| কবি বরদাচরণ মিত্রের কবিতা |
| জাগরণ কবি বরদাচরণ মিত্র দেবীপ্রসন্ন রায়চৌধুরী সম্পাদিত “নব্যভারত” পত্রিকার আষাঢ় ১৩০০ (জুন ১৮৯৩) সংখ্যায় প্রকাশিত। . তাহারি লাগিয়া জাগিয়া জাগিয়া নিশিথে আপনা পাশরি, মধু কথা তার স্মৃতির মাঝার পশে যেন দূর-বাঁশরী! জ্যোত্স্না-নিন্দিত তার রূপভাতি উজলে আলোক হৃদয়ের রাতি, শতেক কামনা কুমুদ বরণা . তরল রজতে ঝলসে! নলিনী কোমল তার মুখখানি ভাসাই মানস-সরসেতে আনি,--- লহরী-লীলায় প্রাণ ভেঙে যায় . অসহ সুখের অলসে! পরিমল-মাখা সে মধুর হাসি কোমল নিক্কণে বাজে হৃদে আসি, বড় যে তাহায় ভালবাসি, হায়, . মাণিক কি তায় পড়ে গো? মধুর বেদনে আঁখি ছল ছল দেখেছি যে তার নয়নের জল, চুমেছি যতনে সে অমূল্য ধনে,--- . মুকুতা কি তায় গড়ে গো? বসন্ত-পবনে সৌরভের মত, তার মৃদু-শ্বাসে পিয়াসে সে কত, দুলায়ে আদরে হৃদি-ফুল-থরে, . পশিত-মরম-নিভৃতে! পরশ তাহার বিজলি-সমান পশিলে স্মরণে মূরছে পরাণ, মরণের সুখে চাহি পুনঃ বুকে . সে ফুল-অশনি ধরিতে! তাহারি ত লাগি সারানিশি জাগি গগনে তাকৃরকা গুণি রে, তারি সুধা কথা, তারি মধু ব্যথা, তারি মৃদু-শ্বাস শুনিরে! . ******************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বসন্তে কিংশুক কবি বরদাচরণ মিত্র দেবীপ্রসন্ন রায়চৌধুরী সম্পাদিত “নব্যভারত” পত্রিকার ফাল্গুন ১৩১০ (ফেব্রুয়ারী ১৯০৪) সংখ্যায় প্রকাশিত। . রাঙা কিংশুকে ফুটেছে বিলাস কার এ? শুষ্ক শাখায়, নিম্নে উচ্চে, সুধূম-বহ্নি পুষ্পগুচ্ছে জ্বলিছে কাহার আকুল, তপ্ত, . অসরম কামনা রে? শিশির-শীর্ণ রিক্ত তরুতে, কিবা এ দৃশ্য, মলয়-মরুতে,--- অস্থি বিদারি শোণিত-উত্স, . দীপ্ত লালসা-সারে! তুমি কি, বৃক্ষ, সমাধি-মগ্ন পঞ্জর-শেষ তাপস নগ্ন?--- বাসব-অসূয়া-কেন্দ্র হয়েছ . সংহরি বাসনারে? মদিরা-আধীর, ঘন রঞ্জিত, চুম্বন তরে মণ্ডলীকৃত, কাহার মত্ত অধর-ওষ্ঠ . মথিছে,---কুসুমাকারে? অ-সুরভি, শুধু বর্ণে শেষ,--- এ বিলাসে নাহি প্রেম-লেশ,--- কাহার ব্যঙ্গ-নিঠুর রঙ্গে . সঁপিয়াছ আপনারে? একি উর্ব্বশী, মদন-গরবে, জ্বালি আলিঙ্গনে বাসনা-বাড়বে, দহিছে শান্তি সমাধি, শতেক . অনল-প্রতিম মারে? . ******************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |