কবি আনন্দচন্দ্র মিত্রের কবিতা ও গান
ভারত-শ্মশান মাঝে আমি রে বিধবাবালা
কবি আনন্দচন্দ্র মিত্র
১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরুণকুমার মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত
“ঊনবিংশ শতকের গীতিকবিতা সংকলন”-এ কবিতা আকারে দেওয়া রয়েছে।  
১৩১২বঙ্গাব্দে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ২২৭জন গীতিকারের  
৫৬৬৩টি গানের সংকলন “বাঙ্গালীর গান”-এ এটি গীত হিসেবে দেওয়া রয়েছে। এপ্রীল
২০০১সালের পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি সংস্করণ। এই গানটি এককালে ভীষণ
জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।

॥ লুমঝিঝিট - পোস্তা॥

ভারত-শ্মশান মাঝে, আমি রে বিধবাবালা।
বিষের মূরতি ক’রে, বিধি আমায় পাঠাইলা!
জানি না কেমন পতি, মনে নাই রে সে মূরতি ;
তথাপি যুবতী হ’য়ে পেটে অন্ন নাই দু বেলা।
বিবাহ কি তাও জানি নে, কেবলমাত্র প’ড়ে মনে,
অনিচ্ছাতে শৈশবেতে খেলেছি এক দুঃখের খেলা।
পিতা মাতা নিদয় হ’য়ে, পরের হাতে সঁপে দিয়ে ;
ছিঁড়ে নিয়ে কোমল কলি, কণ্টকে গাঁথিল মালা।
না বুঝিলেম ভালবাসা, নাহি সুখ নাহি আশা ;
কারে ক’ব এ দুর্দশা, কে বুঝিবে মর্মজ্বালা।
পথিক বলে দেশাচারে, গেল ভারত ছারেখারে ;
পাপিষ্ঠ ভারতবাসী, পাষাণ হ’য়ে না দেখিলা।

.              ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
কোথায় হরিলে সব ভারত ভূষণ
কবি আনন্দচন্দ্র মিত্র
১৩১২বঙ্গাব্দে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ২২৭জন গীতিকারের  
৫৬৬৩টি গানের সংকলন “বাঙ্গালীর গান”-এর গান। এপ্রীল ২০০১সালের পশ্চিমবঙ্গ বাংলা
আকাদেমি সংস্করণ।

॥ বেহাগ - আড়াঠেকা॥

কোথায় হরিলে সব ভারত ভূষণ,
একবার এসে দুঃখিনীরে করো দরশন।
সুরম্য কুসুমবন, দাবানলে দহে যেন,
নিষ্ঠুর শ্বাপদ পদে করিছে দলন॥
কোথা রাম রঘুমণি বীরত্ব-ধীরত্বখনি,
কোথা সীতা, কোথা সতী ভারতের প্রাণধন।
কোথা ভীষ্ম ভীমার্জুন, কোথা যোগী ঋষিগণ,
কোথা সেই নবরত্ন অমূল্য রতন॥
অজ্ঞানতা-অন্ধকারে, অধীনতা-পারাবারে,
ভাসিছে ভারত ওই, ভরসা নাহি সংসারে ;
জননির এ যাতনা, কেউ দেখেও দেখে না,
পথিক বলে সবে মোহ-নিদ্রায় মগন॥

.              ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
উঠো উঠো উঠো সবে ভারত-সন্তানগণ
কবি আনন্দচন্দ্র মিত্র
১৩১২বঙ্গাব্দে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ২২৭জন গীতিকারের  
৫৬৬৩টি গানের সংকলন “বাঙ্গালীর গান”-এর গান। এপ্রীল ২০০১সালের পশ্চিমবঙ্গ বাংলা
আকাদেমি সংস্করণ।

॥ বিভাস - ঝাঁপতাল॥

উঠো উঠো উঠো সবে ভারত-সন্তানগণ।
থেকো না থেকো না আর,
মোহ-নিদ্রায় অচেতন॥
পোহাইল দুঃখ-নিশি, সুখ-সূর্য ওই রে,
পথিক বলে হাসিতেছে,
দেখো রে মেলে নয়ন।
ঘোরতর অন্ধকার, পাপ-নিশাচর আর,
ওই দেখ পোহাইল, আর দুঃখ রবে না ;
জ্ঞানালোক প্রকাশিল সুপবন বহিল,
ভারত-কাননে ডাকে, আশা-বিহঙ্গিনীগণ॥
সুপ্রভাতে শুভক্ষণে, চলো সবে সযতনে,
আলস্য-ঔদাস্য বশে আর কেহ থেকো না ;
প্রেমের পতাকা তুলি বিভূপদ স্মরি রে,
ভাসাও জীবন-তরি করো শীঘ্র আয়োজন॥

.              ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
ভারত নারীর দশা ভাবিতে প্রাণ বিদরে
কবি আনন্দচন্দ্র মিত্র
১৩১২বঙ্গাব্দে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ২২৭জন
গীতিকারের ৫৬৬৩টি গানের সংকলন “বাঙ্গালীর গান”-এর গান। এপ্রীল ২০০১সালের
পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি সংস্করণ।

॥ ঝিঁঝিট - আড়া॥

ভারত নারীর দশা ভাবিতে প্রাণ বিদরে।
দেখে বিষাদ-মুরতি দু-নয়নে অশ্রু ঝরে॥
রূপে গূণে অতুলনা, যত ভারতললা,
দলিত কুসুম সম অনাদরে অত্যাচারে।
যে দেখে সাবিত্রী জনা, সীতা দময়ন্তী,
খনা, জন্মেছিল, সেই দেশ ঢেকেছে কী অন্ধকারে
ভারত যুবকগণ, করো করো দরশন,
জননি ভগিনীগণ, ভাসিছে দুঃখসাগরে॥
গৃহলক্ষ্মীরূপা যাঁরা, মৃতপ্রায় আছে তাঁরা,
তাই এত পাপ তাপ,
ভারতের ঘরে ঘরে।
অবলার যত্ন বিনা, ভারতের এ যাতনা,
ঘুচিবে না ঘুচিবে না শত যুগ যুগান্তরে॥

.              ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
সাধের ভারত ভূমি ঢাকিল কি অন্ধকারে
কবি আনন্দচন্দ্র মিত্র
১৩১২বঙ্গাব্দে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ২২৭জন
গীতিকারের ৫৬৬৩টি গানের সংকলন “বাঙ্গালীর গান”-এর গান। এপ্রীল ২০০১সালের
পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি সংস্করণ।

॥ মল্লার - আড়াঠেকা॥

সাধের ভারত ভূমি ঢাকিল কি অন্ধকারে।
সবে অন্ধ মহামোহে, মত্ত হয়ে পরদ্রোহে,
নিজ হস্তে নিজগৃহ, দুখানলে দগ্ধ করে॥
কীবা মহৎ কীবা ক্ষুদ্র, কীবা ব্রহ্মণ কীবা শূদ্র,
কীবা ধনী কী দরিদ্র, শত্রুভাব ঘরে ঘরে ;
সবে বটে ভাই ভাই, কারো প্রতি স্নেহ নাই,
সঁপিয়াছে দুঃখিনীরে, জন্মভূমি জননিরে।
এই দম্ভ-পাপে হায়, অনাহারে মৃতপ্রায় ;
সহস্র বারতযুবা ভিক্ষা করে দ্বারে দ্বারে॥
কেহ চির পরবাসে, দুঃখের সাগরে ভাসে,
জীবনেতে জীন্মৃত, অনাদরে অত্যাচারে।
পথিক বলে এই পাপে, পুড়িতেছে মনস্তাপে,
দুখিনী ভারতনারী ভসিছে নয়নাসারে।
ভ্রুণহত্যা ব্যভিচারে, গেল দেশ ছারে খারে
পাপিষ্ঠ ভারতবাসী, দেখেো তা দেখে না রে॥

.              ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
চেয়ে দেখো দেখো ওহে ভারত-সন্তানগণ
কবি আনন্দচন্দ্র মিত্র
১৩১২বঙ্গাব্দে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ২২৭জন
গীতিকারের ৫৬৬৩টি গানের সংকলন “বাঙ্গালীর গান”-এর গান। এপ্রীল ২০০১সালের
পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি সংস্করণ।

॥ খাম্বাজ - আড়া॥

চেয়ে দেখো দেখো ওহে ভারত-সন্তানগণ।
জননি জনমভূমি চির বিষাদে মগন॥
হারাইয়া রত্নাসন, অরণ্যে করে ভ্রমণ ;
অনাদরে অত্যাচারে, নীরবে করে রোদন।
অজ্ঞানতা অধীনতা, পাপ তাপ দরিদ্রতা ;
শত শত চিতানলে ভরতে করে দাহন॥
না জানি কী মহাপাপে, পুড়িতেছে মনস্তাপে,
কনকপুতলি সম, ভারতরমণীগণ।
শক্তিরূপা যে রমণী, গৃহলক্ষ্মীরূপা যিনি,
(সেই) অসহায়া, অভাগিনি,
হেরিতে বিদরে প্রাণ॥
কিন্তু হায় যত দিন, অবলা রহিবে হীন,
রবে চির অস্গত, ভারত সুখ-তপন॥

.              ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
একাকী কাননে বসি কে তুমি বলো রমণী
কবি আনন্দচন্দ্র মিত্র
১৩১২বঙ্গাব্দে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ২২৭জন
গীতিকারের ৫৬৬৩টি গানের সংকলন “বাঙ্গালীর গান”-এর গান। এপ্রীল ২০০১সালের
পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি সংস্করণ।

॥ বেহাগ - আড়াঠেকা॥

একাকী কাননে বসি কে তুমি বলো রমণী।
স্বভাব সুন্দর অতি, নব রসে রসবতী,
শত কোটি চন্দ্র জিনি প্রভাময় মুখখানি॥
নাহি কোনো অলংকার মণিমুক্তা চন্দ্রহার,
লাবণ্য তবু অপার, বনফুলে সুশোভিনী॥
বিষাদে মলিন বেশে, বলো কী ভাবিছ বসে,
নয়নজলে যাও ভেসে, কোন দুঃখে বিনোদিনী।
ছাড়ো ওই জীর্ণ বাঁশি, ত্বরা লহ মাল্য অসি,
আমি যাহা ভালোবাসি, সাজো রণ-বিলাসিনী॥
পথিক বলে মাতৃভাষা, হায় তোমার এ দুর্দশা,
কত দিনে মনের আশা, পূর্ণ হবে নাহি জানি॥

.              ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*