আমি মরে গেলে চলে যাবে ভালোবাসা | পৃথিবী স্বাধীন হবে যেমন স্বাধীন বিধবা পতিতা কিংবা নারীচ্যুত গোঁয়ার পুরুষ | যেমন মাতৃত্ব নিয়ে মাতামাতি হয়েছে অঢেল যেমন সঙ্গম আজ হয়ে গেছে কেবলই সন্ত্রাস ঠিক তেমনি ঢলাঢলি ভালোবাসা নিয়ে--- . সংসারে ছড়ায় নোংরা হাওয়া | ভালোবাসা ভালোবাসা চতুষ্পদে হাঁটে শহরের ঘরে পথে গ্রামে গঞ্জে মাঠে হাঁটে, বসে, ব’সে যায়, জমে | পৃথিবী এখন ক্লান্ত, আমি তার চোখ . বহুদিন ধরে দেখে গেছি আমি মরে যাব ভালোবাসা সঙ্গে যাবে আর বর দিয়ে যাব--- ভুবন ঈশ্বরী, . এইবার মুক্তগ্রহ হও|
পোষাকের সুখ, নাকি সুখের পোশাক বলব ? না কি দৃষ্টিভ্রমে অন্য কোনো ত্রি-আয়তনিক নাম শরীর লুকিয়ে ফেলে ঢুকে গেছে জীর্ণ এ পোশাকে ? যা-ই বলো নাম তবু প্রগাঢ় সুতোর পাট এখন শিথিল স্মৃতির তোরঙ্গে তাই, এর নির্বাসন | আনো নতুন সুতোর সংজ্ঞা, ফিটফাট সুখ, খোলা রঙ এখন যা সয় |
রকমারি সুখ, ভারি সুখ, সুখ তীব্র, হালকা বা নিটোল--- শোনো না, সূর্যাস্ত হলে অন্তরীক্ষে ফেরিঅলা হাঁকে ?
‘নারী বা প্রকৃতি বলো, কিছুই কিছু না | তার চেয়ে এক সন্ধ্যা দু-একটি মনের মতো বন্ধু পেলে প্রাণ খুলে আড্ডা দেওয়া গেলে সমস্ত অসুখ সেরে যায় মন ভালো থাকে, বিদ্যুত্গতিতে লেখা হয় পর পর সাতটি কবিতা---‘
এপ্রিল সন্ধ্যার ঘোরে একজন বললেন এবং কথার ভান্ড খালি হলে তিনি দিব্য প্রস্থান করলেন | আমি চুপ করে হাঁটি মাথায় ঘুরপাক খায় সরল কথাটি--- সমস্ত অসুখ সেরে যায় সমস্ত অসুখ, মাথায় ক্রমশ জটা ধরে শান্তি নষ্ট হয়---
বন্ধুর সান্নিধ্য পেলে সমস্ত অসুখ সেরে যায় বন্ধু তবু এখনও নিঃঝুম | ‘মিথ্যে কথা, বন্ধু কেউ নেই’--- একবার চেঁচিয়ে উঠি এবং তারপর নীলবড়ি, ঠান্ডা জল, বাধ্যতামূলক মাপা ঘুম |
তোবড়ানো এলুমিনিয়ম বাটি তেলচিটে লাঠি পাশে রেখে ফুটপাথে শুয়ে আছে মা | মুখে ফুটে আছে সংখ্যাহীন বলী নিজস্ব পথের মাইলস্টোন | ওর ছেলে কী করে, কজন, ওয়াগন ব্রেকার কিংবা বেশ্যার দালাল কিংবা খঞ্জ, যথার্থ ভিখিরি ফুটপাথে শুয়ে আছে মা নির্মলহৃদয়তুল্য যে কোনো আশ্রয় তার প্রয়োজন ছিল নাকি প্রত্যাখান করে শুয়ে আছে, বেঁচে আছে শুধুমাত্র বাঁচার ইচ্ছায় আয়ুষ্মতী পুত্রবতী মা |