কবি মীর মোশার্রফ হোসেনের গান ও কবিতা
*
এই গানটিকে ভুল করে আমরা কবি মীর মোশার্রফ হোসেনের গানের মধ্যে ধরেছিলাম কারণ গানটি তাঁর জীবনীমূলক গ্রন্থ
“উদাসীন পথিকের মনের কথা”-র অন্তর্ভুক্ত আছে। গানটি আসলে
পাঁচালীকার রসিকচন্দ্র রায়ের রচনা। গানটি রয়েছে "রসিকচন্দ্র"
ভণিতাসহ, দুর্গাদাস লাহিড়ী সংকলিত ও সম্পাদিত বাঙালীর গান সংকলের ৪২৭-পৃষ্ঠায়।
আমরা কৃতজ্ঞ শ্রী সুব্রত মজুমদারের কাছে যিনি আমাদের এই ভুলটি সংশোধন করিয়ে
দিয়েছেন। তাঁর ইমেল -
subrata.mjder@gmail.com ।  
মিলনসাগরে রসিকচন্দ্র রায়ের কবিতা-গানের পাতা এখনও তৈরী হয় নি। তাই আমরা গানটি এখান থেকে না সরিয়ে আমাদের
সংশোধনীটি উল্লেখ করছি।
আয় মা সাধন সমরে
রচয়িতা রসিকচন্দ্র রায়, কবি মীর মশার্রফ হোসেন নন।
মীর মশার্রফ হোসে
নের জীবনীমূলক গ্রন্থ “উদাসীন পথিকের মনের কথা”-র গান।
ডঃ বিষ্ণু বসু সম্পাদিত মীর মশার্রফ হোসেন রচনাসংগ্রহ, প্রথম খণ্ড (১৯৫৭) থেকে নেওয়া।


আয় মা সাধন সমরে।
দেখবো মা হারে, কি পুত্র হারে॥
অশ্বারোহণ করিয়ে কালীসাধন রথে, তপ-যপ দুটো অশ্বযুতে তাতে,
দিয়ে জ্ঞান ধনুকে টান, ভক্তি ব্রহ্মবাণ বসেছি ধ’রে॥
মা দেখ্ বো তোমার রণে, শঙ্কা কি মরণে,
ডঙ্কা মেরে লব মুক্তি-ধন---
তাতে বসনা ঝঙ্কারে, কালী নাম হুঙ্কারে,
কার সাধ্য আমার বলে রণ॥
বারে বারে বস তুমি দৈত্যজয়ী, এই আমার বাণ, এস ব্রহ্মময়ী,
ভক্ত রসিকচন্দ্র বলে, মা তোমারই বলে,
জিনবো তোমারে॥

.                         ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ফুটিল বসন্তফুল মোহনকাননে
কবি মীর মশার্রফ হোসেন
“বসন্তকুমারী” নাটকের গান।
ডঃ বিষ্ণু বসু সম্পাদিত মীর  মশার্রফ  হোসেন  রচনাসংগ্রহ, প্রথম খণ্ড (১৯৫৭) থেকে
নেওয়া।


॥ বসন্ত বাহার, আড়া॥

ফুটুল বসন্তফুল মহনকাননে।        ( সই )
পিক বঁধু শাখী পরে,
কুহুকে পঞ্চম সুরে,
.        শুনে প্রাণ হু-হু করে,
বিয়োগী মরে জীবনে।
ফুলশরে ফুলবান,
হাসিতেছে পঞ্চবাণ,
.        ঋতুরাজ বধে প্রাণ,
.                প্রমোদিত উপবনে।
এ বসন্তে কান্তাহারা,
আঁখি ঝরে তারা কারা,
কোথা রে নয়নতারা,
.        সতত বলে বদনে॥

.               ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মিছে কেন মিছে ভবে এত অন্ধকার
কবি মীর মশার্রফ হোসেন
“বসন্তকুমারী” নাটকের গান।
ডঃ বিষ্ণু বসু সম্পাদিত মীর মশার্রফ হোসেন রচনাসংগ্রহ, প্রথম খণ্ড (১৯৫৭) থেকে নেওয়া।


( নেপথ্যে গান )

॥ রাগিনী বেহাগ, তাল আড়া॥

মিছে কেন মিছে ভবে এত অন্ধকার।
ভাবিতে কি হবে ভবে হেন সাধ্য কার
ছিলাম রমণী সনে,
প্রেমরসে আলাপনে,
মিছে প্রণয় বন্ধনে,
করি হাহাকার?
মনে ছিল যত আশা,---
সকলি হলো নিরাশা,
ভাঙিল আশার বাসা,
হেরি অন্ধকার।
আমার যুগল করে,
কঠিন বন্ধন করে,
পরাণ কেমন করে,
বাঁচিনে যে আর॥

.                         ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আর বাঁচি না প্রাণ সই রে
কবি মীর মশার্রফ হোসেন
“সঙ্গীত লহরী”-র গান।
ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য সাধক চরিতমালা ২য় খণ্ড” (১৯৪০) থেকে পাওয়া।


আর বাঁচি না প্রাণ সই রে, পোড়া শীতে মজাইল।
অভাগার ভাগ্যতে বিধি, বুঝি এই লিখেছিল।
কাঁপে অঙ্গ থর থর,
বুঝি গায়ে এল জ্বর,
কারে বলি ধর ধর ভাগ্যে কেহ না জুটিল।
বুকে বুকে মুখে মুখে,
কত জনে আছে সুখে,
(কেবল) কান্দি আমি মন দুঃখে, এবারকার শীত একা গেল।
বিধি যদি সদয় হয়ে,
দিতেন হতভাগার বিয়ে,
দেখতেন শীতে দুজনায়, মনে বড় খেদ রহিল।

.                         ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
রবে না দিন চিরদিন, সুদিন কুদিন
কবি মীর মশার্রফ হোসেন
“সঙ্গীত লহরী”-র গান। “মশা” ভণিতায় এই গানটি লিখেই কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের
ফিকিরচাঁদ ফকিরের বাউল দলের সদস্য হয়ে যান। ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত
“সাহিত্য সাধক চরিতমালা ২য় খণ্ড” (১৯৪০) থেকে পাওয়া।


রবে না দিন চিরদিন, সুদিন কুদিন, একদিন দিনের সন্ধ্যে হবে।
আমার আমার, সব ফক্কিকার, কোবল তোমার, নামটি রবে ;
হবে লীলা সাঙ্গ, সোনার অঙ্গ, ধূলায় গড়াগড়ি যাবে।
সংসারে মিছে বাজি, ভোজের বাজি, সব কারসাজি ফুরাইবে ;
মরি এক পলকে, তিন ঝলকে, সকল আশা মিটে যাবে।
তোমার এই আত্মস্বজন, ভাই পরিজন, হায় হায় ক’রে কাঁদবে সবে ;
তারা পেয়ে ব্যথা, ভাঙ্গবে মাথা, তুমি কথা না কহিবে।
দেখ তোমার এই টাকাকড়ি, ঘর বাড়ী, ঘড়ি গাড়ী প’ড়ে রবে ;
আবার হাত থাকিতে, পারহিতে, পরের কান্দে যেতে হবে।
চিরকাল ক’রে হেলা, গেল বেলা, এখন সন্ধ্যাবেলা আর কি হবে ;
(এই) জগতের কারণ যিনি, দয়ার খনি, তিনি ‘মশা’র ভরসা ভবে।

.                         ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
চল মন ষ্টেশনে, টিকিট কিনে
কবি মীর মশার্রফ হোসেন
“সঙ্গীত লহরী”-র গান। “মশা” ভণিতায় লেখা।
ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য সাধক চরিতমালা ২য় খণ্ড” (১৯৪০) থেকে
পাওয়া।


.        চল মন ষ্টেশনে, টিকিট কিনে,
.        একবার তারে দেখে আসি।
১।      যার যেখানে হচ্ছে মনে,
.        যাচ্ছে করে হাসি খুশী।
.        তোমার কি ভাবনা, ঠিক বল না,
.        ভাবছ কি আর পথে বসি॥
২।     অরে! বাজলে ঘড়ি, আসবে গাড়ী,
.        তাজ তুপড়ি বান্দো কসি।
.        কর কি দৌড়ে চল, করে বল,
.        যাবে চলে বাজলে বাঁশী॥
৩।     তোমার কি নাই ঠিকানা, পথ চিন না,
.        জান না সে কোন দেশবাসী।
.        ভাল কি সম্বলে, পথে চল,
.        বল তোমায় তাই জিজ্ঞাসি।
৪।     কত দিন উচট খেলে, দৌড়ে ম’লে,
.        ছটকে প’লে, তিন চার রসি---
.        এতে আর কোথা যাবে,
.        কারে পাবে, ভাবে, মশা দিবানিশি॥

.                         ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ওরে ভারত জাগ জাগ দিন গেল
কবি মীর মশার্রফ হোসেন
“সঙ্গীত লহরী”-র গান।
ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য সাধক চরিতমালা ২য় খণ্ড” (১৯৪০) থেকে
পাওয়া।


ওরে ভারত জাগ জাগ দিন গেল।
ঘুমের ঘোরে থেকে তোমার সর্ব্বনাশ হইল॥
(তোমার) টাকাকড়ি হীরা মতি যা যেখানে ছিল।
যে পেল সে লুটে পুটে আপন ঘর ভরিল রে॥
যাদের নামে কাঁপিছে বাসুকি পাতালে।
এখন তাদের বুকে মারছে নাথি বানরের দলে রে॥
বিদ্যা বুদ্ধি সাহস বলে বলী ছিল যারা।
শেল কুকুরের মত মারা যাইতেছে তারা রে।
যা দেখেছ আছে এখন তার ত কিছু নাই।
সুখের দফা শেষ করেছে বিড়ালচখ ভাই রে॥
রেল চলেছে কল চলেছে চলেছে আর কত।
সঙ্গে সঙ্গে ফাটছে পিলে খেয়ে এড়ির গুঁত রে॥
সূর্য্য এখন চিত্র করে বিদ্যুতে দেয় আলো।
তেল সলিতার বিনে বাতি জ্বলিতেছে ভাল রে॥
ছয় মাসের পথের কথা এক পলকে আসে।
পেঁড়ের খবর নিচ্ছে লোকে আপন পিড়েয় বসে রে॥
জলে খেলে কলের বোট কত বা জাহাজ!
গঙ্গার বুকে বাঁধ বাঁধিল কলি মহারাজ রে॥
দেখে শুনে ভুলছে লোকে হায় রে কারিগরি!
ঘরের খবর কেউ রাখে না এই ত বাহাদুরি রে॥
(ওরে) সাত সমুদ্র পারে গিয়া তোমার পুত্রগণ।
শিক্ষালাভ করিতেছে মনের মতন রে॥
আবার বলবীর্য্য দেখাইতে কোন কোন নারী।
বীর বেশেতে ঘোড়ায় চড়ে যাচ্ছে সারি সারি॥
মৃত্যুজীব জাগিতেছে গলাবাজীর বোলে।
ভারতসভা জাতিসভা হচ্ছে দলে দলে রে॥
নাই ভেদাভেদ কোন প্রভেদ হিন্দু মুসলমান।
ক্রমে ক্রমে হইতেছে এক দেহ এক প্রাণ রে॥
দিনে দিনে বাড়তেছে বি. এ, এম্. এর দল।
মেয়েরা সব শিক্ষালাভে হয়েছে পাগল রে॥
জাগ জাগ ওরে ভারত ঘুমিও না আর।
তোমার ছেলে তোমার মেয়ে সকলই তোমার রে॥

.                         ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর