ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা সম্ভার -                                            পাতার উপরে . . .   
কবির রচনাসম্ভারে রয়েছে “উত্কৃষ্ট কাব্যম্” (১৮৭০), উপন্যাস “কল্পতরু” (১৮৭৪) এবং “ভারত উদ্ধার”  
(১৮৭৮) নামক ব্যাঙ্গকাব্য। তাঁর অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে ক্ষুদিরাম, হাতে হাতে ফল (১৮৮২), তিন খণ্ডে
“পাঁচু ঠাকুর” (১৮৮৪-৮৫) প্রভৃতি। তিনি “সিরাজ-উদ্দৌলা” নামে একটি নাটকও রচনা করে  কলকাতার  
কাউকে দিয়েছিলেন প্রকাশ করার জন্য। কিন্তু কাকে দিয়েছিলেন তা আর মনে রাখতে পারেন নি। তাই এর
পরিণতি আর জানা যায় না।  

এছাড়া “বঙ্গবাসী”, “নবজীবন” ও অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত “সাধারণী” পত্রিকাতে, বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন  
বিষয়ের উপরে তাঁর লেখা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

আমরা
মিলনসাগরে  কবি ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে  দিতে  
পারলে এই প্রচেষ্টাকে সার্থক মনে করবো।


কবি ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


উত্স     
  • শিশিরকুমার দাশ, সংসদ বাংলা সাহিত্য সঙ্গী, ২০০৩।
  • সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত সংসদ বাঙালি চরিতাবিধান, ১ম খণ্ড, ১৯৭৬।
  • ১৩৩২ বঙ্গাব্দে (১৯২৫) প্রকাশিত “ইন্দ্রনাথ গ্রন্থাবলী”।
  • ইন্দ্রনাথের স্বরচিত সংক্ষিপ্ত জীবনী, “ইন্দ্রনাথ গ্রন্থাবলী”।


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ১৭.৯.২০১৮
...
ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিক্ষাজীবন    
কবি শিশিরকুমার দাশের উদ্ধৃতি   
ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা সম্ভার     
*
কবি ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় - জন্মগ্রহণ  
করেন বর্ধমান জেলার পাণ্ডুগ্রামে, তাঁর মাতুলালয়ে।
তাঁদের বাড়ী ছিল পাণ্ডুগ্রামের ৪ক্রোশ (১৭কিমি)
উত্তর-পূর্বে অবস্থিত গঙ্গাটিকুরী গ্রামে। বর্তমানে
এই গ্রামটি বাংলার (পশ্চিমবঙ্গের নতুন নাম), পূর্ব
বর্ধমান জেলার, কাটোয়া সাবডিভিশনের কেতুগ্রাম
ব্লক অন্তর্গত। পিতা বামাচরণ  বন্দ্যোপাধ্যায়  
ছিলেন বিহারের পূর্ণিয়া-তে  ওকালতী করতেন  
এবং স্বভাব-দানী হওয়ায় যথেষ্ট পরিচিতি লাভ  
করেছিলেন “মুন্সীজী” নামে। তাঁদের আদি নিবাস
ছিল শ্রীখণ্ডের কাছে গাঁফুলিয়া গ্রামে।
কবি শিশিরকুমার দাশের উদ্ধৃতি -                                                    পাতার উপরে . . .   
কবি সাহিত্যজীবন শুরু হয় ১৮৭০সালে “উত্কৃষ্ট-কাব্যম্” ব্যাঙ্গাত্মক কাব্য রচনার মধ্য দিয়ে। ১৮৭৮সালে
তিনি পঞ্চানন্দ নামে একটি পত্রিকাও প্রকাশ করেন।
কবি শিশিরকুমার দাশ তাঁর, ২০০৩সালে প্রকাশিত,
"সংসদ বাংলা সাহিত্য সঙ্গী" গ্রন্থে কবির সম্বন্ধে লিখেছেন . . .

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম হাস্যকৌতুক ও ব্যঙ্গরচনাকার। তিনি পঞ্চানন্দ নামে একটি পত্রিকা  প্রকাশ
করেন (২৬ অক্টোবর ১৮৭৮)। মূলত হাস্যকৌতুক ও তীব্র ব্যঙ্গরচনার জন্য এই পত্রিকাটি জনপ্রিয়তা অর্জন
করে। ইন্দ্রনাথের প্রধান রচনাগুলি : উত্কৃষ্ট কাব্যম্ (১৮৭০), উপন্যাস কল্পতরু (১৮৭৪) এবং ভারত উদ্ধার
(১৮৭৮) নামক ব্যাঙ্গকাব্য। এইরকম হাস্য-উদ্দীপক এবং তীব্র ব্যাঙ্গের কশাঘাত করার সামর্থ্য আর কোনো
বাংলা কাব্যে দেখা যায় নি। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে ‘রহস্যপটুতায়, মনুষ্য চরিত্রের বহুদর্শিতায়, লিপিচাতুর্যে ...
টেকচাঁদ ঠাকুর এবং হুতোমের সমকক্ষ’ বলেছেন। . . . যুক্তিহীন উচ্ছ্বাস, নির্বোধ দেশপ্রেম এবং  
পাশ্চাত্যানুকরণ---এই তিনটির প্রতি ছিল তাঁর তীব্র বিদ্বেষ
।”
কবির ছবি - ১৯২৫সালে প্রকাশিত “ইন্দ্রনাথ গ্রন্থাবলী” থেকে।
*
ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিক্ষাজীবন -                                            পাতার উপরে . . .   
স্কুলজীবন শুরু হয় পিতার কর্মস্থল পূর্ণিয়ার গভমেন্ট স্কুলে। সেখানে স্কুলপাঠ্যে বাংলা ছিল না।  কবির
৯বছর বয়সে পিতার মৃত্যুতে, তাঁর পরিবার গঙ্গাটিকুরিতে এসে থাকতে শুরু করেন এবং কবি ভর্তি হন  
কৃষ্ণনগর কলেজের ষষ্ঠ ক্লাসে। এরপর কিছু কাল বীরভূম গভমেন্ট স্কু
লে পড়ার পরে ভাগলপুর গভমেন্ট স্কুল
থেকে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে, কলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজে ভর্তি হন। স্বাস্থ ও পারিবারিক কারণে,
সেখান  থেকে হুগলী কলেজ হয়ে কলকাতার ক্যাথিড্রাল মিশন কলেজ থেকে বি.এ. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন
১৮৬৯সালে। কিছুকাল বীরভূমের হেতমপুর ও বর্ধমান জেলার ওকড়সা গ্রামের স্কুলের হেড-মাস্টারি করার
পর, ১৮৭১ সালে তিনি আইন পাশ করে কলকাতা হাইকোর্ট সহ পূর্ণিয়া, দিনাজপুর প্রভৃতি বিভিন্ন জেলা
কোর্টে ওকালতী শুরু করেন।
*