কবি গৌরকিশোর ঘোষের কবিতা
*
পহলে তলোয়ার ঢাল তার হাতে দিয়া
কবি গৌরকিশোর ঘোষ
. . . গৌরকিশোর ঘোষের “প্রেম নেই” উপন্যাসের ‘আওরতে হাসিনা’ পর্বের দ্বাদশ অধ্যায়
থেকে নেওয়া।

উত্সাহী শ্রোতা পেয়ে ফটিকের মুখে যেন কথার বান এসে গেল।

পহলে তলোয়ার ঢাল তার হাতে দিয়া।
তলোয়ার বাজির বন্দ দিল শেখাইয়া॥
নেজা বাজি তীর বাজি গোর্জের লড়াই।
কোমর বন্দ ধরাধরি শেখায় এয়ছাই॥
কশাকশি দিয়া ফাঁসী গর্দানে ঢালিয়া।
মহিমের যত বন্দ দিল শেখাইয়া॥
জোরে জোরওয়ার বিবি হইল এয়ছাই।
তার মত পাহালওয়ান এ দেশেতে নাই॥

.                   ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
একে মেরা দেহ ছেড়ে চলিল পরাণ
কবি গৌরকিশোর ঘোষ
গৌরকিশোর ঘোষের “প্রেম নেই” উপন্যাসের ‘আওরতে হাসিনা’ পর্বের দ্বাদশ অধ্যায়
থেকে নেওয়া।

. . . বল বাপ, কী শুনলে বল। ফকির ওকে উত্সাহ দিল।
বৃষ্টির ঝাপটা, শীত শীত ভাব, সব উপেক্ষা করে ফটিক সোহ্ রাবের খেদ আবৃত্তি করল :

একে মেরা দেহ ছেড়ে চলিল পরাণ।
আইস বাপ দেখা দেহ জুড়াক পরাণ॥
তুমি এয়ছা পাহালওয়ান জাহানের বিচে।
জের তেরা কত দেশ তেরা তেগ নীচে॥
আমি হেথা মারা যাই না জান খবর।
সেতাব আসিয়া বাপ দাদ লেহ মোর॥
ইহা বলে কেন্দে কহে রোস্তমের তরে।
শুন পাহালওয়ান তুমি মারিলে আমারে॥
দরিয়াতে থাক কিম্বা থাক আকাশেতে।
বাপ মেরা এ খবর পাইলে শুনিতে॥
যেখানেতে থাক তুমি মারিয়া তোমারে।
লিবে সে আমার দাদ বুঝিবে আখেরে॥

.                   ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জমিনে গিরিয়া গেল বেহাল হইয়া
কবি গৌরকিশোর ঘোষ
গৌরকিশোর ঘোষের “প্রেম নেই” উপন্যাসের ‘আওরতে হাসিনা’ পর্বের দ্বাদশ অধ্যায়
থেকে নেওয়া।

. . . কে তোমার বাপ ? এই প্রশ্নের উত্তরে সোহ্ রাব যখন জানালেন যে তার বাপই
রোস্তম, তখন রোস্তম শোকে ভেঙ্গে পড়লেন। ফটিক বলল, রোস্তমের কথাডা তুমিই শুনাও
ফরির। ফকির রোস্তমের বিলাপ বর্ণনা করতে লাগল। বৃষ্টি বেশ চেপে এল।


জমিনে গিরিয়া গেল বেহাল হইয়া।
ছের ঠোঁকে ঘন হাঁকে সোহ্ রাব বলিয়া॥
কহে হায় হায়রে সোহ্ রাব কি করিনু।
বিনা দোষে আমি তুঝে খঞ্জর মারিনু॥
জেগর কাটিয়া তেরা কৈনু পারাপারা।
শোগের জওহরে ছিনা চাক হৈল মেরা॥
যতদিন বেঁচে রব ছিনা হৈতে মোর।
বাহির নাহিক হবে ছিনার খঞ্জর॥
কেয়ামত তক ছিনা জ্বলিবে আমার।
নাহিক হৈবে ঠান্ডা শোগেতে তোমার॥
ছিনা চাক দেখি তেরা ছাতি মোর জ্বলে।
হায়রে সোহ্ রাব এই আছিল কপালে॥

.                   ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
স্মার্নার কূলে গ্রীসের দম্ভ সিন্ধু-সলিলে ডালি
কবি গৌরকিশোর ঘোষ
গৌরকিশোর ঘোষের “প্রেম নেই” উপন্যাসের ‘মধ্যিখানে চর’ পর্বের একাদশ অধ্যায় থেকে
নেওয়া।

. . . ফটিক অন্যমনস্ক হয়ে গেল। ইয়াকুব বোকার মত বসে থাকল কিছুক্ষণ। তারপর
একটা সিগারেট ধরাল। তারপর বলল, “যাই বলেন ভাই, ঢাকায় একটা তাজা ভাব আছে।
বাংলার মুসলমানের যে একটা তাজা ভাব আছে। বাংলার মুসলমানের যে একটা চরিত্রও
আছে, ঢাকায় সর্বক্ষণ সেটা অনুভব করা যায়।”
হঠাৎ ইয়াকুব একটা আবৃত্তি করল :


স্মার্নার কূলে গ্রীসের দম্ভ সিন্ধু-সলিলে ডালি,
রুদ্র দামাল জিষ্ণু কামাল মুখে দিল চূণকালি।
দার্দ্দানেলেসে বিজয়-ডঙ্কা তব জয় নির্ঘোষ
ধমনীতে ছোটে তপ্ত শোণিত, খুন-খারাবীর জোশ।
দাঁতে কুটা কাটি বৃটিশ সিংহ মেগে নিল পরাজয়
বিশ্ব মুখরি “জয়তু কামাল” ওঠে রব—জয় জয় !
সে মহা আরাবে যুগের জীর্ণ খেলাফৎ প’ল ধ্বসি’
পচা আচারের বাঁধন টুটিল--- মুখোশ পড়িল খসি’।
য়ুরোপের চির-‘পীড়িত মানব’ নাভিশ্বাসের কালে
নব জীবনের জয়টীকা পরি জাগিল প্রাচী’র ভালে।

.                   ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর