সন্ধ্যাতারা কবি বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় অক্ষয়কুমার নন্দী ও সুরবালা দত্ত সম্পাদিত “মাতৃ-মন্দির” পত্রিকার ফাল্গুন ১৩৩১ (ফেব্রুয়ারী ১৯২৫) সংখ্যায় প্রকাশিত।
পশ্চিমের প্রান্তদেশে মুছে গেলে মেঘের লালিমা স্তব্ধ দিনশেষে ; যবে ফুটে উঠে অফুট নীলিমা সন্ধ্যার ধূসর সাজে ; তুমি এস সঙ্কুচিত পায়ে জ্বালি সন্ধ্যাদীপখানি, ধীরে নামি আকাশের গায়ে। সন্ধ্যাবধূ তুমি ;---তব লাজনত গুণ্ঠনের তলে হিমস্নিগ্ধ রূপশিখা দীপ্ত হয়ে থেকে থেকে জ্বলে। প্রিয় গেছে দূরে ; তাই পল্লীবধূ, বিরহ-ব্যথায় সারা দীর্ঘ দিনমান যাপিয়াছে তারি প্রতীক্ষায় নানা গৃহকাজে, তার এখন যে গৃহে আসিবার হয়েছে সময় ; তাই দীপ-দেওয়া ছলে অনিবার দ্বিধায় জড়িত পদে কম্প-বক্ষে গৃহদ্বারে আসে ; পথিক-প্রিয়কে তার ডাকে শঙ্খ মিলন-উল্লাসে। প্রাঙ্গণে প্রান্তরে ধ্বনি মরে ঘুরে। ক্ষুব্ধ পথ বাহি দূর মাঠে কোন চাষা অপূর্ণ কাজের পানে চাহি ফিরিতেছে শ্রান্তদেহে অবসন্ন দিবসের শেষে তার শান্ত গৃহ-পানে, সন্ধ্যার সমীরে আসে ভেসে নিতান্ত সহজ সুরে তার গান ; ছন্দ লয় তান কিছু নাই হোক্ তবু সেই তব আবাহন গান! বিশ্বের চলার গতি পথভুলে মুহূর্ত্তে নিঃশেষে বন্ধ হয়ে যায় ; কোন্ স্বর্ণমায়া স্বপনের দেশে তোমার এ আলোজ্যোতিঃ লয়ে যায় মোর হাত ধরে! সৌন্দর্য্য সম্পদে মোর ক্ষুদ্র চিত উঠে যে গো ভরে। . ****************** . সূচীতে . . .