মোহিনী
কবি হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
১২৮৭ বঙ্গাব্দে (১৮৮০) “কল্পনা”-য় প্রকাশিত। আমরা পেয়েছি ১৯৮০ সালে প্রকাশিত দেবপ্রসাদ ভট্টাচার্য
সম্পাদিত “হরপ্রসাদশাস্ত্রী রচনা-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড থেকে।



মোহিনী --- মোহিনী মম জীবন-তোষিণী,
কিবা মোহজালে মোরে ঘেরেছ মোহিনী!
আপনা বিস্মৃত হয়ে তব রূপ চিত্র লয়ে
ওই ধ্যান ওই জ্ঞান দিবস রজনী।


একাকী রয়েছি যেন মায়ার কানন,
গাঢ় ইন্দ্রজালে যেন ভূবন মগন!
জগৎ মোহিনী মোহিনী মোহি’--- নাহি অন্যমন।


আকাশে মোহিনী হেরি--- হেরি নদীতটে,
সর্বত্র মোহিনী যেন আঁকা চিত্রপটে ;
যেদিকে নয়ন যায় মোহিনী দেখিতে পায়,
যা দেখি মোহিনী--- হায়, মোহিনীই বটে।


বিধি যেন মোর তরে কত কাল তপ করে
ভাঙিয়া জগৎ আহা, মোহিনীতে গড়েছে,
তাই তো মোহিনীময় এ জগৎ হয়েছে।


কোথা যাও--- কোথা যাও, শুন লো মোহিনী
চাঁদের আড়ালে কেন লুকাও সজনি ?
মোহিনী হৃদয়ে রেখে সর্বাঙ্গে মোহিনী মেখে
তাই কি চাঁদের আলে ছড়ায় মোহিনী ?


বিদ্যুৎবরণী বামা বিদ্যুৎ অধরে
নয়নে বিদ্যুৎ খেলে বিদ্যুৎ অম্বরে,
ছড়াইয়ে রূপরাশি দশ দিক পরকাশি
হাসি হাসি ভাসি যায় নয়নের উপরে।


স্থির সৌদামিনী ধনী বরনে তাহার
গমনে--- অধরে নেত্রে চঞ্চলা বাহার।
এই আসে এই যায় এই আসে পুনরায়
চঞ্চলা চপলা যেন করিছে বিহার।


চপলা প্রকাশি ডুবে, আর না প্রকাশে,
করাল নীলিম মেঘ তাহারে গরাসে ;
মোর মোহি’--- সৌদামিনী দ্রুত শতহুদা জিনি
পুনঃ আসে পুনঃ যায় হৃদয়-আকাশে।


অভাগ্য যখন ছিল কত কিই ভেবেছি
সংসারে সুখ-আশে কত বার ভেসেছি,
নিজে সুখী হব বলে মনে আছে কত স্থলে
অস্থিচর্ম ভেদি কত যাতনাই পেয়েছি।

১০
মোহিনী রে, তোর তরে সকলি যে ছেড়েছি,
অপর ভাবনা যত উপাড়িয়া ফেলেছি।
বিধাতা কি শুভক্ষণে মিলাইল তোর সনে
তুমিময়--- মোহিময় তদবধি হয়েছি।

১১
ছেড়েছি--- ছেড়েছি যত পুরাতন ভাবনা,
তুমি বিনে বর্তমানে আর-কিছু ভাবি না,
তুমি আমি এক হয়ে প্রাণে প্রাণে মিশাইয়ে
থাকিব অনন্তকাল এই শুধু কামনা।
তুমি বিনে বর্তমানে আর-কিছু চাহি না।

১২
মোহিনী--- মোহিনী মোর হৃদয়ের তোষিণী
প্রেম মোহ মায়া সুখে বিকলিছ পরানি।
শুনিছে সুখের গান প্রেমে মত্ত মন প্রাণ
“সুখময় প্রেমময় মোহময় মোহিনী!”

১৩
যেন এক সুরাধারা সুধাভাণ্ড হইতে
অজস্র মৃদুলধারে লাগিয়াছে বহিতে,
পড়িয়া হৃদয় ’পরে সর্বাঙ্গ অবশ করে
প্রতি লোমকূপ যেন ভরিতেছে অমৃতে।

১৪
বিকল নয়ন মরি কিছু নাহি দেখিছে,
অবশ শ্রবণ হায় কিছু নাহি শুনিছে,
স্পর্শন রসন নাসা ত্যজিয়াছে সব আশা,
হৃদয় শুধুই মাত্র বিকশিত হইছে।

১৫
হৃদয়কমল পূর্ণ বিকশিত হয়েছে,
লক্ষ লক্ষ দল যেন রূপ ফেটে পড়েছে।
কোমলতা চমত্কার মরি মরি কি বাহার,
সুখের সাগরে যেন ঢলি ঢলি পড়িছে।

১৬
হৃদয়ের কাজ যত হৃদয় তা ত্যেজেছে
বুদ্ধি দুঃখ ইচ্ছা দ্বেষ নির্বাসিত হয়েছে ; @
যতন গিয়াছে তার শুধু সুখ নির্বিকার
প্রবৃত্তি তাহার মাত্র মোহিনীতে রয়েছে।

১৭
প্রবৃত্তি নিবৃত্তি মাখা হৃদ্পদ্ম ঢাকিছে
প্রবত্তি নিবৃত্তি সুখে মোহিনীতে ভরিছে।
হৃদয় মোহিনীময় মোহিনীই সমুদয়
সুধাধারা মোহিনীরে বারে বারে ঢালিছে।

১৮
প্রেমে সুখে মোহে আর মোহিনীতে মজিয়ে
গাঢ় যোগনিদ্রামতো, স্পন্দহীন হইয়ে
থাক থাক হৃদ আমার--- সুধাধারা শতবার
অনন্ত অমৃতহুদে বায়ুকরে ডুবায়ে
প্রেম সুখে মোহে আর মোহিনীতে মজায়ে।


@ - ন্যায়মতে আত্মার ছয় গুণ--- বুদ্ধি, সুখ, দুঃখ, ইচ্ছা, দ্বেষ, যত্ন বা প্রবৃত্তি।

.                  ******************                 
.                                                                             
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
কবি হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর কবিতা
*
বীর্যের প্রশংসা লোকে আছে পূর্বাপর
কবি হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
“পাঁচ ছেলের গল্প” নামক বৌদ্ধ গল্পের কবিতা। ১৩৩৩বঙ্গাব্দের (১৯২৬) বার্ষিক বসুমতী পত্রিকায়
প্রকাশিত। আমরা পেয়েছি ১৯৮০ সালে প্রকাশিত দেবপ্রসাদ ভট্টাচার্য সম্পাদিত “হরপ্রসাদশাস্ত্রী রচনা-
সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড থেকে।


বীর্যের প্রশংসা লোকে আছে পূর্বাপর।
মানুষের বাহুবল সবার উপর॥
বীর্যের প্রভাতে দেখ কোটালের সুত।
আমিল প্রচুর ধন সহস্র অয়ুত॥

.                  ******************                 
.                                                                             
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শিল্পের প্রশংসা লোকে আছে পূর্বাপর
কবি হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
“পাঁচ ছেলের গল্প” নামক বৌদ্ধ গল্পের কবিতা। ১৩৩৩বঙ্গাব্দের (১৯২৬) বার্ষিক বসুমতী পত্রিকায় প্রকাশিত
। আমরা পেয়েছি ১৯৮০ সালে প্রকাশিত দেবপ্রসাদ ভট্টাচার্য সম্পাদিত “হরপ্রসাদশাস্ত্রী রচনা-সংগ্রহ”, ১ম
খণ্ড থেকে।


শিল্পের প্রশংসা লোকে আছে পূর্বাপর।
শিল্পকলা মানুষের সবার উপর॥
শিল্পের প্রভাবে দেখ পুরুত-নন্দন।
আনিলেন কত ধন করি উপার্জন॥

.                  ******************                 
.                                                                             
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রূপের প্রশংসা লোকে আছে পূর্বাপর
কবি হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
“পাঁচ ছেলের গল্প” নামক বৌদ্ধ গল্পের কবিতা। ১৩৩৩বঙ্গাব্দের (১৯২৬) বার্ষিক বসুমতী পত্রিকায় প্রকাশিত
। আমরা পেয়েছি ১৯৮০ সালে প্রকাশিত দেবপ্রসাদ ভট্টাচার্য সম্পাদিত “হরপ্রসাদশাস্ত্রী রচনা-সংগ্রহ”, ১ম
খণ্ড থেকে।


রূপের প্রশংসা লোকে আছে পূর্বাপর।
মানুষের রূপ হয় সবার উপর॥
দেখ রূপবন্ত গণিকার কোলে বসি।
আহ্রণ করিয়াছে কত ধনরাশি॥

.                  ******************                 
.                                                                             
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
প্রজ্ঞার প্রশংসা লোকে আছে পূর্বাপর
কবি হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
“পাঁচ ছেলের গল্প” নামক বৌদ্ধ গল্পের কবিতা। ১৩৩৩বঙ্গাব্দের (১৯২৬) বার্ষিক বসুমতী পত্রিকায় প্রকাশিত
। আমরা পেয়েছি ১৯৮০ সালে প্রকাশিত দেবপ্রসাদ ভট্টাচার্য সম্পাদিত “হরপ্রসাদশাস্ত্রী রচনা-সংগ্রহ”, ১ম
খণ্ড থেকে।


প্রজ্ঞার প্রশংসা লোকে আছে পূর্বাপর।
প্রজ্ঞা মানুষের হয় সবার উপর॥
এই দেখ প্রজ্ঞাবন্ত ভাবিয়া চিন্তিয়া।
রাশীকৃত ধন-রত্ন দিলেক আনিয়া॥

.                  ******************                 
.                                                                             
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পুণ্যের প্রশংসা লোকে আছে পূর্বাপর
কবি হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
“পাঁচ ছেলের গল্প” নামক বৌদ্ধ গল্পের কবিতা। ১৩৩৩বঙ্গাব্দের (১৯২৬) বার্ষিক বসুমতী পত্রিকায় প্রকাশিত
। আমরা পেয়েছি ১৯৮০ সালে প্রকাশিত দেবপ্রসাদ ভট্টাচার্য সম্পাদিত “হরপ্রসাদশাস্ত্রী রচনা-সংগ্রহ”, ১ম
খণ্ড থেকে।


পুণ্যের প্রশংসা লোকে আছে পূর্বাপর।
নরলোকে নাহি কিছু পুণ্যের উপর॥
এই দেখো পূণ্যবলে আমি পুণ্যবন্ত।
পাইলাম রাজ্য যার নাই সীমা-অন্ত॥

.                  ******************                 
.                                                                             
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*