কবি অসীম হালদারের কবিতা
*
স্বরলিপি
কবি অসীম হালদার
নোনাদেওয়াল বেয়ে সন্ধ্যা নামে
বৃষ্টি পোড়ায় আগুন
তুমিও মানবী হয়ে ওঠ, তুলসিতলায় প্রদীপ
ভাঙা-আকাশ বেয়ে বৃষ্টি নামে
বসন্ত চিৎ হয়ে শোয় মরা-গাঙে
কৄষ্ণ বাজায় বাঁশি.........
নক্ষত্রের গায়ে খোদিত হয় স্বরলিপি
নীলকন্ঠ বাসায় ফেরে ঠোটে নিয়ে বিষ!
. ****************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি অ
সীম হালদারের
পরিচিতির পাতায় . . .
*
আদি গঙ্গার পাড়ে
কবি অসীম হালদার
হেস্টিংস থেকে কালিঘাট মজে যাওয়া আদিগঙ্গা
শুয়োর – মোষ - ব্যাকটিরিয়া রাজকরে দূর্গন্ধের সাথে।
পাড়বাসীর ঊষারাণী দেখা দেয়, শরীরে অসহ্য ব্যাথা ও ক্ষিধে নিয়ে
তেল চিটচিটে জামা, শরীরে দূর্গন্ধ এসব তুচ্ছ প্রতিরোধ
যাঁদের সন্ধ্যা নামে বিয়ারের বোতল ধরে
মাথার ভেতর চরে বেড়ায় শুয়োরেরা
রাত বাড়তেই কচু খোঁজে আদিগঙ্গার পাড়ে
শিশু - কিশোরী ভোগ্য হয়, কালোকাঁচের আড়ালে।
দূর্গন্ধমাখা শরীর ধরে ক্ষুধা মেটায় যাঁরা
শাওয়ার তাঁদের সব মুছে দেয় কলঙ্কিনী ওরা!
. ****************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি অ
সীম হালদারের
পরিচিতির পাতায় . . .
*
দাঁড়িয়ে আছি একা
কবি অসীম হালদার
চারিদিকে এত উত্থান-পতন ভাঙ্গাচোরা
বড় বড় অট্রালিকার মাঝে জীবিত-লাশের স্তুপ।
আমি হেঁটে য়াই বিশ্বাসঘাতকের দেশে
ল্যা্বণ্যশরীরে,শক্ত হৃদয়ের চোরাগলি বেয়ে
জীবনের কঠিন বাঁকে,
একলা হয়ে দাঁড়িয়ে আছি একা
তোমায় আলো দেখাবো বলে।
. ****************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি অ
সীম হালদারের
পরিচিতির পাতায় . . .
*
পথিক
কবি অসীম হালদার
কত মানুষ দীর্ঘশ্বাস বেয়ে বেয়ে নদী পার হয়
অস্ত-সূর্যের দেশ, অনন্তলোক.....
তাদেরও তো পৃথিবীকে সুপ্তবাসনা ঘুমন্তবুক
উদয়-অস্তের মাঝখানে জীবন্ত লাশ
আমি তো রংচটা পৃথিবীর প্রান্তিক রাস্তার পথিক
রংমশালও পোড়াকাঠের বোবাদর্শক
রবীন্দ্রসেতু পার না হওয়া আলো-আঁধার
তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক
. ****************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি অ
সীম হালদারের
পরিচিতির পাতায় . . .
*
বৃষ্টির ঘর
কবি অসীম হালদার
নরম ভালোবাসায় তুষের আগুন
অমোঘ বৃষ্টি ঝরায় বুকে
তুই কেন ভাঙলি বৃষ্টির ঘর
বাড়িয়ে দিলি কাঁসাই নদীর সাঁকো
এখানে ধোঁয়া-ঢাকা দুপুর বারুদের গন্ধ
লাশঢাকা পথ, এই ঘোর-অমাবস্যায়
তোকে কোথায় খুজি বল!
. ****************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি অ
সীম হালদারের
পরিচিতির পাতায় . . .
*
বেঁচে থাকা
কবি অসীম হালদার
আজ যদি দু’হাত বাড়িয়ে ছুটে আসো
কিছুই দিতে পারবনা তোমায়
আমার বলিষ্ট হাতের ফাঁক গলে বেড়িয়ে গেছে-
সারা জীবনের সঞ্চিত বালি।
নিঃস্ব হাতে দাড়িয়ে আছি আমি
কালকেউটের ফনায়।
কিছু মানুষ বেঁচে থাকে
বাধ্যবাদকতা আছে, তাই বেঁচে থাকে.....
. ****************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি অ
সীম হালদারের
পরিচিতির পাতায় . . .
*
মোহিনী-২
কবি অসীম হালদার
মোহিনী,
আমি আর আসবনা
সময় অসময় তোমার হাতে তুলে দেবনা-
অন্ধকার আর আশঙ্কা
না হয় কিছু বৃষ্টি ভেজা আগুন পকেটে রাখব।
. ****************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি অ
সীম হালদারের
পরিচিতির পাতায় . . .
*
রাস্তা
কবি অসীম হালদার
রাস্তা দিয়ে পথ হাঁটি। দামী গাড়ি শব্দহীন,ঠেলে দেয় ফুটপথ...
হোঁচট খাই। লোক লোক দেখি। গায়ে ঘামের গন্ধ হয়।
চাকরি খুজিনা। এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ কার্ড ল্যাপস্।
চাকরি নেই। প্রেমিকা নেই। দু:খ হলে মদ নেই।
টিউশনের পয়সা, অমৃত ফোঁটে মায়ের হাড়িতে।
অন্ধকারে পথ চলি, আলো আনতে।
আলো নেই। ওপাশে শহর এপাশে গ্রাম,
চিড়ে-চ্যাপটা হই শহরতলীতে। গ্রহন নেই বর্জন নেই,
অনন্ত রাস্তা। বিড়ি হাতে পথ হাটি..........
জীবন ভাঙাচোরা হলেও থামে না,
স্টেশনের হাড়ি কলসিহীন পাগলের মত........
. ****************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি অ
সীম হালদারের
পরিচিতির পাতায় . . .
*
আমি
কবি অসীম হালদার
তোমার এক একটা বদঅভ্যেস চোখকান বুজে গিলছি
আমি তো নীলকন্ঠ নই যে হজম করব।
এই দেখ, আমি প্রায় পোড়াকাঠ হয়ে গেছি
কাস্তে-হাতুড়ি-ঘাসফুল-হাত সবাই বৃষ্টি বৃষ্টি করে
ফালতু সব!
কই? আমি তো একটুও সবুজ হতে পারিনা!
. ****************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি অ
সীম হালদারের
পরিচিতির পাতায় . . .
*
নীল মৃত্যু
কবি অসীম হালদার
আর কতটা পথ পেরোলে মৃত্যু, তোমরা কেউ বলতে পার?
জীবনানন্দ দাও না তোমার একফালি নীল মৃত্যু
কোথায় তোমার শূন্য মাঠ; আমি ঘুমোব
. ****************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি অ
সীম হালদারের
পরিচিতির পাতায় . . .