয়ে নহে এমত করয়ে নিচয়ে নাগররাজ॥ বিধির বিধান কি জানি কেমন সেহ কি এমন হবে। এ দাস উদ্ধবে কহে এহ বটে রসিক নাগর তবে॥ এই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ১৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীগান্ধার - ডাঁশ পাহিড়া॥ শুন শুন কহি পরাণ সজনি আজুক স্বপন-রীত। পিয়া আসি মোরে আলিঙ্গন করে আনন্দে আকুল চীত॥ বদনে বদন করয়ে চুম্বন অধরে অধর দিয়া। ভুজে ভুজ বান্ধি উরে উর ছান্দি হিয়ার উপরে হিয়া॥ হেনই সময়ে চেতন হইল বুঝিতে নারিলুঁ কাজ। কিয়ে হয়ে নহে এমত করয়ে নিচয়ে নাগর রাজ॥ বিধির বিধান কি জানি কেমন সেহ কি এমন হবে। এ দাস উদ্ধব কহে এহ বটে রসিক নাগর তবে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হিম-ঋতু সময়ে সঙ্কেত-কুঞ্জে ধনি কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থশাখা ৮মপল্লব, হেমন্ত-শিশিরোচিত বিরহ, ১৭৫১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বড়াড়ী সুহই॥ হিম-ঋতু সময়ে সঙ্কেত-কুঞ্জে ধনি . তুয়া লাগি করত বিলাপ। ঘোর বিরহ-জরে জরজর মানস . শিশিরহি থরথর কাঁপ॥ রীতু বসন্ত বিবিধ ফুল বিকসিত . ফাগুয়া খেলই রঙ্গে। সোবর-নারি তোহারি লাগি ঝূরত . রোয়ত সহচরি সঙ্গে॥ গিরিষ সময়ে তনু গলি গলি পড়ু মহি . ঘামই বিরহ-হুতাশে। বর্ষা ঋতু ভেল ঝরয়ে নয়নে জল . দুখ-সায়রে ধনি ভাসে॥ নিরমল শরদ-চাঁদ হেরি সো ধনি . সোঙরিয়া রাস-বিলাস। রসসতি-হৃদয় ভেল উধ শ্বাসহি . কহতহিঁ উদ্ধবদাস॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ৯৭৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ বড়াড়ী সুহই॥ হিম-ঋতু সময়ে সঙ্কেত-কুঞ্জে ধনি . তুয়া লাগি করত বিলাপ। ঘোর বিরহ-জরে জরজর মানস . শিশিরহি থরথর কাঁপ॥ ঋতু বসন্ত বিবিধ ফুল বিকসিত . ফাগুয়া খেলই রঙ্গে। সোবর-নারি তোহারি লাগি ঝুরত . রোয়ত সহচরি সঙ্গে॥ গিরিষ সময়ে তনু গলি গলি পড়ু মহি . ঘামই বিরহ-হুতাশে। বর্ষা ঋতু ভেল ঝরয়ে নয়নে জল . দুখ-সায়রে ধনি ভাসে॥ নিরমল শরদ-চাঁদ হেরি সো ধনি . সোঙরিয়া রাস-বিলাস। রসসতি-হৃদয় ভেল উধ শ্বাসহি . কহতহিঁ উদ্ধবদাস॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী বড়াড়ী॥ অথ শরৎঋতু একত্রে বর্ণন॥ হিমঋতু সময়ে সঙ্কেতকুঞ্জে ধনি তুয়া লাগী করত বিলাপ। ঘোর বিরহজ্বরে জরজর মানস শিশিরহি থরহরি কাঁপ॥ ঋতু বসন্তে বিবিধ ফুল বিকসিত ফাগুআ খেলই রঙ্গে। সো বরনারী তোহারি লাগি ঝুরত রোয়ত সহচরী সঙ্গে॥ গিরিস সমএ তনু গলিগলি পুরূমহি ঘামহি বিরহ হুতাশে। বর্ষাঋতু ভেল ঝরএ নয়নজল সে দুখ সাঅরে ভাসে॥ নিরমল শরদচান্দ হেরি সো ধনি সোঙরিয়া রাস বিলাস। রসবতীহৃদএ ভেল উধশ্বাসহি কহতহি উদ্ধবদাস॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ হিম ঋতু সময়ে, সঙ্কেত কুঞ্জে ধনী, তুয়া লাগি করত বিলাপ। ঘোর বিরহ-জ্বরে, জর জর মানস, শিশিরহি থর থর কাঁপ॥ ঋতু বসন্ত, বিবিধ ফুল বিকসিত, ফাগুয়া খেলই রঙ্গে। সো বরনারী, তোহারি লাগি ঝুরত, রোয়ত সহচরী সঙ্গে॥ গিরীষ সময়ে তনু, গলি গলি পড়ু মহী, ঘামই বিরহ হুতাশে। বর্ষাঋতু ভেল, ঝরয়ে নয়নে জল, দুখ সায়রে ধনী ভাসে॥ নিরমল শরদ, চাঁদ হেরি সো ধনী, সোঙরিয়া রাস-বিলাস। রসসতি হৃদয়, ভেল উধ শ্বাসহি, কহতহি উদ্ধবদাস॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। ষড় ঋতুর বিরহ ॥ বড়াড়ী সুহই॥ হিমঋতু সময়ে সঙ্কেতকুঞ্জে ধনি তুয়া লাগি করত বিলাপ। ঘোর বিরহজরে জরজর মানস শিশিরহি থরথর কাঁপ॥ রীতু বসন্ত বিবিধ ফুল বিকসিত ফাগুয়া খেলই রঙ্গে। সো বরনারি তোহারি লাগি ঝুরত রোয়ত সহচরি সঙ্গে॥ গিরিষ সময়ে তনু গলি গলি পড়ু মহি ঘামই বিরহ-হুতাশে। বর্ষা ঋতু ভেল ঝরয়ে নয়নে জল দুখসায়রে ধনি ভাসে॥ নিরমল শরদচাঁদ হেরি সো ধনি সোঙরিয়া রাসবিলাস। রসসতিহৃদয় ভেল উধ শ্বাসহি কহতহিঁ উদ্ধব দাস॥ এই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৩১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পুনশ্চ ষড়ঋতু বর্ণন। ॥ বরাড়ী - একতালা॥ হিম-ঋতু সময়ে সঙ্কেত কুঞ্জে ধনি তুয়া লাগি করত বিলাপ। ঘোর বিরহ জরে জরজর মানস শিশিরহি থরথর কাঁপ॥ রীতু বসন্ত বিবিধ ফুল বিকশিত ফাগুয়া খেলই রঙ্গে। সো বর-নারি তোহারি লাগি ঝূরত রোয়ত সহচরী সঙ্গে॥ গিরিষ সময়ে তনু গলি গলি পড়ু মহী ঘামই বিরহ হুতাশে। বর্ষা ঋতু ভেল ঝরয়ে নয়ন জল দুখ-সায়রে ধনি ভাসে॥ নিরমল শরদ চাঁদ হেরি সো ধনি সোঙরিয়া রাস বিলাস। রসসতি-হৃদয় ভেল উধ শ্বাসহি কহতহি উদ্ধব দাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| চৈতন্য-কলপতরু অদ্বৈত যে শাখা গুরু চৈতন্য কল্পতরু অদ্বৈত যে শাখাগুরু কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থশাখা ১৭শপল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা, ২০৭২-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ চৈতন্য-কলপতরু অদ্বৈত যে শাখা গুরু কীর্ত্তন-কুসুম পরকাশ। ভকত-ভ্রমরগণ মধুলোভে অনুক্ষণ হরি বলি ফিরে চারি পাশ॥ গদাধর মহাপাত্র শীতল অভয়-ছত্র গোলোক-অধিক সুখ তায়। তিন-যুগে জীব যত প্রেম বিনু তাপিত তার তলে বসিয়া জুড়ায়॥ নিত্যানন্দ-নাম ফল প্রেম-রস ঢল ঢল খাইতে অধিক লাগে মীঠ। শ্রীশুকদেবের মনে মহিমা ফলের জানে উদ্ধব দাস তার কীট॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ২১৮১-পদসংখ্যায় হুবহু একই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ তথা রাগ॥ চৈতন্য-কলপতরু অদ্বৈত যে শাখা গুরু কীর্ত্তন-কুসুম পরকাশ। ভকত-ভ্রমরগণ মধুলোভে অনুক্ষণ হরি বলি ফিরে চারি পাশ॥ গদাধর মহাপাত্র শীতল অভয়-ছত্র গোলোক-অধিক সুখ তায়। তিন-যুগে জীব যত প্রেম বিনু তাপিত তার তলে বসিয়া জুড়ায়॥ নিত্যানন্দ-নাম ফল প্রেম-রস ঢল ঢল খাইতে অধিক লাগে মীঠ। শ্রীশুকদেবের মনে মহিমা ফলের জানে উদ্ধব দাস তার কীট॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীকৃষ্ণের রসউদ্গার আরম্ভ॥ চৈতন্য কল্পতরু বর্ণন॥ চৈতন্য কল্পতরু অদ্বৈত যে শাখাগুরু কীর্ত্তন কুসুম পরকাশ। ভকত ভ্রমরগণ মধুলোভে অনুক্ষণ হরি বোলি ফেরে চারিপাশ॥ গদাধর মহাপাত্র শীতল অভয় ছত্র গোলোক অধিক সুখ তায়। তিন যুগে জীব জত প্রেম বিনু তাপিত তার তলে বসিয়া জুড়ায়॥ নিত্যানন্দ নামফল প্রেমরস ঢলঢল খাইতে অধিক লাগে মিঠ। শ্রীশুকদেবের মনে মহিমা ফলের জানে উদ্ধব দাস তার কীট॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ চৈতন্য-কল্পতরু, অদ্বৈত যে শাখা গুরু, কীর্ত্তন-কুসুম পরকাশ। ভকত ভ্রমরগণ, মধুলোভে অনুক্ষণ, হরি বলি ফিরে চারি পাশ॥ গদাধর মহাপাত্র, শীতল অভয় ছত্র, গোলোক অধিক সুখ তায়। তিন যুগে জীব যত, প্রেম বিনু তাপিত, তার তলে বসিয়া জুড়ায়॥ নিত্যানন্দ-নাম ফল, প্রেম-রস ঢল ঢল, খাইতে অধিক লাগে মিঠ। শ্রীশুকদেবের মনে, মহিমা ফলের জানে, উদ্ধবদাস তার কীট॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ চৈতন্য কল্পতরু, অদ্বৈত যে শাখা গুরু, কীর্ত্তন কুসুম পরকাশ। কত ভ্রমরগণ, মধুলোভে অনুক্ষণ, হরি বলি ফিরে চারি পাশ॥ গদাধর মহাপাত্র, শীতল অভয় ছত্র, গোলোক অধিক সুখ তায়। তিন যুগে জীব যত, প্রেম বিনু তাপিত, তার তলে বসিয়া জুড়ায়॥ নিত্যানন্দ নাম ফল, প্রেম রসে ঢল ঢল, খাইতে অধিক লাগে মিঠা। শ্রীশুকদেবের মনে, মহিমা ফলের জানে, উদ্ধব দাস তার কীট॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ চৈতন্য কল্পতরু অদ্বৈত যে শাখাগুরু কীর্ত্তন-কুসুম পরকাশ। ভকত-ভ্রমরগণ মধুলোভে অনুক্ষণ হরি বলি ফিরে চারি পাশ॥ গদাধর মহাপাত্র শীতল অভয় ছত্র গোলোক অধিক সুখ তায়। তিন যুগে জীব যত প্রেম বিনু তাপিত তার তলে বসিয়া জুড়ায়॥ নিত্যানন্দ নাম ফল প্রেমরসে ঢল ঢল খাইতে অধিক লাগে মঠ। শ্রীশুকদেবের মনে মহিমা ফলের জানে উদ্ধব দাস তার কীট॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (১) এর নামে দেওয়া রয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা ॥ তথা রাগ॥ চৈতন্য কলপতরু অদ্বৈত যে শাখা গুরু কীর্ত্তন কুসুম পরকাশ। ভকত ভ্রমরগণ মধুলোভে অনুক্ষণ হরি বলি ফিরে চারি পাশ॥ গদাধর মহাপাত্র শীতল অভয়-ছত্র গোলোক অধিক সুখ তায়। তিন-যুগে জীব যত প্রেম বিনু তাপিত তার তলে বসিয়া জুড়ায়॥ নিত্যানন্দনাম ফল প্রেমরস ঢল ঢল খাইতে অধিক লাগে মীঠ। শ্রীশুকদেবের মনে মহিমা ফলের জানে এ উদ্ধব দাস তার কীট॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |