দেশপ্রাণের রচনা ও কবিতা - পাতার উপরে . . .
তাঁর রচনার মধ্যে রয়েছে আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ “স্রোতের তৃণ”। তিনি তাঁর কাঁথির বাড়িতে একটি জাতীয়
স্কুলও স্থাপন করেছিলেন।
১৯০৫ সালে প্রকাশিত, কীর্ণহারের জমিদার, বাবু সৌরেশচন্দ্র সরকারের প্রযত্নে, বীরভূম জেলার কীর্ণহার
গ্রাম থেকে দেবিদাস ভট্টাচার্য্যর প্রকাশনায়, নীলরতন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত, “বীরভূমি” পত্রিকার
আষাঢ় ১৩১২ (জুন ১৯০৫) এবং কার্তিক ১৩১২ (অক্টোবর ১৯০৫) সংখ্যায় আমরা দুটি কবিতা পেয়েছি।
তার মধ্যে "কৃপাভিক্ষা" কবিতাটি তাঁর লণ্ডনে আইন অধ্যয়নকালে রচিত। মিলনসাগরের কবিদের সভায়
কবি দেশপ্রাণ শাসমলকে আসন দিয়ে আমরা ধন্য হলাম।
আমরা বীরেন্দ্রনাথ শাসমলের জীবনের মাত্র কয়েকটি ঘটনা, এখানে উল্লেখ করলাম। মনে রাখতে হবে যে
তাঁর কর্ম ও জীবন শুধু একা তাঁরই নয়, সমগ্র বাংলা তথা ভারতবর্ষের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ! দেশবন্ধু
চিত্তরঞ্জন (দেশপ্রাণ শাসমল সহ) ও ততকালীন বাংলা ও ভারতের রাজনৈতিক পটভূমিকা, বিশেষ করে
কংগ্রেস ও স্বরাজ দলের উত্থান ও পতনের উপরে সাম্যক ধারণার জন্য আমরা, আমাদের নাঙ্গলকোট
ওয়েবসাইটে, এবিএম আহসান উল্লাহ-এর লেখা “দেশবন্ধুর রাজনীতি পাঠ” প্রবন্ধটি, উত্সাহী পাঠকদের পড়ে
দেখতে অনুরোধ করছি, এখানে ক্লিক করে।
আমরা মিলনসাগরে কবিদের সভায় কবি দেশপ্রাণ শাসমলকে আসন দিয়ে আমরা ধন্য হলাম। আসলে
মিলনসাগেরর কবিদের সভায় কবিতা কেবল উপলক্ষ্য মাত্র! কবিদের জীবনের ভিতর দিয়ে আমরা
বাঙালীর ইতিহাসকে ধরার চেষ্টা করছি! আমাদের সৌভাগ্য যে, ঐতিহাসিক বাঙালী ব্যক্তিত্বরাও কবিতা বা
গান লিখে গিয়েছেন, সেই বাঙালীর আদিকাল থেকে!
উত্স -
. সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত সংসদ বাঙালি চরিতাবিধান, ২০১০।
. প্রমথনাথ পাল, বাংলার মনীষা ১ম খণ্ড, ১৯৮৬।
. বীরেন্দ্রনাথ শাসমল : দেশপ্রেমে নিবেদিতপ্রাণ, দৈনিক আজাদী।
. রঞ্জিত রায়, শাসমল, বীরেন্দ্রনাথ, বাংলাপেডিয়া।
. এবিএম আহসান উল্লাহ, দেশবন্ধুর রাজনীতি পাঠ, আমাদের নাঙ্গলকোট ওয়েবসাইট।
. চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন, উইকিপেডিয়া।
. ডগলাস হত্যা, www.midnapore.in ।
. পিছাবনির অবস্থান, wikimapia.org ।
. The Real Forgotten Heroes : Bengal Volunteers. shantigrouprealhistory.blogspot.in
কবি দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল-এর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in
এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ২০.১.২০১৮
...
স্কুলে তাঁর শিক্ষক তারকগোপাল ঘোষ ও শশীভূষণ চক্রবর্তী তাঁকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছিলেন।
১৯০০সালে তিনি সেখান থেকে এন্ট্রান্স পরীক্ষা পাশ ক’রে কলকাতার মোট্রোপলিটান কলেজ, অধুনা
বিদ্যাসগর কলেজে ভর্তি হন। কিছুদিন পর তিনি রিপন কলেজ, অধুনা সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভর্তি হয়ে
আসেন। সেই কলেজে তখন, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং ইংরেজি সাহিত্য ও ইতিহাস পড়াতেন। বাগ্মী
এই কংগ্রেসী নেতা, বীরেন্দ্রনাথের উপর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।
এফ.এ. পরীক্ষা পাশ না করেই তিনি আইন পড়ার জন্য তিনি ইংল্যাণ্ড যাত্রা করেন। ইংল্যাণ্ডে পঠনকালে
কিছুদিনের জন্য তিনি আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঘুরে আসেন পর্যটক হিসেবে। সেখানকার সমাজ
ব্যবস্থায় মালিক-চাকরের কর্মগত পার্থক্য থাকলেও সমাজে একসঙ্গে ওঠাবসার বিষয়টি তাঁর মনে রেখাপাত
করেছিল।
কর্মজীবন, বঙ্গভঙ্গ ও মেদিনীপুর ভাগ প্রতিরোধ আন্দোলন ১৯১৩ - পাতার উপরে . . .
দেশে ফিরে ১৯০৪ সালে কলকাতা হাই কোর্টে যোগ দেন ব্যারিস্টার হিসেবে। ১৯০৫সালে লর্ড কার্জনের
বাংলা ভাগ করার বিরুদ্ধে বঙ্গভঙ্গ প্রতিরোধ আন্দোলন শুরু হয়। তিনি সেই আন্দোলনে যোগদান করেন।
কিছুকাল মেদিনীপুরে ওকালতি ক’রে, ১৯১৩ সালে পুনরায় কলকাতা হাই কোর্টে ফিরে আসেন এবং
আইনজীবী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
১৯১৩ সালে ব্রিটিশ সরকার মেদিনীপুর জেলাকে দুইভাগে বিভক্ত করার চেষ্টা করলে জেলার বিক্ষুব্ধ
মানুষের একটি দল বাংলার গভর্নরের কাছে যায় তাঁকে ক্ষোভের কথা জানাতে। বীরেন্দ্রনাথ সেই দলের
সভ্য ছিলেন। ব্রিটিশ সরকার সেবার মেদিনীপুর জেলা ভাগ করার কাজে আর এগোন নি।
তিনি ১৯১৩ ও ১৯২০সালে মেদিনীপুরের প্রবল বন্যায় ত্রাণ কর্মী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
অসহযোগ আন্দোলন ও কারাবাস ১৯২০-১৯২২ - পাতার উপরে . . .
গান্ধীজির ডাকে ১৯২০ সালে কংগ্রেসের নাগপুরে অধিবেশনে অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচী গৃহীত হয়।
সেই ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি আইন ব্যবসায় ত্যাগ করে স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কলকাতারয়
তাঁর গাড়ী ও ঘোড়া বিক্রী করে দিয়ে ট্রামে যাতায়াত শুরু করেন। ১৯২১ সালের আগস্ট মাসে তিনি বঙ্গীয়
কংগ্রেসের সম্পাদক হন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ছিলেন সভাপতি। ১৭ই নভেম্বর ১৯২১ সালে ইল্যাণ্ডের
যুবরাজ প্রিন্স অফ ওয়েলস এডওয়ার্ড ৮ম, ভারতে আসেন। প্রতিবাদে দেশ জুড়ে হরতাল পালিত হয়। সেই
আন্দোলনের জন্য সরকার তাঁদের দায়ী করেন। সেই অভিযোগে ১০ই ডিসেম্বর তিনি, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের
বাড়ী থেকে, দুজনই গ্রেপ্তার হন। আরও বহু নেতা ও কর্মীদের সঙ্গে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ও মৌলানা
আবুল কলম আজাদও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ১৯২২ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারী বিচার শেষ হলে, তাঁদের ৬
মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড সাজা হয়।
ইউনিয়ন বোর্ড প্রতিরোধ আন্দোলন ১৯১৯-১৯২১ - পাতার উপরে . . .
গান্ধীজির ডাকে ১৯২০ সালের অসযোগ আন্দোলনের পাশাপাশি আরও একটি আন্দোলন চলেছিল
মেদিনীপুরে। ১৯১৯ সালে সরকার বেঙ্গল ভিলেজ সেল্ফ গর্ভমেন্ট নামে একটি আইন করেছিলেন। এই আইন
বলে ২২৭টি ইউনিয়ন বোর্ড এর সূচনা করা হয়েছিল। এই বোর্ডকে মানুষ সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু
করেন কারণ সরকার, এর সম্বন্ধে কোনো সঠিক তথ্য দেবার কথা উচিত বলে মনে করেননি। তাতে আরও
মনে হয় যে সরকার মানুষকে তাঁদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করতে চলেছেন। কংগ্রেস প্রথমে রাজি
হলেও পরে এই আইনের বিরোধিতা থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন। বীরেন্দ্রনাথ তখন এই আইনের
বিরোধিতায়, আন্দোলনের নেতৃত্ব কাঁধে তুলে নেন। তিনি বলেন যে তিনি সব ক’টি বোর্ড তুলে দেওয়া অবধি
খালি পায়ে হাঁটবেন। মেদিনীপুর জেলায় বিশেষ করে কাঁথি শহরে, সবাই ট্যাক্স দেওয়া বন্ধ করে দেন।
সরকার জিনিষপত্র বাজেয়াপ্ত করলেও তা নিয়ে যাবার লোক পায়নি। সেই আটক করা জিনিষপত্রের
নিলামির মাধ্যমে কেনা-বেচার ক্রেতাও পাওয়া যায় নি! শেষ পর্যন্ত সরকার যার যার জিনিষ তার তার
কাছে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হন। ১৭ই ডিসেম্বর ১৯২১ তারিখে একটি বাদে অন্য সব বোর্ড বন্ধ করে দেওয়া
হয়। শেষ বোর্ডটিও ১৯২২ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘটনাটি ব্রিটিশ সরকারের একটি অতি
অসম্মানজনক পরাজয় হিসেবেই ইতিহাসে লেখা থাকবে।
মেদিনীপুরের নাগরিক দ্বারা “দেশপ্রাণ” উপাধী প্রদান ১৯২২ - পাতার উপরে . . .
কারামুক্তির পর বীরেন্দ্রনাথ কাঁথি ফিরে যান। ১৯২২ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর মেদিনীপুর শহরবাসীগণ তাঁকে
সম্বর্ধনা জানান এবং “দেশপ্রাণ” নামে ভূষিত করেন।
আইন অমান্য আন্দোলন ১৯২৯ - পাতার উপরে . . .
১৯২৯ সালের কংগ্রেসের আইন অমান্য আন্দোলনকালে পুলিশ, মেদিনীপুরের মানুষের উপরে অমানুষিক
অত্যাচার চালায়। লাঠি, গুলি-বন্দুক তো ছিলই, ঘর, বাড়ী, ধানের গোলা পুড়িয়ে দিতেও পিছপা হয় নি
সরকার। বীরেন্দ্রনাথ তাঁর সহকারিদের সাথে কলকাতা থেকে মেদিনীপুরের গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে সেই
অত্যাচারের তদন্ত করেন। সে জন্য ব্রিটিশ সরকার তাঁর, মেদিনীপুর জেলায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিলেন।
লবন সত্যাগ্রহ ১৯৩০ - পাতার উপরে . . .
গান্ধীজির ডাকে ১৯৩০ সালের লবন সত্যাগ্রহের অহিংস আন্দোলনে, তিনি নেতৃত্ব দিয়ে মানুষকে নরঘাটা ও
পিছাবোনি তে গিয়ে লবন আইন ভাঙতে উদ্বুদ্ধ করেন। পিছাবোনি গ্রামের পুরানো নাম ছিল চন্দনপুর। লবন
সত্যাগ্রহীরা পুলিশের শত অত্যাচারেও স্লোগান দিতেন “পিছাবো নি!” অর্থাৎ আমরা পিছিয়ে যাব না। সেই
থেকে সে জায়গার নাম হয় “পিছাবনি”!
প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হয়ে দলত্যাগ - পাতার উপরে . . .
১৯২৫ এর ১৬ই জুন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন পরলোক গমন করেন। ১৯২৮ সালের বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস
কমিটির কৃষ্ণনগর অধিবেশনে দেশপ্রাণ শাসমল সভাপতি নির্বাচিত হন। কিন্তু সভাপতির ভাষণের সঙ্গে
মতানৈক্যের কারণে, সেই সভায় তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাস করা হয়। এরপর তিনি কংগ্রেস থেকে
বেরিয়ে আসেন। হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সমঝওতা করা, চিত্তরঞ্জন দাশের প্রস্তাবিত “বেঙ্গল প্যাক্ট” বাতিল
হয়ে যায়।
একাধিক মামলায় বিপ্লবী-স্বদেশীদের পক্ষে ওকালতি - পাতার উপরে . . .
কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসার পরে তিনি আবার ওকালতি শুরু করেন। তিনি চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন ও
ডগলাস হত্যা মামলায়, বিনা-পারিশ্রমিকে স্বদেশীদের পক্ষে মামলা লড়েন কোনো ফি না নিয়ে।
অস্ত্রাগার লুণ্ঠন - ১৯৩০ সালের ১৮ই এপ্রিল মাস্টারদা সূর্য্যসেনের নেতৃত্বে, চট্টগ্রামের পুলিশের অস্ত্রাগার লুঠ
করৈ হয়। ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি, চট্টগ্রাম শাখা নামে, বিপ্লবী যোদ্ধারা এই অ্যাকশনে অংশ গ্রহণ
করেন। এই দলে ছিলেন গণেশ ঘোষ (মিনলসাগরে তাঁর কবিতা পড়ুন), লোকনাথ বল, নির্মল সেন, অনন্ত
সিং, অপূর্ব সেন, অম্বিকা চক্রবর্তী, নরেশ রায়, ত্রিপুরা সেনগুপ্ত, বিধুভূষণ ভট্টাচার্য, শশাঙ্কশেখর দত্ত, অর্ধেন্দু
দস্তিদার, হরিগোপাল বল, প্রভাসচন্দ্র বল, তারকেশ্বর দস্তিদার, মতিলাল কানুনগো, জীবন ঘোষাল, আনন্দ
গুপ্ত, নির্মল লালা, জিতেন দাসগুপ্ত, মধুসূদন দত্ত, পুলিনচন্দ্র ঘোষ, সুবোধ দে, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, কল্পনা
দত্ত প্রমুখ এবং মাত্র ১৪ বছরের বালক সুবোধ রায়। অস্ত্রাগার দখলের পর মাস্টারদা সূর্য সেন, জাতীয়
পতাকা উত্তোলন করেন এবং অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার ঘোষণা করেন। রাত ভোর হবার পূর্বেই বিপ্লবীরা
পার্বত্য চট্টগ্রামের জালালাবাদে গিয়ে ঘাঁটি গাড়েন। পুলিশ, জালালাবাদ পাহাড়ে আশ্রয় নেয়া বিপ্লবীদের
কয়েক হাজার সৈন্য দিয়ে ঘিরে ফেলে ২২ এপ্রিল। দুই ঘন্টার প্রচন্ড যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর ৭০ থেকে ১০০
জন এবং বিপ্লবী বাহিনীর ১২ জন শহীদ হন। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের নেতৃত্বে ১৯৩২ সালে চট্টগ্রামের
ইউরোপিয়ান ক্লাবে হামলা চালানো হয় যাতে একজন মহিলা মারা যান।
এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয় ১ মার্চ ১৯৩২। আসামীদের মধ্যে ১২ জনকে নির্বাসন, ২ জনকে তিন
বছরের জেল এবং বাকি ৩২ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। যাবজ্জীবন দ্বীপান্তরে দণ্ডিত হন অনন্ত সিং,
লোকনাথ বল, গণেশ ঘোষ, লালমোহন সেন, সুবোধ চৌধুরী, ফণিভূষণ নন্দী, আনন্দ গুপ্ত, ফকির সেন,
সহায়রাম দাস, বনবীর দাসগুপ্ত, সুবোধ রায় এবং সুখেন্দু দস্তিদার।
নেত্র সেন নামে আরেক বাঙালীর বিশ্বাসঘাতকতার জন্য মাস্টারদা ধরা পড়েন ১৬ই ফেব্রুয়ারি ১৯৩৩। ১২ই
জানুয়ারি ১৯৩৪ সালে, এই সংগ্রামের দ্বিতীয় নেতা তারকেশ্বর দস্তিদার এবং মাস্টারদা সূর্য সেনর ফাঁসির
দণ্ডাদেশ ব্রিটিশ সরকার কার্যকর করে।
ডগলাস হত্যা - ১৯৩২ সালের, মেদিনীপুরের ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট রবার্ট ডগলাস হত্যা মামলাতেও তিনি
আসামিপক্ষের উকীল ছিলেন। ১৯৩২ সালের ৩০শে এপ্রিল তারিখে রবার্ট ডগলাসের নেতৃত্বে এক ডিস্ট্রিক্ট
বোর্ড মিটিং চলাকালীন তাঁকে গুলি করে হত্যা করেন, বেঙ্গল ভলান্টিয়ারের বিপ্লবীদ্বয় প্রদ্যোত্কুমার
ভট্টাচার্য্য এবং প্রভ্রাংশুশেখর পাল। মামলার রায়ে তাঁদের দুজনেরই সাজা হয় মৃত্যদণ্ড। সেই মামলাতেও
তাঁদের পক্ষে মামলা লড়েছিলেন দেশপ্রাণ বীরেন্দ্র শাসমল, কোনো ফি না নিয়েই।
উর্দ্ধশিরে শেষকৃত্য - পাতার উপরে . . .
১৯৩৩ সালে কংগ্রেস বিরোধী প্রার্থী হিসেবে কলকাতা কর্পোরেশনে নির্বাচিত হন। ১৯৩৪ সালে ভারতীয়
আইন সভার সভ্য নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনের পাঁচ দিন পর ১৯৩৪ সালের ২৪ নভেম্বর বীরেন্দ্রনাথ
শাসমল প্রয়াত হন। বাংলার মনীষা ১ম খণ্ডে, তাঁর জীবনীকার প্রমথনাথ পাল বলেছেন যে বীরেন্দ্রনাথ
শাসমল বলেছিলেন “আমি জীবনে যে শির কাহারও নিকট নত করি নাই, মরণের পরেও তাহা
যেন অবনত করা না হয়”। ২৫শে নভেম্বর ১৯৩৪ তারিখে কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর
শবকে চিতায় শায়িত না রেখে, উপবিষ্ট অবস্থায়, উর্দ্ধশিরেই মুখাগ্নি ক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
কবি দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল -
জন্মগ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের, অধুনা পূর্ব মেদিনীপুর
জেলার, কাঁথি মহকূমার চণ্ডীভেটী গ্রামে। পিতা
বিশ্বম্ভর শাসমল এবং মাতা আনন্দময়ী দেবী।
গ্রামের স্কুলের শিক্ষাশেষে তিনি কাঁথি হাইস্কুলে ভর্তি
হন। স্কুলে পঠককালেই পিতা পরলোক গমন করেন।
মাতা আনন্দময়ী তাঁকে বড় করে তোলেন।