হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর কবিতা - পাতার উপরে . . .
বেশিরভাগ বাঙালীই মনে করেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয় কোনো দিন কোনো কবিতা লেখেন নি! দেবপ্রসাদ
ভট্টাচার্য সম্পাদিত, পাঁচ খণ্ডে প্রকাশিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচনা-সংগ্রহের ১ম খণ্ডে, “মোহিনী” নামে একটি দীর্ঘ
কবিতা সংকলিত করা রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর একটি রচনা --- বৌদ্ধ গল্প, “পাঁচ ছেলের গল্প”-তে পাঁচটি চার
পংক্তির কবিতা রয়েছে।
বাংলা সাহিত্যের কি পদ্য, কি গদ্য, সব বিষয় নিয়েই হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর কোনো না কোনো রচনা রয়েছে।
বাংলার প্রাচীনতম কাব্যের সঙ্গে বাঙালীকে পরিচিত করিয়েছিলেন এই মানুষটিই চর্যাগীতির আবিস্কারের
মধ্য দিয়ে। সেই মানুষটির গদ্য সাহিত্য নিয়ে তাঁর সমকাল থেকে শুরু করে পরবর্তী আলোচকগণ দিস্তে
দিস্তে পাতা ভরালেও তাঁর স্বরচিত কবিতা নিয়ে কাউকেই একটিও শব্দ খরচ করতে দেখি নি। সুকুমার
সেনের মতো ব্যক্তিত্ব, ১৯৮০ সালে দেবপ্রসাদ ভট্টাচার্য সম্পাদিত, পাঁচ খণ্ডের “হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচনা-সংগ্রহ”-
এর উপদেষ্টারূপে মুখবন্ধ “প্রারম্ভ-বচন” লিখেছিলেন, তিনিও হরপ্রসাদের কবিতা নিয়ে কিছু লেখেন নি। এর
কারণ আমি সঠিক বুঝতে পারলাম না। যেন হরপ্রসাদের কবিতা সম্বন্ধে কারও কিছু লেখার বা বলার নেই।
ভালো-খারাপ দুটোই তো লেখা যায়! আমরা, এই কিছুই-না-লেখার সম্ভাব্য কারণগুলি এক এক করে লেখার
চেষ্টা করছি . . .
১। কবি যদি অল্প কয়েকটি কবিতা লিখে থাকেন, তা হলে কি তাঁর কবিতা, আলোচকগণ, আলোচনার
অযোগ্য মনে করতে পারেন ? এক্ষেত্রে কি তেমন কিছু হয়েছে ? রচনা-সংগ্রহের সংকলক দেবীপ্রসাদ
ভট্টাচার্য, হরপ্রসাদের “মোহিনী” কবিতাটি সংকলিত করেছেন ঠিকই কিন্তু তার সম্বন্ধে আর
কোনো আলোচনা বা প্রাসঙ্গিক তথ্য দেন নি।
২। কবি যদি একাধিক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত না করে থাকেন, তাহলে কি তাঁর কবিতা নিয়ে কেউ কিছু লিখতে
চাইবেন না ? এ ক্ষেত্রে কি তেমন কিছু ঘটেছে ?
৩। রবীন্দ্রনাথের নোবেল প্রাপ্তির পরে হরপ্রসাদ বর্ধমানে বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মিলনের সভায়, সভাপতির
অভিভাষণে রবীন্দ্রনাথের কবিতাকে “চুট্ কি” আখ্যা দিয়েছিলেন বলেই কি তাঁর কবিতা নিয়ে কেউ আর
কিছু লিখতে চান নি ? এ বিষয়ে পড়তে এখানে ক্লিক করুন . . .।
যে কারণই হোক, আমরা নিরুপায় হয়ে তা পাঠক এবং বিশেষজ্ঞদের উপর ছেড়ে দিলাম।
আমরা মিলনসাগরে কবি হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টাকে সার্থক মনে করবো।
কবি হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
উত্স
- দেবপ্রসাদ ভট্টাচার্য সম্পাদিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচনা-সংগ্রহ, ১ম ও ২য় খণ্ড, ১৯৮০।
- রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত প্রবাসী পত্রিকার বৈশাখ ১৩২২ সংখ্যায় (মে ১৯১৫) কবি সত্যেন্দ্রনাথ
দত্তের প্রতিবাদী “অ!” কবিতা।
- ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাহিত্য-সাধক-চরিতমালা ৭ম খণ্ড, হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর জীবনী।
- শিশিরকুমার দাশ, সংসদ বাংলা সাহিত্য সঙ্গী, ২০০৩।
- সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত সংসদ বাঙালি চরিতাবিধান, ১ম খণ্ড, ১৯৭৬।
- সত্যজিৎ চৌধুরী, বাংলাপেডিয়া।
- বাংলা উইকিপেডিয়া
আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in
এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ২৩.৮.২০১৮
...
কবি হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (ভট্টাচার্য) -
জন্মগ্রহণ করেন উত্তর ২৪পরগনা জেলার
নৈহাটিতে। তাঁদের আদিনিবাস ছিল খুলনা
জেলার কুমিরা গ্রামে। প্রপিতামহ মাণিক্য
তর্কভূষণ ১৭৫৭সালের পলাশির যুদ্ধের পরে,
কলকাতার উত্তরে নৈহাটিতে এসে বসবাস
শুরু করেন। পিতা রামকমল ন্যায়রত্ন। তাঁর
ছয়পুত্রের নাম নন্দকুমার, রঘুনাথ, যদুনাথ,
হেমনাথ, শরৎনাথ এবং মেঘনাথ। পঞ্চম
পুত্র শরৎনাথ ভট্টাচার্য ৮-৯বছর বয়স পর্যন্ত
কান্দীর স্কুলেই পড়েন। সেই সময়ে একবার কঠিন অসুখ হ’লে, শিবের প্রসাদ খেয়ে সেরে উঠেছিলেন বলে
তাঁর নতুন নাম রাখা হয় “হরপ্রসাদ”।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর শিক্ষা জীবন - পাতার উপরে . . .
তিনি মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দী গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ১৮৬৬ সালে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি
হন। ১৮৭১ সালে এন্ট্রান্স, ১৮৭৩ সালে এফ.এ. (ফার্স্ট আর্টস) এবং ১৮৭৬সালে ৮ম স্থান অধিকার করে
প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বি.এ. পাশ করেন।
১৮৭৭সালে সংস্কৃত কলেজ থেকে এম.এ. পরীক্ষায় একমাত্র তিনিই প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে শাস্ত্রী উপাধি
লাভ করেন।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর কর্মজীবন - পাতার উপরে . . .
কর্মজীবন শুরু করেন কলকাতার হেয়ার স্কুলে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে। এর পর ক্রমে লক্ষ্ণৌয়ের ক্যানিং
কলেজ, কলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলকাতার সংস্কৃত কলেজে অধ্যাপনা ও পরে
সেখানে অধ্যক্ষের পদে নিযুক্ত হন। ১৮৯৬সালে তিনি ঐ কলেজে স্নাতকোত্তর এম.এ. ক্লাস শুরু করেন।
এ ছাড়া তিনি ১৮৮৩ সাল থেকে সরকারী সহকারী অনুবাদকের পদে ছিলেন এবং ১৮৮৬ সালে বেঙ্গল
লাইব্রেরীর লাইব্রেরিয়ান পদেও কার্যভার গ্রহণ করেছিলেন। অবসর নেবার পরেও সরকার তাঁকে সিভিল
অফিসারদের জন্য বেঙ্গল ইন্ফরমেশন ব্যুরোতেও কর্ণধারের কাজ করেছেন।
বিদ্যাসাগরের স্নেহধন্য হরপ্রসাদ - পাতার উপরে . . .
হরপ্রসাদের বড়দা নন্দকুমার ন্যায়চঞ্চু, তাঁদের দাদামশাই রামমাণিক্য বিদ্যালংকারের শিক্ষার এবং নিজের
অসামান্য মেধার গুণে খুব অল্পবয়সেই পাণ্ডিত্যে খ্যাতি অর্জন করেন। মাত্র ১৯বছর বয়সেই প্রৌঢ় পণ্ডিত
শ্রীরাম শিরোমণিকে তর্কযুদ্ধে হারিয়ে পণ্ডিত সমাজে স্বীকৃতি পান। তাঁর এই প্রতিভায় আকৃষ্ট হয়ে,
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁকে সংস্কৃত কলেজে অধ্যাপনার কাজে নিযুক্ত করেন ১৮৫৬ সালে।
নন্দকুমারকে তাঁর বন্ধু ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরই পরামর্শ দেন ইংরেজী শেখার জন্য। এভাবেই তাঁদের
পরিবারে ইংরেজী শিক্ষার সূত্রপাত হয়। এরপর কিছুদিন সংস্কৃত কলেজে অধ্যাপনার কাজ করে
বিদ্যাসাগরেরই সুপারিশে তিনি মুরিশিদাবাদ জেলার কান্দী স্কুলে হেডপণ্ডিত হয়ে যান। ১৯৬১-৬২ সালের
মধ্যে পিতা রামকমল এবং বড়দা নন্দকুমারের মৃত্যু হলে তাঁদের পরিবার আর্থিক দুরবস্থার মধ্যে পড়ে
যায়।
১৮৬৬ সালে বিদ্যাসাগর হরপ্রসাদকে কলকাতায় এনে তাঁর নিজের বাড়ীর ছাত্রাবাসে ভর্তি করে দেন।
প্রত্যক্ষ ছাত্র না হলেও বিদ্যাচর্চায় বিদ্যাসাগরের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ অবিচ্ছিন্ন ছিল। অল্প বয়স থেকেই
হরপ্রসাদ, বিদ্যাসাগরের স্নেহধন্য হয়েছিলেন তাই তাঁর মানসিক গঠন ও সাহিত্য-রুচিতে বিদ্যাসাগরের
প্রভাব গভীরভাবে পড়েছিল।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, বঙ্কিমচন্দ্র ও বঙ্গদর্শন - পাতার উপরে . . .
বি.এ. পড়তে পড়তেই তিনি “ভারত মহিলা” নামের প্রবন্ধ রচনা করে “হোলকার” পুরস্কারে ভূষিত হন।
লেখাটি “বঙ্গদর্শন” পত্রিকায় প্রকাশিত হয় মাঘ ১২৮১ ( জানুয়ারী ১৮৭৫) সংখ্যায়। সেই সূত্রে তিনি
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সংস্পর্শে আসেন। কবি সাহিত্যিক রাজকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্রের
কাছের মানুষ। বঙ্গদর্শন পত্রিকার অন্যতম লেখক। তিনিই হরপ্রসাদকে বঙ্কিমচন্দ্রের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে
দেন এবং তাঁর হোলকার পুরস্কারপ্রাপ্ত “ভারত মহিলা” প্রবন্ধটি বঙ্গদর্শনে প্রকাশনার ব্যবস্থা করে দেন।
পরে তাঁর আরো রচনা বঙ্গদর্শন পত্রিকার মাঘ ১২৮১ (জানুয়ারী ১৮৭৫) সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। উপন্যাস ও
বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ মিলিয়ে তাঁর প্রায় ৩০টি রচনা বঙ্গদর্শন-এ প্রকাশিত হয়। কিন্তু তাঁর বহু রচনা
বঙ্গদর্শনে প্রকাশিত হলেও, তখনকার প্রথা মতো সেখানে তাঁর নাম থাকতো না। তিনি নিজেই বঙ্গদর্শন
প্রসঙ্গে বলেছেন,
“আমি প্রায়ই লিখিতাম, কিন্তু কখনও নাম সই করি নাই। সেই জন্য এখন সেই সকল লেখা যে আমার, তাহা
প্রমাণ করা কঠিন হইয়াছে।”
এর এক বছর কাল পরে, সম্ভবত এই কারণেই ১৯১৬ সালে হেয়ার প্রেস থেকে ইংরেজীতে
“Mahamahopadhyaya Haraprasad Shastri, M.A., C.I.E., F.A.S.B.” নামে একটি ২০ পৃষ্ঠার পুস্তিকা প্রকাশিত হয়,
যেখানে হরপ্রসাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী ছাড়া বঙ্গদর্শন, আর্য্যদর্শন, নারায়ণ ও বিভা সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়
প্রকাশিত রচনাবলীর তালিকা দেওয়া ছিল। সাহিত্য-সাধক-চরিতমালার ৭ম খণ্ডে (৬০-পৃষ্ঠা), হরপ্রসাদের
জীবনীকার ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃঢ় বিশ্বাস হয় যে এই পুস্তিকাটি হরপ্রসাদ নিজেই প্রকাশ
করেছিলেন তাঁর আত্মীয়-বন্ধবান্ধবগণের মধ্যে বিতরণের জন্য। এখান থেকেই পরবর্তীতে তাঁর “বঙ্গদর্শন”-এ
প্রকাশিত বিভিন্ন রচনাবলী সম্বন্ধে সবাই জানতে পারেন।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ও এশিয়াটিক সোসাইটি - পাতার উপরে . . .
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সঙ্গে এশিয়াটিক সোসাইটির সম্পর্ক, একপ্রকারে তাঁর প্রপিতামহের আমল থেকেই!
এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা, ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির আমলের সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি স্যার
উইলিয়াম জোন্স-এর বিশেষ প্রীতিভাজন ছিলেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর প্রপিতামহ মাণিক্য তর্কভূষণ। বিচারের
কাজে হিন্দু আইনের ব্যাখ্যায় জাসটিস জোন্স তাঁর সাহায্য নিতেন।
এম.এ. পাশ করার পরেই হরপ্রসাদ, প্রখ্যাত দুই ভারততাত্ত্বিক (Indologist) এশিয়াটিক সোসাইটির সম্পাদক
রাজেন্দ্রলাল মিত্র এবং ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র দত্তের সংস্পর্শে আসেন। দুজনেরই কাজে সহযোগী হিসেবে
হরপ্রসাদ প্রভুত সাহায্য করেছিলেন।
রাজেন্দ্রলালই হরপ্রসাদকে বৌদ্ধশাস্ত্র ও পুথি-সমুদ্রের মাধ্যমে ভারতের ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যে,
এমন কি বহু প্রাচীন পণ্ডীতজনদের প্রকৃত পরিচয় ও জীবনী আবিস্কারের দরজা খুলে দেন। রাজেন্দ্রলালের
সাহায্যে তিনি এশিয়াটিক সোসাইটির সদস্যপদ লাভ করেন। রাজেন্দ্রলালের “The Sanskrit Buddhist
Literature of Nepal” (১৮৮২) গ্রন্থে সংকলিত বৌদ্ধপুরাণের বেশিরভাগ অনুবাদ হরপ্রসাদই সম্পন্ন করেন।
রাজেন্দ্রলালের পরলোক গমনের পরে এশিয়াটিক সোসাইটিতে হরপ্রসাদ পুথি সংগ্রহের কাজে অধ্যক্ষ নিযুক্ত
হন।
১৯০৭ সালে তিনি নেপালে আদি বাংলা ভাষার প্রাচীনতম পুথি “চর্যাচর্যবিনিশ্চয়”, সরোহূবজ্র রচিত
“দোহাকোষ”, কাহ্নপাদ রচিত “দোহাকোষ” ও সংস্কৃতে রচিত “ডাকার্ণব”, এই চারটি গ্রন্থ আবিস্কার করে তাঁর
সম্পাদনায় ১৯১৬সালে প্রকাশিত করেন “হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা” নামে গ্রন্থ
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে।
সত্যজিৎ চৌধুরী তাঁর বাংলাপেডিয়া ওয়েবসাইটে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর জীবনীতে লিখেছেন . . .
“প্রাচীন সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যের পরিচয় উদ্ধারে হরপ্রসাদের অবদান দৃষ্টান্তমূলক। তিনি প্রায় দশ হাজার
পুঁথির বিবরণাত্মক সূচি প্রণয়ন করেন, যা এগারো খন্ডে প্রকাশিত হয়। রাজস্থান অঞ্চল থেকে তিনি ভাট ও
চারণদের পুঁথি সংগ্রহ করেন। সংস্কৃত পুঁথি সন্ধানের সূত্রেই তাঁর আগ্রহে প্রাচীন বাংলা পুঁথি সংগ্রহের কাজ
শুরু হয় এবং এ বিষয়ে তাঁকে সাহায্য করেন দীনেশচন্দ্র সেন এবং মুন্সী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ।
এশিয়াটিক সোসাইটির গবেষণা প্রকল্পের মধ্যে হরপ্রসাদই প্রথম ‘বাংলা পুঁথি সন্ধান ও বিবরণ প্রকাশ’
কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করেন।”
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ও বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ - পাতার উপরে . . .
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৩০৩ বঙ্গাব্দে (১৮৯৭) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য
পরিষদের সভাপতি তিনবার [ ১৩২০-২২(১৯১৩-১৫), ১৩২৭-৩০(১৯২০-২৩), ১৩৩২-৩৬(১৯২৫-২৯) ] এবং
সহ-সভাপতি পাঁচবার [ ১৩০৪-০৯(১৮৯৭-১৯০২), ১৩১৮-১৯(১৯১১-১২), ১৩২৩-২৬(১৯১৬-১৯), ১৩৩১
(১৯২৪), ১৩৩৭-৩৮(১৯৩০-৩১) ] নির্বাচিত হন। তাঁর লেখা ঐতিহাসিক গবেষণা সংক্রান্ত বেশিরভাগ
প্রবন্ধই বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকেই প্রকাশিত হয়েছিল।
১৩০৯ বঙ্গাব্দের শেষে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এর কারণ ছিল
এই যে তিনি কালিদাসের “মেঘদূত”-এর বাংলা অনুবাদ প্রকাশিত করেছিলেন “মেঘদূত ব্যাখ্যা” নামে। তাঁর
শত্রুপক্ষের লোকজন প্রচার করেন যে সংস্কৃত কলেজের প্রিন্সিপ্যাল অশ্লীল বই লিখেছেন। পরিষদের বিশিষ্ট
সভ্যরাও এই প্রসঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে যাওয়ায় তিনি পরিষদ থেকে বেরিয়ে আসেন। কোনো এক সভায় টাকীর
মুন্সী জমিদার রায় যতীন্দ্রনাথ চৌধুরী, তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞেস করায় তিনি বলেছিলেন, “আমি খেউড় গাই,
আমি কি আপনাদের সঙ্গে একাসনে বসার জুগ্গি।” [ গণপতি সরকার, হরপ্রসাদ-জীবনী, ৩০-৩১পৃষ্ঠা। সাহিত্য-
সাধক-চরিতমালার ৭ম খণ্ড, ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর জীবনী, 80-পৃষ্ঠা ]
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর রচনাসম্ভার ও চর্যাপদ আবিষ্কার - পাতার উপরে . . .
তাঁর রচিত উপন্যাস “বাল্মীকির জয়” (১৮৮১), “কাঞ্চনমালা” (১৯১৬) এবং “বেনের মেয়ে” (১৯২০)। অন্যান্য
রচনার মধ্যে রয়েছে “সচিত্র রামায়ণ”, “মেঘদূত ব্যাখ্যা”, “প্রাচীন বাংলার গৌরব” ও “বৌদ্ধধর্ম” প্রভৃতি। ধর্ম,
সাহিত্য এবং প্রাচীন সমাজ সম্বন্ধে তিনি বহু প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তাঁর রচিত ৫২টি নিবন্ধের মধ্যে
ঐতিহাসিক নিবন্ধের সংখ্যা বেশি হলেও সময়তত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব এবং শাসনতন্ত্র বিষয়েও কয়েকটি আলোচনা
রয়েছে। তাঁর রচিত পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে রয়েছে “বাংলা প্রথম ব্যকরণ” ও “ভারতবর্ষের ইতিহাস”।
তাঁর ইংরেজি রচনাগুলির মধ্যে রয়েছে “Sanskrit Culture in Modern India”, “Vernacular Literature of Bengal
before the introduction of English Education (1891)”, “Discovery of Living Buddhism in Bengal” (1897),
“Magadhan Literature” (1923)।
হরপ্রকাশ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন তাঁর নেপাল রাজদরবারের পুথি
সংগ্রহশালা থেকে প্রাচীন বাংলা ভাষায়, বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের রচিত গানের পুথির আবিস্কারের জন্য। ১৮৯১
সালে রাজেন্দ্রলাল মিত্রের মৃত্যুর পর এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক সংস্কৃত পুঁথিসংগ্রহের কাজে তিনি অধ্যক্ষ
নিযুক্ত হন। এই কাজে তিনি নেপাল-তিব্বত ভ্রমণ করেন। তাঁর চর্যাপদ আবিষ্কারের বিষয়ে কবি নীলরতন
সেন জানুয়ারী ১৯৭৮-এ তাঁর “চর্যাগীতিকোষ” গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছেন . . .
“পূর্ব ভারতীয় নব আর্যভাষাগুলির বিবর্তন-ইতিহাসে, “চর্যাগীতিকোষবৃত্তি” পুথিটির আবিষ্কার একটি বিশেষ
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (খৃ. ১৮৫৩-১৯৩২) দুষ্প্রাপ্য বৌদ্ধ শাস্ত্রগ্রন্থাদির অন্বেষণে
কয়েকবার নেপাল-অঞ্চল পরিভ্রমণ করেছেন। খৃ. ১৯০৭-এ তৃতীয়বার নেপাল ভ্রমণকালে তিনি নেপাল
রাজদরবারের পুস্তক-সংগ্রহে এই পুথিটির সন্ধান পান। দীর্ঘ দশ বত্সর পরিশ্রমের পর খৃ. ১৯১৬-তে বঙ্গীয়
সাহিত্য পরিষধ থেকে আরও তিনটি পুথিসহ “হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা” এই
নামে তিনি আলোচ্য পুথিটি প্রকাশ করেন। চারটি পুথিই প্রাচীনতম বাংলা ভাষায় রচিত এই ধারণাবশে
শাস্ত্রী সবগুলি পুথিকে উক্ত নামে এক গ্রন্থভুক্ত করেছিলেন।”
নোবেলের পর রবীন্দ্রনাথের কাব্যকে “চুট্ কি” আখ্যা এবং তারপর... - পাতার উপরে . . .
রবীন্দ্রনাথের নোবেল প্রাপ্তির পরে পরেই হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, অষ্টম বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মিলনের প্রধান সভাপতি
রূপে তাঁর অভিভাষণে রবীন্দ্রনাথের কবিতাকে “চুট্ কি” আখ্যা দিয়েছিলেন। এই নিয়ে সে সময়ে একটি
প্রচণ্ড বাদ-প্রতিবাদের সূচনা হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথের অনুরাগীরা একথার জোর প্রতিবাদ করেছিলেন।
পাঠকের জ্ঞাতার্থে জানাই সেবার ঠিক কি হয়েছিল . . .
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর রচনা সংগ্রহ ১ম খণ্ডের ১৯-পৃষ্ঠা থেকে, সুকুমার সেনের “প্রারম্ভ-বচন”- নামক ভূমিকা থেকে
ঘটনাটি তাঁর কথায় এখানে তুলে দেওয়া হলো . . .
“ . . . এই প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের রচনার সম্পর্কে হরপ্রসাদের মনোভাবের কথা বলি। বর্ধমানে (২০চৈত্র ১৩২১
বঙ্গাব্দ) অষ্টম বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মিলনের প্রধান সভাপতি রূপে হরপ্রসাদ যে অভিভাষণ রচনা করেছিলেন
সেটি তাঁর ইতিহাস জ্ঞানের ও ইতিহাস বোধের জাজ্বল্যমান শ্রেষ্ঠ নিদর্শন বলে গৃহীত হয়েছে। সেই সম্মিলনে
হরপ্রসাদ সাহিত্যশাখার সভাপতিও ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ তখন সদ্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন এবং তখন
দেশেই আছেন। তবুও তিনি সাহিত্য সম্মিলনে আসেন নি দেখে অনেকে ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন।
তাতেও বিশেষ কিছু হত না যদি হরপ্রসাদ সাহিত্যশাখার অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে রবিন্দ্রনাথের
নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির গুরুত্বকে চুটকি রচনার মর্যাদাদান বলে তুচ্ছ না করতেন। হরপ্রসাদের উক্তিতে
রবীন্দ্র-অনুরাগীরা বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। প্রতিবাদ করেছিলেন অক্ষয়কুমার দত্তের পৌত্র সত্যেন্দ্রনাথ
দত্ত। তাঁর “অ!” কবিতাটি পরের মাসে প্রবাসীতে বার হয়ে হরপ্রসাদের খ্যাতিকে সাময়িকভাবে তিমিরাবৃত
করেছিল। অথচ একদা হরপ্রসাদ রবীন্দ্র-রচনার গুণাবলি সম্বন্ধে সম্যক্ অবহিত ছিলেন। তার
বিলক্ষণ সাক্ষ্য রয়েছে সাবিত্রী লাইব্রেরীতে প্রদত্ত (১২৮৭ বঙ্গাব্দ, সংযোজন ১২৯৩ বঙ্গাব্দ) তাঁর অভিভাষণে।
( এই প্রসঙ্গে সাহিত্য সম্মিলনের ভাষণে রবীন্দ্রনাথের রচনার প্রতি ইঙ্গিতের একটা ব্যাখ্যা আমার মনে
এসেছে তা বলে দিই। হরপ্রসাদ চলতি কথার পক্ষপাতী ছিলেন। এই পক্ষপাতের ফলেই তিনি রবীন্দ্রনাথের
গীতাঞ্জলির কবিতা-গানগুলিকে চুট্ কি রচনা বলেছিলেন। এই শব্দটি ব্যবহার না করলে অতটা গোলমাল
হত না। ) ”
রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত প্রবাসী পত্রিকার বৈশাখ ১৩২২ সংখ্যায় (মে ১৯১৫) কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের
প্রতিবাদী “অ!” কবিতাটির শুরুটা এইরকম . . .
. অ!
এই চট্ করে যাহা বলে ফেলা যায়
. চুট্ কি তাহারে কয়,
ওগো ছোট লেখা যত লেখে ছোটলোকে
. জানিবে সুনিশ্চয়। . . .
(সম্পূর্ণ কবিতাটি মিলনসাগরে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতার পাতায় গিয়ে পড়তে এখানে ক্লিক করুন...)
হরপ্রসাদ ঠিক কি বলেছিলেন ?
অষ্টম বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মিলনের প্রধান সভাপতি হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তাঁর অভিভাষণে (হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচনা-
সংগ্রহ ২য় খণ্ড, ৩৬৩-পৃষ্ঠা), কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তর মেঘনাদ বধ মহাকাব্যের কথা উল্লেখ করে সেই
সূত্র ধরে “চুট্ কি” কবিতা সম্বন্ধে যা বলেছিলেন, সেই অংশটি আমরা নীচে তুলে দিচ্ছি . . .
“. . . মাইকেল মধুসূদন দত্ত নানা ভাষায় পণ্ডিত ছিলেন, নানা ভাষা হইতে উপমা সংগ্রহ করিয়াছেন, ভাব
সংগ্রহ করিয়াছেন ও সংস্কৃত কাঠামোয় সেগুলি সাজাইয়াছেন। মহাকাব্যখানি ভালোই হইয়াছে। কারণ, ঐ
কাব্য দেখিয়া ও ঐ কাব্য পড়িয়া যখন অনেকেই কাব্য লিখিতে আরম্ভ করিয়াছিলেন ও কবি হইয়াছিলেন,
তখন উহা যে শিক্ষিত সমাজকে বিশেষ রূপে আন্দোলিত করিয়া তুলিয়াছিল তাহাতে সন্দেহ কী ? কিন্তু
জিজ্ঞাসা করি, তাহার পর আর এইরূপ মহাকাব্য হইল কই ? যদি বলো মহাকাব্য কি রোজ রোজ হয় ?
হয় না সত্য কিন্তু সে দিকে চেষ্টা কই ? ও পথটা যেন লোকে ছাড়িয়াই দিয়াছে বলিয়া মনে হয়। এখন মনে
হয় যেন বেশি দিন ভাবিয়া, বেশি দিন চিন্তিয়া বড়ো একখানা কাব্য লিখিয়া জীবন সার্থক করিব --- সে
চেষ্টাই লোকের মনে নাই। চটক্ দার দু-চারটা গান লিখিয়া চট করিয়া নাম লইব, সেই চেষ্টাই যেন অধিক।
গানের দিকে ছোটো ছোটো কবিতার দিকে, চুট্ কির দিকেই লোকের ঝোঁক বেশি। চুট্ কিতে সময় সময়
মুগ্ধো করে, কিন্তু চুট্ কিই কি আমাদের যথাসর্বস্ব হইবে ? বড়ো জিনিষ কি আর হইবে না ? আমাদের
সাহিত্যের খুব শ্রীবৃদ্ধি হইতেছে, তাহাতে আমরা আনন্দিত। বাংলায় যত বই বাহির হয়, ভারতবর্ষে আর
কোনো ভাষায় তত হয় না। এটা আমাদের আনন্দের বিষয়। বাংলার যত বই অন্য ভাষায় তর্জমা হয়, এত
ভারতবর্ষের অন্য ভাষায় হয় না। ইহাও আমাদের আনন্দের বিষয়। রবিবাবু নোবেল প্রাইজ পাইলেন,
বাংলাভাষার জয়জয়কার হইল, ইহাতে কে না আনন্দিত। কিন্তু আমি জিজ্ঞাসা করি, ভবিষ্যতের কী
হইতেছে ? ঝোঁক যদি চুট্ কির উপর হয়, ক্রমে সে চুট্ কিও যে খারাপ হইয়া যাইবে। কালিদাস ভবভূতির
পর চুট্ কি আরম্ভ হইয়াছিল : কেননা, শতক, দশক, অষ্টক, সপ্তশতী---এই-সব তো চুট্ কি-সংগ্রহ ছাড়া
কিছুই নয়। তাই আমার ভয় হয় পাছে বাংলার কাব্যটা চুট্ কিতেই অবসান হইয়া যায়। . . .”
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর প্রাপ্ত সম্মাননা এবং মহামহোপাধ্যায় - পাতার উপরে . . .
তাঁর প্রাপ্ত বহু সম্মাননার মধ্যে রয়েছে ১৮৮৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আজীবন ফেলো মনোনয়ন।
১৮৯৮ সালে সরকারের, মতান্তরে এশিয়াটিক সোসাইটির দেওয়া, “মহামহোপাধ্যায়” উপাধি। মহারানী
ভিক্টোরিয়ার ৬০তম রাজ্যাভিষেকের বত্সরে প্রবর্তিত, ১৯১১ সালে প্রাপ্ত “সি.আই.ই” উপাধি (Companion of
Order of Indian Empire)। ১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির অনারারি মেম্বার
মনোনয়ন। ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডি.লিট এবং ১৯২৮ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত পঞ্চম
ওরিয়েন্টাল কনফারেন্সের মূল সভাপতির সম্মান।
এ ছাড়া তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে “মহামহোপাধ্যায়” উপাধিটি পেয়েছিলেন ১৮৯৮ সালে।
সাহিত্য-সাধক-চরিতমালার ৭ম খণ্ডে, ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর জীবনীতে, ৫৪-পৃষ্ঠায়
“প্রতিভার সম্মান” প্রসঙ্গে রয়েছে যে ১৮৯৮ সালে তিনি মহামহোপাধ্যায় উপাধি পান।*
এরপর সেই পাতার পাদটীকায় রয়েছে . . .
* শ্রীগণপতি সরকার লিখিয়াছেন, “তাঁহার নিকট শুনিয়াছিলাম যে, Age of Consent Bill সম্বন্ধে তিনি যে note
দিয়াছিলেন, তাহাতে সরকার সন্তুষ্ট হইয়া তাঁহাকে এই উপাধি প্রদান করেন।”
Age of Consent Act 1891 - এই আইনটি ১৮৯১ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রণয়ন করেন মেয়েদের বিবাহের
ন্যুনতম বয়স ১০ থেকে বাড়িয়ে ১২ বছরে বেঁধে দেওয়ার জন্য। এর কমে বিবাহিত অথবা অবিবহিত
কোনো মেয়ের সঙ্গে সহবাসকে ধর্ষণ হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য করা হয়।