| কবি উদ্ধবদাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| বিচলিত বেশ কেশ কুচ-কাঁচুলি বিগলিত বেশ কেশ কুচ কাঁচলি কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল), ৪র্থখণ্ড, ৪র্থশাখা ৩০শপল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৬২৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কড়খা ধানশী॥ বিচলিত বেশ কেশ কুচ-কাঁচুলি . উড়তহি পহিরণ বাস। কবহিঁ গোরি-তনু ঝোঁখই ঝাঁপই . কবহুঁ হোত পরকাশ॥ . অপরূপ ঝুলন-রঙ্গ। রাইক প্রতি-তনু হেরইতে মোহন . মন মাহা মদন-তরঙ্গ॥ অতিশয় বেগ বাড়াওল তৈখনে . অলখিত ভেল হিণ্ডোর। রাধা চপল ডোর কর তেজল . কত কত কাকুতি বোল॥ কর গহি কানু-কন্ঠ ধরি কমলিনি . ঝূলত জনু হিয়ে হার। নব ঘন মাঝে বিজুরি জনু দোলত . রস বরিখত অনিবার॥ মনভব-মঙ্গল কানু কয়ল পুন . অলখিতে দোলা মাঝ। উদ্ধব দাস ভণ চতুর-শিরোমণি . পুরল নিজ মন-কাজ॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কখড়া পুন উক্তি॥ বিচলিত বেশ কেশ কুচ কাঁচলি উড়তহি পহিরল বাস। কবহি গোরি তনু রোখই ঝাপই কবহুঁ হোওত পরকাস॥ অপরূপ ঝুলন রঙ্গ। রাইক প্রতি তনু হেরইতে মোহন মনমাহা মদনতরঙ্গ॥ ধ্রু। অতিশয় বেগ বাঢ়ায়ল তৈখনে অলখিতে ভেল হিণ্ডোর। রাধা চপল ডোর করে তেজল কত কত কাকুতি বোল॥ করগহি কানু কন্ঠ ধরি কামিনী ঝুলত জনু হিয়া হার। নবঘন মাঝে বিজুরি জনু দোলত রস বরিখত অনিবার॥ মনভব মঙ্গল কাহ্ন কয়ল পুন অলখিতে দোলাক মাঝ। উদ্ধবদাস কহ চতুর শিরোমণি পুরল নিজ মন কাজ॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কড়খা ধানশী॥ বিচলিত বেশ, কেশ কুচ কাঁচুলী, উড়তহি পহিরণ বাস। কবহিঁ গোরী তনু ঝোঁখই ঝাঁপই কবহুঁ হোত পরকাশ॥ অপরূপ ঝুলন রঙ্গ। রাইক প্রতি তনু, হেরইতে মোহন, মন মাহা মদন তরঙ্গ॥ অতিশয় বেগ, বাড়াওল তৈখনে, অলখিত ভেল হিণ্ডোর। রাধা চপল, ডোর কর তেজল, কত কত কাকুতি বোল॥ কর গহি কানু, কন্ঠ ধরি কমলিনী, ঝূলত জনু হিয়ে হার। নব ঘন মাঝে, বিজুরী জনু দোলত, রস বরিখত অনিবার॥ মনোভব মঙ্গল, কানু কয়ল পুন, অলখিতে দোলা মাঝ। উদ্ধবদাস ভণ, চতুর শিরোমণি, পুরল নিজ মনকাম॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, ঝুলন লীলা, ৪৮৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কড়খা ধানশ্রী বা ললিত - তেওট॥ বিগলিত বেশ কেশ কুচ কাঁচলি উড়তহি পহিরণ বাস। কবহি গোরি তনু ঝাপই চাপই কবহু হোত পরকাশ॥ অপরূপ ঝুলন রঙ্গ। রাইক প্রতি তনু হেরইতে মোহন মন মাহা মদন তরঙ্গ॥ অতিশয় বেগ বাঢ়ায়ল তৈখনে অলখিত ভেল হিণ্ডোর। রাধা চপল ডোর কর তেজল কত কত কাকুতি বোল॥ করগহি কানু কন্ঠ ধরি কমলিনী ঝূলত জনু হিয়ে হার। নবঘন মাঝে বিজুরী জনু দোলত রস বরিখত অনিবার॥ মনভব মঙ্গল কানু কয়ল পুন অলখিতে দোলামাঝ। উদ্ধব দাস ভণ চতুর শিরোমণি পূরল নিজ মন কাম॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। অষ্টকালীয় নিত্যলীলা ॥ কড়খা ধানশী॥ বিচলিত বেশ কেশ কুচকাঁচুলি . উড়তহি পহিরণ বাস। কবহিঁ গোরিতনু ঝোঁখই ঝাঁপই . কবহুঁ হোত পরকাশ॥ . অপরূপ ঝুলনরঙ্গ। রাইক প্রতিতনু হেরইতে মোহন . মন মাহা মদনতরঙ্গ॥ অতিশয় বেগ বাড়াওল তৈখনে . অলখিত ভেল হিণ্ডোর। রাধা চপল ডোর কর তেজল . কত কত কাকুতি বোল॥ কর গহি কানুকন্ঠ ধরি কমলিনি . ঝূলত জনু হিয়ে হার। নব ঘন মাঝে বিজুরি জনু দোলত . রস বরিখত অনিবার॥ মনভবমঙ্গল কানু কয়ল পুন . অলখিতে দোলা মাঝ। উদ্ধব দাস ভণ চতুর শিরোমণি . পুরল নিজ মনকাজ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| অতিশয় ছরম ঘরম যুত দুহুঁ তনু অতিশয় ছরমে ঘরমে জুত কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল), ৪র্থখণ্ড, ৪র্থশাখা ৩০শপল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৬২৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ অতিশয় ছরম-ঘরম-যুত দুহুঁ-তনু . দোলা করল সুথীর। শ্রীরতিমঞ্জরি চামর করে ধরি . মৃদু মৃদু করত সমীর॥ ললিতাদিক সখি হেরি সুধামুখি . কুসুমহি করল নিছাই। দোলা সঞে তব রাই উতারল . কুসুমাসন পর লাই॥ রাই বামে করি বৈঠল নাগর . দাসীগণ করু সেবা। বাসিত জল উপহার আদি যত . যাকর সেবন যেবা॥ কর্পূর তাম্বুল বদনহি দেওল . তৈখনে সময়ে যোগাই। উদ্ধব দাস করত পদ সেবন . সখিগণ ইঙ্গিত পাই॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ অতিশয় ছরমে ঘরমে জুত দুহুঁজন দোলা করল সুথির। শ্রীরতিমঞ্জরী চামর করে ধরি মৃদু মৃদু করত সমীর॥ ললিতাদিক সখি হেরি সুধামুখী কুসুমহি করল নিছাই। দোলা সঞে তব রাই উতারল কুসুমাসন পর নাই॥ রাই বামে করি বৈঠল নাগর দাসীগণ করূ সেবা। বাসিত জল উপহার আদি জত জাকর সেবন জেবা॥ কর্পূর তাম্বুল বদনহি দেওল তৈখনে সময় জোগাই। উদ্ধবদাস করত পদ সেবন সখীগণ ইঙ্গিত পাই॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ অতিশয় ছরম, ঘরম-যুত দুহুঁ তনু, দোলা করল সুথির। শ্রীরতি মঞ্জরী, চামর করে ধরি, মৃদু মৃদু করত সমীর॥ ললিতাদিক সখী, হেরি সুধামুখী, কুসুমহি করল নিছাই। দোলা সঞে তর, রাই উতারল, কুসুমাসন পর নাই॥ রাই বামে করি, বৈঠল নাগর, দাসীগণ করু সেবা। বাসিত জল, উপহার আদি যত, যাকর সেবন যেবা॥ কর্পূর তাম্বুল, বদনহি দেয়ল তৈখনে সমরে যোগাই। উদ্ধবদাস, করত পদ সেবন, সখীগণ ইঙ্গিত পাই॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। অষ্টকালীয় নিত্যলীলা ॥ সুহই॥ অতিশয় ছরম ঘরমযুত দুহুঁতনু . দোলা করল সুধীর। শ্রীরতিমঞ্জরি চামর করে ধরি . মৃদু মৃদু করত সমীর॥ ললিতাদিক সখি হেরি সুধামুখি . কুসুমহি করল নিছাই। দোলা সঞে তব রাই উতারল . কুসুমাসন পর লাই॥ রাই বামে করি বৈঠল নাগর . দাসীগণ করু সেবা। বাসিত জল উপহার আদি যত . যাকর সেবন যেবা॥ কর্পূর তাম্বুল বদনহি দেওল . তৈখনে সময়ে যোগাই। উদ্ধব দাস করত পদ সেবন . সখিগণ ইঙ্গিত পাই॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| অপরুপ রাধা মাধব সঙ্গে কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল), ৪র্থখণ্ড, ৪র্থশাখা ৩০শপল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৬৩৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ অপরুপ রাধা মাধব সঙ্গে। বৃন্দা-রচিত-বিপিনে দুহুঁ বিলসয়ে করে কর ধরি কত রঙ্গে॥ ললিতানন্দদ কুঞ্জে যাই দুহুঁ বৈঠল সহচরি মেলি। ক্ষণ এক রহি পুন মদন-সুখদা নামে কুঞ্জহি সখি সহ মেলি॥ চিত্রা-সুখদা কুঞ্জে পুন ভ্রমি ভ্রমি চলু চম্পকলতা-কুঞ্জে। সুদেবি-রঙ্গদেবি-কুঞ্জে যাই দুহুঁ করু কত আনন্দপুঞ্জে॥ পূর্ণ-ইন্দু-সুখদা নামে কুঞ্জহি তহিঁ কত কৌতুক কেল। তুঙ্গবিদ্যা-সখি-কুঞ্জক হেরইতে সহচরিগণ লই গেল॥ ভ্রমইতে সকল কুঞ্জ দুহুঁ হেরল ষড়-ঋতু-শোভন-রীতে। ঐছন কুসুম-সুষমা বর দ্বিজগণে উদ্ধব দাস রস-গীতে॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ অপরূপ রাধা মাধব সঙ্গে। বৃন্দা রচিত, বিপিনে দুহু বিলসয়ে, করে কর ধরি মাত রঙ্গে॥ ললিতানন্দদ, কুঞ্জে যাই দুহুঁ, বৈঠল সহচরী মেলি। ক্ষণ এক রহি পুন, মদন সুখদ নামে, কুঞ্জহি সখী সহ মেলি॥ চিত্রা-সুখদ, কুঞ্জে পুন ভ্রমি ভ্রমি, চলু চম্পকলতা কুঞ্জে। সুদেবী-রঙ্গদেবী- কুঞ্জে যাই দুহুঁ, করু কত আনন্দপুঞ্জে॥ পূর্ণ ইন্দু সুখদ, নামে কুঞ্জহি তহি, কত কত কৌতুক কেল। তুঙ্গবিদ্যা সখী- কুঞ্জক হেলইতে, সহচরীগণ লই গেল॥ ভ্রমইতে সকল, কুঞ্জ দুহুঁ হেরল, ষড় ঋতু শোভন রীতে। ঐছন কুসুম-, সুষমা বর দ্বিজগণে, উদ্ধব দাস রস গীতে॥ এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, রূপানুরাগ, ৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মায়ূর - মধ্যম দশকুশী॥ অপরুপ রাধা মাধব সঙ্গে। বৃন্দা রচিত, বিপিনে দুহুঁ বিলসয়ে, করে কর ধরি কত রঙ্গে॥ ধ্রু॥ ললিতা নন্দদা কুঞ্জে, যাই দুহুঁ জন বৈঠল সহচরী মেলি॥ ক্ষণ এক রহি পুন, মদন-সুখদা নামে, কুঞ্জহিয় সখিগণ মেলি॥ চিত্রা-সুখদা কুঞ্জে, পুন পুন ভ্রমি ভ্রমি, চলু চম্পকলতা-কুঞ্জে। সুদেবি রঙ্গদেবি, কুঞ্জে যাই দুহুঁ, করু কত আনন্দ পুঞ্জে॥ পূর্ণ ইন্দু সুখদা নাম কুঞ্জহি তহি, কত কত কৌতুক কেল। তুঙ্গবিদ্যা সখি কুঞ্জক হেরইতে, সহচরিগণ লেই গেল॥ ভ্রমইতে সকল কুঞ্জ দুহুঁ হেরল, ষড়ঋতু শোভন রীতে। ঐছন কুসুম সুষমাবর দ্বিজগণে, উদ্ধবদাস রস গীতে॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, বন ভ্রমণ, ২৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মায়ূর - তেওট॥ অপরুপ রাধামাধব সঙ্গে। বৃন্দা রচিত, বিপিনে দুহুঁ বিলসয়ে, করে কর ধরি কত রঙ্গে॥ ললিতা নন্দদ, কুঞ্জে যাই দুহুঁ, বৈঠল সহচরী মেলি॥ ক্ষেণে এক রহি পুন, মদন সুখদা নামে, কুঞ্জহি সখী সহ মেলি॥ চিত্রা সুখদা কুঞ্জে, পুন পুন ভ্রমি ভ্রমি, চলু চম্পকলতা-কুঞ্জে। সুদেবি রঙ্গ দেবি, কুঞ্জে যাই দুহুঁ, করু কত আনন্দ পুঞ্জে॥ পূর্ণ ইন্দু সুখদা, নাম কুঞ্জহি, তঁহি কত কৌতুক কেল। তুঙ্গবিদ্যা সখি, কুঞ্জক হেরইতে, সহচরিগণ লেই গেল॥ ভ্রমইতে সকল, কুঞ্জে দুহুঁ হেরল, ষড় ঋতু শোভন রীতে। ঐছন কুসুম, সুষমাবর দ্বিজগণে, উদ্ধব দাস রস-গীতে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। অষ্টকালীয় নিত্যলীলা ॥ তথা রাগ॥ অপরুপ রাধা মাধব সঙ্গে। বৃন্দারচিত-বিপিনে দুহুঁ বিলসয়ে করে কর ধরি কত রঙ্গে॥ ললিতানন্দদা কুঞ্জে যাই দুহুঁ বৈঠল সহচরি মেলি। ক্ষণ এক রহি পুন মদন-সুখদা নামে কুঞ্জহি সখি সহ মেলি॥ চিত্রাসুখদা কুঞ্জে পুন ভ্রমি ভ্রমি চলু চম্পকলতাকুঞ্জে। সুদেবি রঙ্গদেবিকুঞ্জে যাই দুহুঁ করু কত আনন্দ পুঞ্জে॥ পূর্ণইন্দুসুখদা নামে কুঞ্জহি তহিঁ কত কৌতুক কেল। তুঙ্গবিদ্যা সখিকুঞ্জক হেরইতে সহচরিগণ লই গেল॥ ভ্রমইতে সকল কুঞ্জ দুহুঁ হেরল ষড়ঋতু শোভন রীতে। ঐছন কুসুমসুষমা বর দ্বিজগণে উদ্ধব দাস রসগীতে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বৃন্দা দেবি নিজ পরিজন সঙ্গহি কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল), ৪র্থখণ্ড, ৪র্থশাখা ৩০শপল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৬৪০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ বৃন্দা দেবি নিজ পরিজন সঙ্গহি . গাগরি ভরি মধু লেই। সখি সঞে রাই কানু যাহাঁ বৈঠই . তাহিঁ লাই সব দেই। ইহ অপরূপ মধু-পানকি রীত রাধা শ্যাম সবহু সখিগণ সঞে . পিবইতে মাতল চীত॥ ধ্রু॥ কাহুঁক গলিত চিকুর কোই চীরহি . কোই পড়ল মহি মাতি। কানুক মোর-মুকুট মুরলী খসি . মুখ সঞে খিতি গড়ি যাতি। রাইক বেণি গলিত কুচ অম্বর . শ্যাম উপরে পড়ু ঢোরি। উদ্ধবদাস পাশ রহি হেরইতে . তনু মন ভৈ গেল ভোরি॥ টীকা - পদকল্পতরুর সম্পাদক সতীশচন্দ্র রায় এই পদের পাদটীকায় লিখেছেন . . . “অতঃপর প-র পুথিতে (কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথি) নিম্নলিখিত কলিটি দৃষ্ট হয়, যথা--- রাধা মাধব কুঞ্জ-গৃহ-তলপহিঁ যাই করল পরবেশ। গোবিন্দদাস বিথারল রতি-রণ কত কত ভাব-বিশেষ॥ পরবর্তী পদের সহিত সামঞ্জস্য রক্ষার জন্যই বোধহয় এই কলিটি বৈষ্ণবদাস কর্ত্তৃক পরিত্যক্ত হইয়াছে।” এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩০৭-পৃষ্ঠায় এই পদটি “রতন মন্দিরে দুহুঁ নাগর নাগরি” শিরোনামের পদের দ্বিতীয়ার্ধ হিসেবে এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বড়ারি॥ রতনমন্দিরে দুহু নাগর নাগরী বৈঠল সখীক সমাজ। নাগর ইঙ্গিত করল বৃন্দাসখী তুরিতহি ঝুলন কাজ॥ জোই নিন্দই সিধুবাসিত বড় মধু তবহুঁ আগে আনি দেল। আপে ভোজন করি সকলে ভুঞ্জায়েত জতনহি কৌতুক কেল॥ কো কহুঁ প্রেম তরঙ্গ। সহজই প্রেম মধুর মধু রাধিকে তাহে পুন মধুপানরঙ্গ॥ ঢুলি ঢুলি পড়ত খলত অবলাগন ঘুরি ঘুরি বরাঠ না পারি। এত কহি নিজ নিজ কুঞ্জক মন্দিরে শয়ন করত সব নারী॥ . . . গোবিন্দদাসের ভণিতার কলিটি এখানে বসবে . . . বৃন্দা দেবি নিজ পরিজন সঙ্গহি গাগরি ভরি মধু লেই। সখী সঞে রাই কানু জাহা বিরাজহি তাহি জাগাই সব দেই। ইহ অপরূব মধুপানকে রিৎ। রাধাশ্যাম সবহুঁ সখীগণ সঞে পিবইতে মাতল চিত॥ কাহুক গলিত চিকুর কোই চিরই কোই পড়ল মহি মাঁতী। কানুক মৌর মুকুট মুরলী খসি মুখ সঞে ক্ষিতি গড়ি জাতি॥ রাইক বেণী গলিত কুচ অম্বর শ্যাম উপরে পড়ু ঢোরি। উদ্ধবদাস পাসরহি হেরইতে তনু মন ভৈ গেল ভোরি॥ তথ্য - বৈষ্ণবদাস সংকলিত ও বিরোচিত “শ্রীশ্রীপদকল্পকরুতে” এই “বৃন্দা দেবি নিজ পরিজন সঙ্গহি” (পদসংখ্যা ২৬৪০) পদটি, “রতন মন্দিরে দুহুঁ নাগর নাগরি” শিরোনামের ভণিতাহীন পদটির (পদসংখ্যা ২৬৩৯) পরবর্তী পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে। সুতরাং এই “রতন মন্দিরে দুহুঁ নাগর নাগরি” শিরোনামের ভণিতাহীন পদটি আসলে গোবিন্দদাসের পদ। আমাদের মনে হয় যে শ্রীপদমেরুগ্রন্থের সংকলক এই পদটি পদকল্পতরু থেকেই এখানে সন্নিবেশ করেছিলেন। ফলে প্রথম পদটির ভণিতা না থাকায়, তিনি এই দুটি পদকে একটিই পদের অভিন্ন অংশ ভেবেছিলেন। তাই তাঁর গ্রন্থে “রতন মন্দিরে দুহুঁ নাগর নাগরি” শিরোনামে এই পদটি দেওয়া রয়েছে। আমরা এই পদটিকে একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও তুলেছি।---মিলন সেনগুপ্ত, মিলনসাগর॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ বৃন্দাদেবী নিজ, পরিজন সঙ্গ হি, গাগরী ভরি মধু লেই। সখি সঞে রাই, কানু যাহাঁ বৈঠই, পাঁহি লাই সব দেই। কত অপরূপ মধু-পানকী রীত। রাধা শ্যাম, সবহুঁ সখীগণ সঞে, পিবইতে মাতল চিতে॥ কাহুঁক গলিত, চিকুর কোই চীরহি, কোই পড়ল মতি মাতি। কানুক মোর, মুকুট মুরলী খসি, মুখ সঞে ক্ষিতি গড়ি যাতি। রাইক বেণী, গলিত কুচ অম্বর, শ্যাম উপরে পড়ু ঢোরি। উদ্ধবদাস পাশ, রহি হেরইতে, তনু মন ভৈ গেল ভোরি॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি পদকর্তা উদ্ধব দাস (২) এর নামে দেওয়া রয়েছে। অষ্টকালীয় নিত্যলীলা ॥ তথা রাগ॥ বৃন্দা দেবি নিজ পরিজন সঙ্গহি . গাগরি ভরি মধু লেই। সখি সঞে রাই কানু যাহাঁ বৈঠই . তাহিঁ লাই সব দেই। . ইহ অপরূপ মধুপানকি রীত। রাধা শ্যাম সবহুঁ সখিগণ সঞে . পিবইতে মাতল চীত॥ ধ্রু॥ কাহুঁক গলিত চিকুর কোই চীরহি . কোই পড়ল মহি মাতি। কানুক মোর মুকুট মুরলী খসি . মুখ সঞে খিতি গড়ি যাতি। রাইক বেণি গলিত কুচঅম্বর . শ্যাম উপরে পড়ু ঢোরি। উদ্ধবদাস পাশ রহি হেরইতে . তনু মন ভৈ গেল ভোরি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নাগর নাগরী সঙ্গে সহচরী কবি উদ্ধব দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল), ৪র্থখণ্ড, ৪র্থশাখা ৩০শপল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৬৭০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ নাগর নাগরী সঙ্গে সহচরী বিনোদ পাশার খেলা। সহচর-পণে নাগর হারিলা দেখি বটু পলাইলা॥ ললিতা বিশাখা ধাইয়া তাহারে বান্ধিয়া রাখিতে চায়। শ্রীমধুমঙ্গল হাসি খল খল সখা-জয় বলি ধায়॥ তোর সখা তোরে খেলাতে হারিলে আর কি করিতে পারে। রাধিকার নিজ পরিজন করি নিকটে রাখিব তোরে॥ এত কহি তার করেতে ধরিয়া রাইয়ের নিয়ড়ে আনে। হেরি সুবদনী ঈষৎ হাসিয়া চাহে তার মুখ পানে॥ সুদেবী কহয়ে দ্বিজের কুমার ইহারে ছাড়িয়া দেহ। আর প্রিয়সখা সুবল আছয়ে তাহারে বান্ধিয়া লেহ॥ কহিতে এ বোল দুজনে কোন্দল সভে কহে মোর জয়। বৃন্দা কুন্দলতা সমাধয়ে তথা এ দাস উদ্ধব কয়॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগ তালো যথা॥ নাগর নাগরী সঙ্গে সহচরী বিনোদ পাসার খেলা। সহচরী পণে নাগর হারিলা দেখি বটু পলাইলা॥ ললিতা বিশাখা ধাইয়া তাহারে বান্ধিআ রাখিতে চায়। শ্রীমধুমঙ্গল হাঁসি খলখল সখা জয় বলি ধায়॥ তোর সখা মূঢ় খেলাতে হারিল আর কি করিতে পারে। রাধিকার নিজ পরিজন করি নিকটে রাখিব তোরে॥ এত কহি তার করেতে ধরিয়া রাইর নিয়ড়ে আনে। হেরি সুবদনী ঈষত হাসিআ চাহে তার মুখপানে॥ সুদেবী কহএ দ্বিজের কুমার ইহারে ছাড়িয়া দেহ। আর প্রিয় সখা সুবল আছএ তাহারে বান্ধিআ লহ॥ কহিতে এ বোল দুজনে কুন্দল সভে কহে মোর জয়। বৃন্দা কুন্দলতা সমাধএ তথা এ দাস উদ্ধব কয়॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” তয় খণ্ড, পাশা-ক্রীড়া, ৩০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বরাড়ি - মধ্যম একতালা॥ নাগর নাগরী, সঙ্গে সহচরী, বিনোদ পাশার খেলা। সহচর পণে, নাগর হারিলা, দেখি বটু পলাইলা॥ ললিতা বিশাখা, ধাইয়া তাহারে, বাঁধিয়া রাখিতে চায়। শ্রীমধু মঙ্গল, হাসি খল খল, সখা-জয় বলি ধায়॥ তোর সখা তোরে, খেলাতে হারিলে, আর কি করিতে পারে। রাধিকা নিজ, পরিজন করি, নিকটে রাখিব তোরে॥ এত কহি তার, করেতে ধরিয়া, রাইয়ের নিয়ড়ে আনে। হেরি সুবদনী, ঈষৎ হাসিয়া, চাহে তার মুখ পানে॥ সুদেবী কহয়ে, দ্বিজের কুমার, ইহারে ছাড়িয়া দেহ। আর প্রিয় সখা, সুবল আছয়ে, তাহারে বান্ধিয়া লেহ॥ কহিতে এ বোল, দুজনে কোন্দল, সবে কহে মোর জয়। বৃন্দা কুন্দলতা, সমাধয়ে তথা, এ দাস উদ্ধবে কয়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |