| কবি বঙ্কিমচন্দ্র মিত্রের কবিতা |
| কবিতা কবি বঙ্কিমচন্দ্র মিত্র জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত "অর্চনা" পত্রিকা ১৩২৬বঙ্গাব্দের ভাদ্র সংখ্যায় (অগাস্ট ১৯১৯) প্রকাশিত, কবিতা। কিছু আর ত বাসনা নাই ; জীবনের সাধ তোমার প্রসাদ জীবনে যেন মা পাই। আমি শিশুকাল হতে এই পথে পথে তোমার মন্দির-ধারে ঘুরিয়া ঘুরিয়া প্রতিমা হেরিয়া এসে দাঁড়ায়েছি দ্বারে ; বড় সাধ মনে তোমার অঙ্গনে ফুটে যে কুসুম-রাশি, চারিটি তুলিয়া ও চরণে দিয়া আনন্দ-সলিলে ভাসি ; আর কিছু নয়, হইয়া সদয় সেগুলি চরণে রেখো, হারায়ে চরণ যেন এ জীবন বিফল না হয় দেখো। তুমি আঁধারে আলোক মর্ত্তে দেব-লোক, @@@ @@@ গড় ; নির্ধনেরধন পরশ-রতন, সব রতনের বড় ; অকর্ণের হাসি, চন্দ্রকর রাশি তোমার চরণে মাখা ; বর্ণে বর্ণে লেখা ইন্দ্র-ধনু-রেখা নয়ন-উপরে আঁকা ; তোমার অঞ্চল অনিল চঞ্চল অবনী অম্বরময়, তারকা-কণায়, খদ্যোত-ভূষায় সতত খচিত রয় ; তোমার অঙ্গন ধরার নন্দন, আনন্দ-প্রতিমা তুমি ; তোমার ভবন শিব-নিকেতন মানস-কৈলাসভূমি ; হিমাদ্রি-শিখরে ছায়াপথ ’পরে তোমার আসন পাতা ; মন্দাকিনী-নীরে তুমি ধীরে ধীরে নামিয়ে এসেছ মাতা। এ মানস-তীরে তোমার মন্দিরে বিজনে বসিতে দিও ; বনফুল তুলে পাদমূলে থুলে, চরণে পাতিয়া নিও। @ - অপাঠ্য অক্ষর। . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বিজয়া রায় শ্রীবঙ্কিমচন্দ্র মিত্র এম্-এ-বি-এল বাহাদুর অক্ষয়কুমার নন্দী ও সুরবালা দত্ত সম্পাদিত “মাতৃ-মন্দির” পত্রিকার ১৩৩১বঙ্গাব্দের কার্তিক সংখ্যায় (অক্টোবর ১৯২৪) প্রকাশিত। আজি সে কোথায় গেল, কিবা ছিল কি হইল, কি হইল পলকেতে সে আনন বিহনে ; আলোকে আলোকময় ছিল এ দিবস-ত্রয় এ আলোকহীন পুরী দ্যুলোকের বরণে ; বহিল আনন্দে তার আনন্দের পারাবার মন্দিরে অঙ্গনে পথে নিরানন্দ ভুবনে ; যেন ঊষা পূর্ব্বাকাশে দিবস সর্ব্বরী হাসে, যেন নিশি পৌর্ণমাসী নিশিদিন গগনে ; প্রফুল্ল প্রসূনাবলী--- ফুল্ল যেন বনস্থলী পিককুলে-কাকলীতে প্রিপূর্ণ প্রভাতে, হর্ষময় কলরবে তিন দিন মত্ত সবে, সুশোভিত ছিল সব ত্রিদিবের শোভাতে ; আজি সব কোথা গেল, কিবা ছিল কি হইল, কি রহিল বল এই নিরানন্দ নীরবে ; কি আলোক, কিবা আশা, কিবা সান্ত্বনার ভাষা কহিল তিমিরাচ্ছন্ন ছিন্ন ছিন্ন এ ভবে। সে কি সব নিয়ে গেছে? কিবা কিছু বাকী আছে? কিবা কিছু চিরন্তন দিয়ে গেছে সন্তানে, আলোক আধাঁয়ে যায় সমভাবে দেখা যায়, আনন্দ আনন্দ ভুলে থাকে যার সন্ধানে, আনন্দের সে প্রতিমা, সুষমার সে উপমা গঙ্গাজলে ভেসে গেছে গঙ্গাধর সদনে ; নিমগ্ন হ’য়েছে কায়া, লগ্ন তার অঙ্গছায়া নিস্তরঙ্গ গঙ্গাজলে অচঞ্চল আসনে, কৌমুদী নিভিলে পরে নীলতর নীলাম্বরে যে ছায়া বসিয়া থাকে অনাকুল আননে এ যে শান্তি, দেবতার সব প্সাদের সার, দেবপদে অন্তরের অতি নম্র প্রণামে আপনি নামিয়া আসে, অন্তরে বাহিরে ভাসে, এ প্রপঞ্চ আবরিয়া বৈকুণ্ঠের বিরামে ; দেবতার দরশন, আনন্দের সন্ধিক্ষণ ক্ষণপ্রভা সম হেসে মিশে যায় তখনি ; পা দু’খানি চ’লে যায়, পদধূলি বিশ্ব ছায়, সে ধূলিতে চির তৃপ্ত শান্ত থাকে অবনী ; এই শান্তিজল আজ বহুক এ বিশ্বমাঝ, শান্ত হ’ক এ অনন্ত সে অমৃত পরশি ; শান্ত হোক্ রোগ শোক, পাপ তাপ শান্ত হোক, দ্বেষ হিংসা ধৌত করি’ এস শান্তি বরষি’ ; এস শান্তি নবস্থলে, এস শান্তিভূমণ্ডলে, এস শান্তি অন্তরীক্ষে, পর্ব্বতের কন্দরে, এস নীল সিন্ধুজলে, শ্যামল বিটপীদলে, এস শান্তি মানবের এ অশান্ত অন্তরে ; শান্ত কর মত্ত ক্রোধ, ভ্রাতৃবৃন্দে এ বিরোধ, এই ভেদ এক মার এই সব নন্দনে, শান্ত কর সব ভাণ, জাতি-কুল-অভিমান, শান্ত কর ধনমদ নির্ধনের বন্দনে ; শান্ত কর দুরাশায়, পরবিত্ত-পিপাসায় শান্ত কর লোলুপের এ নৃশংস কবলে ; শান্ত কর ধর্ম্মবৈরী, জগৎ হিতের অরি, শান্ত কর অন্যায়ের এ প্রসার ভূতলে ; শান্ত কর ক্ষমতার অবিনয়, অত্যাচার ; শান্ত কর ক্ষমাহীন মানসের তাড়নে ; শান্ত কর সবাকার সর্ব্ববিধ অহংকার, শান্ত কর জ্ঞান-গর্ব্ব ভক্তি-বারি-সেচনে। . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ভারতবর্ষ কবি বঙ্কিমচন্দ্র মিত্র ১৯১৩ সালে প্রকাশিত, কবির “আকিঞ্চন” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। মহিয়সী মাতৃকা মাতৃভূমি, সব-সুখ-সম্পদ-সাধিকা তুমি। সুনীল অম্বরে অঙ্কিত মায়া, স্নিগ্ধ ধরাময় স্নেহের ছায়া, সলিল কল্লোলে, অনিল হিল্লোলে, সতত মধুর সুরব শুনি ; আরুণরঞ্জিত আননে হাসি, চন্দ্রমা-প্রস্ফুট লাবণ্যরাশি, প্রসন্ন প্রফুল্ল দিবা-রজনী। হিমানী-মণ্ডিত হিমাদ্রি, মুকুট ; নীলাম্বু লুণ্ঠিত, পদে পাদপীঠ ; তরুরাজিভূষণা, আলোক-বসনা ত্রিলোক-রমণীয়া রাজরাণী ; ত্রিলোক-বন্দিত বেদের মাতা, ব্যাস-বাল্মিকী-বিরচিত গাথা তোমার শিরোপরে শিরোমণি। কীর্ত্তিময়ী তুমি মর্ত্ত ভবনে সাঙ্খ্য-পাতঞ্জল ষড় দরশনে, অসংখ্য সুযশঃ- কবীন্দ্রতাপস- যশঃ প্রভাসিত মহিমাখনি ; ধর্ম্ম-কর্ম্ম-ধ্যান-ভক্তি-আকর, জ্ঞান-দিবাকর দীপ্ত চরাচর, গৌরাঙ্গ-শঙ্কর-বুদ্ধ-জননী। অসুর-মর্দ্দন-শৌর্য্য-প্রদায়িনী, সন্ততি-কল্যাণে অদিতি রূপিণী, বক্ষে পবিত্র কৌরব-ক্ষেত্র, গৌরভ-সৌরভ-আমোদিনী ; ধনধান্যে ভরা অলকাভুবনে, কারুকার্য্য চারু সজ্জিত ভবনে, রত্নময়ী ওমা রত্ন-প্রসবিনী। . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |