কবি দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল-এর কবিতা
*
কৃপা ভিক্ষা
কবি বীরেন্দ্রনাথ শাসমল,
কবিতাটি লণ্ডনে, রচনা করা হয়েছিল।
কীর্ণহারের জমিদার বাবু সৌরেশচন্দ্র সরকারের প্রযত্নে, বীরভূম জেলার কীর্ণহার গ্রাম
থেকে দেবিদাস ভট্টাচার্য্যর প্রকাশনায়, নীলরতন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত, “বীরভূমি”
পত্রিকা, আষাঢ় ১৩১২ (জুন ১৯০৫) সংখ্যার ২৫৭- পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়।


হরি!

রাজা তুমি মোর আমি প্কজা তব
এ জীবনটুকু তোমার দান,
তোমার হাতে গড়া এ পুতুল
তোমা হ’তে সে তো পেয়েছে প্রাণ।

তোমার শকতি সারা হৃদিময়
শিরা ধমনীতে খেলিছে খেলা,
শয়নে স্বপনে আহারে বিহারে
সন্ধ্যা কি সুখের সকাল বেলা।

তোমার ইচ্ছায় এ সৌর জগত---
আরো কোটি কোটি কেমন চলে,
এ ক্ষুদ্র নগণ্য এতটুকু আমি
চলিব কি কভু তোমার বলে ?

কোথায় কি কাজ করিতে হইবে
কাহার কারণে কিসের তরে,
তব তাড়নায় পারিব কি প্রতো
সবটিকি দিতে হৃদয় ভ’রে ?

তোমার সুখের এ জগত মাঝে
দুখ খুঁজি খুঁজি হারায়ে যাবো,
কাণা খোঁড়া আমি কাঙালের হৃদে
কভু কিগো পিতা বিরাম পাবো ?

চির হাস্যময় ধন কোলাহলে
তিরদিন কিগো পরের লাগি,
শোণিতের পাশের তোমার কৃপায়
সহ অনুভূতি রহিবে জাগি ?

পর দুঃখ স্রোতে নয়নের কোণে
বিষাদের লোর আসিবে ভাসি,
পর সুখ হেরি মুখ ভরিয়া
উঠিবে কি ফুটি সরল হাসি ?

অতি ছোট আমি কোন গুণ নাই
তুমি যদি দয়া নাহি কর নাথ,
কি ক্ষমতা আছে উঠিব অতটা
তুমি যদি বিভো না ধর হাত!

.                   ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কি তাহারে বলিবে ভাবিও!
কবি বীরেন্দ্রনাথ শাসমল,
কবিতাটি লণ্ডনে, রচনা করা হয়েছিল।
কীর্ণহারের জমিদার বাবু সৌরেশচন্দ্র সরকারের প্রযত্নে, বীরভূম জেলার কীর্ণহার গ্রাম থেকে দেবিদাস
ভট্টাচার্য্যর প্রকাশনায়, নীলরতন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত, “বীরভূমি” পত্রিকা, কার্তিক ১৩১২ (অক্টোবর
১৯০৫) সংখ্যার ৪৩৭- পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়।


কাজ নাই চিঠিও লিখিয়া!
ভাল যদি নাহি লাগে                                আমার কারণে
প্রতারণা কি হবে শিখিয়া ?
আমি কাঁদি আমি জানি,                      শুনিয়া আমার বাণী,
কি করিবে তুমি অভাগার,
আমিই মুছিব ধীরে,                          আমার নয়ন নীরে---
নাহি সাধ আঁচলে তোমার।
ভয় নাই একা ভবে                           এ অধম বেঁচে রবে,
আপনার কর্তব্য সাধনে,
রবি শশী কাজ করে,                       আমি তার দুঃখ ভরে
ব’সে রবো কিসের কারণে!
কত ফুল একা একা,                         কত বৃন্তে দেয় দেখা,
একা শেষে আপনারে লয়ে,
ঝরিপড়ে থাকি থাকি                          পবনে সুবাস রাখি
ধূলি সনে মিশে ধূলি হ’য়ে।
কপোতও শত শত,                         তরু শাখে হ’য়ে নত,
একা ব’সে কত গান গায় ;
কেহই ডাকে না তাকে,                     কাননের ফাঁকে ফাঁকে
প্রতিধ্বনি মিশাইয়া যায়।
এ সারা জীবন ধরি,                           আমিও হৃদয় ভরি,
একা গা’বো যা পারি গাহিতে ;
তবে বলেছিলে মুখে,                        হবে মোর সুখে দুখে,
সে কথা কি পেরেছ ভুলিতে ?
তখন পূরবাকাশে,                             অরুণ কনকাবাসে,
এই সবে উঠিয়া জাগিয়া ;
টলমল নালনীর,                              হাসিয়া চুমিছে তীর,
তারপরে মোরা দাঁড়াইয়া।
আমায় ভুলিয়া গেলে,                     ফেলে দিলে পায় ঠেলে,
বেশী কিছু হবে না জানিও ;
দিবাকরে সাক্ষী রাখি,                      প্রতিজ্ঞা করেছ সখি,
কি তাহারে বলিবে ভাবিও!

.                   ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর