সাধ
কবি বঙ্কিমচন্দ্র সেন
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ সম্পাদিত নারায়ণ পত্রিকার ভাদ্র ১৩২৩ (অগাস্ট ১৯১৬) সংখ্যায়
প্রকাশিত।


.                ( ১ )
আজকে মোরে নেওগো আবার
.                        তোমার নন্দনে,
তুলবো কুসুম, গাঁথবো মালা,
.                        বড় সাধ মনে ;
নানান রংয়ের নানান ফুল
কদম্ব মালতী বকুল,
আঁচল ভরে তুলবো, তোমার
.                        ভাব্ বো আনমনে
আজকে মোরে নেওগো বঁধু
.                        তোমার নন্দনে।

.                ( ২ )
কতবার না ডাকলে আমায়,
কতবার না জাগালে হিয়ায়
আমি, কাণ দিনু কি মন দিনু তায়!
অলস ভরে
.        নিদ্রাঘোরে
উঠলেম না আর
.        শয্যা ছেড়ে
আমায়, ভঙ্গা ঘরে, উঁকি মেরে
.                        ফিরলে কোন বনে ?
আজকে মোরে নেওগো সখা
.                        তোমার নন্দনে।

.                ( ৩ )
আমার, ঘরের কোণে যে ক’টা ফুল
.                        ফুটে ছিল সখা!
জানতে তুমি দেখাওনি তো
.                        জানতে তুমি একা
বাসি ফুলে মালা গেঁথে
দিতে চাই গো তোমার হাতে
.                তা ও হয় না গাঁথা
.                ছিড়ছে সূতা,
.                        হেলায় অযতনে
আজকে মোরে নেওগো বঁধু
.                        তোমার নন্দনে।

.                ( ৪ )
সেথা, তুলবো কুসুম ভ’রে আঁচল
.        দেখতে দেখতে হব পাগল ;
.                রূপের রাশি
.                        ফুলের হাসি,
.        মন ভুলানো শুনবো বাঁশী,
লহর ’পরে লহর তুলে
.                নাচবে ফুলের ঢেউ
আমি একলা বসে গাঁথবো মালা
.                দেখবে না তো কেউ ;
তুমি আড়াল হ’তে
.        জাগবে হেসে
.        দুলিয়ে ফুলের বন
আমি, করবো বুকে, মনের সুখে
.                বুক-জুড়ান ধন!
তোমার, মুখের পানে রব চেয়ে,
.        পড়বে ধারা চক্ষু বেয়ে ;
আপনা ভুলে ছুটে’ লুটে’
.                পড়বো চরণে
চুমোর পরে আঁকবো চুমো
.                ও চাঁদ বয়ানে।

.                ******************       
.                                                                             
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
কবি বঙ্কিমচন্দ্র সেনের কবিতা
*
কৃত্তিবাস স্মৃতি
কবি বঙ্কিমচন্দ্র সেন
মৈমনসিংহ থেকে কেদারনাথ মজুমদার দ্বারা প্রকাশিত, “সৌরভ” পত্রিকার আষাঢ় ১৩২৩
(জুলাই ১৯১৬) সংখ্যায় প্রকাশিত।


কার স্মৃতি ? স্মৃতি তাঁর প্রস্তরে পাষাণে
অমরত্ব যাঁর পায়ে পড়ে লুটাইয়া ?
স্মৃতি তাঁর পৃথিবীর জড়ের বন্ধনে
মনোময় মহারাজ্য যে গেল স্থাপিয়া ?
যাঁহার মধুর দিব্য কোমল ঝংকার,
জাগাইল ধীরে শিশু-সুখ-সুপ্ত হিয়া
নবীন আদর্শ ধরি সম্মুখে তাহার
উন্নত করিল চিত্ত ভক্তি প্রেম দিয়া ?
যুবকের দৃপ্তবুকে যেবা প্রতিষ্ঠিল---
মধুর দাম্পত্য প্রেম উন্নত মহান
দুর্গম সংসার পথে যে খুলিয়া দিল
কঠোর-কর্তব্য-কর খর খরশান।
বৃদ্ধের বিষণ্ণ মুখে যে আনিল হাসি,
বৈকুণ্ঠ সম্ভোগ-সুখ-স্বপন আঁকিয়া ;
কৃত্তিবাস, কৃত্তিবাসসম শঙ্কানাশী,
উদ্ধার করিল নরে রাম নাম দিয়া।
কল্পনা কমল কম কুসুমের হারে
রাম সীতা যুগ্মমূর্ত্তি যে জন সাজা’ল,
নানাবর্ণে, নানা ছন্দে, নানা অলঙ্কারে
বিভূষিত করি গৃহে গৃহে প্রতিষ্ঠিল ;
যে যুগল রূপ মধু মাধুরী পিয়াসে
লুব্ধ ভৃঙ্গ আসে ছুটি দেশান্তর হ’তে
মানব মানস মজে, ভবক্ষুধা নাশে
বৈদেহী রাঘব পদ বন্দন সঙ্গীতে।
তাঁরি স্মৃতি! তাঁরি অর্ঘ্য দীন আয়োজন
মানসমন্দির পটে জাগে যাঁর ছবি,
বঙ্গ-গুরু, বঙ্গমার অঞ্চলের ধন
বাঙ্গালীর কৃত্তিবাস বিচক্ষণ কবি!

শ্রীবঙ্কিমচন্দ্র সেন।

.                ******************       
.                                                                             
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*