| ডাক-হরকরা কবি ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় “পাঁচু ঠাকুর” (৩খণ্ডে, ১৮৮৪-৮৫), দ্বিতীয় কাণ্ড। ১৩৩২ বঙ্গাব্দে (১৯২৫) প্রকাশিত “ইন্দ্রনাথ গ্রন্থাবলী”, ৪৫০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। (১) দ্বিপদ বলদ তুমি ডাক-হরকরা! না দিলা বিধি পাষাণ, সেই হেতু শিরস্ত্রাণ, পাগড়ীর রূপ ধরি ভ্রমিতেছ ধরা। নরবেশে পশু তুমি ডাক-হরকরা। (২) অল্পলোম তনু দেখি ভ্রম পাছে হয়, তাই এত জামা জোড়া দিয়া ও অঙ্গ মোড়া ; পুচ্ছভাব তুচ্ছ, যা’র চাপকান রয়। জুতায় খুরের কাজ কিবা নাহি হয়? (৩) নিয়মিত চক্রে নিত্য ঘুরে ঘুরে মরো ; নাই বটে চক্ষে ঠুলি, কিন্তু কভু চক্ষু খুলি না দেখিলে এক দিন কার কাজ করো ; তেল খোল তুল্য জ্ঞানে শুধু ঘুরে মরো। (৪) পশু তুমি, তাই এত বিশ্বাসভাজন ; রাজদ্রোহী রাজভক্ত সমভাবে অনুরক্ত তোমা প্রতি, অবিশ্বাসী নহো কোন জন। মানুযে মানুযে এত নাহি প্রিয়জন। (৫) তব তুল্য ভারসহ কে আছে জগতে! জগতের বার্ত্তা যত তব পৃষ্ঠে অবিরত, তবু কিন্তু তুমি শ্রান্ত নহ কোন মতে। অকাতরে লও ভার, যা’র যা’ জগতে। (৬) জানো না কি ভার তুমি বেড়াও বহিয়া কত বিরহিণী-ব্যথা, কতই স্নেহের কথা, কত আশালতা ছিন্ন করো, না জানিয়া, কি আশীষ, কিবা গালি, সমানে টানিয়া। (৭) ঘৃণা নাই, নাই লজ্জা, যাও ধীরে ধীরে ; যে লাজে বাঙ্গালা মরা মাটী হ’ল বসুন্ধরা সেই সে বঙ্গের কাব্য কুলকামিনীরে, দাও, পশু, নিতি নিতি, নাহি যাও ফিরে। (৮) চাকরির দরখাস্ত, বরখাস্ত আদি, যার তরে এই বঙ্গে নাচে সবে নানা রঙ্গে দিয়া যাও, নিয়া এস, তুমি নির্ব্বিবাদী ; আপদ্, সম্পদ্ যত, তুমি তার আদি। (৯) কিন্তু নাহি দোষ তব, হে বাহনবর, পর-সেবা যার কর্ম্ম, এমনি তাহার ধর্ম্ম, পশুর অধম সেই, হইলেও নর। সুখে থাকো শুভ হউক দিতেছি এ বর। (১০) এক অনুরোধ রাখি, রাখিবে হে মান, যা’র বাড়ী যবে যাবে সুধাবে কোমলভাবে, পঞ্চানন্দ সেথা পূজা পান কি না পান? নহিলে, চাপাবে ঘাড়ে, বিতরিতে জ্ঞান। . ****************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কবি ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা |
| পঞ্চানন্দের গান কবি ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় “পাঁচু ঠাকুর” (৩খণ্ডে, ১৮৮৪-৮৫), দ্বিতীয় কাণ্ড। ১৩৩২ বঙ্গাব্দে (১৯২৫) প্রকাশিত “ইন্দ্রনাথ গ্রন্থাবলী”, ৪৬০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। দে গো তোরা দো, আমায় দে, বিলাত পাঠা’য়ে। রাজনগরে কর্ ব ভিক্ষে গলাবাজি করিয়ে। কোটে দে গো অঙ্গ ঢাকি, কা’লো বরণ লুকিয়ে রাখি, হাতে মুখে সাবান মাখি রালো জনম ভুলিয়ে। নে গো ঢিলে ধূতি খুলে, নোটিব আর র’ব না মূলে, ভর্ণাকুলার যাব ভুলে চেয়ারে পা ঝুলিয়ে। মিসেস পাঁচী গাউন-পরা, ধরাকে দেখিয়ে শরা, ( ও সে ) হ’ল হ’লই উল্ কী পরা, নেবেত বিবী হ’য়ে। . ****************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বিলাতী বিধবা কবি ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় “পাঁচু ঠাকুর” (৩খণ্ডে, ১৮৮৪-৮৫), দ্বিতীয় কাণ্ড। ১৩৩২ বঙ্গাব্দে (১৯২৫) প্রকাশিত “ইন্দ্রনাথ গ্রন্থাবলী”, ৪৬৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। বঙ্গের বিধবাকে পদ্যের কলে ফেলিয়া অনেক ব্যক্তি কবির দলে নাম লিখাইয়াছেন (১)। কিন্তু বিলাতী বিধবা এখন পর্য্যন্ত অদলিত ক্ষেত্র ; সেই জন্য একবার লেখনী ধারণ করিলাম, যশস্বী হইতে পারিব না কি? [ কবির দলের বাঞ্ছারাম ] [ ১ ] বিলাতী বিধবা বুঝি অই রে (২)! দুখিনী উহার মত দুনিয়াতে কই রে! হারায়ে তৃতীয় পতি, বিরহে কাতরা অতি, পোড়া চিন্তা দিবা রাতি---পাইব কি আর? ললনা ছলনা বিধি, কেন বারবার। [ ২ ] বিলাতী বিধবা বুঝি অই রে! একপ্রাণে পতিশোক কতবার সই রে! যেখানে চরণ চলে, পতি আছে ক্ষিতি তলে, বুঝি বা করম-ফলে,---এই দশা হয়! যত গোর, তত পতি, তবু পতি নয়! [ ৩ ] বিলাতী বিধবা বুঝি অই রে! কি হবে উহার দশা ভেবে সারা হই রে! আভরণে নাই আশ, কালির বরণ বাস, মুখে মুখে ছাই পাশ, পাইডার ব’লে, পতি-সুখ, পতি-শোক মিটিবে না ব’লে! [ ৪ ] বিলাতী বিধবা বুঝি অই রে! বিষাদে চৌচির হিয়া, যেন তাজা খই রে! মুখ চোখ নাক কাণ, সকলি আছে সমান, যায় যেন দিনমান, কিসে যায় রাতি? পোড়ায়, পোড়ে না হায় জীবনের বাতি! [ ৫ ] বিলাতী বিধবা বুঝি অই রে! তপত তেলের কড়া তাহে যেন কই রে! প্রাণ করে আই ঢাই, শয়নেতে সুখ নাই, তন্দ্রা যদি আসে ছিই, তাতেও স্বপন! রমণী মরমে মরে, একি জ্বালাতন! [ ৬ ] বিলাতী বিধবা বুঝি অই রে! উহু উহি, মরি মরি, কাঁদিব কতই রে! আছে দাঁড়, আছে হাল, আছে গুণ আছে পাল, তবু কেন আল থাল, মাঝির অভাবে। বানচাল হয়ে’ কি রে ভরা ডুবে যাবে? [ ৭ ] বিলাতী বিধবা বুঝি অই রে! নহে দুধ, নহে ক্ষীর, হায় শুধু দই রে। বহে সদা দীর্ঘ স্বাস, নবেলে মেটে না আশ, হেন ভাবে বার মাস কাটান কি যায়? নারীর জীবনে, বিধি, এত কেন দায়? [ ৮ ] বিলাতী বিধবা বুঝি অই রে! করুণ-রসেতে লেখা স্বভাবের বই রে! সুখে দুখে একটানা, যা হোক করি নে মানা মনে তবু থাকে জানি---ফিরিবার নয়। এ যে ভয়, বড় দায়, কি কখন হয়। [ ৯ ] বিলাতী বিধবা বুঝি অই রে! পথি পথি ভ্রমে, তবি পতি না মিলই রে! ঘোর নিশি ঝড় বয়, চারি দিকে চৌর ভয়, সতীপনা-মণিময় বিধবার হিয়া, কেহ নাই, রাখে দ্বার পাহারা বসিয়া। [ ১০ ] বিলাতী বিধবা বুঝি অই রে! ভেঙেছে আবার তার স্বরগের মই রে! নাই আর কারিকুরি, করিতে বয়স চুরি, কৃতান্তেরে করে ধরি, রাখি কোন ছলে? চল্লিশে চব্বিশ করা কত বার চলে? @ (১) - হেম বাবুর “বিধরা রমণী” দেখ। (২) - ভারতের পতিহীনা নারী বুঝি ওই রে। না হ’লে এমন দশা নারী আর কই রে! @ - বাঞ্ছারাম উপহার দিলেন---পঞ্চানন্দকে ; পঞ্চানন্দ দিচ্ছেন---বঙ্গ-রমণী এবং রমণীবন্ধুকে : ভরসা যে ভক্তগণ প্রসাদে পরিতুষ্ট হইবে। . ****************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |