দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ নাটক - পাতার উপরে . . .
নীলদর্পণ নাটকে তিনি নীলচাষীদের উপর নীলকর সাহেবদের অত্যাচারকে সর্বসমক্ষে তুলে ধরে ছিলেন।
পুলিশের সকর্কতা সত্বেও "ন্যাশনাল থিয়েটারের" ব্যানারে নাটকটি চারবার অভিনীত হয়। নীলচাষীদের
উপর অত্যাচারের অভিনয় দেখতে বসে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর উত্তেজিত হয়ে মঞ্চে অভিনেতাদের দিকে
তাঁর চটি খুলে ছুড়ে মেরেছিলেন! সেই চটিজুতাকে অভিনয়ের পুরস্কাররূপে তাঁরা গ্রহণও করেছিলেন।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত এই নাটকের ইংরেজী অনুবাদ করলে রেভারেন্ড জেমস লং তা প্রকাশিত করেন
যার জন্য লং সাহেবকে জরিমানা করেন আদালত। এই জরিমানার ১০০০ টাকা দেন কালীপ্রসন্ন সিংহ।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্ট্যোপাধ্যায় তুলনা করে লেখেন যে Uncle Tom's Cabin আমেরিকায় দাসপ্রথা নির্মূলে যে ভূমিকা
নিয়েছিল, নীলদর্পণ নাটক ভারতে নীলচাষীদের উপর ব্রিটিশদের অত্যাচার নির্মূলে একই ভূমিকা পালন
করেছিল। দীনবন্ধু মিত্র এর জন্যই চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবেন।
তিনি রোমান্টিক কবি ও সাহিত্যিক হিসেবে সফল না হলেও, দরিদ্র কৃষক, সমাজের তথাকথিত নিম্ন স্তরের
মানুষ তাঁর লেখায় জীবন্ত হয়ে ফুটে উঠেছে।
আমরা মিলনসাগরে কবি দীনবন্ধু মিত্রের কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টাকে সার্থক মনে করবো।
কবি দীনবন্ধু মিত্রের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
উত্স -
- রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্ষেত্র গুপ্ত দ্বারা প্রকাশিত “দীনবন্ধু রচনাবলী”, ১৯৬৭।
- ক্ষেত্র গুপ্ত, বাংলার মনিষা।
- কবি বঙ্কিমচন্দ্র মিত্র রচিত “আকিঞ্চন” কাব্যগ্রন্থ, ১৯১৩।
আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in
এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ২১.৬.২০০৮
১ম পরিবর্ধিত সংস্করণ - ৬.৯.২০১৪
২য় পরিবরিধিত সংস্করণ - ২২.৯.২০১৮
...
কবি দীনবন্ধু মিত্র - জন্মগ্রহণ করেন নদীয়ার
চৌবেড়িয়া গ্রামে। পিতা কালাচাঁদ মিত্র। পিতৃদত্ত নাম
"গন্ধর্ব নারায়ণ", নিজেই বদলে করে রাখেন "দীনবন্ধু"।
দীনবন্ধু মিত্রের সহধর্মিনী ছিলেন অন্নদাসুন্দরী দেবী।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাক্ষ্যানুযায়ী তাঁদের দাম্পত্য
জীবন অত্যন্ত সুখের ছিল। দীনবন্ধুর মৃত্যুর পরেও
অনেকদিন বেঁচে ছিলেন অন্নদাসুন্দরী দেবী এবং তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে সংসার পরিচালনা করেছিলেন।
কবির সাত পুত্র ও এক কন্যা। তাঁরা ছিলেন চারু, শরৎ, বঙ্কিমচন্দ্র, কিরণ, সুশীল, ললিতচন্দ্র, জ্যোতিষ এবং
কন্যা তমালিনী। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্ষেত্র গুপ্ত দ্বারা প্রকাশিত “দীনবন্ধু রচনাবলী” গ্রন্থে
প্রকাশিত একটি গ্রুপ ছবিতে দীনবন্ধু মিত্রের সঙ্গে তাঁর সাত ছেলে ও এক মেয়েকে দেখা যাচ্ছে। সেই
ছবিটির নীচে সবার নাম দেওয়া রয়েছে। ছবিটি দেখতে দীনবন্ধুর সেজো ছেলে কবি বঙ্কিমচন্দ্র মিত্রের
পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .।
কবির সেজপুত্র বঙ্কিমচন্দ্র মিত্র বড় হয়ে নিজে রায়বাহাদুর উপাধীlতে ব্রিটিশ সরকার দ্বারা ভূষিত হন এবং
কবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
দীনবন্ধু মিত্রের শিক্ষাজীবন - পাতার উপরে . . .
গ্রামের পাঠশালায় পঠন শুরু করেন। পিতা কালাচাঁদ তাঁকে বালকাবস্থাতেই ৮টাকা বেতনে জমিদারী
সেরেস্তার কাজে লাগিয়ে দেন। দীনবন্ধু, ওই বয়সেই মনে অনেক উচ্চাশা পোষণ করতেন। পিতার অমতে
সেরেস্তার কাজ ছেড়ে দিয়ে তিনি কলকাতায়, কাকা নীলমণি মিত্রের কাছে চলে আসেন। কাকার আশ্রয়ে
তাঁকে রান্নার কাজ সহ অনেক শ্রমের বিনিময়ে থাকতে হয়েছিল।
রেভারেন্ড জেমস লং এর কলুটোলা ব্রাঞ্চ স্কুলে পড়ে ১৮৫০ সালে কলকাতার হিন্দু কলেজে ভর্ত্তি হন। এই
স্কুলটিই পরে হেয়ার স্কুলে পরিণত হয়। ১৮৫৫ সালের কলেজের ফাইনাল পরীক্ষা তিনি দেন নি। সম্ভবত সেই
বছরই ১৫০টাকা বেতনে পাটনার পোস্টমাস্টারের পদে চাকরি পেয়ে সেখানে চলে যান।
দীনবন্ধু মিত্রের কর্মজীবন - পাতার উপরে . . .
১৮৫৫ সালে কলেজের ফাইনাল পরীক্ষায় না বসে পাটনায় পোস্ট মাস্টারের চাকরি শুরু করেন। ডাক
বিভাগে নানা জায়গায় কাজ করার পর ১৮৭০ সালে কলকাতায় বদলি হয়ে আসেন। ১৮৭১ সালে আসামে
লুসাই যুদ্ধের সময় আসাম অঞ্চলে ডাক ব্যবস্থা একদম ভেঙ্গে পড়ে। তখন তিনিই নিজের জীবনের ঝুঁকি
নিয়ে কাছাড়ে গিয়ে পুনরায় ডাক ব্যবস্থা সচল করেন। এই কাজের কৃতজ্ঞতা স্বীকার হিসেবে বিটিশ সরকার
তাঁকে রায় বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করেন। মধুমেহ বা ডায়াবেটিসের রোগের কারণে মাত্র ৪৩ বছর
বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।
কবির মৃত্যের পরে, "তমোলুক" পত্রিকাতে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ অনুযায়ী দীনবন্ধু ডাকবিভাগে চাকরী
নেবার আগে কিছুদিন হিন্দু স্কুলে শিক্ষক রূপে কাজ করেছিলেন।
দীনবন্ধু মিত্রের রচনাসম্ভার - পাতার উপরে . . .
কবি ঈশ্রচন্দ্র গুপ্তের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে দীনবন্ধু মিত্র ছাত্রাবস্থা থেকেই কবিতা লিখতে শুরু করেন। তাঁর
কাব্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে "সুরধুনি কাব্য" (১ম ভাগ ১৮৭২, ২য় ভাগ তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত), "দ্বাদশ
কবিতা" (১৮৭২)। তাঁর নাটকের মধ্যে রয়েছে "নীলদর্পণ" (১৮৬০), "নবীন তপস্বিনী" (১৮৬৩), "বিয়ে পাগলা
বুড়ো" (১৮৬৬), "সধবার একাদশী" (১৮৬৬), "লীলাবতী" (১৮৬৭), জামাই বারিক (১৮৭২), "কমলে কামিনী"
(অসুস্থ শরীরে লেখা ১৮৭৩), "জমালয়ে জীবন্ত মানুষ" প্রভৃতি।