বঙ্কিমচন্দ্র মিত্রের কবিতা - পাতার উপরে . . .
দুঃখের বিষয় এই যে কবির পিতা দীনবন্ধু মিত্রের সাহিত্য সম্বন্ধে, বিশেষ করে তাঁর "নীলদর্পণ" নাটক নিয়ে
বেসুমার লেখা ও আলোচনা পাওয়া গেলেও কবির ব্যক্তিগত তথা পারিবারিক জীবন নিয়ে তেমন কিছু
লিপিবদ্ধ হয় নি। তাই তাঁর জীবনী থেকে পুত্র-কন্যা সম্বন্ধে উল্লেখযোগ্য কোনও তথ্য আমরা যোগাড় করতে
পারিনি।
কবি বঙ্কিমচন্দ্র মিত্র, কবি হিসেবে তাঁর পিতা দীনবন্ধু মিত্রের সমতুল্য খ্যাতি ও পরিচিতি লাভ না করলেও
তাঁর কবিতার ছন্দের বাঁধুনী অতি উত্তম, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আধ্যাত্মিক ভাবরসে আপ্লুত, ভাষায়
বহুল অপ্রচলিত ও কঠিন শব্দের প্রয়োগের তাঁর কবিতায় দেখা যায়।
তাঁর কবিতা আমরা জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত "অর্চনা" পত্রিকা ও অক্ষয়কুমার নন্দী ও সুরবালা
দত্ত সম্পাদিত “মাতৃ-মন্দির” পত্রিকাতেও প্রকাশিত পেয়েছি।
“আকিঞ্চন” বাদে কবি বঙ্কিমচন্দ্র মিত্রের আর কোনো কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল কি না তা আমরা জানতে
পারিনি।
কেউ যদি এই কবি ও তাঁর জীবন সম্বন্ধে আরও তথ্য আমাদের পাঠান তাহলে আমরা, আমাদের
কৃতজ্ঞতাস্বরূপ প্রেরকের নাম এই পাতায় উল্লেখ করবো।
আমরা মিলনসাগরে কবি বঙ্কিমচন্দ্র মিত্রের কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টার সার্থকতা।
উত্স -
- রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্ষেত্র গুপ্ত দ্বারা প্রকাশিত “দীনবন্ধু রচনাবলী”, ১৯৬৭।
- কবি বঙ্কিমচন্দ্র মিত্র রচিত “আকিঞ্চন” কাব্যগ্রন্থ, ১৯১৩।
কবি বঙ্কিমচন্দ্র মিত্রের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in
এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ২১.৯.২০১৮
...
কবি বঙ্কিমচন্দ্র মিত্র - ছিলেন কবি-নাট্যকার
দীনবন্ধু মিত্রের তৃতীয় পুত্র (গ্রুপছবিটি দেখে তাই
মনে হচ্ছে)। মাতা অন্নদাসুন্দরী দেবী। কবিরা
ছিলেন সাত ভাই ও এক বোন।
দীনবন্ধু রচনাবলীর ছবি থেকে কবির ভাই-বোনের নাম - পাতার উপরে . . .
রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্ষেত্র গুপ্ত দ্বারা প্রকাশিত “দীনবন্ধু রচনাবলী” গ্রন্থে প্রকাশিত একটি গ্রুপ
ছবিতে দীনবন্ধু মিত্রের সঙ্গে তাঁর সাত ছেলে ও এক মেয়েকে দেখা যাচ্ছে। সেই ছবিটির নীচে সবার নাম
দেওয়া রয়েছে (উপরের ছবি দৃষ্টব্য)। সেই ছবি থেকেই আমরা দীনবন্ধু মিত্রের পুত্র-কন্যার নাম জানতে
পারি। ছবিটি দেখে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছি যে, বড় থেকে ছোট, কবির ভাই বোনরা ছিলেন চারু,
শরৎ, বঙ্কিমচন্দ্র, কিরণ, সুশীল, ললিতচন্দ্র, জ্যোতিষ এবং বোন তমালিনী।
কবি বঙ্কিমচন্দ্র মিত্রের রচিত “আকিঞ্চন” নামের কাব্যগ্রন্থটি আমরা হাতে পেয়েছি। সেখানে তাঁর আরও
এক ভাই ললিতচন্দ্রের একটি কবিতা আছে। তা থেকেই বোঝা যায় যে কবির ভাইদের নামের শেষে “চন্দ্র”
যুক্ত করা ছিল। তবুও প্রামাণিক তথ্যের অভাবে, এই দুই ভাই ( বঙ্কিমচন্দ্র ও ললিতচন্দ্র ) ছাড়া, উপরে
দেওয়া ভাই-বোনের তালিকায়, আর কোনও ভাইয়ের নামে আমরা “চন্দ্র” যোগ করলাম না।
এছাড়া পিতা দীনবন্ধুর জীবনী থেকে পুত্র-কন্যা সম্বন্ধে প্রায় কোনও তথ্যই পাওয়া যায় না। পুত্র বঙ্কিমচন্দ্র
মিত্র বা তাঁর অন্যান্য সন্তান সম্বন্ধে তো কোনও চরিতাভিধান গ্রন্থে কোনো তথ্যই পাওয়া যায়নি।
রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্ষেত্র গুপ্ত দ্বারা প্রকাশিত “দীনবন্ধু রচনাবলী” তে দেওয়া কবি দীনবন্ধু
মিত্রের জীবনী থেকে তাঁর ব্যক্তিগত-পারিবারিক জীবন সম্বন্ধে এইটুকু জানা যায় . . .
“বিবাহ। দীনবন্ধুর বিবাহ হয় সে কালের পক্ষে একটু বেশি বয়সে। তার স্ত্রীর নাম ছিল অন্নদাসুন্দরী।
বঙ্কিমচন্দ্রের সাক্ষ্যানুযায়ী তাঁর দাম্পত্য জীবন অত্যন্ত সুখের ছিল। নাট্যকারের মৃত্যুর পরেও অনেকদিন
অন্নদাসুন্দরী বেঁচে ছিলেন এবং কৃতিত্বের সঙ্গে সংসার পরিচালনা করেছিলেন।” এখানে উল্লেখিত
“বঙ্কিমচন্দ্র” হলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
কবির জন্ম আনুমানিক ১৮৫৫-৬০ সাল নাগাদ আমরা অনুমান করছি। তাঁর মৃত্যুর তারিখ জানা নেই।
তাঁর একটি কবিতা “মাতৃ-মন্দির” পত্রিকার ১৩৩১বঙ্গাব্দের কার্তিক সংখ্যায় (অক্টোবর ১৯২৪) প্রকাশিত
পাওয়া গেছে তাই, অন্তত, সেই অবধি তাঁর বর্তমান থাকার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
বঙ্কিমচন্দ্র মিত্র ও দ্বিজেন্দ্রলাল রায় - পাতার উপরে . . .
১৯১৩ সালে রচিত, কবি বঙ্কিমচন্দ্র মিত্রের “আকিঞ্চন” কাব্যগ্রন্থের “শৈশব স্মৃতি” কবিতাটির পাতার
পাদটীকা থেকে জানা যায় যে, কবির পিতা দীনবন্ধু মিত্র ছিলেন কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের পিতা দেওয়ান
কার্তিকেয় চন্দ্রের বন্ধু। দীনবন্ধু যখন কৃষ্ণনগরে পোস্টেড ছিলেন তখন জলাঙ্গী নদীর তীরে, তাঁদের
ষষ্ঠীতলার বাড়ীতে, সপরিবারে কার্তিকেয়চন্দ্রের যাতায়াত ছিল। সেখানে পঞ্চবর্ষীয় শিশু দ্বিজেন্দ্রলালের
কণ্ঠে শোনা একটি কবিতা আবৃত্তির স্মৃতি রোমন্থন করেছেন বঙ্কিমচন্দ্র মিত্র, ওই “শৈশব স্মৃতি” কবিতায়।
তার প্রত্যুত্তরে দ্বিজেন্দ্রলালও একটি কবিতা লিখেছিলেন যা বঙ্কিমচন্দ্র মিত্র এই কাব্যগ্রন্থেই “শৈশব স্মৃতি”
কবিতাটির পরেই যুক্ত করেছেন। আমরা এই ঐতিহাসিক চরিত্র-যুগলের স্মৃতি-রোমন্থনের দুটি কবিতাই
এখানে প্রকাশিত করেছি।
১৯১৩ সালে দ্বিজেন্দ্রলাল তাঁর ভারতবর্ষ পত্রিকা শুরু করেন এবং তার দুমাসের মধ্যেই তিনি পরলোক গমন
করেন। বঙ্কিমচন্দ্র মিত্রের সঙ্গে তাঁর কবিতার আদান-প্রদানটি ঘটেছিল ১৯১১ সালে “অর্চ্চনা” পত্রিকায়।
১৯১৩ সালে তাঁর “আকিঞ্চন” কাব্যগ্রন্থে দুটি কবিতাই তিনি প্রকাশিত করেছিলেন। আশা করেছিলাম যে
বন্ধুবর দ্বিজেন্দ্রলালের ভারতবর্ষ পত্রিকায় তাঁর কবিতা পাওয়া যাবে, কিন্তু আমরা সেখানে তাঁর কোনও
কবিতা পাই নি।
বঙ্কিমচন্দ্র মিত্রের রায়বাহাদুর উপাধী - পাতার উপরে . . .
১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪) প্রকাশিত, অক্ষয়কুমার নন্দী ও সুরবালা দত্ত সম্পাদিত “মাতৃ-মন্দির” পত্রিকায় তাঁর
“বিজয়া” কবিতাটি প্রকাশিত হয়। সেখানে কবির নাম দেওয়া রয়েছে “রায় শ্রীবঙ্কিমচন্দ্র মিত্র এম-এ-বি-এল
বাহাদুর”। অর্থাৎ পিতা দীনবন্ধুর ন্যায়, কবি বঙ্কিমচন্দ্র মিত্রও তাঁর কোনো কাজের বিশিষ্টতার জন্য ব্রিটিশ
সরকারের থেকে রায়-বাহাদুর উপাধী পেয়েছিলেন। এই বিষয়ে এর বেশী তথ্য আমাদের কাছে নেই।